রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১৫ চৈত্র ১৪৩২

রাতভর পুলিশি অভিযানের পর সাবেক নাসিক মেয়র আইভী গ্রেপ্তার

শুক্রবার সকালে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ৯ মে, ২০২৫ ১৫:২৫

রাতভর অভিযানের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ মে) সকাল পৌনে ৬টার দিকে দেওভোগের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, সাবেক এ মেয়রকে দেওভোগের ‘চুনকা কুটির’ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় একাধিক থানায় হওয়া অন্তত পাঁচটি মামলার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিনসহ অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্যের একটি দল পশ্চিম দেওভোগে ডা. আইভীর পৈত্রিক বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর রাত ১২টার দিকে সদর থানা, সিদ্দিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার ওসি ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। সে সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য বাড়িটি ঘেরাও করে রাখেন।

পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে আইভীর সমর্থকরা দেওভোগ ও বাবুরাইল এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। এর পরপরই হাজারো সমর্থক আইভীর বাড়ির সামনে জড়ো হন। সে সময় তারা আইভীর পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। এমনকি বাড়ির প্রবেশপথের দুই রাস্তায় বাঁশ, ঠেলাগাড়ি ও ভ্যানগাড়ি ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকাজুড়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অভিযান চলাকালে বাড়ির ভেতরেই ছিলেন আইভী রহমান। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে বলুন, আমি রাতের বেলা বাড়ি ছেড়ে যাব না। আমাকে গ্রেপ্তার করতে হলে দিনের আলোতে করতে হবে।’

রাতভর কর্মী-সমর্থক ও জনতার প্রতিরোধের পর শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান আইভী। গ্রেপ্তার করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে নারায়ণগঞ্জ জেলার অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেলেও নিজের বাড়িতেই ছিলেন আইভী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে তাকে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকেও অপসারণ করা হয়।

সাবেক এই নাসিক মেয়রের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশে সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীকে।

সবশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিহত রিকশাচালক তুহিনের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মীম বাদী হয়ে ৯৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়। তার আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর গুলিবিদ্ধ হয়ে মনিরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই নাজমুল হকের করা মামলায় ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। ওই হত্যা মামলায়ও শামীম ওসমান ও আইভী দুজনকেই আসামি করা হয়।


লাইনচ্যুত হল দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস

আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৪৭
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ১ নম্বর লাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটার কারণে অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে চলাচল করে স্বাভাবিক রয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।

সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় রেখে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তাহারে যাত্রা শুরু করবে।

দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে ২ নম্বর লাইনে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালেই পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সঠিক সময় অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছে।


ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরে চতুর্থ দফায় ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর অভিমুখে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবারের চালানে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে। পাম্পিং শুরু হওয়ার পর পাইপলাইনের মাধ্যমে এই তেল গন্তব্যে পৌঁছাতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে জমা হবে।

পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এর আগে গত শুক্রবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে চার দফায় মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এলো। ভারত থেকে আসা এই জ্বালানি তেল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা— এই তিন রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগতো, যা এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্ভব হচ্ছে।

দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করবে। বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবিষ্যতে এর পরিমাণ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।


তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি

নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জিহাদ মোল্লা (২৭) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের নড়াইল-যশোর সড়কের তুলারামপুর রেল ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাহিদ সরদার সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।

ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী আখের আলী ও ইসরাফিল জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুরে নড়াইল-যশোর সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের জন্য ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্লা। ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার। তেল না দেওয়ায় ট্রাকচালক সুজাতের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় ব্যবস্থাপক নাহিদের। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।

পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ব্যবস্থাপক নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। ফিলিং স্টেশন থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে ট্রাকচালক সুজাত মোটরসাইকেলের পেছন দিক দিয়ে এসে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্লাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকচালক সুজাত ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান।

তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটকের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।‘


দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার বাসের ধাক্কা, নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুর বিরামপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী স্লিপার বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৬ টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর চন্ডিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খবির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবু ও আরেকজনের নাম পরিচয় এখনো জানা যায় নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর শহর থেকে যাত্রী নিয়ে হেরিটেজ স্লিপার কোচ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময়ে চন্ডিপুর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চালকের সহকারী ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। সেখানে অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, সকালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের একজনের নাম পাওয়া গেছে আরেকজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতরা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


বজ্রপাতে চার জেলায় ৫ জনের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে পাঁচ জনের। এদের মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পাবনার ভাঙ্গুড়া ও নওগাঁর পত্নীতলায় ক্ষেতে কাজ করার সময় চারজন কৃষক এবং নোয়াখালীতে গোসল করতে যাওয়ার পথে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে এসংক্রান্ত খবর পাঠিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিরা।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস (৪০) ও অপু বিশ্বাস (২২) নামের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪ কৃষক। শনিবার বেলা ১২ টার দিকে খড়িবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সমির মৃত সমির ওই গ্রামের সুশিল বিশ্বাস ও অপু ওই এলাকার প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সমির বিশ্বাস তার বাবার সঙ্গে মাঠে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। একই সময়ে পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন।

আহতদের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ও অপু বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এহেতাম শহীদ জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সমির ও অপু মারা যান।

ভাঙ্গুড়া (পাবনা): পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বজ্রপাতে সুরুজ(৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সুরুজ উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের মৃত গোলবারের ছেলে। শনিবার ভোরে মাগুরা জেলার ছাচলাপুর এলাকায় ভরে মাঠে পিয়াজ তুলতে গিয়ে ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায় ভোরে সুরুজসহ আরো কয়েকজন কৃষক পিয়াজ তুলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে অন্যরা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানাযায়। সুরুজ কে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভোরে পিঁয়াজ তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে সুরুজের মৃত্যু হয় বাকি সবাই সুস্থ আছে। তিনি আরো বলেন শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

নওগাঁ: শুক্রবার রাত থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বইছিল। ঝড়-বাতাসের মধ্যেই শিহারা ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া ফসলের মাঠে নামেন আশরাফ আলীসহ ৫ কৃষক। ওই সময়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাদেরকে উদ্ধার করে জেলার সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়।

পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাঠে গম কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক আশরাফের মৃত্যু হয়েছে। আহত বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালী: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ায় বজ্রপাতে মো. জিহাদ উদ্দিন ওরফে রিয়াদ নামে (১৬) এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলের দিকে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামের তাহের মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ উদ্দিন একই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তাহের মিস্ত্রি বাড়ির মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। বিকেলের দিকে জিহাদ গোসল করার জন্য বসতঘর থেকে বের হয়। ওই সময় বসতঘরের পাশেরই একটি রাজকড়ই গাছের নিচে দাঁড়ানো ছিলেন তিনি। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

তাৎক্ষণিক বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রতীক পাল বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গোসল করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।


নেশার টাকা জোগাতে অটোবাইক ছিনতাই, বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে নেশার টাকা জোগাতে অটোবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশে এক অটোচালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি নিজের পরিচিত বন্ধুদের হাতেই খুন হয়েছেন।

নিহত রফিক মিয়া (২৮) ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন। ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার সকালে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।

পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন বন্ধু ছিলেন। ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রিপন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রফিককে ইজিবাইকে করে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন এবং তার সহযোগী সজীব ও আরমান। পরে আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে তার গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজীব তার দুই পা ধরে রাখেন। হত্যার পর মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেন তারা। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। পরে রফিকের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার ভোরে রফিকের ইজিবাইক নিয়ে রিপন সাভারে চলে যান। পরে বিকেলে নদীর তীর থেকে মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত যুবকের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে এখনো মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।


নড়াইলে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে চিত্রা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রতিবেশি দুই শিশু নিখোঁজের পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, মহিষখোলা গ্রামের আবদুল্লাহ শেখের মেয়ে আরিয়া (৭) এবং এনায়েতে শেখের মেয়ে রাফিয়া (৬) বাড়ির পাশে চিত্রা নদীতে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন চিত্রা নদীতে নেমে দুজনকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে যাদবপুর খেয়াঘাট এলাকা থেকে রাফিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। আরিয়াকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, গোসল করতে নেমে চিত্রা নদীতে দুই শিশু নিখোঁজের বিষয়ে অবগত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন উদ্ধার হলেও শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আরেকজন উদ্ধার হয়নি। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ঈদের ছুটিতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচরে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত মধুমতি নদীতে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজের দু’দিন পর শিশু তাসমিয়ার (১১) লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ডিগ্রিরচর খেয়াঘাট এলাকায় তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাসমিয়া যশোর সদরের শাহবাজপুর গ্রামের জিন্নাহের মেয়ে। ঈদের ছুটিতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে গত ২৬ মার্চ পাংখারচরে মধুমতি নদীতে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যায় শিশু তাসমিয়া। দুটি ট্রলারে ঘুরতে বের হয় তাসমিয়ার পরিবার। নদীচরে ছবি তোলাসহ ঈদ আনন্দে মেতে উঠে তারা। একপর্যায়ে নদী পাড়ে এসে পরিবারের সদস্যরা তাসমিয়াকে দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও তাৎক্ষণিক তাসমিয়াকে শণাক্ত করতে পারেননি। অবশেষে শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভেসে উঠে। এ ঘটনায় তাসমিয়ার পরিবারসহ নানাবাড়িতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাসমিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান।


নতুন সংগঠন ‘হাদি স্মৃতি মঞ্চ’ উদ্বোধন করলেন বোন মাসুমা হাদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সয়েদুর রহমান, বরিশাল প্রতিনিধি

ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জন্মভূমি ঝালকাঠির নলছিটিতে ওসমান হাদির বাংলার প্রকৃত সংস্কৃতি রক্ষা, ভিনদেশী আধিপত্যবাদ বিরোধী আজাদীর লড়াইকে চালু রাখতে ও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদির হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করল নতুন সংগঠন ‘ওসমান হাদি মঞ্চ’।

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতের ১০০ তম দিনে ঝালকাঠির নলছিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শনিবার বিকাল চারটায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি,ভগ্নিপতি আমির হোসেন, শহীদ সেলিম তালুকদারের পিতা সুলতান তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল কবির মিঠু, উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব সুজন খান, সাংবাদিক ইসমাইল মুসাফির,উপজেলা এনসিপির আহবায়ক লাভলু ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেতা শাহাদাৎ ফকির, স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মহুয়া ইসলাম, সমাজকর্মী বালী তূর্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেত্রী সাথী আক্তার,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ, ইমরান হোসেন, মারজান খান, আমিনুলসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

এসময় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, শহীদ সেলিমের পিতা সুলতান তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুজন খান, শাহাদাৎ ফকির প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে সংগঠনের আত্মপ্রকাশে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাসুমা হাদি।এতে তিনি বাংলাদেশের হারাতে বসা আসল সংস্কৃতি রক্ষায় শহীদ ওসমান হাদির প্রচেষ্টাকে তথা আজাদির লড়াইকে এই সংগঠনের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতের পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই এবং ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি থেকে শহীদ ওসমান হাদির কন্ঠস্বরকে খুজে পাচ্ছিলেন না বলে তাকে এ সংগঠন গড়তে অনুরোধ করেছে যাতে ওসমান হাদির রক্তে বাহিত আজাদীর কন্ঠ তার বোনের গলা থেকেই ফের সারাদেশে ছড়িয়ে পরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

এছাড়াও ওসমান হাদিকে হত্যার ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও বিচারহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তদন্তের নামে বারবার কালক্ষেপণ করে বিচারকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

কোরআন তিলওয়াতের মাধ্যমে শুরু করে ইসলামি সংগীত, মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে এ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ।


চুয়াডাঙ্গায় অর্ধশতাব্দী আগের ৭টি শক্তিশালী স্থলমাইন ধ্বংস

মাইনগুলো ধ্বংস করার সময় এলাকায় বিকট শব্দ হয় এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সাতটি শক্তিশালী স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব মাইন ধ্বংস করা হয়।

যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস বোম্ব ডিসপোজাল টিম এই নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়। মাইনগুলো ধ্বংস করার সময় এলাকায় বিকট শব্দ হয় এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এ সময় আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাখালডাঙ্গা গ্রামের কৃষকেরা জমিতে চাষ করতে গিয়ে ধাতব কিছু বস্তুর অস্তিত্ব পান। খবর পেয়ে দ্রুত যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এগুলোকে স্থলমাইন হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রায় এক মাস এলাকাটি ঘিরে রাখার পর আজ চূড়ান্তভাবে সেগুলো ধ্বংস করা হলো।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের সময় পিছু হটার আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই এলাকায় প্রতিরোধ গড়তে মাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মাইনগুলো সক্রিয় ছিল, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।

অভিযান চলাকালে চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের (৩৬ এডি) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রিফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বাড়তি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব বিভাগে আগামী কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দুই পাম্পে মিলল ৫৪ হাজার লিটার তেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দুটি তেলের পাম্পে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হোসেন ফিলিং স্টেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং রয়েল ফিলিং স্টেশনে নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে তেল বণ্টনের শর্তে জরিমানা মওকুফ করেন আদালত। অবৈধ মজুত ঠেকাতে শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

জানা গেছে, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত ও ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রয়েছে—এমন অভিযোগে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেসকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার দীপ্ত চক্রবর্তী ও সাকিব রহমান আকাশ।

পরে সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন জেলা সদরের কানাইপুর এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশনে ভোক্তাপর্যায়ে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্পটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং সন্দেহ অনুযায়ী ট্যাংকে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার জ্বালানির অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭ হাজার লিটার পেট্রল, সাড়ে ৬ হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ১৪ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ আইনে ২০০৯ এর আওতায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং ভোক্তাপর্যায়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া পেট্রল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ থাকার অভিযোগে একই মহাসড়কের রয়েল ফিলিং স্টেশনে অভিযানকালে ২৫ হাজার ৯০০ লিটার জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার পেট্রল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। এ সময় পাম্পের মালিক ও ম্যানেজার মেশিনের সমস্যা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাঁকে অর্থদণ্ড করা হয়নি। পাম্পটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ লাইন ওপেন করে ভোক্তাদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে তেল প্রদান অব্যাহত রয়েছে।


ফরিদপুরে অস্বচ্ছল জাকেরদের মাঝে চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পুঁজি সহায়তা বিতরন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।

চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়। অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান। অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।

এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়। শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।


যানজট কমাতে অটোরিকশা কমানো হবে, কারো মন খারাপ হলে কিছু করার নেই: ইউসুফ মোল্লা টিপু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা নগরীর বাড়তে থাকা যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

শনিবার নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, “যানজট কমাতে অটোরিকশা কমানো হবে। এতে যদি কারো মন খারাপ হয়, তাতে আমাদের কিছুই করার নেই।

প্রশাসক জানান, নগরীর স্থায়ী বাসিন্দাদের অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কুমিল্লাকে বাসযোগ্য, আধুনিক এবং ‘মশামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসক টিপু উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই শহরে সীমিত অবকাঠামো, ফুটপাত দখল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট, জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সবাই একসাথে কাজ করলে কুমিল্লাকে একটি ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করা সম্ভব।

এসময় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close