বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

চাল-তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সবজি ও মাছের বাজার চড়া

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৫ ১৩:০৩

সবজির পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে বেড়েছে মাছ এবং মুরগির দামও। এছাড়া পেঁয়াজ এবং ডিমের দামও কিছুটা উর্ধ্বমুখী। তবে চাল ও ভোজ্যতেলসহ বেশকিছু পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, শসা, কাঁচা মরিচ, পটোল- সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। আগে যেসব সবজি ৬০-৭০ টাকায় মিলত, এখন সেগুলোর দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০-৯০ টাকা, কাঁকরোল ১০০-১৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৭০ টাকা, ঝিঙে ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা দরে। এছাড়া পেঁপে ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, পটোল ৭০-৮০ টাকা, সজনে ডাটা ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মান ও বাজারভেদে কিছুটা দাম ওঠানামা করছে।

মুরগির বাজারেও দেখা দিয়েছে নতুন চাপ। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা, কক ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহণ ব্যয় বাড়ায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অনেকে মনে করছেন, এই সুযোগে এক শ্রেণির মজুতদার ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে চলছে।

গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা কেজি। বাজার করতে আসা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিরপুরে বাজার করতে আসা তানভীর বলেন, ‘সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে। মুরগি কিনতে গেলেও একই অবস্থা।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন- টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো, বাজার মনিটরিং জোরদার করা, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ধরনভেদে ৬৫ টাকা। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম মানের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি ছোট্ট রসুনের কেজি ১৪০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুনের কেজি ২৪০ টাকা টাকা, আদার কেজি বাজার ও ধরনভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত মিলছে। চিকন মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১২০ টাকা, আমদানি করা মুগডাল ১৪০ টাকা এবং দেশি মুগডাল ১৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারগুলোতে দেখা গেছে, চিকন চাল ৮০ থেকে ধরনভেদে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৮ বাজার ও ধরনভেদে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে স্বর্ণার কেজি ৫৫ টাকা আর গুটিসহ অন্যান্য মোটা চাল সর্বোচ্চ ৫৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বেশ কিছুদিন ধরেই চাল এ দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং লিটার ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরে চড়া অবস্থায় রয়েছে। বাজারে সব ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। ক্রেতাদের অভিযোগ, নজরদারি নেই বলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা চড়া যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।

রামপুরা-মালিবাগ এলাকার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা। বাজারে কিছু দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর দাম তুলনামূলক আরও বেশি। যেমন, বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়, পোয়া ৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা।

এদিকে জাতীয় মাছ ইলিশের দাম সবসময়ই চড়া থাকে। আজকের বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকায়, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা, আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি হালি ডিমের দাম ৪৫ টাকা, ডজন ১৩৫ টাকা। মিরপুর-৬ বাজারের ডিম একজন বিক্রেতা বলেন, ডিমের দাম কিছুটা বেশি; কেন বেশি জানি না! মোকামে বাড়তি দাম নিয়েছে, আমিও বেশি দামে বিক্রি করছি।


বছরের সম্বল পানিতে, জুটবে না খোরাকিও

* ঋতুচক্রের হিসাব ওলটপালট * প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে * কোথাও ধান পচে গেছে, কোথাও গজিয়েছে অঙ্কুর * ঋণের বোঝা আরও ভারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চৈত্রের খরতাপ পেরিয়ে বৈশাখের শুরুতেই এক পশলা বৃষ্টির জন্য হাহাকার থাকে জনজীবনে। মাঠভরা সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর হন কৃষক; কিন্তু প্রকৃতির অকাল খেয়াল ঋতুচক্রের হিসাব এবার সব ওলটপালট করে দিয়েছে। অসময়ের টানা বৃষ্টি আশীর্বাদ নয়, বরং আকাল হয়ে হানা দিয়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে। দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোয় কান পাতলে কেবলই কৃষকের হাহাকার শুনতে পাওয়া যায়। দৈনিক বাংলার

প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।

তারা বলছেন, ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল স্বস্তি হয়ে; কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই স্বস্তিই এখন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টি আর রোদের অভাবে বস্তাবন্দি ভেজা ধানে জন্ম নিচ্ছে সাদা অঙ্কুর। সোনালি ধান আজ যেন চিন্তার রঙে ঢেকে গেছে; খোলা আকাশের নিচে চলছে কৃষকের ধান বাঁচানোর লড়াই।

কৃষকেরা প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারি হয়ে উঠেছে। ঋণ শোধ তো দূরের কথা; বছরের খোরাকিও জুটবে না।

এদিকে, সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ও ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ হেক্টর পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার : রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই। খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়।

অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। ওইদিনই এক রাইতে ক্ষেতর মধ্যে কোমরসমান পানি। চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।

তিনি বলেন, ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।

হবিগঞ্জ: ডুবাইল থাকা ধান তেইক্কা যদি ঘরের খাওনের লাগি কিছু ধান তুলতাম পারি তই খুশি, অখন চেষ্টা করতাছি অন্তত ঘরের খাওনটা যাতে তুলতাম পারি। আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের সিংগের বিল হাওরের কৃষক রমজান আলী (৫৫)।

রমজান আলীর মতো হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের এখন একটাই চেষ্টা—ডুবে থাকা জমি থেকে অন্তত পরিবারের খাবারের ধানটুকু ঘরে তোলা।

টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জেলার কৃষি বিভাগের হিসাবে, ছয় উপজেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ বোরো জমি পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রায় ২০ হাজার।

গত এক সপ্তাহে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। এর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওরের পানি এসে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জের আংশিক, বাহুবল ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওর প্লাবিত করেছে। জেলার বৃহত্তম গুংগিয়াজুরী হাওরও একইভাবে ডুবে আছে।

বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সিংগের বিল হাওরে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও ভাসছে ধানের শিষ, কোথাও পুরো খেত ডুবে গিয়ে শুধু শিষের মাথা দেখা যাচ্ছে। পাশের পৈলারকান্দি, মন্দরী ও মক্রমপুর ইউনিয়নের হাওরেও একই চিত্র। হাওরের বুকজুড়ে ছোট ছোট ডিঙিনৌকা। তাতে দাঁড়িয়ে বা বসে কৃষকেরা ধান কাটছেন। কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে কাস্তে চালাচ্ছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই নিচে ফসলি জমি।

শতমুখা গ্রামের কৃষক শামছু মিয়া (৫০) বলেন, ভাই, এভাবে ধান কাটতে হবে কখনো ভাবিনি। জমি তো চোখেই পড়ে না, আন্দাজে কাটতেছি।

একই এলাকায় নৌকায় বসে ধান কাটছিলেন সাইদুল হক। মাঝেমধ্যে ঢেউয়ে নৌকা দুলে উঠছে, তবু কাজ থামছে না। তিনি বলেন, পানি যদি ৭ দিন থেকে ১০ দিন পরে আসত, তাহলে অন্তত ঘরের খাওয়ার ধানটা কাটা সম্ভব হতো। এখন তো ডুবে থাকা ধান তোলা কঠিন হয়ে গেছে শ্রমিক–সংকটে।

হাওরের অন্য প্রান্তে কয়েকজন মিলে দল বেঁধে ধান কাটছিলেন। একজন কাটছেন, আরেকজন নৌকায় তুলছেন। তাদের চোখেমুখে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। একজন কৃষক বলেন, ‘ক বছর খাটছি এই জমির জন্য। এখন যদি সব পানিতে ডুবে যায়, তাহলে সংসার চলবো কীভাবে?

ষাটোর্ধ্ব কৃষক আইযুব আলী বলেন, হাওরের মানুষ পানির সঙ্গে লড়াই করতে জানে; কিন্তু এবার পানি খুব তাড়াতাড়ি আইছে। এই ক্ষতি পুষানো কঠিন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক দিপুল কুমার পাল জানান, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হাওরাঞ্চলে। তবে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে এখনো ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চলছে।

শেরপুর: ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কষ্টে ফসল ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখ মলিন হয়ে গেছে।

উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; তার ওপর বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, বুঝতে পারছি না।

জানা গেছে, এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মণ্ডল বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ ছাড়া কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান।

কুড়িগ্রাম: টানা ঝড় ও বৃষ্টিতে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঋণ করে ফলানো পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের শ্রম আর আশা। এতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে অনেক জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও আবার ঝড়ে ধানের শীষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঠিক ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।

কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, অনেক কষ্ট করে ধান লাগাইছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হইয়া গেল। এখন কীভাবে সংসার চলবে বুঝতেছি না।

মজিবর রহমান নামে অপর এক কৃষক বলেন, টানা বৃষ্টি আর ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। যে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেগুলো এখন পানির নিচে। অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে চাষ করছিলাম, এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছু জমির ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হতে পারে।

সুনামগঞ্জ : দেখার হাওর পাড়ের গোবিন্দপুর গ্রামের দুই সহোদর এমরান মিয়া ও সামরান মিয়া ধারদেনা করে ১৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও এখনো পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি তারা।

তাদের মধ্যে ১০ বিঘার ধান কোনোভাবে কেটে খলায় তুললেও বাকি ৭ বিঘা জমি এখনো পানির নিচে। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার নামানো সম্ভব হয়নি, আবার শ্রমিকের সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দুই ভাইয়ের।

এমরান মিয়া বলেন, খরচ তো করলাম অনেক। কিন্তু এখন ধান শুকানোর সুযোগ নেই। বেপারীরা এসে কম দাম বলতেছে, বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই চিত্র জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায়।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, সরকার ধান কিনবে ১৪৪০ টাকায়, এই খবরই আমাদের ঠিকমতো জানানো হয়নি। বেপারীরা এসে ৬০০–৭০০ টাকা বললেই বিক্রি করতে হয়।

জলিলপুর গ্রামের কৃষাণী রংমালা বিবি জানান, বৃষ্টির কারণে ধান ভেজা অবস্থায় খলাতেই নষ্ট হচ্ছে। অনেক ধানে অঙ্কুরও গজিয়েছে। বেপারীরা ৭০০ টাকা দাম দিছে, আর অপেক্ষা করার উপায় নাই।

তবে জেলা খাদ্য বিভাগ বলছে, কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বি এম মুশফিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে।

নেত্রকোনা: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া স্বপ্ন বাঁচাতে বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকেরা। দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর গতকাল মঙ্গলবার রোদের দেখা মেলায় হাওরজুড়ে ধান মাড়াইয়ের ব্যস্ততা বাড়লেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। একদিকে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরি, অন্যদিকে ধানের পানির দর, সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রায় ২৯ হাজার ৩৭১ হেক্টর জমির ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ফসল মাঠেই রয়ে গেছে। কেবল অতিবৃষ্টির কারণেই পুরো জেলায় ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর।

আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী বাগরা হাওরের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান কাটাই যাচ্ছিল না। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এত খরচ দিয়ে ধান কেটে বাজারে নিচ্ছি, কিন্তু দাম পাচ্ছি মাত্র পাঁচ-ছয়শ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ধলিপুরি খালটি বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, যা জলাবদ্ধতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।

জেলা প্রশাসনের (স্থানীয় সরকার) উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, তালিকা সঠিকভাবে করার জন্য কৃষি বিভাগকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে, যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৬৯ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খালিয়াজুরী হাওরেই ৬ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

নওগাঁ : বরই ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে তা এখন তলিয়ে গেছে। এতে কয়েকশ কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে তাদের মাথায় হাত পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, ফলে ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে।


স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।


টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নির্মিত হচ্ছে টিস্যু কালচার ল্যাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। এ ল্যাবকে ঘিরে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি-২, জি-নাইন (G-9) কলা এবং সবজিসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই সেন্টারটি।

উদ্যানতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু সনাতন পদ্ধতিতে আটকে নেই, বরং জীবপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার ধীরে ধীরে এই কৃষি-বিপ্লবের একটি নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে।

প্রকল্পের নাম: সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’।

মেয়াদকাল: ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে।

উৎপাদন শুরু: ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ল্যাবটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

অন্য কেন্দ্র: দেশব্যাপী বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ধনবাড়ী ছাড়াও সাভারের রাজালাখ, বান্দরবানের বালাঘাটা, কুমিল্লা এবং ভোলার চরফ্যাশনেও আধুনিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ল্যাবের সম্ভাব্য সুবিধা ও প্রভাব: ধনবাড়ী সেন্টারটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

এমডি-২ আনারসের সম্প্রসারণ: মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী আনারসকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন করার জন্য এ ল্যাবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা উৎপাদন করা হবে। এর মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের কারণে মধুপুরের আনারস শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।

ফ্লোরিকালচার জোন: জারবেড়া ও অর্কিড চাষের মাধ্যমে ‘ফ্লোরিকালচার জোন’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রোগমুক্ত চারা ও বহুমুখী কৃষি: উন্নত জাতের পেঁপে, বিভিন্ন সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণ এবং রোগজীবাণুমুক্ত চারা নিশ্চিত করা হবে।

ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের এই যুগে রোগমুক্ত উন্নত জাতের চারা সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধনবাড়ীর টিস্যু কালচার ল্যাব এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, প্রতারণা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

তিনি আরো বলেন, ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের ফসল উৎপাদন হবে, যার সুফল মাঠপর্যায়ের চাষিরা পাবেন। এতে শুধু কৃষকের উপকারই হবে না, বরং দেশীয় সীমা পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।


ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন: ন্যায়বিচার চান ইতালিতে নিহতের পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে পাঁচ বছর আগে মাসুদ রানা নামে ইতারি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা হত্যা মামলা রাজনৈতিক বলে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক বাচ্চু ১৫ বছর ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনিসহ অন্য আসামিদের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে বিবেচিত মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করা হয়।’

তারা বলেন, ‘মামলাটি প্রমাণিত ও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী লোকের তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এটিকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে গণ্য না করে হত্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন তারা’

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান। নিহতের স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজা ও পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে মাসুদা মেহেরুবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন এ সময়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে রাজনৈতিক মামলা উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেরস আলী ইছা। এতে তিনি সকল আসামির নাম উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল ‘বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়ের হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার-সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

এ সময় নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে, তারা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা-কর্মী। তারা সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার ভয়ে বর্তমানে ভোল্ট পাল্টে ক্ষমতাশালী দলের নেতাদের সাথে মিশে এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে সুপারিশ করিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক আসামিই আমার ভাই হত্যায় জড়িত রয়েছে।’


এক পায়ে মেঘলার স্বপ্ন ছোঁয়ার অগ্রযাত্রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়েই কলেজে যাওয়ার চেষ্টা—কিন্তু দারিদ্র্য যেন বারবার টেনে ধরছে তার স্বপ্নকে। তবুও থেমে নেই মেঘলা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মেধা নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় জীবনের কঠিন পথ পেরিয়ে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সি মেঘলা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলা এক অনন্য উদাহরণ।

জন্ম থেকেই একটি পা ছোট এবং দুর্বল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবুও থেমে থাকেননি তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তবে প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থীর সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। বাবা একজন দিনমজুর। সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া সম্ভব হয় না মেঘলার। মাসে মাত্র ৩ থেকে ৪ দিন কলেজে যেতে পারেন তিনি। বাকি সময়টা বাড়িতেই পড়াশোনা চালিয়ে যান।

কলেজ পড়ুয়া মেঘলা খাতুন বলেন, ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আমার বাবা বই কিনে দিতে পারে না, প্রতিদিন যাতায়াতের ভাড়াও জোগাতে পারে না। কলেজে ফ্রি পড়ার সুযোগ পেয়েছি, স্যাররাও সাহায্য করেন। যদি একটা তিন চাকার স্কুটি পেতাম, তাহলে নিয়মিত কলেজে যেতে পারতাম।’

মেয়ের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা আরজিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্টটা খুবই কষ্টদায়ক। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে আমার মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।’

দিনমজুর বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসারই চলে না। মেয়ের লেখাপড়া আর যাতায়াতের খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। যদি কেউ একটা স্কুটির ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে মেয়েটা নিয়মিত কলেজে যেতে পারত।’

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, মেঘলা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়।

এলাকাবাসী মনে করেন, একটু সহায়তা পেলে মেঘলা ভবিষ্যতে বড় কিছু করতে পারবে।

সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষ এগিয়ে এলে মেঘলার মতো একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যেতে পারে বলে সকলের দাবি।

কলেজের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মেঘলা অত্যন্ত মেধাবী। আমরা তাকে যতটা সম্ভব সহায়তা করছি। কিন্তু তার নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে একটি চলাচলের ব্যবস্থা জরুরি।’

দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান ও পরিবেশকর্মী মামুন বিশ্বাস একমত হয়ে বলেন, ‘এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সমাজের দায়। সবাই মিলে পাশে দাঁড়ালে মেঘলার মতো আরও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে।’

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সংগ্রামের প্রতীক মেঘলা এখন সমাজের সহানুভূতি আর সহায়তার অপেক্ষায়। একটি তিন চাকার স্কুটি হতে পারে তার শিক্ষাজীবনের টার্নিং পয়েন্ট—যা তাকে প্রতিদিন কলেজে পৌঁছে দেবে, আর এগিয়ে নেবে স্বপ্নের আরও কাছাকাছি বলে মনে করেন তিনি।


নারায়ণগঞ্জে অভিযানের সময় র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকার একটি মাদক স্পটে অভিযানের আগে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে মাদক কারবারিরা। এতে বাহিনীর এস আই নজিবুল, কনস্টেবল মাহি ও কন্সটেবল ইব্রাহিম নামে তিন সদস্য আহত হয়েছেন। যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বোয়ালিয়া খাল এলাকায় এ হামলা ঘটে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা দলের চার সদস্য শহরের ফতুল্লা থানার মাসদাইর লিচুবাগ এলাকার একটি মাদক বিক্রির স্পটে সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহ করতে যায়। র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে স্পটের কিছুটা দূরে একটি জায়গায় বসে বিশ্রাম করছিলেন। এসময় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগিরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাথারি কোপাতে শুরু করে। হামলার কিছুক্ষন পরে মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত তিন র‌্যাব সদস্যকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন আরো বলেন, ‘আইনশৃংখলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। সেই অভিযানের অংশ হিসাবে নারায়ণগঞ্জে মাদক স্পটের সন্ধানে নামে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা দল। তারা মাসদাইর লিচুবাগ এলাকার একটি মাদক স্পটের খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। বর্তমানে ওই স্পটে অভিযান চলছে। বাকি তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আহতদের মধ্যে র‌্যাব সদস্য এস আই নজিবুলের হাতের রগ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কনস্টেবল ইব্রাহিমকে। আর কনস্টেবল মাহিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে র‌্যাব সদস্যদের হাতে, পায়ে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। এস আই নজিবুল ও কনস্টেবল ইব্রাহীমের আঘাত গুরুতর।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় তিন জন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন নারায়ণগঞ্জেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।’


পাবনায় হোটেল থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ৫ মে, ২০২৬ ২১:২৬
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা পাবনা শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর (২৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে শহরের ‘লাকী বোর্ডিং’ নামক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হোটেলের একটি কক্ষে ওই তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের ভেতর থেকে গলাকাটা অবস্থায় নিথর দেহটি উদ্ধার করে। তবে নিহতের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।

ওসি আরও বলেন, ‘হোটেলের রেজিস্টারে দেওয়া নাম-ঠিকানা যাচাই করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর থেকে হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মচারীরা গা-ঢাকা দেওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আমরা পুরো হোটেল তল্লাশি করছি এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।’

পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।


টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক কারবারিদের বাড়ি চিহ্নিত করে লাল রং করে দেওয়া হয়। গত ‎সোমবার (৪ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর পর্যন্ত টঙ্গীর এরশাদনগর, হাজীর মাজার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় হাজীর মাজার বস্তির ঘরগুলোতে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।

‎টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বস্তির প্রায় প্রতিটি ঘরেই তল্লাশি চালিয়ে মাদক কারবারিদের ঘর লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে পুলিশ। পরে অভিযানে বস্তি থেকে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা ও সেবনের অভিযোগে ৩৭ পুরুষ ও ২ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপরদিকে টঙ্গীর আলোচিত এরশাদনগর বস্তি ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

‎টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

‎টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’


ঢামেকে কারাবন্দির মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেলবার হোসেন (৭০) নামের এক অসুস্থ কারাবন্দি হাজতির মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কারারক্ষীরা অসুস্থ কারাবন্দিকে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

স ত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি কোন মামলায় বন্দি ছিলেন তৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষীরা। তারা বলেন, পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।

মৃতের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার মহারাজপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নবীন সরকার।


সাঁথিয়ায় সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়ায় নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা মোড় হতে হাড়িয়া পাকা সড়ক পর্যন্ত এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজের এই বেহাল দশায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সিডিউল অনুযায়ী সঠিকভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রকল্পের বিবরণ: অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধান: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে হয়েছে ব্যয়: ১ কোটি ৩৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

দৈর্ঘ্য ও ধরন: ১৯০০ মিটার আরসিসি (RCC) সড়ক।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: জয় কনস্ট্রাকশন, সাঁথিয়া, পাবনা।

সময়কাল: কাজ শুরু হয় ১০ নভেম্বর ২০২৫ এবং শেষ হওয়ার তারিখ এ বছর (২০২৬ সালের) ১৬ মে।

তদারকি কর্মকর্তা: উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদ, সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

নির্মাণাধীন সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুপাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাইড ওয়াল বা প্যালা সাইটিং না দেওয়ার কারণে সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে নিচের বালি সরে গিয়ে ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, আরসিসি রাস্তার দুপাশে প্যালা সাইটিং দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু কেন তা দেওয়া হয়নি বিষয়টি বোধগম্য নয়। রাস্তার দুপাশে মাটি ধরার নিয়ম থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পুকুরের পাড়ের নিচের বালি ইতোমধ্যে ধসে গেছে। প্যালা সাইটিং না দিলে রাস্তাটি টেকসই হবে না।

সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সিডিউলে এই রাস্তার দুপাশে গাইড ওয়াল ধরার নেই, তবে মাটির কাজ রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্মাণাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় কনস্ট্রাকশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মাগুরায় পুলিশের অভিযানে ১৬ জুয়াড়ি আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বালিদিয়া বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ১৬ জনকে আটক করেছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ। গত সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে কামালের একটি মুদি দোকানের ভেতরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গোপনে জুয়ার আসর বসছিল। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নগদ টাকা ও জুয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

আটকরা হলেন—ইরান আলী (৩৫), জামাল মিয়া (৩০), রাজ্জাক বিশ্বাস (২৮), জিনজির মিয়া (৪৫), এরশাদ শেখ (৩০), রাজ্জাক মোল্যা (৩৫), মানিক মিয়া (৩২), মতিয়ার রহমান (৪৫), সালাউদ্দিন মোল্যা (১৮), রাজ্জাক মিয়া (৩৭), তবিবার (৪০), আরব আলী (২৮), ওহাব মৃধা (৪৫), বিল্লাল হোসেন (৩০), সাগর মিয়া (১৮) ও এরশাদ মোল্যা (২২)।

মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান জানান, জুয়ার সময় তাস ও নগদ অর্থসহ তাদের আটক করা হয়েছে। মাদক ও জুয়াসহ সকল সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাগুরা আদালতে পাঠানো হয়েছে।


বগুড়ায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ-২০২৬ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বগুড়া সদর এলএসডিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রাজিয়া সুলনাতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান, সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আতিকুল ইসলাম ফরিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মামুন, কোষাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেনসহ খাদ্য ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন-উর-রশিদ অনিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১৭ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন ধান, ৭২ হাজার ৬০২মেট্রিক টন চাল এবং ৩ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধ চালের পাশাপাশি আতপ চালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্য অনুযায়ী ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।


চবিতে প্রথমবারের মতো চালু হলো গবেষণায় বৃত্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকদের জন্য গবেষণা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (৪ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন।

চাকসু সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম চালু হওয়া এ বৃত্তির আওতায় ৪ বছর মেয়াদি পিএইচডি গবেষকরা পাবেন ৪০,০০০ টাকা, ২ বছর মেয়াদি এমফিল গবেষকরা ২০,০০০ টাকা এবং ৬ মাস মেয়াদি মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা ১৫,০০০ টাকা।

পিএইচডি ও এমফিল গবেষকদের প্রতি বছর বৃত্তি নবায়নের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে সুপারভাইজারের সন্তোষজনক মতামত ও একাডেমিক কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বৃত্তি নবায়ন করা হবে না।

২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভর্তিকৃত পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাবর্ষ জুলাই-জুন বিবেচনায় বৃত্তি প্রদান করা হবে এবং শুধু পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া পিএইচডি গবেষকদের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কমপক্ষে একটি করে এবং এমফিল গবেষকদের অন্তত একটি পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা থাকতে হবে। অন্যথায় প্রাপ্ত বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তর কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আবেদনগুলো অনুমোদন করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে না পারলে বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, দুর্যোগ বা মহামারির মতো গ্রহণযোগ্য কারণে সর্বোচ্চ এক বছর সময় বৃদ্ধি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বৃত্তির অর্থ শুধু গবেষণা কাজে ব্যয় করা যাবে অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না।

এ বিষয়ে চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। মাস্টার্স থিসিসের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তির আওতায় আনা হবে। যদিও, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তার বিস্তারিত হিসাবও জমা দিতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আবেদন অনুমোদন করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে, একজন শিক্ষার্থী যদি অন্য কোনো একাধিক বৃত্তি পেয়ে থাকে তাহলে এটি গ্রহণযোগ্য হবে না।


banner close