সবজির পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে বেড়েছে মাছ এবং মুরগির দামও। এছাড়া পেঁয়াজ এবং ডিমের দামও কিছুটা উর্ধ্বমুখী। তবে চাল ও ভোজ্যতেলসহ বেশকিছু পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, শসা, কাঁচা মরিচ, পটোল- সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী। আগে যেসব সবজি ৬০-৭০ টাকায় মিলত, এখন সেগুলোর দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০-৯০ টাকা, কাঁকরোল ১০০-১৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৭০ টাকা, ঝিঙে ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা দরে। এছাড়া পেঁপে ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, পটোল ৭০-৮০ টাকা, সজনে ডাটা ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মান ও বাজারভেদে কিছুটা দাম ওঠানামা করছে।
মুরগির বাজারেও দেখা দিয়েছে নতুন চাপ। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা, কক ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহণ ব্যয় বাড়ায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অনেকে মনে করছেন, এই সুযোগে এক শ্রেণির মজুতদার ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে চলছে।
গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা কেজি। বাজার করতে আসা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিরপুরে বাজার করতে আসা তানভীর বলেন, ‘সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে। মুরগি কিনতে গেলেও একই অবস্থা।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন- টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো, বাজার মনিটরিং জোরদার করা, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ধরনভেদে ৬৫ টাকা। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম মানের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি ছোট্ট রসুনের কেজি ১৪০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুনের কেজি ২৪০ টাকা টাকা, আদার কেজি বাজার ও ধরনভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত মিলছে। চিকন মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১২০ টাকা, আমদানি করা মুগডাল ১৪০ টাকা এবং দেশি মুগডাল ১৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারগুলোতে দেখা গেছে, চিকন চাল ৮০ থেকে ধরনভেদে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৮ বাজার ও ধরনভেদে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে স্বর্ণার কেজি ৫৫ টাকা আর গুটিসহ অন্যান্য মোটা চাল সর্বোচ্চ ৫৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বেশ কিছুদিন ধরেই চাল এ দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং লিটার ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরে চড়া অবস্থায় রয়েছে। বাজারে সব ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। ক্রেতাদের অভিযোগ, নজরদারি নেই বলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা চড়া যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।
রামপুরা-মালিবাগ এলাকার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা। বাজারে কিছু দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর দাম তুলনামূলক আরও বেশি। যেমন, বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়, পোয়া ৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা।
এদিকে জাতীয় মাছ ইলিশের দাম সবসময়ই চড়া থাকে। আজকের বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকায়, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা, আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি হালি ডিমের দাম ৪৫ টাকা, ডজন ১৩৫ টাকা। মিরপুর-৬ বাজারের ডিম একজন বিক্রেতা বলেন, ডিমের দাম কিছুটা বেশি; কেন বেশি জানি না! মোকামে বাড়তি দাম নিয়েছে, আমিও বেশি দামে বিক্রি করছি।
ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীসহ আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। আটক চারজনের নাম জানা যায়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কেউ কথা বলতে চাননি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।
পরে এদিন বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।
কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ এসব পণ্য উদ্ধার করা হলেও জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
একই দিন বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) কম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ।
তিনি জানান, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে বাগবেড় এলাকায় কয়েকটি বস্তা ও কার্টন সন্দেহজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সাতজন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ২২৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ শতাংশ নারী।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি নেদারল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। তবে প্রথমে জার্মানি যাবেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ফয়েজ আহমদ। দেশ ছাড়ার পরে কারণ উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টে দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ সহকারীর ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালে তিনি দেশ ছাড়েন। দেশ ছাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, তিনি নেদারল্যান্ডের নাগরিক। জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে বিদায় নেন। কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা উপহারও দিয়েছেন।
নেদারল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে তার পাসপোর্ট আছে। তিনি সেই পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ সহকারী হিসেবে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন। এসব সংস্কার করতে গিয়ে বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
দেশ ছাড়ার পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনী আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্মদিবস ছিল।
সেদিন কর্মকর্তা কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।
তিনি বলেন, একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায় সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কি করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।
অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সাথে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব। পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তাম, বিগত সময়ে আমার সহ-লেখকরা যেসব মৌলিক লেখা লিখেছেন সেগুলোও পড়তে হবে।
তিনি আরো বলেন, পুনশ্চ, আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলো পুরোনো আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মত খেটেছি। এগুলো প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিয়েন।
আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারছি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথানত করিনি।
দ্রুত একটা চাকরি খুঁজব। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্থ করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে।
আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিহতের চাচা জাকির হোসেন, নানা চারু মিয়া ও সৌরভ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জানান, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো. রাহিম মিয়া (৩৫) পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৮ হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে রাফসান, লোকমান ও ইয়াসিনসহ তাদের সহযোগীরা তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বাড়ির অদূরে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি-ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সুলতানপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দেড় হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে আটক করেছে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
উদ্ধারকৃত মাদক ইয়াবার মোট ওজন ১৫০ গ্রাম, যার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ আড়াই হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের দুজন নেত্রকোনার এবং আরেকজন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।
মাদক কারবারিরা হলেন- নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার বরহাটি গ্রামের মৃত. জজ মিয়ার ছেলে মো. রুহল আমিন (৩৫) ও পূর্বধলা উপজেলার মানিকদীর গ্রামের মানিকদীর গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মো. খোরশেদ আলম ওরফে আলম (৩২) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানাধীন শ্যামগঞ্জ এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে অলিউল্লাহ (২৪)।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসেব তথ্য জানানো হয়েছে। গত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গোলচত্বর সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক-এর নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম শম্ভুগঞ্জ গোলচত্বরের তনুশ্রী হোমিও হলের পূর্ব পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় নেত্রকোনাগামী ‘রফরফ এন্টারপ্রাইজ’ নামক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাসে থাকা তিন যাত্রীর হেফাজত থেকে আকাশি, সাদা ও কালো রংয়ের পলিথিনে মোড়ানো জিপারযুক্ত প্যাকেটে লুকানো অবস্থায় মোট ১ হাজার ৫ শত পিস কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন জানানো হয়েছে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রাইভেটকার ও অটোভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উপজেলার জোকারচর গোহালিয়াবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে অটোভ্যান চালক মোহাম্মদ আমীর আলী (৪০) ও একই গ্রামের মান্নানের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৪১)। তিনি অটোভ্যানের যাত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি প্রাইভেটকার জোকারচর এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়ক পারাপারের সময় একটি অটোভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও ভ্যানে থাকা এক যাত্রী সড়কেই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
এরপর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক যাত্রী শরীফ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভ্যান চালক আমির আলীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত দুইজনের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২০১৪ সালের পিকনিক ট্রাজেডিতে নিহত নয় শিশুশিক্ষার্থীর স্মরণে বেনাপোল পৌরসভা বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল। নির্মিত সেই স্মৃতিস্তম্ভে বুকে তীরবিদ্ধ অবস্থায় উড়ছে নয়টি কবুতরের প্রতীক। পাশে লেখা ‘আমার বর্ণমালা, তুমি ভালো থেকো’। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো। তবে এবার দিনটি উপলক্ষে কোনো আলোচনা সভা, শোক র্যালি বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হয়নি। শুধু পৌরসভার পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর এ দিনে বেনাপোল পৌরসভা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যালি, কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার কোনো আয়োজন না থাকায় নিহত শিশুদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে বেদনা আরো গভীর হয়েছে।
বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘আগে প্রতিবছর পৌরসভা থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। স্কুল থেকেও মিলাদ ও আলোচনা সভা করা হতো। এবার নির্বাচন ও সরকারি ছুটির কারণে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। তাই আয়োজন হয়নি।’
সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোক র্যালি করে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পৌরসভার সচিব বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারো পৌরসভা দায়িত্ব পালন করেছে। অন্য সংগঠন বা স্কুল কর্তৃপক্ষ আয়োজন না করলে আমাদের বলার কিছু নেই।’
বেনাপোল নাগরিক কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ স্বপন বলেন, ‘দিন দিন আমরা স্মৃতি ভুলে যাচ্ছি। আগে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিত। এবার প্রশাসন বা স্কুল কমিটির মনেই নেই দিনটির কথা।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মুজিব নগরে যান। সেখান থেকে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড় নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় নয়জন এবং আহত হয় আরো ৪৭ জন শিশুশিক্ষার্থী।
ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো; বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোটআঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত (৯), গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি (১১)।
১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোটআঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল (১১)। সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন বাসযাত্রী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দাউদকান্দি উপজেলার বাহাদুরখোলা এলাকার অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন (৩৮) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার সুরুজগঞ্জ বোয়ালিয়া এলাকার বাসযাত্রী মিজানুর রহমান (৪৯)।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের জিংলাতলী এলাকায় ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৬২০৩ নম্বরের একটি ইকোনো পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন বাসযাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপনের কাব্যগ্রন্থ ‘নিঃশব্দ্যের শব্দময়তা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সাহিত্যপ্রেমী, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু।
কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রবীণ শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শকু বলেন, নিঃশব্দ্যের শব্দময়তা নামটি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও গভীর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখাতেও আমরা এমন কঠিন ও গভীর শব্দের ব্যবহার দেখি। বইটির নামেও তেমন এক দার্শনিক আবেদন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন সত্য উচ্চারণে সাহসী। বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্কে তিনি যুক্তির দৃঢ়তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এমপি শকু আরও বলেন, কুলাউড়ার জনগণ গত ১২ তারিখে তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা পালনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বইয়ের লেখক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন তার বক্তব্যে দেশনায়ক তারেক রহমানকে উৎসর্গ করা গ্রন্থটির রচনাপ্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা মহসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা. আবু বক্কর, মো. মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি ও বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়ার সভাপতি ড. সাইফুল আলম চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, অধ্যক্ষ ফরহাদ আহমদ, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন বাবলু, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিন্টু, প্রভাষক সিপার উদ্দিন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এহসান চৌধুরী, টিবিএফ চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম শামীম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. হেমন্ত চন্দ্র পাল, প্রভাষক খালিক উদ্দিন, অপূর্ব শর্মা, খছরু চৌধুরী, ওয়াহিদ মুরাদ ও ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।
নওগাঁর ধামইরহাটে কুকুর জবাই করে খাসির মাংস বলে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে দ্রুত দোকান ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
জানা যায়, ধামইরহাট এর নেংড়াপীর–ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে খাসির মাংস বিক্রি করতেন স্থানীয় কসাই এনতাজুল ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী। তারা নিয়মিত বাড়ি থেকে মাংস এনে বাজারে বিক্রি করতেন। গতকাল রোববার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে কুকুর ধরে জবাই করার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে বাজারে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা দ্রুত মাংস ফেলে দোকান থেকে পালিয়ে যায়। অল্প সময়েই শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত এনতাজুল ও দুলু মৌলভী পলাতক রয়েছেন।’
থানা পুলিশের ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘জবাইকৃত কুকুরের মাথা, চামড়া এবং মাংস জব্দ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মাথায় কুমিল্লার লালমাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মহিউদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক। আজ রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বাগমারা দুধ বাজার সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দিন সকালে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি রেললাইনে গিয়ে নিজের একটি সেলফি তোলেন এবং ‘ইসলামি শান্তি’ নামক নিজের ফেসবুক আইডিতে সেটি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল’। দুর্ভাগ্যবশত, পোস্টটি করার কিছুক্ষণ পরই নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় তিনি লাইনের ওপরই ছিলেন। দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে আরও একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য জামায়াতে ইসলামি করি না। হেরে যাওয়ার পরও শিবির, আলহামদুলিল্লাহ।’ তাঁর আকস্মিক এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নিহতের স্বজনরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাকসাম স্টেশন ছেড়ে বাগমারার দিকে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রেনের নিচেই কাটা পড়ে মহিউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অসতর্কভাবে রেললাইনে চলাচল ও সেলফি তোলার ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ধানমণ্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীকেও আটক করা হয়। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে আজ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।
পরে এদিন বিকেলে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।