নাটোর জেলার উত্তরা গণভবনে এখন হৈমন্তি আর ম্যাগনোলিয়ার ভরা মৌসুম। সাতটি করে হৈমন্তি আর ম্যাগনোলিয়ার রুপে রসে গন্ধে অনন্য হয়ে উঠেছে উত্তরা গণভবনের আঙিনা। এছাড়া দুটি হোয়াইট এলামন্ড গন্ধ বিলিয়ে যাচ্ছে। ফুলের কানে ভ্রমরের গুঞ্জনে মোহনীয় চারিদিক।
অপরুপ স্থাপত্য শৈলীর রাজপ্রাসাদ আর বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসা অসাধারণ সব সামগ্রীর সংগ্রহশালাকে ছাড়িয়ে যায় গণভবনের দুষ্প্রাপ্য কিছু গাছের সমাহার। এর বেশির ভাগটাই ফুল গাছ। এরমধ্যে পারিজাত, ম্যাগনোলিয়া, নাগালিঙ্গম, এগপ্লান্ট, হোয়াইট এলামন্ড, সুরভিকা আর হৈমন্তি অন্যতম। এসব ফুল গাছের উপস্থিতি জানান দেয়, উত্তরা গণভবন শুধু রাজপ্রাসাদই নয় সুবিশাল পুষ্প সাম্রাজ্যও বটে।
এরমধ্যে পারিজাত চক্রাকারে পাতার রঙ পাল্টিয়ে লাল রঙের ফুলের থোকায় পরিণত হয় বসন্তে। এগপ্লান্টে প্রায় সারা বছর দু’একটা ফুল থাকলেও শীত আর বর্ষা এর ভরা মৌসুম। নাগালিঙ্গম আর ম্যাগনোলিয়া বসন্তে ফুটলেও বিস্তৃতি বর্ষাকাল পর্যন্ত। সুরভিকা ফোটে মূলত শীতকালে। গ্রীষ্মের তাপদাহকে উপেক্ষা করে হোয়াইট এলামন্ড তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে এখন।
আর বসন্তে পাতা হারিয়ে হৈমন্তি গাছগুলো হয়ে পড়ে বিবর্ণ। বসন্তের শেষার্ধে ফুল আসতে শুরু করলেও গ্রীষ্মে হৈমন্তির রুপ হয়ে ওঠে অপরুপ। সারাগাছ জুড়ে ফুল আর ফুল, কোন পাতা নেই। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে এ যেন শুভ্র সুন্দর শান্তির পরশ। গ্রীষ্মের এই ফুল সুবাস ছড়াবে অন্তত দুই মাস। এটিই হৈমন্তির ভরা মৌসুম। শরতে আরো একবার হৈমন্তি শুভ্র সুন্দর হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে এত ফুলের প্রাচুর্য আর সুবাস তখন থাকে না।
গণভবনের সিংহ দুয়ার পেরিয়ে সোজা এগিয়ে গেলে ইটালিয়ান গার্ডেনের প্রবেশপথের আগে দাঁড়িয়ে আছে একটি হৈমন্তি। ইটালিয়ান গার্ডেনে একটি, হরিণনিবাসে একটি, সংগ্রহশালার সাথে একটি, রাজপ্রাসাদের সামনে দুইটি হৈমন্তি গাছ। আর রাণীমহলে একটি হৈমন্তি গাছ। ধীরে বর্ধনশীল হৈমন্তির সাতটি গাছের মধ্যে রাজপ্রাসাদের সামনের গাছটি ফুলে ফুলে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
দুষ্প্রাপ্য গাছের তালিকায় আছে ম্যাগনোলিয়া। এর সংখ্যাও সাতটি। কুমার প্যালেস এর সাথে একটি ছাড়া অন্য ছয়টি ইটালিয়ান গার্ডেনে। কাঁঠাল পাতার মত প্রায় পাঁচ মিটার উঁচুতে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাগনোলিয়ার প্রতিটি গাছে শত শত ফুলের কলি আর ফুল। বিরাট আকৃতির সাদা ফুল অকৃপণভাবে সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। ইটালিয়ান গার্ডেনকে সুশোভিত করে রাখে অতিকায় দুটো হোয়াইট এলামন্ড। এখন শুধু সুশোভিতই নয় সারা গাছ জুড়ে সাদা ঝিরিঝিরি ফুল রাশি পুরো গার্ডেনকে সুরভিত করে রেখেছে।
জেলা প্রশাসক ও উত্তরা গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসমা শাহীন বলেন, হৈমন্তী, ম্যাগনোলিয়া আর হোয়াইট এলামন্ড গণভবনকে সুশোভিত সুরভিত করে রেখেছে। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর উত্তরা গণভবনের আঙিনা। সৌন্দর্য পিপাসুদের মধ্যে অনেকেই গ্রীষ্মের এই তাপদাহে এসব ফুল গাছের তলায় দু’দণ্ড শান্তির পরশ খুঁজে পাচ্ছেন। দুষ্প্রাপ্য এসব গাছের সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন সদা সচেষ্ট।
মাগুরায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ। সভায় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ, উপজেলা প্রশাসন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সাংবাদিক ও পূজা উদ্যাপন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, গত বছর মাগুরা জেলায় ৬১১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর জেলায় ৬৮৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৭৬টি।
সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং সার্বিকভাবে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় আরও ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদের, প্রশাসনের মো. আরিফুল ইসলাম সরদার (উপসচিব), সহকারী পুলিশ সুপার (শালিখা সার্কেল) নিশাত আল নাহিয়ান, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাগুরার উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের মাগুরা জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, মাগুরার উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় গাঁজা পাচারের সময় এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম মো. ইসলাম। তিনি রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ দারুস সালাম এলাকার রেজাউল মিয়ার ছেলে। তার কাছ থেকে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে।
ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ইসলাম কসবা এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে শরীরের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় ফিটিং করেন। পরে আখাউড়া থেকে মহানগর এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তিনি নিচে নেমে যান। পরে আবার ট্রেনের ছাদে ওঠার সময় সেখানে থাকা কয়েকজন যাত্রী তাকে সহায়তা করতে গিয়ে তার পেটে হাত দেন।
এ সময় তাদের সন্দেহ হলে তারা তাকে তল্লাশি করেন। তখন তার পেটের সঙ্গে গাঁজা ফিটিং করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন যাত্রীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহআলম মিয়া জানান, এ ঘটনায় ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এর আগেও মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার সাজা দেওয়া হয়েছিল। তাকে বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও দরিদ্রসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজ মাঠে এ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। গোয়ালন্দ হ্যাচারিজ লিমিটেড ও গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের আয়োজনে এবং ফরিদপুর আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মহসিন বেগের তত্ত্বাবধানে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।
রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদের শেখের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ আহমেদ, সাবেক সদস্য সচিব মো. নাজিরুল ইসলাম তিতাস, গোয়ালন্দ হ্যাচারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু সায়েম খান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘‘দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের ভালো কাজকে সবসময় উৎসাহিত করা উচিত। এতে অন্যরাও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন।’’
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পে রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। যেসব রোগীর বিশেষায়িত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে, তাদের ফরিদপুর আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগীকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমরা প্রায় প্রতি মাসেই এরকম বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প করে থাকি। প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
শহরের ব্যস্ততম মোড় থেকে অলিগলি। কোথাও কিছু ঘটলেই এখন আর ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা মানুষের বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না পুলিশকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ছে সন্দেহজনক গতিবিধি থেকে অপরাধের নানা চিত্র। একই সঙ্গে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে যানজটের স্থান, নজরদারিতে রাখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য।
নওগাঁ শহরকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সারভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টকে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এরই মধ্যে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের যানজট শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও সহায়তা করছে ক্যামেরাগুলো।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শহরের কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হচ্ছে। অপরাধীরা জানে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখন প্রযুক্তির নজরদারির মধ্যে। ফলে অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ আধুনিক প্রযুক্তির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নওগাঁ শহরকে আনা হয়েছে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায়। ক্যামেরা স্থাপনের আগে নওগাঁ শহরে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির মতো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশকে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। পাশাপাশি অপরাধের ঘটনা তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করতেও লেগে যেত দীর্ঘ সময়।
তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালুর পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ক্যামেরার নজরদারির কারণে অপরাধীরা এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্ক। ফলে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমার পাশাপাশি ঘটনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করাও সহজ হচ্ছে।
সম্প্রতি নওগাঁ শহরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র শহরে শরীরে নোংরা পদার্থ ছিটিয়ে মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়া একটি চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতেও ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান পুলিশ সুপার। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সাধারণত ব্যাংক, শপিং মল কিংবা ব্যস্ততম মোড়ের আশপাশে অবস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করত। সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগীর শরীরে ছুড়ে দেওয়া হতো নোংরা বা তরল পদার্থ। এতে বিব্রত ও দিশেহারা হয়ে পড়তেন ওই ব্যক্তি। আর সেই সুযোগেই ভিড়ের মধ্যে থেকে পকেট কিংবা ব্যাগে হাত দিয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত চক্রের সদস্যরা। তবে শহরজুড়ে এআই-নির্ভর ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা চালুর পর এমন অপরাধ শনাক্তকরণে এসেছে নতুন গতি। পুলিশের দাবি, এআই ক্যামেরার রিয়েল-টাইম অ্যালার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি একই এলাকায় বারবার অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করলে কিংবা কোনো পথচারীর খুব কাছাকাছি গিয়ে সন্দেহজনক আচরণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নজরে আসে কন্ট্রোল রুমের মনিটরিং স্ক্রিনে।
শহরের মুক্তির মোড়ের মুদি দোকানি কালাম হোসেন ও পথচারি রিজিয়া পারভীন এর সাথে কথা হলে তারা জানান, এই আই ক্যামেরা শহরে স্থাপন এর কারনে আমরা আগের চেয়ে বর্তমান অনেক নিরাপদ মনে করছি। চুরি, ছিনতাই অনেক কমে আসবে বলে আশা করছি।
নওগাঁ সরকারি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক মোঃ আবু হাসান বলেন, এই প্রযুক্তিটি মূলত মানুষের মুখমণ্ডলের বিভিন্ন জ্যামিতিক পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে কাজ করে। ফলে তীব্র ভিড়ের মধ্যেও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির চেহারা পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের ছবির সাথে মিলিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার শতভাগ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারে এটি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ শহর ও আশেপাশে যেকান স্থানে কোন ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে আমরা এ আই ক্যামেরার সহায়তা গ্রহণ করছি। এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি নানা ধরনের ক্রাইম আমরা এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। ৬৪টি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সবগুলো সচল রয়েছে। নিয়মিত ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই চিন্তা থেকেই তার নিজস্ব উদ্যোগে শহরকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবে রূপ পেয়েছে। চুরি-ছিনতাই, অপহরণ প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে অত্যাধুনিক এআই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনা হবে।
জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ওই ১০ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভাই হলেন—মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এজলাসে ১১ আসামির উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামরি এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল।
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে আয়োজিত এক সুন্নতে খতনা কর্মসূচির পর অর্ধশতাধিক শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের মধ্যে ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসুস্থ শিশুদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে টেকনাফ থেকে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে রওনা দেওয়া এই বিশেষ মেডিক্যাল টিমে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নওশাদ আলম কানন, ডা. আশরাফুল ইসলাম ও উপসহকারী শাওখাত হোসেন মিতু রয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ওষুধপত্রও পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ২১০ জন শিশুর খতনা করায়। তবে খতনার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে পরদিন পর্যন্ত ৫৫ জন শিশু গুরুতর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে সেন্টমার্টিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বীপে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কতা মানা হয়নি। স্বল্প সময়ে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। দ্বী
পটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষ অসচ্ছল হওয়ায় শিশুদের এমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বৈরী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মুমূর্ষু শিশুদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, মেডিক্যাল টিম দ্বীপে পৌঁছেই শিশুদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করবে। ঘটনার পেছনে চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্বীপবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে খতনা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কিশোরগঞ্জের ইটনায় মাছ ধরতে গিয়ে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া অরুণ দাস (২২) নামে এক জেলের মরদেহ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের বাকসাই-শিলুন্দিয়ার মধ্যবর্তী নতুন খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অরুণ দাস ধনপুর ইউনিয়নের ঠাকুরহাটির কানু দাসের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ দাস জানান, সোমবার দুপুরে শিলুন্দিয়া গ্রামের পূর্বদিকে ধনু নদীতে একটি ছোট নৌকায় বসে মাছ ধরছিলেন অরুণ দাস ও তার বড় ভাই সাগর দাস। এ সময় বাজিতপুর থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে যাওয়া একটি বাল্কহেড তাদের নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
নৌকায় থাকা সাগর দাস সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অরুণ দাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তিন দিন পর বুধবার সকালে বাকসাই-শিলুন্দিয়ার মধ্যবর্তী নতুন খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ধনপুর নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জামাল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়েছে এবং এতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর দুই বছর দুই মাস দুই দিন পর চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের দিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁদের দাফন করা হয়েছিল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়াসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসনের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয় এবং অনুমতি মেলার পর কবর থেকে মরদেহ তোলার কাজ পরিচালিত হয়। দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলন প্রসঙ্গে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আল দীন জানান, অনেক সময় মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়; এ ক্ষেত্রে শরীরে মাংসপেশি অবশিষ্ট না থাকলেও হাড়গোড় ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা যায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় চাঁদপুর সদর উপজেলার চাপিলা মাদ্রাসা এলাকায় ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন সেলিম খান ও তাঁর ছেলে। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেলেও পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাঁদের গাড়িটি স্থানীয়রা আটকে দেয় এবং সেখানেই জনতার পিটুনিতে দুজনেরই মৃত্যু হয়। তৎকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের এই আদেশ দেন আদালত।
নিহত সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা 'শাপলা মিডিয়া'র কর্ণধার ছিলেন এবং তাঁর ছেলে শান্ত খানও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করতেন। বিগত সরকারের আমলে পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কেলেঙ্কারির কারণে তিনি দেশজুড়ে ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির একাধিক মামলা এবং অতীতে কারাভোগের ইতিহাস রয়েছে।
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম, অন্যদিকে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্য—দুই দিকের চাপেই বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাজারে পণ্য আছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত বা যৌক্তিক দামে তা মিলছে না। কোথাও সরবরাহ সংকট, কোথাও মজুতের অভিযোগ, আবার কোথাও পাইকার থেকে খুচরা পর্যায়ে একাধিক হাতবদলের অজুহাতে বাড়ছে দাম। ফলে বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ ও কারসাজির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানও পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট করেছে। ৪ অক্টোবর দেশের ৩০ জেলায় অধিদপ্তরের ৪৪টি দল অভিযান চালিয়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করে। এসব অভিযানে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার না রাখা এবং বিশেষ পাইপ ব্যবহার করে গ্যাস স্থানান্তরের মাধ্যমে ওজনে কারসাজির মতো অনিয়ম ধরা পড়ে।
এর পরদিন, ৫ অক্টোবর, ৪২ জেলায় আবার অভিযান চালিয়ে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি মজুত, ক্রয়রশিদ না থাকা, স্টক রেজিস্টার ও মূল্যতালিকা না রাখার মতো অনিয়মও পাওয়া যায়। মজুত করা গ্যাস নির্ধারিত দামে বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেট কোনো সরকারই পছন্দ করে না। আমরাও চাই, সিন্ডিকেট বলে যেন কোনো শব্দই না থাকে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মধ্যে পড়িনি। ভবিষ্যতেও যাতে দ্রুত যেকোনো সমস্যা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পুষ্টিকর চাল উৎপাদনের প্রকল্প প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি কবে উদ্বোধন বা চালু হবে, তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালু করার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিলে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সাইলোতে পৌঁছে তিনি সাইলো ও এর অভ্যন্তরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের কার্যক্রম ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্ধারিত দামেও মিলছে না গ্যাস
এলপিজি বাজারের অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে ১২ কেজির সিলিন্ডারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত দামের সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে।
ধামরাইয়ের কালামপুরের বাসিন্দা লিটন মিয়ার অভিজ্ঞতা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে বের হয়েও তিনি কয়েকটি দোকান ঘুরে গ্যাস পাননি। শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয় তাকে। তবে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—লোয়াব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা তাদের হিসাবে চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। সংগঠনটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কেউ নির্ধারিত দামের বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অর্থাৎ, সরবরাহ যথেষ্ট কি না—এই প্রশ্নের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সরবরাহব্যবস্থার কোন পর্যায়ে গিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে।
খাদ্যপণ্যের বাজারেও একই চিত্র: শুধু এলপিজি নয়, চাল, ডাল, তেল, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও ভোক্তার ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অনলাইন বাজারদরেও চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের উল্লেখযোগ্য খুচরা দাম দেখা যাচ্ছে। এখানে দাম বাড়ার সবটাই যে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও সরবরাহ পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে সেখানে কারসাজির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি।
ব্যবসায়ীদেরও ভিন্ন বক্তব্য: খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হন। ফলে পাইকারি বাজারে দাম না কমলে খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন। আবার ব্যবসায়ীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ—দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে তারা পণ্য আটকে রাখেন এবং সংকটের সময় বাড়তি দামে বিক্রি করেন। এই দুই ধরনের বাস্তবতার মধ্যে প্রকৃত কারণ বের করতে হলে আমদানি থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ ও নজরদারি জরুরি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সচিব এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তার মতে, কৃষক থেকে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছাতে অনেক ধাপ থাকলেও কোথায় কত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে, কোথায় অস্বাভাবিক মুনাফা হচ্ছে কিংবা কোথায় সরবরাহ আটকে যাচ্ছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই শুধু ‘সিন্ডিকেট’ বললে হবে না; কারা মূল্য নির্ধারণে সমঝোতা করেছে বা অস্বাভাবিক মজুত করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম এলপিজি বাজারে বিইআরসির নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, শুধু জরিমানা নয়, গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থাও বিবেচনা করা উচিত।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদে জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে দেশব্যাপী নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অভিযান শেষ হওয়ার পর বাজারের পরিস্থিতি কতটা বদলায়। কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করে যদি একই অনিয়ম আবার ফিরে আসে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। প্রয়োজন আমদানি, উৎপাদন, মজুত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের তথ্যভিত্তিক নজরদারি।
বিশেষ করে এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্ধারিত দাম বাস্তবে কার্যকর করতে হলে কোম্পানি, ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার প্রতিটি স্তরে সরবরাহ ও মূল্য তথ্য নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একইভাবে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে পণ্য ঢোকার পর কোথায় কত মার্জিন যোগ হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব থাকা দরকার।
সাধারণ মানুষের কাছে বাজারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই—পণ্য কি সত্যিই কম, নাকি সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অভিযান দিয়ে নয়, স্বচ্ছ তথ্য, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়েই দিতে হবে। নইলে এলপিজি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ঘুরেফিরে উঠতেই থাকবে, আর বাড়তি বিলের বোঝা বইতে হবে ভোক্তাকেই।
রাজধানীর সড়কে এখন ব্যাটারি রিকশার স্রোত। সিগন্যাল ছাড়লেই একসঙ্গে ছুটে আসে সারি সারি তিন চাকার এই বাহন। প্রধান সড়ক, সংযোগ সড়ক কিংবা অলিগলি—কোথাও যেন তাদের থামানো যাচ্ছে না। ধীরগতির এসব যান কখনো পাশাপাশি চলে, কখনো হঠাৎ লেন বদলায়, আবার কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য মাঝসড়কেই দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে কম ভাড়ায় স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জনপ্রিয় বাহনটি এখন ঢাকার যানজট, সড়ক-শৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
শুধু সড়কে চলাচল নয়, এসব যান তৈরির ক্ষেত্রেও নেই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ। রাজধানীর বিভিন্ন গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ব্যাটারি রিকশা। বসিলা, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত কারিগরেরা। অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নকশা, মান ও অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই তৈরি হচ্ছে এসব যান। ফলে দেশে মোট ব্যাটারি রিকশার প্রকৃত সংখ্যা কত, তারও নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই।
৫০–৮০ লাখের বিশাল বহর: সেপ্টেম্বরে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে বৈধ চার্জিং অবকাঠামো অত্যন্ত সীমিত। সারাদেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। বিপরীতে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজারের বেশি বলে সংসদে জানানো হয়েছে।
একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সাধারণত চার থেকে ছয়টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। পূর্ণ চার্জে বিদ্যুৎ লাগে গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার চার্জ দিতে হয়। ফলে লাখ লাখ যান একসঙ্গে চার্জে বসলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তৈরি হয় বড় ধরনের অতিরিক্ত চাপ।
অবৈধ চার্জে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি: সমস্যার সবচেয়ে বড় আর্থিক দিকটি লুকিয়ে আছে চার্জিং ব্যবস্থায়। বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ কিংবা আবাসিক স্থাপনায় অননুমোদিতভাবে বিপুলসংখ্যক রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বৈধ সংযোগের অপব্যবহার, কোথাও আবার সরাসরি অবৈধ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিকভাবে চার্জ দেওয়ার কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অর্থাৎ যে বাহনটি যাত্রীকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে, তার পেছনে বিদ্যুৎ খাত ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বে তৈরি হচ্ছে বিপুল আর্থিক চাপ।
যানজটের নতুন বোঝা: ব্যাটারি রিকশার বিস্তারের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে সড়কে। ধীরগতির যান হওয়ায় এসব রিকশা দ্রুতগতির বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে একই সড়ক ব্যবহার করলে গতির পার্থক্য তৈরি হয়। এতে একদিকে যান চলাচলের গতি কমে, অন্যদিকে লেন পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়ে। যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়া, হঠাৎ ঘুরে যাওয়া, বিপরীত দিক দিয়ে আসা কিংবা একাধিক রিকশার পাশাপাশি চলার কারণে অনেক সময় একটি লেন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সেই জট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্য লেনেও।
বিশেষ করে বাজার, স্কুল, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের আশপাশে ব্যাটারি রিকশার ঘনত্ব বাড়লে যানজট আরও তীব্র হয়। ফলে একটি ছোট সড়ক সমস্যা মুহূর্তেই বড় এলাকার যান চলাচলকে প্রভাবিত করে।
‘নিষেধাজ্ঞা নয়, নিয়ন্ত্রণ জরুরি’: নগর পরিকল্পনাবিদ তাহসিন রেজা মনে করেন, ব্যাটারি রিকশার সমস্যার সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। কারণ এই বাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও জীবিকা জড়িত।
তার মতে, ব্যাটারি রিকশাকে নির্দিষ্ট এলাকা ও রুটের আওতায় এনে নিবন্ধন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি যানজট কমাতে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
তাহসিন রেজার ভাষায়, ব্যাটারি রিকশাকে শুধু যানজটের কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল জায়গাটি ধরা পড়বে না। কোথায় চলবে, কতটি চলবে, কোথায় চার্জ হবে এবং কী মানের যান রাস্তায় নামবে—এসব বিষয়ে একটি সমন্বিত নগর পরিবহন কাঠামো প্রয়োজন।
এই পরিকল্পনাবিদ মনে করেন, হঠাৎ করে লাখ লাখ যানবাহন বন্ধ করে দিলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও তৈরি হবে। তাই পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট, জোনভিত্তিক চলাচল এবং অনুমোদিত চার্জিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি: যানজটের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিবন্ধনহীন যান, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং প্রধান সড়কে ধীরগতির যান চলাচল—সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হন। এসব দুর্ঘটনায় যুক্ত যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অংশ ছিল ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে ঝুঁকিটা আরও বেশি। একই সড়কে দ্রুতগতির বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে ধীরগতির রিকশা চলায় তৈরি হয় সংঘর্ষের সম্ভাবনা। তার সঙ্গে যুক্ত হয় পথচারী পারাপার ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের ঝুঁকি।
‘মনের মাধুরী’তে গাড়ি তৈরির সুযোগ কতটা: সমস্যার আরেকটি বড় জায়গা হলো উৎপাদন। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, ওয়ার্কশপে অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রে একটি কারিগরি সংস্থার অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় নিজেদের মতো করে গাড়ি তৈরি করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, কোনো গাড়ির ‘পেট মোটা’, কোনোটি ‘পেট চিকন’, কোনোটি আবার লম্বা—অর্থাৎ গাড়ি তৈরিতে নির্দিষ্ট মডেল বা মানদণ্ডের ঘাটতি রয়েছে। বিধিমালায় বুয়েটের প্রোটোটাইপকে ভিত্তি ধরে অটোরিকশা তৈরির কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজও ব্যাটারি রিকশার চলাচল জোনভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, এক জোনের গাড়ি অন্য জোনে যেতে না পারা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এসব যান বিদ্যুৎনির্ভর থাকবে, নাকি সৌরশক্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থায় নেওয়া হবে, তা নিয়েও আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ব্যাটারি রিকশাকে একদিনে উচ্ছেদ করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বাড়তে দেওয়াও নগরের জন্য টেকসই সমাধান নয়। প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থাটিকে নিয়মের মধ্যে আনা। প্রথম ধাপে সব যান নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট রুট ও জোন ঠিক করে প্রধান সড়ক থেকে ধীরগতির যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে নিয়ন্ত্রিত চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন বাড়াতে হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি চার্জিংয়ের জন্য পৃথক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ যুক্তরাজ্য থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশে পৌঁছাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডন থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তার কফিন দেশে পাঠানো হবে। ওই ফ্লাইট শনিবার সকালে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লন্ডনের ব্রিক লেইন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার মরদেহ রাখা হবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। জোহরের নামাজের পর সেখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন। তার সাবেক অনেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা ব্রিক লেইন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তার জানাজা ও দাফনের বিস্তারিত কর্মসূচি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের পাওয়ার কারে ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটি ছেড়েছে। এতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রেনটির কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। তবে পাওয়ার কারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি ছাড়তে পারেনি। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে রাত সোয়া ৮টার দিকে ট্রেনটি কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনের বগিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অনেকটা সময় অন্ধকার ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিক্ষক মুক্তার উদ্দিন ছেলেকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর স্টেশনে আসেন। তার ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল ৬টা ৪৫ মিনিটে। তিনি বলেন, ‘১৫ মিনিট আগেই স্টেশনে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি ট্রেনের কোনো বগিতে বিদ্যুৎ নেই। পুরো ট্রেন অন্ধকার। প্রচণ্ড গরমে স্টেশনেই এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
নরসিংদী সদরের হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়ছিল না। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখি কয়েকজন লোক পাওয়ার কারে কাজ করছেন। জানতে চাইলে তারা পাওয়ার কারে সমস্যা হয়েছে বলে জানান। সমস্যা সমাধানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়টা কতটা বিরক্তিতে কেটেছে, তা যারা এখানে ছিলেন তারাই বুঝতে পারবেন।’
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের এলাকার শ্যামলী নাহার স্বর্ণা দুই সন্তানকে নিয়ে ট্রেনটিতে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে ট্রেনে উঠেছি। সঙ্গে একাধিক ব্যাগও আছে। ট্রেনের ভেতরেও অন্ধকার ছিল। আবার ব্যাগ রেখে নিচেও যেতে পারছিলাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার সময় এসে পাওয়ার কার ঠিক করার কথা মনে পড়েছে। অথচ এসব বিষয় নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষা করে নেওয়া যেত। এই ট্রেনে বরাবরই সমস্যা লেগে থাকে।’
নরসিংদীর শিবপুর এলাকার যাত্রী আলমাছ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্রেনে কী সমস্যা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারছিলেন না।
সমাধানে কতক্ষণ সময় লাগবে, সেটা জানার জন্য স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেনের কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এর আগেও একদিন একটি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে স্টেশনে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলেও অপরিচিত নম্বর থেকে কল রিসিভ করেন না।’
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘ট্রেনের পাওয়ার কারে সমস্যা থাকায় নির্ধারিত সময়ে ছাড়া সম্ভব হয়নি। পরে সেটি মেরামত করে গন্তব্যের উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে গেছে।’