বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে র্যাব ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) যৌথ অভিযানে মাদক চোরাচালানকারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ডিজিএফআইয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, নিহতের নাম স্কোয়াড্রন লিডার রেজওয়ান আহমেদ।
এদিকে একই অভিযানে র্যাবের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের গুলিতে অজ্ঞাত এক নারীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।
সোমবার রাত ৮টার দিকে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র আসার খবরে অভিযানে গেলে র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যদের ওপর এ হামলা চালায় মাদক চোরাচালানে জড়িত ওই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন র্যাবের কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়া। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনার সময় মাদক চোরাচালানকারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বান্দরবন জেলার তমব্রু সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ হয়। মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে এই সংঘর্ষের সময় মাদক চোরাচালানকারীদের গুলিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তা (বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা) দেশের জন্য আত্মত্যাগ করে শহীদ হন এবং র্যাবের একজন সদস্য আহত হন।
তুমব্রু সীমান্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা র্যাবের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে এক নারী মারা গেছেন। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ রিপন চৌধুরী বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক র্যাব সদস্যকে ১০টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ঘটনাস্থলে একজন নারীর মরদেহ মিলেছে। তবে তিনি রোহিঙ্গা নাকি বাংলাদেশি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার প্রতিনিধি]
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন বাসযাত্রী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দাউদকান্দি উপজেলার বাহাদুরখোলা এলাকার অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন (৩৮) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার সুরুজগঞ্জ বোয়ালিয়া এলাকার বাসযাত্রী মিজানুর রহমান (৪৯)।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের জিংলাতলী এলাকায় ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৬২০৩ নম্বরের একটি ইকোনো পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন বাসযাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপনের কাব্যগ্রন্থ ‘নিঃশব্দ্যের শব্দময়তা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সাহিত্যপ্রেমী, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু।
কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রবীণ শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শকু বলেন, নিঃশব্দ্যের শব্দময়তা নামটি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও গভীর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখাতেও আমরা এমন কঠিন ও গভীর শব্দের ব্যবহার দেখি। বইটির নামেও তেমন এক দার্শনিক আবেদন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন সত্য উচ্চারণে সাহসী। বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্কে তিনি যুক্তির দৃঢ়তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এমপি শকু আরও বলেন, কুলাউড়ার জনগণ গত ১২ তারিখে তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা পালনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বইয়ের লেখক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন তার বক্তব্যে দেশনায়ক তারেক রহমানকে উৎসর্গ করা গ্রন্থটির রচনাপ্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা মহসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা. আবু বক্কর, মো. মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি ও বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়ার সভাপতি ড. সাইফুল আলম চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, অধ্যক্ষ ফরহাদ আহমদ, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন বাবলু, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিন্টু, প্রভাষক সিপার উদ্দিন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এহসান চৌধুরী, টিবিএফ চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম শামীম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. হেমন্ত চন্দ্র পাল, প্রভাষক খালিক উদ্দিন, অপূর্ব শর্মা, খছরু চৌধুরী, ওয়াহিদ মুরাদ ও ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।
নওগাঁর ধামইরহাটে কুকুর জবাই করে খাসির মাংস বলে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে দ্রুত দোকান ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
জানা যায়, ধামইরহাট এর নেংড়াপীর–ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে খাসির মাংস বিক্রি করতেন স্থানীয় কসাই এনতাজুল ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী। তারা নিয়মিত বাড়ি থেকে মাংস এনে বাজারে বিক্রি করতেন। গতকাল রোববার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে কুকুর ধরে জবাই করার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে বাজারে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা দ্রুত মাংস ফেলে দোকান থেকে পালিয়ে যায়। অল্প সময়েই শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত এনতাজুল ও দুলু মৌলভী পলাতক রয়েছেন।’
থানা পুলিশের ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘জবাইকৃত কুকুরের মাথা, চামড়া এবং মাংস জব্দ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মাথায় কুমিল্লার লালমাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মহিউদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক। আজ রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বাগমারা দুধ বাজার সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দিন সকালে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি রেললাইনে গিয়ে নিজের একটি সেলফি তোলেন এবং ‘ইসলামি শান্তি’ নামক নিজের ফেসবুক আইডিতে সেটি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল’। দুর্ভাগ্যবশত, পোস্টটি করার কিছুক্ষণ পরই নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় তিনি লাইনের ওপরই ছিলেন। দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে আরও একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য জামায়াতে ইসলামি করি না। হেরে যাওয়ার পরও শিবির, আলহামদুলিল্লাহ।’ তাঁর আকস্মিক এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নিহতের স্বজনরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাকসাম স্টেশন ছেড়ে বাগমারার দিকে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রেনের নিচেই কাটা পড়ে মহিউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অসতর্কভাবে রেললাইনে চলাচল ও সেলফি তোলার ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ধানমণ্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীকেও আটক করা হয়। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে আজ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।
পরে এদিন বিকেলে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ফসল উৎপাদনের উৎকৃষ্ট চরাঞ্চল চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকা। কৃষি পণ্য বহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি।
উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকা। এই চরটি কৃষি নির্ভর এলাকা। কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে বেশিরভাগ মানুষ। এ অঞ্চলকে ফসলের স্বর্গরাজ্য বললেও কম বলা হবে। দিগন্ত ফসলের মাঠ জুড়ে নানান রকমের ফসলের সমারোহ। যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই শুধু ফসল আর ফসল। বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন রকমের ফসলের চাষ হয় চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকায়। পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন চাষ প্রায় শেষের দিকে। এখন অবশ্য বেশ কিছু জমিতে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ রয়েছে। পেঁয়াজ-রসুন উঠে গেলেই শুরু হবে ইরি ধান চাষের ধুম পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষ হবে সেসব এলাকা জুড়ে। তবে কৃষি পন্য বহনে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয় অনেক। এই চরাঞ্চলে রাস্তার বেহাল দশা। কৃষি পন্য বহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি। পন্য বহনে কৃষকের খরচ পরে যায় বেশি। ফলে কৃষকরা লাভবান হন কম। ভাঙা রাস্তার কারণে ক্ষেত থেকে তুলে তা বাজারজাত করতে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি এবং পরে অন্য যানবাহনে নিয়ে শহরে বিক্রি করতে হয়।
এ চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, সারাবছর কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে ভালো রাস্তা না থাকায় ফসল আনা-নেয়ায় খরচ পরে যায় বেশি। তারা দাবি করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের এই চরের রাস্তাগুলো মেরামত করে দিলে আমরা চরবাসী উপকৃত হতাম।
এলাকাটি পদ্মা নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠায় বছরের প্রায় ৪ মাস বেশিরভাগ কৃষি জমি পানিতে থাকায় অনেকেই কৃষি কাজের পাশাপাশি মৎস্য শিকারে নিয়োজিত থাকে।
উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ রাসেল শেখ বলেন, চরবাসীর চলাচল ও ফসল আনা-নেয়ার জন্য মজলিশপুর ব্রিজ করা হয়েছে। রাস্তার কাজ চলমান থাকায় চলাচল থাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তার কাজ শেষ হলেই ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৫০) নামে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পদোরগাতি এলাকায় পুলিশের বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কনস্টেবল নজরুল ইসলামসহ ছয়জন আহত হন।
আশংকাজনক অবস্থায় কনস্টেবল নজরুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি।
হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশায় থাকা কনস্টেবল নজরুল গুরুতর আহত হন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার চালক, গ্রেপ্তার আসামি এবং আরো তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লার লালমাইতে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মহি উদ্দিন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লালমাই উপজেলার বাগমারা দুধবাজার বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মহি উদ্দিন পাশ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে যান মহি উদ্দিন।
তিনি রেললাইনে দাঁড়িয়ে একটি সেলফি তোলেন এবং সেটি ‘ইসলামি শান্তি’ নামের নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল।’ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকাগামী একটি ট্রেন চলে এলে সরে যাওয়ার আগেই তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল ট্রেন। সম্ভবত সেই ট্রেনে কাটা পড়ে বাগমারা বাজারে মহি উদ্দিন নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই নিহতের স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে গেছেন।
“মহা শীব রাত্রী” উপলক্ষে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শীব চতুর্দশী তিথিতে শীব স্নান করাবেন । দেশের তথা বিদেশ থেকেও প্রতি বছর এই শীব চতুর্দশী তিথিতে লক্ষ লক্ষ সনাতনী পুণ্যার্থীরা অংশ নিতে আসেন।
এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সনাতনী সম্প্রদায়ের তীর্থ স্হান সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দির। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় বারশো ফুট উচু পাহাড়ের উপরে চন্দ্রনাথ মন্দির অবস্থিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সনাতনী পুণ্যার্থীরা উপবাস থেকে পায়ে হেটে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উচু রাস্তা বেয়ে বারোশ ফুট উপরে উঠে চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শন, শীব স্নান ও পূজা দিয়ে আবার পুনরায় নীচে নেমে আসবে। এই উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এই বারও পসরা সাজিয়ে বিভিন্ন পন্যের মেলা বসেছে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পন্য ব্যবসায়ীরা মেলা পসরা সাজিয়েছে। শীব দর্শন, স্নান ও পূজা তিন দিন কিন্তু শীব চতুর্দশীর এই মেলা পনেরো দিন ধরে চলবে, শেষ হবে আগামী দুল পুর্নিমায়। ব্যাস কুন্ডে পুণ্য স্নান করে পরিবারের পরলোকগতদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ তর্পণ করছেন পুণ্যার্থীরা। সনাতনী পুরান মতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে সীতাকুণ্ডে শীব চতুর্দশী অতিথিতে এই মেলা চলে আসছে। শীব চতুর্দশী তিথি ও মেলা উপলক্ষে স্রাইন কমিটি বিশেষ বিশেষ ব্যবস্হা গ্রহণ করেছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। সিসি ক্যমেরা দ্বারা মনিটরিং করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত দুই দিন আগে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী কোন সহিংসতা হতে পারে ধারণা ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন গোষ্ঠীর মধ্যে। তাই এবার মেলায় লোক সমাগম একটু কম হয়েছে। অন্যান্যবার দশ থেকে বিশ লক্ষ লোক সমাগম হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত শনিবারের (১৪ ফেব্রুয়ারি) চেয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চন্দ্রনাথ ধামের ব্যাসকুণ্ড, শ্রদ্ধাঙ্গন, ভৈরব মন্দির এলাকায় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে। ব্রাহ্মণরা ব্যাসকুণ্ডের শ্রাদ্ধ তর্পণ করছেন মতুয়া সম্প্রদায় ও জেলে সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানগুলো মোহন্ত আস্তান বাড়ির ভেতরে অনুষ্ঠান চলছে।
পুণ্যার্থীরা সীতাকুণ্ডের মঠ মন্দির পরিক্রমা করে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির ও চন্দ্রনাথ মন্দিরের শিবের মাথায় জল ঢেলে স্নান করাচ্ছেন। তৃতীয় দিন অমাবস্যা তিথিতে মৃত পূর্বপুরুষের আত্মার সন্তুষ্টির জন্য শ্রাদ্ধ করবেন। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তীর্থধাম এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।
সীতাকুণ্ডের স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরের পূজারী দীপক চক্রবর্তী জানান,শিব চতুর্দশী তিথি রোববার সন্ধ্যা ৬ টা ১৮ মিনিটে শুরু হয়ে থাকবে সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা ২ মিনিট পর্যন্ত। এরপর চলবে পিতৃ পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ-তর্পন। মেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী জানান, মেলায় পুণ্যার্থীর আগমন ঘটছে । শনিবার থেকে শুরু হওয়া শিব চতুর্দশী স্নান শেষ হবে সোমবার।
তিনি আশা করছেন তিন দিনের এ শিবচতুর্দশী মেলায় ১০ লক্ষ সনাতনী পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। সার্বিক মনিটরিং চলছে আসা করি নির্বিঘ্নে সমাগম সম্পূর্ণ করা যাবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এবারের মেলা নিরাপদ হবে এমন আশা করছেন তিনি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় সবজি ক্ষেতে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে কৃষকের পেতে রাখা কারেন্ট জালে আটকা পড়ে নির্বিচারে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পরিবেশবান্ধব এসব পাখি হত্যা নিয়ে কৃষকদের তেমন মাথাব্যথা নেই।
এতে করে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বিচারে পাখি হত্যার এ অপচেষ্টা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সে ব্যাপারে সংশ্নিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ কিংবা কৃষকদের সচেতন করার ব্যবস্থাও নেয়নি কেউ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে নানান ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এরমধ্যে বেগুন ও টমেটোর ক্ষেতে নানা প্রজাতির পাখির উপদ্রব থাকায় কৃষকরা ফসল রক্ষা করতে অনেক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেতের মধ্যে খুঁটি পুঁতে তাতে বিভিন্ন রঙয়ের ফিতা টানানো, টিনের ঢনঢনি বাজানো, কাকতাড়ুয়া স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব অনেকে পদ্ধতিই। অনেক এলাকায় কারেন্ট জাল দিয়ে ফসলের ক্ষেতকে পুরোপুরি ঢেকে দিতেও দেখা গেছে। এতে করে ওই ক্ষেতে পোকা কিংবা সবজি খেতে আসা বক, শালিক, ঘুঘু, বাঁদুর, চড়ুইসহ বিভিন্ন দেশীয় পাখি জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চরকর্ণেশন এলাকার এলাকার কৃষক মো. ওমর আলি জানান, তিনি প্রায় ২ বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন। এ জন্য অনেক ধার-দেনা করতে হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হয়েছে। বেগুনের ওজন হয়েছে ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত। কিন্তু ক্ষেতে পাখি বসে ঠোকা দিয়ে অনেক বেগুন নষ্ট করে ফেলছে। ঠোকানো বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও পাখি ঠেকানো যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে কারেন্ট জাল দিয়েছি। জালে পাখি আটকা পড়লেও তিনি ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আক্কাস আলী হাইস্কুলের পেছনে এলাকার কষক মোবারক খাঁ বলেন, কিছু সবজি ক্ষেতে পাখি ক্ষতি করলেও অনেক ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসলের উপকার করে। তাই পাখি মারা যাওয়ার মতো কারেন্ট জাল পদ্ধতি ব্যবহার করা ঠিক না। বিকল্প হিসেবে ক্ষেতের চারদিক ও মাঝখান দিয়ে ঘনঘন খুঁটি পুঁতে নানা রঙয়ের পাতলা ফিতা টানিয়ে পাখির উপদ্রব থেকে সবজি রক্ষা করা য়ায়। বাতাসে এ সকল ফিতায় সৃষ্ট ভনভন শব্দে পাখি ভয় পেয়ে ক্ষেতে তেমন একটা বসে না।
আরেক কৃষক বলেন, ৩ বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছি। চলতি বছরে টমেটোর দাম ভালো পেয়েছি। তবে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে ক্ষেতের উপর জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। জালে অনেক পাখি রাতে আটকা পড়ে মারা গেছে। কি আর করবো পাখির উপদ্রব ঠেকাতে আমাদের এ ব্যবস্থা করতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গোয়ালন্দ নদী এলাকা হওয়ায় কৃষকরা জেলেদের কাছ থেকে সহজেই কম দামে পুরনো কারেন্ট জাল সংগ্রহ করতে পারেন। এতে কৃষকরা এই পদ্ধতিতে সবজি রক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও অনেক পাখিই আছে যেগুলোর বেগুন বা অন্যান্য সবজি খাওয়ার অভ্যাস নেই। অথচ কারেন্ট জালের ফাঁদে পড়ে নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে পরিবেশবান্ধব দোয়েল, শালিক, বুলবুলি, পেঁচা, চড়ুই ও কবুতরসহ নানা প্রজাতির পাখি।
পাখিপ্রেমীরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের নীরবতায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অবাধে কারেন্ট জালের মতো পাখির জন্য বিপদজনক পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল রক্ষার নামে পাখি নিধন করছেন। তবে প্রশাসন বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা আরও বলেন,
প্রকৃতিকে সুন্দর করে রাখে পাখি। আর এ পাখি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। অনেক পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে থাকে। ফসলের ওপর থেকে বিরূপ প্রভাব ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রকৃতির বন্ধু পাখি রক্ষায় প্রশাসনের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হায়দার জানান,‘খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ফসল উৎপাদনের যেমন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পরিবেশে থাকা পশুপাখিরও বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অনেক বেশি। পাখি যতটুকু না ফসলের ক্ষতি করে, সবজির ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি উপকার করে। তাই পাখি তাড়াতে কারেন্ট জালের মতো মৃত্যু ফাঁদ পাতা উচিৎ নয়। তবে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে উপজেলার অনেক কৃষকই কারেন্ট জাল ব্যবহার করে থাকেন। এটা না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও সচেতন করতে কৃষি বিভাগ অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বগুড়ার শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহসান হাবিব (৪৬) নামের এক ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে শেরপুর গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আহসান হাবিব গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ধনারুহা গ্রামের আবেদার রহমানের ছেলে। তিনি শেরপুর ষ্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসাবে কর্মরত ছিলেন
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চান্দাইকোনা এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে বের হওয়ার সময় আহসান হাবিব রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক থামানোর পর পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বাস ট্রাকটিকে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি তার ওপর উঠে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইছ উদ্দিন জানান, বাস ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে রাত ১টার দিকে পারাপারের সময় খাদিজা খাতুন (৩৯) নামের এক নারী প্রাইভেট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এছাড়া রাত ৯টার দিকে মহাসড়কের দশ মাইল এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরো চারজন আহত হয়েছেন।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার উদ্দিন জানান, লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আইন অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা ও আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছিল।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে থাকাকালীন সামিকুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। রাত ১২টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে পৌঁছানো হয় এবং সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন ভোরের দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ সামিকুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, “সামিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডাযাবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেলে ভর্তিও ছিলেন।” তিনি আরও জানান যে, সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হওয়ার পরপরই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে পুলিশ স্কোয়াডের মাধ্যমে রংপুরে পাঠানো হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে বিএনপির একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই কার্যালয়টি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, দুর্বৃত্তরা শেষ রাতে কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে, যার ফলে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুসহ উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ছবি ভস্মীভূত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার সময় নিকটস্থ একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রহরী হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ খলিল জানান, ফজরের নামাজের আগে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য মারধরের হুমকি দেয় এবং এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি কার্যালয়টিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। এই নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, “রাতের আঁধারে আমাদের কার্যালয়ে হামলা করে বিএনপিকে ভয়ভীতি দেখানোর দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। নবনির্বাচিত এমপি দিপু ভুঁইয়ার বিজয়কে যারা মেনে নিতে পারেনি, তারা এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে।” রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পরাজিতরা ষড়যন্ত্র করলেও আমরা উসকানিতে পা দেব না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন জানিয়েছেন যে, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, “তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।