শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

তুমব্রু সীমান্তে মাদক কারবারিদের গুলিতে প্রাণ গেল ডিজিএফআই কর্মকর্তার

আহত র‌্যাব সদস্যকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৫ নভেম্বর, ২০২২ ০১:৪৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর, ২০২২ ০১:৩১

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে র‌্যাব ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) যৌথ অভিযানে মাদক চোরাচালানকারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ডিজিএফআইয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, নিহতের নাম স্কোয়াড্রন লিডার রেজওয়ান আহমেদ।

এদিকে একই অভিযানে র‍্যাবের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের গুলিতে অজ্ঞাত এক নারীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।

সোমবার রাত ৮টার দিকে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র আসার খবরে অভিযানে গেলে র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যদের ওপর এ হামলা চালায় মাদক চোরাচালানে জড়িত ওই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন র‍্যাবের কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়া। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনার সময় মাদক চোরাচালানকারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বান্দরবন জেলার তমব্রু সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ হয়। মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে এই সংঘর্ষের সময় মাদক চোরাচালানকারীদের গুলিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তা (বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা) দেশের জন্য আত্মত্যাগ করে শহীদ হন এবং র‌্যাবের একজন সদস্য আহত হন।

তুমব্রু সীমান্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে এক নারী মারা গেছেন। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ রিপন চৌধুরী বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক র‌্যাব সদস্যকে ১০টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ঘটনাস্থলে একজন নারীর মরদেহ মিলেছে। তবে তিনি রোহিঙ্গা নাকি বাংলাদেশি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার প্রতিনিধি]


নির্বাচিত

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা

* স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল
কেশবপুরে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অবহেলিত জনপদের অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহসী নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রয়াত এই জননেতার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) কেশবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কুতুবউদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর বিশ্বাস ও হুমায়ূন কবির সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মকবুল হোসেন মুকুল ও আলমগীর হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আবু নাঈম, যশোর জেলা মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নূর নাহার নুরী, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন, হাসানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উবাইদুল হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিছ, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবুল রানা বাবু, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম। স্মরণসভা শেষে প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

মাঠ পুনরুদ্ধারের অষ্টম দিনেও উত্তাল শেকৃবি, দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাঠ ফিরে পেতে মামলা করার অগ্রগতি জানতে চান তারা। পাশাপাশি দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বানের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে অষ্টম দিনের মতো জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার, প্রক্টর প্রফেসর ড. আরফান আলী ও মাঠ সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিন অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত হন।

শিক্ষার্থীরা মামলা করার অগ্রগতি জানতে চাইলে অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘কাজ তো চলমান। আমরা ফার্মগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। জমিটি দ্য বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউটের ছিল। আমাদের কনসার্ন ছাড়াই এটি গণপূর্তের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই আগে মিস কেস করে রিট করতে হবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে মাঠ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।


নির্বাচিত

সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাটে এক পথসভায় কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন কোনও শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনও নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে দেশে যে শিল্পকারখানাগুলো গড়ে উঠেছে, সেগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করেন। এই শিল্পকারখানাগুলো দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ।’

‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, কোনও শ্রমজীবী ভাই-বোন কিংবা শ্রমিক কখনও শিল্পের ক্ষতি করতে পারেন না’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে, সরকার সে বিষয়ে অবগত। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।


নির্বাচিত

খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী গ্যালারির চারদিকে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে ছুটে যান।

এ সময় তাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা। তারা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের এই প্রাণবন্ত মুহূর্তে স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


নির্বাচিত

বরেন্দ্রে সেচ সম্প্রসারণে পদ্মার পানি ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ

* ১৭ হাজার গভীর নলকূপ সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর * সেচের উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে: মন্ত্রী আমিন উর রশিদ
রাজশাহীতে বিএমডিএ এর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সানোয়ার আরিফ, রাজশাহী ব্যুরো

বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা নদীর পানি ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পটির প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী গোদাগাড়ীর হাটপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে পল্টুনের মাধ্যমে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে সরমংলা খাল পরিদর্শন করে কৃষক ও বিএমডিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

এরপর কলিপুর-৩ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। সেখানে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সেচের কাজে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

পদ্মা নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সরকার একটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রকল্পটির প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি অনুমোদন পাবে। বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি নদীর পানিতে থাকা পলি কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় প্রায় ১৭ হাজার গভীর নলকূপকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। সেচের কাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হলে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।

এর আগে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান সংস্থার চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএমডিএর ৭১৬টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এ ছাড়া ১১৮ কিলোমিটার খাল ও খাড়ি পুনঃখনন, ৪৬২টি পুকুর পুনঃখনন এবং ৪১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সেচ কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন ৭৬ হাজার ৩৪৫ জন কৃষক।

সরমংলা খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার। খালটির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা নদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুটি পাম্প।

অন্যদিকে, গোদাগাড়ীর কলিপুর-৩ সৌর সেচ প্রকল্পে স্থাপন করা হয়েছে ৪৫টি সৌর প্যানেল। ১৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর পাম্পের মাধ্যমে ২৬৪ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন ৭৪ জন কৃষক। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সেচের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

এ সময় বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজিরুল ইসলাম, মো. আব্দুল লতিফ, মো. শিবির আহমেদ, মো. তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি ও বিএমডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ময়মনসিংহে বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন

* সড়ক ঘেঁষে ও সরকারি জায়গা দখল
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

দিন দিন বড় হচ্ছে ময়মনসিংহ নগরী। বাড়ছে জনসংখ্যা, গড়ে উঠছে নতুন নতুন বহুতল ভবন, আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। কিন্তু নগরীতে ভবনের সংখ্যা ও উচ্চতা বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা। ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সংকীর্ণ সড়ক, যানজট এবং নাগরিক দুর্ভোগ দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় সরু রাস্তার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। কোথাও কোথাও ভবন নির্মাণের সময় চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। আবার কিছু ভবন সড়কের একেবারে ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারি রাস্তা ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে আগে থেকেই সংকীর্ণ সড়কগুলো আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ নগরীতে এক থেকে ছয় তলা পর্যন্ত ভবনের সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৫৭১টি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ২২৮টিতে। একই সময়ে সাততলার বেশি উচ্চতার ভবনের সংখ্যা ২৭০টি থেকে বেড়ে ৫৪১টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে নগরীতে ভবন নির্মাণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে। কেউ কেউ অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে ভবনের আয়তন বাড়াচ্ছেন। আবার পাশাপাশি ভবন নির্মাণের সময় নির্ধারিত দূরত্ব না রাখায় এক ভবনের সঙ্গে অন্য ভবন প্রায় মিশে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও ভবনের নির্মাণসামগ্রী সড়কে রাখায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ভবনের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্যও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ শুধু নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলাকেও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সংকীর্ণ রাস্তা ও ভবনের মধ্যবর্তী পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা রাখা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা বিভাগও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজের বিষয়ে নজরদারির কথা জানিয়েছে।


নির্বাচিত

সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিন গেল ৮৩৭ পর্যটক

অপেক্ষার অবসান, সেন্টমার্টিনের পথে ৮৩৬ পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮৩৭ জন পর্যটক নিয়ে প্রবাল দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয় প্রথম জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার সুযোগ তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝেও।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জাহাজটি উপকূল ছাড়লেও ভোর ৬টা থেকেই নুনিয়ারছড়া ঘাটে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় জমতে থাকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাহাজের সাইরেন বাজতেই ঘাট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিটের অতিরিক্ত দাম ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী।

এদিকে জাহাজ চলাচলের প্রথম দিন থেকেই দ্বীপের সার্বিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। নুনিয়ারছড়া ঘাটে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা সমন্বিত দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটকদের সাথে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে বহনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং এগুলো নির্ধারিত স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পর্যটকদের সচেতন করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা দ্বীপের পরিবেশবান্ধব নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জানান, কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে গমন, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি কিংবা রাতে সৈকতে পার্টি আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, ‘পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে।’ পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, প্রথম দিনে মোট ৮৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং সরকারের পরিবেশবিষয়ক সকল নির্দেশনা পর্যটকদের যথাযথভাবে অবগত করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮৩৭ যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তিনটি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম দিন শুধু এমভি বার আউলিয়া যাত্রা করেছে এবং শুক্রবার থেকে বাকি দুটি জাহাজ এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। অনুমোদিত এই তিন জাহাজের মোট ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন; যার মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার আসন ৮৫০টি, কর্ণফুলির ৭৩২টি এবং টেকনাফের ৭১৬টি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকালে জাহাজগুলো কক্সবাজার ছাড়বে এবং দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক পরিবহনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিলম্বের কারণে তা পিছিয়ে ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হলো। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, পর্যটকদের পূর্বনির্ধারিত টিকিটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজকে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন ভ্রমণ উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক যাতায়াত ও রাতযাপন করতে পারবেন। দ্বীপে প্রবেশের জন্য ১০০ টাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফি প্রদানসহ ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, শামুক ও শৈবালসহ যেকোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্টকারী কার্যকলাপের ওপর জারি রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

বিষয়:

নির্বাচিত

কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

ছবি: শাহরিয়ার জামান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত শাহরিয়ার জামানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এদিন রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গচিহাটা বাজারে গিয়েছিলেন শাহরিয়ার জামান। এ সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের আভাস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরৎকাল এলেও এখনো গরম কমেনি। মূলত, এই সময় কিছুটা শীতের আমেজ থাকে। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশের মানুষ শৈত্যপ্রবাহ দেখতে পারে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দেশের ওপর দিয়ে ছয়টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।


নির্বাচিত

দৌলতপুর খাদ্যগুদামে দুদকের অভিযান, মৃত চেয়ারম্যানের নামে চাল গ্রহণের অভিযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল চুরি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খাদ্যগুদামের নথিতে প্রায় দেড় বছর আগে মারা যাওয়া ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৃত নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে ১০৭ বস্তা, ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের সময় এ অসংগতি ধরা পড়ে। মৃত ব্যক্তির নামে সরকারি চাল গ্রহণের তথ্য সামনে আসায় খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্য বিতরণের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিতে অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক কর্ম কর্তা।

দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন, বুধবার দুপুরে আমরা দৌলতপুর খাদ্যগুদামে অভিযান চালাই। অভিযানকালে খাদ্যগুদামের নানা বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিপত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণসংক্রান্ত নথি যাচাই করতে গিয়ে মৃত চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে ১০৭ বস্তা বা ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গত ১৩ অক্টোবর গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। অথচ তিনি প্রায় দেড় বছরের অধিক সময় আগে মারা গেছেন। ফলে তাঁর নামে কীভাবে চাল গ্রহণ দেখানো হয়েছে, কারা ওই চাল গ্রহণ করেছেন এবং চালের প্রকৃত গন্তব্য কোথায়—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসছে।

এর আগে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণে অনিয়ম এবং চাল চুরির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে খাদ্যগুদামের চাল বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে মঙ্গলবার সকালে এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৃত ব্যক্তির নামে সরকারি চাল গ্রহণের তথ্য, খাদ্যগুদামের নথিপত্রে একাধিক অসংগতি এবং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের ঘটনায় দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুদকের তদন্তে এসব অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

পায়রাকুঞ্জ-মির্জাগঞ্জ নৌপথে চালু হলো বিআইডব্লিউটিএ―এর ট্রলার সার্ভিস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ঘাট থেকে নদী পেরিয়ে মির্জাগঞ্জ যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে চালু করা হয়েছে নতুন ট্রলার পারাপার সার্ভিস। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রলার ঘাটের উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজ, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার উদ্দেশে অসংখ্য মানুষকে এই নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। তবে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত নৌযান না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্য নদী পারাপার ছিল চরম কষ্টকর। নতুন এ উদ্যোগের ফলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্যোক্তারা জানান, পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ট্রলার ঘাট থেকে মির্জাগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত এ সার্ভিস পরিচালিত হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়মানুযায়ী এ রুটে প্রাথমিকভাবে চারটি সনদপ্রাপ্ত ও রুট পারমিটধারী বোট চলাচল করবে। পায়রাকুঞ্জ প্রান্তে মোহাম্মদ রাহাত এবং মির্জাগঞ্জ প্রান্তে শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পরপর ট্রলার চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় এই সেবা পরিচালিত হবে। সেই সাথে যাত্রীদের সুরক্ষায় প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট, বয়া, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।

ইজারাদার মোহাম্মদ রাহাত বলেন, ‘এটি কোনো দলীয় উদ্যোগ নয়, এলাকার মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই বিআইডব্লিউটিএ’র আওতায় নিয়ম মেনে ঘাটের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

নতুন এই সার্ভিসকে স্বাগত জানিয়ে ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী শাহ আলম জানান, সরকারি নিয়ম মেনে সেবা পরিচালিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে নদী পারাপার হতে পারবেন।

স্থানীয়দের মতে, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম সুনিশ্চিত করা গেলে এই সার্ভিসটি দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।


নির্বাচিত

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত নওগাঁর কৃষকরা, বাজারে কমছে দাম

* জেলায় সবজি চাষ হচ্ছে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 সবুজ হোসেন, নওগাঁ

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে নওগাঁর মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে সবুজের সমারোহ। কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা, কোথাও মাচাজুড়ে বেড়ে উঠছে শিমের লতা। আবার কোনো জমিতে বেগুন, মুলা ও পালংশাকসহ নানা জাতের শীতকালীন সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। মৌসুমের শুরুতেই বাজার ধরতে আগাম চাষাবাদে নেমেছেন তারা। এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন সবজি। আগাম ফসল বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে এখন লাভের প্রত্যাশা। অন্যদিকে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম আরও কমার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা।

নওগাঁর কৃষিপ্রধান জনপদে এখন আগাম শীতকালীন সবজি ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, সেচ থেকে শুরু করে আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। তাদের আশা, ফলন ভালো হলে এবং বাজারদর অনুকূলে থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা। তবে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আগাম সবজি চাষে বিনিয়োগ করেছেন তারা।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল এলাকার কৃষক সাইদুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপির আবাদ করেছেন। তিনি জানান, সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক ও নিড়ানিসহ সব মিলিয়ে তার উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে ওই জমির বাঁধাকপি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন।

সাইদুল ইসলামের প্রত্যাশা, ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো অঙ্কের টাকা ঘরে তুলতে পারবেন। তার মতো অনেক কৃষকই আগাম সবজি চাষে লাভের হিসাব কষছেন।

একই উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক মুনছুর ইসলাম এক বিঘা জমিতে আগাম শীতকালীন শিমের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ৩৩ শতকে এক বিঘা হিসাবে তার জমিতে শিম চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে কিছু শিম বিক্রি করেছেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তবে কৃষকের লাভের এই সম্ভাবনার বিপরীতে বাজারে ক্রেতাদের প্রত্যাশা কিছুটা ভিন্ন। আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তাদের প্রত্যাশা, বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।

শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় আগের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে সবজিভেদে দামের পার্থক্য থাকায় ক্রেতাদের খরচের চাপ পুরোপুরি কমেনি।

শহরের পৌর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা জামিলুর রহমান ও পারভীন আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগেও বিভিন্ন সবজির দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। এখন কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে বর্তমান দামও সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের সামর্থ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

খুচরা সবজি বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। তখন কিছু সবজি বর্তমান দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে। এখন সরবরাহ বাড়ায় সবজিভেদে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। বাজারে সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাইকারি বিক্রেতা মিলন হোসেন বলেন, তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি সংগ্রহ করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। তার দাবি, পাইকারি পর্যায়ে কেনাবেচায় খুচরা বাজারের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে সবজি সরবরাহ করা হয়। সামনে আরও সবজি বাজারে উঠবে। ফলে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তারা ভালো লাভ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষাবাদ হচ্ছে।


নির্বাচিত

ছলিমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ৬নং ত্রিশাল ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামে অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জনবলসংকটে ধুঁকছে। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত দ্বিতল ভবন থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ছলিমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সমাজসেবক মরহুম আবদুল আজিজ সরকার ও আফাজ উদ্দিন সরকার মানবসেবার জন্য প্রায় সাড়ে ৩২ শতাংশ জমি দান করেন। তাদের দানকৃত জমির ওপর নির্মিত হয় কেন্দ্রটির দ্বিতল ভবন। ২০০৬ সালের ৯ মে ভবনটি ত্রিশাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু হস্তান্তরের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল মঞ্জুরি না থাকায় কেন্দ্রটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।

বর্তমানে উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকে একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া ও একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে পালাক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনোরকম সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমিত এই জনবল দিয়ে এলাকার বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী মা, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও সাধারণ রোগীরা। বাধ্য হয়ে অনেককে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত ত্রুটিও প্রকট। ভবনের চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই, নিরাপদ পানির জন্য সাবমারসিবল পাম্প নেই এবং ভবনটির বিভিন্ন স্থানে মেরামত প্রয়োজন।

ত্রিশাল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মাহমুদা ইসলাম দীপা বলেন, ‘সেন্টারটির বিদ্যুৎ সমস্যা আমরা সমাধান করেছি এবং বর্তমানে পানির লাইনসহ পূর্ণাঙ্গ মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জনবল। এই সেন্টারে কোনো পদই মঞ্জুর নেই। পদ না থাকায় স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি এবং প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা সেন্টারটি বন্ধ রাখিনি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দায়িত্বে থাকেন এবং আমাদের পক্ষে যা যা করার আমরা সবই চেষ্টা করছি।’

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জনবল মঞ্জুরি দিয়ে শূন্য পদে নিয়োগ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন এবং পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, স্বাভাবিক প্রসব সেবাসহ পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হোক। এটি চালু হলে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমবে এবং সরকারের প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সফল হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।


নির্বাচিত

banner close