শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
২৭ চৈত্র ১৪৩২

শ্রমিকনেতারা ‘আগ্রহী নন’, তবু পরিবহন ধর্মঘট

ফাইল ছবি
আপডেটেড
১৫ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৫২
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৫১

আগামী ১৯ নভেম্বর সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিএনপির সমাবেশের আগের দিন থেকেই পরিবহন ধর্মঘট- এমনটিই ঘটেছে দেশের ছয় বিভাগে। সিলেটেও কি এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে? এখানেও কি বিএনপির সমাবেশের আগেই ধর্মঘটে যাবেন পরিবহন শ্রমিকরা?

সিলেটের পরিবহন শ্রমিকনেতারা বলছেন, ধর্মঘট ডাকার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। মালিকপক্ষও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা নির্দেশনা দিলে সিলেটেও ধর্মঘট হবে।

বিএনপি নেতাদের আশা, সিলেটের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের কথা বিবেচনা করে ধর্মঘট থেকে বিরত থাকবেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তবে ধর্মঘট হলেও সমাবেশ সফল করতে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া আছে বলে জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন শ্রমিকদের এক নেতা দৈনিক বাংলাকে জানান, সোমবার সিলেটের কয়েকজন পরিবহন শ্রমিকনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। এই বৈঠকে ১৭, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর পরিবহন ধর্মঘট ডাকার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একজন বলেন, ১৭ নভেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় ওই দিন ধর্মঘট নাও ডাকা হতে পারে। কেবল ১৮ ও ১৯ নভেম্বর পরিবহন ধর্মঘট থাকবে। দু-এক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা আসবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের সব বিভাগে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে। সব বিভাগেই সমাবেশের আগের দিন থেকে শুরু হয় পরিবহন ধর্মঘট। এতে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকেও। সমাবেশের আগে ডাকা পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে সমালোচনা সত্ত্বেও সব বিভাগেই ঘটছে এমন ঘটনা।

সিলেটে বিএনপির সমাবেশের আগে ধর্মঘট ডাকা হবে কি না- এমন প্রশ্নে সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মঘট ডাকার কোনো চিন্তা বা লক্ষ্য আমাদের নেই। আমরা শ্রমিকরা সর্বদলীয়। সবার সঙ্গেই আমরা আছি।’

তবে মালিকপক্ষ পরিবহন বন্ধ রাখলে তাদের করার কিছু থাকবে না জানিয়ে এই পরিবহন শ্রমিকনেতা বলেন, মালিকপক্ষ যদি সড়কে গাড়ি বের না করে, তাহলে শ্রমিকরা চালাতে পারবে না। ফলে মালিকপক্ষ এ ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখতে হবে।

ধর্মঘটের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে বাস মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের চলতে হয়। সরকারের কথাও শুনতে হয়। তা ছাড়া যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথাও আমাদের ভাবতে হয়।’

‘সবকিছু বলাও ঠিক নয়’ উল্লেখ করে এই পরিবহন মালিক সমিতির নেতা বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় নেতারা বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। গতকাল সোমবার ঢাকায় এ নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকলেও বিএনপির সমাবেশে তার কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ধর্মঘটে কোথাও সমাবেশের ক্ষতি হয়নি। সাধারণ মানুষেরই ভোগান্তি হয়েছে কেবল। তাই আমরা আশা করব জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির কথা বিবেচনায় রেখে এখানে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হবে না।

তবে ধর্মঘট ডাকলেও সমাবেশে লোকসমাগম ঘটাতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিকল্প সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। কোনো গাড়ি না চললেও ১৯ তারিখে সিলেটে জনতার ঢল নামবে। কেবল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ নয়, পুরো সিলেট সেদিন সমাবেশের নগর হবে।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘প্রশাসন ও পরিবহন শ্রমিকদের ব্যবহার করে সরকার বিএনপির সমাবেশে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। রোববার বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিতরণকালে পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে, নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিতর্কিত করা হচ্ছে। আশা করছি আমাদের পরিবহন শ্রমিক ভাইয়েরাও এটা বুঝতে পারছেন।’


গোয়ালন্দে নেশার টাকার জন্য মা―কে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম, ছেলে আটক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড ক্ষুদিরাম সরদার পাড়া এলাকার সুজিত মন্ডলের স্ত্রী স্বামী পরিত্যক্তা শিখা রানী (৪০) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯)।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার ঘুমন্ত মায়ের উপর দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। শিখা রানীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় ভিকটিমের বাড়ির অন্যান্য লোকজন গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে ঘরের মধ্যে আটক রেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দিলে থানায় কর্মরত এস‌ আই মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১টি রক্ত মাখা দা, বিছানায় পড়ে থাকা মাথার চুল, রক্তমাখা বিছানার চাদর জব্দ করে আসামি গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে হেফাজতে নেন। আসামি গোবিন্দ এর আগেও নেশা করার টাকার জন্য মায়ের সাথে ঝগড়া করেতেন।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


বরিশালে হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল  প্রতিনিধি

বরিশালে সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলো,বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ৯ মাস বয়সী ছেলে রাকিব এবং মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিবের মেয়ে সাদিয়া। তারা ৮ এপ্রিল দুপুরে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং শুক্রবার ভোরে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ৯২ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মোট ৩৪১ জন শিশু এই রোগে চিকিৎসা নিয়েছে।

অন্যদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৭২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৬১ জন। একই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এ অবস্থায় শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


রামেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৫০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, একই সময়ে নতুন করে ২৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ২৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সাম্প্রতিক এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার চার শিশু মৃত্যুর আগে বুধবার তিনজন, মঙ্গলবার একজন, সোমবার দুইজন, রোববার দুইজন, শনিবার তিনজন এবং শুক্রবার একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি। জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ দেরি হলে জটিলতা বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান জোরদার, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের সতর্কবার্তা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে।


এক বছরে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সোনালি মুরগির দাম ঈদের পর গত ২০ দিনে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে খামারিদের দাবি, করপোরেট হাউসগুলোর কারসাজির পাশাপাশি বাচ্চা ও ফিডের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে সিন্ডিকেট ও বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ। আর গত এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

খামারিদের দাবি, বড় করপোরেট হাউসগুলোর কারসাজিতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতেই বাড়ছে দাম।

একজন খামারি বলেন, ‘ফিডের দাম তিন মাস, ছয় মাস পরপর দেখা যায় যে দুইশ–আড়াইশ টাকা করে বেড়ে যায়।’

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, বড় বড় করপোরেট গ্রুপ যারা আছেন, তাদের কারসাজিতে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে আমরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি।

গত কয়েক দিনে খামারিদের কাছ থেকে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে সোনালি মুরগি কিনছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ায় ৪০০ টাকার বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে সোনালি মুরগির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট এবং বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দুর্বল নজরদারির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।


বস্তা খুলতেই বেরিয়ে এলো মরদেহের ছয় খণ্ডের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কালভার্টের নিচে খালের মধ্যে পড়া বস্তাটি কয়েকটি কুকুর নিয়ে টানাটানি করছিল। স্থানীয় কয়েকজন বস্তায় লাশ রয়েছে, এমন সন্দেহে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দ্রুত বস্তাটি উঠিয়ে আনে খাল থেকে। সেটি খুলতেই বেরিয়ে এল টুকরা করে কাটা মানবদেহের আটটি খণ্ডাংশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া এলাকার হোছনী খালের একটি কালভার্টের নিচ থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ ভর্তি ওই বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস কায়দায় হত্যার পর লাশ গুমের জন্য এভাবে বস্তাভর্তি করে খালে ফেলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ঘেরা বাহারছড়া এলাকাটি মানব পাচারের রুট হয়েছে বলে পরিচিত। নানা প্রলোভনে বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে এখানে ধরে এনে এখানকার পাহাড়ের আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে এর আগে।

উদ্ধার করা মরদেহটি একজন পুরুষের বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, উদ্ধার করা ছয় খণ্ড মরদেহ জোড়া লাগিয়ে লাশটি পুরুষের বলে শনাক্ত করা গেছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দেহটি ছয় টুকরা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত বুধবার রাতে কোথাও লোকটিকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে কেটে তারপর চালের সাদা বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। যেন জোয়ারের পানিতে খণ্ডিত অংশগুলো সাগরে ভেসে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মানুষটিকে ছয় টুকরা করা হয়েছে। খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।


কোটালীপাড়ায় খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহনে জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খোলা ট্রাকে ইট ও বালু পরিবহনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উড়ন্ত বালু ও ধুলাবালির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার গ্রামীণ ও প্রধান সড়কগুলো দিয়ে কোনো ধরনের ঢাকনা ছাড়াই বালু ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে এসব যানবাহনের পেছনে থাকা মোটরসাইকেল, অটোভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালক-যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। চলন্ত ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালু চোখে-মুখে ঢুকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে প্রতিনিয়ত। একইভাবে ঢাকনা ছাড়া ইট পরিবহনের কারণে অনেক সময় ইট পড়ে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সোহেল মিয়া বলেন, ট্রাকের পেছনে পড়লে আর রক্ষা নেই। চোখে বালু ঢুকে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ ব্রেক করতে হয়, এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অটোভ্যান চালক আব্দুল করিম বলেন, আমরা যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। কিন্তু বালুর ধুলায় যাত্রীরা ঠিকমতো বসতেই পারে না। সবাই বিরক্ত হয়, এতে আমাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

পথচারী রোজিনা বেগমের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে গেছে। বালু এসে কাপড় নোংরা করে দেয়, শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কঠিন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, খোলা ট্রাকে বালু ও ইট পরিবহন সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এটি সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস জানান, খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের ফলে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। তাই এসব ট্রাক বাধ্যতামূলকভাবে ঢেকে পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহন বন্ধ করে যথাযথ নিয়ম মেনে পরিবহন নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


বাসাইলে পাঁচ হাজার মিটার খাল খননের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ৫ হাজার মিটার খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ভৈরপাড়া এলাকায় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইপিজিজি কর্মসূচির আওতায় বংশাই নদীর শাখা থেকে আরোহা, জীবনশ্বর ছয়শত এবং সুন্দরী বাদখালী খাল ও কাশিল ইউনিয়নের বংশাই নদীর থেকে নাকাছিম, লাঙ্গুলিয়া, পিচুড়ী, স্থলবল্লা, বাথুলী বিল, করটিয়া পাড়ার খালগুলো এই প্রকল্পের আওতায় খনন করা হবে।

খালখনন কর্মসূচীর উদ্বোধনের সময় হাবলা ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আকতারুজ্জামান তুহীনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।


রাউজানে বর্ষবরণে মহাআয়োজন, সাজছে ‘ফনীতটি মঞ্চ’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজান উপজেলার প্রাচীন তম নিদর্শন ঐতিহাসিক মহামুনি বিহার প্রাঙ্গনে সজছে নতুন সাজে। দক্ষিণ রাউজানের পাহাড়তলীর এই মন্দিরে হাজার বছরের চিরায়ত বাঙালির ঐতিহ্য নতুন বছরকে পহেলা বৈশাখে বরণ করে নিতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও রয়েছে চৈত্র সংক্রান্তিক ও বৈশাখী মেলাসহ নানা আয়োজন। মহামুনি প্রাঙ্গনে বটমূল খ্যাত ‘ফনীতটি মঞ্চে’ মহামুনি গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রকাশনা সংস্থা বিশেষ করে মহামুনি সংস্কৃতি সংঘ, মহামুনি তরুণ সংঘ ও ত্রৈমাসিক জ্ঞানালোর উদ্যোগে বর্ষবরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু সপ্তাহব্যাপী আলোচনা সভা,গুণীজন ও কৃতি সংবর্ধনা, সংগীতানুষ্ঠান, নাটক, মুখাভিনয় সহ ব্যতিক্রমধর্মী মনোজ্ঞ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহা আয়োজন।

চলিত এপ্রিল মাসে চৈত্র সংক্রান্তিক মধ্য দিয়ে এই মহামুনি মেলা শুরু হবে। এই দিন আদিবাসী আবাল বৃদ্ধ বণিতা বিভিন্ন যানবাহনে করে উৎসব প্রাঙ্গণ মহামুনি মন্দিরে বুদ্ধের কৃপা নিতে আসতে থাকবে। পূজা দিয়ে ও আনন্দ উল্লাস করে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেন তারা। পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে নানা আয়োজন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত আদিবাসীরা এখানে সকাল থেকে রাতভর অবস্থান করেন। সন্ধ্যায় তারা মহামুনি মন্দিরে পুজার মাধ্যমে বাংলা বর্ষকে বিদায় জানিয়ে চৈত্র সংক্রান্তিক পালন করেন। রাতে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালে স্থানীয় সংগঠন গুলোর যৌথ উদ্যোগে মন্দির অভিমুখী শোভাযাত্রার বর্ষবরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সকাল ১০ টায় মহামুনি বটমূল খ্যাত ফণী-তটি মঞ্চ স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মুক্তাঙ্গণ অনুষ্ঠান। একই স্থানে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে স্থানীয় সংস্থা গুলোর বৃত্তি প্রদান, গুণিজন ও কৃতি সম্বর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি।


কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সীমান্তে জব্দ মাদকের চালান ধ্বংস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় গত এক বছরে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এসব মাদক গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে বাহিনীর সদস্যরা মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা- যা মোকাবিলায় জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি।

পরে তিনি নিজ হাতে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১৭৫ জন আসামিসহ প্রায় ১১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে ছিল- বিদেশি মদ ৪ হাজার ৪৩২ বোতল, দেশীয় মদ ১২ লিটার, ফেন্সিডিল ৭ হাজার ৭৮৭ বোতল, গাঁজা ৫৫০ কেজি, হেরোইন ২৬ কেজির বেশি, কোকেন ৬ কেজির বেশি, ইয়াবা ৬৭ হাজার ৪৯৬ পিস, ভায়াগ্রা ১০ হাজার ১৩৭ পিস, সিলডিনাফিল ৯৭ হাজার ৬৫৬ পিস, বিড়ি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৯ প্যাকেটসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৫ টাকা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, মেহেরপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। এতে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ভ্যানগাড়িতে পণ্য বিক্রি ও অস্থায়ী দোকান বসানোয় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, 'পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসাধারণ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।'

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ যেন পুনরায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।'

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।


মৌলভীবাজারে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে বড়লেখা উত্তর চৌমহুনা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত রাসেল বড়লেখা থানার বিওসি কেছরীগুল মধ্য ডিমাই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেল যোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে চান্দগ্রাম থেকে বড়লেখার দিকে আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে উত্তর চৌমহুনা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।

অভিযান চলাকালীন একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে আরোহীরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি পড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা রাসেলকে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হন। তবে তার সাথে থাকা অন্য দুই সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়।

রাসেলের সাথে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে ২০টি প্যাকেটে মোড়ানো ৪ হাজার পিস গোলাপী রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার পলাতক সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, "আটককৃত রাসেল ও তার পলাতক দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"


ভোলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খালে, হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খালে উল্টে পড়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে চরফ্যাশন উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৮৭৭৮’ সিরিয়ালের সোহাগ পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে কেরামতগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি একটি মোড়ে পৌঁছালে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। তারা বাসটির সামনের ও পেছনের গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের বের করে আনেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যাত্রীরা অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে রওনা হন।

‎অন্যদিকে বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালককে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর না হলেও চালক গুরুতর আহত। অজ্ঞান থাকায় তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।


বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত, সহপাঠীদের বিক্ষোভ

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৩১
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী চৈতি আক্তারের মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজ সড়কের শের-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার বেশি সময় সড়ক অবরোধ রাখেন। এতে সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) স্কুল ছুটি শেষে চৈতি স্কুলের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তখন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

চৈতির মা জানিয়েছেন, আমার একমাত্র মেয়ে স্কুল থেকে ফিরছিল। স্কুলের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় অটো তাকে চাপা দেয়। প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলেও এক ঘন্টা ধরে চিকিৎসক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তখনও সে বেঁচে ছিলেন। পরে এক নার্স স্যালাইন দেয়ার পর মৃত্যু হয়।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, দূর্ঘটনার পর চৈতি কথা বলেছিল। যদি হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হত, হয়ত সে বেঁচে থাকত। তবে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। স্কুলের সামনে স্প্রিড ব্রেকার না থাকাটাই মূল কারণ। সিটি কর্পোরেশনের কাছে ৬ মাস আগে স্প্রিড ব্রেকার স্থাপনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দ্রুতগতির যানবাহন এবং প্রশাসনের অবহেলার সমন্বয় এই ট্রাজেডির মূল কারণ। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্কুলের আশপাশে স্প্রিড ব্রেকার স্থাপন এবং নিয়মিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

চৈতির মৃত্যুর খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। তারা স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পরে ক্লাসে ফিরে যান।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দোষী অটোরিকশা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে স্কুলের সামনে হাজির করা হবে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই চৈতির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


banner close