বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে কিছু আয়োজন সময়কে ছাপিয়ে যায়। ‘নতুন কুঁড়ি’ তেমনই একটি নাম, একটি অনুভূতি, একটি আন্দোলন। একটি সময় ছিল, যখন শুক্রবার মানেই শিশু-কিশোরদের প্রাণের অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। টেলিভিশনের পর্দায় সেই চেনা গান ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’- এই গানটি শোনা মানেই নতুন প্রতিভা খোঁজার সূচনা। বাংলার ঘরে ঘরে এটি শুধু একটি শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বন্ধ থাকার পর সেই অনুষ্ঠান আবারও ফিরছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়। এর ফলে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। নতুন কুঁড়ি হচ্ছে শিশু শিল্পীদের জন্য বাংলাদেশি রিয়েলিটি টেলিভিশন প্রতিযোগিতা।
নতুন কুঁড়ি বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু হওয়ার প্রথম বছর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। শিশুদের কণ্ঠে আবৃত্তি, শুদ্ধ উচ্চারণে গান, মনোমুগ্ধকর অভিনয় আর হৃদয়ছোঁয়া নৃত্য- এসব যেন দর্শকদের নতুন আশায় ভরিয়ে তুলেছিল। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল শিশুদের শিল্পী হয়ে ওঠার প্রথম পাঠশালা।
এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য গুণী শিল্পী। আজ যারা বাংলাদেশের নাটক, সংগীত, নৃত্যসহ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাদের অনেকেরই যাত্রা শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে।
নুসরাত ইমরোজ তিশা, রুমানা রশিদ ঈষিতা, মেহের আফরোজ শাওন, কনকচাঁপা, শামীমা ইয়াসমিন দিবা, রাহাত আজিম, আজাদ রহমান শাকিল, আজমিরী সুলতানা হলী, সিহান মনিরুল হাসান, শাহনাজ চৌধুরী লুনা, রুদাবা আদনীন কুমকুম, গায়ক সামিনা চৌধুরী, হেমন্তী রক্ষিত দাস, নৃত্যশিল্পী চাঁদনী- এমন অসংখ্য পরিচিত মুখ এই প্রতিযোগিতার পথ ধরে উঠে এসেছেন। কেউ সংগীতে, কেউ অভিনয়ে, কেউ আবার নৃত্যে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাদের অনেকে আজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করছেন।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হতে যাওয়া নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে আধুনিক কাঠামোগত পরিবর্তন। এক্ষেত্রে পুরো দেশকে ভাগ করা হয়েছে ১৯টি অঞ্চলে। প্রতিটি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব। এরপর নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ঢাকায় এসে অংশ নেবেন চূড়ান্ত পর্বে। অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে-‘ক’ (৬-১১ বছর) এবং ‘খ’ (১১-১৫ বছর)। প্রতিযোগিতা করা যাবে সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে।
প্রতিযোগিতার বিভাগগুলোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এবারের বিভাগগুলো হল- দেশাত্মবোধক গান, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত, হামদ-নাত, অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা, কৌতুক, সাধারণ নৃত্য ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য। প্রতিটি বিভাগে থাকবে অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য বিচারক প্যানেল। এছাড়া অনুষ্ঠানটি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীলতা দেখতে পান।
শিল্প-সাহিত্য একটি জাতির আত্মাকে গড়ে তোলে। ‘নতুন কুঁড়ি’ সেই আত্মগঠনের অন্যতম মাধ্যম। এটি শিশুদের মধ্যে শুধু প্রতিভা বিকাশই করে না, পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধও গড়ে তোলে। শিশুরা শেখে দলবদ্ধভাবে কাজ করা, অন্যের প্রতিভাকে সম্মান করা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে ভালোবাসা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের অভাবের কারণে শিশুরা বিকল্প বিনোদন ও অনলাইন নির্ভরতায় ঝুঁকছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র পুনর্জাগরণ তাই শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রজন্মকে সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে আনারও এক মহৎ উদ্যোগ।
১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা মনোয়ারের উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় কবি গোলাম মোস্তফার ‘কিশোর নামক’ কবিতার অনুপ্রেরণায়। উদ্দেশ্য ছিল- দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ের একটি মঞ্চে তুলে আনা, যেন তারা নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠতে পারে।
তবে ২০০৬ সালে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় এই অনুষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এমন আয়োজনের অনুপস্থিতি শুধু সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই নয়, শিশুদের মানসিক বিকাশেও একটি বড় শূন্যতা তৈরি করে। দীর্ঘ এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ের তেমন কোনো শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেনি, যার ফলে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা হারিয়ে গিয়েছিল নীরবে।
অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট। নতুন রূপে, আধুনিক কাঠামোয় এবং বিস্তৃত পরিকল্পনায় ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই আয়োজন আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল করে গড়ে তুলবে। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা।’
প্রথম থেকেই এই আয়োজন জনগণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফিরে এসেছে নস্টালজিয়ার ঢেউ। প্রাক্তন প্রতিযোগীরা স্মৃতিচারণ করে লিখছেন- ‘শৈশবের শুক্রবারগুলো যেন নতুন কুঁড়িকে ঘিরেই ছিল।’ কেউ আবার বলছেন, ‘আমার জীবনের প্রথম মঞ্চে ওঠা, সাহস পাওয়ার জায়গা ছিল এই নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠান।’
বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিজের শৈশব স্মৃতির কথা বলেন, ‘১৯৭৮ সালে আমি মাত্র সাত বছর বয়সে নতুন কুঁড়িতে অংশ নিই এবং দেশাত্মবোধক গানে প্রথম স্থান অর্জন করি। সেই আনন্দ আজও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতিগুলোর একটি।’ তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি আগের মতোই শিশুদের স্বপ্ন গড়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। শুধু পুরস্কারের আশায় নয়, স্বীকৃতির জন্য এই প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।’
১৯৭৭ সালে ‘ক’ গ্রুপে একক অভিনয়ে প্রথম এবং ১৯৭৮ সালে ছড়াগানে প্রথম হয়ে ‘নতুন কুঁড়ি’র মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিলেন আজাদ রহমান শাকিল। সেই মধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বাসস’কে বলেন 'দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’ শুরু হচ্ছে এটা আমার জন্য এক অশেষ আনন্দের বিষয়। এই অনুষ্ঠান শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রতিটি শিশুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা আবিষ্কারের এক মহামঞ্চ। আমি নিজেও এই মঞ্চ থেকে উঠে আসার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। তাই খুব ভালোভাবেই জানি, একটি শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ গঠনে ‘নতুন কুঁড়ি’ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, আজকের শিশু, তারাই আগামী দিনের আলোকবর্তিকা। এই শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আমাদের সোনালী ভবিষ্যৎ। তাদের চোখের স্বপ্ন, তাদের কণ্ঠের গান, তাদের অভিনয় আমাদের জাতির সম্ভাবনার প্রতীক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নতুন কুঁড়ির এ নবযাত্রা আবারো জাতিকে দেবে অসাধারণ সব শিল্পী, যারা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম নতুন কুঁড়ির এই প্রত্যাবর্তনকে একটি ‘সাংস্কৃতিক জোয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে বাসস’কে বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এটি সারাদেশের শিশু-কিশোরদের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় যুক্ত করবে, প্রযুক্তির আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন কুঁড়িকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতায় অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়, যা ছিল খুবই দুঃখজনক। তবে এখন আমরা নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি, যাতে এই অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে হয় এবং আগামীর প্রতিভাবান প্রজন্ম সামনে চলে আসে।’
এছাড়া নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের বিচারিক প্যানেলের বিচারপ্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিচারক নির্বাচনেও কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কনকচাঁপা বলেন, ‘শিল্পচর্চা বাণিজ্যিক হলে তার মাধুর্য নষ্ট হয়। তাই নতুন কুঁড়িতে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।
স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ যেন না থাকে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য কেবল জাতীয় পর্যায়ে শিল্পী তৈরি করা নয়, বরং দেশব্যাপী সংস্কৃতিমনা মানুষ তৈরির মাধ্যমে জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে মজবুত করা। ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রথম আয়োজনেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ হাজারের বেশি খুদে শিল্পী অংশ নিয়েছিল। তাদের অনেকেই পরে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সক্রিয় থেকেছেন।
নতুন কুঁড়ির মূল সাফল্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনে নয়, বরং সারাদেশে সাংস্কৃতিক চর্চার একটি বিস্তৃত ধারার সূচনা করা। এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া, যা জাতীয় জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। শিশুরা যখন মঞ্চে উঠে, তখন শুধু গান বা আবৃত্তিই করে না- তারা আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, জাতীয়তাবোধ ও দলবদ্ধ কাজের শিক্ষা গ্রহণ করে।
অভিভাবকরাও এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার সন্তান ছোট শহরে বড় হচ্ছে। জাতীয় মঞ্চে ওঠার এমন সুযোগ ওর জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।’
প্রায় ২০ বছর পর ফিরে আসা ‘নতুন কুঁড়ি’ কেবল একটি অনুষ্ঠানের পুনরারম্ভ নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের পুনর্জন্ম। সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার। এটি হচ্ছে আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি প্রতিভা নিজেকে তুলে ধরতে পারবে
জাতীয়ভাবে। এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে, যে বীজ একদিন রোপণ করা হয়েছিল, তা এখনো শুকায়নি। বরং নতুন প্রজন্মের হাতে সেই বীজ আবারও অঙ্কুরিত হয়েছে, নতুন আলোয় ফুটবে বহু ফুল।
আশাবাদ ব্যক্ত করে বিটিভির মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা চাই নতুন কুঁড়ি আগামী শত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে হোক। প্রতিভা যেন হারিয়ে না যায়, বরং উৎসাহ পায়। এই অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতির স্রোতধারাকে প্রবাহিত রাখবে।’
‘নতুন কুঁড়ি’ আজ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতীক। শিশুদের কণ্ঠে আবারও বাজছে সেই গান- ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি।’ এই আয়োজন আগামী দিনের কনকচাঁপা, তিশা, ঈষিতাদের জন্ম দেবে। আর আমাদের সাংস্কৃতিক ভুবনকে আলোকিত করবে নতুন নতুন তারায়।
তথ্য প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ঘটনার এক মাস আট দিন পর নিহত আল্পনা খানমের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আল্পনার স্বামী আল আমীন মন্ডল ওরফে ইয়ানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিট্যাঙ্ক থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো.ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেশি হোসনে আরার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,আল আমিন বিদেশে যেতে চায়। এ জন্য বাবার বাড়ী থেকে ৮ লাখ টাকা এনে দেবার জন্য আল্পনাকে প্রায়ই বলতো। টাকা এনে দিতে রাজি না হলে তাকে মারধর করা হতো। তিনি বলেন,এক মাসের বেশি হয়েছে একদিন সন্ধ্যা রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া বাধে। কিছু সময় পর আল্পনাকে উচ্চস্বরে বাচাও বাচাও চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাই । পাড়ার কোন মানুষ ওদের বাড়ীতে যায় না। সকালে জানা গেল আল্পনা রাগ করে বাবার বাড়ী চলে গেছে। এই কথা ইয়ানুর নিজেই গ্রামের বাজারে মানুষের কাছে প্রচার করে।তিনি বলেন,গ্রামের মানুষের সঙ্গে ইয়ানুরের সম্পর্ক ভালো না থাকায় ওদের বাড়ীতে কেউ যায় না।
নিহত আল্পনার ভাই সাকিব মোল্যা বলেন,গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ১০টার পর আল্পনা স্বামীর বাড়ী থেকে নিখোজ হয়। আমরা বিভিন্ন স্থানে খোজ করেছি। তার কোন সন্ধান পায়নি। এক পর্যায়ে কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার বোনের সন্ধান পায়। মঙ্গলবার বিকেলে বোনের স্বামী ইযানুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ইয়ানুর বোনের হত্যা রহস্যের কথা স্বীকার করে।
সহকারি পুলিশ সুপার কালিয়া সার্কেল রবীন হালদার বলেন,নিখোজের জিডি হওয়ার পর পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্য়ায়ে তিনি হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেছেন । তিনি বলেন,তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মরদেহটি বাড়ীর পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন,এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা পক্রিয়াধীনের কাজ চলছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের রতন আলীর ছেলে তামিম হাসান নেহাল (১৬) ও নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের লিটন আলীর ছেলে মিজানুর রহমান লিমন (১৬)। তারা দুইজনই নন্দীগ্রাম মা কেজি স্কুল এন্ড হাই স্কুলের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। নন্দীগ্রাম উপজেলার দলগাছা এলাকায় কাথম-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে তামিম হাসান নেহাল ও মিজানুর রহমান লিমন ভরতেঁতুলিয়া থেকে নন্দীগ্রামের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছিলে পিছন দিক থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নন্দীগ্রাম স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহসানকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার দলীয় সদস্যপদও (রুকন) স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি -২০২৬) জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। গত শনিবার তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালীতে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’ ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শামীম আহসানকে অব্যাহতি দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শামীম আহসান বেফাঁস মন্তব্য করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার ওই বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি দলটির নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি। এ কারণে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামীম আহসানের রুকন পদ স্থগিত করা হলো এবং সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মহিবুল্যাহ হারুন বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের একটি নির্বাচনী পথসভায় জেলা জামায়াতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল নিয়ে কিছু বিরূপ মন্তব্য করেন। এটি অশোভন ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারা প্রশাসন পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণপূর্বক সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কারা বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ সুবিধা প্রদান, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবাধিকারও নিশ্চিত করতে হবে, আর এটি বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এ সময় উপদেষ্টা বলেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারাগার রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা বন্দীদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করে, অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশপ্রেমের মহান দায়িত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে, নবীন প্রশিক্ষণার্থীরা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উপদেষ্টা এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়।
উপদেষ্টা বলেন, কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙ্গে না— সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। কারার কোনো সদস্য, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়— এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত।
উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন ও প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।
গাড়ী পাকিংয়ের চাঁদা না দেওয়ার কারণে চাঁদা আদায়কারী কর্তৃক ১০ সাংবাদিকের ওপর হামলা মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২ চাঁদা আদায়কারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নরসিংদী সদর উপজেলাধীন চৈতাবস্থ ড্রিম হলিডে পার্কের সন্নিকটে এ ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এস.এম ফয়েজ বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৮ জনকে আসামি করে এবং ৫ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আলাল সরকার (২৬) ও রনি মিয়া (২৫) নামে দুই চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
আহত এস.এম ফয়েজ জানান, ‘ক্র্যাব ফ্যামিলি ডে ২০২৬’ উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা পরিবারসহ ১২টি বাসে করে সকালে ড্রিম হলিডে পার্কে যান। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় বাসে ওঠার সময় পার্কিং ফি নিয়ে স্থানীয় আলী গাড়ি পার্কিংয়ের মালিক হারুন মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে পার্কিং ফির রশিদ চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন হারুন মিয়া, তার ছেলে ও সহযোগীরা দা, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়। আহতরা হলেন- খবর সংযোগের সিনিয়র রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম শাহেদ, জিটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মহসিন কবির, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার সাখাওয়াত কাউছার, এশিয়ান টিভির ক্রাইম চিফ নয়ন, ক্র্যাবের কর্মী লাল মিয়াসহ আরও কয়েকজন। হামলাকারীরা একটি ভাড়া করা বাসের কাচ ভেঙে দেন এবং বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেন।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলাল সরকার ও রনি মিয়া নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, ‘মামলা হয়েছে। আশা করছি পুলিশ সব আসামিদের গ্রেপ্তার করবে।’
বিষয়টি নিয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ৫ বছরের শিশু রাইয়ান মল্লিকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের চাচাতো ভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তপর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর আতরখালী গ্রামের মো. রাসেল মল্লিকের ছেলে রাইয়ান মল্লিক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা সাইয়েদা তন্বী ওই দিনই ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় মসজিদের বারান্দায় একটি রহস্যময় চিরকুট পাওয়া যায়। আধুনিক তদন্ত কৌশল ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, চিরকুটটি নিখোঁজ রাইয়ানের আপন চাচাতো ভাই মো. রিয়াদ মল্লিকের (১৯) হাতে লেখা।
আটক হওয়ার পর রিয়াদ মল্লিক পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, প্রতিবেশী মো. সাইদুল ইসলামের প্ররোচণায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি এই কাজ করেছেন। সাইদুলের নির্দেশেই তিনি মসজিদের বারান্দায় চিরকুটটি রেখে আসেন। পরবর্তীতে রিয়াদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার বসতঘরের সামনের গোয়াল ঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে খড়কুটার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু রাইয়ানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তপরকৃতরা হলেন- মো. রিয়াদ মল্লিক (১৯) - প্রধান অভিযুক্ত মো. মিজান মল্লিক (৪২) - রিয়াদের বাবা মোসা. পারভীন বেগম (৩৫) - রিয়াদের মা, মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬) - পরিকল্পনাকারী,
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার জানায়, অপহরণকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিপণ বা অন্য কোনো আক্রোশ মেটানো। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তপর করা সম্ভব হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রতিষ্ঠার চার দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোট ৩৮টি বিভাগ। এর মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হাতে গোনা কয়েকটা, নতুন বিভাগ ২টি। প্রতি বিভাগে ২০ জন শিক্ষক থাকা উচিত এমন শর্তে ৩৮ বিভাগে শিক্ষকের প্রয়োজন ৭৬০ জন শিক্ষক। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সংখ্যা ৪১২ জন। তীব্র শিক্ষক সংকটে গুণগত শিক্ষার চরম ব্যাঘাত ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
তীব্র এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখতে চাইলেও বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের বাধা ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগ বোর্ডে, বিভাগীয় সভাপতি আপগ্রেডিং বোর্ডে উপস্থিত থাকলেও প্রভাষক পদের নিয়োগ বোর্ডে অনুপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠে ছাত্র সমাজ। বিক্ষোভ মিছিলসহ প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। এ সময় ছাত্রদল ছাড়া প্রায় সকল ছাত্রসংগঠনের নেতারাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক সংকটে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষক পরবর্তীতে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিভাগে পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ চলমান রয়েছে। এ অবস্থায়, শিক্ষকরা পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বটে; কিন্তু পূর্ণাঙ্গভাবে পাঠদান করতে পারছেন না। বিভাগে দ্রুত নতুন শিক্ষক প্রয়োজন যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারেন।
অপর বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, পছন্দের সাবজেক্টের জন্য ইবিতে ভর্তি হয়েছিলাম তবে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখে হতাশ হয়েছি। চলমান শিক্ষাবর্ষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়। ফলে তারাও ঠিকঠাক মতো ক্লাস নিতে পারেন না। নন-ডিপার্টমেন্টের ক্লাসগুলো মাঝে মধ্যে উনারা নিতে পারেন না ব্যস্ততার কারণে। এই সংকট কাটিয়ে ওঠা খুবই জরুরি।
শিক্ষক সংকট এমন কয়েকটি বিভাগের শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভাগগুলোয় শিক্ষক কম থাকায় ছয়টা শিক্ষাবর্ষের ছয়ের অধিক কোর্স নিতে হয়। এর মধ্যে নিজের গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের পরিক্ষাসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। ফলে গুণগত শিক্ষা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক বিভাগে শিক্ষকরা পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়ে কোর্স শেষ করেন।
গুণগত শিক্ষার মান নিয়ে এক বিভাগের শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক সংকট থাকায় বাইরে থেকে গেস্ট টিচার আনতে হয়। বিভাগের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য যতটুকু আউটপুট দিতে পারেন একজন বাইরের শিক্ষক সেটা দিতে পারেন না। শিক্ষক সংকটের কারণে কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস করার কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হতে হয়।’
আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘কাউন্সিল চায় প্রতি ব্যাচে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে না। আমাদের যেহেতু শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি সেহেতু আমরা চাই ৪০ জন করে দুই শিফটে ভাগ করে নিব। তাহলে তো আমাদের ১,০৮০ জন শিক্ষক দরকার। তা ছাড়া প্রতি বিভাগে ২০ জন শিক্ষক থাকা উচিত সেই হিসেবে ৩৮টি বিভাগে ৭৬০ জন শিক্ষক থাকা দরকার। আমাদের ১,০৮০ জন দরকার নাই ৭৬০ জন শিক্ষক দিক কাউন্সিল। কিন্তু আমাদের সেই পরিমাণ শিক্ষকও নাই। এ জন্য আমাদের সেশনজট লেগে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বিভাগে ক্লাস হয় না বরং শুধু পরীক্ষা হয়। আলটিমেটলি শিক্ষার্থীরা কিছু শিখতে পারছে না। ফলে শিক্ষক নিয়োগ হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হতে পারছে না। আমাদের রিসার্চ থেকে শুরু করে মানসম্মত শিক্ষক গড়ে তুলতে পারছি না।’
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি বলেন, ‘প্রতিটি কোর্সে মিনিমাম ৪০ ঘণ্টা ক্লাস হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের রিসোর্সের অভাবে সেটা সম্ভব হয় না। ফলে পর্যাপ্ত ক্লাস হওয়ার আগেই কোর্স শেষ হয়ে যায়। তবে অন্তত ২০টা ক্লাসের আগে কোর্স শেষ করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সাথে ইনভলভমেন্ট বাড়াতে হবে। নাহলে শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত মুভমেন্ট বেড়ে যায়। এ জন্য আমাদের শিক্ষক রিসোর্স বৃদ্ধির দিকে নজর দেয়া উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, সরাসরি কেউ চাপ দিচ্ছে না। তবে নিয়োগ বন্ধের জন্য ইউট্যাব চিঠি দিয়েছিল। পূর্ব ঘোষিত নিয়োগ বোর্ডগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।
খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা শীত মৌসুমে আলু চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৭৮ আলু চাষ শেষ হয়েছে। এদিকে, বগুড়ায় এ মৌসুমে সবজির পর এবার আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত;
খুলনা সংবাদদাতা জানান : খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা শীত মৌসুমে আলু চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৭৮ আলু চাষ শেষ হয়েছে। এদিকে, বগুড়ায় এ মৌসুমে সবজির পর এবার আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
ওদিকে খুলনা এবং অঞ্চলের অন্যান্য জেলার স্থানীয় বাজারে আগাম জাতের আলু আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে, নতুন কাটা সবজি তুলনামূলকভাবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, এর ফলে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক হাসান আলী, সোলায়মান গাজী, হারুন-অর-রশিদ এবং সালমান রহমান জানান, আমন ধান কাটার পর আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা ৩ হাজার ৫৯১ একর জমিতে ৭৮ হাজার ৪৭ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে খুলনায় ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৬০১ টন। আজ পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
বাগেরহাটে ৫৭৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৪৬৬ টন। কৃষিক্ষেত্রে অর্জন ৬৮ শতাংশ।
সাতক্ষীরায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ১৭০ টন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ৮৩ শতাংশ।
নড়াইলে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮১০ টন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ১০১ শতাংশ।
এছাড়াও আলু চাষ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ডিএই-এর তথ্য অনুসারে, খুলনায় কমপক্ষে ৪৬৯ হেক্টর, বাগেরহাটে ৩৯৫ হেক্টর, সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৮৫৬ হেক্টর এবং নড়াইলে ৮৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএই-এর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা ২ হাজার ৮০৮ হেক্টর জমি আলু চাষের আওতায় এনেছেন। এই অঞ্চলের চারটি জেলার মূল ভূখণ্ড এবং লবণাক্ত জলপ্রবণ এলাকায় আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আলুর বীজ বপন চলবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নভেম্বরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারির শুরু থেকে কৃষকরা একই জমিতে স্বল্পমেয়াদী আমন ধান কাটার পর চাষ করা আগাম জাতের আলু সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।
‘এই মৌসুমে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মুখেও ভালো ফলন নিশ্চিত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা আলু ক্ষেতের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষকদের সর্বশেষ প্রযুক্তি সরবরাহ করছেন,’ জানান তিনি।
খুলনা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেসিসিআই) প্রাক্তন পরিচালক জেসান ভুট্টো ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং আলু চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করতে আলুজাত পণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য আরও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান: সবজি উৎপাদনে জন্য পরিচিত বগুড়া থেকে এবার আলু রফতানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচামরিচের পর চলতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত আলু মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকাররা এ মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার টন আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপালে বগুড়ার আলু ও অন্যান্য সবজি পাঠানো হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে বিশেষ এজেন্টের মাধ্যমে এসব সবজি সংগ্রহ করে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জাহাজে করে পৌঁছে দেওয়া হয় বিদেশের বাজারে।
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের ‘সবজির জেলা’ বলা হয়। কৃষি বিভাগ জানায়, শীত মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ প্রজাতির এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় ২০ প্রজাতির সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে আলু অন্যতম প্রধান ফসল। শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, শেরপুর, কাহালু ও গাবতলী উপজেলায় ব্যাপক আকারে আলুর চাষ হয়ে থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে বগুড়ায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়। উৎপাদন হয় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টন। চলতি ২০২৫-২৬মৌসুমে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় তিন লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, এর আগেও বগুড়া থেকে আলুসহ বিভিন্ন সবজি বিদেশে পাঠানো হয়েছে। নিয়মিতভাবে রপ্তানি অব্যাহত থাকলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পরিবেশের ক্ষতি করে ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা পরিচালনা করায় তিনটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠানকে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-৯ (সিপিসি ১) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ও কালিকচ্ছ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। জরিমানা করা ইটভাটাগুলো হলো শাহবাজপুর এলাকার মেসার্স শিরিন ব্রিকস, মেসার্স লিজা ব্রিকস ও কালিকচ্ছ এলাকার মেসার্স সিয়াম ব্রিকস।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ও কালিকচ্ছ এলাকায় ওই তিনটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠান কৃষি জমির ক্ষতি সাধনসহ খাল-বিল, হাওর ও পতিত জায়গা থেকে মাটি কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছিল। খবর পেয়ে ইটভাটা গুলোতে অভিযান চালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তর এবং র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী।
এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ওই তিনটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ টাকা করে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান উল ইসলাম, র্যাব-৯ এর স্কোয়াড কমান্ডার এসপি মো. আলমগীর হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান।
এ বিষয়ে র্যাব-৯ (সিপিসি ১) এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ধারা অমান্য করে ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা পরিচালনা করায় তিনটি ব্রিকস ফিল্ডকে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশের সুরক্ষায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দেওদীঘিতে ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এঁওচিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামিক মিশন বিভাগের অধীনে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মাদার্শা, এওচিয়া, কাঞ্চনাসহ সংলগ্ন এলাকার কোনো নারীর গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ ডেলিভারি কিংবা শিশু ও বয়স্কদের তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। সে বিবেচনায় এ এলাকার মিলনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত দেওদীঘিতে ইসলামিক মিশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পাঁচকোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ে ভবন নির্মাণ শুরু হবে।
ইসলামিক মিশনের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এ হাসপাতালে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, এজজন নার্স, একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও একজন কম্পাউন্ডার থাকবে। পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ করা হবে। মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র পাওয়া যাবে। এখানে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া, এ মিশনের অধীনে চতুর্দিকে ১০টি মসজিদে সকালে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হবে। এখানে একটি মাতৃসদন স্থাপনের পরিকল্পনা কথা জানান উপদেষ্টা।
ড. খালিদ বলেন, আগামী মাসে নির্বাচন, যারা নির্বাচিত হবেন তাদের কাছে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করব। আমি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে না থাকলেও আমার হাতে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) উন্নয়নে আজীবন চেষ্টা করে যাব। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। হ্যাঁ ভোটে সীল মারলে পরিবর্তন আসবে।
ড. খালিদ আরও বলেন, যতদিন দায়িত্বে ছিলাম রাত-দিন পরিশ্রম করেছি। গত ১৮ মাসে দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি হাসপাতালটিকে পূর্ণতা দানে সকলের দোয়া কামনা করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ইফার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. তৌহিদুল আনোয়ার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বক্তব্য প্রদান করেন।
পরে উপদেষ্টা উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের বাবুনগরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত বোর্ড হতে দেয় দুস্থ-অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে যাকাতের চেক তুলে দেন। এছাড়া, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাস্তুল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে স্বাবলম্বী প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেন।
শেষে উপদেষ্টা নুরে হাবিব ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পথশু চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এলাকার শীতার্ত গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
১৬ বছর ধরে তিন ফসলি জমি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন রফিক শেখ নামে একজন কথিত আওয়ামী লীগ নেতা। জমি উদ্ধারে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে এলাকার কৃষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে কয়েক শত কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মোচড়া গ্রামের বিলের মধ্যে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিলের প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে। জমির কোথাও মাটি ভরাট,কোথাও বাধ নির্মাণ,কোথাও নালা কাটা, আবার কোথাও ঘের কাটা হয়।
এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে কথিত নেতা রফিক শেখের অত্যাচারে তারা দীর্ঘ ১৬টি বছর অতিষ্ট। তার অত্যাচার-নির্যাতনে এলাকার প্রায় ২০০ কৃষি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ। তার হাত থেকে পরিত্রান পেতে আমরা এই কর্মসূচি করতে বাধ্য হয়েছি।
এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মঈনুল হাসান বলেন,ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে মোচড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রফিক শেখ গ্রামের বিলের প্রায় এক হাজার একর তিন ফসলি জমি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। সেই জমিতে তিনি কোথাও বাধ কেটেছেন। কোন জমি ভরাট করেছেন।আবার কোন জমিতে নালা কেটেছেন,কোথাও বড় ধরণের খনন করছেন। এতে বর্ষা মওসুমে বিলের পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার শিকারে পরিণত হয়।
পলি বেগম বলেন,আমার স্বামী নেই। গরীব মানুষ। ছোট দুইটি ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বিলি আমাদের ৫০ শতক জমি আছে। স্বামী বেচে থাকতে জমিতে তিন ফসল উৎপাদন করতেন তিনি। ওই জমি রফিক ভাই দখল করে আছেন।পরের বাড়ীতে কাজ করে ১৬টি বছর আমার সন্তানদের বাচিয়ে রেখেছি। আমি আমার জমি ফেরত চাই।
এভাবে এলাকার ২৫ জন কৃষক-কৃষাণীর সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর বিচার চেয়েছেন ওই কৃষি পরিবারের মানুষরা। তারা জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফাগুন মুন্সি,মঈনুল হাসান,পলি বেগম,রিয়াজুল আলম অনেকে।
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO) এবং জাতীয় সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের (NCASP) নীতিমালা অনুসরণে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার যশোর বিমানবন্দরে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’। হাইজ্যাক বা বোমা হামলার মতো আকস্মিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়াটি দুপুর ১২ ঘটিকায় শুরু হয় যেখানে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা একযোগে অংশগ্রহণ করে।
নিরাপত্তা মহড়ার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, এদিন সকাল ১১:২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ১০ জন যাত্রী নিয়ে যশোর অভিমুখে যাত্রা করা ‘এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর একটি বিমানে বোমা থাকার একটি বেনামী টেলিফোন বার্তা আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক বিষয়টি কন্ট্রোল টাওয়ার ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইন-চার্জকে অবহিত করেন এবং অগ্নি নির্বাপক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ‘ফুল এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (EOC) সক্রিয় করা হয় এবং বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ অপরাপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় দ্রুত সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই মহড়ায় মেডিকেল ইউনিট হিসেবে সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের একটি বিশেষ দলও অংশ নেয়।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্পূর্ণ মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন। বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবালের মূল পরিকল্পনায় আয়োজিত এই মহড়ায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। মহড়া শেষে প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারী সকল সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের নিরাপত্তা মহড়া কেবল সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেই সহায়ক নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।”
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের সময় সকল সংস্থার সমন্বিত কাজের ফলেই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। যশোর বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি জানান যে, “যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান রানওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।” প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে এখানে আরও বড় আকারের বিমান ওঠানামা করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই নিরাপত্তা মহড়াটি আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মহড়ায় বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের গোলারটেক এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কাপাসিয়া আর্মি ক্যাম্পের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, অভিযানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুটি রাউন্ড গুলি (অ্যামোনিশন), চারটি চকলেট ও তিনটি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব সামগ্রী অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছিল এবং নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত মালামাল সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাপাসিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।