বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২

খিলগাঁও ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় নিহত ৩

আপডেটেড
১১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৪:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর, ২০২২ ১২:০৩

রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজন হলেন জজ মিয়া (৩৬), আল আমিন (৩৪) ও মেহেদী হাসান (২৮)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পথচারীদের একজন জহিরউদ্দিন জানান, খিলগাঁও ফ্লাইওভারে ওঠার পর একটি ট্রাক পেছন থেকে তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ফ্লাইওভার থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনজনকেই মৃত বলে জানান চিকিৎসক।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মাসুদ মিয়া জানান, নিহত তিনজনের কোনো স্বজন মরদেহ শনাক্ত করতে আসেননি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


ইলিশ ও ক্রেতা সংকটে বড় স্টেশন মাছঘাট

* বেনাপোলে ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক * বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 দৈনিক বাংলা ডেস্ক 

চাঁদপুরে দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাট সংকটের মুখে। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ইলিশের সরবরাহ ক্রমশ কমতে শুরু করে। এটি এখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমনকি ইলিশের ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েনি এ অঞ্চলে। এদিকে গত মঙ্গলবার বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ওদিকে জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা-মেঘনায় আগের মতো ইলিশের ঝাঁক দেখা যাচ্ছে না। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড় স্টেশন মাছঘাটে। একদিকে যেমন ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, অন্যদিকে তেমনি কয়েকগুণ বেড়েছে দাম। ফলে ক্রেতা সংকটে পড়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে বর্তমানে ইলিশের মৌসুম না থাকলেও বিগত বছরগুলোতে এ সময় বড়স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশের সরবরাহ থাকত। কিন্তু এবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২০ মনেও পৌঁছাচ্ছে না, যা এ মাছঘাটের ইতিহাসে বিরল।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে বর্তমানে ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশও উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা ইলিশ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

ইলিশ কিনতে আসা সুমন রহমান বলেন, ‘ইলিশ প্রিয় মাছ হলেও দামের কারণে এখন অপ্রিয় হয়ে উঠছে। বড় স্টেশন মাছঘাটে এসে ইলিশের দাম এতটাই বেশি যে পছন্দমতো বা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে দামে মাঝারি আকারের ইলিশ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় ছোট মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশ ব্যবসায়ী মনছুর আহমেন মাহিন বলেন, ‘ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে আড়তে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ ছাড়া নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না। ঘাটে ইলিশ কম আসায় মূলত দাম বেশি। এখনকার বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর ১ কেজি ওজনের নিচের ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর ছোট সাইজের ইলিশ ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

আরেক ব্যবসায়ী বিজয় সরকার বলেন, ‘আনসিজনে ইলিশের বিক্রি নেই বললেই চলে। মাছঘাটে ইলিশও কম দামও বেশি। যার কারণে ক্রেতারা ঘাটে আসলেও না কিনে চলে যায়। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই ইলিশের সরবরাহ বাড়ুক, আর দামও যাতে নাগালের মধ্যে থাকে।’

ভারতে রপ্তানির খবরে দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘সিন্ডিকেটের চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এ ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে তাতে ভারতে রপ্তানিতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ার কথা না। এটা কোনো সিন্ডিকেটের চক্রান্ত হতে পারে। এর আগে ভারতে অনেক বেশি ইলিশ গেছে। তারপরও দাম কম ছিল, কিন্তু ইদানীং দাম অনেক বেশি।’

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান: বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

পণ্য চালানটিতে সাদা মাছের সঙ্গে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্য মাছগুলো খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরা।

আমদানি করা দুটি ভারতীয় ট্রাক (WB25K-3029 ও WB11E-5027) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাড় মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশের সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয়পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত পণ্যের সঙ্গে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে। এটি শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সারিয়াকান্দিতে কেশর আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কেশর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে তাদের। আলুর পাশাপাশি বীজ বিক্রি করেও বাড়িতে আয় করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২২ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পেড়িয়ে ৭ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কেশর আলু জমিতে রোপণ করতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা, ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সোনাপুর (জোড়গাছা), বাঁশহাটা গ্রামসহ বাঙালি নদীর কিনারাযুক্ত জমিগুলোতে কেশর আলু চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর ভালো লাভ পেয়ে এ বছর তারা অধিক জমিতে কেশর আলু চাষ করেছেন। এটি চাষ করতে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় এবং রোপণের পর পরিচর্যাও কম করতে হয়। সাধারণত দু-একটি চাষ দিয়ে জমিতে কেশর আলুর বীজ বপন করতে হয়। তারপর আর কোনো পরিচর্যা না করলেও চলে। শুধু উত্তোলনের সময় জমি থেকে কেশর আলু উত্তোলন করতে হয়।

সব ফসলের চেয়ে কেশর আলুতে লাভ খুবই বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ মণের বেশি কেশর আলু পাওয়া যায়। সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কেশর আলু চাষ করতে জমিতে কোনো পরিচর্যা নেই বললেই চলে। এ বছর প্রথমের দিকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত কেশর আলু বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৪০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, গত বছর তারা ৪০ হাজার টাকা মণ দরে কেসুর আলুর বীজ বিক্রি করেছেন। এতে তারা খুবই লাভবান হয়েছেন।

ছাগলধরা গ্রামের এক কৃষক জানান, গত বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে আগামভাবে কেশর আলু চাষ করে ২ লাখ টাকার বেশি কেশর আলু বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি তা বাড়িয়ে ২ বিঘা জমিতে কেশর আলু আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার জমিতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

সোনাপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তা প্রামাণিক জানান, তারা দুই ভাইসহ এলাকার অনেকেই কেশর আলু চাষ করে আসছেন। এ বছর কেশর আলুর ফলন ভালো হলেও উঠাতে বিলম্ব হওয়ায় অধিকাংশ আলু ফেটে গেছে। এতে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালো আলু প্রতি কেজি ৪০ টাকা বিক্রি করতে পারলেও ফেটে যাওয়া আলু মাত্র ২০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই কৃষকরা কেশর আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কেশর আলু ভিটামিন সি, আঁশ, শর্করা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, এবং এতে থাকা অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি মিষ্টি ও ঠাণ্ডা স্বাদের হওয়ায় কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী।


উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ লাইন উচ্ছেদে বাধা প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১২ জানুয়ারি’২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট -এর নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস টি এন্ড ডি পিএলসি’র আওতাধীন ৫নং রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায় যে, দনিয়া টিবিএস হতে ঢাকা শহরের সিটি সেন্ট্রাল ডিআরএস গামী উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬"X১৫০ পিএসআইজি মেইন লাইন হতে অবৈধভাবে ২" লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নিয়ে এলাকাবাসী অবৈধভাবে আবাসিক স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহার করছে। উক্ত অবৈধ লাইনটি উচ্চচাপ বিশিষ্ট বিতরণ লাইন হতে গ্রহণ করায় যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‍্যাব ও তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এই বিশেষ অভিযানে অবৈধ বিতরণ লাইন উত্তোলনকালে কিছু উশৃঙ্খল লোকজন জড়ো হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং অবৈধ লাইন উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপর হামলা করে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করাসহ তিতাস গ্যাস কোম্পানির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ভাংচুর করাসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিতরণ লাইন হতে অবৈধভাবে ব্যবহৃত লাইন উচ্ছেদ ব্যতিরেকে উক্ত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

এমতাবস্থায়, জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬"X ১৫০ পিএসআইজি বিতরণ লাইন হতে সংযোগকৃত ২" অবৈধ লাইন হতে গ্যাস সংযোগ না নেওয়ার জন্য ৫নং রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকাবাসীকে অনুরোধ করা হলো। উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট অবৈধ লাইন হতে গ্যাস সংযোগ গ্রহণের জন্য কোন দূর্ঘটনা/জানমালের ক্ষতি হলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কোন দায় বহন করবে না। উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিতরণ লাইনসহ অপরাপর সকল অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদের ব্যাপারে তিতাস গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট এলাকার আপামর জনগন এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করা হলো।


মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা: দুই ছেলে গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক লোমহর্ষক ও অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই পাষণ্ড সন্তান। জমি বিক্রির টাকা না দেওয়ায় জন্মদাতা মা ও বাবাকে মারধর করে বাড়ির উঠানে কবর খুঁড়ে জীবন্ত পুঁতে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুই ছেলে রাসেল মোল্লা ও রানা মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সত্তার মোল্লা ও আসমা বেগম দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বড় ছেলে রাসেল ও মেঝো ছেলে রানার দ্বারা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) জমি বিক্রির টাকার ভাগ নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে বাবা-মায়ের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই ভাই মিলে তাদের বৃদ্ধ মা-বাবাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তারা বাড়ির উঠানে কোদাল দিয়ে কবর খুঁড়তে শুরু করে এবং মা-বাবাকে সেখানে জীবন্ত মাটি চাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

জীবন বাঁচাতে সত্তার মোল্লা ও আসমা বেগম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে ওই দম্পতি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। প্রতিবেশী আক্কাস ভূঁইয়া জানান, ছেলেদের কবর খোঁড়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে যান এবং সত্যিই উঠানে গর্ত খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, সম্পত্তির লোভে এই দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বাবা-মায়ের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছিল।

ভুক্তভোগী মা আসমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে সন্তানদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন, আজ তারাই তাদের ভরণপোষণ দেয় না। তারা এখন সরকারের দেওয়া একটি ঘরে বসবাস করছেন। অথচ জমি বিক্রির সামান্য টাকার জন্য ছেলেরা তাদের মারধর করে জীবন্ত কবর দিতে চেয়েছিল। বাবা সত্তার মোল্লা জানান, ছেলেদের এই অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ঘটনায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে সত্তার মোল্লা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় দুই ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা ও রানা মোল্লাকে গ্রেফতার করে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিতা-মাতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


গোপালগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ঘোনাপাড়া বাজার এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে জানা গেছে, গত সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি নথিভুক্ত করার এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাবের আলম মোল্লা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশের বিষয়ে কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ হাতে পাওয়ার পরপরই এ বিষয়ে পরবর্তী কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ মহেশপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং এক সন্তানের জননী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি ইজিবাইকে করে তারাইল গ্রামে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোনাপাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাকে আটক করে এবং মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে বিবস্ত্র করে হাতে মাদক ও অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের খবির তালুকদারের ছেলে ওহিদুজ্জামান তালুকদার (৪৫), ঘোনাপাড়া গ্রামের মৃত শাজাহান মোল্লার ছেলে সান্টু মোল্লা (৪০), দুলু ফকিরের ছেলে অসিম ফকির (৩৫), মুন্নুর ছেলে ইমন (২৮) এবং জঙ্গলমুকুন্দপুর গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে কালু (২৬)। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা শুরু হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।


এলপিজি সিলিন্ডারে সিন্ডিকেট, হাত ঘুরলেই বাড়ছে দাম

*অনেক দোকানেই ঝুলছে এলপি গ্যাস নেই লেখা নোটিস *দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের
আপডেটেড ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে চাহিদার অর্ধেকও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মিলছে না। তীব্র সংকটের পাশাপাশি থামছে না দাম নিয়ে নৈরাজ্য। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আবার কয়েকটি কোম্পানি আমদানি বাড়াতে চাইলেও সময়মতো সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এই সংকট।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের অনেক দোকানেই ঝুলছে-‘এলপি গ্যাস নেই’ লেখা নোটিস। গ্যাসের তীব্র সংকটের মধ্যেই বাজারে চলছে লাগামহীন দাম বাড়ানোর প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের বেড়াজালে আটকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তাও সব জায়গায় মিলছে না।
ভোক্তাদের অভিযোগ, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। সরকারি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকা হলেও বাজারে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। অথচ এই বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে দেখার কেউ নেই।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সিলিন্ডার থাকলেও সব বোতল খালি। তাই বাধ্য হয়েই দোকানে ‘গ্যাস নেই’ বোর্ড টানাতে হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে শুধু বাসা-বাড়ির রান্নাবান্নায় নয়, এলপিজি বা অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাতেও। কোথাও অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ, আবার কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে গ্যাস নেয়ার জন্য। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না।

অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরা জানান, দাম বাড়ার পর থেকেই এই সংকট চলছে। কোনো স্টেশনে গেলে লাইন দিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে-গ্যাস নেই, স্টেশন বন্ধ।
ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টন। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ। সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের বিপরীতে মাসে রিফিল হচ্ছে মাত্র সোয়া কোটি। অন্যদিকে যানবাহনে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট, ঋণপত্র খোলার জটিলতায় একাধিক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ এবং আমদানি বাড়াতে আবেদন করেও সময়মতো জ্বালানি বিভাগের অনুমতি না পাওয়া-সব মিলিয়েই এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দেশে মোট ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতে পারতো সাত থেকে আটটি কোম্পানি। বাকি ২০টির বেশি কোম্পানি বিভিন্ন জটিলতায় আমদানি করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করলে সব কোম্পানি আমদানি করতে পারবে এবং তখন এলপিজিতে উদ্বৃত্ত তৈরি হবে।
তবে তীব্র এই সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের আশা, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
সবশেষ গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাস্তবে সেই গ্যাসই এখন নগর থেকে গ্রাম-সবখানেই বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার ওপরে।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের মতে, এই দামের পেছনে রয়েছে জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা। সেফটেক এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ লিয়াকত আলী বলেন, এলপিজি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর একটি পণ্য। আমদানি হওয়ার পর ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে এলপিজিকে দুই থেকে তিনটি ধাপ পার হতে হয়।
তিনি বলেন, কোথাও সিলিন্ডার সরাসরি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে যায়, কোথাও অপারেটরের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটর কিংবা ডিলারের কাছে পৌঁছায়, আবার কোনো ক্ষেত্রে অপারেটর সরাসরি শেষ ব্যবহারকারীর কাছেও সরবরাহ করে। ফলে একক কোনো পদ্ধতিতে এলপিজি ভোক্তার কাছে পৌঁছায় না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের সমালোচনা করে লিয়াকত আলী বলেন, এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও অপারেটরদের। বাংলাদেশে প্রতি মাসে কত এলপিজি প্রয়োজন, সে বিষয়ে আগাম পরিকল্পনা থাকলে এই সংকট তৈরি হতো না। অপারেটরদের এলসি জটিলতা বা জাহাজ সংকটের সময় সরকার যদি আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট অনুমোদনে সহযোগিতা করত, তাহলে সরবরাহে এই শূন্যতা তৈরি হতো না।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান দেশের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা সংকট পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। এর প্রভাবে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব বলছে, সরকার যদি আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করে এবং নীতিগত সহায়তা দেয়, তাহলে আগামী মাসেই সংকট কাটতে পারে।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, জানুয়ারিতে আমদানি করা গ্যাস ফেব্রুয়ারিতে এসে পৌঁছাবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে নীতিগত সহায়তা না পেলে এই সংকটের দায় ব্যবসায়ীরা নিতে পারবে না।


অনৈতিকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মানিকগঞ্জের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে আনসার ও ভিডিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত ২ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে আনীত শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, অভিযুক্তদের এই অনৈতিক ও নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অপরাধ এবং এর দায়ভার কোনোভাবেই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শ বা শৃঙ্খলার ওপর বর্তায় না। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব থেকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জনগণের আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনৈতিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে বাহিনী সর্বদা আপসহীন।


গাইবান্ধায় ডিভাইস জালিয়াতি: ২ দিনের রিমান্ডে ২৬ আসামি

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আটক ৫২, মামলা ৫৫ জনের বিরুদ্ধে
আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০৫
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা সদর থানার মামলায় আটক ২৬ জন আসামির প্রত্যেকের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সোহান আসামিদের প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, রিমান্ডে এনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডিভাইস সরবরাহকারী, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করা মধ্যস্থভোগী, প্রশ্ন সমাধানকারী এবং বাইরে থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে জোর তদন্ত চালানো হবে। বিশেষ করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থ লেনদেন এবং ডিভাইস সংগ্রহের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।

জানা গেছে গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামি ৪০ জন। এর মধ্যে ২৬ জন পুরুষ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। ১১ নারী আসামিদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় এবং শিশু সন্তানের বিষয়টি মাথায় রেখে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। মামলার তিন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষার দিন গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক হওয়া পরীক্ষার্থী ও জালিয়াতি চক্রের সদস্যসহ মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে জেলার তিন থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পলাশবাড়ী থানায় তিনটি, গাইবান্ধা সদর থানায় একটি এবং ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধে একাধিক ঘটনায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় আলাদা আলাদা তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদন করেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর থানার মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষার দিন আটক হওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগেই পরিকল্পিত চুক্তি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ, বাইরে বসে প্রশ্ন সমাধান এবং নির্দিষ্ট লোকেশন থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতেই এই রিমান্ড।

মামলায় বলা হয়, জেলার ৪৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৯টি কেন্দ্র থেকে ৩৭ জন, পলাশবাড়ীর ৩টি কেন্দ্র থেকে ১২ জন এবং ফুলছড়ি উপজেলার ২টি কেন্দ্র থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়। এসব ঘটনায় পরদিন (১০ জানুয়ারি) আটক ৫২ জনসহ মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে তিন থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হন দুই উপজেলার চার কেন্দ্র সচিব এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্ণ কুমার দাশ দৈনিক বাংলাকে জানান, পাঁচ মামলায় মোট আসামি করা হয় ৫৫ জনকে।

ঘটনাগুলো সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। রিমান্ডের মাধ্যমে প্রকৃত মূলহোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত ৮ জানুয়ারি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক আদেশে জেলার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারদিকে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ওইদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণা ও অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

আগেও গাইবান্ধায় ধরা পড়েছিল ডিভাইস চক্র: পুনরাবৃত্তি হওয়া ডিভাইস জালিয়াতি নিয়ে উদ্বেগ:

এর আগেও একাধিকবার গাইবান্ধায় নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতির অভিযোগে র‍্যাব ৩৮ জনকে আটক করে। ওই সময় পরীক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানে ২২টি মাস্টার কার্ড, ১৯টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ১৬টি মোবাইল ফোন, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার ও প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই কার্যালয়ে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায়ও ডিভাইসসহ এক নারী পরীক্ষার্থী আটক হন।

একাধিকবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ডিভাইস জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রিমান্ডেপ্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যদি মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে এমন সংঘবদ্ধ জালিয়াতি দমন করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার সাথে গাইবান্ধাতেও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধার ৪৩টি কেন্দ্রে ৪০০-এর অধীক শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিল ২৭ হাজার ৬৮৮ জন।


সড়ক দুর্ঘটনায় চার জেলায় নিহত ৬

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ভ্যানের দুই নারীসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দুই ঘণ্টা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। ছবি : দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের চার জেলায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় তিনজন, গোপালগঞ্জে একজন, সাতক্ষীরায় এক স্বেচ্ছাসেবী ও নোয়াখালীর কবিরহাটে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান: ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর তাতীবাড়ী অংশে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় তিনজন ভ্যানযাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপরে এ দুর্ঘটনার ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার বিররণে জানা যায়, মাদারীপুর টেকেরহাট বন্দর থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়ে তাঁতীবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছালে একই সড়কে চলা একটি যাত্রীবাহী ভ্যান রিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন এবং মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তখন ওই এলাকার বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মধ্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তারা টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুড়ি ফেলে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করলে সড়কের উভয় দিকে প্রায় ৩ ঘণ্টা যাববাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বরিশাল অঞ্চল থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা-খুলনা-ফরিদপুর অঞ্চল থেকে বরিশালমুখী হাজার-হাজার যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। কিছু যানবাহন বিকল্প পথে যাতায়াত করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এ ঘটনায় ঘাতক কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায়ও মামলা হবে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত তিন চাকার গাড়ি) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালের পানিতে পড়ে কাশেম মোল্যা (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কোটালীপাড়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাশেম মোল্যা জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকার রাজ্জাক মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব প্রবাসী কাশেম মোল্যা সৌদি আরব থেকে কিছুদিন আগে বাড়িতে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শখের বশে তার ভাই হোসেন আলী মোল্যার ইজিবাইক নিয়ে কাশেম মোল্যা চালাতে যান। একপর্যায়ে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পানির মধ্যে পড়ে যায়। স্থানীয়রা কাশেম মোল্যাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোটালীপাড়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রানা সরদার (৩৫) নামে এক মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার তালা তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রানা সরদার হাজরাকাটি গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তিনি হাজরাকাটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানা সরদার উপজেলার জাতপুর দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে তালার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস ‘লিটন ট্রাভেলস’-এর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

মানবিক ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় একজন তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহকর্মী ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতের পরিবারে চলছে শোক ও আহাজারি।

তালা থানার ওসি শহিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান: ‎নোয়াখালীর কবিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও এক যুবক। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের গলাকাটা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত, বিপ্লব চন্দ্র শীল (৩৮), কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের অর্জুন চন্দ্র শীলের ছেলে। আহত -পলাশ চন্দ্র শীল (৩৫), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের রাজাপুর গ্রামের মন্টু চন্দ্র শীলের ছেলে।

‎নিহত বিপ্লব চন্দ্র শীল মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স বসুরহাট শাখার কর্মকর্তা ছিলেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিপ্লব চন্দ্র শীল ও পলাশ চন্দ্র শীল কবিরহাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে বসুরহাট যাওয়ার পথে গলাকাটা নামক স্থানে অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে কভার্ড ভ্যানের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হয়।

‎স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে।

‎কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভুঞা বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর শোনেছি। একজন নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আরেক জনের অবস্থাও গুরুতর। তারা দুজনেই মোটরসাইকেলে ছিলেন। কভার্ড ভ্যানটি পালিয়ে গেছে।’


ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী হুম গুটি খেলার ২৬৭তম আসর কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

পৌষের শেষ দশকের শুরুতেই শুরু হয় গুটি খেলার আমেজ। প্রচারণায় পোস্টার কিংবা মাইকিংয়ের ব্যবহার ছাড়াই মানুষের মুখেমুখে প্রচার হয়ে থাকে এ খেলার কথা। তবে সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়ার এ যুগে পৌষ মাস আসলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুটি নিযে রীতিমতো লেখালেখি করেন উঠতি বয়সিরা।

বাংলা পঞ্জিকার তারিখ অনুযায়ি প্রতি বছর পৌষের শেষ দিন আসলেই ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়ইআটা নামক স্থানে পিতলের তৈরি বল আকৃতির গুটি দিয়ে খেলা হয় হুম গুটি খেলা। যা চলছে যুগের পর যুগ ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় কাল বুধবার বিকেলে খেলাটির ২৬৭তম আসর অনুষ্ঠিত হবে।

ঐতিহ্যবাহী ব্যতিক্রম এ খেলায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার লোকজন ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার বাসিন্দারা অংশ নেন। এদিন এ উপলক্ষে খেলার মাঠের পাশে বসে পৌষ মেলা।

প্রচার আছে, আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় আগের কথা। মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী এবং ত্রিশাল উপজেলার বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের মাঝে জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্টি হয় বিরোধ।

যার সমাধানকল্পে সিদ্ধান্ত হয় প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার। পরিপ্রেক্ষিতে শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর ‘পরগনা’ ও হোম চন্দ্র রায়ের ‘তালুক’-এর সীমান্তে আয়োজন করা হয় ৪০ কেজি ওজনের পিতলের ‘হুম গুটি’ খেলার।

শক্তি ও কৌশলের মাধ্যমে খেলে গোল বল আকৃতির হুম গুটি যারা নিতে পারবে তারাই হবে বিজয়ী। শর্ত ছিল বিজয়ী দলের এলাকায় জমির পরিমাপ হবে সাড়ে ৬ শতাংশে এক কাঠা আর পরাজিত জমিদারের এলাকায় জমির পরিমাপ হবে ১০ শতাংশে এক কাঠা। পৌষ মাসের শেষ দিন বড়ইআটা গ্রামে গুটি খেলার আয়োজন করা হলে এ খেলায় বিজয়ী হয় শশীকান্তের প্রজারা।

জমিদার আমলের সেই শক্তি ও কৌশলের খেলা হুম গুটি এখনো চালু রয়েছে। তবে সেই শর্ত এখন আর নেই। তুমুল জনপ্রিয় খেলাটির বয়স প্রায় ২৬৭ বছর বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়ভাবে এই খেলাটি ‘হুম গুটি’ ও ‘গুম গুটি’ নামে পরিচিত। হুম গুটি আসলে পিতলের তৈরি ৪০ কেজি ওজনের একটি গোলাকার বল। এ খেলার সময় ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনির্দিষ্ট। নেই কোনো রেফারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শত শত খেলোয়াড়ের মধ্যে আয়োজকরা নির্দিষ্ট একটা দলের হাতে হুম গুটি তুলে দেন। এরপর বারবার গুটির হাত বদল হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া খেলা রাত পর্যন্ত চলে। খেলোয়াড়রা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ-চারটি ভাগ হয়ে যান। নিজ নিজ এলাকার দিক ঠিক রাখতে একেক দল বাঘ, ষাঁড়ের ছবিসহ বিভিন্ন ছবি নিয়ে আলোকসজ্জা করে বাঁশের মাথায় বেঁধে নিয়ে আসে। যেদিকে গুটি যায় তার সামনে ওই দলের ‘দিক প্রতীক’ উঁচু করে রাখেন একেক সময় একেক জন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় খেলার রূপ বদলায়। সবার মুখে একই আওয়াজ - আদা দিয়া গুটি ধররে, হেইও হেইও ইত্যাদি...। রাত হলে খেলার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। চারদিক থেকে হাজার হাজার মানুষের টর্চলাইটের আলোতে অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

খেলোয়াড়রা খেলতে খেলতে গুটি তাদের অঞ্চলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। নিজ গ্রামে নিয়ে যেতে পারলে একসময় কৌশলে গুটিটি লুকিয়ে ফেলেন। যে গ্রামের খেলোয়াড়রা গুটি গুম করতে পারেন, তারাই বিজয়ী হন।

স্থানীয় কামরুল হাসান জানান, পৌষের শেষদিন এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন আমাদের প্রতিটি বাড়িতে আত্নীয়-স্বজনরা আসেন। এ উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আলাদা আমেজ বিরাজ করে। এক কথায় ঈদের চেয়ে বেশি আনন্দ পাই গুটি খেলার দিনে।


মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরলেন ভোলার ৪ জেলে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অপহৃত ৪ জেলে জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচর এলাকা থেকে তাঁদের উদ্ধার করে নৌপুলিশ। স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, মোট ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা মুক্তিপণ প্রদানের পর দস্যুরা তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিনের পক্ষিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় অজ্ঞাত একদল জলদস্যু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবার ও এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।

অপহৃত জেলেরা হলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার জয়া ইউনিয়নের মহিউদ্দিন মাতাব্বর, টবগী ইউনিয়নের মো. সবুজ, বজলু মাঝি এবং শরীফ। জিম্মিদশা থেকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, অপহরণের পর তাঁদের চোখ বেঁধে লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন একটি দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে আটকে রেখে তাঁদের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে প্রিয়জনদের জীবন বাঁচাতে স্বজনরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জলদস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর সোমবার রাতে দস্যুরা তাঁদের পুনরায় ট্রলারে তুলে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। মাঝনদীতে একটি অজ্ঞাত স্পিডবোটের উপস্থিতি দেখে দস্যুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ধাওয়া খাওয়ার ভয়ে তীরের কাছে ট্রলার থামিয়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে জেলেরা প্রাণে রক্ষা পান।

বোরহানউদ্দিন নৌথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর অপহৃত জেলেদের ব্যবহৃত মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত বা ট্র্যাকিং করে বিভিন্ন চরে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অপহৃত চার জেলেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী জেলেরা এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জলদস্যু চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তাঁদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নদীতে টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত জিতু মিয়া (৫৫) ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছিলেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ধরমন্ডল ইউনিয়নে সাবেক মেম্বার জিতু মিয়ার অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় ফকির মিয়া গোষ্ঠীর দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই পুরনো শত্রুতার জের ধরে সোমবার বিকেলে স্থানীয় একটি বিয়ে বাড়িতে দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। অনুষ্ঠানস্থল থেকে ফিরে এসে দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, বিশেষ করে টেটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া টেটার আঘাতে জিতু মিয়া গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় নাসিরনগর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকাটিতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নির্বাচন

# সীমান্তে নজরদারি, তবু থামছে না চোরাচালান # বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে শঙ্কা # লুট হওয়া থানার অস্ত্র বড় উদ্বেগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনীতিতেও। প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ড নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সেই অস্ত্রই নির্বাচনে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির শঙ্কা তৈরি করছেন বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধজগতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা ঘিরে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রগুলো অস্ত্র মজুতের দিকে ঝুঁকছে। এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী চক্রগুলো এখন আর শুধু মাঠপর্যায়ের সহিংসতায় সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটভিত্তিক হুমকি, এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং হাওয়ালাভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। ফলে অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অস্ত্র বেচাকেনার চেষ্টার তথ্যও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।
লুট হওয়া অস্ত্র বড় উদ্বেগ: নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে অতীতে থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এসব অস্ত্র যদি অপরাধী চক্রের হাতে সক্রিয় থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন সহিংসতার মাত্রা বহুগুণে বাড়তে পারে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর কাছে থাকা বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রেরও নির্ভরযোগ্য হদিস এখনো মেলেনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, পালিয়ে যাওয়া কিছু নেতা-কর্মী এসব অস্ত্র গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে শঙ্কা: সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনাকে সম্ভাব্য নাশকতার ‘রিহার্সাল’ হিসেবে দেখছেন অনেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাদের মতে, এগুলো আসন্ন নির্বাচনে নাশকতার আগাম বার্তা হতে পারে। একইভাবে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং সর্বশেষ বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডও দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলাপর্যায়েও প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনা বাড়ছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সীমান্তে নজরদারি, তবুও বাড়ছে চোরাচালান: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বারবার পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো অবশ্যই উদ্বেগজনক। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের অধিকাংশ উদ্ধার হয়েছে, তবে এখনো ১ হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধারের কাজ চলমান। অবৈধভাবে যেসব অস্ত্র দেশে ঢুকছে, সেগুলো উদ্ধারে যৌথবাহিনী কাজ করছে।’

গত শনিবার রাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব দুটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর বাইরে পুলিশ ও বিজিবি সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী চাহিদা বাড়ায় চোরাচালানকারীরা নতুন রুট ও কৌশল ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের নতুন চ্যালেঞ্জ: তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধজগৎ এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, এনক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলো এখন আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের কাছে সরাসরি অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে এবং এগুলো নির্বাচনী সহিংসতার পূর্বাভাস হতে পারে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান ও উদ্ধারচিত্র: আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১০টি ককটেল, ধারালো অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুধু গত ডিসেম্বরে এক মাসেই উদ্ধার হয়েছে ৯টি পিস্তল, দুটি এয়ারগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গানপাউডার, ১২ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ১৭ কেজি ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং ৩১৬ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে।


banner close