শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

বদরুদ্দীন উমরের জবানবন্দি: নির্বাচনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতায় ছিল শেখ হাসিনা

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৪

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল নির্বাচনগুলো নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিজের করায়ত্ত করেছেন এবং প্রকৃতপক্ষে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক একেবারেই ছিন্ন করে ফেলেছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে একথা বলেছেন সদ্য প্রয়াত বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, লেখক, গবেষক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়াত বদরুদ্দীন উমর শেখ হাসিনার মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। উনি ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারলেন না, তবে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উনি ওনার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের ১৯(২) ধারা অনুযায়ী কোন সাক্ষী যদি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিয়ে মারা যান, সেক্ষেত্রে প্রসিকিউসনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া সাক্ষ্যকে গ্রহণ করতে পারেন।

তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বদরুদ্দীন উমর বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল নির্বাচনগুলো নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনই তিনি ম্যানিপুলেট করেছেন। এগুলো সম্ভব হয়েছে, কারণ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওপর, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে পুলিশ ও আমলাতন্ত্র-সব কিছুর ওপর তিনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রথম থেকেই শেখ হাসিনা ঠিক করেছিলেন যে, তিনি নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবেন। সেটি করতে গেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা সম্ভব নয়। অথচ ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তিনি আন্দোলন করেছিলেন, সংশোধনী এনেছিলেন। কোনো নীতিবোধ বা নৈতিক লজ্জাবোধ তার ছিল না।

বদরুদ্দীন উমর আরো বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তিনিই সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিলেন।

কারণ তিনি বুঝেছিলেন যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, পরবর্তীকালে তারা আর জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচনে জিততে হলে তাকে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে।

তিনি প্রশাসনকে দুইভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন— প্রথমত ঘুষ, টাকা-পয়সা ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এবং দ্বিতীয়ত হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে।

বদরুদ্দীন উমর আরো বলেন, ২০০৯ সালের মধ্যেই এই নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেন। এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো করেছেন। ২০১৪ সালে ভোটকেন্দ্রে কাউকে ঢুকতেই দেয়নি।

২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’ হয়েছে। দিনে ভোট হলেও, আসলে ভোট হয়ে গেছে আগের রাতেই। ২০২৪ সালেও একই ঘটনা। এভাবে নির্বাচন করেও তিনি জয়লাভ করেছেন।

যদিও এগুলোতে জনসমর্থনের কোনো ভিত্তি ছিল না। এইসব নির্বাচনে তার দল ৩০০ সিটের মধ্যে চার-পাঁচটি সিটও পেতো কি-না সন্দেহ। এরপরও তিনি জয়ী হয়েছেন শুধুমাত্র প্রশাসনের ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে। এটা গোপন কিছু না, সবাই জানে। একটি সরকার যদি চায়, তারা এইভাবে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবে, তাহলে সেটা ঠেকানো কঠিন। শুধু নির্বাচনের কারচুপিই নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নিষ্ঠুর দমন চালিয়েছে শেখ হাসিনা।

তিনি জবানবন্দিতে আরো বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যাতে কার্যকরভাবে নড়াচড়া করতে না পারে, সে জন্যও নির্যাতন করা হয়েছে। প্রচুর মানুষকে গ্রেফতার করে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে বিনা কারণে। ‘আয়না ঘর’ নামে টর্চার সেল তৈরি করা হয়েছে, যেটা শেখ মুজিবের আমলেও ছিল না। শেখ মুজিব বিরোধীদের সরাসরি হত্যা করতেন। শেখ হাসিনা শুধু হত্যা করতেন না, নির্যাতনও করতেন এবং এতে এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পেতেন। সুতরাং, এভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিজের করায়ত্ত এবং প্রকৃতপক্ষে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক একেবারেই ছিন্ন করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বদরুদ্দীন উমর বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

ভারত বা পাকিস্তানে এমন জনতার শক্তি ও ব্যাপকতার গণঅভ্যুত্থান কখনো দেখা যায়নি। বাংলাদেশ নিজেই একটি ‘গণঅভ্যুত্থানের দেশ।’ ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৯০ সালের ঘটনাগুলো তার উদাহরণ। তবে এইসব অভ্যুত্থানের মধ্যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সবচেয়ে বিস্ফোরক, সবচেয়ে রূপান্তরমূলক।

তিনি জবানবন্দিতে আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের (১৯৫২) মধ্য দিয়ে ভাষার স্বীকৃতি এসেছিল, ১৯৬৯-এ আইয়ুব খানের পতন হয়েছিল, ১৯৯০-এ এরশাদের পতনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এসব আন্দোলনে এমন সর্বগ্রাসী ভাঙন, এমন পলায়নপর সরকার বা দল দেখা যায়নি।

বদরুদ্দীন উমর আরো বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। শুধু তিনিই নন-তার মন্ত্রিসভা, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও দেশ ছেড়ে পালায়। এই রকম ব্যাপক দলীয় পতন, আতঙ্ক ও আত্মগোপন বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো ঘটেনি। সিরিয়া বা অন্য কোনো দেশে, স্বৈরাচার পতনের পরও এত সংগঠিত দলীয় পলায়ন দেখা যায়নি।

তিনি জবানবন্দিতে বলেন, এই অভ্যুত্থানের গভীরতা বোঝাতে একটি প্রতীকী চিত্র যথাযথ— শেখ হাসিনার পালানোর পরদিন থেকেই সারা দেশে শেখ মুজিবের মূর্তি ও ম্যুরাল সাধারণ মানুষ নিজেরা ভেঙে ফেলে। কেউ কোনো নির্দেশ দেয়নি, তবুও এটি ঘটেছে। এটি এক ধরনের ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’, যার বহিঃপ্রকাশ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় হয়েছে। বহু বছর ধরে নির্যাতিত, অবদমিত জনগণের ক্রোধ এই অভ্যুত্থানে বিস্ফোরিত হয়েছে। শেখ মুজিব নিজেই এক সময় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “সিরাজ শিকদার কোথায়?” যেটা ছিল একটি অমানবিক ব্যঙ্গ। কিন্তু ইতিহাসের প্রতিশোধ হয়েছিল ওই বছরেরই আগস্টে, যখন মানুষ বলেছিল, “শেখ মুজিব কোথায়?” এভাবে ইতিহাসে অনেক সময় ঘটনাগুলো পুনরাবৃত্তি হয় প্রতিশোধের রূপে।

সদ্য প্রয়াত বরেণ্য ইতিহাসবিদ তার জবানবন্দীতে আরো বলেন, এই অভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতা থেকে বিতাড়িতই হয়নি, তারা জনগণের বিশ্বাস থেকেও বিতাড়িত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মুসলিম লীগের পতনের মতোই এবারের গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী লীগের জন্য একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিণতি তৈরি করেছে। ভারতের সহায়তায় তারা হয়তো কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারে, কিন্তু জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের পুনঃউত্থান অসম্ভব বলেই মনে হয়।

বদরুদ্দীন উমর বলেন, এই অভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছাত্রদের ভূমিকা। তারাই এই আন্দোলনের প্রধান চালিকা শক্তি ছিল। ইতিহাসে ছাত্ররা বারবার নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু এবারের আন্দোলনে তারা যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছে, তা বিরল।

ঊল্লেখ্য বরেণ্য এই বুদ্ধিজীবী, লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গতকাল মারা গেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে বদরুদ্দীন উমর হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা শেষে গত সপ্তাহে তিনি বাসায় ফেরেন।

বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন।

ষাটের দশকে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আর ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখা বইগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তাঁর চিন্তা বুঝতে সহায়ক বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭), ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)-তিনটি বই।

এই বই লিখেই তিনি ক্ষান্ত হননি। শাসকদের অধীনে চাকরি পর্যন্ত করবেন না, এ মনোভাব পোষণ করে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন বদরুদ্দীন উমর।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তার পেশাজীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এক সময় তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এর সভাপতির দায়িত্ব নেন।


চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিককে (৩৫) বসত বাড়ির সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে চাচাতো ভাই ইয়াসিন আরাফাত সুজন ও তার শ্যালক রাহাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

নিহত সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়ির মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গংগাহারী এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. রাহাত (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই এলাকার চিত্তনী বাড়ির মো. সোলোমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিক ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বসত ঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল দেখছিল রাহাত। ওই সময় পূর্ব শক্রতা ও ওমান প্রবাসী সুজনের স্ত্রী নিয়ে বিরোধের জেরে সুজন ও তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জনের একটি দল সিঁড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে মুখে গামছা পেঁচিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ এপ্রিল দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল সুজন ও রাহাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি হানিফ চৌধুরীর ছেলে ইয়াসিন আরাফাত সুজন (৩৫) সিদ্দিকের মৃত্যুর পরপরই বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

র‍্যাব-১১ সিপিসি-৩ কোম্পানির কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর মহানগরীরর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


শ্রমিক দিবসে কুমিল্লায় সিএনজি চালকদের সড়ক অবরোধ, অতিরিক্ত ‘জিবি’ আদায়ের প্রতিবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

মহান শ্রমিক দিবসে কুমিল্লার শাসন–বুড়িচং–মীরপুর সড়কে সিএনজি চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ‘জিবি’ (টোকেন ফি) আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার (১ মে) সকালে ভরাসার বাজার, নানুয়ার বাজার ও বুড়িচং উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত চালক।

চালকদের অভিযোগ, শাসন গাছা সিএনজি স্টেশনে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সকালে হলুদ রঙের টোকেনের নামে ১৫ টাকার বিপরীতে ৩০ টাকা এবং দুপুরের পর লাল টোকেনের ক্ষেত্রেও একইভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। রাত ৮টার পর আরও বেশি হারে ‘জিবি’ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ সময় আন্দোলনরত চালকরা কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন জসিমের গাড়ি ভরাসার বাজার এলাকায় থামিয়ে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। তারা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

বুড়িচং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম বলেন, “চালকরা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অনিয়মের শিকার হচ্ছেন।”

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নজরে আনেন। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা ‘জিবি’ আগের হারে নির্ধারণ, অতিরিক্ত আদায় বন্ধ এবং ভাড়ার অনিয়ম দূর করার আশ্বাস দিলে চালকরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এবিষয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন জিবি যারা তুলে তারা বিএনপির কেউ না,জেলা পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে, এগুলো করতে দেওয়া হবে না।


খুলনায় মাশরুম মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চল পর্যায়ে খুলনা বিভাগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার (১ মে) খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মাশরুম খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। মাশরুমে অনেক গুণাবালী রয়েছে। মাশরুম চাষ করে অনেকে সংসারের খরচ জোগাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে মাশরুম চাষে অনেকের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। অল্প জায়গায় মাশরুমের চাষ করা যায়, খরচ সামান্য এবং এতে ভিটামিন রয়েছে। মাশরুম চাষ করে নিজে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।

তারা আরও বলেন, মাশরুম চাষ আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অমিয় সম্ভাবনার হাতছানি। বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, নারী ও বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে মাশরুম জাদুকরী। আপনি মাশরুম চাষ করেন বা নাই করেন, নিজের বাড়িতে খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম ও আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিভাস চন্দ্র সাহা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্যা কবীর হোসেন, ফুলতলা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালমা সুলতানা, মাশরুম উদ্যোক্তা মোঃ আজিজুল ইসলাম ও রিপন কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান শেষে মাশরুম মেলায় খুলনার বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ২২টি স্টলের প্রতিনিধিদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।


দ্রুত নিয়োগ পাচ্ছেন সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর প্রতিনিধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩০০ সহকারী শিক্ষককে খুব শিগগিরই শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বীকার করেন যে, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের কনফিউশন দূর করতে এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকার সবদিক খতিয়ে দেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, শুধু প্রাথমিক নয়, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।


দীর্ঘ এক বছর পর সচল হলো টেকনাফ স্থলবন্দর, মিয়ানমার থেকে কাঠ বোঝাই ট্রলার এলো স্থলবন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হল। শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থল বন্দরে পৌঁছার মধ্যে দিয়ে বনএরর কার্যক্রম সচল হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের মংডু এলাকা ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড় টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড-এর টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।তিনি জানান,“একটি কাঠের বোট বন্দরে পৌঁছেছে।”

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই সময় তিনি বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।

ঘোষণার প্রেক্ষিতে বন্দর চালু হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকদের নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন,“দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর একটি কাঠের বোট বন্দরে এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”

জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের কাছে বোটটি এসেছে।

উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদী-এর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


কুষ্টিয়ায় হত্যা, রাজশাহী থেকে এজাহার ভুক্ত আসামী গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ১১ টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রি ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‍্যাব-৫ রাজশাহী ও র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিব কে আজকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এর আগে, গত রোববার ও সোমবার দিবাগত গভীর রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেন (১৬)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামিমকে তাঁর আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে কুপিয়ে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের কর্মকর্তা সহ দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় পুলিশের শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার (১ মে) ভোরে বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিনজনকে আটক করা হয়।

আহত দুই জন হলেন, মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন অবস্থা গুরুতর হাওয়ায় তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে বন্দর থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে থানার ডিউটি অফিসার বন্দরের মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় দায়িত্বরত এএসআই মোঃ সোহেল রানাকে বিষয়টি অবগত করে। পরবর্তী এএসআই মোঃ সোহেল রানা সংগীয় ফোর্সসহ অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে বন্দর থানাধীন চৌধুরী বাড়ী সাকিনস্থ হাবিব নগর রোডস্থ জনৈক গুলু মিয়ার বাড়ীতে গেলে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন দুস্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে কনস্টেবল

ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তার কাছ থেকে সরকারী শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। আর এএসআই সোহেল রানার ডান পায়ে হাটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে।

পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয় ।

পরবর্তীতে বন্দর থানা ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ভোরে বন্দর চৌধুরী বাড়ী এলাকায় জনৈক গুলু মিয়া বাড়ীর ভাড়াটিয়া সোহান এর টিন সেট ঘরের পিছন থেকে ছিনতাই হওয়া শর্টগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে তিনজনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে।


ফরিদপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেফতার তিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছে ঘাতক ইসরাফিল। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

ইসরাফিল ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার ইবাদত মৃধার ছেলে। নিহত শিশু কবিতা একই এলাকার বাকা বিশ্বাস এর মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেনীতে পড়ত।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় এক প্রেস বিফিং এ সদর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজ এর পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার পিতা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্দেহভাজন আসামী ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।

তিনি জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল জানায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে ইয়াবা সেবন করে। পরে সে ওই শিশু কবিতাকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাখুন্ডা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশিক এর পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাফিল শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশেই নাছিমা বেগম এর বাড়ির টয়লেট এর ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ট্যাংকি থেকে গন্ধ বের হলে নাসিমা ঢাকনা তুলে লাশ দেখতে পেয়ে ভীত হয়ে পড়ে। শিশু হত্যার দায় তাদের উপর চাপতে পারে এই ভয়ে নাসিমা তার ছেলে আমিন ও রহমান মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদুরে নিয়ে একটি কলা বাগানে ফেলে রাখে। ৩০ এপ্রিল কলা বাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় দু'জন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল একাই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ঘাতক ইসরাফিলকে ও লাশ গোপন করার অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকে গ্রেফতার করেছে। নাসিমা একই এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদ এর স্ত্রী। প্রেস বিফিং এ কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাকা বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।


কিস্তি পরিশোধ না করার গৃহবধূ গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার অভিযোগে জান্নাতি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জান্নাতি খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী এবং তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে জান্নাতি খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আজ দুপুরে আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক ইতিপূর্বে টিএমএসএসের নাটোরস্থ গুরুদাসপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় তিনি প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা রাখেন এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি কিস্তির মাধ্যমে ঋণের অর্ধেক টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে বাকি পাওনা অর্থ তাঁর পূর্বের গচ্ছিত জামানত থেকে সমন্বয় করার জন্য এনজিও কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানালেও সংস্থাটি তা প্রত্যাখ্যান করে জান্নাতি খাতুনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে জান্নাতি খাতুনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। অবশিষ্ট চাকরির জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংস্থার সুপারভাইজারকে বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা সেটা শুনে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।


দুই স্ত্রী আর পাওনা টাকার দ্বন্দে আপন ভাইকে খুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের দুই ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী পরিণতিতে গড়িয়েছে। ইতালির লেচ্চে শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরের (৩৫) ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নয়ন ফকির (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।

নিহত নয়ন ফকির ও অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং এলাকার দেলোয়ার ফকিরের ছেলে।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে দেলোয়ার ফকিরের বাড়িতে গেলে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেচ্চে শহরে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো ছুরি দিয়ে পেছন থেকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।

ছোট ভাইকে হত্যার পর হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই ভিডিও কলে তিনি নয়ন ফকিরের রক্তাক্ত মরদেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই তাকে খুন করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। স্বজনরা মোবাইলের স্ক্রিনে নয়নের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (১ মে) সরেজমিনে সোনারং গ্রামে নিহত নয়নের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক এলাকাবাসী ও স্বজনেরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হুমায়ুন ও নয়ন দুই ভাই। তাঁদের একমাত্র বোন দিলারা আক্তার। ৮-৯ বছর আগে অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান হুমায়ুন। পরে চার বছর আগে প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ছোট ভাই নয়নকে একইভাবে ইতালিতে নিয়ে যান।

সম্প্রতি বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন হুমায়ুন। নয়ন সেই টাকা দিতেও রাজি ছিলেন। এর মধ্যেই হুমায়ুনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পরিবারে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

স্বজনেরা জানান, হুমায়ুন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তাঁর বাবা দেলোয়ার ফকির নতুন স্ত্রীকে বাড়িতে তোলার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। একপর্যায়ে ক্ষোভে হুমায়ুনের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। পরিবার মনে করছে, এসব বিষয় নিয়েই হুমায়ুন ক্ষুব্ধ ছিলেন।

নিহতের বোন দিলারা আক্তার বলেন, নয়ন সব টাকা পরিশোধ করেছিল। এমনকি আরও ৮ লাখ টাকা দিতেও রাজি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই হুমায়ুনের সঙ্গে পরিবারের বিরোধ বাড়তে থাকে। হত্যার দিন আগে থেকেই ছুরি নিয়ে ওঁত পেতে ছিল সে। নয়ন সাইকেল চার্জ দিতে গেলে পেছন থেকে পিঠে এবং পরে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের আগ থেকেই হুমায়ুনের নিজের এক আত্মীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরে দেশে এসে সেই নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে আবার ইতালিতে চলে যান। সে আমাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না। বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করত। বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিত। বলত, মামলা না করলে কাবিনের ৫ লাখ টাকা দেবে এবং ছেলের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠাবে। ১৫ দিনের মধ্যে চলে যাওয়ার শর্তে আমি সম্প্রতি তাকে তালাক দিতে রাজি হই।

হুমায়ুনের মা বিউটি বেগম বলেন, হুমায়ুন নয়নকে ইতালি নেওয়ার সময় টাকা খরচ করেছিল। কিন্তু নয়ন পরে তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে। এরপরও বাবা-মায়ের জন্য দেওয়া টাকার অর্ধেক চাইছিল। নয়ন তাতেও রাজি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পারিবারিক ঝামেলার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরের দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা আক্তার বলেন, আমার সাথে তার বিয়ের আগ থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাই আমরা ৮-৯ মাস আগে বিয়ে করেছি। তবে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ পাওনা টাকা নিয়ে।

টঙ্গিবাড়ী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে ইতালি থেকে থানায় ফোন করেছিলেন হুমায়ুন। তিনি দাবি করেন, ছোট ভাইয়ের কাছে তাঁর ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পুলিশ তাঁকে জানায়, লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। পরে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে দিয়ে পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করানো হয়।

পুলিশের ধারণা, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হুমায়ুনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রথম স্ত্রীকে বাড়ি ছাড়তে চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব বিষয় নিয়ে তিনি পরিবার ও ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছে, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কোন অভিযোগ পেলে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’


চুয়াডাঙ্গায় খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চারজনের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি


চুয়াডাঙ্গায় বন্যপ্রাণি খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি মৃত ও ৫টি জীবিত খরগোশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে। কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই জেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলী ছেলে সাদগার আলী, একই গ্রামের সাধু মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডল ও মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যপ্রাণি শিকার করতে তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে আসেন ১৪-১৬ জন। এসময় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতেন তারা। ফাঁদে ছয়টি খরগোশ আটকা পড়লে সেগুলো দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়। একই সাথে পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকে রাখা হয়।

বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করেন তিনি। পরে সেখানে অভিযান চালায় বন বিভাগ, স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা ও পুলিশ। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও চার শিকারিকে আটক করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা জানান, ঘটনাটি সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। পরে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে চার জনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় জীবিত উদ্ধারকৃত পাঁচটি খরগোশ বনে অবমুক্ত করা হয়। মৃত খরগোশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। সাজা প্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


গোয়ালন্দে এক‌ই পরিবারে চারজন প্রতিবন্ধী, জরাজীর্ণ ঘর-মানবেতর জীবনযাপন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে এক‌ই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস সহ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পরিবারটি উজানচর ৩ নং ওয়ার্ড মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামের মোঃ আকবর মোল্লার বড় ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মোঃ আতিয়ার মোল্লা (৪২) , তার সহধর্মিণী মোছাঃ রহিমা বিবি (৩৯), তাদের গর্ভে জন্ম নেয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে আশা আক্তার (২০), ছেলে মোঃ বাদল মোল্লা (১৬)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘর এবং সেই ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাবপত্র। রয়েছে একটি কাঠের চৌকি। ঠিদ্র ও বিভিন্ন স্থানে জং পরে যাওয়া টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে। বৃষ্টির পানি ঘরের অধিকাংশ জায়গায় জমে আছে । সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে নাবালক সন্তান দুজনকে নিয়েই এক‌ই চোকিতে থাকতে হয় তাদের। প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লাকে প্রশ্ন করতে গেলে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না। এমনকি অধিকাংশ কথা বুঝতে পারেন না তিনি। পরিবারের বাকি তিনজনের অবস্থা এক‌ই রকম।

প্রতিবন্ধী আতিয়ারের পিতা আকবর মোল্লা জানান, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই কানে একটু কম শুনতো। বড় হ‌ওয়ার পর বুঝতে পারলাম ওর বুদ্ধিও কম। আতিয়ার ছোট বেলা থেকেই মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে কোথাও চলে যেতো। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি আনতে হতো। আবার অনেক সময় একা একাই চলে আসতো। তিনি আরো জানান, নাবালক হ‌ওয়ার পর মনে করলাম ওকে বিয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ে দিয়ে পরলাম আর এক বিপদে ! যার সাথে বিয়ে দিয়ে আনলাম সে ওর থেকেও আরো বেশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওদের গর্ভে জন্ম নেয়া দুটি সন্তান‌ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম জানান, পরিবারের চারজনের বুদ্ধি কম থাকায় কেউ ওদের কাজে নিতে চাই না। কাজ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তাই খেয়েই জীবন-যাপন পার করছেন পরিবারটি।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, আমি বেশ কয়েক বছর এই এলাকায় ইমামতি করার সুবাদে এই পরিবার সম্পর্কে সব জানি। পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। মসজিদের পাশেই ওদের বাড়ি হ‌ওয়ায় আতিয়ারের দুটি সন্তান আমার কাছে আরবি পড়তে আসতো। বুদ্ধি কম থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। পরিবারের কেউই উপার্জন করতে পারে না। মাঝে মধ্যে আমিও আমার খাবার থেকে ওদের খেতে দেয়। পরিবারটির থাকার ঘরটি জরাজীর্ণ। এখন বৃষ্টির দিন তাদের থাকার ঘরটি মেরামতের প্রয়োজন। সেইসাথে সরকারিভাবে পরিবারের চারজনের প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি পরিবারটির সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, প্রবাসী ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারটিকে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিবন্ধী আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীন ০১৯৫৪১৩৮৪০৬ বিকাশ পার্সোনাল নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আমি শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে জরাজীর্ণ ঘর নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হবে। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।


হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার: অনিন্দ্য ইসলাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে ফসল হারানো কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার মহান মে দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষক ও শ্রমিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে শ্রমজীবী পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের পরিবারে আরও একটু সচ্ছলতা আনার চেষ্টা করছে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শাহাদাতবরণ করেছেন তার অধিকাংশই শ্রমিক। তাই আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে শ্রমিকদের কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার। কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার।”

সমাবেশে আলোচনার শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মহান মে দিবসের শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। র‍্যালিটি যশোরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


banner close