বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিএনপির নেতাকর্মী নিয়ে ব্যাপক শোডাউন করেছেন বিএনপির সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। সোমবার বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে এ শোডাউন করা হয়। র্যালিটি মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ উদ্ধবগঞ্জ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে শহীদুল্লাহ প্লাজার সামনে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি সহ সভাপতি শফিউদ্দিন ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সালু, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নুরে ইয়াসিন নোবেল, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ তপন, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ মোল্লা, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান প্রমুখ। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, এখনো চক্রান্ত চলছে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ চক্রান্ত মোকাবিলা করা হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ চক্রান্ত মোকাবেলা করে বিএনপি সরকার গঠন করবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বন্যপ্রাণি খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি মৃত ও ৫টি জীবিত খরগোশ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে। কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই জেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলী ছেলে সাদগার আলী, একই গ্রামের সাধু মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডল ও মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্যপ্রাণি শিকার করতে তিতুদহ গ্রামের কেরু এন্ড কোম্পানির মাঠে আসেন ১৪-১৬ জন। এসময় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতেন তারা। ফাঁদে ছয়টি খরগোশ আটকা পড়লে সেগুলো দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়। একই সাথে পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকে রাখা হয়।
বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করেন তিনি। পরে সেখানে অভিযান চালায় বন বিভাগ, স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা ও পুলিশ। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও চার শিকারিকে আটক করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা জানান, ঘটনাটি সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। পরে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে চার জনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় জীবিত উদ্ধারকৃত পাঁচটি খরগোশ বনে অবমুক্ত করা হয়। মৃত খরগোশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। সাজা প্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে একই পরিবারে চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস সহ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবারটি উজানচর ৩ নং ওয়ার্ড মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামের মোঃ আকবর মোল্লার বড় ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মোঃ আতিয়ার মোল্লা (৪২) , তার সহধর্মিণী মোছাঃ রহিমা বিবি (৩৯), তাদের গর্ভে জন্ম নেয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে আশা আক্তার (২০), ছেলে মোঃ বাদল মোল্লা (১৬)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘর এবং সেই ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাবপত্র। রয়েছে একটি কাঠের চৌকি। ঠিদ্র ও বিভিন্ন স্থানে জং পরে যাওয়া টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে। বৃষ্টির পানি ঘরের অধিকাংশ জায়গায় জমে আছে । সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে নাবালক সন্তান দুজনকে নিয়েই একই চোকিতে থাকতে হয় তাদের। প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লাকে প্রশ্ন করতে গেলে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না। এমনকি অধিকাংশ কথা বুঝতে পারেন না তিনি। পরিবারের বাকি তিনজনের অবস্থা একই রকম।
প্রতিবন্ধী আতিয়ারের পিতা আকবর মোল্লা জানান, আতিয়ার জন্মের সময় থেকেই কানে একটু কম শুনতো। বড় হওয়ার পর বুঝতে পারলাম ওর বুদ্ধিও কম। আতিয়ার ছোট বেলা থেকেই মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে কোথাও চলে যেতো। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি আনতে হতো। আবার অনেক সময় একা একাই চলে আসতো। তিনি আরো জানান, নাবালক হওয়ার পর মনে করলাম ওকে বিয়ে দিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। বিয়ে দিয়ে পরলাম আর এক বিপদে ! যার সাথে বিয়ে দিয়ে আনলাম সে ওর থেকেও আরো বেশি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওদের গর্ভে জন্ম নেয়া দুটি সন্তানও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম জানান, পরিবারের চারজনের বুদ্ধি কম থাকায় কেউ ওদের কাজে নিতে চাই না। কাজ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিবেশীরা যা দেয়, তাই খেয়েই জীবন-যাপন পার করছেন পরিবারটি।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, আমি বেশ কয়েক বছর এই এলাকায় ইমামতি করার সুবাদে এই পরিবার সম্পর্কে সব জানি। পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। মসজিদের পাশেই ওদের বাড়ি হওয়ায় আতিয়ারের দুটি সন্তান আমার কাছে আরবি পড়তে আসতো। বুদ্ধি কম থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। পরিবারের কেউই উপার্জন করতে পারে না। মাঝে মধ্যে আমিও আমার খাবার থেকে ওদের খেতে দেয়। পরিবারটির থাকার ঘরটি জরাজীর্ণ। এখন বৃষ্টির দিন তাদের থাকার ঘরটি মেরামতের প্রয়োজন। সেইসাথে সরকারিভাবে পরিবারের চারজনের প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সকলের অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি পরিবারটির সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, প্রবাসী ও স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারটিকে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিবন্ধী আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীন ০১৯৫৪১৩৮৪০৬ বিকাশ পার্সোনাল নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আমি শুনেছি। যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে জরাজীর্ণ ঘর নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হবে। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে ফসল হারানো কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার মহান মে দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে কৃষক ও শ্রমিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে শ্রমজীবী পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের পরিবারে আরও একটু সচ্ছলতা আনার চেষ্টা করছে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছে সরকার।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শাহাদাতবরণ করেছেন তার অধিকাংশই শ্রমিক। তাই আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে শ্রমিকদের কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার। কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার।”
সমাবেশে আলোচনার শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মহান মে দিবসের শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। র্যালিটি যশোরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় সংসদে নতুন আইন পাসের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী শক্তির ভূমিকা একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় পৌর শ্রমিক দল আয়োজিত মহান মে দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি পাস হওয়া ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন- ২০২৬’ এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানেই জামায়াতের তৎকালীন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, বিলটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিবাদ না করায় তাদের সেই সময়কার ভূমিকা তারা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নৈতিক অবস্থানের ওপর প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, “তাদের পূর্বসূরীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেনি- সেইটা বলার আর কোনো নৈতিক দায়িত্ব জামায়াতের নেই। কেন নেই? এই সংসদে আমরা একটা আইন পাস করেছি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন- ২০২৬। সেই আইনের মধ্যে একটা সংজ্ঞা আছে। ধারা ২ এর উপধারা ১০ এ বলা আছে। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নিজামী ইসলামী পার্টির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলো তারাই মুক্তিযোদ্ধা।”
মন্ত্রী আরও জানান, এই আইনটি পাসের সময় এনসিপি লিখিতভাবে সরকারের পক্ষ অবলম্বন করেছিল এবং জামায়াতের নীরবতা মূলত সম্মতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি গত পরশুদিন সংসদে বলেছি। গতকাল আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- এরপর আর এই সাবজেক্টে আর কথা হবে না। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি- এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়েছে পার্লামেন্টে এই বিল পাশের মধ্য দিয়ে।”
শৈলকূপা পৌর শ্রমিক দলের এই সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তুর্কি প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের গুরুতর জখম করার পাশাপাশি একটি সরকারি শটগান ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তবে পরবর্তীকালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বন্দর থানার অন্তর্গত পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকার হাবিবনগরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সালের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকজনের ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সিফাত ওরফে টুটুল, শাহারিয়া তানভীর ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক নামের তিন ব্যক্তি নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ জানালে থানা থেকে বিষয়টি এএসআই সোহেল রানাকে তদন্ত করতে বলা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোহেল রানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ হাবিব নগর রোডের গুলু মিয়ার বাড়িতে প্রাথমিক তদন্তে গেলে ওত পেতে থাকা ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনস্টেবল ফয়সালের পেট ও হাতের আঙুলে কুপিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করে এবং সরকারি শটগানটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় এএসআই সোহেল রানার পায়েও কোপ দেয় দুর্বৃত্তরা।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ভোরবেলা শটগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’ বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ইতালিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বড় ভাই। শুধু তাই নয়, হত্যার পর ভিডিও কলে দেশে থাকা স্বজনদের ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহও দেখিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ইতালির স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। নিহত ও অভিযুক্ত উভয়ই মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়ন ফকিরের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভিডিও কলে তিনি নিহত ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেফতার করে।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ইতালির একটি মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহটি দেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “ঘটনাটি ইতালিতে ঘটেছে। প্রবাসী নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ওয়ান শুটারগান এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার সকালে সংস্থাটির কম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম দিকের পিলারের খাদ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছয়টি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়ান শুটারগান ও একটি শর্টগানের গুলির পাশাপাশি অস্ত্র নির্মাণের বিপুল উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
র্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে বালুরগদি সংলগ্ন পিলারের নিচে একটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে থাকার গোপন খবর পায় আভিযানিক দল। তাৎক্ষণিকভাবে র্যাবের টহল দল সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যাগটি উদ্ধার করে এবং তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করে। পরবর্তীতে এসব আলামত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা মহানগরীর আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস হাই স্কুলের সামনে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ইমরান হোসেন রুবেল (২৮) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন অভিভাবকরা। পরবর্তীতে তাকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে ছুটির সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আটক রুবেল জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জয়মঙ্গলপুর এলাকার আব্দুল হান্নানের পুত্র এবং পেশায় তিনি একজন ট্রাকের হেলপার বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা যখন প্রধান ফটক দিয়ে বের হচ্ছিল, তখন রুবেল এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি উপস্থিত অভিভাবকদের নজরে এলে তারা তাকে ধরে ফেলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা রুবেলকে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। ঘটনার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, “আটককৃত যুবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বখাটেদের উৎপাত রোধে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে।”
দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতি কাটিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন মৎস্য অভয়াশ্রমে পুনরায় মৎস্য আহরণ শুরু হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের কঠোর নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে জেলেরা বুকভরা আশা নিয়ে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেও শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বৈরী আবহাওয়ার কারণে। প্রবল বৃষ্টি আর উত্তাল নদীর মাঝে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মেলায় জেলেদের মনে হতাশা বিরাজ করছে।
গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। সরকারি এই বিধি-নিষেধের সময়সীমা পার হওয়ার পরপরই নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে চাঁদপুরের উত্তর প্রান্তের ষাটনল থেকে দক্ষিণের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত নদীসীমায় নেমে পড়েন কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।
তবে শুক্রবার সকাল থেকেই চাঁদপুর অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃষ্টির তোড়ে নদী উত্তাল থাকলেও জালে ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। দীর্ঘ দুই মাস কর্মহীন থাকার পর জেলেরা হাসিমুখে জীবনসংগ্রামে ফিরলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাটকা রক্ষা কর্মসূচির সুফল হিসেবে মাছ বড় হলেও এখনই নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। মূলত বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলেই নদীতে বড় ইলিশের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ইলিশের আকাল থাকলেও অন্যান্য প্রজাতির কিছু মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। জেলেরা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছেন যখন নদী শান্ত হবে এবং রূপালি ইলিশে ভরে উঠবে তাদের শূন্য নৌকা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী— পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন দেশের সব বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই, শুক্রবার (১ মে) দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয় নাই। আমরা জরুরিভিত্তিতে তা শুরু করি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি হেল্প না করত, তাহলে দেশের এই মানচিত্র আজকে অন্যরকম হতে পারত। আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।
তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।
বর্তমানে টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। এরইমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ হয়ে গেছে। হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একটাও হামের রোগী নেই।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৮৭ জন কন্যা ও ১৩৩ জন নারীসহ মোট ২২০ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন কন্যা ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৫৮ জন। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন কন্যাসহ ১৭ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ৩ জন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ জন কন্যাসহ ১২ জন ধর্ষণ-চেষ্টার শিকার হয়েছেন। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৬ জন কন্যাসহ ১৬ জন। এর মধ্যে ৩ জন কন্যাসহ ৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, ১ জন্য কন্যাসহ ৩ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন এবং সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২ জন কন্যাসহ ৫ জন।
এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ১৬ জন কন্যা ও ৪১ জন নারীসহ মোট ৫৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। ৪ জন কন্যা ও ১৫ জন নারীসহ ১৯ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ঘটনার শিকার হয়েছেন ২ জন। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন, এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন ২ জন।
পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ জন। ১ জন কন্যাসহ ২ জন গৃহকর্মী নির্যাতন এবং ১ জন কন্যাসহ ২ জন গৃহকর্মী হত্যার ঘটনার শিকার হয়েছেন। ৪ জন কন্যাসহ ১৩ জন আত্মহত্যার শিকার হয়েছেন, এর মধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছেন ২ জন কন্যা। ৫ জন কন্যাসহ ৬ জন অপহরণের চেষ্টার ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৩ জন কন্যা। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৪ জন। এ ছাড়া ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ১৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর একটি টহলদল গতকাল রাতে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর নামক স্থানে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য ১,১৪,৪০,০০০/- (এক কোটি চৌদ্দ লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা।
জব্দকৃত এসব মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।