বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

গত ১০ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২০৯৭ জন

দুর্ঘটনার প্রতীকী চিত্র। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর, ২০২২ ১৩:৫৬

চলতি বছরের দশ মাসে দেশের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছের এক হাজারের বেশি মানুষ। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর এই হতাহতের কারণ দুই হাজার ৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

রোববার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এই দশ মাসে দুই হাজার ৯৭ জন নিহত এবং এক হাজার ২৮৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪৭ জন ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী এবং এক হাজার ৫৩৩ জন ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী। দুর্ঘটনায় ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আর মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এক হাজার ৬৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক হাজার ৭৫৮ জন নিহত হয়েছিল। এই হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

দেশে ক্রমবর্ধমান মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বড় অংশ ঘটছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ বাস ইত্যাদি ভারী যানবাহনের ধাক্কা, চাপা ও মুখোমুখি সংঘর্ষে। অপরপক্ষে, মোটরসাইকেল চালকদের অধিকাংশই কিশোর-যুবক। তারা ‘চরম বেপরোয়াভাবে’ মোটরসাইকেল চালিয়ে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং অন্যদের আক্রান্ত করছে।

প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কারণের বিষয়ে বলা হয়েছে, কিশোর-যুবকদের বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো। অতি উচ্চগতির মোটরসাইকেল ক্রয়ে সহজলভ্যতা ও চালনায় বাধাহীন সংস্কৃতি। মোটরযান চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা। দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির শিথিলতা, বাস-ট্রাক-পিকআপ-প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসসহ দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া গতি; চালকদের অদক্ষতা ও অস্থিরতা, ইজিবাইক-সিএনজি-নসিমন-ভটভটির মতো স্বল্পগতির যানবাহন অদক্ষ হাতে চালানো; সড়ক-মহাসড়কে ডিভাইডার না থাকা, কিশোর-যুবকদের গতির প্রতি আকৃষ্ট করতে মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের উত্তেজনাকর ভাষা-ভঙ্গি, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা, পারিবারিকভাবে সন্তানদের বেপরোয়া আচরণকে প্রশ্রয় দেয়া, দেশে ‘কলুষিত রাজনীতির’ পৃষ্ঠপোষকতায় কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি গড়ে ওঠাকেও দুর্ঘটনার কারণ বলছে সংস্থাটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। শুধু রাজধানীতেই চলছে ১৫ লাখের বেশি। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব ও যানজটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। মোটরসাইকেল চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য করে মোটরসাইকেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত না করে বিভিন্ন প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মোটরসাইকেল বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয়ের জন্য ১০/১২ হাজার কোটি টাকার অমূল্য জীবন-সম্পদ হারানোর কোনো মানে নেই। তাই সরকারের উচিত, এখনই মোটরসাইকেল বিপণন ও ব্যবহারের লাগাম টেনে একটি টেকসই জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।


নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।’ বুধবার (১৩ মে) নিজ নির্বাচনী এলাকা দুর্গাপুরের বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি পরিদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনাচার আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি শুধু সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক।’

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘নেত্রকোনার দুর্গাপুর অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।’

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মাছুম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।


লিবিয়ায় নির্যাতন: ৪৮ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচল না যুবক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের নির্যাতনে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার তছির ফকির (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) এই মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের স্বজনরা।

এদিকে কয়েক দফায় ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা দালাল চক্রের সদস্যরা। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনাসহ দালাল চক্রের শাস্তি দাবি করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত তছির রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে।

পরিবার ও এলাকাবাসীরা জানায়, টেকেরহাট বন্দরের বাস কাউন্টার এলাকায় চায়ের দোকান করে ৩ মেয়ে, স্ত্রী ও বাবা-মাসহ ৭ সদস্যের সংসার চালাতেন তছির। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আসায় ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। মাত্র এক মাসের মধ্যে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখায় পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা। চুক্তি অনুযায়ী সুদে ও জমি বিক্রি করে আনা ২৫ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দেয় তছিরের পরিবার। গত ৮ মাস আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি। পরে তছিরকে পাঠানো হয় লিবিয়া। সেখানে মাফিয়াদের বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল রফিকুল।

নির্মম নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তছিরকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। এরপর চিকিৎসার কথা বলে আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে লাশ গুম করার জন্য গেম ঘরে (বন্দিশালায়) নিয়ে যায় মানবপাচারকারীরা। পরে আবারও গত রোববার ইঞ্জিন-চালিত নৌকায় ভূমধ্যসাগর পথে ইতালি পাঠানোর জন্য গেম দেওয়ার কথা বলে আরও ১৪ লাখ টাকা দাবি করে লিবিয়ায় অবস্থানরত দালালরা। তবে গত মঙ্গলবার রাতে লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি সহচররা তছিরের মৃত্যুর খবরটি তার বাড়িতে জানায়। এতে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। এদিকে খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবার।

নিহত তছিরের স্ত্রী ইসমোতারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শেষ সম্বল জায়গা-জমি বিক্রি করে দিয়েছি। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ধার করে দালালের হাতে দিয়েছি। ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়া নিয়ে আটকে রেখে কয়েক ধাপে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা নিয়েছে দালাল রফিক। কিন্তু মারধর করে মেরে ফেলল। এখন আমার সব শেষ। কীভাবে দেনা পরিশোধ করব, আর কীভাবে মেয়েদের নিয়ে বাঁচব? এইসব দালালদের কঠোর বিচার চাই। সরকারের কাছে দাবি, আমার স্বামীর লাশটি যেন দেশে ফিরিয়ে এনে দেন।’

নিহতের ছোট ভাই শাহীন ফকির বলেন, ‘মৃত্যুর খবর পেয়ে দালাল রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাইনি। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। আমার ভাইকে শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই। তার লাশটি যেন সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করেন সেই দাবি জানাই এবং দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।’

বাবা কালু ফকির কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘যে বয়সে ছেলেরা আমার কবরে মাটি দেওয়ার কথা, সেই বয়সে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হয়। আমার ছেলেটাকে দেশে ফিরিয়ে দেন। একবার ওর মুখটা দেখতে চাই। অন্তত কবরে যেন মাটি দিতে পারি সরকারের কাছে আমার দাবি এটাই। আর কিছু চাওয়ার নাই।’

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘লিবিয়ায় নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। তবে এখনো নিহতের পরিবার থেকে কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া দালালদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি যাওয়ার বিষয়ে সকলকে সতর্ক হতে হবে। এ পথ থেকে সকলকে সরে আসতে হবে।’ একই সাথে প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


ঝিনাইদহে হোটেলকর্মীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) সকালে সাদাতিয়া সড়কের ওই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত খুশি খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শহরের পাগলাকানাই মোড়ের আন্তরিক হোটেলে (সাবুর হোটেল) কাজ করতেন।

বাসার মালিক বেবি খাতুন জানান, এক সপ্তাহ আগে খুশি খাতুন বাসাটি ভাড়া নেন। সে সময় সোহাগ হোসেন নামে এক রিকশাচালককে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হোটেল থেকে কাজ শেষে সোহাগের সঙ্গেই বাসায় ফেরেন খুশি। বুধবার (১৩ মে) সকালে দীর্ঘক্ষণ তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতে যান।

এ সময় তারা দেখেন, ঘরের সামনের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো এবং পেছনের দরজা খোলা। ভেতরে বিছানায় খুশির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের ধারণা, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতের কোনো এক সময় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুশিকে হত্যা করে কথিত স্বামী সোহাগ পালিয়ে গেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অটিজম অভিশাপ নয়, প্রতিবন্ধিতার বিশেষ রূপ: নীলফামারী জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

‘অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি প্রতিবন্ধিতার একটি বিশেষ রূপ। তাই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হতাশ না হয়ে তাদের প্রতি পরিবার ও সমাজকে আরও যত্নশীল হতে হবে।’ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

এদিন ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীতে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নীলফামারী জেলা শহরে অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি আধুনিক বিশেষায়িত বিদ্যালয় এবং কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুসরাত ফামেতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। হাসপাতাল সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর নাহার নূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হৃদয় হোসেন। এ ছাড়াও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আতিউর রহমান শেখ অটিজম বিষয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।

আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, সাংবাদিক নুর আলম, হাজীগঞ্জ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদা আক্তার মিনি এবং অভিভাবক প্রতিনিধি রেখা ইয়াসমিন।

আলোচনা সভার আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে ১০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে উন্নতমানের হুইলচেয়ার তুলে দেন।


বগুড়ায় ৩০ কেজি ওজনের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে প্রায় ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২) রাত ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মূর্তিপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৫৪), পিতা: মৃত আব্দুল হামিদ, গ্রাম: গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া, শিবগঞ্জ। নাহিদুর রহমান (৩২), গ্রাম: নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়া, বগুড়া সদর।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইকবাল বাহার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে বাড়ি থেকে মূল্যবান কষ্টি পাথরের একটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার বিষ্ণুমূর্তির দৈর্ঘ্য ৩০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৪ ইঞ্চি। এর মোট ওজন ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করে আসছিল। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় চোরাচালানবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার মূর্তিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


বিদেশে পালানো হলো না: গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করা সেই ‘খাদেম’ এখন পুলিশের খাঁচায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে শাহ আজম প্রান্ত (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

গ্রেপ্তার শাহ আজম প্রান্ত উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামের ‘বিশ্ব রাহে রাজ ভাণ্ডার দরবার শরিফের’ খাদেম। সম্পর্কে তিনি ভুক্তভোগী গৃহবধূর চাচাতো দেবর।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এই সুযোগে দেবর প্রান্ত তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উপলক্ষে বারবিকিউ পার্টির কথা বলে ওই গৃহবধূকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় প্রান্ত। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।

ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি: ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে বলে ও গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় প্রান্ত। এমনকি ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

আইনিব্যবস্থা: অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত মার্চ মাসে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই প্রান্ত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত প্রান্ত বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা করছেন। গত মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


অটিজম সচেতনতা দিবসে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। বুধবার (১৩) সকালে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপিত হয়।

‎​দিবসটি উপলক্ষে সকালে পিরোজপুর সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্থানীয় বিভিন্ন অটিস্টিক শিশু ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

‎​পিরোজপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দীন ভূঞা জনী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল এবং ডেইলি অবজারভার-এর পিরোজপুর প্রতিনিধি জিয়াউল আহসান।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলাউদ্দীন ভূঞা জনী বলেন, ‘অটিস্টিক শিশুরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সমাজের বোঝা নয়, বরং সঠিক পরিচর্যা, বিশেষ শিক্ষা এবং সহমর্মিতা পেলে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বিশেষ অবস্থা যা আমাদের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।’

‎​অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুম বিল্লাহ এবং গীতা পাঠ করেন অমল চন্দ্র রায়।

জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা প্রিয়ংবদা ভট্টাচার্যের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. জাহিদুল ইসলাম এবং পজিটিভ পিরোজপুরের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান।


কুমিল্লায় বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানার হায়দরাবাদ উত্তর পাড়ায় পুলিশের এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আল আমিন (৩৪), পিতা মো. আবু তাহের মিয়া। মো. হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু মিয়া (৭০), পিতা মৃত তবদুল হোসেন। এই ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে খায়ের মিয়াকে (৬৫) অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সকলের বাড়িই বাঙ্গরা বাজার থানার হায়দরাবাদ এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই রিয়াজুল মোস্তফা ও এএসআই মো. আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে হায়দরাবাদ উত্তর পাড়ায় অভিযান শুরু করে। এ সময় ওই এলাকার খায়ের মিয়ার বসতবাড়ি ঘেরাও করা হয়।

তল্লাশি চলাকালীন আসামি মো. আল আমিনের (৩৪) কাছ থেকে ২ বোতল বিদেশি মদ এবং মো. হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু মিয়ার (৭০) কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পলাতক আসামি খায়ের মিয়ার ঘর থেকে আরও ৬ বোতল বিদেশি মদ ও মাদক বিক্রির নগদ ২৩ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ। সব মিলিয়ে মোট ৮ বোতল (প্রায় ২.৭২৫ লিটার) বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।


সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ, ১২ জন দগ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মী দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার সোনারগাঁয়ে জেরা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— নাজমুল শেখ, সাইফুল ইসলাম, রামিজুল, আমির, শঙ্কর, কাউসার, তুহিন শেখ, মনির হোসেন, আল-আমিন, ওসমান গনি, সুপ্রভাত ঘোষ ও বদরুল হায়দার।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জেরা মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ক্যান্টিনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুফে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ক্যান্টিনের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে থাকা ১২ জনের হাত, মুখ ও পা দগ্ধ হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দুপুরে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের তিন থেকে পাঁচ শতাংশ এবং বাকি সাতজনের ১২ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও দগ্ধদের ছয়জনের শরীর আশঙ্কাজনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে একজন আইসিইউতে ও দুজন এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান। এ সময় মন্ত্রীরা দগ্ধদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতসহ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন তারা। তারা জানান, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস লিকেজের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।


বাবার পর না ফেরার দেশে মেয়েও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা মীর কালামের (৩৫) পর মৃত্যু হয়েছে মেয়ে কথারও (৪)। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটি মারা গেছে। এর আগে গত সোমবার মারা যান শিশুটির বাবা মীর কালাম।

ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে গত রোববার সকাল ৭টার দিকে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন- সবজি বিক্রেতা মীর কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা (৩২), তাদের ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে কথা (৪) ও মুন্নি (৭)।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (বুধবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শিশু কথা মারা গেছে। তার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে সায়মা, মুন্না ও মুন্নি চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মধ্যে সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ ও মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’

গত রোববারের ওই বিস্ফোরণের পর দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়া প্রতিবেশী মো. হাসান জানান, সকাল ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শোনে আশপাশের লোকজন গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছে। তখন ভেতর থেকে তাদের পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে। তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে বাসার গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের বালুকদিয়ে গ্রামে।


সান্তাহারে দেড় যুগ ধরে অবরুদ্ধ ৪০ পরিবার, মরদেহ বের করার জায়গাটুকুও নেই!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর এলাকায় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সংস্কার হয়নি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এই অবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অবরুদ্ধ ৪০ পরিবার: অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে বশিপুর এলাকায় জনৈক এক ব্যক্তি সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি নির্মাণের সময় চলাচলের পর্যাপ্ত রাস্তা রাখেননি। ফলে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় তাদের হুইলচেয়ার বা স্বাভাবিক চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মানবিক সংকট: এলাকাবাসী জানান, রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের কোনো পথ নেই। এমনকি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ খাটিয়ায় করে নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও নেই, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বৃষ্টির দিনে কাদা ও জলমগ্ন অবস্থায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দ্রুত সমস্যা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


উন্নয়ন প্রচারে সহযোগিতা চাইলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। বুধবার (১৩) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

জেলা তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক। ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা তথ্য অফিসের বিগত তিন মাসের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফের মতো জনবান্ধব কর্মসূচিগুলোর সুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। সাংবাদিকরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে এসব উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরলে দেশের মানুষ উৎসাহিত হবে এবং প্রশাসনের কাজে গতিশীলতা আসবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদ ও মিল্লাত হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, তথ্য কর্মকর্তা বেনজীর আহম্মেদ এবং জেলা ত্রাণ অফিসার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ ফায়েজুল কবীর, সিনিয়র সাংবাদিক গাউস-উর-রহমান, মাদারীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাব্বির হোসাইন আজিজ, ডাসার প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান আজাদ এবং রাজৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।

বক্তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার-প্রসারণায় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।


কুলাউড়াকে উন্নয়নের মডেলে রূপান্তরের অঙ্গীকার এমপি শওকতুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে কুলাউড়া উপজেলার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর তুলনায় কুলাউড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই পিছিয়ে পড়া জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এম এ আহাদ আধুনিক কলেজে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব: শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘কুলাউড়ার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতোমধ্যে ডিও লেটার (DO Letter) পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে পাইকপাড়া এম এ আহাদ আধুনিক কলেজে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি চারতলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং বিজ্ঞান শাখা চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।’

উন্নয়ন ও রাজনৈতিক দর্শন: এমপি শওকতুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি সরকার সবসময়ই উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

পাইকপাড়া এম এ আহাদ কলেজের সভাপতি মেজর (অব.) মো. নুরুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. আলাউদ্দিন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আতাউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজমুল হোসেন এবং কলেজের অধ্যক্ষ মো. হানিফ, হাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু, হাজীপুর ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান হেলাল এবং শরীফপুর ইউনিয়নের সভাপতি হারুন আহমেদ।

অনুষ্ঠান শেষে কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


banner close