শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
১৬ মাঘ ১৪৩২

নাটোরে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস থেকে ১৭৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:১৭

নাটোরে দুটি অভিযানে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস থেকে ১৭৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ভোরে শহরের বনবেলঘরিয়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ভগরইল এলাকার মো. ওয়াদুদ আলী (২৫), শিবগঞ্জ উপজেলার কয়লার দিয়ার এলাকার মো. ফসের আলী সোহেল (২৯), শেখটোলা কাশিবাটিপাড়া এলাকার মো. লালন (২৫) এবং একই এলাকার মো. সাবেরুল ইসলাম শহিদ (৩৫)।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে প্রথমে নোয়াখালী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী গ্রামীণ ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী সিটের নিচে রাখা দুটি বস্তা থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই এলাকায় নারায়গঞ্জ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি প্লাস্টিক ক্যারেট বহনকারী ট্রাককে থামানো হয়। তল্লাশিতে ক্যারেটের নিচে রাখা ছয়টি চটের বস্তা থেকে ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।


সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এজাহার নামীয় আসামিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় নরসিংদী জেলার এসপি ও মাধবদী থানার ওসির অপসারণের জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ চত্বরে ক্র্যাবের আয়োজনে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান ক্র্যাব সভাপতি।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ, ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-ডিজাব, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন-র‌্যাক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি কেউই ক্র্যাবের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আহতদের দেখতেও যাননি, যা খুবই দু:খজনক। নরসিংদীতে যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। কারণ পুলিশ ওইসব চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ভাগ পায়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় নরসিংদী জেলার এসপি ও থানার ওসির অপসারণের দাবি জানান তিনি।

ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা যখন আঘাতপ্রাপ্ত তখন বোঝা যায় দেশের কী অবস্থা। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা স্পষ্ট।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, এ ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্যই শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে এ দেশের মানুষ। সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু সালেহ আকন বলেন, এদের দিয়ে কিছু হবে না। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছেনা।

প্রতিবাদ সভায় ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ বলেন, ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করা প্রশাসনিক গাফিলতি। ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু না করে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ।

প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আজিজুল হাকিম, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মধুসূদন মন্ডল, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান খান, ক্র্যাবের সাবেক সহ সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী, জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন, ক্র্যাবের সহসভাপতি জিয়া খানসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ক্র্যাবের পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ১০ জন ক্র্যাব সদস্য আহত হন, যাদের ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নরসিংদী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে তারা এখন নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় নরসিংদির মধাবদী থানায় একটি মামলা হয়েছে।


ফুলবাড়িয়ায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে প্রার্থীরা একত্রে এ ইশতেহার পাঠ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, ইসলামী আন্দোলনের নুরে আলম সিদ্দিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতিসহ ফুলবাড়িয়ার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৃথক পৃথক ইশতেহার পাঠ করেন। তবে এদিন অসুস্থতার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেননি।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জীবনের সর্বোচ্চ দিয়ে হলেও ফুলবাড়িয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তথা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি প্রার্থীদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ঐক্য ধরে রাখার ব্যাপারে অনুরোধ করেন। সেই সাথে ফুলবাড়িয়া গণমানুষের আকাঙ্খাগুলো পূরণের ব্যাপারেও দাবি জানান তিনি।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার,থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ,সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম,আনসার ভিডিপি অফিসার কুসুম কুমার রায় প্রমূখ।


নেত্রকোনায় যুব মহিলাদের প্রশিক্ষণ-সনদপত্র বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের লাইট গ্রামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত যুব মহিলাদের অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক। প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক পারভীন সুলতানা ও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম। সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা আফরোজা আক্তার লিজা। বক্তারা বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এ ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র অর্জনের মাধ্যমে নারীরা এখন থেকে বিভিন্ন কর্মসংস্থানে নিজেদের যুক্ত করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যুব মহিলারা উপস্থিত ছিলেন।


আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য: ‘মুসলমানদের চাপে রাখা প্রয়োজন, নইলে সব দখল করে নেবে’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আর দু’মাসের মধ্যেই আসামে বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যে দলের কর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন, রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের— যাদের তিনি ‘মিঁয়া' বলে উল্লেখ করেন— যতটা সম্ভব হয়রানির মধ্যে রাখতে। বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন (স্পেশাল রিভিশন বা এসআর) প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রায় ৫ লাখ মুসলমান নাগরিকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

২০১৬ সালে আসামে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি বাংলাভাষী মুসলমানদের ঘিরে ধারাবাহিক রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে এসেছে। তবে ২০২১ সালে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই বয়ান আরও তীব্র হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে এবার তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই সরাসরি এই জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কথা বলতে শুরু করেছেন।

২৭ জানুয়ারি ডিব্রুগড়ে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে এসআর প্রক্রিয়ায় বিজেপির কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ দায়ের করছেন। তিনি জানান, এটি কেবল ঘটছে তা নয়, বরং এটাই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান।

তিনি বলেন, যদি ‘মিঁয়া মুসলমানদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করা হয়, তবে মনে হবে আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর কোনো অস্তিত্ব নেই। তার দাবি, এই জনগোষ্ঠীকে ‘চাপে রাখা’ প্রয়োজন, না হলে তারা জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করে নেবে। তিনি একে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, এই অবস্থানের মাধ্যমে ‘প্রতিরোধ’ দেখানোই সরকারের লক্ষ্য।

তার বয়ান, ‘আমরা যদি মিঁয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করি, তবে মনে হবে আসামে একেবারেই অবৈধ বিদেশি নেই। আমি দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন যত বেশি সম্ভব অভিযোগ দায়ের করে এবং সেটা হবে শুধুমাত্র মিঁয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এই সম্প্রদায়ের লোকেদের চাপে রাখতে হবে, না হলে তারা আমাদের মাথার উপর চড়ে বসবে। তারা ভেবেছে আসামের জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করবে। আমরা যদি এর বিরুদ্ধে কিছুই না করি, তাহলে মনে হবে অসমীয়ারা দুর্বল। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই এবং আমরা মিঁয়াদের এই রাজ্যে শান্তিতে থাকতে দেব না।’

কীভাবে এই ‘চাপ’ সৃষ্টি করা হবে, তাও মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘গুয়াহাটিতে আমি দেখেছি অনেক মুসলমান অটোচালক রয়েছে। তাদের অটোতে উঠবেন এবং নামার পর যদি পাঁচ টাকা ভাড়া চায়, চার টাকা দেবেন। তারা উৎপাত করলে প্রয়োজনে পেটাতে হবে। যেসব জায়গায় তারা কাজের সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছে, সেখানেও আক্রমণ করতে হবে। আমি বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়া কন্টাক্টারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জানিয়েছি, মিঁয়া মুসলমানদের হটিয়ে স্থানীয় অসমীয়াদের সুযোগ দেওয়া হোক। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে কাজের সুযোগ— সব জায়গায় সম্মিলিত আক্রমণ করতে হবে। অসমীয়া হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।’

এই মন্তব্যগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক। কেউ কেউ বলেছেন, আসামে একসময় প্রতিবাদের পরিবেশ ছিল, কিন্তু এখন সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা নিরাপদ নয়।

গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সরাসরি মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন, তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র রাজনীতির স্বার্থে একজন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সমাজের একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন, এটা শুধুমাত্র দুর্ভাগ্যজনক নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি একের পর এক মন্তব্য করছেন এবং সাধারণ মানুষকে বলছেন মুসলমানদের যে কোনোভাবে যেন হেনস্থা করা হয়। যদি তার কথা শুনে তার দলের লোকেরা এ ধরনের কাজ শুরু করে, তাহলে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া আসতে সময় লাগবে না। হয়তো মুখ্যমন্ত্রী এমনটাই চাইছেন। তবে আমরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করব। এই বক্তব্য সংবিধান-বিরোধী এবং আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করব।’

হাফিজ রশিদ জানান, শুধু মুসলমানরাই নন, অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন বহু হিন্দুও এই বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে আসাম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং তা সংবিধানসম্মত ভোটাধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।


ফেনীতে মিট দ্যা ইয়াং লিডার্স অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে জেলা যুবদলের আহবায়ক নাছির উদ্দীন খোন্দকারের আয়োজনে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী মিট দ্যা ইয়াং লিডার্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন, ডকুমেন্টারি দেখানো, ইউথ আইডিয়া শেয়ারিং ও কালচারাল অনুষ্ঠান,কুইজ প্রতিযোগিতা ও র‍্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হাসান উদ্দিন। অনুষ্ঠানে তিনি মেধাভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্ব আলোকপাত ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এতে জেলার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০জন ইয়াং লিডারর্স অংশ গ্রহণ করেন। তারা মেধাভিত্তিক রাজনীতির কৌশল জানতে চান।

অনুষ্ঠানে আগত পরশুরাম ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস জানান, কিভাবে নতুন নেতৃত্ত্ব তৈরি করা যায় তার কৌশল সম্পর্কে ধারনা নিয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জন করাই ছিলো মূল লক্ষ। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশী হওয়া দরকার। আগামী দিনগুলো দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক রাজনীতি করার সময়।

ফেনী ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিঝুম প্রবন্ধ উপস্থাপক প্রফেসর ড. মো. হাসান উদ্দিনের কাছে জানতে চান, কেন্দ্রে গিয়ে কিভাবে ভোট দিবে। সে কৌশল নিয়েও আলোচনা করেন প্রফেসর হাসান। এই ছাড়াও প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ নেন ছাগলনাইয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তানজিদুল মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক নোমান। ছাগলনাইয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি আলী আক্কাসসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুন নেতারা।

ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম মিলনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ বিএনপি প্রার্থীর সমন্বয়ক মো. রাশেদ ইকবাল,বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ডক্টর নিজাম উদ্দিন।


মীরসরাইয়ে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু, ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ফুটওভার ব্রিজের (পদচারীসেতু) দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি হয়। ওই এলাকায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাকচাপায় মাদরাসাছাত্রী ও পথচারী নিহত হয়েছিলেন।

বড়তাকিয়া জাহিদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকেরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এতে সংহতি জানিয়ে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরাও হাজির হন। কর্মসূচিতে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দিন, খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রবাল ভৌমিক, বড়তাকিয়া বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, বড়তাকিয়া বাজারের পূর্ব পাশে বড়তাকিয়া মাজার ও বড়তাকিয়া যাহেদিয়া মাদরাসার গেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলেন চালকেরা। এ ছাড়া মানুষজনও এলোপাতাড়ি রাস্তা পারাপার হয়। এতে বারবার স্থানটিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ এলাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রবেশ মুখের এ জায়গাটিতে বড়তাকিয়া বাজার, আবুতোরাবের প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ, বরতাকিয়া বাজার এলাকায় আবুল কাশেম গার্লস হাইস্কুল, খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়, খৈয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়তাকিয়া যাহেদিয়া দাখিল মাদরাসা ও একটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এ এলাকার সড়ক পার হন। কিন্তু বারবার আবেদন করার পরেও স্থানটিতে কোনো পদচারীসেতু দেওয়া হচ্ছে না।

জানতে চাইলে মানববন্ধনের অন্যতম আয়োজক মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন, ‘মানববন্ধন শেষ করে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। যত দিন এই স্থানে পদচারীসেতু তৈরি না হয়, তত দিন যেন এখানে দুজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকে এটিই তাঁদের দাবি।’

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় পদচারীসেতুর উপযোগিতা আছে কি না, সেটি আমরা সমীক্ষা করে দেখব। বাস্তবতা থাকলে পদচারীসেতু স্থাপনের বিষয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


শ্যামনগরে মোরগ লড়াই দেখতে মানুষের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার ভেটখালি নতুন ঘেরি মুণ্ডাপাড়া এলাকায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্যামনগর, সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন এলাকার ৪০ জনও বেশি প্রতিযোগী দুই শতাধিক মোরগ নিয়ে অংশ নেন। লড়াই দেখতে হাজারও মানুষের সমাগম ঘটে।

মোরগ লড়াই আয়োজক কমিটির পঞ্চানন মুন্ডা জানান, পৌষের শেষ দিনে পিঠা-পার্বণ উৎসবের সঙ্গে সাকরাইন উৎসবের অংশ হিসেবে সুদীর্ঘকাল ধরে মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিযোগিতায় চার শতাধিক মোরগ নিয়ে ৪০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। সেই সঙ্গে মোরগের পায়ে ধারালো চাকু স্থাপনের জন্য ১০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ উপস্থিত হয়েছিলেন।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর ফটকের সামনে বেলা সাড়ে ১১টায় এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টার প্ল্যান’, ‘আবু সাইদ, মুগ্ধ—শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব—জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘চাঁদাবাজের কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন, খুনি তারেক জবাব দে’, ‘তারেক তোমার অনেক গুণ, আমার ভাইরে করও খুন।’

সমাবেশে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শেরপুরে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একদিকে তারা সুশাসনের কথা বলছে, অন্যদিকে নির্বাচনী পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, কিন্তু বাস্তবে তারা মানুষ খুন করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সব ধরনের হত্যার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা বিএনপিকে সবচেয়ে মজলুম মনে করেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম তাদের হাত ধরে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে কোনো নির্যাতন থাকবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমরা বলতে চাই বিএনপিকে এখানেই থামতে হবে। তারেক রহমান কী প্ল্যান নিয়ে আসছেন আমরা জানি না, তবে যদি সেই প্ল্যান মানুষ খুনের হয়, তাহলে সেই পথ থেকে সরে আসুন। ৫ আগস্ট আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিলাম, এবার যদি আবার নামতে বাধ্য হোই, তাহলে আপনার অবস্থান হবে লন্ডনে।’


রাউজানে নলকূপের ৩০ ফুট গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু

* সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর * ৪ বছরেও নলকূপের গর্ত ঢাকেনি কর্তৃপক্ষ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তের ৩০ ফুট নিচে পড়ে মিসবাহ নামে ৪ বছর বয়সি এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক হাবিবুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর বড়ুয়াপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।

চার বছর আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নলকূপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া গর্ত ঢেকে না রাখার অবহেলার কারণে প্রাণ হারায় শিশুটি।

স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নলকূপের গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। অসাবধানতাবশত শিশুটি সেখানে পড়ে যায় এবং গভীরে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। তবে সে অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। খননযন্ত্র (ভেকু) ও বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’0 স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া বসতঘরের মাত্র ২০-৩০ ফুট দূরত্বে সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এলাকাটি টিলাভূমি হওয়ায় গভীর গর্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করে। তবে অনেক চেষ্টা করেও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।’ রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, প্রথমে রাউজান ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়। শিশুটি প্রায় ১২ ফুট গভীরে আটকে ছিল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নলকূপের গর্ত খোলা রাখার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় দুই বছরের সাজিদ।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা ৩১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ৪৫ ফুট মাটি খুঁড়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। দেড় মাস পরই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল চট্টগ্রামের রাউজানে।


সারিয়াকান্দিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৫
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থী নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর দায়ে তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিনূর রহমান ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ সারিয়াকান্দি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম। এসময় সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর৷ মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম মন্ডল, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস সরকারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী জনসভা, মাইকিং, লিফলেট এবং ডিজিটাল প্যানায় নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে প্রচার করছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলা বা বগুড়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় তার কোনো নাম নেই। এমনকি সরকারি কোনো গেজেট বা দালিলিক নথিতেও তার বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী প্রচারণায় এমন অসত্য তথ্য ব্যবহার করা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, নিজেকে ভুয়া পরিচয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি ভোটারদের আবেগ ও সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নির্বাচনী এলাকায় বিতরণকৃত লিফলেট ও প্যানায় তার নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পদবী ব্যবহার করায় সাধারণ ভোটার ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই এমন গৌরবোজ্জ্বল পদবী ব্যবহার করা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবমাননার শামিল।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল না থাকলে এবং প্রচারণায় অসত্য তথ্য দিলে কমিশনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

​এই বিষয়ে অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এ্যাড. শাহিন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি সুবিধা নিতে গ্যাজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে, এর কোনো বাধ্যকতা নেই।


হরিণাকুণ্ডুতে মাদক-দেশীয় অস্ত্রসহ নারী গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে হরিণাকুন্ড পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত তাছলিমা আক্তার ওই গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী।

র‌্যাব-৬ এর কম্পানী কমান্ডার এএসপি মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারী হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। হোসেন আলী ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা-সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার কে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬।

র‌্যাবের কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। সে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। পলতাক আসামীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, র‌্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতির ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি বন্দরে ৮ ঘণ্টার অপারেশনাল কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ নেতৃবৃন্দ। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করা করা হবে।

সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই কঠোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। বন্দর শ্রমিকদের দাবি, এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি অত্যন্ত কৌশলগত ও লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। দেশীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এই টার্মিনালের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলে বন্দরের বিশাল অংকের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ নেতা মো. হুমায়ুন কবীর এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, এনসিটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা সাধারণ শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শ্রমিকদের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা এই কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৩১ জানুয়ারির কর্মসূচির পর যদি দাবি মানা না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এই কর্মবিরতির ঘোষণার ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার খালাস ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের স্থবিরতা নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এক দিনের ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিও বন্দরের জট কমাতে হিমশিম খাওয়ার কারণ হতে পারে। বন্দরের নিয়মিত ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান কামনা করেছেন, যাতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। শ্রমিক নেতারা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।


ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: এবার শিক্ষক সমিতির পদ গেল বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার

ছবি: বহিষ্কৃত শামীম আহসান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করা জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা শামীম আহসানকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। পাথরঘাটা উপজেলা কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শামীম বিটিএর পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক পদে ছিলেন।
এর আগে বরগুনা জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি ও সদস্য পদ (রুকন) স্থগিত করে তাকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিটিএর পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম করিব গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ডাকসু নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষর্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে মানসিকভাবে আঘাত করেছেন। তাই মঙ্গলবার পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখা বিটিএ কমিটি সভা করে তাকে উপজেলা কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা বিটিএ মঙ্গলবারই তার অব্যাহতিপত্র ইস্যু করেছে।
শনিবার রাতে শামীম আহসান এক নির্বাচনি জনসভায় বলেন, ‘আমরা দেখছি ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি এটা উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’


banner close