মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, প্রাণি থেকে মানুষের দেহে রোগ ছড়ানো মারাত্মক হতে পারে। তাই প্রাণির রোগ নিয়ন্ত্রণ করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমরা বিশেষ কোন রোগ জানা মাত্রই তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। সকল প্রাণিকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকার ভ্যাকসিন উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করবে। আমরা প্রাণি থেকে মানুষের দেহে রোগ ছড়ানোর চান্স দিতে চাই না।
রোববার দুপুরে রংপুর আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে লাইভস্টক এন্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, নিরাপদ মাংস, দুধ, ডিম পেতে হলে প্রাণিকে নিরাপদ ও রোগমুক্ত করতে হবে। আমরা যেহেতু ভ্যাকসিন আমদানি করি, তাই দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা প্রাণিদের ঠিকমত ভ্যাকসিন দিতে পারে না। আমরা সকল প্রাণিকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়ান হেলথ কনসেপ্টের আওতায় মানুষ ও প্রাণি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, যুগ্ম সচিব মোসাম্মৎ জোহরা খাতুন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরিচালক ডা. আব্দুল হাই সরকারসহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন নিয়ে উত্তেজনা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার উপস্থিতিতে কর্মশালায় শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শিত হওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। রোববার দুপুর রংপুর আরডিআরএস বেগম রোকেয়ার মিলনায়তনে লাইভস্টক এন্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আয়োজনে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিভাগীয় কর্মশালায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেন্টেশন দেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম রব্বানী।
প্রকল্পের তথ্য-চিত্র প্রদর্শনের সময় একটি স্লাইডে প্রশিক্ষণ কর্মশালার ছবিতে হলরুমে অতিথিদের মাথার উপর শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি দেখা যায়। চব্বিশের গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী পতিত সরকার প্রধানের ছবি প্রদর্শন নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবী করেন।
এ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে হতে পারে না। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হয় তবে সেটি চরম অবমাননাকর। এত মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আমলে এটি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যিনি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপন করেছেন, তিনি বলেছেন এটি ভুলক্রমে হয়েছে। তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা মনে করছি ফ্যাসিবাদ জাস্ট চলে গেছে। ফ্যাসিবাদ অনেক রকম রূপে রয়েছে, তার প্রতিফলন নানাভাবে ঘটছে। আমরা যখন বিষয়গুলো জানতে পারছি, তাক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।
জীবননগর উপজেলায় দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ ভরে আছে পাকা ধানে। বোরো ধান পেকে সোনালী রং ধারন করেছে। ধানের ফলন ভালো হলেও বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান কাটা, মাড়ায় করা ও শুকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
মাঠের অধিকাংশ ধান কাটার উপযুক্ত হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। যেসকল কৃষক ধান কেটে রেখেছেন তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়। জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নে সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে ঝড়ে পাকা ধান গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভাসছে। অনেকেই কেটে রাখা ধানের শীষের আগা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
উথলী গ্রামের ধানচাষি শুকুর আলী জানায়, দুইদিন আগে প্রচণ্ড রোদ দেখে ধান কেটে রেখেছিলাম। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবহাওয়ার খবরে জানতে পারছি এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকবে। তাই কেটে রাখা ধানের আগা কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।
সাজ্জাদ হোসেন নামের আরেক চাষি বলেন, মাঠের ধান পেকে কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারনে কাটতে পরছিনা। ধান বেশি পেকে গেলে ঝরে পড়ে যায় ও ফলন অনেক কম হয়। এদের মত অনেক চাষি বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠে পাকা ধান রেখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আকাশে মেঘ দেখা দিলে চাষিদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাজ।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানায়, এ বছর উপজেলায় মোট ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এখনো ধান কাটার কাজ পুরোদমে শুরু হয়নি। ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে কেটে ফেলার জন্য বলা হয়েছে।
তবে বৈরী আবহাওয়ার কারনে কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়ায় করতে অসুবিধা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে তথ্য দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সাতজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সর্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সদীপ সর্দার (৫০), পূর্ণিমা সর্দার (৪৮), নিলয় সর্দার (১৭), দীপন সর্দার (২৬), চুমকি সর্দার (৩৪), সুজন সর্দার (৩৭) ও খোকন সর্দার (৩৭)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জায়গা-সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সদীপ সর্দারের সঙ্গে তার ভাই সুধীর সর্দারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুধীর সর্দার, তার স্ত্রী পলি সর্দার ও ভাতিজা রিপন সর্দার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের আহত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুপন সর্দার বলেন, ‘এক ভাইয়ের ঘরের চালা থেকে বৃষ্টির পানি অন্য ভাইয়ের ঘরে পড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিপ্লব চৌধুরী জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোতালেব হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোতালেব ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে।
নিহতের সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মুঠোফোন অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের আগে নিজের চাষকৃত ধান ক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন মোতালেব হোসেন। পরে ধান ক্ষেতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান তার স্বজনরা। রাত ৮টা ২৪ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
নিহতের ছেলে আলী হোসেন জানান, বাবা প্রতিদিনই জমি দেখতে যেতেন। এদিনও গিয়েছিলেন; কিন্তু ফিরেছেন লাশ হয়ে। ঘাতকরা আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলেও তার কোমরে থাকা কাপড়ের থলেতে রাখা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকা এবং মোবাইল ফোনটি নেয়নি। সবকিছু মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত এবং এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ত্রিশাল থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ জানান, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলী হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ‘নতুন কুঁড়ি’ খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় দেবীগঞ্জ মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা এতে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বীন জিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনী বসুনিয়া, দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবির রাজু বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ক্রীড়াবিদরা।
আয়োজকরা জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও তাদের সুস্থ ধারায় গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এক রোমহর্ষক ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হলেন শত শত যাত্রী। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া সন্তানকে বাঁচাতে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবা। ট্রেনের আটটি বগি তাদের ওপর দিয়ে চলে গেলেও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছেন বাবা ও শিশু সন্তান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ১নং প্ল্যাটফর্মে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি গ্রামের ওরিয়াদর বাজারে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা অভিমুখী ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে যাত্রাবিরতি শেষে ছেড়ে দিচ্ছিল। এ সময় এক দম্পতি তাদের এক বছরের শিশু সন্তান নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন। নামার মুহূর্তে বাবার হাত ফসকে শিশুটি ট্রেনের নিচে পড়ে যায়। চোখের সামনে সন্তান ট্রেনের নিচে পড়ে গেলে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বাবাও ট্রেন থেকে নিচে লাফ দেন। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি প্ল্যাটফর্মের পাশঘেঁষে নিথর হয়ে শুয়ে পড়েন। একের পর এক ট্রেনের আটটি বগি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্লাটফর্মে থাকা যাত্রীরা তখন ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন।
ট্রেনটি পুরোপুরি চলে যাওয়ার পর উপস্থিত জনতা দেখতে পান, বাবা ও ছেলে দুজনই অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছেন। শরীরে সামান্য আঁচড় লাগলেও বড় কোনো আঘাত ছাড়াই তারা বেঁচে ফেরেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা একে সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক দান বলে অভিহিত করেছেন।
উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম বাবা-ছেলে কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু ট্রেন যাওয়ার পর যখন দেখলাম তারা নড়াচড়া করছেন, বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এটি সত্যি মিরাকল!’
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনত দণ্ডনীয়। সামান্য অসচেতনতা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারত।’ যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ, নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং রেললাইন পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহার করার জন্য বলেন তিনি।
ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক আমতলীর কল্যাণপুর নামক স্থানে একটি অজ্ঞাত বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. নুরুল আমিন (৪৭) নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে।
নিহত বিমান বাহিনীর সদস্য মোটরসাইকেল আরোহী নুরুল আমিন বরগুনা সদর উপজেলার জেলখানা এলাকার আবুল কালাম মেলকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নিহত নুরুল আমিন নিজ মোটরসাইকেলযোগে বরগুনা থেকে কলাপাড়া যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে সন্ধ্যায় ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক আমতলীর কল্যাণপুর নামক স্থানে পৌঁছালে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত পরিচয় বাস তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তখন বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা সড়কে মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় নিহত নুরুল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’
জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এর আগেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছিল। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সেটিও অচল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্ধকারে ঢেকে যায়। এ সময় চিকিৎসকেরা নিজেদের মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দেন। জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয় মোবাইলের আলোয়। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে নোট লেখার কাজেও একই আলো ব্যবহার করতে হয়।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে ভোগান্তি।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বদিউল আলম নামের এক রোগী বলেন, এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ এক বড় সমস্যা। জেনারেটর নেই, আইপিএসও নষ্ট থাকে। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং। বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে হাসপাতালে রাউন্ড দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও রোগীদের সেবা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালেই ৫৮ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটে এসব রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হাম রোগীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সদরসহ ৫টি সরকারি হাসপাতালে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৩ মাসে ৪১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া রোগীদের মধ্যে ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ১৯ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়। এছাড়া রামগঞ্জে হামে আক্রান্ত এক শিশু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এদিকে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সদরে হাসপাতালে ৫৮ জন, কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, রায়পুরে ৭ জনও রামগতিতে ২ জন চিকিৎসাধীন আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একজন রোগীরও হাম শনাক্ত হয়নি।
অন্যদিকে সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা হলেও প্রায় ৩০০-৩৫০ রোগী ভর্তি থাকে সবসময়। বর্তমানে অতি সংক্রামক হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন রোগীই ভর্তি রয়েছে। শয্যা সংকটে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে পাতানো বিছানায়।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। কোনো শিশুর ৫-৭ দিন ধরে জ্বর, শরীরে চুলকানি, ঘন ঘন কাশি ও বমিভাব দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। হাম রোগে সাধারণত ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হলেও বড় শিশুরাও ঝুঁকির বাইরে নয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, এ মুহূর্তে হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যে রোগীগুলো ভর্তি হয়েছে, তারা মোটামুটি আতঙ্ক মুক্ত। তাদের চিকিৎসা চলছে।
১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। টিকাদান কেন্দ্রে টিকার কার্যক্রম চলছে। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শহীন বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সদরসহ আমাদের ৪টি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনেরও হাম শনাক্ত হয়নি।
কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও ভাসমান ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা, আবার অনেক জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যে ধান কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
নদী ভরাট ও উজানের ঢলের কারণে সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। হাঁটু থেকে কোমর পানিতে নেমে কষ্ট করে ধান কাটলেও অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন। পানির কারণে বাড়তি শ্রমিক লাগায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের কলিমপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে কলিমপুর হাওরের বেশিরভাগ জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হার্ভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে বাড়তি খরচে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, উজানের পানি নামলেই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি দুটোই বেড়ে যায়।
কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, ফসল ভালো হয়েছিল, কিন্তু সব পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করবো, সেই চিন্তায় আছি। সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের সঙ্গে এখন বাড়তি কাটার ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাজারে ভেজা ধানের চাহিদাও কম।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল ভূইয়ার অভিযোগ, খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগেই প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কৃষক রতন মিয়া বলেন, ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে চাষ করেছি, কিন্তু ফসল কাটতেই পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক এংরাজ মিয়া বলেন, পুরো ফসল পানির নিচে। পচে যাওয়া ধানও কেটে নিতে হচ্ছে, না হলে একেবারেই কিছু থাকত না।
ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের ছিলনী গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, তাদের পাশ্ববর্তী এলাকার কাকটেংগুর হাওরেও নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক জমির ধান এখনো কাটা হয়নি, ফলে এসব ফসল নিয়ে কৃষকদের আশা প্রায় শেষ।
কাকটেংগুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, সারাবছরের খোরাকের জন্য এক একর জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব তলিয়ে গেছে। এখন ঋণের বোঝা আর সংসারের চিন্তায় দিশেহারা তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কর্তনে ধীরগতি নেমে এসেছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ৯ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭৬টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে তিন শিশুই ঢাকায় মারা গেছে।
আর হাম উপসর্গে বরিশালে দুটি, ঢাকায় দুটি, রাজশাহীতে একটি ও সিলেটে একটি শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৪৭ শিশু।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ৯৯১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৪ হাজার ৮৫৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বৌদ্ধ সন্যাসী রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি এক্স নোয়াহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ির যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্যোগে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি বা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার সময় মাইক্রোবাসটি অতিরিক্ত গতির কারণে একটি গাড়ি খাদে গিয়ে পড়ে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে ও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পাবনায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাবনা সদর থানা এলাকায় এক সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রেজিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, তিন বছরের ওই নাবালিকা শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযোগটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করে (মামলা নং-৫৪, তারিখ: ২৮/০৪/২০২৬)। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণের কাজ চলমান রয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে জানান, নারীদের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাবনা জেলা পুলিশ অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা বদ্ধপরিকর।
ভিকটিম শিশুর পরিবার এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরিক্ষার্থী বহনকারী সিএনজির সঙ্গে ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন এসএসসি পরিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পৌঁনে ৯টার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, জাহিদ হাসান(১৬), আবির(১৬), সজীব(১৬), আহাদ(১৬) ও পাপ্পু(১৬)। তারা সবাই উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকার হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান এসএসসি পরিক্ষার্থী।
হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান সজল বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমার স্কুলের দুজন শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন পরিক্ষায় বসেছে।
ধনাই বেপারী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুপুর ১২ টার একটু আগে দুজন আহত পরিক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খুবই মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং দুজন পরীক্ষাতে বসেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের সার্বিক চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।