বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
১৬ মাঘ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গলে হাইব্রিড লাউ ‘ডায়না’ চাষে চমক, কৃষকের মুখে হাসি

শ্রীমঙ্গলে হাইব্রিড লাউ ‘ডায়না’। ছবি: দৈনিক বাংলা
রাজেশ ভৌমিক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশিত
রাজেশ ভৌমিক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:৫২

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ছাত্রাবট গ্রামে হাইব্রিড লাউ ‘ডায়না’ চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক মো. জাহাঙ্গীর মিয়া, যা এলাকায় সাড়া ফেলেছে। লালতীর সীড লিমিটেডের অধিক ফলনশীল ও আকর্ষণীয় এই লাউ জাতটি চাষ করে তিনি অল্প সময়ে লাভবান হয়েছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকসহ অনেক কৃষক ‘ডায়না’ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

জাহাঙ্গীর মিয়া ও কৃষক গনি মিয়া যৌথভাবে প্রথমবারের মতো ৫৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড লাউ ‘ডায়না’ চাষ করেন। বর্তমানে তাদের মাঠে সারি সারি গাছে ঝুলছে অগণিত লাউ। চারা লাগানোর মাত্র ৫০-৫৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রতিটি লাউয়ের গড় ওজন ২থেকে ৩কেজি। এ জাতের লাউ টানা তিন মাস ধরে ফল দিতে সক্ষম।

চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে মাঠ থেকে লাউ বিক্রি করা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। প্রথম পর্যায়ে তারা প্রায় ৫২ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। কৃষকরা আশা করছেন, এই মৌসুমে লাখ টাকার বেশি আয় করতে সক্ষম হবেন।

সফল কৃষক গনি মিয়া বলেন, ‘লাউ চাষে তেমন খরচ নেই। অন্য ফসলের তুলনায় লাউ চাষে খরচ কম লাগে। বর্তমানে বাজারে লাউয়ের চাহিদা অনেক। স্থানীয় বাজার ছাড়াও ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকে লাউ কিনে নিচ্ছেন। উৎপাদন শেষ হলে আমরা টমেটো ও শিম চাষ করবো। সঠিক যত্নের মাধ্যমে ভালো লাভবান হওয়া সম্ভব।’

স্থানীয় কৃষক বিকাশ সরকার জানান, ‘জাহাঙ্গীর মিয়া ও গনি মিয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চাষে সফল হয়েছেন। তাদের সাফল্য দেখে আমাদেরও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন এই জাতের লাউ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

হাইব্রিড লাউ ‘ডায়না’ বীজের উৎস প্রতিষ্ঠান লালতীর সিড লিমিটেড। ডিভিশন ম্যানেজার তাপস চক্রবর্তী বলেন, ‘হাইব্রিড ‘ডায়না’ অধিক ফলনশীল, আকর্ষণীয় এবং বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর জন্য উপযোগী। এটি বোতল আকৃতির ও উজ্জ্বল সবুজ রঙের। উচ্চ তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা সহনশীল, লম্বায় ৩০-৩৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। কৃষকদের জন্য এটি অত্যন্ত লাভজনক এবং সারা বছর চাষ করা যায়। তিনি আরো বলেন, জাহাঙ্গীর ও গনি মিয়ার সফলতা দেখেই অন্যান্য কৃষকরাও অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে লাউ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে শ্রীমঙ্গলসহ সারাদেশে সবজি চাষের প্রসার ঘটবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জ্বল সূত্রধর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় ৫২ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করা হচ্ছে। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি লাউ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা নিয়মিত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করছি এবং কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, নতুন জাতের প্রচার ও সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছি। ধানচাষের তুলনায় খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা লাউ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর ফটকের সামনে বেলা সাড়ে ১১টায় এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টার প্ল্যান’, ‘আবু সাইদ, মুগ্ধ—শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব—জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘চাঁদাবাজের কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন, খুনি তারেক জবাব দে’, ‘তারেক তোমার অনেক গুণ, আমার ভাইরে করও খুন।’

সমাবেশে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শেরপুরে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একদিকে তারা সুশাসনের কথা বলছে, অন্যদিকে নির্বাচনী পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, কিন্তু বাস্তবে তারা মানুষ খুন করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সব ধরনের হত্যার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা বিএনপিকে সবচেয়ে মজলুম মনে করেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম তাদের হাত ধরে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে কোনো নির্যাতন থাকবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমরা বলতে চাই বিএনপিকে এখানেই থামতে হবে। তারেক রহমান কী প্ল্যান নিয়ে আসছেন আমরা জানি না, তবে যদি সেই প্ল্যান মানুষ খুনের হয়, তাহলে সেই পথ থেকে সরে আসুন। ৫ আগস্ট আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিলাম, এবার যদি আবার নামতে বাধ্য হোই, তাহলে আপনার অবস্থান হবে লন্ডনে।’


রাউজানে নলকূপের ৩০ ফুট গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু

* সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর * ৪ বছরেও নলকূপের গর্ত ঢাকেনি কর্তৃপক্ষ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তের ৩০ ফুট নিচে পড়ে মিসবাহ নামে ৪ বছর বয়সি এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক হাবিবুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর বড়ুয়াপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।

চার বছর আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নলকূপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া গর্ত ঢেকে না রাখার অবহেলার কারণে প্রাণ হারায় শিশুটি।

স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নলকূপের গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। অসাবধানতাবশত শিশুটি সেখানে পড়ে যায় এবং গভীরে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। তবে সে অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। খননযন্ত্র (ভেকু) ও বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’0 স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া বসতঘরের মাত্র ২০-৩০ ফুট দূরত্বে সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এলাকাটি টিলাভূমি হওয়ায় গভীর গর্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করে। তবে অনেক চেষ্টা করেও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।’ রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, প্রথমে রাউজান ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়। শিশুটি প্রায় ১২ ফুট গভীরে আটকে ছিল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নলকূপের গর্ত খোলা রাখার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় দুই বছরের সাজিদ।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা ৩১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ৪৫ ফুট মাটি খুঁড়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। দেড় মাস পরই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল চট্টগ্রামের রাউজানে।


সারিয়াকান্দিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৫
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থী নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর দায়ে তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিনূর রহমান ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ সারিয়াকান্দি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম। এসময় সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর৷ মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম মন্ডল, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস সরকারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী জনসভা, মাইকিং, লিফলেট এবং ডিজিটাল প্যানায় নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে প্রচার করছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলা বা বগুড়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় তার কোনো নাম নেই। এমনকি সরকারি কোনো গেজেট বা দালিলিক নথিতেও তার বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী প্রচারণায় এমন অসত্য তথ্য ব্যবহার করা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, নিজেকে ভুয়া পরিচয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি ভোটারদের আবেগ ও সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নির্বাচনী এলাকায় বিতরণকৃত লিফলেট ও প্যানায় তার নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পদবী ব্যবহার করায় সাধারণ ভোটার ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই এমন গৌরবোজ্জ্বল পদবী ব্যবহার করা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবমাননার শামিল।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল না থাকলে এবং প্রচারণায় অসত্য তথ্য দিলে কমিশনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

​এই বিষয়ে অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এ্যাড. শাহিন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি সুবিধা নিতে গ্যাজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে, এর কোনো বাধ্যকতা নেই।


হরিণাকুণ্ডুতে মাদক-দেশীয় অস্ত্রসহ নারী গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে হরিণাকুন্ড পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত তাছলিমা আক্তার ওই গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী।

র‌্যাব-৬ এর কম্পানী কমান্ডার এএসপি মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারী হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। হোসেন আলী ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা-সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার কে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬।

র‌্যাবের কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। সে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। পলতাক আসামীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, র‌্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতির ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি বন্দরে ৮ ঘণ্টার অপারেশনাল কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ নেতৃবৃন্দ। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করা করা হবে।

সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই কঠোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। বন্দর শ্রমিকদের দাবি, এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি অত্যন্ত কৌশলগত ও লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। দেশীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এই টার্মিনালের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলে বন্দরের বিশাল অংকের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ নেতা মো. হুমায়ুন কবীর এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, এনসিটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা সাধারণ শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শ্রমিকদের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা এই কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৩১ জানুয়ারির কর্মসূচির পর যদি দাবি মানা না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এই কর্মবিরতির ঘোষণার ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার খালাস ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের স্থবিরতা নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এক দিনের ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিও বন্দরের জট কমাতে হিমশিম খাওয়ার কারণ হতে পারে। বন্দরের নিয়মিত ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান কামনা করেছেন, যাতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। শ্রমিক নেতারা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।


ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: এবার শিক্ষক সমিতির পদ গেল বহিষ্কৃত জামায়াত নেতার

ছবি: বহিষ্কৃত শামীম আহসান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করা জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা শামীম আহসানকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। পাথরঘাটা উপজেলা কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শামীম বিটিএর পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক পদে ছিলেন।
এর আগে বরগুনা জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি ও সদস্য পদ (রুকন) স্থগিত করে তাকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিটিএর পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম করিব গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ডাকসু নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষর্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে মানসিকভাবে আঘাত করেছেন। তাই মঙ্গলবার পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখা বিটিএ কমিটি সভা করে তাকে উপজেলা কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা বিটিএ মঙ্গলবারই তার অব্যাহতিপত্র ইস্যু করেছে।
শনিবার রাতে শামীম আহসান এক নির্বাচনি জনসভায় বলেন, ‘আমরা দেখছি ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি এটা উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’


কাপাসিয়ার ইকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণ, বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন পরিবেশে দুদিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী ফ ম মমতাজ উদ্দীন রেনু।

অনুষ্ঠিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী পর্বে আনুষ্ঠানিকতার সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. রাশেদুল হক।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ও প্রাইভেট হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মো. শহীদুল আমিন, স্থানীয় বিশিষ্ট্য সমাজসেবক তারা মিয়া, আলতাফ হোসেন, জাহিদুল হক, রিটু প্রমুখ। এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা, শিক্ষকরা, অভিভাবক ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি উৎসাহমূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই শিক্ষা হতে হবে সুশিক্ষা। শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ ও শরীর গঠনের জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের শিক্ষার পরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকে ধারণ করে। সবাইকে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে উঠার জন্য শৃঙ্খলা, সময়জ্ঞান ও নিয়মানুবর্তিতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীরা সজ্জিত মাঠে সুশৃঙ্খল সমাবেশে মিলিত হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করে। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত অতিথিদের সাথে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া বিশেষ ভাবে মশাল প্রজ্বলন করা হয়। প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার সমাপনী দিনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।


ইবিতে নিয়োগ ঠেকাতে বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

নিয়োগ বোর্ড আটকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তাকে তুলে নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়।

ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতি বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি বাইকে তুলে নিতে দেখা যায়। পরে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড ছিল। বিভাগের সভাপতি এ উদ্দেশে সকাল আটটার দিকে তার ঝিনাইদহের বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

এ দিকে সকাল ১০ টায় নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড এর সময় নির্ধারিত থাকলেও ১ ঘণ্টা পরে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। এই বোর্ডে ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দুপুরের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অপহরণকৃত ওই শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি। তবে ওই শিক্ষককে বাড়িতে পৌছে দিছে বলে দাবি সাহেদ আহম্মেদের।

শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কল দিচ্ছিলো। তিনি অসুস্থ থাকাতে প্রথমে যেতে পারবেন না বলে ওনাদের বলেন। কিন্তু ওনাকে বারবার কল দেওয়াতে অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে। তিনি যখন বাসার নিচে নামে তখন একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শুনি। তখন ভাবছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠিয়েছে তাকে নিতে। কারণ মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যিনি কল দিছিলেন তিনি গাড়ি পাঠাচ্ছেন এমন বলেন। কিন্তু এর প্রায় আধাঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়ি চালক হাসমত নামের একজন কল দিয়ে তার অবস্থান জানতে চান। তিনি বলেন, তিনি নাকি তাকে (জুয়েল) নিতে আসছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে ট্যুরিজমের সভাপতিকে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড করাচ্ছে, এর আগে তাকে প্রক্টরের মাধ্যমে কিছু শিক্ষার্থীরা গিয়ে হুমকিও দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করছে। জুয়েল (স্যার) নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাই আমাকে কল দিলে নিরাপত্তার জন্য নিয়ে আসলাম। পরে বাড়িতে দিয়ে আসলাম।’

এদিকে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘প্রিয় শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক ভাইয়ের আমার অবস্থান সুস্পষ্ট। গতকাল বুধবার সকালে THM বিভাগের সন্মানিত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় আমাকে সকালে ফোন দিয়েছিল এবং আমি নিজে সশরীরে গিয়ে তাকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোট ভাই। উল্লেখ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রেজিস্ট্রার ব্যক্তিগতভাবে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে এবং গত সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে THM বিভাগে গুটিকয়েক লোক পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ৪ জন শিক্ষককে জোর পূর্বক মারধর ও হুমকি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং করেছে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ৪ জন শিক্ষককে প্রাননাশের হুমকি এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জোরপূর্বক ডিলিট করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এবং গতকাল বুধবার প্রক্টর তাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘সকালে আমি কল দিয়েছিলাম, বলল- অসুস্থ। এখানে হুমকি দেওয়া হয়নি। অসুস্থ হলে আগে জানাবে এটা তো নিয়ম।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘ওনি (সভাপতি) সকালেই জানালো অসুস্থতার কারণে আসতে পারবেন না। যদি নিরাপত্তার প্রয়োজন হতো, আমরা নিরাপত্তা দিতাম। অপহরণের বিষয়ে সে এখনও অভিযোগ করেননি। এদিকে নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।’


নির্ধারিত কসাইখানা না থাকায় ভেড়ামারাতে যত্রতত্র পশু জবাই

ভেড়ামারা নির্ধারিত কসাইখানা না থাকায় যত্রতত্র পশু জবাই করছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা পৌরসভার নির্ধারিত কোন কসাইখানা নেই। যত্রতত্র জায়গায় পশু জবাই করায় বজ্রের দুর্গন্ধে হুমকীর মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। সচেতন মহল জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের নিকট নির্ধারিত জায়গায় কসাইখানা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি কসাইখানা বা আধুনিক জবাইখানা (slaughterhouse) না থাকার কারণে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এতে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মানুষের খাদ্যচক্রে মিশছে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এছাড়াও, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পশু জবাই ও মাংস পরীক্ষা নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করে ভেড়ামারা বিভিন্ন বাজারের যত্রতত্র পশু জবাই করে পরিবেশ নষ্ট করছেন। পশু জবাইয়ের কোন নিয়মনীতি না মেনে পৌর এলাকায় যত্রতত্র পশু জবাই ও মাংস বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারজানা জানান, পৌরসভার মধ্যে একটা কসাইখানা খুব জরুরি। নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকলে এতে পশু জবাই এর আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। যত্রতত্র পশু জবাই করা ঠিক নয়। এতে পরিবশে নষ্ট হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন।

এ ব্যাপারে মাংস ব্যাবসায়ীরাসহ সচেতন মহল জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের নিকট নির্ধারিত কসাইখানা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পশু জবাই ও মাংস পরীক্ষা নীতিমালায় বলা হয়েছে, জবাই খানায় পশু রাখার শেড থাকতে হবে। ঝুলিয়ে পশুর চামড়া ছাড়াতে হবে যাতে মাটি স্পর্শ করতে না পারে। কমপক্ষে তিনদিন পশু রেখে ডাক্তারি পরীক্ষায় সার্টিফিকেট মিললেই জবাইয়ের জন্য নেওয়া হবে। চাকু দিয়ে চামড়া তোলা যাবে না, পুলিং চেইন ব্যবহার করতে হবে। জবাই করার পর মাংস কুলিং অবস্থায় ৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা রাখতে হবে যাতে মাংসের ওপর চর্বির কোটিং পড়ে। এতে মাংস জীবাণুমুক্ত থাকবে।

প্রসেসিং রুমে প্যাকেটিং করার আগে ভেটেরিনারি সার্জন পয়জন ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য পরীক্ষার পর বাজারজাতের সার্টিফিকেট দেবেন। বাজারজাতের উপযুক্ত হলে সিলম্যান গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার জন্য আলাদা আলাদা সিল দেওয়া হবে। এরপর সরকারি চার্জ হিসেবে টাকা নিবেন।

জবাইখানায় ৮ ঘণ্টা হিসেবে প্রতি শিফটে একজন ভেটেরিনারি ডাক্তার, হুজুর, পরিদর্শক, সিলম্যান এবং ক্লিনার থাকবে। এভাবে পশু জবাই হলেই কেবল স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাওয়া যাবে। সরকার অনুমোদিত জবাইখানার বাইরে এবং সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পশু জবাই করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিধান রেখে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১১ পাস হয়েছে।


নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা উদ্যোক্তা সহায়তা সেল গঠন: ফরিদপুরে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

নারী উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে; এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম মুখ চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি বলেছেন, তারুণ্যের শক্তি ও নারীর সৃজনশীল উদ্যোগ একত্রিত হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বহুগুণে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর ময়েজ মঞ্জিলে ফরিদপুরে নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এসব কথা বলেন।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। সংসার সামলানোর পাশাপাশি তারা নিজ নিজ উদ্যোগে ব্যবসা গড়ে তুলছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে—নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ জানান, ভবিষ্যতে তিনি নির্বাচিত হলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা উদ্যোক্তা সহায়তা সেল গঠন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পণ্য বিপণনে সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বলের নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি জোড় দেন।

গেট রেডি বুটিক শপের স্বত্বাধিকারী পাপড়ি আক্তার বৃষ্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সেজ কন্যা চৌধুরী সাদাব ইউসুফ, চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কনিষ্ঠ পুত্র আরশিয়ান আহমেদ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, নন্দিতা সুরক্ষার তাহিয়াতুল জান্নাত রেমী, মায়ের চোয়া রান্না ঘরের লাকি ইসলাম, হলি ডে মার্কেট ফরিদপুরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লুবাবা জান্নাত, বেসা বুটিকসের মিতা ইসলাম, লিজা মেকওভার বিউটি পার্লারের লিজা আক্তারসহ ফরিদপুর জেলার কয়েকশ নারী উদ্যক্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মীরসরাইয়ে ট্রাক চাপায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মীরসরাইয়ে বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক চাপায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও ৫ জন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মীরসরাইয়ে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা হয়।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে হাত ধরাধরি করে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল তিন বোন। দূরের পথ পাড়ি দিয়ে মাদ্রাসার ফটকের সামনেও চলে এসেছিল তারা। তখনই হঠাৎ পাশের মহাসড়ক থেকে ধেয়ে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাক চাপা দেল তাদের। ঘটনাস্থলেই তিন বোনের একজনের মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত হয় বাকি দুই বোনসহ আরও পাঁচজন। তাদের পাশে থাকা পথচারী এক তরুণও মারা যান ঘটনাস্থলেই। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি তার নাম ও পরিচয়।

দুর্ঘটনায় বড়তাকিয়া জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী খাদিজা মাশমুম (১৫) ও এক পথচারী তরুণের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় খাদিজার বোন জাহেদিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী তোফিয়া তাবাসসুম (১৩) ও সপ্তম শ্রেণির উম্মে হাবিবা (১১) এবং পথচারী আবুল খায়ের (৪০) ও নাম না জানা আরও দুই ব্যক্তি। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির অবস্থান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের ঠিক পাশেই। তিন বোন মহাসড়ক পার হয়ে মাদ্রাসার ফটকের সামনে পৌঁছে যায় ঘটনার ঠিক আগে। যে স্থানে ট্রাকটি তাদের চাপা দেয়, তার পাশেই দাঁড়ানো ছিল সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা। গোখাদ্যবোঝাই দ্রুতগতির ট্রাকটি হঠাৎ এসে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সেটি ছিটকে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এরপর ট্রাকটি পাশে থাকা তিন বোন আর কয়েকজন পথচারীকেও চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি পুকুরে গিয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বড়তাকিয়া জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দ শুনে তিনি পেছনে ফিরে তাকান। তখন দেখেন, সড়ক থেকে ছিটকে অটোরিকশাটি পুকুরে গিয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা পড়ে ছিল সড়কের ওপর।’

দুর্ঘটনার শিকার তিন বোন উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পোলমোগরা গ্রামের নাছির উদ্দিনের মেয়ে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নাছির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামবাসী ভিড় করেছেন বাড়ির সামনে। উঠানের এক পাশে পর্দা টানিয়ে ভেতরে রাখা হয়েছে খাদিজার লাশ। সেখানে আহাজারি করছিলেন আত্মীয়-স্বজনরা। তিন মেয়ের শোকার্ত বাবা নাছির উদ্দিন নির্বাক বসেছিলেন। তার কথা বলার শক্তি ছিল না। কয়েকজন স্বজন জানান, নাছিরের তিন মেয়ে। সবাই একই মাদ্রাসায় পড়ত। বাড়ি থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে মাদ্রাসায় হেঁটে যেত তিন বোন। কেউ কখনো ভাবেননি এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘তিনি নির্বাচনী কাজে মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে দুর্ঘটনা দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে নামেন। এখন পর্যন্ত তারা দুজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে পেরেছেন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’


শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে: শিল্প সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, দুধ মল্লিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আব্দুল গনি একাডেমি, কালেক্টরেট কলেজিয়েট স্কুলসহ একযোগে পাঁচটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে নবীনবরণ, পুরস্কার বিতরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল কাদের, মাগুরা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম শফিক প্রমুখ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বরণ, পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


নন্দীগ্রামে মাটি কাটা ও বিক্রয়ের দায়ে এস্কেভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে অবৈধভাবে মাটি কাটা, মাটি বিক্রয় ও জমি ভরাটের দায়ে একটি মালিকবিহীন এস্কেভেটরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে এস্কেভেটরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামাদি জব্দ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রিধইল গ্রামে অনুমোদন ছাড়াই মাটি কাটা, মাটি বিক্রয় ও জমি ভরাট করা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে এস্কেভেটর পাওয়া গেলেও এর মালিক বা চালককে পাওয়া যায়নি। কাউকে না পেয়ে এস্কেভেটরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামাদি জব্দ করে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার বলেন, ‘আইন অমান্য করে অবৈধভাবে মাটি কর্তন, মাটি বিক্রয় ও জমি ভরাট করা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মালিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এস্কেভেটরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামাদি জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কর্তন, মাটি বিক্রয় ও জমি ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


banner close