রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:৫৪

আজ রোববার থেকে ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে উলুধ্বনিতে ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।
এদিকে সারাদেশের ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন প্রশাসন। গত বছর সারাদেশের ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৮৯৪টি দুর্গাপূজা বেশি হচ্ছে।
দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আহসান হাবিবুল আলম, চট্টগ্রাম: ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে উলুধ্বনিতে ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ থেকে। ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি, শাঁখের আওয়াজ আর ঢাকের তালে মুখরিত হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। গত ২১ সেপ্টেম্বর রোববার ছিল শুভ মহালয়া। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের শুরু হয়। পঞ্চমীর দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল দেবীর বরণ ও চণ্ডীপাঠ। দুর্গাতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আজ থেকে ষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হলো মূল উৎসব। গত বছরের চেয়ে ১৯টি বেড়ে চট্টগ্রাম জেলায় ও নগরে এবার সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সংখ্যা ১ হাজার ৯০৬টি। যার মধ্যে জেলায় ১ হাজার ৬১৪টি ও নগরীতে ২৯২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দুর্গাপূজা হচ্ছে বেশ কিছু পারিবারিক মণ্ডপেও।
দুর্গাপূজা উদযাপনকে নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি। চট্টগ্রামের প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বিবেচনায় এবার পূজামণ্ডপকে তিনভাগে ভাগ করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪০টি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বাকিগুলোতেও কঠোর নজরদারি রাখা হবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৩২০-১০৮৩৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক। পূজা উদযাপন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় মজুমদার দোলন বলেন, ‘এবার জেলায় সর্বজনীন মণ্ডপের সংখ্যা ১৯টি বেড়ে ১ হাজার ৬১৪টি হয়েছে। পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি আমাদের সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, সুন্দরভাবে পূজা সম্পন্ন হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ জানান, এবার সর্বজনীন পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৯২টি। আমরা ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, সিএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিং করেছি। সেখানে সুন্দরভাবে দুর্গোৎসব ও প্রতিমা বিসর্জনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি হবে।
পূজার কেনাকাটায় জমজমাট চট্টগ্রামের মার্কেট: দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেনাকাটায় জমে উঠেছে চট্টগ্রামে চট্টগ্রামের মার্কেটগুলো। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন বিপণিবিতান, বাজার ও শপিংমলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পণ্যের দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম গত বছরের মতোই রয়েছে। কিছু কিছু পণ্যে দাম বেড়েছে। অনেকে এবার ভারতীয় কাপড় চাইছেন, যার দাম স্থানীয় কাপড়ের চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
পূজার কেনাকাটায় জামা-কাপড় ও অলংকারে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। কিশোরী ও তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও গয়না। পুরুষদের পাঞ্জাবি, শার্ট, জিন্স ও ফ্যাশনেবল জুতো বিক্রি হচ্ছে ব্যাপকহারে। নগরীর নিউমার্কেট, টেরিবাজার, মিমি সুপার মার্কেট, আফমী প্লাজা, সানমার ওশান সিটি ও রিয়াজ উদ্দিন বাজারে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পূজা উপলক্ষে বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জানা গেছে, পূজামণ্ডপগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মণ্ডপগুলোর খোঁজ-খবর নিচ্ছেন পুলিশ। এছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে কাজ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে প্রতিদিন একজন করে সরকারি কর্মকর্তা এসব মণ্ডপগুলো মনিটরিং করার কথা রয়েছে।
এ বছর ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ৬৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা পালনের জন্য পুলিশ মণ্ডপগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তরে ভাগ করে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে রেখেছেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সার্বক্ষণিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশের মোবাইল টিম আছে তারাও নিয়মিত তদারকি করবেন। একই সাথে প্রতিটি মণ্ডপে ৬ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।


শ্রী অভিলাস চন্দ্র পাল বলেন, এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রসাশন আমাদের মুহুর্মুহু খবর নিচ্ছেন। অতীতের তুলনায় এ বছর প্রশাসন সর্বোচ্চ তদারকি করছেন।
বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি সঞ্জিব জানান, বরাবরের চেয়ে এবার আমাদের বেশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ২৯ তারিখ থেকে পূজার মূল কার্যক্রম শুরু হবে। পূজার ৪ দিন আগে থেকেই এবার আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের একটি টিম ৩ ঘণ্টা পরপর মণ্ডপগুলোর খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। প্রশাসনের এমন নিরাপত্তা কার্যক্রমে আমরা তাদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আমাদের এই তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ যদি অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা করে, তাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাজেই কোনো প্রকার হুমকি নেই। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের ব্যাপারেও আশ্বস্ত করছেন।
রাঙামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। আজ রোববার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক পূজা। এবারের পূজার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।


উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী মাতৃ মন্দিরের দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিশু সাহা বলেন, ‘আমাদের প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে মঞ্চের সাজসজ্জা চলছে। আমরা সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি, যেন সুষ্ঠুভাবে এ উৎসব সম্পন্ন করতে পারি।’
অন্যদিকে, শহরের কাঁঠালতলী সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামাতৃ মন্দির উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পুলক শীল বলেন, ‘রাঙামাটির প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন- এখানকার পাহাড়ি-বাঙালি সকলে মিলেমিশে যেন উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারি।’
রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৪৫টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন কান্তি মহাজন বলেন,
‘বিগত বছরের মতো এবার পূজার সাবিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মন্দিরগুলো। এবার রাঙামাটিতে ৪৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই আমাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ জন্য জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন,
‘দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভির আওতায় আনা হবে। থাকবে স্বেচ্ছাসেবক টিম, ২৪ ঘণ্টার মনিটরিংয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম, এবং প্রতিটি মন্দিরে জরুরি ফোন নম্বর ব্যানারে টাঙানো হবে।’
প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সবার সহযোগিতায় দুর্গোৎসবের মাধ্যমে রাঙামাটিতে সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতি ছড়িয়ে পড়বে- এমন প্রত্যাশা করছেন সবাই।
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৃৎশিল্পীরা শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। মনের মাধুরী মিশিয়ে ভালোবাসার আঁচড়ে চলছে দিন-রাত রং-তুলি ও সাজসজ্জার কাজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার শারদীয় দুর্গোৎস আগমনী বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে। দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে উপজেলার হিন্দু এলাকায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা। এবার কেশবপুর উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। উপজেলায় জমজমাট শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনে দেখা যায় মৃৎশিল্পীরা কাদামাটি, খড়কাঠ সংগ্রহের কাজ শেষ করে বিভিন্ন রং-তুলির আঁচড়ে, আবার কোথাও শাড়ি ও কাপড়, স্বর্ণালংকার এ সাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এই কার্যক্রম। এখন শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এই উৎসবকে ঘিরে মৃৎশিল্পীদের মাঝে দেখা দিয়েছে কর্মব্যস্ততা। দিন-রাত কাজ করে শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। আজ রোববার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গা উৎসব ও দেবী দুর্গাকে বরণ করার জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তী মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে বরণের প্রস্তুতি। দিনগুলোতে একের পর এক অনুষ্ঠিত হবে সপ্তমী, অষ্টমী নবমী, আর আগামী বৃহস্পতিবার ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসজনের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হবে এই মহোৎসব। প্রতিমা শিল্পী সুকুমার পাল জানান, মা দুর্গার আগমনে আমাদের কাজের চাপ বেড়েছে। যেহেতু সময় ঘনিয়ে আসছে তাই আমাদের চাপও বেশি। গত কয়েক বছর ও করোনা ভাইরাসের জন্য তেমনভাবে দুর্গাপূজার প্রতিমা বানানো হয়নি। এবার করোনার চাপ কম বলে, দেশ স্থিতিশীল থাকায় দুর্গাপূজায় ব্যাপকভাবে প্রতিমা তৈরিতে আমরা ব্যস্ত। উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা জানান, পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রতিমা কারিগরদের ব্যস্ততা। আর পূজাকে ঘিরে উপজেলায় চলছে রাত-দিন প্রতিমা সাজসজ্জার কাজ।
কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন জানান, এবার কেশবপুর উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে আলাদা আলাদা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে ও কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূজামণ্ডবে সিসিক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে পালন করা যায় সেদিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে রাতের আধারে মন্দিরের ভেতরে ঢুতে মন্দিরের কালী প্রতিমাকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর বিশ্বাসপাড়া এলাকার একটি কালীমন্দিরের কালী প্রতিমার হাত ও মাথা ভাঙচুর করে দুষ্কৃতরা।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল শনিবার সকালে কালীমন্দিরের হাত-মাথা ভাঙা দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানাই। এরপর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হয় এবং তারা বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করেন। এরপর পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মন্দির পরিদর্শন করেন।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঞ্জন বিশ্বাস জানান, আমাদের এলাকায় কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ নেই। হিন্দু-মুসলমান সবাই একত্রে মিলেমিশে বসবাস করি। কিন্তু দুর্গাপূজার আগে কে বা কারা এমন জঘন্য কাজ করল, সেটা বুঝতে পারছি না। ধারণা করা হচ্ছে, পূজায় এলাকায় অশান্তি ও জনগণের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য এমন কাজ করেছে দুষ্কৃতরা। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। দুষ্কৃতরা রাতের আঁধারে মূর্তির হাত-মাথা ভেঙে পালিয়ে গেছে। মন্দিরটি এলাকার নির্জন স্থানে অরক্ষিত ছিল ওসি জানান।
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বান্দরবানের রুমা বাজার কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে- শারদীয় দুর্গোৎসব।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার ষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভ, বিহিত পূজা, আমন্ত্রণ ও অধিবাস- এই চারটি ধাপের মাধ্যমে দেবীর মূল পূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উৎসব উপলক্ষে রঙিন আলোকসজ্জা ও নির্মাণশৈলী খচিত প্রতিমা সাজিয়ে তোলা হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণে।
মূল অনুষ্ঠান শুরু- আজ রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকতা পূজার পর থেকে শুরু হবে- ধর্মীয় কীর্তন ও নৃত্যের মাধ্যমে ভক্তিমুখর পরিবেশ।
সন্ধ্যা ৭টায় শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও মনগ্রসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আলমগীর হোসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগমে উৎসবটি প্রতি বছর ন্যায় রূপ নেয় এক মিলনমেলায়।
সূত্র জানায়, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মন্দির এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছে সিসিক্যামেরা। পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা প্রশাসন এ সময় একটি কন্ট্রোল রুমও (০১৮৯৪৯৫০৩০৪) চালু করেছে।
উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পনলাল চক্রবর্তী জানান, দুর্গোৎসব প্রাণবন্তভাবে সম্পন্ন করতে ৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ অর্থ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুদানে সংগ্রহ করা হয়েছে।
আগামী ২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। যথাযথভাবে উৎসব উদযাপনে প্রশাসনের পাশাপাশি রুমার পাহাড়ি-বাঙালি অধিবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কমিটির আহ্বায়ক পনলাল চক্রবর্তী।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আজ রবিবার থেকে আনুষ্ঠিকভাবে শুরু হয়েছে। এ কারণেই রাত জেগে রংতুলি দিয়ে প্রতীমা সাজাতে ব্যস্ত কারিগররা।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে গভীর রাতেও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউওনও মো. নাহিদুর রহমান।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের খোঁজ-খবর নিয়ে দিকনিদের্শনামূলক বিভিন্ন পরামর্শ দেন। পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সমস্যার কথা শোনেন সমাধানের ব্যবসস্থা নেন।
ইউএনও নাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলায় এবার ২৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। পূজা উদযাপনে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন কাজ করছে। আশা করি বিগত দিনের চেয়ে এবার সকলের সহযোগিতায় আরও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা আনুষ্ঠিক হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কথা সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের কাছে যেতে হবে না প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।


ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রবৃষ্টির আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে তিন বিভাগে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, এই সময়ের মধ্যে ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও ফেনী জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ দেশের কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।


লোডশেডিংয়ের কারণে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে চারগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের সব কিছু এখন উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে। একটি জামদানি শাড়ি পাওয়ারলুমে (বিদ্যুৎ চালিত তাঁত) আগে উৎপাদন খরচ হতো ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেটা ডিজেল চালিত জেনারেটরে খরচ বেড়ে চারগুণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শাড়ি তৈরিতে জ্বালানি খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা। এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে তাঁতশিল্পে হাহাকার শুরু হয়েছে। কথাগুলো এভাবেই হতাশার সুরে বলেছেন কয়েক যুগ ধরে তাঁত ব্যবসার সাথে যুক্ত খামারগ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ আফজাল হোসেন লাভলু।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে বেলকুচি উপজেলার জামান টেক্সটাইলের তাঁত কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ চালিত তাঁত পাওয়ার লুম মেশিন বন্ধ করে শ্রমিকরা বাহিরে বসে লুডু খেলছে। অনেকে মোবাইলে গান শুনছে, আবার কেউ অলস সময় কাটাচ্ছে।

শেরনগর গ্রামেন তাঁত শ্রমিক মহির উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে কাপড় তৈরি করতে পারছি না। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কাজ না থাকায় সংসারের ব্যয় নির্বাহ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দেনা করে চলতে হচ্ছে।

আরেক শ্রমিক সাজেদুল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত বন্ধ, ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না তাই মেশিন বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে লুডু খেলে সময় পার করছি।

এদিকে তাত মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও চাহিদামতো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতিদের কাপড় উৎপাদন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে না পারায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই পেশা বদল করছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁত কল। কেউ কেউ ব্যাংক লোন নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁত কুঞ্জ ব্র্যান্ডিং জেলা সিরাজগঞ্জ। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত ছিল। তবে অব্যাহত লোডশেডিং ও জালানি সংকটসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিরতা ও নীতিগত সমস্যার কারণে ইতোমধ্যে বহু তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতে কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে জ্বালানি খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার বসে থাকছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি আলহাজ আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ‘বড় বড় তাঁত কারখানা মালিকরা চড়া দামে ডিজেল কিনে চারগুণ খরচ বৃদ্ধি করে কাপড় তৈরি করছে। বাজারে টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে প্রান্তিক তাঁতিরা, যাদের ৫-১০ তাঁত তারা বিপাকে পড়ে তাঁতকল বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫ লাখের মধ্যে জেনারেটর (ডিজেল চালিত) ও হস্তচালিত দুই লাখ বাদে বাকি তাঁতকল বন্ধ হবার পথে। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। দ্রুত সকল সংকট ও সমস্যা নিরসন করতে হবে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।’


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

ঢাকায় ফেরার পথে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।

নিখোঁজ হওয়া ওই কাস্টমস কর্মকর্তার নাম বুলেট বৈরাগী (৩৫)। নিহত বুলেট কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণের উদ্দেশে চট্টগ্রামে যান। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলে কথা হয়। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনও হদিস না পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার জিডি করেছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে হকারদের জন্য দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

এছাড়া স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


গাইবান্ধার বেকরীরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়: হস্তান্তরের আগেই নান্দনিক ভবনে ফাটল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

দেখতে নান্দনিক, মনোরম পরিবেশে, অনেকখানি জায়গাজুড়ে নির্মিত ভবনটিতে আলো, হাওয়ার খেলা সারাক্ষণ। এটি নির্মাণে সরকারের ব্যয়ও হয়েছে প্রচুর। সবে হস্তান্তর করা হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার। অথচ হস্তান্তরের আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিম্নমানের কাজ দেখে শুরুতেই অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনো কর্ণপাত করেননি সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় আছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস থেকে জানা যায়, বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহিতি অ্যান্ড জেডএইচডি (জেবি)। কাজটি করেন সুন্দরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বরে কাজ শুরু হয়ে এটি শেষে করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ১৯ জুন। সেই কাজ শেষ করা হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয় চলতি মাসের ১৪ তারিখে। কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬২ টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুদৃশ্য একটি তিনতলা ভবন। ওঠানামা করার জন্য সিঁড়ি আছে দুটি। একটি র‍্যাম্প, আরেকটি স্বাভাবিক সিঁড়ি। র‍্যাম্পটা নিচ থেকে একবারে বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা পর্যন্ত সংযুক্ত। সেই র‍্যাম্পে অসংখ্য ফাটল। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে র‍্যাম্পের মুখে তালা দিয়ে এতে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ২৪৯ জন শিশুর পড়াশোনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ বিল্ডিংয়ের পলেস্তারা ফেটে চৌচির। বিশাল ফাটল দেখা গেছে পানির টাংকিতেও। বিদ্যুতের লাইনগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বোর্ডে সুইচের স্থানগুলো ফাঁকা রয়েছে। অসাবধানতাবশত যে কেউ হাত দিলে বিদ্যুৎ শক খেতে পারে। আর এ ফাটলগুলো বিল্ডিং হস্তান্তরের আগেই দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এটা কেবল বিদ্যালয় নয়। বন্যার সময় এ অঞ্চলের মানুষজন এর নিচ তলায় আশ্রয় নেবে। আশ্রয় নেবে গবাদিপশুও। বানভাসি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ আশ্রয়কেন্দ্রটি। কিন্তু এটাতে যেভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের টাকাগুলো বানের জলে ভেসে যাবে।

তারা আরও জানান, শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজনদের এখানে আসতে তেমন একটা দেখেননি। সে কারণে অনিয়মের কথাগুলো ঠিকাদারের লোকজনকে বলেছিলেন। তারা উল্টো স্থানীয়দের ধমক দেন।

রামডাকুয়া গ্রামের মো. আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে মো. রমজান আলী (৪৫) বলেন, ‘এই স্কুলে আমার ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমি তারে নিয়া র‍্যাম্প দিয়া ওপরে ওঠার সময় দেখি ফাটা। তারপরও ভয়ে ভয়ে ওপরে উঠি। এরপরে ওপরে উঠে দেখি তালা দেওয়া। পরে আবার নিচে নামি। পরে অন্য সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। পরে স্যারদের বললাম সিঁড়ির মুখ বন্ধ ক্যা। তখন তারা বলেন, সিঁড়িগুলোতে ফাটল দেখা দিছে। সে কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়ি মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিল্ডিংটা করার এখনো তিন মাস হয় নাই। তাতে যে ফাটল ধরইছে। তাতে মনে হয় আরও দিন গেইলে কী যে হউবে আল্লায় সেটা ভালো জানে। তবে এই স্কুলে ছেলেমেয়েরা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ জিউ হামার হাতোত থাকে। না জানি কখন কোনো বিপদ হয়। আরও বন্যা আইলে কী যে হইবে সেই টেনশনও মাথায় ঘুরপাক করে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তফসিরা চৌধুরী বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। আর অফিশিয়ালি বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয়েছে চলতি মাসের ১৪ তারিখে। তবে এ ভবনে ওঠার আগ থেকেই এ ফাটলগুলো ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে আমি একাধিকবার ইঞ্জিনিয়ার অফিসের তপন স্যার, মিলন স্যার এবং ঠিকাদারকে বলেছি। তারা শুধু বলেন আসবেন। কিন্তু আসেন না।

এ বিষয়ে কথা হয় বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল হয়েছে, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে কাজটা শুরু করার পরে কয়েকবার গিয়েছিলাম। তখন কাজে অনিয়ম দেখে এলজিইডি অফিসে কথাও বলেছিলাম। তারা কেন জানি গুরুত্ব দেননি।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রিতমের সঙ্গে দেখা করা হলে তিনি এ নিয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘এ ধরনের কাজে হেয়ার ক্রাক হয়ে থাকে অনেক সময়। কিউরিন খারাপ হলে এ ধরনের সমস্যা হয়। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তারপরেও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সে রকম হলে আবারও ঠিক করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী অফিসে দেখা করতে বলে ফোন কেটে দেন। পরে অফিসে গিয়ে দেখা করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি।


শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৬ ট্রাক জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের পরিচালিত অভিযানে এসব ট্রাক জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়। তবে জব্দ করা ট্রাকগুলোতে কোনো বালু পাওয়া যায়নি।

এদিকে কমলগঞ্জের শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে বালুসহ একটি ট্রাক আটক করেছেন। ট্রাকটি উপজেলার সুনছড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছিল বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ট্রাকটি আটক করে বিষয়টি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ এক মানবপাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। আটক মো. ইয়াসিন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

সুজন জানান, মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইয়াসিনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ইয়াসিন দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মানবপাচারের মামলা রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, জব্দকৃত অস্ত্র ও আটককৃত ব্যক্তির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নীলফামারীতে বালু লুটের মহোৎসব, ঝুঁকিতে শত একর জমি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগ স্থল দিয়ে বয়ে যাওয়া চাড়ালকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকশত একর আবাদি জমি। বালুবাহী ট্রলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। তবে এসব দেখেও উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাড়ালকাটা নদীর তীর কেটে চলছে বালু বিক্রির মহোৎসব। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ট্রলি গাড়িতে বালু বিক্রি। সেখানে সাংবাদিক প্রবেশ ঠেকাতে প্রভাবশালী মহলের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় পাহারায় থাকেন। নদীর তীরে ভেকু বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু কেটে বিক্রি করছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশে অসংখ্য আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও ভিটেবাড়ি। স্থানীয়রা এ নিয়ে দিন-রাত আতঙ্কিত থাকলেও প্রভাবশালী মহলের বালু বিক্রি থামছেই না।

আরও দেখা যায়, বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়ার কালুরঘাট ব্রিজ এলাকার চাড়ালকাটা নদী ও বাহাগিলী ব্রিজ এলাকায় চলছে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি। রাস্তা দিয়ে বালুবাহী ট্রলি চলাচল করায় মোটরসাইকেল কিংবা কোনো যানবাহন চলার উপায় নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ম্যানেজ করেই এ কাজ করে আসছে। তারা একটি বালুর লট ইজারার নামে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগসহ একাধিকবার অবগত করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। প্রভাবশালী মহলটির বিরুদ্ধে কথা বলতেও ভয় পায় স্থানীয়রা।

নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকার আলতাফ হোসেন বলেন, নীলফামারী সদরের চার নম্বর বালুর লট ইজারা নিয়েছি। তবে স্থানীয়রা রাস্তা দিয়ে বালু নিয়ে যেতে দিচ্ছেন না। এজন্য আমরা নিজের জমির বালু বিক্রি করছি, এটা আমার মালিকানা জমি। নদী খনন করে আমার জমি বন্ধ করে রেখেছিল। আমি এখন সেটা বিক্রি করে আমার জমি বের করছি। এভাবে বালু বিক্রির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

হাসান আলী নামে আরেকজন বলেন, আমরা সদরের বালু ইজারা নিয়েছিলাম। আমাদের বালু কেটে বিক্রি করতে দিচ্ছে না। আমরা এজন্য বিভিন্ন মালিকের নিজস্ব জমির বালু কেটে বিক্রি করছি। আমরা গাড়ি প্রতি চারশো থেকে পাঁচশত টাকা পাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল। আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারি না। তাদের কিছু বললে বিভিন্নভাবে হুমকি হয়রানি করে। এ বিষয়ে ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। এলাকাবাসী কয়েকবার গেয়েছিলাম তবুও তিনি কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। যারা বালু বিক্রি করছে, তারা সদরের কিছু বালু ইজারা নিয়েছিল। সেটা স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা রাস্তা না থাকায় বিক্রি করতে পারছে না। তবে এভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে , মাঝেমধ্যে কেউ আটক করলে তাদের ওই ইজারা নেওয়ার বালুর স্লিপ দেখায় কিন্তু ওই বালু এখনও কাটতে পারেনি।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, এখানে রাস্তা ঘাটের খুব বাজে অবস্থা, চলাচল করার মতো না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ছি। সারারাত ট্রলি গাড়িতে বালু নিয়ে যায়, গাড়ির শব্দে ঘুমানো পর্যন্ত যায় না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করায় আমাদের কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীর ভাঙন দেখা যায়, এভাবে তীর কাটলে আবাদি জমিসহ নদীতে সব ভেঙে যাবে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির বিষয়টি জানলাম, এটি আমি দেখব।


ফরিদপুরে কুমার নদী পুনখনন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে নাব্যতা হারানো কানাইপুর বাজার সংলগ্ন কুমার নদী পুনঃখনন শুরু হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ওই এলাকায় মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

এ সময় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, বিএনপি সরকার কাজ করে জনগণের জন্য। আর তাই বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই জনকল্যানে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। পানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নারীদের জন্য বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে বলেন, আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি আগামী জুন মাসের বাজেটের পর থেকেই এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ,মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকী মিতুল,ব্যবসায়ী চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ প্রমুখ।


১৫ বছর ধরে  শিকলবন্দী ২৪ বছরের তরুণী মিতু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এসেছে। ২৪ বছর বয়সী মিতু নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিতু। পরিস্থিতির চাপে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয় সর্ব সময় । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই হয়ে উঠেছে তার জীবনের নির্মম বাস্তবতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজির মতো, যা তার সাভাবিক চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়েছে। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবন্ধী

মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়—এই আশঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়ে তাকে লোহার শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।

মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় ৮ বছর পূর্বে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে পুরো পরিবারের খরচ চালানো তার জন্য বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে।

দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের কারণে মিতুর উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা বলেছি এবং আমরা আশা করছি অতি শিগগিরই উনাকে এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রাথমিক চিকিৎসা দিবো এবং আমাদের যে হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম রয়েছে যে মেডিসিন গুলো দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা নিবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার দৈনিক বাংলা প্রতিবেদককে অবগত করে বলেন আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে। দেখার পরে যে ধরনের সহযোগিতা বা কি করলে ভালো হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করবো আমরা।


ছেলের বাইকে পেট্রল নিতে ফিলিং স্টেশনের লাইনে মা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় ডেমলা ফিলিং স্টেশনে ছেলের মোটরসাইকেলে পেট্রল সংগ্রহ করতে মাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মাকে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

মোটরসাইকেল চালকের নাম সাগর বৈদ্য। আর তার মায়ের নাম বীথিকা বৈদ্য। তারা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা।

ডেমলা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল হাকিম জানান, বিশৃঙ্খলা থেকে হট্রগোল-এর পর ফিলিং স্টেশনের কর্মচারিদের ওপর হামলার পর বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল জ্বালানি তেল সরবরাহ। বৃহস্পতিবার থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বীথিকা বৈদ্য ছেলের মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে আসার পর উৎসুখ জনতার ভীড় লক্ষ্য করা যায়। পরে তিনি পেট্রল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ বিষয়ে বীথিকা বৈদ্য জানান, তার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে ও কৃষিকাজ নির্বাহ করে সংসার চালান। বেশ কয়েকদিন পেট্রল না থাকার কারণে সে মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালাতে পারছেনা। তাই বৃহস্পতিবার সে কৃষিকাজে শ্রম দিতে গিয়েছে। আর তিনি পেট্রল সংগ্রহ করতে পাম্পে এসেছিলেন।


খুলনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সাড়ে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিপ্লব শেখকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬, সিপিসি সদর কোম্পানি।

র‌্যাব জানায়, সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এবং হত্যা-ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) র‌্যাব-৬ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার সোনাডাঙ্গায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় পিরোজপুর জেলার চালিতাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং তিনটি মাদক মামলায় মোট সাড়ে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিপ্লব ওরফে বিক্রম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, বিপ্লবের বিরুদ্ধে বাগেরহাট, পিরোজপুর ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মাদক, ১টি মারামারি এবং ১টি দস্যুতার মামলা রয়েছে।


বিচার বিভাগের দুর্নীতির সব শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই: আইনমন্ত্রী

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় তুলে আনতে চাই"।

বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, তাঁরা কোনোভাবেই একটি কলুষিত বিচার ব্যবস্থা চান না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে মাসদার হোসেন মামলার উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মাসদার হোসেনদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ গড়তে চাই না। বরং বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই।" মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও আইনি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আপত্তির কড়া সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিএনপির ধমনিতে জুলাই সনদ মিশে আছে। তারা জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইনের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।" সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সকল আইন পরিমার্জনের আশ্বাস দেন তিনি।

বিতর্কিত 'জুলাই সনদ' প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "অনেকেই বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, বিএনপি তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। তবে জুলাই সনদ আদেশের কোনো সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি নেই। ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই।" আইনমন্ত্রী মনে করেন, এই সনদের কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার আগে মন্ত্রী বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবনটি ঘুরে দেখেন। সামগ্রিকভাবে মন্ত্রীর এই সফর ও বক্তব্য বিচার বিভাগের নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


banner close