বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৯ বৈশাখ ১৪৩৩

গঙ্গাচড়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:৫২

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা-এর নেতৃত্বে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় গত সোমবার বিকেলে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় মোট ২০ মেট্রিক টন চাল এবং দুই লাখ টাকা নগদ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন। চর শংকরদহ গ্রামের রোকেয়া বেগম জানান, বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। সরকারের দেওয়া চাল ও নগদ সহায়তা যদিও সীমিত, তবুও এটি আমাদের নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে।

নোহালী ইউনিয়নের আব্দুল তালেব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, সব শেষ হয়ে গেছে। এই সামান্য সহায়তা আমাদের ক্ষতির কিছুটা হলেও প্রতিকার করছে।

খামার মোহনা গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, ফসল ও ঘরবাড়ি সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সহায়তা শুধুমাত্র কয়েকদিনের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনের সামগ্রী দিতে পারছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব এবং মানবিক কর্তব্য। ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্তদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা শুধু সহায়তা প্রদানেই থামব না, ধাপে ধাপে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাব। সমাজের সচেতন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে, তাহলে কেউই অসহায় থাকবে না। আমরা দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করব প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এনজিও এবং সমাজের অন্যান্য সচেতন প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবেন।


মৌলভীবাজারে নার্সদের ওপর হামলা, আহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সরকারি নির্ধারিত ফি আদায়কে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত নার্সদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন নার্স আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনদের কাছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধের অনুরোধ করেন কর্তব্যরত নার্সরা। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনরা নার্সদের ওপর চড়াও হয়ে শারীরিক হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে আরও দুজন আহত হন।

ঘটনার পরপরই হাসপাতালের অন্য কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, ‘পেয়িং বেডের নির্ধারিত ফি চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজন নার্সের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


যশোরের তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরে সীমিত সময় বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামে প্রায় সারাদিনই বিদ্যুৎ থাকে না।

উপজেলার বরণডলি গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, দিন-রাতে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ আসে। কিন্তু সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো যায় না। একই অভিযোগ ভরতভায়না গ্রামের আজিমউদ্দিনের। তিনি জানান, বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না।

বেগমপুর গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন বলেন, গ্রামে ঠিকমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। গরমে মানুষের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। সারারাত ঘুম না হলে পরদিন কাজে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

কেশবপুর জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বুধবার সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। ফলে ১৬ দশমিক ৭ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর এলাকাতেও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা কোহিনুর বেগম বলেন, এখন কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা যায় না। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা ও রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে আলাদা দুটি ফিডার লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পশ্চিম পাশের ফিডারে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হয়, ফলে পূর্ব পাশের গ্রাহকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

পূর্ব পাশের এক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তার ওপাশে মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, আর আমরা তাকিয়ে দেখি এটা স্পষ্ট বৈষম্য।

এ বিষয়ে কেশবপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সহকারী ব্যবস্থাপক (এজিএম) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার ১৯টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে শহরের দুটি ফিডারে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। তিনি জানান, হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পশ্চিম পাশে হওয়ায় সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

এদিকে, জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুর রব বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি একটি জাতীয় সমস্যা। সরবরাহ কম থাকলে লোডশেডিং করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না।

অব্যাহত এই বিদ্যুৎ সংকটে কেশবপুরের গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


মাঠজুড়ে হাসছে সূর্যমুখী, বেশি ফলনে খুশি কৃষক

আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:১৬
 রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজানে ধানের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ। কম খরচ, স্বল্প সময়ে ফলন এবং বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকায় এই ফসলের প্রতি ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক রণজিৎ চৌধুরী বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি উন্নত পদ্ধতিতে সূর্যমুখী চাষ করছি। এবার এক হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা আছে। তেল ছাড়াও বীজ থেকে খৈল তৈরি করে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কৃষক আবদুল গফুর বলেন, অন্য অনেক ফসলের তুলনায় সূর্যমুখীর ফলন ভালো। এই ফসলে সেচ ও পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সূর্যমুখী থেকে ভালো পরিমাণে তেল উৎপাদনের আশা করছি আমি।

তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী তেলের অনেক চাহিদা রয়েছে। এই চাষ বাড়লে তেলে উৎপাদনও বাড়বে। তাতে স্বাস্থ্যকর তেল যেমন মানুষ ব্যবহার করতে পারবে, তেমনি অর্থ উপার্জনও বাড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, সূর্যমুখী বীজ রোপণের আগে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের। সূর্যমুখী তেলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মানবদেহের জন্য উপকারী, এটা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ভবিষ্যতে উপজেলায় এ ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


টেকনাফ সীমান্তে বেপরোয়া মানবপাচারকারী চক্র

* সাগরে মানুষ মরে, বিক্রি থামে না * দুর্বল তদন্তে শাস্তি হয়না পাচারকারীদের * ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্রে মুক্তি পাচ্ছে পাচারকারীরা: পিপি * প্রমাণ সংকটে নড়বড়ে মামলা: কক্সবাজার পুলিশ সুপার
আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:৩০
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

২০১৫ সালে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের জঙ্গলে বাংলাদেশিদের গণকবর আবিষ্কারের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, এক দশক পর এই রুটে আবার শুরু হয়েছে মৃত্যুর মিছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা উদ্যোগ, তালিকার পর তালিকা-কিছুই যেন থামাতে পারছে না মানবপাচারকারী চক্রকে। ছোটখাটো দালাল গ্রেপ্তার হলেও হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সর্বশেষ ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নিখোঁজ পরিবারের স্বজনদের মধ্যে।

নিখোঁজদের স্বজনরা প্রতিদিন থানায়, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। কিন্তু কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না-তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন, নাকি সাগরের অতলে তলিয়ে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে টেকনাফ উপকূল থেকে অন্তত তিনটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। অন্য দুটি ট্রলার থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি শতাধিক বাংলাদেশি ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই কিশোর।

শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং ও বাহারছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়-প্রায় প্রতিটি ঘরেই শোকের ছায়া। কান্না আর অপেক্ষা যেন একাকার হয়ে গেছে পুরো জনপদে।

শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জাফর আহমেদ দরজায় বসে বিলাপ করছিলেন। তার ছেলে হারুন রশিদ, পেশায় লবণচাষী, সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল। জাফরের অভিযোগ, স্থানীয় দালাল সাইফুল ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার ছেলেকে বড় দালাল মৌলভী শফিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এখন ট্রলারডুবির খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া এলাকার দরিদ্র লায়লা বেগমের একমাত্র ছেলে ফরিদ টমটম চালিয়ে সংসার চালাত। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর সেই তরুণ দালালের প্রলোভনে সাগরপথে পাড়ি দিয়ে এখন নিখোঁজ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লায়লা বেগম দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়।

লায়লা বেগম বলেন, ছেলেকে সৌদি আরব পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্থানীয় দালাল ফারুক কম খরচের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ট্রলারে তুলে দেয়। এখন তিনি জানেন না-তার ছেলে বেঁচে আছে, নাকি সাগরের অতলে হারিয়ে গেছে।

পাশের বাড়ির খালেদা বেগমের গল্প আরও ভয়াবহ। তার ছেলে জয়নাল উদ্দীনকে নিজ চাচা জোরপূর্বক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ। ২৫ দিন ধরে কোনো খোঁজ নেই তার। ‘ট্রলারডুবির কথা শুনলেই বুক ফেটে যায়,’ বলেন তিনি।

শুধু এই কয়েকজন নয়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ, বাহারছড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক কিশোর এখনো নিখোঁজ। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, চার দিন সাগরে থাকার পর পানির সংকটে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মাঝি ও সহযোগীরা তাদের নির্যাতন করে একটি সংকীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে আটকে রাখে, যেখানে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক মো. রফিকের ভাষ্য, অক্সিজেন সংকটে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয় এবং অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেওয়ার সময় ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। এরপর জীবিতরা দুই দিন সাগরে ভেসে থাকার পর একটি তেলবাহী জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়া, সাবরাং ও মহেশখালীপাড়া—এই তিনটি পয়েন্ট মানবপাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরে এসব এলাকা থেকে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ পাচার হয়েছে। এ চক্রে প্রায় ১৯৬০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যাদের শতাধিক মাঠকর্মী গ্রামে গ্রামে গিয়ে দরিদ্র মানুষদের টার্গেট করে দালালদের কাছে পাঠায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দালালরা শুধু পাচার ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাবশালী। ফলে প্রশাসনের অভিযান অনেক সময় কার্যকর হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের ‘প্রভাবশালী সিন্ডিকেট’ হিসেবে বিবেচনা করে।

আন্দামান সাগরের ট্র্যাজেডিকে ঘিরে একাধিক মানবপাচারকারী দালালের নাম আলোচনায় এসেছে।

তারা হলেন, সাবরাং এলাকার আজম উল্লাহ, মোহাম্মদ সাদ্দাম, শাকের মাঝি ও আবদুল আমিন; শাহপরীর দ্বীপের কথিত শীর্ষ দালাল মাহবুবুর রহমান (মাম্মা), সামিম ওরফে হাসু, সাহেব মিয়া, সওকত, মো. কাসেম ও ফয়সল; থাইল্যান্ডের গণকবরের ঘটনায় আলোচিত দালাল আজগর আলী; নতুন করে সক্রিয় আবু তাহের, মোহাম্মদ ইসমাইল ও সৈয়দ উল্লাহ; শাহপরীরদ্বীপ ডাঙ্গরপাড়ার সোনা মিয়া—এরা সবাই বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া টেকনাফের মহেশখালীপাড়ার মৌলভী শফিকের নেতৃত্বে একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়াকে মানবপাচারের অন্যতম ‘রুট’ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানান, সেখানে প্রভাবশালী দালাল আব্দুল আলী ও তার ছেলে সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামি।

টেকনাফের ছাত্র প্রতিনিধি রুবায়েত হোসাইন বলেন, ‘২০১৫ সালের গণকবরের পরও মূল হোতারা ধরা পড়েনি। এখনো অনেক পাচারকারী রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছে।’

পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মানবপাচার সংক্রান্ত ৪ হাজার ৪২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন। ফলে শাস্তির ভয় না থাকায় পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

কয়েকজন আইনজীবী বলেন, মানবপাচার চক্রের দ্রুত পুনর্জন্মের প্রধান কারণ হলো মামলার তদন্তে পুলিশের সীমাহীন দুর্বলতা।

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তৌহিদুল আনোয়ার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিন বলেন, পুলিশের দুর্বল তদন্তের ফলে অভিযোগপত্র ত্রুটিপূর্ণ হয়, যার কারণে পাচারকারীরা কারাবন্দী থাকা সত্ত্বেও জামিনে মুক্তি নিয়ে পুনরায় অপরাধে ফিরে আসে। দুর্বল অভিযোগপত্র তৈরি করা কার্যত অপরাধীদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করে, যা স্থানীয় পর্যায়ে একটি ‘গেটওয়ে’ তৈরি করে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা ও সংগঠিত অপরাধের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের ফল। পুলিশের তদন্তে সীমাবদ্ধতা এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের জন্য এক ধরনের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভেতরেই যদি দুর্নীতি বা সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকে, তাহলে মূল হোতাদের ধরাই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে যায়।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, মানবপাচার পুরোপুরি বন্ধ করা এককভাবে পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চক্র শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না, ফলে মামলাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


রূপগঞ্জের শিশু মাইশা গাইবান্ধা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

রূপগঞ্জে অপহরণের শিকার ৫ বছর বয়সী শিশু মাইশাকে গাইবান্ধা জেলা থেকে উদ্ধার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রূপগঞ্জ থানার পূর্বাঞ্চল ১২ নম্বর সেক্টরের বুরুলিয়া চত্বর এলাকা থেকে শ্যামল মিয়ার (২৫) মেয়ে মাইশা (৫) অপহরণের শিকার হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শ্যামল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানার এসআই ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফুলছড়ি থানা পুলিশের সহায়তায় মোহাম্মদ শান্ত (২০) ও শাহ আলম (৪০) নামের দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিশু মাইশাকে উদ্ধার করা হয়।

পরে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম ছালা উদ্দিন আহমেদ।


পরিবেশদূষণে ভালুকায় বন্ধ হলো টেক্সটাইল কারখানার ড্রেন  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামে একটি কারখানার বর্জ্য পানি পরিবেশ দূষণের অভিযোগে নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য পানি ফেলার অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কারখানাটির ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলছিল। মিল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য নিষ্কাশন করে আসছিল, যা সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষির মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ১৬–১৭ বছর ধরে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও হ্যারি ফ্যাশন লি.-এর অবৈধ বর্জ্যে ভরাডোবার ৩৩৫.৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যা সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা দ্রুত সুপারিশকৃত ক্ষতিপূরণ কৃষকদের মাঝে বণ্টন এবং পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ছাড়পত্রের শর্তানুযায়ী অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ও ডমেস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশনের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অনুসরণ করেনি। তারা আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলছিল। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধের সুপারিশ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়েছে।


বরিশালে পুলিশের তিন সদস্যের ডোপ টেস্ট পজিটিভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল জেলা পুলিশের তিন সদস্যের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসায় পুরো পুলিশ বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকমুক্ত পুলিশ বাহিনী গড়ার অংশ হিসেবে চলমান ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলা পুলিশকে মাদকমুক্ত রাখতে সম্প্রতি সকল সদস্যের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) উজিরপুর থানা পুলিশের সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে তিনজন কনস্টেবলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসার পর ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে তাদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, জেলা পুলিশের সব ইউনিটে পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ১০টি থানার সব পুলিশ সদস্যকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল উজিরপুর থানার তিন সদস্যকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাদের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসে।

উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে এই ডোপ টেস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পদ্মায় মধ্যরাতে বালু উত্তোলনে ১০ জন আটক, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জনকে আটক এবং ১টি ড্রেজার (কাটার) ও ২টি ক্যারিং বডি জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার উত্তর শিমিলা উপজেলার দোহার এলাকার মৃত জামাল শেখের ছেলে মিজান শেখ (৪৫), বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার গলয় বুনিয়া এলাকার হালিম আকনের ছেলে শাকিল আকন (১৮), পটুয়াখালী সদরের জনকাঠি এলাকার সানু ফকিরের ছেলে জাকারিয়া ফকির (১৮), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বড় মসজিদপাড়া এলাকার জাবাই মণ্ডলের ছেলে আনো মণ্ডল (৩০), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকার মনছের শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩০), পিরোজপুর জেলা ইন্দুরকানি উপজেলার বলেশ্বর এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার (১৮), বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জালিরচর গ্রামের রফিজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে নিজাম বেপারী (৪৫), পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম আতালিয়া গ্রামের নজরুল শিকদারের ছেলে সাইদুল সিকদার (২৪), বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার পূর্ব বল্গানিয়া এলাকার মোতালেবের ছেলে ইয়াসিন (১৮), মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চড় জানা জাত এলাকার আব্দুর মাতব্বরের ছেলে আবুল কালাম (৪২)।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকায় গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খানের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গত সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বালু উত্তোলনকৃত ড্রেজার (কাটার) এবং ২টি ক্যারিং বডি (বাল্কহেড) জব্দ এবং ১০ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা, রাজবাড়ী কোস্ট গার্ড কমান্ডার কনটিজেন্ট শাহিন আলম ও অন্যরা।


বেড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদকসেবীদের আড্ডা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পাবনার বেড়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া, বক্তারপুর ও কুশিয়ারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তরা ব্যবহার না করায় সেগুলোতে দিনরাত চলছে মাদক ও জুয়ার আড্ডা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রকল্পে বসবাসরত অন্য পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তারপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭২টি ঘরের মধ্যে ৩৬টি এবং কুশিয়ারা প্রকল্পের ৮৯টি ঘরের মধ্যে ৫১টি ঘরই বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ভূমিহীনদের বদলে অনেক ক্ষেত্রে বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় তারা সেখানে থাকছেন না। এই সুযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘরগুলো অবৈধভাবে দখল করে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের এক বাসিন্দা বলেন, ‘যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে, তাদের অনেকেই এখানে কোনোদিন আসেনি। দীর্ঘ দিন ঘরগুলো পরিত্যক্ত থাকায় রাতে বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়। আমরা এখন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’

বেড়া মডেল থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মাইশা খান জানান, ঘরগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যারা বরাদ্দ পেয়েও ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়, প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন নিশ্চিত এবং নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি বজায় রাখলেই কেবল এই সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ভুয়া শিক্ষার্থী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেলে কলেজ থেকে মনিকা আক্তার মিতু নামের এক ভুয়া শিক্ষার্থী আটক করে পুলিশে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে তাকে কলেজ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরোনো ভবনের নিচতলায় লেডিস কমন রুমে অ্যাপ্রোন পরে চলাফেরা করার সময় অন্য শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ে।

তারা তার সাথে কথা বলেন ও তার আইডি কার্ড দেখে নিশ্চিত হন, তিনি এই কলেজের কেউ নন। পরে তাকে আটক করে কলেজ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।

এদিকে কলেজ প্রশাসন তার তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হন, তিনি কলেজের কেউ নন। পরে ওই তরুণী তা স্বীকার করেন।

পরে কলেজ প্রশাসন শাহবাগ থানায় তাকে সোপর্দ করে। ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মমিন আলীর মেয়ে। বর্তমানে নবাবগঞ্জে থাকেন। তবে কী কারণে বা কেন এ রকম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসেছিলেন, সে ব্যাপারে কিছুই বলেনি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, ওই তরুণীকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।


আমতলীতে প্রণোদনা পাচ্ছেন ১২ হাজার কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

বরগুনার আমতলী উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে গোলপাতার চারা, ভার্মি কম্পোস্ট এবং উফশী আউশ ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উফশী আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে উপজেলার ১২ হাজার কৃষক এই প্রণোদনা পাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ৬০ জন কৃষকের মধ্যে গোলপাতার চারা ও ভার্মি কম্পোস্ট বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কৃষক পাবেন ২০১টি করে গোলপাতার চারা এবং নির্ধারিত পরিমাণ ভার্মি কম্পোস্ট। এ ছাড়া উফশী আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে উপজেলার ১২ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসের সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।

বক্তারা বলেন, সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎসাহ প্রদান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তার মাধ্যমে আমতলীতে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।


জামিন পেলেন শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী

আদালত প্রাঙ্গণে শিল্পী বেগম। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামিন পেলেন দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকা মুচলেখায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এরপর কাইফা ইসলাম সিমরান নামে দেড় মাসের কন্যাসন্তানকে বুকে নিয়ে ও পেটে বেল্ট পরে কাঁদতে কাঁদতে কারাগারে যান শিল্পী। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।

এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থণা করছি। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটকে আদালত থেকে বের করা হয়। এসময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি।

পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সি বাচ্চাকে। এসময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় তিনি কাঁদতে থাকেন। যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারাল অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।


বন্ধ পাটকল চালু করতে কাজ করছে সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের বন্ধ জুটমিলগুলো চালু করতে কাজ করছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালু করা হবে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসিংদীর দুটিসহ সারাদেশেই বন্ধ কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিগত সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেশ কিছু মানুষ কর্মশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার তাই জনগণের কল্যাণে ও তাদের কর্মসংস্থানে এই সরকার বদ্ধপরিকর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমসির চেয়ারম্যান, ‎বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত সিকদারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী পরে ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিল ও ঘোড়াশাল প্রান কারখানা(এএমসিএল) পরিদর্শন করেন।


banner close