দেশে প্রথমবারের মতো রোববার থেকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা কেন্দ্র থেকে। সরকার প্রায় পাঁচ কোটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিনামূল্যে এই টিকা দেবে। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। মাসব্যাপী এই টিকা কর্মসূচি চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশে টাইফয়েডের টিকার এটাই প্রথম ক্যাম্পেইন। টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। সরকার এই টিকা পেয়েছে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মঞ্চ গ্যাভির কাছ থেকে। দেশে মাসব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার খবর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো;
ফেনী প্রতিনিধি জানান: ফেনীতে টাইফয়েড টিকার ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন রোববার সকালে ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনী স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মো. বাতেন বেলুন উড়িয়ে এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। জেলায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ফেনীতে টাইফয়েড ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন ৯ মাস হতে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের রোববার থেকে প্রতি কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ১১০৫টি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় এই টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া টিকা প্রদানের লক্ষ্যে vax epi.gov.bd এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন চলমান আছে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসমাইল হোসেন, ফেনী পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোস্তাফিজ রহমান চৌধুরী, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফেনী নাজমুস সাকিব, ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহী উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা কান্তা, সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা মাধ্যমিক সুপারভাইজার কামরুন নাহার, ফেনী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিন ও মেডিকেল অফিসার ডা. কৃঞ্চপদ সাহা, ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াছিন আরাফাত।
সাড়ে ৯ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেবে চসিক: মেয়র।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম জানান : শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দিবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পর্যায়ক্রমে এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রোববার সকালে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। টিকা ক্যাম্পেইন উপলক্ষে নগরীর চন্দনপুরা এলাকার গুল-এজার-বেগম মুসলিম সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং প্রবর্তক মোড়ের আইয়ুব বাচ্চু চত্বরে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় দেড় হাজার টাকার এই টিকা আমরা বিনামূল্যে প্রদান করছি। এটি চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো একটি বৃহৎ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, টাইফয়েড কেবল স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য নয়, স্কুলবহির্ভূত শিশুরও হতে পারে। তাই কোনো শিশুকে বাদ দেওয়া যাবে না। আমাদের লক্ষ্য, চট্টগ্রামের প্রতিটি শিশু সুস্থ থাকুক।’
টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, ডা. মনিরুল ইসলাম রুবেল, ইউনিসেফ প্রতিনিধি ডা. সরোয়ার আলম প্রমুখ।
চসিক স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার স্কুল শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৩ লাখ স্কুলবহির্ভূত শিশু। চসিক এলাকাজুড়ে ১,৫৪৬টি স্কুল ও ৭৮৩টি আউটরিচ সাইটে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্কুল পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আগামী ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।’
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান: যশোরের কেশবপুরে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্ধোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আয়োজনে পৌর শহরের সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার মধ্যেদিয়ে ওই কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রেকসোনা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহম্মেদ, সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামান, আর, এম,ও ডা. সমরেশ কুমার দত্ত, ফোকাল পারসন ডা. মো. তরিকুল ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা প্রমুখ। ৯ মাসের শিশু থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের টাইফয়েড টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় কেশবপুর উপজেলায় ৬৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ১২ আক্টোবর শুরু করে ১৮ কর্মদিবস শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০ কর্মদিবস বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং ৮ কর্মদিবস কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দেওয়া হবে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় টাইফয়েড ঠিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে পৌর শহরের রাবেয়া সরকারি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ঠিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন টাইফয়েড রোগ থেকে নিরাময়ের জন্য সরকার শিশুদের সুরক্ষায় মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ টিকার কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি অভিভাবকদের তাদের শিশুদের বিনামূল্যে এ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমি সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খোরশেদ আলম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম প্রমুখ।
মইনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) থেকে জানান: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে টাইফয়েড ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে টাইফয়েড টিকার উদ্বোধন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. মো. শরিফুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ড. মো. রুহুল আমিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. সুলতান উদ্দিন আহমেদ, মো. চানমিয়া, স্বাস্থ্য সহকারী (টিকাদান) মো. সবুজ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও কেন্দ্রে ৯-১৫ বছরের শিশুদের ৩৭ হাজার ৯৯৫ জনের মাঝে এ টিকা প্রদান করা হবে। আজ (রোববার) উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ টিকা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মো. মারুফ হাসান তার বক্তব্যে বলেন, কার্যকর টিকা আবিষ্কারের পরে অনেক রোগ পৃথিবী থেকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী সবসময় প্রসংশিত হয়েছে।
রোববার থেকে শুরু হওয়া টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনও সফল করার বিকল্প নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আজকের সুস্থ শিশু মানেই আগামীর সুস্থ প্রজন্ম ও ভবিষ্যতের দক্ষ নাগরিক। শিশুদের লেখাপড়া- খেলাধুলায় সফল হওয়ার জন্য সুস্থতার বিকল্প নেই। যে সকল শিশু ইতোমধ্যে টিকা পেতে রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদের সঠিকভাবে টিকা দিতে হবে।
একইসাথে, রেজিস্ট্রেশন না করা শিশুদেরও রেজিস্ট্রেশন করিয়ে টিকার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টাইফয়েড টিকার উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই এবং টিকাটি হালাল সনদপ্রাপ্ত।
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় বেঙ্গুরা কে.বি.কে.আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, ডা. নির্গাত জাবীন, ডা. রাজশ্রী, ডা. তোফায়েল আহমদ, ডা. মাসুদুল আলম, ডা. শারমিন আকতার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমি বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ক্যাম্পেইনে উপজেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি মোট ৭২ হাজার ৬৪৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৭৬টি কেন্দ্রে ৫২ হাজার ৩৮৭ জন এবং কমিউনিটির ২১১টি কেন্দ্রে ২০ হাজার ২৫৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা কার্যক্রম চলবে ১২ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত, আর কমিউনিটি কেন্দ্রে ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান: সারাদেশের ন্যায় নওগাঁতেও শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের চক এনায়েত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে শিশুকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক টিএমএ মমিন, রংপুর মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান আলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম আজম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ, জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাদৎ হোসেন, নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জানানো হয় নওগাঁ জেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৫ জন শিশু ও কিশোরকে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্য রয়েছে। এপর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ জন। শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ও পর্যায়ক্রমে কমিউনিটি পর্যায়ে ১৮ দিন এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান: সারাদেশের মতো গাজীপুরের কালীগঞ্জেও শিশুদের টাইফয়েড রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে মাসব্যাপী জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সকল শিশুকে বিনামূল্যে একটি করে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে। রোববার সকালে কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপিত টিকাদান কেন্দ্রে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম কামরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ.টি.এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। টাইফয়েডের মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এই টিকাদান কর্মসূচি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’ তিনি এই মহৎ উদ্যোগ সফল করতে স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সকল অভিভাবককে নির্ধারিত সময়ে তাদের সন্তানদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রিজওয়ানা রশীদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘টাইফয়েড একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একটি মাত্র ডোজ টিকা শিশুদের এই রোগের গুরুতর প্রভাব থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকর।’ তিনি আরও জানান, মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। কোনো যোগ্য শিশু যেন এই টিকার আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচি কালীগঞ্জের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর থেকে জানান: ফরিদপুরে মাসব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে এই কর্মসুচির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের টাইফয়েডের টিকা প্রদান করে টিকাদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন ড. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিস ইসরাত জাহান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, জেলা তথ্য অফিসার মোজাম্মেল হোসেন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইকবাল হাসান সেনেটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও সময়োপযোগী। ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ২৮ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে একটি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে।’
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা থেকে জানান: মাগুরায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫ -এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় মাগুরা পিটিআই স্কুল প্রাঙ্গণে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ড. মো. শামীম কবির।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিবুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আফজাল হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. মহসিন উদ্দিন ফকির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. সুরভী আক্তার, মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার সব শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। যেখানে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
এ বছর মাগুরা জেলার চারটি উপজেলায় মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৩টি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
ক্যাম্পেইন সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
রংপুর ব্যুরো জানান: রংপুরে সাড়ে ৮ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টিকা প্রদান কার্যক্রমের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। রোববার সকালে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহা. আশরাফুল ইসলাম। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কেএম জালাল উদ্দিন আকবরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ। এছাড়া টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এবিএম আবু হানিফ, অতিরিক্ত সচিব হুজুর আলী, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ড. গাওসুল আজম, উপপরিচালক ড. ওয়াজেদ আলী, ইউনিসেফ প্রধান তৌফিক আহমেদ।
উদ্বোধনী দিনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা গ্রহণ করেন। কোনো ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে দ্রুততম সময়ে টিকা গ্রহণ করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী আনিছুর রহমান, মেহেজাবিন ইসলাম, মৌমিতা সরকারসহ অন্যরা বলেন, বাসায় অনলাইনে টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছি। আমরা টিকা গ্রহণ নিয়ে প্রথমে অনেক ভয় পেয়েছিলাম। স্কুলে এসে দ্রুত টিকা নিতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। কোনা ধরনের ব্যথা হয় না। এছাড়া কেউ যদি কোনো কারণে অসুস্থ্য হয়ে যায়, সে জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনের অ্যাম্বুলেন্সসহ ডাক্তার রয়েছে। যে সকল বন্ধুরা এখনো টিকা গ্রহণ করেনি, আমরা তাদের দ্রুত টিকা নিয়ে সুস্থ্য থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনে দুই লাখের বেশি ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী ও টিকাপ্রদানকারীরা কাজ করছেন। নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমি আহ্বান জানাব, নিবন্ধনের মাধ্যমে যেন টিকা গ্রহণ করা হয়। তাহলে পরবর্তীতে বিদেশ ভ্রমণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে টাইফয়েড টিকা প্রদানের তথ্য কাজে লাগবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমকে উৎসবমুখর করতে বিভিন্ন স্কুলে শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছে। নির্ধারিত বয়সের সকল শিশু যেন টিকা পায় সে লক্ষ্যে নিবন্ধিত কিংবা অনিবন্ধিত শিশুদেরও টিকা দেওয়া হচ্ছে। নগরীতে মাইকিং, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বড় বড় বেলুন ওড়ানো, ট্রাকের মাধ্যমে গম্ভীরার আয়োজন করে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি করোনার মতো আমরা টাইফয়েড টিকাতেও সাফল্য অর্জন করব। এদিকে রংপুর সদর উপজেলার ধাপেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ড. শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় স্কুল পর্যায়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪০২ জন ও কমিউনিটি পর্যায়ে ২ লাখ ৯ হাজার ৪৫২ জন শিশুকে এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে ২ লাখ ১০ হাজার ৭১৯ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।
নাজমুল হাসান, নাটোর জানান: নাটোরে আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফয়েডের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের এই টিকা প্রদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।
সিভিল সার্জন ড. মুক্তাদির আরেফীন জানান, ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় নিধার্রিত বয়সি শিশুদের মধ্যে এক হাজার ৫৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪১ জন শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকের এক হাজার ৭৫২টি টিকাদান কেন্দ্রে আরও এক লাখ ৩০ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। জেলার মোট চার লাখ ২৯ হাজার ৮৮২ জনের মধ্যে এক লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৭ জন শিশু এই টিকা পাবে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ২০১৭ সাল থেকে দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে টাইফয়েড টিকা গ্রহণ কার্যক্রম চালু আছে। ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত পাকিস্তান এবং নেপালে সরকারি পর্যায়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিন হাজার তিনশ টাকা মূল্যমানের এক একটি টিকা পরীক্ষিত এবং নিরাপদ বলে জানান সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক।
রুমা প্রতিনিধি জানান: দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৫’। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রুমা বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসানের সভাপতিত্বে এতে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান।
কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- ইপিআই টেকনোলজিস্ট চচমং মারমা, পরিসংখ্যানবিদ উথোয়াইপ্রু খেয়াং ও রুমা বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রথম দিনে বিদ্যালয়টিতে ৪৫৬ জন শিক্ষার্থীকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি সকল শিশু ও প্রাক–প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ডোজ টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রথম পর্যায়ে ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১২টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই টাইফয়েদ টিকা একটি করে ডোজ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে পর্যায়ে ৩৫৬২ জন। আর কমিউনিটি পর্যায়ে এক নভেম্বর থেকে ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর মতে ২১৮৫ জনকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে-৪১৮১জন।
যা বান্দরবান পার্বত্য জেলা ৭টি উপজেলার মধ্যে রুমো উপজেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। টিকাদানের অর্জিত নিবন্ধিত ৭২.০৮ বলে পরিসংখ্যানবিদ উথোয়াইপ্রু খেয়াং জানিয়েছেন।
২০১৫ সালে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের জঙ্গলে বাংলাদেশিদের গণকবর আবিষ্কারের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, এক দশক পর এই রুটে আবার শুরু হয়েছে মৃত্যুর মিছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা উদ্যোগ, তালিকার পর তালিকা-কিছুই যেন থামাতে পারছে না মানবপাচারকারী চক্রকে। ছোটখাটো দালাল গ্রেপ্তার হলেও হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বশেষ ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নিখোঁজ পরিবারের স্বজনদের মধ্যে।
নিখোঁজদের স্বজনরা প্রতিদিন থানায়, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। কিন্তু কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না-তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছেন, নাকি সাগরের অতলে তলিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে টেকনাফ উপকূল থেকে অন্তত তিনটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। অন্য দুটি ট্রলার থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি শতাধিক বাংলাদেশি ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই কিশোর।
শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং ও বাহারছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়-প্রায় প্রতিটি ঘরেই শোকের ছায়া। কান্না আর অপেক্ষা যেন একাকার হয়ে গেছে পুরো জনপদে।
শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জাফর আহমেদ দরজায় বসে বিলাপ করছিলেন। তার ছেলে হারুন রশিদ, পেশায় লবণচাষী, সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল। জাফরের অভিযোগ, স্থানীয় দালাল সাইফুল ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার ছেলেকে বড় দালাল মৌলভী শফিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এখন ট্রলারডুবির খবর শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া এলাকার দরিদ্র লায়লা বেগমের একমাত্র ছেলে ফরিদ টমটম চালিয়ে সংসার চালাত। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর সেই তরুণ দালালের প্রলোভনে সাগরপথে পাড়ি দিয়ে এখন নিখোঁজ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লায়লা বেগম দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়।
লায়লা বেগম বলেন, ছেলেকে সৌদি আরব পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্থানীয় দালাল ফারুক কম খরচের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ট্রলারে তুলে দেয়। এখন তিনি জানেন না-তার ছেলে বেঁচে আছে, নাকি সাগরের অতলে হারিয়ে গেছে।
পাশের বাড়ির খালেদা বেগমের গল্প আরও ভয়াবহ। তার ছেলে জয়নাল উদ্দীনকে নিজ চাচা জোরপূর্বক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ। ২৫ দিন ধরে কোনো খোঁজ নেই তার। ‘ট্রলারডুবির কথা শুনলেই বুক ফেটে যায়,’ বলেন তিনি।
শুধু এই কয়েকজন নয়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ, বাহারছড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক কিশোর এখনো নিখোঁজ। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, চার দিন সাগরে থাকার পর পানির সংকটে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মাঝি ও সহযোগীরা তাদের নির্যাতন করে একটি সংকীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে আটকে রাখে, যেখানে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক মো. রফিকের ভাষ্য, অক্সিজেন সংকটে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয় এবং অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেওয়ার সময় ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। এরপর জীবিতরা দুই দিন সাগরে ভেসে থাকার পর একটি তেলবাহী জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়া, সাবরাং ও মহেশখালীপাড়া—এই তিনটি পয়েন্ট মানবপাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরে এসব এলাকা থেকে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ পাচার হয়েছে। এ চক্রে প্রায় ১৯৬০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যাদের শতাধিক মাঠকর্মী গ্রামে গ্রামে গিয়ে দরিদ্র মানুষদের টার্গেট করে দালালদের কাছে পাঠায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দালালরা শুধু পাচার ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাবশালী। ফলে প্রশাসনের অভিযান অনেক সময় কার্যকর হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের ‘প্রভাবশালী সিন্ডিকেট’ হিসেবে বিবেচনা করে।
আন্দামান সাগরের ট্র্যাজেডিকে ঘিরে একাধিক মানবপাচারকারী দালালের নাম আলোচনায় এসেছে।
তারা হলেন, সাবরাং এলাকার আজম উল্লাহ, মোহাম্মদ সাদ্দাম, শাকের মাঝি ও আবদুল আমিন; শাহপরীর দ্বীপের কথিত শীর্ষ দালাল মাহবুবুর রহমান (মাম্মা), সামিম ওরফে হাসু, সাহেব মিয়া, সওকত, মো. কাসেম ও ফয়সল; থাইল্যান্ডের গণকবরের ঘটনায় আলোচিত দালাল আজগর আলী; নতুন করে সক্রিয় আবু তাহের, মোহাম্মদ ইসমাইল ও সৈয়দ উল্লাহ; শাহপরীরদ্বীপ ডাঙ্গরপাড়ার সোনা মিয়া—এরা সবাই বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া টেকনাফের মহেশখালীপাড়ার মৌলভী শফিকের নেতৃত্বে একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়াকে মানবপাচারের অন্যতম ‘রুট’ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানান, সেখানে প্রভাবশালী দালাল আব্দুল আলী ও তার ছেলে সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামি।
টেকনাফের ছাত্র প্রতিনিধি রুবায়েত হোসাইন বলেন, ‘২০১৫ সালের গণকবরের পরও মূল হোতারা ধরা পড়েনি। এখনো অনেক পাচারকারী রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছে।’
পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মানবপাচার সংক্রান্ত ৪ হাজার ৪২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন। ফলে শাস্তির ভয় না থাকায় পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
কয়েকজন আইনজীবী বলেন, মানবপাচার চক্রের দ্রুত পুনর্জন্মের প্রধান কারণ হলো মামলার তদন্তে পুলিশের সীমাহীন দুর্বলতা।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তৌহিদুল আনোয়ার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিন বলেন, পুলিশের দুর্বল তদন্তের ফলে অভিযোগপত্র ত্রুটিপূর্ণ হয়, যার কারণে পাচারকারীরা কারাবন্দী থাকা সত্ত্বেও জামিনে মুক্তি নিয়ে পুনরায় অপরাধে ফিরে আসে। দুর্বল অভিযোগপত্র তৈরি করা কার্যত অপরাধীদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করে, যা স্থানীয় পর্যায়ে একটি ‘গেটওয়ে’ তৈরি করে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা ও সংগঠিত অপরাধের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের ফল। পুলিশের তদন্তে সীমাবদ্ধতা এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের জন্য এক ধরনের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভেতরেই যদি দুর্নীতি বা সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকে, তাহলে মূল হোতাদের ধরাই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে যায়।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, মানবপাচার পুরোপুরি বন্ধ করা এককভাবে পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চক্র শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না, ফলে মামলাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রূপগঞ্জে অপহরণের শিকার ৫ বছর বয়সী শিশু মাইশাকে গাইবান্ধা জেলা থেকে উদ্ধার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রূপগঞ্জ থানার পূর্বাঞ্চল ১২ নম্বর সেক্টরের বুরুলিয়া চত্বর এলাকা থেকে শ্যামল মিয়ার (২৫) মেয়ে মাইশা (৫) অপহরণের শিকার হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শ্যামল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানার এসআই ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফুলছড়ি থানা পুলিশের সহায়তায় মোহাম্মদ শান্ত (২০) ও শাহ আলম (৪০) নামের দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিশু মাইশাকে উদ্ধার করা হয়।
পরে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম ছালা উদ্দিন আহমেদ।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ নামে একটি কারখানার বর্জ্য পানি পরিবেশ দূষণের অভিযোগে নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য পানি ফেলার অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কারখানাটির ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলছিল। মিল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য নিষ্কাশন করে আসছিল, যা সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষির মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।
কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ১৬–১৭ বছর ধরে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও হ্যারি ফ্যাশন লি.-এর অবৈধ বর্জ্যে ভরাডোবার ৩৩৫.৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যা সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা দ্রুত সুপারিশকৃত ক্ষতিপূরণ কৃষকদের মাঝে বণ্টন এবং পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ছাড়পত্রের শর্তানুযায়ী অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ও ডমেস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশনের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অনুসরণ করেনি। তারা আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলছিল। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধের সুপারিশ করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা পুলিশের তিন সদস্যের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসায় পুরো পুলিশ বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকমুক্ত পুলিশ বাহিনী গড়ার অংশ হিসেবে চলমান ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলা পুলিশকে মাদকমুক্ত রাখতে সম্প্রতি সকল সদস্যের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) উজিরপুর থানা পুলিশের সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে তিনজন কনস্টেবলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসার পর ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে তাদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, জেলা পুলিশের সব ইউনিটে পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ১০টি থানার সব পুলিশ সদস্যকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল উজিরপুর থানার তিন সদস্যকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাদের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল আসে।
উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে এই ডোপ টেস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জনকে আটক এবং ১টি ড্রেজার (কাটার) ও ২টি ক্যারিং বডি জব্দ করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার উত্তর শিমিলা উপজেলার দোহার এলাকার মৃত জামাল শেখের ছেলে মিজান শেখ (৪৫), বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার গলয় বুনিয়া এলাকার হালিম আকনের ছেলে শাকিল আকন (১৮), পটুয়াখালী সদরের জনকাঠি এলাকার সানু ফকিরের ছেলে জাকারিয়া ফকির (১৮), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বড় মসজিদপাড়া এলাকার জাবাই মণ্ডলের ছেলে আনো মণ্ডল (৩০), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকার মনছের শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৩০), পিরোজপুর জেলা ইন্দুরকানি উপজেলার বলেশ্বর এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার (১৮), বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জালিরচর গ্রামের রফিজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে নিজাম বেপারী (৪৫), পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম আতালিয়া গ্রামের নজরুল শিকদারের ছেলে সাইদুল সিকদার (২৪), বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার পূর্ব বল্গানিয়া এলাকার মোতালেবের ছেলে ইয়াসিন (১৮), মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চড় জানা জাত এলাকার আব্দুর মাতব্বরের ছেলে আবুল কালাম (৪২)।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর কলাবাগান এলাকায় গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খানের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গত সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বালু উত্তোলনকৃত ড্রেজার (কাটার) এবং ২টি ক্যারিং বডি (বাল্কহেড) জব্দ এবং ১০ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা, রাজবাড়ী কোস্ট গার্ড কমান্ডার কনটিজেন্ট শাহিন আলম ও অন্যরা।
পাবনার বেড়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া, বক্তারপুর ও কুশিয়ারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তরা ব্যবহার না করায় সেগুলোতে দিনরাত চলছে মাদক ও জুয়ার আড্ডা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রকল্পে বসবাসরত অন্য পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তারপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭২টি ঘরের মধ্যে ৩৬টি এবং কুশিয়ারা প্রকল্পের ৮৯টি ঘরের মধ্যে ৫১টি ঘরই বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ভূমিহীনদের বদলে অনেক ক্ষেত্রে বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় তারা সেখানে থাকছেন না। এই সুযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘরগুলো অবৈধভাবে দখল করে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের এক বাসিন্দা বলেন, ‘যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে, তাদের অনেকেই এখানে কোনোদিন আসেনি। দীর্ঘ দিন ঘরগুলো পরিত্যক্ত থাকায় রাতে বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়। আমরা এখন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’
বেড়া মডেল থানার ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মাইশা খান জানান, ঘরগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যারা বরাদ্দ পেয়েও ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়, প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন নিশ্চিত এবং নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি বজায় রাখলেই কেবল এই সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঢাকা মেডিকেলে কলেজ থেকে মনিকা আক্তার মিতু নামের এক ভুয়া শিক্ষার্থী আটক করে পুলিশে দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে তাকে কলেজ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরোনো ভবনের নিচতলায় লেডিস কমন রুমে অ্যাপ্রোন পরে চলাফেরা করার সময় অন্য শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ে।
তারা তার সাথে কথা বলেন ও তার আইডি কার্ড দেখে নিশ্চিত হন, তিনি এই কলেজের কেউ নন। পরে তাকে আটক করে কলেজ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।
এদিকে কলেজ প্রশাসন তার তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হন, তিনি কলেজের কেউ নন। পরে ওই তরুণী তা স্বীকার করেন।
পরে কলেজ প্রশাসন শাহবাগ থানায় তাকে সোপর্দ করে। ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মমিন আলীর মেয়ে। বর্তমানে নবাবগঞ্জে থাকেন। তবে কী কারণে বা কেন এ রকম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসেছিলেন, সে ব্যাপারে কিছুই বলেনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, ওই তরুণীকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে গোলপাতার চারা, ভার্মি কম্পোস্ট এবং উফশী আউশ ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উফশী আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে উপজেলার ১২ হাজার কৃষক এই প্রণোদনা পাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ৬০ জন কৃষকের মধ্যে গোলপাতার চারা ও ভার্মি কম্পোস্ট বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কৃষক পাবেন ২০১টি করে গোলপাতার চারা এবং নির্ধারিত পরিমাণ ভার্মি কম্পোস্ট। এ ছাড়া উফশী আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে উপজেলার ১২ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসের সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।
বক্তারা বলেন, সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎসাহ প্রদান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তার মাধ্যমে আমতলীতে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
জামিন পেলেন দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকা মুচলেখায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এরপর কাইফা ইসলাম সিমরান নামে দেড় মাসের কন্যাসন্তানকে বুকে নিয়ে ও পেটে বেল্ট পরে কাঁদতে কাঁদতে কারাগারে যান শিল্পী। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থণা করছি। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটকে আদালত থেকে বের করা হয়। এসময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি।
পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সি বাচ্চাকে। এসময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় তিনি কাঁদতে থাকেন। যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন।
পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারাল অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের বন্ধ জুটমিলগুলো চালু করতে কাজ করছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালু করা হবে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসিংদীর দুটিসহ সারাদেশেই বন্ধ কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিগত সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেশ কিছু মানুষ কর্মশূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার তাই জনগণের কল্যাণে ও তাদের কর্মসংস্থানে এই সরকার বদ্ধপরিকর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমসির চেয়ারম্যান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত সিকদারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী পরে ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিল ও ঘোড়াশাল প্রান কারখানা(এএমসিএল) পরিদর্শন করেন।
সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দল ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক আবদুস সামাদ মোল্লার (৩৫) বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়। তিনি ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড (দ্বিতীয় প্রধান) বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সাব্বির আলম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর তৃতীয় ধাপে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টার দিকে রামপাল উপজেলার শুকদারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুস সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর হয়ে সুন্দরবনে ডাকাতি কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।
পরে আবদুস সালামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে মোংলা থানার সুন্দরবনের নন্দবালা খালসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি একনলা বন্দুক, এয়ারগান ও দুটি অবিস্ফোরিত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই বালু রাখা হচ্ছে রাস্তায়। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে রাস্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তায় এবং পাশের খালি জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বালু ভর্তি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার একমাত্র পাকা রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এই চক্রটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি জায়গা দখল করে বালু রাখায় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং ধুলোবালিতে পরিবেশ দূষিত হয়ে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, "রাস্তাটি আমাদের যাতায়াতের প্রধান পথ। বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে এখন এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর দ্রুত সমাধান চাই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সরকারি জায়গা থেকে বালুর স্তূপ অপসারণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, বিষয় টা আপনাদের মাধ্যমে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভেড়ামারার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, এটা কুষ্টিয়া পাউবোর দায়িত্বে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার কমকর্তারা বলতে পারবেন। এটা আমার কোনো বিষয় নয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র সৃজনশীল পরীক্ষায় এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেওয়ার পর বিষয়টি নজরে এসে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায়। এতে করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফেল করার আতংঙ্ক বেড়ে যায়। অভিভাবকদের মধ্যেও ভয় ও সংশয় তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্র সচিবের গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
এ ঘটনার নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার। পরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। এছাড়াও তারা গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসন পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়, দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরোটরি স্কুলের ৭৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এ প্রশ্নেই শিক্ষার্থীরা এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে পুরাতন প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। বিষয়টি কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হলে তাৎক্ষনিকভাবে ইউএনওকে জানিয়ে সঠিক প্রশ্নে সময় বৃদ্ধি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানায়, বহু নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে তারা সৃজনশীল পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদেরকে কেন্দ্র দায়িত্বরতরা ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরীক্ষার প্রথম দিন হওয়ার কারনে তাদের বিষয়টি প্রথমে নজরে আসেনি। পরবর্তীতে নজরে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতংঙ্ক বিরাজ করে। কেউ কেউ ফেল করার ভয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থী আয়মান রহমান জানায়, এমন ভুল হতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত শংঙ্কায় পড়বে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি যেন না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়া দরকার।
রাবেয়া বসরি নামের এক অভিভাবক জানান, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে গাফলতির কারনে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল। এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিয়ে সঠিক দায়িত্ববান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো.আবদুল মতিন সরকার জানান, সিলেবাসের সাল দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারনে এমন হয়েছে। তাছাড়া প্রশ্নের অতিরিক্ত আরো দুটি প্রশ্নের প্যাকেট বেশি আসার কারনে বিষয়টি নজরে আসেনি। ফলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়টি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষার বিষয়টি নজরে আসা মাত্র বোর্ডের কর্মকর্তারদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আশা করি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোন সমস্যা হবে না। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আতংঙ্কের কোন কারন নেই।