দেশে প্রথমবারের মতো রোববার থেকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা কেন্দ্র থেকে। সরকার প্রায় পাঁচ কোটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিনামূল্যে এই টিকা দেবে। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। মাসব্যাপী এই টিকা কর্মসূচি চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশে টাইফয়েডের টিকার এটাই প্রথম ক্যাম্পেইন। টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। সরকার এই টিকা পেয়েছে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মঞ্চ গ্যাভির কাছ থেকে। দেশে মাসব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার খবর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো;
ফেনী প্রতিনিধি জানান: ফেনীতে টাইফয়েড টিকার ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন রোববার সকালে ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনী স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মো. বাতেন বেলুন উড়িয়ে এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। জেলায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ফেনীতে টাইফয়েড ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন ৯ মাস হতে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের রোববার থেকে প্রতি কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ১১০৫টি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় এই টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া টিকা প্রদানের লক্ষ্যে vax epi.gov.bd এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন চলমান আছে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসমাইল হোসেন, ফেনী পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোস্তাফিজ রহমান চৌধুরী, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফেনী নাজমুস সাকিব, ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহী উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা কান্তা, সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা মাধ্যমিক সুপারভাইজার কামরুন নাহার, ফেনী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিন ও মেডিকেল অফিসার ডা. কৃঞ্চপদ সাহা, ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াছিন আরাফাত।
সাড়ে ৯ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেবে চসিক: মেয়র।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম জানান : শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দিবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পর্যায়ক্রমে এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রোববার সকালে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। টিকা ক্যাম্পেইন উপলক্ষে নগরীর চন্দনপুরা এলাকার গুল-এজার-বেগম মুসলিম সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং প্রবর্তক মোড়ের আইয়ুব বাচ্চু চত্বরে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় দেড় হাজার টাকার এই টিকা আমরা বিনামূল্যে প্রদান করছি। এটি চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো একটি বৃহৎ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, টাইফয়েড কেবল স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য নয়, স্কুলবহির্ভূত শিশুরও হতে পারে। তাই কোনো শিশুকে বাদ দেওয়া যাবে না। আমাদের লক্ষ্য, চট্টগ্রামের প্রতিটি শিশু সুস্থ থাকুক।’
টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, ডা. মনিরুল ইসলাম রুবেল, ইউনিসেফ প্রতিনিধি ডা. সরোয়ার আলম প্রমুখ।
চসিক স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার স্কুল শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৩ লাখ স্কুলবহির্ভূত শিশু। চসিক এলাকাজুড়ে ১,৫৪৬টি স্কুল ও ৭৮৩টি আউটরিচ সাইটে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্কুল পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আগামী ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।’
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান: যশোরের কেশবপুরে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্ধোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আয়োজনে পৌর শহরের সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার মধ্যেদিয়ে ওই কর্মসূচির উদ্ধোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রেকসোনা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহম্মেদ, সমাজসেবা অফিসার রোকনুজ্জামান, আর, এম,ও ডা. সমরেশ কুমার দত্ত, ফোকাল পারসন ডা. মো. তরিকুল ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা প্রমুখ। ৯ মাসের শিশু থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের টাইফয়েড টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় কেশবপুর উপজেলায় ৬৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ১২ আক্টোবর শুরু করে ১৮ কর্মদিবস শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০ কর্মদিবস বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং ৮ কর্মদিবস কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দেওয়া হবে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় টাইফয়েড ঠিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে পৌর শহরের রাবেয়া সরকারি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে ঠিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন টাইফয়েড রোগ থেকে নিরাময়ের জন্য সরকার শিশুদের সুরক্ষায় মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ টিকার কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি অভিভাবকদের তাদের শিশুদের বিনামূল্যে এ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমি সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খোরশেদ আলম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম প্রমুখ।
মইনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) থেকে জানান: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে টাইফয়েড ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে টাইফয়েড টিকার উদ্বোধন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. মো. শরিফুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ড. মো. রুহুল আমিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. সুলতান উদ্দিন আহমেদ, মো. চানমিয়া, স্বাস্থ্য সহকারী (টিকাদান) মো. সবুজ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও কেন্দ্রে ৯-১৫ বছরের শিশুদের ৩৭ হাজার ৯৯৫ জনের মাঝে এ টিকা প্রদান করা হবে। আজ (রোববার) উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ টিকা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মো. মারুফ হাসান তার বক্তব্যে বলেন, কার্যকর টিকা আবিষ্কারের পরে অনেক রোগ পৃথিবী থেকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী সবসময় প্রসংশিত হয়েছে।
রোববার থেকে শুরু হওয়া টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনও সফল করার বিকল্প নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আজকের সুস্থ শিশু মানেই আগামীর সুস্থ প্রজন্ম ও ভবিষ্যতের দক্ষ নাগরিক। শিশুদের লেখাপড়া- খেলাধুলায় সফল হওয়ার জন্য সুস্থতার বিকল্প নেই। যে সকল শিশু ইতোমধ্যে টিকা পেতে রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদের সঠিকভাবে টিকা দিতে হবে।
একইসাথে, রেজিস্ট্রেশন না করা শিশুদেরও রেজিস্ট্রেশন করিয়ে টিকার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টাইফয়েড টিকার উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই এবং টিকাটি হালাল সনদপ্রাপ্ত।
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় বেঙ্গুরা কে.বি.কে.আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, ডা. নির্গাত জাবীন, ডা. রাজশ্রী, ডা. তোফায়েল আহমদ, ডা. মাসুদুল আলম, ডা. শারমিন আকতার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমি বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ক্যাম্পেইনে উপজেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি মোট ৭২ হাজার ৬৪৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৭৬টি কেন্দ্রে ৫২ হাজার ৩৮৭ জন এবং কমিউনিটির ২১১টি কেন্দ্রে ২০ হাজার ২৫৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা কার্যক্রম চলবে ১২ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত, আর কমিউনিটি কেন্দ্রে ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান: সারাদেশের ন্যায় নওগাঁতেও শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের চক এনায়েত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে শিশুকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক টিএমএ মমিন, রংপুর মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান আলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম আজম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ, জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাদৎ হোসেন, নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জানানো হয় নওগাঁ জেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৫ জন শিশু ও কিশোরকে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্য রয়েছে। এপর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ জন। শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ও পর্যায়ক্রমে কমিউনিটি পর্যায়ে ১৮ দিন এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান: সারাদেশের মতো গাজীপুরের কালীগঞ্জেও শিশুদের টাইফয়েড রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে মাসব্যাপী জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সকল শিশুকে বিনামূল্যে একটি করে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে। রোববার সকালে কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপিত টিকাদান কেন্দ্রে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম কামরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ.টি.এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। টাইফয়েডের মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এই টিকাদান কর্মসূচি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’ তিনি এই মহৎ উদ্যোগ সফল করতে স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সকল অভিভাবককে নির্ধারিত সময়ে তাদের সন্তানদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রিজওয়ানা রশীদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘টাইফয়েড একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একটি মাত্র ডোজ টিকা শিশুদের এই রোগের গুরুতর প্রভাব থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকর।’ তিনি আরও জানান, মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। কোনো যোগ্য শিশু যেন এই টিকার আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচি কালীগঞ্জের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর থেকে জানান: ফরিদপুরে মাসব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে এই কর্মসুচির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের টাইফয়েডের টিকা প্রদান করে টিকাদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন ড. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিস ইসরাত জাহান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, জেলা তথ্য অফিসার মোজাম্মেল হোসেন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইকবাল হাসান সেনেটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও সময়োপযোগী। ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ২৮ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে একটি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে।’
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা থেকে জানান: মাগুরায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫ -এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় মাগুরা পিটিআই স্কুল প্রাঙ্গণে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ড. মো. শামীম কবির।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিবুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আফজাল হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. মহসিন উদ্দিন ফকির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. সুরভী আক্তার, মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার সব শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। যেখানে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
এ বছর মাগুরা জেলার চারটি উপজেলায় মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৩টি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
ক্যাম্পেইন সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
রংপুর ব্যুরো জানান: রংপুরে সাড়ে ৮ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টিকা প্রদান কার্যক্রমের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। রোববার সকালে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহা. আশরাফুল ইসলাম। পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কেএম জালাল উদ্দিন আকবরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ। এছাড়া টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এবিএম আবু হানিফ, অতিরিক্ত সচিব হুজুর আলী, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ড. গাওসুল আজম, উপপরিচালক ড. ওয়াজেদ আলী, ইউনিসেফ প্রধান তৌফিক আহমেদ।
উদ্বোধনী দিনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা গ্রহণ করেন। কোনো ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে দ্রুততম সময়ে টিকা গ্রহণ করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী আনিছুর রহমান, মেহেজাবিন ইসলাম, মৌমিতা সরকারসহ অন্যরা বলেন, বাসায় অনলাইনে টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছি। আমরা টিকা গ্রহণ নিয়ে প্রথমে অনেক ভয় পেয়েছিলাম। স্কুলে এসে দ্রুত টিকা নিতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। কোনা ধরনের ব্যথা হয় না। এছাড়া কেউ যদি কোনো কারণে অসুস্থ্য হয়ে যায়, সে জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনের অ্যাম্বুলেন্সসহ ডাক্তার রয়েছে। যে সকল বন্ধুরা এখনো টিকা গ্রহণ করেনি, আমরা তাদের দ্রুত টিকা নিয়ে সুস্থ্য থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনে দুই লাখের বেশি ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী ও টিকাপ্রদানকারীরা কাজ করছেন। নির্বিঘ্নে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমি আহ্বান জানাব, নিবন্ধনের মাধ্যমে যেন টিকা গ্রহণ করা হয়। তাহলে পরবর্তীতে বিদেশ ভ্রমণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে টাইফয়েড টিকা প্রদানের তথ্য কাজে লাগবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমকে উৎসবমুখর করতে বিভিন্ন স্কুলে শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছে। নির্ধারিত বয়সের সকল শিশু যেন টিকা পায় সে লক্ষ্যে নিবন্ধিত কিংবা অনিবন্ধিত শিশুদেরও টিকা দেওয়া হচ্ছে। নগরীতে মাইকিং, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বড় বড় বেলুন ওড়ানো, ট্রাকের মাধ্যমে গম্ভীরার আয়োজন করে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি করোনার মতো আমরা টাইফয়েড টিকাতেও সাফল্য অর্জন করব। এদিকে রংপুর সদর উপজেলার ধাপেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ড. শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় স্কুল পর্যায়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪০২ জন ও কমিউনিটি পর্যায়ে ২ লাখ ৯ হাজার ৪৫২ জন শিশুকে এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে ২ লাখ ১০ হাজার ৭১৯ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।
নাজমুল হাসান, নাটোর জানান: নাটোরে আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফয়েডের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের এই টিকা প্রদানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।
সিভিল সার্জন ড. মুক্তাদির আরেফীন জানান, ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় নিধার্রিত বয়সি শিশুদের মধ্যে এক হাজার ৫৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪১ জন শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকের এক হাজার ৭৫২টি টিকাদান কেন্দ্রে আরও এক লাখ ৩০ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। জেলার মোট চার লাখ ২৯ হাজার ৮৮২ জনের মধ্যে এক লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৭ জন শিশু এই টিকা পাবে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ২০১৭ সাল থেকে দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে টাইফয়েড টিকা গ্রহণ কার্যক্রম চালু আছে। ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত পাকিস্তান এবং নেপালে সরকারি পর্যায়ে টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিন হাজার তিনশ টাকা মূল্যমানের এক একটি টিকা পরীক্ষিত এবং নিরাপদ বলে জানান সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক।
রুমা প্রতিনিধি জানান: দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৫’। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রুমা বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসানের সভাপতিত্বে এতে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান।
কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- ইপিআই টেকনোলজিস্ট চচমং মারমা, পরিসংখ্যানবিদ উথোয়াইপ্রু খেয়াং ও রুমা বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রথম দিনে বিদ্যালয়টিতে ৪৫৬ জন শিক্ষার্থীকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি সকল শিশু ও প্রাক–প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ডোজ টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রথম পর্যায়ে ১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১২টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই টাইফয়েদ টিকা একটি করে ডোজ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে পর্যায়ে ৩৫৬২ জন। আর কমিউনিটি পর্যায়ে এক নভেম্বর থেকে ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর মতে ২১৮৫ জনকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে-৪১৮১জন।
যা বান্দরবান পার্বত্য জেলা ৭টি উপজেলার মধ্যে রুমো উপজেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। টিকাদানের অর্জিত নিবন্ধিত ৭২.০৮ বলে পরিসংখ্যানবিদ উথোয়াইপ্রু খেয়াং জানিয়েছেন।
নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এজাহার নামীয় আসামিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় নরসিংদী জেলার এসপি ও মাধবদী থানার ওসির অপসারণের জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ চত্বরে ক্র্যাবের আয়োজনে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান ক্র্যাব সভাপতি।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ, ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-ডিজাব, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন-র্যাক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি কেউই ক্র্যাবের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আহতদের দেখতেও যাননি, যা খুবই দু:খজনক। নরসিংদীতে যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। কারণ পুলিশ ওইসব চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ভাগ পায়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় নরসিংদী জেলার এসপি ও থানার ওসির অপসারণের দাবি জানান তিনি।
ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা যখন আঘাতপ্রাপ্ত তখন বোঝা যায় দেশের কী অবস্থা। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা স্পষ্ট।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, এ ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্যই শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে এ দেশের মানুষ। সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু সালেহ আকন বলেন, এদের দিয়ে কিছু হবে না। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছেনা।
প্রতিবাদ সভায় ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ বলেন, ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করা প্রশাসনিক গাফিলতি। ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু না করে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ।
প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আজিজুল হাকিম, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মধুসূদন মন্ডল, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান খান, ক্র্যাবের সাবেক সহ সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী, জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন, ক্র্যাবের সহসভাপতি জিয়া খানসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ক্র্যাবের পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ১০ জন ক্র্যাব সদস্য আহত হন, যাদের ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নরসিংদী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে তারা এখন নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় নরসিংদির মধাবদী থানায় একটি মামলা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে প্রার্থীরা একত্রে এ ইশতেহার পাঠ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, ইসলামী আন্দোলনের নুরে আলম সিদ্দিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতিসহ ফুলবাড়িয়ার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৃথক পৃথক ইশতেহার পাঠ করেন। তবে এদিন অসুস্থতার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেননি।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জীবনের সর্বোচ্চ দিয়ে হলেও ফুলবাড়িয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তথা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি প্রার্থীদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ঐক্য ধরে রাখার ব্যাপারে অনুরোধ করেন। সেই সাথে ফুলবাড়িয়া গণমানুষের আকাঙ্খাগুলো পূরণের ব্যাপারেও দাবি জানান তিনি।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার,থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ,সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম,আনসার ভিডিপি অফিসার কুসুম কুমার রায় প্রমূখ।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের লাইট গ্রামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত যুব মহিলাদের অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক। প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক পারভীন সুলতানা ও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম। সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা আফরোজা আক্তার লিজা। বক্তারা বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এ ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র অর্জনের মাধ্যমে নারীরা এখন থেকে বিভিন্ন কর্মসংস্থানে নিজেদের যুক্ত করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যুব মহিলারা উপস্থিত ছিলেন।
আর দু’মাসের মধ্যেই আসামে বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যে দলের কর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন, রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের— যাদের তিনি ‘মিঁয়া' বলে উল্লেখ করেন— যতটা সম্ভব হয়রানির মধ্যে রাখতে। বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন (স্পেশাল রিভিশন বা এসআর) প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রায় ৫ লাখ মুসলমান নাগরিকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
২০১৬ সালে আসামে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি বাংলাভাষী মুসলমানদের ঘিরে ধারাবাহিক রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে এসেছে। তবে ২০২১ সালে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই বয়ান আরও তীব্র হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে এবার তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই সরাসরি এই জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কথা বলতে শুরু করেছেন।
২৭ জানুয়ারি ডিব্রুগড়ে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে এসআর প্রক্রিয়ায় বিজেপির কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ দায়ের করছেন। তিনি জানান, এটি কেবল ঘটছে তা নয়, বরং এটাই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান।
তিনি বলেন, যদি ‘মিঁয়া মুসলমানদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করা হয়, তবে মনে হবে আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর কোনো অস্তিত্ব নেই। তার দাবি, এই জনগোষ্ঠীকে ‘চাপে রাখা’ প্রয়োজন, না হলে তারা জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করে নেবে। তিনি একে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, এই অবস্থানের মাধ্যমে ‘প্রতিরোধ’ দেখানোই সরকারের লক্ষ্য।
তার বয়ান, ‘আমরা যদি মিঁয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করি, তবে মনে হবে আসামে একেবারেই অবৈধ বিদেশি নেই। আমি দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন যত বেশি সম্ভব অভিযোগ দায়ের করে এবং সেটা হবে শুধুমাত্র মিঁয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এই সম্প্রদায়ের লোকেদের চাপে রাখতে হবে, না হলে তারা আমাদের মাথার উপর চড়ে বসবে। তারা ভেবেছে আসামের জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করবে। আমরা যদি এর বিরুদ্ধে কিছুই না করি, তাহলে মনে হবে অসমীয়ারা দুর্বল। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই এবং আমরা মিঁয়াদের এই রাজ্যে শান্তিতে থাকতে দেব না।’
কীভাবে এই ‘চাপ’ সৃষ্টি করা হবে, তাও মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘গুয়াহাটিতে আমি দেখেছি অনেক মুসলমান অটোচালক রয়েছে। তাদের অটোতে উঠবেন এবং নামার পর যদি পাঁচ টাকা ভাড়া চায়, চার টাকা দেবেন। তারা উৎপাত করলে প্রয়োজনে পেটাতে হবে। যেসব জায়গায় তারা কাজের সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছে, সেখানেও আক্রমণ করতে হবে। আমি বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়া কন্টাক্টারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জানিয়েছি, মিঁয়া মুসলমানদের হটিয়ে স্থানীয় অসমীয়াদের সুযোগ দেওয়া হোক। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে কাজের সুযোগ— সব জায়গায় সম্মিলিত আক্রমণ করতে হবে। অসমীয়া হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।’
এই মন্তব্যগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক। কেউ কেউ বলেছেন, আসামে একসময় প্রতিবাদের পরিবেশ ছিল, কিন্তু এখন সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা নিরাপদ নয়।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সরাসরি মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন, তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র রাজনীতির স্বার্থে একজন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সমাজের একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলছেন, এটা শুধুমাত্র দুর্ভাগ্যজনক নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি একের পর এক মন্তব্য করছেন এবং সাধারণ মানুষকে বলছেন মুসলমানদের যে কোনোভাবে যেন হেনস্থা করা হয়। যদি তার কথা শুনে তার দলের লোকেরা এ ধরনের কাজ শুরু করে, তাহলে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া আসতে সময় লাগবে না। হয়তো মুখ্যমন্ত্রী এমনটাই চাইছেন। তবে আমরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করব। এই বক্তব্য সংবিধান-বিরোধী এবং আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করব।’
হাফিজ রশিদ জানান, শুধু মুসলমানরাই নন, অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন বহু হিন্দুও এই বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে আসাম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং তা সংবিধানসম্মত ভোটাধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।
ফেনী শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে জেলা যুবদলের আহবায়ক নাছির উদ্দীন খোন্দকারের আয়োজনে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী মিট দ্যা ইয়াং লিডার্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন, ডকুমেন্টারি দেখানো, ইউথ আইডিয়া শেয়ারিং ও কালচারাল অনুষ্ঠান,কুইজ প্রতিযোগিতা ও র্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হাসান উদ্দিন। অনুষ্ঠানে তিনি মেধাভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্ব আলোকপাত ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এতে জেলার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০জন ইয়াং লিডারর্স অংশ গ্রহণ করেন। তারা মেধাভিত্তিক রাজনীতির কৌশল জানতে চান।
অনুষ্ঠানে আগত পরশুরাম ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস জানান, কিভাবে নতুন নেতৃত্ত্ব তৈরি করা যায় তার কৌশল সম্পর্কে ধারনা নিয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জন করাই ছিলো মূল লক্ষ। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশী হওয়া দরকার। আগামী দিনগুলো দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক রাজনীতি করার সময়।
ফেনী ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিঝুম প্রবন্ধ উপস্থাপক প্রফেসর ড. মো. হাসান উদ্দিনের কাছে জানতে চান, কেন্দ্রে গিয়ে কিভাবে ভোট দিবে। সে কৌশল নিয়েও আলোচনা করেন প্রফেসর হাসান। এই ছাড়াও প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ নেন ছাগলনাইয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তানজিদুল মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক নোমান। ছাগলনাইয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি আলী আক্কাসসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুন নেতারা।
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম মিলনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ বিএনপি প্রার্থীর সমন্বয়ক মো. রাশেদ ইকবাল,বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ডক্টর নিজাম উদ্দিন।
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ফুটওভার ব্রিজের (পদচারীসেতু) দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি হয়। ওই এলাকায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাকচাপায় মাদরাসাছাত্রী ও পথচারী নিহত হয়েছিলেন।
বড়তাকিয়া জাহিদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকেরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এতে সংহতি জানিয়ে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরাও হাজির হন। কর্মসূচিতে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দিন, খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রবাল ভৌমিক, বড়তাকিয়া বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বড়তাকিয়া বাজারের পূর্ব পাশে বড়তাকিয়া মাজার ও বড়তাকিয়া যাহেদিয়া মাদরাসার গেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলেন চালকেরা। এ ছাড়া মানুষজনও এলোপাতাড়ি রাস্তা পারাপার হয়। এতে বারবার স্থানটিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ এলাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রবেশ মুখের এ জায়গাটিতে বড়তাকিয়া বাজার, আবুতোরাবের প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ, বরতাকিয়া বাজার এলাকায় আবুল কাশেম গার্লস হাইস্কুল, খৈয়াছড়া উচ্চবিদ্যালয়, খৈয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়তাকিয়া যাহেদিয়া দাখিল মাদরাসা ও একটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এ এলাকার সড়ক পার হন। কিন্তু বারবার আবেদন করার পরেও স্থানটিতে কোনো পদচারীসেতু দেওয়া হচ্ছে না।
জানতে চাইলে মানববন্ধনের অন্যতম আয়োজক মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন, ‘মানববন্ধন শেষ করে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। যত দিন এই স্থানে পদচারীসেতু তৈরি না হয়, তত দিন যেন এখানে দুজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকে এটিই তাঁদের দাবি।’
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বড়তাকিয়া বাজার এলাকায় পদচারীসেতুর উপযোগিতা আছে কি না, সেটি আমরা সমীক্ষা করে দেখব। বাস্তবতা থাকলে পদচারীসেতু স্থাপনের বিষয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার ভেটখালি নতুন ঘেরি মুণ্ডাপাড়া এলাকায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্যামনগর, সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন এলাকার ৪০ জনও বেশি প্রতিযোগী দুই শতাধিক মোরগ নিয়ে অংশ নেন। লড়াই দেখতে হাজারও মানুষের সমাগম ঘটে।
মোরগ লড়াই আয়োজক কমিটির পঞ্চানন মুন্ডা জানান, পৌষের শেষ দিনে পিঠা-পার্বণ উৎসবের সঙ্গে সাকরাইন উৎসবের অংশ হিসেবে সুদীর্ঘকাল ধরে মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিযোগিতায় চার শতাধিক মোরগ নিয়ে ৪০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। সেই সঙ্গে মোরগের পায়ে ধারালো চাকু স্থাপনের জন্য ১০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ উপস্থিত হয়েছিলেন।
শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর ফটকের সামনে বেলা সাড়ে ১১টায় এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টার প্ল্যান’, ‘আবু সাইদ, মুগ্ধ—শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব—জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘চাঁদাবাজের কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন, খুনি তারেক জবাব দে’, ‘তারেক তোমার অনেক গুণ, আমার ভাইরে করও খুন।’
সমাবেশে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শেরপুরে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একদিকে তারা সুশাসনের কথা বলছে, অন্যদিকে নির্বাচনী পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, কিন্তু বাস্তবে তারা মানুষ খুন করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সব ধরনের হত্যার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা বিএনপিকে সবচেয়ে মজলুম মনে করেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম তাদের হাত ধরে এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে কোনো নির্যাতন থাকবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আমরা বলতে চাই বিএনপিকে এখানেই থামতে হবে। তারেক রহমান কী প্ল্যান নিয়ে আসছেন আমরা জানি না, তবে যদি সেই প্ল্যান মানুষ খুনের হয়, তাহলে সেই পথ থেকে সরে আসুন। ৫ আগস্ট আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিলাম, এবার যদি আবার নামতে বাধ্য হোই, তাহলে আপনার অবস্থান হবে লন্ডনে।’
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তের ৩০ ফুট নিচে পড়ে মিসবাহ নামে ৪ বছর বয়সি এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক হাবিবুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর বড়ুয়াপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।
চার বছর আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নলকূপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া গর্ত ঢেকে না রাখার অবহেলার কারণে প্রাণ হারায় শিশুটি।
স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নলকূপের গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। অসাবধানতাবশত শিশুটি সেখানে পড়ে যায় এবং গভীরে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। তবে সে অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। খননযন্ত্র (ভেকু) ও বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’0 স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া বসতঘরের মাত্র ২০-৩০ ফুট দূরত্বে সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এলাকাটি টিলাভূমি হওয়ায় গভীর গর্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করে। তবে অনেক চেষ্টা করেও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।’ রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, প্রথমে রাউজান ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়। শিশুটি প্রায় ১২ ফুট গভীরে আটকে ছিল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নলকূপের গর্ত খোলা রাখার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় দুই বছরের সাজিদ।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা ৩১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ৪৫ ফুট মাটি খুঁড়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। দেড় মাস পরই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল চট্টগ্রামের রাউজানে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থী নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর দায়ে তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিনূর রহমান ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ সারিয়াকান্দি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম। এসময় সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর৷ মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম মন্ডল, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস সরকারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন তার নির্বাচনী জনসভা, মাইকিং, লিফলেট এবং ডিজিটাল প্যানায় নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে প্রচার করছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলা বা বগুড়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় তার কোনো নাম নেই। এমনকি সরকারি কোনো গেজেট বা দালিলিক নথিতেও তার বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী প্রচারণায় এমন অসত্য তথ্য ব্যবহার করা ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, নিজেকে ভুয়া পরিচয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি ভোটারদের আবেগ ও সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
নির্বাচনী এলাকায় বিতরণকৃত লিফলেট ও প্যানায় তার নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পদবী ব্যবহার করায় সাধারণ ভোটার ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই এমন গৌরবোজ্জ্বল পদবী ব্যবহার করা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবমাননার শামিল।
বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল না থাকলে এবং প্রচারণায় অসত্য তথ্য দিলে কমিশনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এই বিষয়ে অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এ্যাড. শাহিন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি সুবিধা নিতে গ্যাজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে, এর কোনো বাধ্যকতা নেই।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে হরিণাকুন্ড পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত তাছলিমা আক্তার ওই গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী।
র্যাব-৬ এর কম্পানী কমান্ডার এএসপি মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারী হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। হোসেন আলী ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা-সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার কে গ্রেফতার করে র্যাব-৬।
র্যাবের কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। সে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। পলতাক আসামীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি বন্দরে ৮ ঘণ্টার অপারেশনাল কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ নেতৃবৃন্দ। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করা করা হবে।
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই কঠোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। বন্দর শ্রমিকদের দাবি, এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি অত্যন্ত কৌশলগত ও লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। দেশীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এই টার্মিনালের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলে বন্দরের বিশাল অংকের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক সিবিএ নেতা মো. হুমায়ুন কবীর এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, এনসিটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা সাধারণ শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শ্রমিকদের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা এই কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৩১ জানুয়ারির কর্মসূচির পর যদি দাবি মানা না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এই কর্মবিরতির ঘোষণার ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার খালাস ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের স্থবিরতা নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এক দিনের ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিও বন্দরের জট কমাতে হিমশিম খাওয়ার কারণ হতে পারে। বন্দরের নিয়মিত ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান কামনা করেছেন, যাতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। শ্রমিক নেতারা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করা জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা শামীম আহসানকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। পাথরঘাটা উপজেলা কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে শামীম বিটিএর পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক পদে ছিলেন।
এর আগে বরগুনা জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি ও সদস্য পদ (রুকন) স্থগিত করে তাকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিটিএর পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম করিব গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ডাকসু নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষর্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে মানসিকভাবে আঘাত করেছেন। তাই মঙ্গলবার পাথরঘাঁটা উপজেলা শাখা বিটিএ কমিটি সভা করে তাকে উপজেলা কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা বিটিএ মঙ্গলবারই তার অব্যাহতিপত্র ইস্যু করেছে।
শনিবার রাতে শামীম আহসান এক নির্বাচনি জনসভায় বলেন, ‘আমরা দেখছি ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি এটা উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’