মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২

গরমে স্বস্তি দিতে উৎপাদনে আসছে ৬ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র

আরিফুজ্জামান তুহিন, ঢাকা
প্রকাশিত
আরিফুজ্জামান তুহিন, ঢাকা
প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০৯:১৬

আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে সরকার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি গ্যাস ও তিনটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র। এসব কেন্দ্র উৎপাদনে এলে বন্ধ রাখা হবে ডিজেল ও ফারনেস তেলভিত্তিক এবং ছোট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সরকারকে চিন্তায় পড়তে হবে না। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বেধে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এ কারণে সরকার তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখে লোডশেডিং করে। চাহিদার অন্তত ২৫ শতাংশ লোডশেড বা কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়ে জনজীবন। এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বন্ধে এবারই বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২০২৩ সালের গ্রীষ্মে লোডশেডিং না করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। ইউনিক মেঘনাঘাট, সামিট মেঘনাঘাট, রিলায়েন্স মেঘনাঘাট, রামপাল, আদানি এবং এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আনা হচ্ছে। এসব কেন্দ্র নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকারের পরিকল্পনা আছে এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আনা। সেটি করা গেলে আগামী গ্রীষ্মে লোডশেডিং থাকবে না।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় ফারনেস ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে অনেক কম। এসব কেন্দ্র উৎপাদনে এলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয়ও কমে আসবে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালানোর প্রয়োজন হবে না। এসবের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসেরও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৪৬টি কূপ খনন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু কূপ খনন করে গ্যাসও পাওয়া গেছে। আশা করছি আগামী গ্রীষ্মে এসব পরিকল্পনা কাজে দেবে, মানুষ স্বস্তিতে থাকবে।

ছয় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র সাশ্রয়ী হবে

পিডিবির প্রকৌশলীরা দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার। কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। আগামী জুনে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিকের ৫৮৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে। এতে স্থানীয় দুটি বিনিয়োগকারী সংস্থা ছাড়াও বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক ও কাতারের সরকারি সংস্থা নিবরাস পাওয়ার। প্রকল্পটিতে ঋণ দিয়েছে চীনের এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইইবি), সুইজারল্যান্ড সরকারের এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি, এসইআরভি-এর গ্যারান্টির আওতায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ১৩টি পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশ বা ওপেকভুক্ত দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক তহবিল এবং জাপানভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ডিইজি।

সামিট মেঘনাঘাট গ্যাসভিত্তিক ৫৮৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির নির্মাণকাজও শেষের দিকে। এ কেন্দ্রটি আগামী জুনে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এটি সামিট ও জাপানের জেরার যৌথ অংশীদারত্ব রয়েছে। এই প্রকল্পটিতে ঋণ দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকারের এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি, এসইআরভি-এর গ্যারান্টির আওতায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। কেন্দ্রটি0 নির্মাণে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ভারতের প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স মেঘনাঘাটে ৭১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। রিলায়েন্সের সঙ্গে এটির মালিকানায় জাপানের জেরা রয়েছে। কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী জুনে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে।

আগামী জুনে যেসব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসবে সেগুলো বিদ্যমান গ্যাসব্যবস্থার আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ইউনিক ও সামিটের কেন্দ্র দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) নাইনএইচএ টারবাইন ব্যবহার হবে, যা সংক্ষেপে এইচ ক্লাস বলা হয়ে থাকে। জিইর নাইনএইচএ টারবাইনের দক্ষতা ৬৪ শতাংশ। অন্যান্য গ্যাস টারবাইনের দক্ষতা ৩৫-৪০ শতাংশ। এর অর্থ হলো, একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, এতে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য যেমন অনেক কমে আসবে পাশাপাশি অল্প পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে বেশি পরিমান বিদ্যুৎ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা যাবে। এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। মূলত গ্যাস দিয়ে টারবাইন ঘোরানোর সময় গ্যাস উত্তপ্ত হয়। কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উত্তপ্ত গ্যাসকে বয়লারের মাধ্যমে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়, সেই বাষ্প দিয়ে আরেকটি টারবাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বাংলাদেশে এখনো অনেক সিম্পল সাইকেল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের সিম্পল সাইকেল কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের অনেক অপচয় হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রিলায়েন্সের টারবাইনটি কম্বাইন্ড সাইকেল হলেও এইচ ক্লাসের নয়। এইচ ক্লাসের টারবাইনগুলো সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে কম্বাইন্ড সাইকেলে থাকা দ্বিতীয় টারবাইনটি চালু করতে পারে।

পিডিবির প্রকৌশলীরা বলেছেন, ভারতের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপ দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে দেশটির ঝাড়খণ্ডের কোড্ডায়। কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটেরই নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। এটি থেকে সরকার আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ আনতে চায়।

চট্টগ্রামের কয়লাভিত্তিক এস আলমের ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। এটির ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিটটি আগামী বছর বাণিজ্যিক উৎপাদনে আনতে চায় সরকার।

এ ছাড়া বাগেরহাটের রামপালে সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও নির্মাণ শেষ। কেন্দ্রটি থেকে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে বিদ্যুৎ নিতে চায় সরকার।

ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে এর সম্মিলিত ক্ষমতা হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। এ ছাড়া পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অভাবে ঢাকায় আসছিল না, এটির সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রায় শেষ। এই বিদ্যুৎ ঢাকার আমিনবাজারে আসবে। এর ফলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ফারাক থাকবে না, ফলে লোডশেডিংয়ের চাপেও পড়বে না সরকার। এ ছাড়া এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয়ও অনেক কম হবে, সে কারণে গড় বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও কমে যাবে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

দেশে ১৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে পিক পাওয়ার (সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত) ঘণ্টাপ্রতি গড়ে ১৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সময় গড়ে ১১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। এতে ঘাটতি থেকেছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে এই সংকট থাকবে না, সাশ্রয়ী মূল্যেও পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেইন টেলিফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, আগামী গ্রীষ্ম মোকাবিলা করার জন্য আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। এসবের মধ্যে রয়েছে রামপাল, আদানি, এস আলমের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পায়রার সঞ্চালন লাইন ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে, সেটিও যোগ হবে। এ ছাড়া গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আনা হবে। এসবই সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, সে অনুযায়ী কাজও হচ্ছে। আগামী বছর সেচের জন্য বিদ্যুৎ, গ্রীষ্মের চাহিদা থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে।


সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, সিরিয়াল কিলার সম্রাট গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠাণ্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কমিউনিটি সেন্টার থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এ তথ্য দেন।

আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তার পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।’

সাভার থানার পরিদর্শক অপারেশন হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আরও এক ভবঘুরে নারীকে কমিউনিটি সেন্টারে দেখা যায়। সম্রাট তাকেও ওই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।’

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। একেক দিন একেক রকম পোশাক পরতেন। তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবার্তা বলতেন, এ কারণে সবাই তাকে পাগল মনে করতেন। আসলে তিনি পাগল নন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আরও কোনো হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’


সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ্ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় তাদের হাতে ‘জাস্টিস ফর সাজিদ; হত্যার ১৮৬তম দিন আজ আর কত অপেক্ষা? সাজিদ ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে? প্রশাসনের হেলাফেলা মানিনা মানব না; কার ভয়ে প্রশাসন চুপ?” ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সাজিদ হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।


নেত্রকোনায় গুণীজনের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনার আয়োজনে প্রিয় গুণীজনের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা সংস্কৃতিজন মোজাম্মেল হক বাচ্চু, নেত্রকোনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিমসহ বিশিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কনক পণ্ডিত ও সঞ্চালনায় ছিলেন- সুলতানা রাজিয়া। আলোচনা শেষে সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনার পক্ষ থেকে তৃণমূল নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের জন্য-নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী আফরোজা আক্তার লিজাকে ও বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য-কবি ও কথাসাহিত্যিক ইভান অনিরুদ্ধকে-২০২৫ পুরস্কার ও সংবর্ধনায় ভূষিত করা হয়। আলোচনার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক গান ও নিত্য পরিবেশন করা হয়। এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


বরিশালে প্রতিদিন গড়ে ৯ ডিভোর্স, বিচ্ছেদের পথে এগিয়ে নারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। গত দুই বছরে নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় তালাকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে নয়টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এসব বিচ্ছেদের আবেদনে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসার জীবনে আস্থা ও সহনশীলতার অভাব, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক এবং পরকীয়ার মতো বিষয়গুলো সংসার ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তালাকের পথে গড়াচ্ছে বহু পরিবার।

বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, দাম্পত্য জীবনে আস্থা হারিয়ে তিনি একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারে কলহ ও অবিশ্বাস তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। যদিও পরে তিনি বেঁচে ফেরেন, তবে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান সামাজিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। যৌতুকের চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধে ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক। এক তরুণী জানান, পরিবারের অমতে প্রেমের বিয়ে করেছিলেন তিনি। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও পরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।

নারীদের অভিযোগ, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে সংসারে অশান্তি বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছরে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৫টি সংসার। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭টি। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অধিকাংশ অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা।

সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসা এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়াই এই সংকটকে তীব্র করছে। তারা বলছেন, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের আবেদন তুলনামূলক বেশি। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র‍্যাব-৭-এ কর্মরত ডিএডি মো. মোতালেব নামের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

নিহত মোতালেব মূলত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে নিয়োজিত ছিলেন। অভিযানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে আরও কয়েকজন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “র‌্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কয়েকজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

দীর্ঘ চার দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন ও দুর্ধর্ষ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে একটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে উঠেছে, যারা নিজস্ব পরিচয়পত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও সেখানে প্রায়ই সংঘবদ্ধ সশস্ত্র বাধার সৃষ্টি করা হয়। এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’ ও ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নামক দুটি প্রভাবশালী সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। ইয়াসিন মিয়া, কাজী মশিউর ও গাজী সাদেকের মতো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিশাল বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে আসছে। বর্তমানে ঘাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ওই এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক তল্লাশি ও যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আর কোনো গুম, খুন করতে না পারার জন্যই ‘হ্যাঁ-না’ ভোট: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

যাতে আগের মতো আর কোনো স্বৈরাচার মানুষকে গুম, খুন যেন না করতে পারে এ জন্যই ‘হ্যাঁ-না’ ভোট। আর সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটটা এ সরকারের জন্য অপরিহার্য হয়েছে। সংস্কারের জন্য এ সরকার এসেছে। সংস্কার এ সরকারের একটা ম্যান্ডেট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদারে অংশ হিসেবে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জয়পুরহাট সিভিল সার্জন মো. আল মামুন, তথ্য কর্মকর্তা ইব্রাহিম মোল্লা, জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সাধারণ মানুষের মাঝে গণভোটের সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে নানা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়।

এদিকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দোগাছিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট ২০২৬ ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক এক উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।


চরে কোটি টাকার ব্রিজ, নেই সংযোগ সড়ক: ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সংযোগ সড়ক ছাড়াই চরে নির্মাণ করা হয়েছে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ। সড়ক না থাকায় ব্রিজটি কাজে আসছে না চরাঞ্চলের মানুষের।

উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইষ্ণার চরে নির্মিত এ গার্ডার ব্রিজটি এখন পরিত্যক্ত। গাফিলতির অভিযোগে ১ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পরে আছে নির্মাণসামগ্রী, মরিচা ধরছে রডগুলোতে। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতির ঘাটতি, সংযোগ সড়ক না থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাতায়াতের কোনো সড়ক না থাকায় এই চরাঞ্চলের কুলপাল, কাজল গ্রাম, কুমারপাড়া, বারিকান্দি পার্শ্ববর্তী কাজীপুর উপজেলার পানিবাড়ী, ৬নং চর ও লক্ষীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষকে নৌকাযোগে চলাচল করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওনা ইউনিয়নের আওনা-ঘুইষ্ণার চর এলাকার যমুনা নদীর শাখা অংশের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুইটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশন’। বর্তমানে একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও অন্যটির নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে। এ চরাঞ্চলে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকলেও সেখানে কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইটি গার্ডার ব্রিজ, যা কোনো কাজেই আসছে না এই এলাকার জনসাধারণের। এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকল্পের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী।

চরাঞ্চলের বাসিন্দা বৃদ্ধ খবির উদ্দিন, আমেনা বেওয়া, শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম, মনা, আখিসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বর্ষার সময় এই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে থাকে, তখন নৌকা ছাড়া কোথাও চলাচল করা যায় না, ব্রিজের আগে এই চরাঞ্চলে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি। যেখানে রাস্তাই নাই সেখানে ব্রিজ দিয়ে কী হবে? আমাদের এই ব্রিজ পর্যন্ত আসতে আরও দুইটি নদী নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। যেখানে আগে ব্রিজ প্রয়োজন ছিল, সেখানে না করে জনমানবহীন স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ঘুইষ্ণাচর গুচ্ছ গ্রাম (আশ্রয়ন প্রকল্প) জন্য নির্মাণাধীন অন্য গার্ডার ব্রিজটির ছাদে রড বাঁধা অবস্থায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে নেই কোনো অগ্রগতি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। রডে মরিচা ধরছে, যা নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মেসার্স এবিএম ফয়সাল কন্সট্রাকশন এর ঠিকাদার মো. মকবুল হোসেন বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে খুবই কষ্টকর ও ব্যায়বহুল। তবে ব্রিজের কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল বলেন, এটা ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কাজ। তৎকালিন কর্মকর্তা পরিদর্শনপূর্বক স্থান নির্ধারণ করেন। বর্তমানে সেই কাজটিই চলমান রয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে একটি ব্রিজের দুপাশে সংযোগ সড়ক নিমাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্যটিতেও সড়কের কাজ শুরু করা হবে।


রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হলো কৃষকের স্বপ্ন, নিধন ৩ শত কলাগাছ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় গভীর রাতে এক অসহায় কৃষকের স্বপ্ন ও জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত হানা হয়েছে। ফলন্ত অবস্থায় থাকা ৩ শতাধিক কলাগাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গালঘাট গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের আব্দুল হাকিম ও টিটুর মধ্যে জমি ও কলা বাগানকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে টিটু পক্ষের লোকজন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হাকিমের কলা বাগানে অনুপ্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩ শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলে।

সকালে বাগানে গিয়ে কাটা গাছগুলো দেখতে পান হাকিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। মুহূর্তেই বাগানজুড়ে নেমে আসে কান্না আর হতাশার ছায়া। চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায় তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর ভবিষ্যৎ জীবিকার শেষ আশাটুকু।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই কলা বাগানটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। গাছগুলো আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার কথা ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে আমাদের সর্বনাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু গাছ কাটার ঘটনা নয়, এটি একজন কৃষকের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, কৃষকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


হাটহাজারীতে ৪০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে হাটহাজারী উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ৪০ জন কৃষক–কৃষাণির মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় ওই প্রযুক্তি গ্রামের মোট ৪০ একর কৃষিজমিতে পরিচালিত প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল- ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেটসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক। পাশাপাশি পরীক্ষণ প্লট চিহ্নিত করার জন্য সাইনবোর্ডও প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এলএসটিডি প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. আমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বোরো মৌসুমে সঠিক বয়সের চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ধানের সর্বোচ্চ ফলন অর্জন সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক ধান চাষাবাদ প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ধান উৎপাদনকে টেকসই করা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এ সময় হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, মো. জহিরুল ইসলাম ও নুরুল আবসার উপস্থিত ছিলেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম এলাকার কৃষকদের আধুনিক ধান চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করবে। উল্লেখ্য, এর আগে এই পরীক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল।’


রাঙামাটিতে এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। বিকেল চারটায় রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সুকুমার দেওয়ানের নেতৃত্বে এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

এনসিপির রাঙামাটি সদর ও জুরাছড়ি উপজেলার এই বিশাল সংখ্যক নেতা-কর্মীর দলবদল প্রসঙ্গে সুকুমার দেওয়ান জানান, ‘রাঙামাটি সদর উপজেলা ও জুরাছড়ি দুই উপজেলা থেকে আমাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।’ তবে বিষয়টি সম্পর্কে এনসিপির রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘যোগদানের বিষয়টি শুনেছি। কারা যোগদান করেছেন, তা সঠিকভাবে জানি না, তবে সুকুমার দেওয়ানের নাম শুনেছি।’

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবাগতদের স্বাগত জানান রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। তিনি দলটির প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের বিকল্প নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তাঁরা সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। এনসিপি ছেড়ে আসা এই নেতা-কর্মীরা আগামী দিনে বিএনপির পতাকাতলে থেকে দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদী পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শহরের নবগঙ্গা নদীর ক্যাসেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৩ দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। সেসময় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন উদ্দিন, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজন এ অভিযান চলবে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শহরের ক্যাসেল ব্রিজ ত্রিমোহনা থেকে চাকলাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড় পরিস্কার, কচুরিপানা অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।


মাগুরায় নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ মাগুরায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে হচ্ছে।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে সকাল ৯টায় নিবন্ধন ও পরিচয় পর্বের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভসূচনা হয়। পরে ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা’—বিষয়ক আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার, নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন প্রশিক্ষক হিসাবে শারমীন রিনভী নির্বাচন রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সভাপতি ইআরএফ।

প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বিশেষত নির্বাচন কাভারেজে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পিআইবির প্রশিক্ষক শাহ আলম সৈকত, তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সজীব, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরন।

প্রশিক্ষণে মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার ৫০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেয়।


শীতার্ত মানুষের পাশে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব, দুই শতাধিক শীতার্ত পেল কম্বল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজর) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অসহায় ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব যেভাবে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যান্ত প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সংগঠন এভাবে এগিয়ে এলে কোনো মানুষই শীতে কষ্ট পাবে না।’

কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক নির্মল এস পলাশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রায়, প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, শাব্বীর এলাহী, পিন্টু দেবনাথ প্রমুখ।

এসময় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, কনকনে শীতে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষগুলো কষ্টে আছেন। তাদের সামান্য উষ্ণতা দিতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আগামীতেও সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


banner close