২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে ছেলে তাহসীন হোসেন (১৫)। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ এবং পদদলিত হয়ে মারা গেলেন স্বামী মো. নিরব হোসেন (৫৬)। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে পঙ্গু ছেলে ও স্বামীর লাশ নিয়ে পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে এসেছেন স্ত্রী তাহেরা বেগম (৪০)। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা ছেলে তাহসীনকে নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পরেছেন তাহেরা। মানুষের দিকে অপলক দৃষ্টাতে তাকিয়ে আছেন তিনি। একটাই প্রশ্ন পঙ্গুত্ব বরণ করা ছেলে তাহসীন এবং মেয়ে নাফিজা নওরীনকে নিয়ে কিভাবে দিন যাবে তার। তার এই তিন সদস্যের সংসার কীভাবে চলবে।
নিরব হোসেনের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড়ডালিমা গ্রামে। নিরব হোসেন বিএনপিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং দলটির একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন। তিনি বুধবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া এভিনিউতে যান। জানাজা শেষে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ফেরার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পদদলিত হন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকালে স্থানীয় বড় ডালিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অনটনের কারণে ঢাকায় পাড়ি জমান নিরব হোসেন। ঢাকার বড় মগবাজার এলাকার ডাক্তার গলিতে একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন নিরব হোসেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সংসার চালাতেন। উপার্জন সামান্য হলেও সুখেই ছিল পরিবারটি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই একমাত্র ছেলে তাহসীন হোসেন (নাহিয়ান) জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সঙ্গে অংশ নেয়। ৪ আগস্ট বিকেলে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় মেরুদণ্ডে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তাহসীন হোসেন। সরকারিভাবে দেশে ও বিদেশে (থাইল্যান্ড) নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাহসীন হোসেন তখন নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে তার। এখনো সে চিকিৎসাধীন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে হুইলচেয়ারে করে গ্রামের বাড়ি বাউফলে এসেছেন তাহসীন হোসেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই সে দাড়াতে এবং হাঁটতে পারছে না।
জুলাইযোদ্ধা তাহসীন হোসেন বলেন, আমার বাবাই আমাকে দেখাশোনা করতো। আমি ঢাকায় সিএমএইচে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ছিলাম। মঙ্গলবার রাতে বাবার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। ‘বাবা ফোন করে জানতে চেয়েছেন, হাসপাতালে কেমন আছি, রাতে খাবার খেয়েছি কি না। আমাকে দেখাশোনা করার মতো পরিবারো আর কেউ নাই। জানি না এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? আমার দেখভাল কে করবে?’
তাহেরা বেগম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে গিয়ে একমাত্র ছেলে তাহসিন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। গুলির আঘাতে তার মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ড ছিঁড়ে যায়। পঙ্গু হয়ে গেছে, হাঁটতে পারে না। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে সিএমএস হাসপাতালে রেফার করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও সুস্থ না হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে পাঠানো হয়। সেখানে চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। পরে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সিএনএস হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ারও মতো বোধ নেই ওর। শিশু বাচ্চাদের মতো প্যাম্পার্স পরিয়ে রাখতে হয়। খুবই দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয় তাদের। চার সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন স্বামী নিরব হোসেন। তিনি মারা যাওয়ায় তিন সদস্যের সংসার চালানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই তার।
নিরব হোসেনের জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, নিরব হোসেনের মৃত্যুর খবর তারেক রহমান জানতে পেরে ফোন করে বলেছেন, এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তার ছেলে জুলাইযোদ্ধা তাহসিনের চিকিৎসার জন্য দেশে বা বিদেশে যা কিছু করা প্রয়োজন, তা করা হবে। পরিবারে কেউ কর্মক্ষম থাকলে তাকে কাজের ব্যবস্থাও করা হবে। বিএনপি সব সময় এই পরিবারের পাশে থাকবে। এতে তিনি তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে এসেছেন নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভারতের পালিয়ে থাকা অপরাধীদের পাঠানোর বিষয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের ফেরত পেতে সময়ের প্রয়োজন। তবে তাদের দেশে ফেরত আনা হবে। এক সময় না এক সময় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে দেশে ফিরতেই হবে এবং বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় অবস্থিত নিতাই গৌর সেবাশ্রমে অধ্যক্ষ বাবাজী মহারাজ চিন্ময় আনন্দ দাসের (চঞ্চল গোসাই) সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সারা বাংলাদেশে অত্যন্ত সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা গ্রাম ও শহরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধীদের কথা বলে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। তারা নিজেরাই নিজেদের ডিসকোয়ালিফাইড করেছে। কোনো রাজনৈতিক দল যখন হাতে অস্ত্র তুলে নেয়, সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়, তখন জনগণ সেই দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। স্বাধীনতার চেতনাকে পুঁজি করে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পুলিশ ও এনএসআইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও জুলুম চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এজন্য তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে এসে বিচার মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে আসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশ ত্যাগ করেন।
এসময় সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম, মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, নিতাই গৌর সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ধর্ষেণের হুমকির প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশন ও ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের সদস্য নুরনবীর ওপর ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের শ্রমিকদের হামলার প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশনের সদস্যরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের গাজীপুরে চলাচলের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে তারা টঙ্গীতে অনুপ্রবেশ করছে। তাদের চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। যাত্রীদের হয়রানি করেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেন এই পরিবহনের চালক ও হেলপাররা। এ সময় বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশনের সদস্য নুরনবী প্রতিবাদ করায় তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা পুলিশের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং নুরনবীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ভিক্টর পরিবহন বন্ধ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির মূখ্য সংগঠক আকাশ ঘোষ, যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আকাশ সহ বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশনের কর্মীরা।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে আছি মাদারীপুর’ এর আয়োজনে মাদারীপুর পৌরশহরে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে ভাসমান ও হতদরিদ্রদের মাঝে শতাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ‘রাইটস্ যশোর’ এনজিও এর মাদারীপুর জেলার প্রোগ্রাম অফিসার বায়োজিদ মিয়া তার কর্মীদের সাথে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে-ঘুরে ছিন্নমূল, ভাসমান ও হতদরিদ্রদের মাঝে ভালো মানের নতুন জ্যাকেট বিতরণ করেন। এ সময় তার সাথে যোগ দেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলার সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থা ‘আসক ফাউন্ডেশন’ এর জেলা শাখার সভাপতি শরীফ ফায়েজুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ, সমাজসেবী হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলন সহ ওই সংগঠনের উপদেষ্টারা, সমন্বয়ক ও কর্মীরা। মানবিক এই কাজকে সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।
প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মাগুরার বিভিন্ন এলাকার মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। দেখে মনে হয় যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকৃতি যেন সেজেছে এক মনোমুগ্ধকর সাজে। মাঝে মাঝে পৌষের হিমশীতল বাতাস এসে দোলা দিচ্ছে সরিষা ফুলে। যা প্রতিনিয়ত মানুষের মন কারছে। আর প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে প্রতিদিন মাগুরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন কেউ বা আবার টিক-টক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের জুইতারা গ্রাম, আলমখালী, পাটকেলবাড়ি, মালঞ্চি সহ বিভিন্ন গ্রাম গুলোর মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙে সজ্জিত সরিষা ফুল। যার সৌন্দর্যে ছুটে আসছে মৌমাছিরাও। কিছু কিছু মাঠ ঘুরে দেখা যায় ফুল ঝরে ফল আসতে শুরু করেছে।
সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের জুইতারা গ্রামের কৃষক ছমির মিয়া বলেন, প্রতিবছরই মাগুরায় সরিষা অনেক ভালো হয়। তবে এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষা ভালো হইছে। আমি এক বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করছি আশা করি ভালো লাভ হবে।
জেলার কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, এ বছর জেলায় ২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদরে ১০ হাজার ৪০৮ হেক্টর, শ্রীপুরে ১,৪০৫ হেক্টর, শালিখায় ৭,৩৬০ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ৩,৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
মাগুরার কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর সরিষা চাষের জন্য কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রচণ্ড শীতে বা কুয়াশায় তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি।
সরিষা ফুলের মাঠ দেখতে আসা দর্শনার্থী শাকিরা বলেন, প্রতিবছর মাগুরা শহর থেকে সরিষা ফুলের মাঠ দেখতে আসি। প্রকৃতির এত সুন্দর মনোরম পরিবেশ না দেখে থাকতে পারিনা। প্রতিবছরই কোনো না কোনো মাঠে যেয়ে আমরা ছবি তুলি। মাঠের পাশ দিয়ে যে যাবে তারই মন চাইবে একবার এই অপরূপ সৌন্দর্যের ফুলগুলিকে ছুঁয়ে দেখতে।
গারো পাহাড় সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় মদ ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গত বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, আতশ, গরু ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ভূঁইয়াপাড়া, হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও গাবরাখালী এলাকা এবং শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ম্যারিংপাড়া এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করেন বিজিবি সদস্যরা।
অভিযানকালে অভিনব কায়দায় ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ৩৪ বোতল নিষিদ্ধ ভারতীয় মদ, ৩২ প্যাকেট আতশবাজি, ৫টি ভারতীয় গরু, ৩৫০ পিস পন্ডস ফেসওয়াশ, ১ হাজার ৫০০ পিস ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ক্রিম, ২১ হাজার ২০০ পিস জিলেট ব্লেড, ২৩ পিস কম্বল ও ৩০ কেজি ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত এসব চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মোট বাজারমূল্য ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ৯৯টি লোহার সেতু এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় এসব সেতু ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ২২ জুন ২০২৪ সালে হলদিয়া বাজারসংলগ্ন একটি সেতু মাইক্রোবাসসহ ধসে পড়ে নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর দুই পাশে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া ও ভারী যান চলাচল বন্ধে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—এগুলো কেবল দায়সারা ও সাময়িক উদ্যোগ, স্থায়ী সমাধানের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে ২০০৮-০৯ সাল পর্যন্ত ‘হালকা যান চলাচল প্রকল্প’-এর আওতায় আমতলীর সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শতাধিক লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালের পর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে একের পর এক সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর থেকে শুরু করে আইলা, মহাসেন, রোয়ানু ও সর্বশেষ রিমালের প্রভাবে উপজেলার অধিকাংশ লোহার সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ১৭ বছরে অন্তত ১৫টি সেতু ধসে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ২০০৭ সালে কেওয়াবুনিয়া খাল, ২০১৫ সালে সোনাখালী মুচল্লী বাড়ি ও সোনাখালী স্কুলের সামনে, ২০১৬ সালে বাঁশবুনিয়া ও আমড়াগাছিয়া খাল, ২০১৯ সালে কুতুবপুর খাল, ২০২২ সালে কাউনিয়া, আরপাঙ্গাশিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের একাধিক খাল, ২০২৪ সালে মধ্য চন্দ্রা খাল এবং ২২ জুন ২০২৪ সালে হলদিয়া বাজার সংলগ্ন সেতু ধসে পড়ে মাইক্রোবাসসহ নয়জনের মৃত্যু।
হলদিয়া বাজারের সেতু ধসের পর পুরো ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই সেতুটি। বর্তমানে নারী সংসদ সদস্য প্রভাষক ফারজানা সুমির অনুদানে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ব্রিজ ভাইঙ্গা যাওয়ার পর মোগো চলাচল বন্ধ হইয়া গ্যাছিল। এহন মহিলা এমপির দানে বাঁশের সাঁকো দিয়া কোনোরকমে চলি।
হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাঁশবুনিয়া খালের সেতুটি ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় ধসে পড়ে। আজও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় খেয়া পারাপার চালু করেছেন। কাউনিয়া খালের সেতু ধসের পর স্থানীয়রা চাঁদা তুলে প্লাস্টিকের ড্রাম ও কাঠ দিয়ে ভাসমান সেতু তৈরি করেছেন। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডির তালিকা অনুযায়ী গুলিশাখালীতে ২৫টি, আঠারগাছিয়ায় ২১টি, হলদিয়ায় ১৮টি, চাওড়ায় ১২টি, আরপাঙ্গাশিয়ায় ৮টি, আমতলী সদরে ৮টি, কুকুয়ায় ৪টি এবং পৌরসভা এলাকায় ৪টি-মোট ৯৯টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব সেতু অপসারণ করে গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদি হাসান খান বলেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো অগ্রাধিকার তালিকায় পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার আশা করছি।
খানাখন্দে ভরা সড়ক, রাস্তা দখল করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা-চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও পরিবেশ দূষণের মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত জাতীয় সংসদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৯। জনগণ এর প্রতিকার চায়। নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিকারের নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রার্থীরা।
সাভার উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ এ মোট ভোটার ৯ লাখের উপরে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ, পোশাক শিল্পনগরী, সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের শেষ নেই।
আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় প্রধান সড়কে কাজ চললেও ভেতরের সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। আসনজুড়ে আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলোতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।
এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা যারা চাকরি করি, তারা সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারি না।’
অফিসগামী এক পুরুষ বলেন, ‘কর্মস্থলে যেতে দুই ঘণ্টা আসতে দুই ঘণ্টা চার ঘণ্টা আমার রাস্তাতেই চলে যায়।’
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কল-কারখানা বাসাবাড়ির ময়লা পানি রাস্তায় ছেড়ে দেয়। এই কারণে বাচ্চাদের ডেঙ্গু, জ্বর, ম্যালেরিয়া হচ্ছে।
এছাড়াও সড়ক দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোয় তীব্র যানজট নিত্যদিনের চিত্র। পোশাক কারখানার প্রসারের কারণে খেলার মাঠ কমেছে। মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাং এর উৎপাত বেড়েছে।
ঢাকা-১৯ আসনের এক ব্যক্তি বলেন, কিশোর-তরুণদের মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখার জন্য এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাঠের ব্যবস্থা নেই। যেহেতু তারা খেলাধুলা করতে পারছে না, তাই তারা মাদকের দিকে ঝুঁকছে। ৫ আগস্টের পরে অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে প্রায় দুই তিন হাজার মানুষ বেকার। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবু জানান, তিনি আসনের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা করেছেন এবং এই পরিকল্পনাগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, মাদক আরও ছিনতাই যদি বন্ধ করা যায় তাহলে আমাদের শ্রমিকরাও একটু ভালো থাকবে।
ডা. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও রাস্তা-ঘাটে উন্নয়ন একটা কমন ফেনোমেনা। অতীতেও ছিল এখনও আছে। এগুলো তো আমাদের করতেই হবে। পাশাপাশি নতুন সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে এক নম্বর হলো মাদক। এখান থেকে কোনো কোনো মহল অর্থ উপার্জন করছে সেগুলো আমরা করতে দিব না। ফুটপাত থেকে টাকা নিবে সেটা আমরা কোনোভাবে বরদাস্ত করবো না। ইচ্ছা করলেই তো এমএ পাস করা সবাইকে সরকার চাকরি দিতে পারবে না। এদেরকে ট্রেইন আপ করতে হবে এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। সেই পরিকল্পনা করে আমি সাজাচ্ছি। যখন নির্বাচনী মেনোফেস্টো ঘোষণা করবো তখন সেখানে স্পেসিফিক থাকবে।
এদিকে ঢাকা-১৯ আসনের মানুষ নতুন রাজনীতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আফজাল হোসেন।
আফজাল হোসেন বলেন, ঢাকা-১৯ এর ভোটাররা একটা পরিবর্তন চাচ্ছে। বিগত সময়ে তারা সবকিছু দেখেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন মানুষ দেখছে এবং তারা একটা পরিবর্তন চাচ্ছে।
এই আসনে প্রাথমিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল মাহমুদ শান্তকে মনোনয়ন দেয়া হলেও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধের পর তিনি স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেন।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে শিল্পকারখানা স্থাপনের নামে তিন ফসলি জমি সরকারের অনুমতি ব্যতীত বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলছে ‘সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ যেসব কৃষক প্রতিষ্ঠানটির কাছে জমি বিক্রি করতে চাইছে না জোরপূর্বক তাদের জমিতে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহযোগিতায় কোম্পানিটি প্রশাসনের নাকের ডগায় কৃষিজমি ভরাট করে ফেলছে। নদীর জায়গা ও ব্যক্তি মালিকানের জায়গা জোরপূর্বক ভরাট করে ফেলছে তারা।
গজারিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে গত এক দশকে গজারিয়া উপজেলায় তিন ফসলি কৃষি জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫শ’ হেক্টর। তবে প্রান্তিক কৃষকদের দাবি বাস্তবে এই চিত্র আরও ভয়াবহ। তাদের মতে গত এক দশকে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে শিল্প কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে।
সরেজমিনে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থল চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির পাশে উঁচু করে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা হচ্ছে। ফলে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে কৃষি কাজ করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও নতুন করে ফসলি জমিতে বালু ভরাট করার জন্য জমির মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের পিলার।
ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, এসব জমিতে আগে ধান ও বিভিন্ন ধরণের সবজির আবাদ হতো তবে এখন পাশের জমি ভরাটের কারণে বালু পানি আটকে থাকছে। পানি আর বালুর কারণে যেসব জমি কোম্পানিটি ক্রয় করেনি সেসব জমিতেও চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। কোম্পানিটি এমন একটি অবস্থা করেছে যেন কৃষকরা বাধ্য হয়ে তাদের জমি বিক্রি করে দেয়।
স্থানীয় কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, ‘এই জমিই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র ভরসা। কোম্পানি জমি ভরাট করে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। চারদিক দিয়ে বালু ফেলে আমাদের ঘিরে ফেলেছে। অবস্থা এরকম তাদের কাছে জমি বিক্রি করা ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমাদের জমির পাশের জমিটি কোম্পানি ক্রয় করেছে আমরা কোন জমি বিক্রি করিনি। সে জমিতে বালু ফেলার কারণে আমাদের জমির প্রায় অর্ধেক বালু দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। আমরা কার কাছে যাবো? কোথায় এর প্রতিকার পাবো।’
এ বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে বালু ভরাটের সাইটে গেলে উপস্থিত একজন নিজেকে কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয় দেন। নিজের নাম-পদবী প্রকাশ না করলেও তিনি বলেন, ‘সরকারের অনুমতি নিয়ে ও যথাযথ নিয়ম মেনে আমরা এখানে বালু ভরাট করতে এসেছি। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।’
বিষয়টি সম্পর্কে নদী খাল ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক শফিক ঢালী বলেন, ‘গত এক দশকে গজারিয়ায় কৃষিজমি কমেছে কয়েক হাজার হেক্টরেরও বেশি। ফসলি জমি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এসব কৃষিজমি নষ্ট হলে শুধু কৃষক নয় পুরো দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করি।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সরকারের অনুমতি ব্যতীত জমির শ্রেণির পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। যদি প্রতিষ্ঠানটি কারও জমি জোরপূর্বক দখল করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সত্য, সাহস ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দুই দশকের গৌরবময় পথচলা পূর্ণ করল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ রিপোর্টার্স ক্লাব। এ উপলক্ষে ক্লাবের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ক্লাব কার্যালয়ে ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সাত্তার প্রধানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রানা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অসিত কুমার দাস, সাংবাদিক হাসান মাহমুদ রিপন, আল আমিন তুষার, আবু বকর সিদ্দিক, মোক্তার হোসেন মোল্লা, শাহাদাত হোসেন রতন, মিজানুর রহমান মামুন, রবিউল হুসাইন, মোকাররম মামুন, এসএম মনির হোসেন, কামরুজ্জামান মিলন, আকতার হাবিব, মাজহারুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, কামালউদ্দিন ভূইয়া, মশিউর রহমান, রুবেল মিয়া, শাহিন সাকি, সিফাত প্রমুখ। সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের লোকজন রিপোর্টার্স ক্লাবকে ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সোনারগাঁ রিপোর্টার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করে আসছে। উপজেলার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ, সামাজিক সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে ক্লাবের সাংবাদিকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে দেশের শান্তি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সোনারগাঁ রিপোর্টার্স ক্লাবের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শীত যেন নীরব এক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। টানা কয়েকদিন ধরে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ,চা শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলাতেও সাধারণ মানুষ গরম কাপড় পরে চলাচল করছেন। রাস্তাঘাটে লোকসমাগম ছিল তুলনামূলক কম। শহরের বাইরের এলাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। চারদিকে কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন ছিল প্রায় স্তব্ধ।
সকালের কুয়াশা ভেদ করে রাস্তায় নামা রিকশাচালক জমির আলী বলেন, 'কয়দিন ধরেই দিনের বেলায় সূর্যের দেখা নেই। সকালে বাইরে বের হলে সারাদিন ঠান্ডার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। গরম কাপড় পরলেও শীত যেন শরীরের ভেতর ঢুকে যায়। কাজ না করলে সংসার চলে না, তাই কষ্ট হলেও রিকশা চালাতে হয়।'
ভাড়াউড়া চা বাগানের চা শ্রমিক দুলাল হাজরা বলেন, 'সন্ধ্যার পর চা বাগানে প্রচণ্ড শীত পড়ে। অনেকের ঘরেই পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই। এখন পর্যন্ত চা বাগানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।'
একই দুর্ভোগের কথা জানান ভ্যানচালক নুরু উদ্দিন। তিনি বলেন, 'আগে শুধু রাতে ঠান্ডা লাগত, এখন দিনেও ঠান্ডা কমে না। ভ্যান চালাতে গেলে হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। আয় কমে গেছে, কিন্তু সংসারের খরচ তো আর কমে না।'
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সূর্যের অনুপস্থিতিতে শীতের অনুভূতি কমেনি।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, 'বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য খুব কম। দিনের বেলায় কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সারাদিনই শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।'
এদিকে শীতের প্রকোপে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, 'হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করা বেশি ভুগছেন। এ সময় সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহার এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেল থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের আবাসিক হোটেল রিয়াদের ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চৌমুহনী পৌরসভার পৌর হাজীপুর গ্রামের শহীদ হক ওরফে বাবুল মোল্লার ছেলে মো.জাহিদ হাসান রাসেল (৪০) ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসুর নতুন বাড়ির মো. নাসির আহাম্মেদের ছেলে মোহাম্মদ বসু (৪২)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে আবাসিক হোটেল রিয়াদে অভিযান চালায় পুলিশ। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার রাসেলের বিরুদ্ধে পূর্বে ছয়টি মামলা ও একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী আরও বলেন, তারা অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে ওই হোটেলে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিদের নোয়াখালী জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে ভারত পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ ইতিবাচক। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর ইতিবাচক, এতে করে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কি না, সময়ই বলবে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পজিটিভ ইমেজ আছে। সে জন্যই ভারত পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তার শেষ বিদায়ে সম্মান জানাতে এসেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘দল মত নির্বিশেষে সব মানুষের মাঝেই খালেদা জিয়ার এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে। এটা দক্ষিণ এশিয়ার সবাই স্বীকার করে। সে কারণে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সবাই অংশ গ্রহণ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সেজন্য এসেছিলেন। তিনি খুব সংক্ষিপ্ত সফর করে চলে গেছেন। এটা একটি শিষ্টাচার, এর বেশি উত্তর না খুঁজতে যাওয়াই ভালো।’
জয়শঙ্করের সফরের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন কমবে কি না— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটার উত্তর আপনাদের ভবিষ্যতে খুঁজতে হবে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে? জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আমার যে কথাবার্তা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। সবার সামনেই আলাপ হয়েছে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় কিছু ছিল না।’
দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ঢাকায় ডেকে আনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দিল্লির ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে আনা হয়নি। অফিসিয়াল কাজের জন্য এসেছেন তিনি।’
খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গত বুধবার ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।