কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই কারখানায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যান তিন থেকে চারজন ব্যক্তি। এতে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গত রোববার রাতে উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের পাশের ঝোপঝাড় থেকে এসব এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধানে ও অস্ত্র উদ্ধারে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অস্ত্র কারখানার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। খবর কক্সবাজার ও শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধির।
কক্সবাজারের ঘটনায় অতিরিক্ত পলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ী এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের কতিপয় লোকজন অবৈধ কারখানা স্থাপন করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ গহীন পাহাড়ের আবু আহম্মদঘোনা ফাতেমাছড়া এলাকায় গড়ে তোলা সন্দেহজনক একটি ঝুপড়ি ঘর ঘিরে ফেলে। এতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩/৪ জন সন্দেহজনক লোক পালিয়ে যায়। পরে ঝুপড়ি তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ২টি রাইফেলের গুলি, ৪ টি গুলির খোসা, ২টি বন্দুকের বাট, ৩টি বন্দুকের ট্রিগার বক্স, ৬টি বন্দুকের নল, ২টি বন্দুক তৈরির যোগান, ১টি হাওয়ার মেশিন, ২টি বাটাল, ৫টি আড়িব্লেড, ১টি আড়িব্লেডের ফ্রেম, ১টি করাত, ১টি হাতুড়ী, ১টি প্লাস, ৭টি ছোট-বড় রেথ, ১টি শান দেয়ার মেশিন এবং ১টি বানান নালীসহ বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি।
অলক বিশ্বাস জানান, অভিযানে পলাতক দুর্বৃত্তদের পাশাপাশি সন্ধান পাওয়া অস্ত্রের কারখানার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে অস্ত্র উদ্ধারে গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকয় অভিযান পরিচালনা করে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখার সংবাদ পাই এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের ঘটনায় র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-৯-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের উত্তর পাশে ঝোপঝাড়ে এয়ারগান লুকিয়ে রাখার তথ্য পায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ঝোপের ভেতরে রাখা দুটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা এয়ারগানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া এয়ারগানগুলো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদ্ধার এয়ারগানগুলো শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের আগামীকাল ১০ জানুয়ারি পুনর্মিলনী উপলক্ষে এক বিশাল আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) কলেজ ক্যাম্পাস থেকে আনন্দ র্যালি শুরু হয়ে কুলাউড়া শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের ডাকবাংলো মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে নানা বয়সী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
র্যালি শেষে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সাবেক শিক্ষার্থী সুফিয়ান আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী শওকতুল ইসলাম শকু, খন্দকার আব্দুস সোবহান, সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, কৃপাময় চন্দ্র শীল, জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, ফজলুল হক ফজলু, মো. জাকির হোসেন, সিপার উদ্দিন আহমদ, বদরুজ্জামান সজল, খালেদ পারভেজ বখ্শ, রেদওয়ান খান, মইনুল ইসলাম শামীম, একেএম শাহজালাল, মো. আব্দুল বাকী, লুৎফুর রহমান, মশিউর রহমান, জিল্লুর রহমান রওশন, হেমন্ত চন্দ পাল, নির্মাল্য মিত্র সুমন, শামীম আহমদ, ফেরদৌস খান, রেহান উদ্দিন আহমদ, নাসির জামান খান জাকি, নুরুল ইসলাম বাবলা, আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু, রানা মজুমদার, আব্দুল মুনিম হাসান, এনাম উদ্দিন, ময়নুল হক পবন, রাহাত তাজুল, আব্দুস সামাদ আজাদ চঞ্চল, কামরুল হাসান, নুরুল ইসলাম ইমন, সোমা দেব, মৌসুমী রায়, তাহমিনা আক্তার শিউলী, একেএম জাবের, নাজমুল বারী সোহেল, সিরাজুল আলম জুবেল, মাহফুজ শাকিল, খালেদ খান, সাজুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, মৌসুম সরকার, আব্দুল্লাহ সালেহ চৌধুরী আলিফ, আশরাফুল ইসলাম জুয়েল, ইব্রাহিম মাহমুদ, শেখ বদরুল ইসলাম রানা, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া সরকারি কলেজ ৫৬ বছর পূর্ণ করেছে। কলেজের ৫৬ বছর পূর্তিতে পুনর্মিলনীর বর্ণাঢ্য উৎসব আগামী ১০ জানুয়ারি কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ইরি বোরো ধান রোপণে। মাঠজুড়ে সবুজ চারার সমারোহ দেখা গেলেও সেচ সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই নিশ্চিত নন সফলভাবে মৌসুম পার করতে পারবেন কি না।
সকাল থেকেই উপজেলার সাগরদাঁড়ি, ত্রিমোহিনী, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ বা সেচযন্ত্র সচল রাখতে বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতাপপুর এলাকায় দেখা গেছে প্রতিদিন সকালে অনেক সময় লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে নতুন রোপণ করা চারাগাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকোপে সকাল বেলা জমিতে নামা দুষ্কর হলেও সময়মতো রোপণ শেষ করার তাগিদে তারা বাধ্য হচ্ছেন মাঠে নামতে। কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, এই শীতে কাজ করা খুব কষ্টের। তারপরও জমিতে নামতে হচ্ছে। রোপণ তো শেষ করলাম, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে সেচ হবে কীভাবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।
একই কথা বলেন কৃষক রমজান আলী। তিনি জানান, এবার ডিজেল, সার, শ্রমিক—সব কিছুর দাম বেড়েছে। ধারদেনা করে চাষ শুরু করেছি। যদি আবহাওয়া ভালো না থাকে বা সময়মতো পানি না পাই, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় ৬৫৭ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির পর পুরোদমে ইরি বোরো রোপণ কার্যক্রম চলছে। গত বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদ হয়েছিল। এবছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও সেচ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেশবপুর উপজেলায় বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা এখন রোপণে ব্যস্ত। শীতের কারণে মাঠে কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উৎপাদন উপকরণ সহজলভ্য না হলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই উপজেলার হাজারো কৃষক পরিবার নতুন করে ক্ষতির মুখে না পড়ে।
নেত্রকোণায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা তথ্য অফিস, নেত্রকোণার আয়োজনে নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দা এলাকায় উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্মুক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) ড. আবু শাহীন মোঃ আসাদুজ্জামান। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আল ফয়সাল, কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল হক, ইউপি সদস্য খোদেজা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য অফিসার নারায়ণ সরকার।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান ।
এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় অবস্থিত ভাষা সৈনিক শামছুল হক কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য, বিধি বহির্ভূত নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে মূল ভবন ছেড়ে নিজের বাড়ির পাশে টিনের ঘর তৈরি করে পৃথক ক্যাম্পাস করা, বিধি না মেনে শিক্ষক ও কর্মচারিদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে আদালতে মামলা। এসব অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) সর্বোচ্চ কর্মকর্তা (অঞ্চলিক পরিচালক) অবগত হলেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারিদের একাংশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ সুস্পষ্ট। তারপরও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। বরং দুর্নীতির দায়ে অভিযোগ থাকার পরও অধ্যক্ষ দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠছেন।
কলেজটির একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালে তারাকান্দার পাথারিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষা সৈনিক শামছুল হক হক। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে এমপিও ভুক্ত হয়। এনটিআরসিএ এর নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালের পর থেকে এমপিও ভুক্ত কলেজে শিক্ষক পদে কলেজ কতৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তবে কর্মচারি নিয়োগ দিতে পারবে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পরপর কেবল একবারই ভাষা সৈনিক শামছুল হক কলেজ কতৃপক্ষ শিক্ষক দেয়। কলেজটিতে বানিজ্য বিভাগ না থাকায় ওই সময় এ বিভাগের কোন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে ২০২৩ সালে এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর জানা যায়, বানিজ্য বিভাগের কোন শিক্ষার্থী না থাকালেও এ বিভাগের তিনজন প্রভাষক এমপিও ভুক্ত করা হয়। তাদের নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০১৫ সালে। এছাড়া বেসরকারি কলেজে নিয়ম অনুযায়ী দুইজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নিয়ম ভেঙে অধ্যক্ষ আরও একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগের বিনিময়ে অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান টাকা নিয়েছেন বলে একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারি ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা প্রতিবাদ করায় গত মে মাস থেকে তিনি মূল কলেজে না গিয়ে নিজের বাড়ির কাছে একটি টিনের ঘর তৈরি করে কলেজ পরিচালনা করছেন। এতে শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই ক্যাম্পাসে ক্লাস করছে। যে কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অধ্যক্ষের এমন আচরণের কারনে কলেজটি ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা উল্লেখ করে একাধিকবার মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক ও তারাকান্দা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বর মাসে মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক এ. কে. এম. আলিফ উল্লাহ আহসান কলেজটি পরিদর্শনে যান। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি এক সভায় কলেজের অধ্যক্ষেকে নিজের তৈরি করা ভবন ছেড়ে কলেজের মুল ভবনে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু এরপরও অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান নিজের বাড়ির পাশে তৈরি করা টিনের ভবনে ক্লাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। উল্টো পরিচালকের পরিদর্শনের পর অধ্যক্ষ কোন ধরণের কারন দর্শানো চিঠি না দিয়েই কলেজের পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করে দেন। এর আগে আর একজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজের একাধিক শিক্ষক কর্মকর্তার অভিযোগ, মাউশির পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে। কারন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত নিয়োগের স্পষ্ট প্রমান থাকলেও মাউশি কোন ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমন কি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষ মূলক ক্যাম্পাস ছেড়ে নিজের বাড়ি পাশে ঘর তৈরি করে পৃথক ক্যাম্পাস তৈরি করেছেন। যেটি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাউশি পরিচালকের পক্ষপাত মূলক আচরণকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যপারে মাউশির ময়মনসিংহের পরিচালক এ. কে. এম. আলিফ উল্লাহ আহসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বীকার করেন যে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত ভাবে কলেজের ছয়জন শিক্ষক কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোন অবস্থাতেই মূলক ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য কোন স্থানে কার্যক্রম চালাতে পারেন না।
এসব স্পষ্ট অনিয়মের পরও কেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থান নেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক জানান, এ ব্যপারে অধ্যক্ষকে মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যপারে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি সব কিছুই বিধি মেনে এবং উধ্বর্তন কতৃপক্ষের পরামর্শ মেনেই করছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
ফেনী শহর-সংলগ্ন পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে, রড বেরিয়ে এসেছে, দেওয়াল ও পিলারে ফাটল। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়াসহ সব মিলিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভয় আর শঙ্কা নিয়ে পড়াশোনা করছে।
স্কুলের শিক্ষার্থী আবরার মাহমুদ ইরান, বিবি মরিয়ম মারিয়া, জান্নাতুল ফাতেয়া, জান্নাতুল মাওলা রাদিয়া বলে, ‘স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিনেও স্কুল ভবনটি মেরামত করা হয়নি। বিদ্যালয়ে নিরাপদে ভালোভাবে পড়ালেখা করার জন্য সরকারের কাছে একটি নতুন ভবন তৈরি করে দেওয়ার আবেদন করছি।’
স্থানীয় অভিভাবক মোহাম্মদ ফারুক ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় হয়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন জানি কি হয়। দীর্ঘদিনেও স্কুল ভবনটি মেরামত না করার ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায়ভার কে নেবে। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বিদ্যালয়টি একমাত্র অবলম্বন। এখন এটিও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত এবং শঙ্কিত। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই সরকার যেন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক অরূপ দত্ত জানান, বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। দেওয়াল, ছাদ, পিলার ও বীমে দেখা দিয়েছে ফাটল। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থেকে পড়াতে হচ্ছে।
পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংগ্রাম লোধ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিগত বন্যায় বিদ্যালয় ভবনটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন। অনেক অভিভাবক সরকারি বিদ্যালয় বাদ দিয়ে কিন্ডারগার্ডেন ও মাদ্রাসামুখী হচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একাধীকবার চিঠি দিয়েছি, এখনো ফল পাইনি।
ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, ‘৬টি উপজেলায় ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গত বছরের বন্যায় বেশ কিছু বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর কিছু বিদ্যালয় ভবন মেরামত করেছি। ইতোমধ্যে জেলার সকল বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) কাজ শুরু হলে সবগুলো বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে আশা করছি।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দেশে এনে বিচারের দাবিতে বাগেরহাট ছাত্র-জনতার ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনগণ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি মো. ইবাদত শেখ, আওসাফ সানী, সাজ্জাদ উদ্দিন আল জাবির অন্যরা।
এ সময়ে বক্তারা উপদেষ্টা এবং প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করে ফাঁসি কার্যকর না করলে আবারও ২৪-এর মতো ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। দ্রুত হাদির হত্যাকারীদের আটক, দেশে ফিরিয়ে আনা ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা দাবি আদায়ে তারা প্রয়োজনে আবারও বাগেরহাটের মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করবে।
ফরিদপুর শহরে সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ময়লাস্তূপ থেকে রূপান্তরিত হচ্ছে রঙিন সজ্জায়। পাশাপাশি নিখুত ক্যালিগ্রাফিতে আকর্ষণীয় করে তুলছেন তারা। এ ছাড়া সৌন্দর্য বর্ধিত গাছও রোপণ করছেন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশনের একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নতুন রূপে সেজে উঠছে যেন ফরিদপুর শহর। তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় তাদের এমন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে। হাসপাতালের পাশে সড়ক বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকানের বর্জ্য এবং মেডিকেল হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ময়লাস্তূপে পরিণত হয়েছিল সেখানে। দুই সপ্তাহ যাবত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ময়লাস্তূপ থেকে রূপান্তরিত হয়ে উঠেছে রঙিন সজ্জায়।
সংগঠনটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিএডিসি সেচ বিভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড়কিলোমিটার জায়গাজুড়ে দীর্ঘদিন যাবত ময়লারস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ময়লা থেকে সৃষ্ট তীব্র গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয়রাসহ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের। এ ছাড়া সেখানে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি থেকে এডিস মশারও জন্ম হচ্ছিল। পরবর্তীতে ফরিদপুর পৌরসভাকে অবগত করার মাধ্যমে ও সহযোগিতায় দুই সপ্তাহ যাবত ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে খুটি দিয়ে রঙিন জাল টানিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্যালিগ্রাফি ও বিভিন্ন সচেতনতা লেখা সংবলিত বার্তা টানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধিত বিভিন্ন গাছও সেখানে লাগানো হয়েছে।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, ‘এখানে কিছুদিন আগেও ময়লার স্তূপ ছিল। পরবর্তীতে এই জায়গার ওপর ভিত্তি করে আমরা ফরিদপুর পৌরসভার সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের সহযোগিতায় গত ২১ ডিসেম্বর থেকে আমরা কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে ময়লা পরিষ্কার করে নেট (জাল) ও খুটি দিয়ে ঘিরে দিয়েছি, যাতে পরবর্তীতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি আমরা ক্যালিগ্রাফি ও সতর্কবার্তা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শহরের অন্যান্য জায়গায় সৌন্দর্য ফেরানোর জন্য কাজ করে যাব।’
তাদের এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ সকলকে পরিবেশ দূষণ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশকে আমরা প্রতিনিয়ত দূষণ করে যাচ্ছি। আজ আমরা এখানে পরিচ্ছন্ন করেছি, অন্য জায়গা ঠিকই কেউ না কেউ দূষিত করে তুলছে। কোনো প্রযুক্তি দ্বারা পরিবেশকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারব না, যদি না কেউ নিজ থেকে সতর্ক হয়। বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে আমরা আহ্বান জানাই- আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন, আমরা পরিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেব।’
গাজীপুরের কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে শতাধিক অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিক ভাবে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম আতিকুর রহমান উপস্থিত থেকে অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
এসময় অন্যান্যের মাঝে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহাম্মদ আলী সরকার, পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য আফজাল হোসেন সৈয়দ, ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য উম্মে কুলসুম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ঋতুচক্রের পালাবদলে প্রকৃতিতে এখন শীতের রাজত্ব। একটা সময় শীত আসলেই আবহমান বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হতো নানা রকমের পিঠা তৈরির আয়োজন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ তা বিলুপ্ত প্রায়। নরসিংদীর পলাশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। শীতের ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাঙালির আবেগকে ধারণ করে নরসিংদীর পলাশে দিনব্যাপী পালিত হয়েছে "পিঠা উৎসব-২০২৬" ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ উৎসবের আয়োজন করে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।
উৎসবে স্থান পায় গ্রামবাংলার প্রচলিত ছাড়াও বিলুপ্ত প্রায় বাহারি পিঠা। এর মধ্যে ছিল দুধচিতই, দুধপুলি, কমলা পুলি, ইলিশ পিঠা, বউ পিঠা, পুলি পিঠা, নিমপাতা পিঠা, নকশি পিঠা, পানতুয়া পিঠাসহ শতাধিক রকমের পিঠা। পিঠা উৎসবে অংশ নেয় ১০টি স্টল। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসব চলে। বিলুপ্তপ্রায় পিঠাকে নতুন রূপে হাজির করতে পেরে খুশি স্টলে থাকা শিক্ষার্থীরা। পৌষের শীত উপেক্ষা করে পিঠা উৎসবের আনন্দে মেতে ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া এতে অংশ নেয় নানা পেশার মানুষ। কেউ ঘুরে দেখছেন, কেউবা পছন্দের পিঠাগুলো কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে এত পিঠা দেখতে পেয়ে পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আরিফ পাঠানের ভাষ্য, দেশীয় ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জানা এবং লালন করার মানসেই এ পিঠা উৎসব। বাঙালির শত শত বছরের সমদ্ধ ইতিহাস প্রকাশ করে এ পিঠা উৎসব।
জালজালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও নীতিমালা বহির্ভূত সহকারী শিক্ষক গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান পদে নিয়োগ প্রদান করায় ভোলার লালমোহনে ০৫ মাদ্রাসা প্রধানের ডিসেম্বর মাসের বেতন স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সাথে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকগনের (গ্রন্থাগারিক ও তথ্যবিজ্ঞান) নভেম্বর মাসের বিল আসলেও ডিসেম্বর মাসের বিলের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে বিল প্রস্তুত করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বেতন স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হলেন করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন, ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ সফিউল্যাহ, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃকামাল উদ্দিন, মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ কামাল উদ্দিন জাফরী, পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আকলিমা বেগম (ইনডেক্স নং-০০৬৬২৪০), ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বিল্লাল (ইনডেক্স নং-০০৬৪৮৪১০, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ বাহার (ইনডেক্স নং-০০৭৫০৫৯), মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ জামাল (ইনডেক্স নং- ০০৭০৪১১), পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ রিয়াজ (ইনডেক্স নং- ০০৭৫৯৪৩)।
অভিযোগ হিসেবে জানা যায়, এসব মাদ্রাসার প্রধানরা নিয়মবহির্ভূত পুরোনো তারিখের নিয়োগবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বা কমিটির স্বাক্ষর জালজালিয়াতি করে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রদান করেন। এসকল শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রস্তুত হলে অভ্যন্তরীন অন্যান্য শিক্ষকদের মাঝে ঘোর আপত্তি দেখা দেয়। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) ডিসেম্বরের এমপিওসীট থেকে তাদের নাম কর্তন করেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন ভাতা স্থগিত করেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বেতন স্থগিত হওয়া পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ কামাউল উদ্দিনের ইতপূর্বে সহকারী শিক্ষক গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের ব্যাপারে একটি অডিও ক্লিপ অনলইন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং সেখানে ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায় মাদ্রাসা সুপার কমিটির স্বাক্ষর জালজালিয়াতি করে নিয়োগ প্রদান করেন। মাওলানা মোঃ কামাল উদ্দিন বর্তমানে ১১৭ ভোলা-০৩, লালমোহন-তজুমদ্দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন।
তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আমাদের বেতন স্থগিত করেছে। কিন্তু কেন করেছেন তা আমরা কিছুই জানিনা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আবুল খায়ের বলেন, লোক মুখে শুনেছি ৫টি মাদ্রাসা প্রধানদের বেতন স্থগিত হয়েছে। দাপ্তরিকভাবে কোন প্রকার চিঠি পাইনি। যার কারণে কেন তাদের বেতন স্থগিত হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পারিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ জানান, এব্যাপারে আমি বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তবে অফিসিয়ালি কোন চিঠি আমার কাছে আসেনি। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও জিরা উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (০৭ ও ০৮ জানুয়ারি) পরিচালিত এসব অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় আনুমানিক ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১০টার দিকে জয়পুর বিওপির একটি চৌকস টহল দল কলনিপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৫২/২-এস হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত এই অভিযানে ১৩ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৯ হাজার ৫০০ টাকা।
এর আগে, বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাতে একই বিওপির আওতাধীন মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ২৪ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে।
এছাড়া, বুধবার দুপুরে মেহেরপুর জেলার গাংনি উপজেলার কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বর্ডার পাড়া মাঠ এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ কেজি ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৯ হাজার টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের জন্য ব্যাটালিয়ন স্টোরে জমা রাখা হয়েছে এবং অন্যান্য চোরাচালানী পণ্য কুষ্টিয়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ পণ্যের প্রবেশ রোধ ও অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে এক ইয়াবা ডিলারকে গ্রেপ্তার করেছে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলের পিছনের কেবিন থেকে ৯৫০ পিস ইয়াবা সহ তাকে আটক করেন বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক মো: মেহেদী হাসান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক আবু সাইদ বাবুলের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি ছদ্মবেশী টিম।
আটককৃত ইয়াবা ডিলার ওমর আলী (২৭) চরফ্যাশন পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ফ্যাশন এলাকার মৃত মো: শাহজাহান এর পুত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি ছদ্মবেশী টিম ইয়াবা ডিলার ওমর কে ধরতে ফাদ পাতে উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজার এলাকায়। এসময় ওমর পুলিশের পাতা ফাদে আটকিয়ে পড়লে স্থানীয়দের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে ৯শত ৫০পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। ওমরের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে, বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের একটি ছদ্মবেশী টিম মাদক ব্যবসায়ী ওমর আলীকে ফাদ পেতে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৯শত ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় গভীর রাতে বোমা তৈরির সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সোহান ব্যাপারী নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে সোহানের মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একটি ফসলি জমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর বাড়ির পাশেই তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম ব্যাপারীর একটি পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে। সেখানেই একদল লোক গোপনে হাতবোমা বা ককটেল তৈরির কাজ করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজ চলার সময় অসাবধানতাবশত একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো ঘরটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। নিহত সোহান ব্যাপারী জাজিরার চেরাগ আলী বেপারিকান্দি এলাকার দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আহত বাকি দুজনের পরিচয় এবং তাঁরা ঠিক কী উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা তৈরি করছিলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পুলিশ বিস্ফোরণের স্থানটি ঘিরে রেখেছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারো ইন্ধন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বিলাসপুর এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।