বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আবারও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে আদালতকে। মামলা করার ৮৬ মাস পরও আদালতে অভিযোগপত্র দিতে না পারা দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আগামী তিন মাসের মধ্যে চার্জশিট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হলে দুদকের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন আদালত।
অভিযোগপত্র না দেয়ায় আগেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন উচ্চ আদালতের বিচারকরা। এ নিয়ে ২০১৮ সালে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের তলবও করেন। তবে কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা এবারই প্রথম বললেন আদালত। আদালতের এই অবস্থানকে ‘অভূতপূর্ব’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার ব্যবস্থাপক আসামি মোহাম্মদ আলীর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে কমিশনকে এই সতর্ক বার্তা দেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আদালত বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারলে নিজেরাই যেন দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তারা বলবেন যে, আমরা এটা পারছি না। তখন অন্য কেউ তদন্ত করবে।’
আদালত বলেন, ‘কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়া’ তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্ত শেষ করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিতে হবে হাইকোর্টে। তদন্ত শেষ করতে না পারলে কমিশনের বিরুদ্ধে ‘যথাযথ আইনি পদক্ষেপ’ নেয়া হবে।
দুদকের বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি এর আগে কোনো আদালত থেকে এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘কমিশনের ওপর ছিল না। তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপরে অনেক মামলায় ছিল।’
দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আদালতের এই নির্দেশনা অভূতপূর্ব। এটা প্রমাণ করে যে দেশবাসীর মতো আদালতও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আশ্চর্য হই, কেন দুদক বিষয়টি নিয়ে এখনো ব্যবস্থা নিতে পারল না।’ তিনি বলেন, ‘অবস্থান ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নজিরবিহীন এই কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের আইনের কাছে সোপর্দ করার সময় এখনো তাদের কাছে আছে। যেনতেনভাবে বিষয়টি সমাধান না করে জালিয়াতির ঘটনায় পরিচালনা পর্ষদসহ যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে তাদের আইনের আওতায় আনতে দুদক ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।’
বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুদকে পাঠানো হয় ২০১৩ সালে। পরে অভিযোগটি অনুসন্ধান করে ২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে ১২০ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এসব মামলায়। বেসিক ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ ২৭ কর্মকর্তা, ১১ জরিপকারী ও ৮২ ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে আরও পাঁচটি মামলা করে সংস্থাটি। আত্মসাৎ হওয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাকি ২ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাগুলো নিয়ে কোনো মামলা হয়নি এখন পর্যন্ত। ওই জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অধিকাংশ প্রতিবেদনে বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে আসে। তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজেই বেসিক ব্যাংকে ‘হরিলুটের’ পেছনে আবদুল হাই বাচ্চু জড়িত বলে উল্লেখ করেন। জাতীয় সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটিতেও এ জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কমিটির সদস্যরা।
অথচ ওই ঘটনায় দায়ের করা কোনো মামলাতেই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। অনুসন্ধানকালে তাকে কখনো দুদকে ডাকাই হয়নি। আদালতের একটি আদেশের পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাকে প্রথমবারের মতো তলব করে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় তাকেসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় যখন মামলা হয় তখন দুদকের চেয়ারম্যান ছিলেন বদিউজ্জামান। তার পরের বছর কমিশনের চেয়ারম্যান হন ইকবাল মাহমুদ। তার পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে নতুন চেয়ারম্যান হন মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহ। তারও দেড় বছর মেয়াদ পেরিয়েছে। তিনটি কমিশনই মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করতে পারেনি।
দুদক আইনে প্রতিটি মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও তদন্তের ব্যাপকতা ও জটিলতা বিবেচনায় বাড়তি সময় দেয়ার রীতিও রয়েছে। কিন্তু বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পরও অতিরিক্ত সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশন চাইলেই তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেন। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় এটা থেমে আছে।
কমিশনের কেউ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে না চাইলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আদালতে যে প্রতিবেদন দুদক জমা দিয়েছে সেটা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন আদালত।
প্রতিবেদনে দুদক বলেছে, তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আত্মসাৎকৃত অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে তুলে নিয়ে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্ত ও তাদের জবানবন্দি গ্রহণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সব সাক্ষীর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এসব মামলায় আলামত প্রচুর এবং ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাধ্য। এ ছাড়া প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটিও এই মামলায় বেশ জটিল। এ ছাড়া মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও আলামত এখনো পাওয়া যায়নি।
মামলাগুলোর আগের তদন্ত কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যাওয়ায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। আসামি ও আলামত শনাক্ত করা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ ও এমএলএআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত পাওয়া সাপেক্ষে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ করে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত সোমবার প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, ‘এ তো জাস্ট লাইক এ ড্রামা (এ তো নাটক ছাড়া কিছুই না)। যেমন নাটক দেখে হাততালি দেবেন নয়তো চুপচাপ বসে থাকবেন, এখানে বিষয়টা সে রকমই।’
এর আগে গত বছরের মার্চে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা একটি মামলায় ব্যাংকটির শান্তিনগর শাখার সাবেক ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করে দেয়া রায়ের অভিমতে বলেন, ‘দুদক ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে মামলার তদন্ত পরিচালনা করছে।’
রায়ে আদালত বলেছেন, “কমিশন ‘ফলো দ্য মানি’ ”, অর্থাৎ টাকার গতিপথ শনাক্ত করতে পারেনি বলে তদন্তকাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছে। মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশন এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে।
রায়ে বলা হয়, এ মামলায় তদন্তের মূল বিষয়বস্তু হওয়া উচিত, সরকারি কর্মচারী অথবা ব্যাংকার হিসাবে আসামিদের মাধ্যমে ‘অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ’ এবং ‘অপরাধমূলক অসদাচরণ’ সংঘটিত হয়েছে কি না। সুচিন্তিত অভিমত এই যে, ওই অপরাধগুলো প্রমাণে ‘ফলো দ্য মানি’, অর্থাৎ ‘আত্মসাৎকৃত অর্থের গতিপথ শনাক্তকরণ’ আদৌ কোনো অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক শর্ত হতে পারে না। মামলাটি মানিলন্ডারিং আইনের অধীন নয় যে অর্থের গতিপথ নির্ধারণ অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক।
আদালত বলেছেন, কমিশন ফলো দ্য মানি নীতি অনুসরণ করে তদন্তের যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে আদালতের বলতে কোনো সংকোচ নেই যে কমিশন বর্তমান মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে ভুল পথ অনুসরণ করেছে এবং করছে।
ধুঁকছে বেসিক ব্যাংক
২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক। ওই বছর ব্যাংকটি প্রায় ৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে। পরবর্তী সময়ে তা কমে ২০১২ সালে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়ে ব্যাংকটি।
অনিয়ম-জালিয়াতির চূড়ান্ত ধাক্কা লাগে ২০১৬ সালের নিট মুনাফায়। ওই বছর ব্যাংকটির লোকসান দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকায়। এরপর থেকে নিয়মিত লোকসানেই ছিল ব্যাংকটি। সংকট কাটাতে বেসিক ব্যাংককে সরকার থেকে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়। তাতেও কোনো কাজ হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের ৫৯ শতাংশ ঋণই খেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২ হাজার ১২৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
নীলফামারীতে অনুভব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন, পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের মিলের বাজার ও চড়ুইখোলা ইউনিয়নের নগর দারওয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহযোগিতায় ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) তত্ত্বাবধানে এসব মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
ইটাখোলায় অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন।
এসময় জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সভাপতি তাসমিন ফওজিয়া ওপেল, সহ-সভাপতি স্বপ্না আলমগীর, রাকু ইসলাম, ড্যাব নীলফামারী জেলা শাখার আহবায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোর্শেদ আযম, চড়াইখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন মোল্লা সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পে কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা নেন। আয়োজকদের মতে, মাঠপর্যায়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
শীতের আমেজে টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উৎসব ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নানা বয়সি মানুষের ভিড় জমতে থাকে উদ্যানে। ভাপা, দুধ চিতই, চাকি, পুলি, কুসুমসহ নানান ঐতিহ্যবাহী পিঠার সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উদ্যন এলাকা। পিঠার স্বাদ, গল্প আর আড্ডায় পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক ধরনের সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
পিঠা উৎসবকে ঘিরে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীরা। অনেকে জানান, শহরে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে শীতকালীন লোকজ সংস্কৃতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়বে।
উৎসবে অংশ নিতে আসা শাহীন স্কুলের শিক্ষার্থী সামিহা বলেন, এত ধরনের পিঠা যে আছে এবং সবগুলোর নাম আলাদা এটা আগে জানতাম না। পিঠা চেখে দেখার পাশাপাশি কী দিয়ে হয় এবং কোথা থেকে এসেছে এমন অনেক কিছু জানতে পারছি।
অভিভাবক রওশন আরা বলেন, শীতের পিঠা তো গ্রামেই বেশি হয়। শহরে আমাদের বাচ্চারা এসব খুব একটা দেখে না। এই উৎসব দেখে ভালো লাগছে, বাচ্চারা শিখছে এবং মজা করছে।
শাহীন শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মাছুদুল আমীন শাহিন বলেন, শীতকালীন পিঠা উৎসব বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যবাহী অংশ। সময়ের পরিবর্তনে শহুরে জীবনে সেই সংস্কৃতি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন।
আরও বলেন বলেন, পাঠ্যজীবনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানো জরুরি। আমাদের উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বইয়ের বাইরে লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করা
স্টল মালিক হাসান মিয়া বলেন, অনেকেই প্রথমবার কুসুম বা দুধচিতই পিঠার নাম শুনছে। বাচ্চাদের উৎসাহ দেখে বুঝছি এ ধরনের আয়োজন হলে তারা শুধু খাবে না, বরং জানবেও।
আরেক স্টল মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, শহরে এত পিঠা পাওয়া যায় না। এখানে আমরা ১০-১২ রকমের পিঠা এনেছি। বিক্রি ভালো, আর বাচ্চাদের আগ্রহ আরও বেশি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আমাদের কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতিতে পিঠা অন্যতম ঐতিহ্য। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী এসব সম্পর্কে জানে না। এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি জানতে পারবে এটাই বড় অর্জন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল শুধু খাবার নয়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শনী ও কৃষিজ পণ্যের ছোট প্রদর্শনীও। পিঠার সুবাসের সঙ্গে জমে ওঠে গল্প ও হাসির আড্ডা। উৎসব জুড়ে ভিড় ছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজার রহমান অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর মর্ডান মোড় এলাকা থেকে পুলিশ তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে। দুর্বৃত্তরা তাকে কৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজার রহমান তার বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি আনন্দিত মনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তিনি ঢাকার গাবতলী থেকে কুড়িগ্রামগামী ‘পিংকি পরিবহন’ নামের একটি বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে বাসে থাকা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে কৌশলে ডিম খাওয়ায়। সেই ডিম খাওয়ার পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর দুর্বৃত্তরা তার সবকিছু লুট করে নেয় এবং রংপুরের মর্ডান মোড়ে তাকে বাস থেকে নামিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
রংপুর মহানগর তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন মর্ডান মোড়ে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, তিনি গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান। উদ্ধারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক শুশ্রূষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এদিকে আজিজার রহমানের খোঁজ না পেয়ে তার পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। শুক্রবার দুপুরে তার মেয়ে আশা মনি খাতুন সাদুল্লাপুর থানায় বাবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবা ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার কথা জানালেও পরদিন সকালে বাবার মোবাইল নম্বর থেকে এক অপরিচিত ব্যক্তি ফোন করে জানায় আজিজার রহমান তাদের কাছে আছেন। কিন্তু তখন তাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং কিছুক্ষণ পরেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলো।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা গভীর অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থগিত হওয়া তফসিলটি পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে শাকসু নির্বাচনে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা রইল না। ইসির এই সিদ্ধান্তের পর ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এর আগে গত সোমবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন দেশের সব স্থানীয় ও অন্যান্য নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করলে শাকসু নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনের অনুমতির জন্য বুধবার রাতে অনলাইনে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার রাতে ইসি শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত আচরণবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে আগামী মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের অনুমতি পাওয়ার পরপরই প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন বিবদমান প্যানেলগুলোর প্রার্থীরা। মাঝের কয়েক দিন প্রচারণায় স্থবিরতা থাকায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা আগামী তিন দিনের মধ্যে পুষিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন তারা। প্রতিটি প্যানেল তাদের কর্মীদের ভাগ করে দিয়ে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ অনিশ্চয়তার মধ্যেই গত বুধবার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ ও স্বতন্ত্র প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ আজ-কালের মধ্যেই তাদের ইশতেহার ঘোষণার কথা জানিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রস্তুতির বিষয়ে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহুয়ী শারদ জানান, তফসিল জটিলতায় তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৯ হাজার ভোটারের কাছে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, গত কয়েক দিনের প্রচারণার ঘাটতি পোষাতে এখন তাদের অনেক বেশি ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে, তবে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সুরে কথা বলেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম। সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় এখন সরগরম শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
স্বেচ্ছাচারিতা, অস্বচ্ছতা এবং আন্দোলনের মূল চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ১০ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে তারা লিখিতভাবে এই গণপদত্যাগপত্র জমা দেন। সদ্য ঘোষিত ২০৬ সদস্যের বিশাল কমিটিতে সুবিধাবাদি ও রাজনৈতিক দলের পদবঞ্চিত নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পদত্যাগকারীরা। পদত্যাগ করা এই নেতাদের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় সংগঠক এবং রাজপথে আহত যোদ্ধাও রয়েছেন, যা স্থানীয় ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পদত্যাগপত্রে বিদ্রোহী নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় অনুমোদনে সম্প্রতি গঠিত এই আহ্বায়ক কমিটি শুরু থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি করেছে। তাদের মতে, কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও অস্বচ্ছ, যা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। জুলাই আন্দোলনের সময় যারা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে রাজপথে লাঠি-গুলি মোকাবিলা করেছেন, কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের সময় আহত যোদ্ধা ও কমিটির সদস্য সালমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করলেও এখন সংগ্রামের ফসল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। তার মতে, আহত যোদ্ধারা অবহেলিত অথচ এমন অনেককে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে, যারা আন্দোলনের সময় কখনোই সামনে ছিলেন না।
কমিটির আরেক সংগঠক সিহাব হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই কমিটিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (এনসিপি) পদবঞ্চিত নেতারা গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে নিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিটির আশা করলেও বাস্তবে তা ঘটেনি, যার ফলে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন পদত্যাগকারী নেতা জানান, অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গঠিত কমিটিতে সক্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি জুলাইয়ের আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তারা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে গণপদত্যাগের এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেন। তিনি দাবি করেন, গণপদত্যাগপত্রটি পাওয়ার পর তিনি সংগঠক সিহাব ছাড়া আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তার ধারণা, সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই পত্র পাঠিয়েছে। কমিটিতে রাজনৈতিক দলের প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, কমিটিতে এনসিপির কেউ নেই এবং সদস্য সচিব রাফি রেজওয়ান এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেই এখানে যুক্ত হয়েছেন। সাংগঠনিক দুর্বলতার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, একটি পক্ষ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক ও রাফি রেজওয়ানকে সদস্য সচিব করে ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনী ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আটটি কৌশলগত অঙ্গীকার নিয়ে গৃহীত হয়েছে ‘ঢাকা ঘোষণা’। ইউজিসি’র সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এ তথ্য জানান ।
এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’— শীর্ষক চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে সর্বসম্মতিক্রমে এই ঘোষণা গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের সামনে এই ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
উচ্চশিক্ষার অর্থবহ ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে এই ঘোষণায় অপরিহার্য উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আটটি কৌশলগত ক্ষেত্রে অঙ্গীকার: সম্মেলনে ঢাকা ঘোষণায় উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে আটটি বিশেষ দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য ও সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণ। গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারত্ব জোরদার। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও স্নাতকদের কর্মসংস্থান যোগ্যতা বৃদ্ধি। ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার। জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নকে শিক্ষাদান ও গবেষণার মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়সহ আঞ্চলিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি। জনআস্থা বৃদ্ধিতে সুশীল সমাজ, শিল্প খাত ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করা।
আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সার্ক প্ল্যাটফর্ম: ঘোষণায় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে উচ্চশিক্ষাকে একটি কৌশলগত খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ‘সার্ক প্ল্যাটফর্ম’ পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে এই ধরনের সংলাপ নিয়মিত আয়োজন করা হবে এবং পরবর্তী সম্মেলন মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব ও প্রফেসর ড. আইয়ুব ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া পাকিস্তান হায়ার এডুকেশন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. জিয়া উল হক, শ্রীলঙ্কা ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র প্রফেসর কে এল ওয়াসান্থা কুমারা, মালদ্বীপ কোয়ালিফিকেশন্স অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়াম ফিজানা রাশীদ, নেপাল ইউজিসির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. জ্ঞান বাহাদুর থাপা, পাকিস্তানের এসএবিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য/কমিশন মেম্বার প্রফেসর ড. আরবেলা ভুট্টো, বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এর বাইরে হিটের প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রকল্পের আওতায় চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এই ‘ঢাকা ঘোষণা’ দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন।
শীত না যেতেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সবজির দাম আবার চড়ছে। গত এক সপ্তাহে টমেটো, বেগুন, করলা, বরবটি, লাউ, শিম, মুলাসহ সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার আগের সপ্তাহেও সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছিল। অর্থাৎ গত দুই সপ্তাহে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবজি ছাড়াও চাল, চিনি, ফার্মের মুরগিসহ আরও কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, পবিত্র রমজান মাস আসতে আরও এক মাস বাকি। এর মধ্যেই বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রোজার শুরুতে আরও অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে। তাই বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখা ও শক্ত মনিটরিং (তদারকি) করা জরুরি।
সবজির দাম বাড়ার তেমন কোনো কারণও দেখা যাচ্ছে না। বাজারে শীত মৌসুমের ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, টমেটোসহ সব ধরনের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারাও সবজির দাম বাড়ার সঠিক কোনো কারণ বলতে পারছেন না। তবে অনেকের ধারণা, বোরো ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় সবজির জমির পরিমাণ কমেছে। এতে সবজির উৎপাদন উৎসগুলোতে দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মানিকনগর ও খিলগাঁও বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের অন্যতম চাহিদার সবজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগেও টমেটোর দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা কম ছিল। বেগুনের দাম ৭০-৮০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগের দামের তুলনায় ১০ টাকা বেশি। বাজারে খিরার দাম ৭০-৮০ টাকা কেজি। করলার দাম গত দুই সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা বেড়ে এখন ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া শালগম ৫০, মটরশুঁটি ১৩০, বরবটি ১০০, মুলা ৪০, কচুরমুখী ৬০, গাজর ৫০, কচুরলতি ৮০ থেকে ৭০, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১৪০, মিষ্টিকুমড়া ৪০ ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ব্রোকলি ৬০ টাকা প্রতিটি, ফুলকপি-বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ ও লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা প্রতিটি।
মানিকনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মোতালিব বলেন, এই সময় এসে টমেটো ১০০ টাকা করে বিক্রি হওয়ার কথা নয়। অন্যান্য সবজির দামও গত এক-দুই সপ্তাহে অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘সবজির দাম কেন বাড়ছে তার জবাব আড়তদারেরাও দিতে পারছেন না। আমাদের কেনা বাড়তি দামে, তাই বিক্রিও বাড়তি দামে।’
নতুন আলুর দাম কিছুটা কম, বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি। এ ছাড়া দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার খবরে বাজারে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ হওয়ায় সেখানকার বাজারগুলোতে আমদানির পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ৩৫ টাকা ছিল।
গত দুই সপ্তাহে প্রতি কেজি চালের দাম ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর অর্ধেক বেড়েছে গত এক সপ্তাহে। বিক্রেতারা বলছেন, সরু চালগুলো সাধারণত বোরো মৌসুমের ধান থেকে উৎপাদন হয়। এসব ধানের দাম উৎস বাজারগুলোতে বাড়তে থাকায় চালের দামও বেড়েছে।
চালের অন্যতম বড় উৎস অঞ্চল নওগাঁয় পাইকারিতে চালের দাম গত দুই সপ্তাহে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা।
রাজধানীর মানিকনগর মেসার্স মরিয়ম রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, এক-দেড় সপ্তাহ আগের তুলনায় শম্পা কাটারি, জিরাশাইল, নাজিরশাইলের মতো সরু চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এগুলো মূলত বোরো মৌসুমের চাল। আর এখন কেবল বোরোর আবাদ শুরু হয়েছে।
বাজারে খুচরায় শম্পা কাটারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৮-৮০ টাকা কেজি। দেড় সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৭৪ টাকা। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে জিরা নাজির, কাটারি নাজিরসহ বেশ কিছু জাতের চাল। নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮২ টাকা কেজি। এগুলোর দাম ছিল ৭৬-৭৮ টাকা।
এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রেতারা। দাম বাড়ার পেছনে তারা চালের সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করছেন।
নওগাঁর বাজারে বর্তমানে মানভেদে জিরাশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭০ থেকে ৭২ টাকা এবং কাটারি চাল ৭২ থেকে ৭৪ টাকা।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘বর্তমানে ইরি-বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে। মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে পুরোনো ধানের সরবরাহ কমেছে। তাই চালের দামও পাইকারি বাজারে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।’
চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। খুচরায় খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ১০০ টাকার মধ্যে ছিল।
বাজারে ডিম আগের মতোই ১১৫-১২০ টাকা ডজন বিক্রি হলেও কিছুটা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা প্রতি কেজি, যা গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা ছিল।
কক্সবাজারের টেকনাফে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দুর্বৃত্তের ছোড়া বুলেটে সুমাইয়া আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুমাইয়া ওই এলাকার মো. ছিদ্দিকের মেয়ে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহত তরুণীর বাবা মো. ছিদ্দিক বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উঠানে খোশগল্পে মেতেছিলেন। ওই সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলি সুমাইয়ার বুকে লাগলে তাৎক্ষণিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।’ রক্তাক্ত অবস্থায় সুমাইয়াকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক নওশাদ আলম কানন জানান, ‘গুলিবিদ্ধ তরুণীর বুকে দুইটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আনার আগে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। বিকেলের সেই সংঘাতের সময় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে সাধারণ এই তরুণী অকালে প্রাণ হারান।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে নিহত তরুণীর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ পুলিশ বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার অন্যতম আসামি রিয়াজ হোসাইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের (সিআইআইটিসি) প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকা থেকে খুলশী থানায় করা ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাহাড়তলী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আবছার এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের একটি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের মামলায় রিয়াজ হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ নজরদারি চালিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করছেন এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ হোসাইনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তার বাবা ডা. রবিউল হোসেনসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় রিয়াজ হোসাইনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর রিয়াজ হোসাইনকে পাহাড়তলী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের উৎস ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রিয়াজ হোসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্তরালে থাকা আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে পুলিশ আশা করছে। গতকাল শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর পাড়ে ধুলাবালিতে মাখামাখি অবস্থায় প্যাকেট করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা বিএডিসির পটাশ সার। বিএডিসি বলছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এমনটা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর পাড়ে লাইটার ভেসেল থেকে পটাশ সার নামিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেট করছেন কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই গোবর ও ময়লার স্তূপ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেন না তারা। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, আজ তারা প্রায় এক হাজার বস্তা সার প্যাকেট করেছেন। সারগুলোর আমদানিকারক নোয়াপাড়া গ্রুপ। প্যাকেট করার পর এই সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী শরিফ হোসেন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসে দেখি নদীর পাড়ে এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আমার ধারণা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া উচিত।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফারুক শেখ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘সারগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে লাইটার জাহাজে করে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এখান থেকে প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি করে ভরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। তবে এতে গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে কি না, তা আমি বলতে পারব না।’
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন ইসলাম বলেন, ‘আমরা সাধারণত নিয়ম মেনেই কাজ করি, তবে আজ কিছু সমস্যার কারণে হয়তো যথাযথ নিয়ম মানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে সার প্যাকেটজাত করার কোনো সুযোগ নেই। এতে সারের মান নষ্ট হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিষয়টি সম্পর্কে বিএডিসির ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ খসরু নোমান বলেন, ‘ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করার খবর পেয়ে আমি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। যথাযথ নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল চরে দুই শতাধিক অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। আরও উপস্থিত ছিলেন চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, উলিপুর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চিলমারী উপজেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, নদীঘেরা চরে শীতের তীব্রতা শহরের তুলনায় অনেক বেশি। কাজের সুযোগ সীমিত ও আয় কম হওয়ায় শীতবস্ত্র কেনা অনেক পরিবারের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি কম্বল তাদের জন্য বড় সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। শীত, বন্যা কিংবা খাদ্যসংকট, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে চরাঞ্চলের মানুষ। আজ আমরা কম্বল দিচ্ছি, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, ঠিক সেভাবেই দেশের চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে একটি ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা প্রয়োজন। এটি কেবল একটি দাবি নয়, বরং এটি মানবিক অধিকার।
শীতের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। একসময় শীত এলেই গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হতো খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির মৌসুম। তবে বর্তমানে সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৮ হাজারের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টনে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে কমে গেছে।
খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্পকে বাঁচাতে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শীতের সময়কাল কমে গেছে। এতে গাছিরা সময়মতো গাছ কাটতে পারছেন না, আবার অনেক কৃষকও আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন দিন দিন কমছে।
তিনি বলেন, জেলায় এ বছর এক লাখ ৮ হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা। তবে গাছিদের প্রশিক্ষণ দিতে পারলে খেজুরের রস গুড় উৎপাদন বেড়ে যাবে। বাড়বে কর্মসংস্থানও। এতে গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, সব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও গুড় সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এতে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটত। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে, তা জেলার চাহিদা মিটিয়ে সীমিত পরিসরে অন্য জেলায় যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার নগরঘাটা এলাকার গাছি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আগে শীত তাড়াতাড়ি আসতো, এখন অনেক দেরিতে আসে। এতে গাছ কাটতেও দেরি হয়। আবহাওয়ার কারণে রসও কম হচ্ছে। আগে ১৫ থেকে ১৬টি গাছে ১০ থেকে ১২টি হাঁড়ি রস পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৪টি হাঁড়ি পাওয়া যায়।
তিনি জানান, আগে খেজুর গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকত না। বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই পানি জমে থাকে, যা রস উৎপাদনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামবাসী ফজলু মিয়া বলেন, ‘আগের মতো এখন আর মায়ের হাতের পিঠা-পায়েস পাওয়া যায় না। খেজুর গাছ কাটার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না। ছোটবেলার সেই খেজুরের গুড় এখন খেতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।’
এদিকে, বর্তমানে খেজুরের রস দেড়শ টাকা ভাড়। আর খেজুরের গুড় ৪০০ টাকা ও পাটালি ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দিনে দিনে রস উৎপাদন কমে যাচ্ছে
নগরঘাটার বাসিন্দা সাইদুজ্জামান বলেন, একসময় আমাদের এলাকায় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। এখন গাছের সংখ্যা কমে গেছে। অনেক কৃষক আর গাছ কাটেন না, আবার অনেক জায়গায় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে রসের সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শীতের মৌসুমে পিঠা পুলির উৎসব, খেজুরের রস সবই এখন আগের মতো নেই। আমরা চাই খেজুর গাছ সংরক্ষণ করে এই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা হোক।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম বাবা চাচারা খেজুর ও তাল গাছ কাটতেন। গাছের নিচে গিয়ে পাটকাঠির নল দিয়ে রস খেতাম। এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যায় না।
একই গ্রামের গাছি মিজানুর রহমান বলেন, খেজুরের রস পুরোপুরি শীতের ওপর নির্ভরশীল। আগে একটি গাছে এক ভার রস হতো, এখন হয় অর্ধেকেরও কম। রস কম হলে গুড়ও কম হয়। বর্তমানে অনেকেই খেজুর গাছ জ্বালানির কাজে ব্যবহার করছে, যা খেজুর শিল্পের জন্য বড় হুমকি। আগের মতো গাছিও নেই। নতুন করে এই পেশায় কেউ আসতে চাই না।
এদিকে, এ শিল্প রক্ষায় খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ সংরক্ষণ, গাছিদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে সাতক্ষীরায় আবারও খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হারিয়ে যেতে বসা এই গ্রামীণ ঐতিহ্য নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজে দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের উন্মুক্ত মাঠজুড়ে সাজানো হয় বাহারি পিঠা-পুলির স্টল। লোকসঙ্গীতের সুর আর পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পিঠার স্বাদের মধ্য দিয়ে শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
কলেজের সভাপতি ও যুগ্ম সচিব নুরুল হকের পক্ষে উৎসবের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিঠা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই শীতকালীন পিঠা উৎসব আয়োজন করে আসছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, পিঠা-পুলি শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনে যুক্ত করার মাধ্যমে পিঠাকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা পণ্য হিসেবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য।
উৎসবে ১২টি স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।