নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাবা ও ছেলেসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার ভোররাতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় পুনরায় সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের এবং খলিল শেখের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সোমবার ভোররাতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালালে বড়কুলা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে খলিল শেখের পক্ষের চারজন প্রাণ হারান। তাঁরা হলেন—স্বয়ং খলিল শেখ, তাঁর ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ, ভাগিনা ফেরদৌস এবং মুন্না শেখ। অন্যদিকে, সাবেক চেয়ারম্যান খায়েরের সমর্থক ওসিকুর শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই উত্তেজিত প্রতিপক্ষের লোকজন স্থানীয় কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বনি শিকদার, হালিম ফকির, তুফান মোল্যা, সদয় মোল্যা, লাজুক ওরফে সূর্য্য শিকদার এবং জসিম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বড়কুলা গ্রামে নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পুলিশ কাজ করছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
কোনো সংযোগ সড়ক না করেই নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালের ওপর একটি সেতু কালভার্ট নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
২০২১-২২ অর্থ বছরে এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তিন গ্রামের কৃষকের।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু কালভার্ট নির্মাণ করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে কাজটি সম্পন্ন করেন মেসার্স আব্দুর রউফ শেখ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৬ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুসুরিয়া গ্রামের খালের ওপর প্রায় ১৫ ফুট উঁচু একটি সেতু। সেতুর দুই পাশেই কোনো সংযোগ সড়ক নেই। সেতু-সংলগ্ন বাসিন্দা উজ্জল হাজরা বলেন, ‘বিরিজ (ব্রিজ) এহোন আমাগে গলার কাটা হয়ে দারাইছে। বিরিজি গরুর গাড়ি ওঠে না। মাথায় বুঝা নিয়ে উঠতি গিলি হোচট খাতি হয়।’
স্থানীয়রা বলেন, ‘বিলের আশপাশের প্রায় চারটে গ্রামের কৃষক খাল পার হয়ে জমিতে ফসল লাগানো থেকে শুরু করে তা বাড়ি আনতে হয়। সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে কৃষকরা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছিল। বিল থেকে ধানসহ নানা ফসলাদি আনা-নেওয়া করতে কৃষকের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাউবোর অধীনে ২০২১ সালের শেষের দিকে সেতুর কাজ শুরু করলেও শেষ হয় ২০২২ সালে প্রথম দিকে । কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষকরা এই উঁচু সেতু দিয়ে ধান বোঝাই গরুর গাড়ি আনা-নেওয়া করতে পারছে না।’
নিরঞ্জন গোপাল (৭৫) বলেন, ‘সেতু নির্মাণের আগে চার গ্রামের কৃষকরা বিলির ভেতর থেকে গরুর গাড়িতে করে ধানসহ নানা ফসল নিয়ে যেত। সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে রাস্তা করে না দেওয়ার জন্য অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কম সময়ে বিল থেকে গ্রামে আসতে আর কোনো পথ নেই। বৃষ্টির সময় আমাদের ফসলাদি নিতে অনেক কষ্ট পেতে হয় । উপায় না পেয়ে বৃষ্টির আগে আমরা সেতুর দুই পাশে মাটি কেটে দিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিয়ে তা ধুয়ে গেছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল সেন বলেন, ‘সেতুটি তার কার্যকালে নির্মাণ করা হয়নি।’
এ বিষয়ে তিনি খুব জানে না। তবে পুরোনো কর্মকর্তাদের কাছে শোনেছেন ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়।’
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার হারবাংয়ে ছড়াখাল ও মাতামুহুরী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে রাত-দিন বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে তিন সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে তাদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে বালুদস্যু নাজেম উদ্দিন।
হামলায় আহত কালের কণ্ঠ চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, দৈনিক সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি জিয়াবুল হক, আমার দেশ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ভাণ্ডারির ডেপা এলাকায় এঘটনা ঘটে। কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায় ওই এলাকার নাজিম উদ্দীনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আমরা গিয়ে দেখি পার্বত্য অববাহিকার হারবাং ছড়া খালে মাটি কেটে বিরানভূমি করে রেখেছে এই বালুদস্যু। এ সংবাদ প্রকাশের জন্য ছবি ভিডিও করতে গেলে আমরা হঠাৎ আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নাজিম উদ্দীনসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী। তাদের ধাক্কাধাক্কি করে ছড়া খালে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাংবাদিক জিয়াবুরের হাতের হাড্ডি ভেঙে যায়। আমার মাথায় আঘাত করে ও সাংবাদিক ইকবাল ফারুকের হাতে আঘাত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশবিক নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের জিম্মি করে বালু খেকো নাজিমের বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলবে বলে ৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে।’
আহত সাংবাদিক জিয়াবুল বলেন, ‘রোজা রেখে আমার মুখে বালি ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন করতে করতে আমার ডান হাতের হাড্ডি ভেঙে ফেলে। ইফতারের সময় গড়িয়ে যায় এদিকে হাতের যন্ত্রণায় নিরুপায় হয়ে আকুতি-মিনতি করেও রক্ষা পাইনি। ৩ ঘণ্টা মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করে পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে। তবে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে দেননি হামলাকারীরা। পার্শ্ববর্তী উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে রাত ৪টা বাজে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভাণ্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে শ্যালো মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাতদিন বালু উত্তোলন করে আসছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালুখেকো। এসব বালু রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন। স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতে ভয় পায়। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। ভেঙে যাচ্ছে ছড়া খালের পাড়। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। শ্যালো মেশিনের আওয়াজে ঘুমোতে পারছে না এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়। কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এলাকার রাস্তা-ঘাট নষ্ট করে বিরানভূমিতে পরিণত করেছে ওই এলাকা।
বালুখেকোদের হামলায় আহত সাংবাদিক ইকবাল ফারুক বলেন, ‘বালুখেকো নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে হারবাং ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে গত রোববার বিকালে ঘটনাস্থলে যায়। আমরা যাওয়ার সাথে সাথে কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের ওপর হামলা করে আহত অবস্থায় প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়ে ভেঙে যায়। আমাদের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
এদিকে সাংবাদিকদের হামলায় ঘটনাটি জানাজানি হলে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানান কর্মরত সাংবাদিকরা। তবে হামলার প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো অপরাধীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়টি কেউ অবগত করেনি। লিখিত বা মৌখিকভাবেও কেউ জানায়নি।’ আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলায়ার বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হাত তোলা চরম অন্যায়। এটা কোনোভাবে কাম্য না। আমি এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পাঠাব। বিষয়টি আমি দেখছি।’
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনও ইসলাম উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাজী মুজিব বলেন, ‘প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তর জনগণের টাকায় পরিচালিত। আমরা জনগণের সেবক- কোনোভাবেই জনগণের ভোগান্তির কারণ হওয়া যাবে না।
তিনি সেবা প্রত্যাশীদের যেন অযথা হয়রানি বা বিলম্বের শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষা করাকে তিনি তার প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, রাজনৈতিক দলের নেতারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পৌর এলাকার মাইজপাড়া এলাকায় গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর প্রায় ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসার ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সংস্পর্শ ঘটলে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আগুনে ঝলসে যান।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মনোয়ারা বেগম (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) এবং শিশু হুররাম (২)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগমের শরীরের প্রায় ২ শতাংশ, জিল হকের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ এবং শিশু হুররামের ৬ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ দুজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন জনপদ গুয়াগাছিয়ায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। অভিযানে কুখ্যাত নৌডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর একটি গোপন আস্তানা ও ওয়াচ টাওয়ারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, সেনা সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে নৌডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। আস্তানাটি লোকালয় থেকে দূরে নির্জন স্থানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তল্লাশিকালে সেখান থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, আস্তানাটির ভেতরে একটি বিশেষ ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছিল যেখান থেকে সাধারণ মানুষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যেত। আস্তানাটিতে ৫-৬ জন সদস্যের থাকার মতো সব ধরনের ব্যবস্থা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে নৌডাকাত দলের সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিল। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আস্তানাটির সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে অপরাধী চক্রটি সেখানে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
সেনা ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুন্সীগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গজারিয়া থানার ওসি হাসান আলী বলেন, ‘সেনাবাহিনী থানায় গুলিগুলো হস্তান্তর করার পর আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। গুয়াগাছিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ঘোষণা চূড়ান্ত এবং নির্মমভাবে স্পষ্ট—কোনো আপস নয়, কোনো ছাড় নয়, কোনো দয়া নয়।”
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ধ্বংস করছে। তাদের প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখানো মানে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
সংসদ সদস্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে সামান্যতম শৈথিল্যও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো সুপারিশ, তদবির, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী মহলের চাপ আইনের গতিকে এক চুলও বাঁকাতে পারবে না। অপরাধী যে-ই হোক, যত বড় পরিচয়েরই হোক না কেন—তার ঠিকানা হবে আইনের কঠোরতম ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, সমাজ আর নীরব থাকবে না। মাদক সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্পট চিহ্নিত করা হবে, প্রতিটি চক্র ভেঙে দেওয়া হবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযান হবে নিরপেক্ষ, দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক। নাম, পদবি বা পরিচয়ের আড়ালে কেউ নিরাপদ থাকবে না।
এমপি মিলন জোর দিয়ে বলেন, এখন সময় শক্ত অবস্থানের। এখন সময় প্রমাণ করার—আইন ঘুমিয়ে নেই। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, এবং এই যুদ্ধে নরম ভাষা নয়, কার্যকর কঠোরতাই হবে একমাত্র উত্তর।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন কঠোর বার্তা মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে গতি আনতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও মানবাধিকারসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে প্রকৃত অপরাধীরাই বিচারের আওতায় আসে।
নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লায় নাগর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর নজরে আসে একটি বক্স সেই বক্সে ছিল পিস্তলের ৫০ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের সরঞ্জাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা যায়, কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের শিশু পুত্র মোস্তাকিম হোসেন (৯) ও জাবের হোসেন (৭)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে পার্শ্ববর্তী নাগর নদীতে মাছ ধরতে যায়। এসময় তারা নদীর মধ্যে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাক্স দেখতে পায়। বাক্সটি খুলে তারা এর ভেতরে ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পিস্তলের ব্যারেল পরিষ্কার করার প্লাস্টিকের তৈরি ক্লিনিং রড ও দুটি ব্রাশ পায়। তবে প্রতিটি গুলির পিছনে ইংরেজিতে ঈইঈ ৩২ অটঞঙ লেখা ছিল
শিশুরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে বাক্সটি নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখে। পরে শিশুর মা মরিয়ম বেগম (৪০) সিংড়া থানায় ফোন করে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাক্সসহ ভেতরের গুলি ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এঘটনা জানতে চাইলে শিশুদের মা মরিয়ম বেগম বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় তার দুই ছেলে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তারা হঠাৎ একটি মাঝারি আকারের বক্স হাতে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। কৌতূহলবশত বক্সটি খুলে তিনি ভেতরে পিস্তলের গুলি দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেন এবং পরে উদ্ধারকৃত বক্সসহ গুলি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এবিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ব.ম আব্দুন নূর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতর থাকা ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এসব কোথা থেকে এলো এবং কারা রেখে গেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) তিন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী সীমান্ত এলাকায় এই আটকের ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তিদের তল্লাশি চালিয়ে মিয়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে বিজিবি সদস্যরা তিন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে অনুপ্রবেশ করতে দেখেন। পরবর্তীতে তাঁদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা নিজেদের আরাকান আর্মির সক্রিয় সদস্য বলে পরিচয় দেন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু পরিমাণ মিয়ানমারের মুদ্রা (কিয়াট) জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার রাতেই তাঁদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা তিন সশস্ত্র সদস্যকে সোপর্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অনুপ্রবেশকারী এই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী আমতলী সীমান্তে আটকের ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছেন বলে মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির কড়া নজরদারির ফলেই এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আরও অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের বিস্ফোরণে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ১৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি বাসার বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে দগ্ধ নয়জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নুরজাহান বেগম রানি (৪০)।
অন্যদিকে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
জানা গেছে- চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘরটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না; সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের সংযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। পরে সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণেই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, ভোরে ওই বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা নারী ও শিশুসহ কয়েকজন দগ্ধ হন। দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, দগ্ধদের সবারই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া একজনের ৮০ শতাংশ, একজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন মো. রোমান (৪০), তার স্ত্রী পিংকি (৩৫), এই দম্পতির সন্তান মায়ান (৩) ও পিংকির ভাই অপু (২২)।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর পৌনে ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
শাওন বিন রহমান বলেন, রোমানের শরীরের ২৫ শতাংশ, পিংকির ৭৫ শতাংশ, মায়ানের ২৪ শতাংশ ও অপু ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।
জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকার একটি ছয় তলার ভবনের নিচ তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে পরিবারটি। রাত পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ আগুন লেগে বাসায় থাকা চারজনই দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর বাধার মুখে হামলা ও ছররা গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও কিশোরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ বলে জানা গেছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, নাছিরাবাদ বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে নদীর তীরঘেঁষে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল, ফলে নদীভাঙন, ফসলি জমি বিলীন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসী বারবার নিষেধ করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শতাধিক এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ড্রেজার এলাকায় গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে নূরুল আমীন (৪০), রূপা মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), ইব্রাহীম খলিল (৩০), জুলহাস মিয়া (৫০), সাকাল মিয়া (৪০) ও সিয়াম আহমেদ (১৬) রয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে নারীসহ আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করে আসছিল। প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গুলি চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দুই পক্ষের কিছু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের নাম স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হলেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুলি চালানোর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জেলাপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নবীনগরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অবৈধ বালু মহাল বন্ধ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা রেকর্ড রুমের দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাত। শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত মেঘনাথ গাইনের ছেলে মলয় কুমার ও কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।
ইতোমধ্যে রেকর্ডরুম শাখা কর্তৃক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনায় প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলা হয়েছে। শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুল রহমান বাদী হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলা দায়ের পর প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। বরং অর্থ সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা গ্রেপ্তার এড়ানোসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গোপালপুর মৌজার এসএ ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের ৪ একর ৩২ শতক জায়গা ১৯৮১ সালে জাল দলিল তৈরি করে মলয় কুমার ও তার দুই ভাই দখল করে নেয়। এ সময় তারা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া জনৈক ক্ষেত্র দাস দিং দের দাতা সাঁজিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি জবর দখল করেন। পরবর্তীতে ওই জমির অনুকুলে জাল খতিয়ান তৈরিসহ সৃজনকৃত সেসব কাগজমূলে নামপত্তনসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে অর্পিত ঐ সম্পত্তির মালিকানার দাবিতে মলয় ও তার দুই ভাই বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে (সাতক্ষীরা) ১৮/২০০৫ নং মামলা করেন। এ সময় তারা তারা দাবির সমর্থনে জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল স্বাক্ষর সম্বলিত এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।
জানা যায় সম্প্রতি তাদের জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত জানান। একপর্যায়ে রেকর্ড রুমের তদন্তে প্রমানিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত যাবতীয় কাগজ ভূয়া। যার প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুর রহমান বাদি হয়ে মলয়সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮, ও ৪৭১ ধারায় ওই মামলা করেন।
এ বিষয়ে মলয় কুমার জানান, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, মামলার তদন্তদভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিরালা পুঞ্জিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীমঙ্গল–বড়লেখা প্রেসবিটারিয়ান মো.খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর ৫৫তম বার্ষিক ধর্মীয় সভা। তিন দিনব্যাপী এ আধ্যাত্মিক আয়োজন গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সমবেত প্রার্থনা ও বিদায়ী সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
নিরালা পুঞ্জি এলাকায় আয়োজিত এ ধর্মীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় নিরালা খাসিয়া পুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে। এতে সহযোগিতা করে শ্রীমঙ্গল–বড়লেখা প্রেসবিটারি ও সিলেট প্রেসবিটারিয়ান সিনড। আয়োজন করে নিরালা প্রেসবিটারিয়ান মণ্ডলী।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এই ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন মডারেটর পালক রেভা. এবরিসন পতাম। সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ছিল খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ হাজার ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। প্রার্থনা, ধর্মীয় উপদেশ ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।
ধর্মীয় আলোচনায় বিশেষ অতিথি তেনজিং ঘোষ যিশুখ্রিষ্টের প্রেম, ত্যাগ ও প্রার্থনার গুরুত্ব তুলে ধরে ভক্তদের নৈতিক ও আত্মিক জীবন গঠনে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পালক রেভা. জি. রাজমুসেন, রেভা. এব্রিংটন পি. লং, মণ্ডলীর ডিকন সামুয়েল ধার, আরন মানার, শাকিল পামথেত, লবিং সাআট এবং খাসি প্রেসবিটারিয়ান ট্রাস্টের সম্পাদক লুকাস রংসাইসহ মণ্ডলীর অন্যান্য নেতারা।
ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি ১০টি সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় সংগীত সভায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ভক্তদের অংশগ্রহণে প্রার্থনা ও গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে নিরালা পুঞ্জি প্রেসবিটারিয়ান মণ্ডলীর পক্ষ থেকে এলভিস পতাম আগত অতিথি ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ৫৫তম বার্ষিক ধর্মীয় সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।