২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন এ মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
তবে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সূত্রে জানা গেছে- বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যকালে নতুন করে অনেকের নাম এসেছে, যাদের নাম ইতোপূর্বে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয় হয়নি। এরমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ একাধিক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নাম রয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসব নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিধানও আছে।
মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানা যায়- হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বড় মামলা। বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন। রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।
ফৌজদারি কোনো মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কারও মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যেটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২২৮ জনকে। খালাস পান ২৮৩ জন। হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬১ জন আসামি মারা গেছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ২২৬ জন আসামির পক্ষে পৃথক ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করা হয়েছে। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যারা খালাস পেয়েছেন এবং যাদের সাজা কমেছে, এমন ৮৩ জন আসামির বিষয়ে ২০টি লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ শুনানি হবে আপিল বিভাগে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই আপিল গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৬৬৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
এ মামলায় আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (নবনিযুক্ত) মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে আপিলের সারংক্ষেপ জমা দিয়েছে। আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত আছে। আপিল বিভাগের কার্যতালিকাতেও রয়েছে। এখন ক্রম অনুসারে আপিল বিভাগে শুনানি হতে পারে।
অন্যদিকে, বিস্ফোরক আইনে করা মামলার সাক্ষী ১ হাজার ৩৪৪ জন। এখন পর্যন্ত ৩০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন মামলাটির বিচার চলছে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার–সংলগ্ন বিশেষ আদালতে। এ মামলায় আসামি ৮৩৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন মারা গেছেন। ২০ আসামি পলাতক।
আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত প্রায় ৩০০ জন বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (পিপি) বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০২ জন সাক্ষীকে হাজির করেছে, যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
এদিকে, পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় আসামি হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট নেতাকর্মী।
সংশ্লিষ্ট মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্যকালে নতুন করে অনেকের নাম এসেছে, যাদের নাম ইতোপূর্বে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয় হয়নি। এরমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ একাধিক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নাম রয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসব নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিধানও আছে। আমি ডিটেইলে এটা এই মুহূর্তে বলতে চাই না। এখানে কর্তৃপক্ষ কীভাবে চায়, সে বিষয়ে আমরা ভাবছি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, আমরা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক আইনের মামলার দ্রুত বিচার চাই। আদালত দ্রুত রায় ঘোষণা করুন—এটাই আমাদের কাম্য। কোনো আসামির এ মামলায় জামিন হচ্ছে না। কয়েক দফায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিন চাওয়া হলেও তা নামঞ্জুর হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে, জুডিশিয়াল প্রসেসটা সমাপ্ত করা হবে আর অন্যান্য যে রিকমেন্ডেশনস আছে এগুলো আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যেহেতু জাতীয় একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হয়েছে, তাদের রিপোর্টে আমি এক নজরে যা দেখেছি তাতে যে সমস্ত সুপারিশমালা এসেছে তা প্রায় ৭০টি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের রিপোর্ট আমাদের সামনে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, কিছু আপিল পর্যন্ত, কিছু আপিলেড ডিভিশনে হয়তো আছে। জুডিশিয়াল প্রসেসটা সমাপ্ত করা হবে আর অন্যান্য যে রিকমেন্ডেশনস আছে এগুলো আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল—নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।
চট্টগ্রামের রাউজানে স্থানীয় একটি বাজারে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবদল কর্মীর নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা ও পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় বাজারেই মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, তার চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মিজানুর রহমানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।
কাজী নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান। এ সময় তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবদুস সোবহান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার ছেলে নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নামাজে যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন বাসায় রেখে যান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ নেওয়া হলেও অনেকগুলো অচল থাকায় তাঁর পরবর্তী অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেন।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা বলেন, ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
বাবার ভাষ্য, তার ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন তার ছেলে। এমন একজন মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক।
পরিবারের দাবি, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী নিজাম উদ্দিনের মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। তাকে জোর করে নিয়ে গেছে, এ রকম কিছু আমরা পাইনি। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরের সামনেই একদল কর্মকর্তা জড়ো হয়ে তাকে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলাকা ছেড়ে যান।
জানা যায়, এ সময় একদল কর্মকর্তা জড়ো হয়ে উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কার্যালয় ত্যাগে বাধ্য করেন। পরে তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
এসময় ঘটনাস্থলে নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, অতিরিক্ত পরিচালক তানভীরসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তাদের মব সৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মৌসুমী আক্তার তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের ওয়াজেদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মায়ের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন মৌসুমী। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় উঠে নিচে লাফিয়ে পড়েন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই ইউসুফ আলী জানান, মৌসুমী গত দেড় বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে গত পাঁচ দিন ধরে তার অবস্থার আবারও অবনতি হয়। চিকিৎসার জন্যই মা তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। বর্তমানে লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, তরুণীটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। হাসপাতাল প্রশাসনের সবাই গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। ভিকটিমের কিছু কাগজপত্র ঘটে জানা যায় তিনি মারাত্মকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিন পেলেও তাদের পুনরায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আটটি জেলার পুলিশ সুপারদের (ডিএসবি) এই নির্দেশ পালনের কথা বলা হয়েছে।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—
১) কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শনে সক্ষম—তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শোন অ্যারেস্ট) হবে। তবে যারা বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই।
২) প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগে থেকেই গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা
রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জেলাগুলো হলো— রাজশাহী জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, নওগাঁ জেলা, নাটোর জেলা, পাবনা জেলা, সিরাজগঞ্জ জেলা, বগুড়া জেলা ও জয়পুরহাট জেলা।
শেরপুরের গারো পাহাড় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া রাবার বাগান এলাকা দিয়ে অভিনব কৌশলে ভারতীয় মদ পাচারের চেষ্টা করে একটি চোরাকারবারি চক্র। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বিজিবির একটি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো লাল চাঁন (২৩) নামের একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২৪ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালপত্রের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫১ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় আটক আসামিসহ পলাতক আরও চারজনের বিরুদ্ধে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক অভিযানে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা ও শালবাগান কুচপাড়া, ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম গাঁড়োকোনা এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার শিমুলকুচি এলাকা থেকে পাচারকালে ভারতীয় মদ, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও শনপাপড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালপত্রের মোট আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ টাকা।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোরতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদারীপুরের সর্বত্র মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিশেষ করে দেড় শতাধিক বছরের মাদারীপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকরা এখন এই উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি অতিষ্ঠ। এ বছর বর্ষা মৌসুম ও গরম আসতে না আসতেই গত বছরের তুলনায় মাদারীপুর পৌর শহরের পরিমাণ ও ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের বেলায় তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশার উপদ্রবে কোথাও দুদণ্ড বসে কাজকর্ম করার সুযোগ নেই। এ শহরে মশারি ছাড়া বিশ্রাম কিংবা ঘুমানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরাই বেশি ভুক্তভোগী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মশকনিধন-সংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে মাদারীপুর পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক (উপসচিব) মোছা. জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘আমাদের পৌরসভার এসব টিম বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটাচ্ছে এবং আজও শহরের কুলপদ্দি চৌরাস্তা, পানিছত্র এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে এবং সামনে আরও সকল এলাকায় তা অব্যাহত থাকবে। স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটালেও মশা তেমন মরছে না বা বিনাশ হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্ধারিত ব্রান্ডের ‘মসকুইটোসাইড ফর ফগিং’ তরল ওষুধ মশকনিধনে আমাদের টিম প্রয়োগ করছে। এতে মশা পুরোপুরি বিনাশ হচ্ছে না- এমন কথা আমরাও শুনছি, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনসাধারণের সমস্যা লাঘবে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।’
এমপি হাসনাত বলেন, ‘মাটিখেকোরা আগে থেকেই পুলিশকে সময় জানিয়ে দেয় কখন মাটি কাটবে। এসিল্যান্ড বা ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, ফলে স্পটে কাউকে পাওয়া যায় না। এক-দুই লাখ টাকা জরিমানাকেও তারা বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নেয়। তিনি দাবি করেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে থানার কিছু সদস্য জড়িত। অভিযানে যাওয়ার আগেই থানা থেকে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।’ এতে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমি গোমতীর বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেছি, তখন কেউ সাহস করেনি মাটি কাটতে।’ তিনি প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘দেবিদ্বার অংশে পাঁচটি স্পটের একটিতেও যেন আর এক কোদাল মাটি কাটা না হয়। অন্যথায় আমি ধরে নেব আপনারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন।’ এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় দেবিদ্বার থানার ওসির সামনেই কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ওসি আন্তরিক হলেও তার কিছু কর্মকর্তা ‘ফুললি করাপ্টেড’। সেকেন্ড অফিসার মতিন ও এসআই ভবতোষ টাকা ছাড়া এক কদম পা ফেলে না। আমি প্রমাণ নিয়ে বলছি। এ বিষয়ে ওসি সাহেব প্রদক্ষেপ নেবেন।’
থানায় ‘হেলাল’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ তুলে এমপি হাসনাত ওসির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘থানা আপনি চালান না থানা চালায় হেলাল। থানাকে হেলালগং মুক্ত করতে হবে, থানাকে দালালমুক্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীরা যেন সরাসরি ওসি সঙ্গে কথা বলতে পারে সে ব্যবস্থা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। আপনি সকল অফিসারদের নিয়ে বসুন, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’ দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর করে পুরোনো বাজার ও জেলা পরিষদ মার্কেটে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন এমপি, যাতে সড়কের যানজট কমানো যায়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদরকি বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ তিনি মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ইলিশ বিক্রির দায়ে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত জাটকা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেশবপুর বড় মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জাটকা ইলিশ বিক্রির অপরাধে পৌর শহরের ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের আফসার আলী বিশ্বাসের ছেলে কামরুজ্জামানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে কেশবপুর বড় মাছ বাজারে আইন ভঙ্গ করে জাটকা ইলিশ বিক্রির দায়ে কামরুল বিশ্বাসকেও নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে জব্দকৃত সব জাটকা ইলিশ পরবর্তীতে কেশবপুর শিশুসদন এতিমখানায় হস্তান্তর ও বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘জাটকা ইলিশ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। জাটকা সংরক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত ইলিশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের অংশ হিসেবে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁর রাণীনগরে সুবিধাবঞ্চিত ৪১৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাণীনগর মহিলা কলেজ মাঠে জার্মানি দাতা সংস্থা মুসলিম হেলফেনের অর্থায়নে সোশ্যাল এইড এর আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাণীনগর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, উপাধ্যক্ষ চন্দন কুমার মহন্ত, সোশ্যাল এইড এর নির্বাহী পরিচালক বাবুল আকতার, প্রোগ্রাম সাপোর্ট অফিসার নূরে জান্নাত নিতি, সোশ্যাল এইডের জেলা সমন্বয়কারী ফজলুল হক খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলমসহ অন্যান্যরা।
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো- ২৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি মুড়ি ও ৩০ পিচ ডিম।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই নগরীর উন্নয়নে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন শওকত হোসেন সরকার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগর ভবনে দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টায় নগর ভবনে পৌঁছে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নগর ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার সচিবের সাথে ভার্চুয়াল সভা এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
প্রশাসক জানান-নগরবাসীর যানজটের দুর্ভোগ কমাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে কাশিমপুর এলাকায় দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ঢাকার সাথে সংযোগকারী বিকল্প সড়কগুলোরও উন্নয়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক প্রধানত দুটি বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে একটি খাল খনন। মহানগরীর অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত ১৯ খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন করা হবে। এর ফলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে। অপরটি হলো গাজীপুরকে গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলা। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গাজীপুরকে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করা, নগরীর ব্যর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিশ লাইন অপসারণ, সড়ক বাতির ব্যবস্থা করার ঘোষণা করেন।
সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান শওকত হোসেন সরকার। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ড একটি করে খেলার মাঠ এবং একটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সুস্থ ধারার শিল্প ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকেও বেগবান করার আশ্বাস দেন তিনি।
সিটি করপোরেশনকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের হালিশহরের এক বাসায় গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৯ জন দগ্ধের ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানের পর মারা গেলেন সাখাওয়াত হোসেন (৪৯)। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, সাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, ছেলে শাওন, ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি মারা গেছেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগই পুড়ে গিয়েছিল।
ডা. শাওন আরও জানান, বর্তমানে সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা ৪৫ শতাংশ, ভাইয়ের ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ এবং আরেক ভাই শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থাই আশংকাজনক।
এর আগে, গত সোমবার ভোরে হালিশহরের বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে স্বজনরা।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।