কালিপদ দাস ও অনুপ দাস আপন দুইভাই। কালিপদ বড়, অনুপ ছোট। পাশাপাশি দুটি ছোট দোকান। নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামতের মাল-সামানায় দোকান ভর্তি। দুই ভাই নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ মুচিপোলের বাসিন্দা। ৫৫ বছর ধরে ডুগি-তবলা, ঢাক-ঢোল-খোল জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামতের কাজ করছেন। বাবা কিরণ দাসের হাত ধরে এ পথে আসা। বেশ আগেই বাবা মারা গেছেন। এখন তাদের দুই ভাইয়ের হাতেই নতুন বাদ্যযন্ত্রের প্রথম বোল (তাল) ওঠে। নতুনের পাশাপাশি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতে নতুন করে তাল তুলে দেওয়ার কাজও দুই ভাই করে যাচ্ছেন।
কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর থেকে ঢাক-ঢোল, ডুগি-তবলা-খোল-জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র নতুন তৈরি এবং পুরোনোগুলো মেরামত করে বেচাকেনা করছি। ২০২০ সালের পর থেকেই বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির আগে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০টি নতুন বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হতো। এরপর সেটা কমে ৫ থেকে ৬টায় দাড়িয়েছিল। এখন ২ থেকে ৩টা নতুন তৈরির কাজ হয়। ৫-৬টি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতের কাজ হচ্ছে। মাঝে মধ্যে জয় ঢাকের মেরামত কাজ বাড়তি হয়।’
তিনি বলেন, ‘৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেন। দাম কম বেশির সঙ্গে বোলের (তালের) কোনো হেরফের হয় না। শুধু আকারে ছোট-বড় অনুযায়ী দাম কমবেশি হয়।’
কালি দাসের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলেরা লেখাপড়া করছে। ছোট ভাই অনুপ দাসের দুই ছেলে। তারা সকলে লেখাপড়া করে। লেখাপড়ার পাশাপাশি দুই ভায়ের ছেলেরা বাবার কাজে সহযোগিতা করে থাকে।
কার কাছ থেকে এ কাজ শেখেছেন জানতে চাইলে কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবা কিরণ দাস ছিলেন এ অঞ্চলের বাদ্যযন্ত্র তৈরির বড় মাপের কারিগর। নড়াইলের তৎকালীণ জমিদার রতন রায় চৌধুরী বাড়ির কর্মচারী ছিলেন আমার ঠাকুরদা (বাবার বাবা)। জমিদার বাড়ির জলসাঘর (গান-বাজনা) অনুষ্ঠানে যত রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো সেগুলো মেরামত এবং নতুন তৈরির কারিগর ছিলেন আমার ঠাকুরদা। ঠাকুরদার কাছ থেকেই বাবা কাজ শিখেছিলেন। জীবদ্দশায় বাবার কাছ থেকে আমরা কাজ শিখেছি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন আমরা করছি।’ তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম বংশ পরম্পরায় এ কাজ ধরে রাখতে পারব। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা তা ধরে রাখতে পারবে কি না বুঝতে পারছি না। বর্তমান সময়ের সন্তানরা অন্য ধরনের।’ তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলে দুটো লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
কবে-কখন-কোথা থেকে নড়াইলে এসেছিলেন দুইভাইয়ের কেউ বলতে পারেন না। শুধু এটুকুই বলেন, এখানেই আমাদের জন্ম। জন্মের পর থেকে এখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা। এই মাটিতেই তারা মরতে চান।’
তিনি বলেন, ‘বাবার সান্নিধ্যে থেকে বেড়ে ওঠা। তার কাছেই কাজ শেখা। কাজ করার পাশাপাশি বিয়ে করেন। সংসার হয়। ছেলেরা লেখাপড়ার পাশাপাশি হাতের কাজও শিখছে। তারা এই পেশায় থাকতে চাইছে না। দুই ছেলেই ইলেকট্রিক কাজ করছে। তবে মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
অনুপ দাস বলেন, ‘আমার এখন আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ৮ বছর বয়স থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজের সঙ্গে আছি। এখন বয়স ৪৪ বছর। প্রথমে বাবার কাছ থেকে, বাবা মারা গেলে দাদার কাছ থেকে ডুগি-তবলা, ঢোল-খোল, ঢাক-জয়ঢাক, কাঠিঢোল-ঢোলক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামত কাজ শিখেছি। সংসার জীবনে প্রবেশের পর দুইভাইয়ের সংসার আলাদা হয়েছে। তবে ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হয়নি। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের দোকান। তিনি বলেন, ‘মাটির তৈরি নতুন ডুগি-তবলা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। খোল নতুন ৫-৬ হাজার টাকা। মেরামত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। জয়ঢাক নতুন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। মেরামত ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। কাঠিঢোল নতুন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই থেকে আড়াইশত টাকা। ঢোলক নতুন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মেরামত আট থেকে এক হাজার টাকা। নাল নতুন ৬ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। কঙ্গো নতুন ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্য রকমন-ফের দাম হয়ে থাকে।’
মিরপুরে শাহ আলী মাজারে সংঘটিত মব হামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি করেছে দলটি।
শুক্রবার (১৫ মে) সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসীন। কিন্তু এখনও দেশে মব এবং পরিকল্পিত হামলা বন্ধ হয়নি। এগুলো প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত। তারই সুযোগ নিয়ে দেশে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। ইন্টেরিমের আমলে একের পর এক মাজারে মব হামলা হয়েছে। উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন মাজারে সহিংস হামলার ঘটনা ঘটছে। যারা একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ এ ধরনের দুষ্কর্ম করে যাচ্ছে, মাজার ভাঙছে, মন্দির ভাঙছে, বাউলের আখড়ায় অগ্নিসংযোগ করছে, বাউলদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। ফলে এসব ঘটনার কোনো বিচার তো হয়ই না বরং অনেক সময় ভুক্তভোগীকেই উল্টো জেল-জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে।’
নেতারা অবিলম্বে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলাকারীদের সিসিফুটেজ এবং ভিডিও দেখে মব সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, ইন্ধনদাতা এবং হামলাকারী সকল দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সকল মাজার, দরবারসহ ঝুঁকিপূর্ণ ধর্মীয় ও অধ্যাত্মবাদী কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অবসরে গেলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ছিল তার শেষ কর্মদিবস।
এরই মধ্যে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার সরওয়ারের অবসরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক প্রজ্ঞাপনে মো. সরওয়ারকে ডিএমপি কমিশনারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
হাওর এবং হাওর–নদীপারেই চিরহরিৎ, ঝাঁকড়া মাথায় ডালপালা মেলা এল চুলের হিজলগাছ বেশি দেখা পাওয়া যায়। হাওরের বিস্তীর্ণ বুকের নানা ভাঁজে হয়তো কোথাও নিঃসঙ্গ, একা—কোথাও দু–চারটার দলে পথিক ও হাওরবাসীর একটুকরো ছায়ার আশ্রয় হয়ে গাছটি দাঁড়িয়ে থাকে।
তবে মৌলভীবাজার শহর এবং শহরসংলগ্ন মনু নদের পাড়ে এখন বেশ কিছু হিজলের গাছে ফুল ফুটেছে। গ্রীষ্মের এই সময়ে গোলাপি ফুলে ভরে উঠেছে গাছগুলো। ভোরের বাতাসে ভাসছে হিজল ফুলের মৃদু ঘ্রাণ, আর ঝরা ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পথঘাট।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে শহরের কোর্ট রোডে জেলা প্রশাসকের বাংলোর কাছে একটি হিজলগাছে দেখা যায় ঝুলন্ত লতায় ফুটে থাকা অসংখ্য ফুল। সবুজ পাতার ভেতর গোলাপি রঙের ফুলগুলো দূর থেকেই চোখে পড়ে। টুপটাপ করে ঝরে পড়া ফুলে ফুটপাতের টাইলস যেন নকশিকাঁথার মতো সাজানো। গাছের নিচে দাঁড়ালে টের পাওয়া যায় হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ।
শহরের উত্তর পাশে বয়ে যাওয়া মনু নদের পাড়েও এবার অনেক হিজলগাছে ফুল ফুটেছে। চাঁদনীঘাট মনু সেতু এলাকা থেকে শান্তিবাগ পর্যন্ত নদের তীরে বিভিন্ন গাছে এখন ফুল দেখা যাচ্ছে। খুব সকালে না গেলে অবশ্য ফুলের পুরো সৌন্দর্য দেখা যায় না।
হিজলের ফুল খুব নীরবে ফোটে। কাছে না গেলে সহজে চোখে পড়ে না। আবার রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক ফুল ঝরেও যায়। ভোরের বাতাসে অনেকে গাছের পাশ দিয়ে হাঁটেন, দৌড়ান, থেমে দেখেন গোলাপি ফুলের সৌন্দর্য। খুব সকালে না গেলে গাছে বেশি ফুল দেখার সুযোগও মেলে না। আলো ফোটার আগেই ফুল ঝরতে শুরু করে। তখন ঘাসে, কচুর পাতায় কিংবা হিজলের পাতায় আটকে থাকে ঝরা গোলাপি ফুল। রোদ বাড়লে অনেক গাছেই আর ফুল দেখা যায় না। কোথাও ডালের ফাঁকে একটি–দুটি ফুল, কোথাও ঝুমকার মতো কিছু ফুলের লতা দুলতে থাকে। ফুল ঝরে গেলে লতাগুলোকে ফাঁকা লাগে। তবে নতুন গজানো হালকা সবুজ পাতাগুলোও কম মায়াবী নয়।
হিজল সাধারণত হাওর, জলাভূমি ও নদীপাড়ে জন্মে। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকলেও সহজে টিকে থাকতে পারে এ গাছ। পরিবেশগত দিক থেকেও হিজল গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুল থেকে মৌমাছি প্রচুর মধু সংগ্রহ করে।
চিরহরিৎ এই গাছ ছায়াদানকারী হিসেবেও পরিচিত। কচি পাতার রং লালচে হলেও পরে তা গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে। হিজলের কাঠ নরম হলেও টেকসই। নৌকা, গরুর গাড়িসহ নানা সাধারণ কাজে এ কাঠ ব্যবহৃত হয়।
সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে সঞ্চয় করা অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার পর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে দোতলা কাঠের ঘরটি। আগুনের লেলিহান শিখায় রাতারাতি ছাই হয়ে যায় একটি পরিবারের আজীবনের সব স্বপ্ন, সম্পদ। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ভস্মীভূত হওয়া বাড়ির মালিক আব্দুল লতিফ রাঢ়ি পেশায় একজন এতিমখানার সেবক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত আনুমানিক ২ টার দিকে হঠাৎ আগুনের তাপ আর ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙে তাদের। এসময় তড়িঘড়ি করে পরিবারের সব সদস্য বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি, কাপড়চোপড়, চাল-ডাল, কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে দোতলা কাঠের ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এদিকে রাতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনাটি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বুঝতে না পারলেও রাতের আঁধার কেটে গেলে দেখা যায় ঘরের সিঁধ কাটা।
স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মাঝি বলেন, আগুনে পরিবারটির সহায় সম্বল ও মাথাগোজার ঠাঁই সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সবার ধারণা, চোর চক্র চুরি করার পরে ঘরটিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।
বাড়ির মালিক লতিফ রাঢ়ি বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। একটি এতিমখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে তিলে তিলে জমি, ঘর তৈরি করেছি। ঘরে যা ছিল, সবই শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমতলী গ্রামের ইউপি সদস্য মানিক রায় বলেন, আমরা রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে তখন চুরির ঘটনাটি সামনে আসেনি। সকালে আমরা সিঁধকাটা দেখে ধারণা করছি, চোর চুরি করার পরে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে লতিফ রাঢ়ি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ঘরের কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষে কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার হিমসাগর আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) জেলায় শুরু হয়েছে হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। প্রথম দিনেই জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ভরে গেছে হিমসাগর আমে।
সকাল আটটার দিকে সুলতানপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে আমভর্তি ক্রেট নিয়ে দীর্ঘ সারি। বাজারের ভেতরে ঢোকারও যেন জায়গা নেই। পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারের জন্য, কেউ দূরের আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানোর জন্য মৌসুমের প্রথম হিমসাগর কিনতে ব্যস্ত।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করে। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ দেশি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়। শুক্রবার (১৫ মে) শুরু হলো সবচেয়ে প্রতীক্ষিত হিমসাগর আম সংগ্রহ।
গাজীপুর থেকে আসা পাইকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের আলাদা কদর আছে। রং, ঘ্রাণ আর স্বাদের জন্য ঢাকায় এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। প্রথম দিনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে, তাই বেশি করে কিনছি।’ তিনি জানান, আগে বাজারে আসা গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাস আম তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে হিমসাগরের চাহিদা সব সময়ই বেশি। এবার প্রথম দিনেই বাজারে প্রচুর আম উঠেছে। প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও ধারণা তার।
নাটোর থেকে আসা আরেক পাইকার আবদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘এক যুগ ধরে সাতক্ষীরার আম কিনছি। বিশেষ করে হিমসাগরের জন্যই এখানে আসা। এখানকার আমের স্বাদ আলাদা।’
স্থানীয় ক্রেতা দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘বাজারে হিমসাগর উঠলেই বোঝা যায়, গ্রীষ্মকাল সত্যিই এসে গেছে। এই আমের স্বাদ আর ঘ্রাণ অন্য আমের মতো নয়।’ জেলার বাইরের আত্মীয়স্বজনের জন্য আম পাঠাতে তিনি বাজারে এসেছেন।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক আম চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশই হিমসাগর। বিদেশে রপ্তানি হওয়া আমের বড় অংশও এই জাতের। চলতি মৌসুমে ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রি হতে পারে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমের গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে ধাপে ধাপে আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ (গতকাল) হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হলো। ল্যাংড়া আম সংগ্রহ শুরু হবে আগামী ২৭ মে। আর ৫ জুন থেকে বাজারে আসবে আম্রপালি ও মল্লিকা।
হামে আক্রান্ত পাঁচ মাসের শিশু জয়া দাসের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না বাবা সুমন জলদাস। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সংবাদ প্রকাশের পর এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (১৫ মে) হাসপাতালের সব বকেয়া বিল মওকুফ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা সুমন জলদাস ২০ দিন ধরে অসুস্থ কন্যা জয়াকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না সুমন।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার দিয়েছি, তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর রাতেই সুমন জলদাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সব বকেয়া বিল মওকুফের ব্যবস্থা করেন এবং শিশুটিকে পরিবারের কাছে তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সংবাদটি দেখার পর রাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমি প্রিন্ট মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে প্রথম আলোকে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবেদন করেছে। এই প্রতিবেদন না হলে অনেক কিছু অজ্ঞাত থেকে যেত। সবচেয়ে বড় কথা, জয়া দাসকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।’
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় একটি ইটভাটায় মাটি চাপায় মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি রাম্যাখোলা এলাকার এসবিএম ইট ভাটায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত সাইফুল ইসলাম রাম্যাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলাম এসবিএম ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মত শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সাইফুল ইসলাম ইটভাটার কাজে পাহাড়ের মাটি কেটে গাড়ি বোঝাই করছিলেন।
এ সময় আচমকা উপর থেকে ধেয়ে আসা মাটি চাপা পড়েন সাইফুল ইসলাম। পরে সঙ্গীয় শ্রমিকরা দ্রুত উদ্ধার করে কাছাকাছি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফরিদপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত অবৈধ চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। শুক্রবার (১৫ মে) জুম্মার নামাজের পর ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। এ সময় তারা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।
সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসমাইল হুসাইন, ইমাম কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মুনসুর আহমেদ, ছাত্র জমিয়তের জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং যুব জমিয়তের অর্থ সম্পাদক এনায়েত তালুকদার সহস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দোয়া ও মোনাজাত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান।
মাদারীপুরের শিবচরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ নারীসহ তিনজনকে আটকের পর তাদের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ এলাকার সীমানাবর্তী বাটেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা। এ সময় শিবচর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিল।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আড়াইটার দিকে বহেরাতলা ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত শিরুয়াইল ইউনিয়নের পূর্বকাকৈর বাটেরচর এলাকার কালাম মাদবরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বাড়ি থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সময় কালাম মাদবরের স্ত্রী সালমা (৪৫), ছেলে সাকিব আল হাসান (২৬) এবং ক্রেতা সরাব উদ্দিনকে (৪০) আটক করা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত কালাম মাদবর পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ইয়াবা কালাম’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরাব উদ্দিনকে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং সালমা ও সাকিব আল হাসানকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেন।
শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তাল মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছাবে এই নিভৃত দ্বীপে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (ভোলা-৪) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের বিশেষ উদ্যোগে এবংতার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
ইতোমধ্যেই ‘মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপডিকো)।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার দ্বীপবাসীর ভাগ্য বদলে যাবে।
নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মনপুরাময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা দ্বীপবাসীকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিরলস তদ্বির চালিয়ে যান। তার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ বিভাগ প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি মনপুরায় আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলাম, এটি তারই প্রতিফলন। মেঘনার তলদেশ দিয়ে ক্যাবল আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা আমরা জয় করতে যাচ্ছি। এই বিদ্যুৎ শুধু বাতি জ্বালাবে না, এটি মনপুরার সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।’
ওজোপডিকো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন ও কমিশনিং করা হবে। প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার ক্যাবল মেঘনার তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন। বর্তমানের ডিজেল চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে দ্বীপবাসী পাবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ।
আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দিতে পারবে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মনপুরার হিমায়িত মৎস্য শিল্প, পর্যটন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
সংসদ সদস্যের এই উন্নয়নমুখী পদক্ষেপে দ্বীপের সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তারা বলছেন, যুগ যুগ ধরে অন্ধকারে থাকা মনপুরা এবার আলোর পথে যাত্রা শুরু করছে কেবল সঠিক নেতৃত্বের কারণে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিটের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সহজতর করতে চালু করা হয়েছে অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘Blood Donor Tracker’।
বাঁধন, বাকৃবি জোনের অধীনে প্রতিষ্ঠার পর গত ২৫ বছর ধরে থ্যালাসেমিয়াপ্রবণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের অসংখ্য রোগীর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিট। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রমকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিটের কার্যকরী পরিষদ-২০২৬।
শুক্রবার (১৫ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হল ইউনিটের সভাপতি লিমন মিয়া। তিনি জানান, অ্যাপটির স্বত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন অ্যাপটির ডেভেলপার ও ইউনিটের তথ্য ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান সিফাত। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাঁধন, বাকৃবি জোনের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম শিমুল, হল ইউনিটের উপদেষ্টা বকুল আলীসহ কার্যকরী পরিষদের সকল বাঁধন কর্মী বৃন্দ।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, অ্যাপটিতে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘Hand-to-Hand Editable System’, যার মাধ্যমে প্রতিদিন মোবাইল ফোন থেকেই সহজে রক্তদাতাদের তথ্য ইনপুট ও হালনাগাদ করা যাবে। ফলে ডোনারদের তথ্য সবসময় আপডেট থাকবে। এ ছাড়া ‘One-Click Available Donor List’ ফিচারের মাধ্যমে গ্রুপ ও সেশনভিত্তিক এভেইলেবল ডোনারদের তালিকা এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাপটিতে আরও রয়েছে ‘Monthly Report Generator’ সুবিধা। এর মাধ্যমে খুব সহজেই মাসিক রক্তদান কার্যক্রমের রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই কমবে।
এ ছাড়া ‘Availability Reminder/Comment Section’ ফিচারের মাধ্যমে কোনো রক্তদাতা ভবিষ্যতে কবে আবার রক্ত দিতে পারবেন, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা সহজ হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হল ইউনিটের যে কেউ অ্যাপে তথ্য যুক্ত করলে তা সংশ্লিষ্ট সবাই দেখতে পারবেন।
হল ইউনিটটির সভাপতি মো. লিমন মিয়া জানান, ‘অ্যাপটির কিছু কাজ এখনো চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন কিছু ফিচার সংযোজন করে এক মাসের ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে এটি আরও বড় পরিসরে ব্যবহার উপযোগী করা যায় কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বরগুনার তালতলী উপজেলার এতিম কিশোর হযরত আলীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপাড়া বাজারে হরিণখোলা ও চরপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বিচার দাবির স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল টাকার জোরে হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি বশির হত্যাকাণ্ডের আগেই দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, হাসপাতালের চাকরির প্রভাব ব্যবহার করে ময়নাতদন্তের রিপোর্টও নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা সম্ভব।
এ বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, হযরত আলী এতিম হওয়ায় তার পরিবারকে দুর্বল ভেবে একটি চক্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো প্রভাব বা অর্থের বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বলেন, আমার ভাতিজা এতিম ছিল। ওর বাবা নেই বলেই কি ওর হত্যার বিচার হবে না? আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এসময় ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘এতিম হযরত আলীর হত্যার বিচার চাই’, ‘টাকার কাছে মানবো না হার—চাই সুষ্ঠু বিচার’সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চরপাড়া বাজার।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামির গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ফুটবল খেলার সময় একটি গরুর বাছুরের ওপর বল পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গরুর মালিক মুছা নামে এক ব্যক্তি এতিম কিশোর হযরত আলীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে তালতলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে নিহতের ১৭ দিন পর, গত ১২ মে বরগুনা আদালতে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য তালতলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভাগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী শত বছরের পুরানো মেহেরপুর জেলার বামন্দী পশু হাট জমে উঠেছে। হাটটিতে বিপুল সংখ্যক দেশি গরু উঠতে শুরু করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
প্রতি হাটেরদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক বছরের চেয়ে এবার বাজারে পশুর উপস্থিতি বেশি, দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঈদুল আজহা আসতে এখনো সপ্তাহ দুয়েক বাকি। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত মেহেরপুর গাংনীর বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাটে সপ্তাহে দুদিন (শুক্রবার-সোমবার) চলে বেচাকেনা। আর বছরে হিসেব করলে কিছু মাসে ৯ টি হাট ও পড়ে। হাট দুটিতে বিপুল সংখ্যক গরু-ছাগল উঠছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে গরু কিনতে ।
বতর্মানে কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের সংখ্যা কম দেখা মিল্লেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। হাটে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ৬ লাখের বেশি টাকার গরু কেনাবেচা হচ্ছে। আর ছাগলের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পযর্ন্ত। গরু বেচা কেনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
হাট ইজারাদারদের তথ্যমতে, চলতি মাসে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কমপক্ষে ৪০০ কোটি থেকে ৪২০ কোটি টাকার পশু কেনা-বেচার সম্ভবনা রয়েছে।
তথ্যমতে, জেলায় ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯। এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ষাঁড়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
কুমিল্লা থেকে আসা গরু ব্যাবসায়ী আকবর আলী বলেন, বামন্দী বাজারে গরু সরবরাহ ভালো, এছাড়া মেহেরপুরের গরুর পষম দেখতে মশৃন হওয়ায় বাইরের বাজারে এর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছরই মেরেপুরের গরু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। তবে এবছর গরুর দাম একটু বেশি হওয়ায় এবার হইতো টার্গেট মিস হবে।
প্রন্তিক খামারি মোশারফ আলী বলেন,বামন্দী বাজারে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে এসেছি। খড়,ভুষিস গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গরু লালন পালনে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক দাম বলছেন ব্যাপারীরা। তবে আমিও আমার টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে আমিও গরু বিক্রি করছিনি। ঢাকার পার্টি আসলে আমার গরুর দাম ঠিকই পাবো। এছাড়া দালালদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে গরু কিনছেন। যে কারণে গরুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।
হাট-ইজারাদার হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন,জাল টাকার ব্যবহার রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া পুলিশের টহল রয়েছে সার্বিক্ষণিক। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মানলে খাজনা আরও বাড়বে। তাই প্রতি হাজারে টাকা না নিয়ে প্রতিটি পশু হিসেব করে আমরা ৬শ থেকে ৭শ টাকা নিচ্ছি। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। আমাদের এই শুক্রবারের হাটে ৪৫"শ থেকে ৫ হাজার পিস গরু বিক্রি হবে। আর জাগলের সংখ্যাও প্রায় ৩৫০০ পিস। সব মিলিয়ে আমাদের চলতি মাসে এই হাট থেকে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ কোটি টাকার পশু বিক্রি হবে।
আরেক হাট ইজারাদার রাশিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন,আমাদের মেহেরপুর জেলার হৃদপিণ্ড বলা হয়ে থাকে এই বামন্দী পশু হাটকে। এই হাটকে কেন্দ্র করে এই জেলার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। এই হাটে আশেপাশের দশটি জেলার খামারী ও ব্যাপারীরা আশে পশু কেনাবেচা করতে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যে হাটগুলো বসবে,তাতে গড়ে ৫ হাজার করে গরু-ছাগল বিক্রি হবে। মাস হিসেবে তার আনুমানিক কেনা-বেচা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকার মতো।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন,জেলা পুলিশের নির্দেশনায় এই হাটটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। এবং পুলিশের একাধিক টিম হাটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।