‘সমঅধিকার ও সমমর্যাদাসহ নারীমুক্তির আন্দোলনকে সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে অগ্রসর করুন’—এই আহ্বানে মৌলভীবাজারে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরস্থ চা-শ্রমিক সংঘের কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১৬তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী চা-শ্রমিক নেত্রী লক্ষীমনি বাক্তি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সমাজে নারী শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা আজও ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে চা-বাগান, গার্মেন্টস, নির্মাণ ও কৃষিখাতে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে সমমজুরি পাচ্ছেন না।
সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি, মো. নুরুল মোহাইমীন, চা-শ্রমিক সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হরিনারায় হাজারা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন নারী নেত্রী স্বপ্না গোয়ালা, কাজলী হাজরা, শেফালী রেলী এবং চা-শ্রমিক নেতা সুভাষ গৌড় ও সমীরণ রবিদাসসহ আরও অনেকে।
বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে শ্রমজীবী নারীরা চরম জীবন সংকটে পড়েছেন। একইসাথে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবি জানান।
পরিশেষে, বক্তারা নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাদারীপুরের শিবচরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ নারীসহ তিনজনকে আটকের পর তাদের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ এলাকার সীমানাবর্তী বাটেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা। এ সময় শিবচর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিল।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আড়াইটার দিকে বহেরাতলা ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত শিরুয়াইল ইউনিয়নের পূর্বকাকৈর বাটেরচর এলাকার কালাম মাদবরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বাড়ি থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সময় কালাম মাদবরের স্ত্রী সালমা (৪৫), ছেলে সাকিব আল হাসান (২৬) এবং ক্রেতা সরাব উদ্দিনকে (৪০) আটক করা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত কালাম মাদবর পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ইয়াবা কালাম’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরাব উদ্দিনকে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং সালমা ও সাকিব আল হাসানকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেন।
শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তাল মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছাবে এই নিভৃত দ্বীপে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (ভোলা-৪) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের বিশেষ উদ্যোগে এবংতার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
ইতোমধ্যেই ‘মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপডিকো)।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার দ্বীপবাসীর ভাগ্য বদলে যাবে।
নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মনপুরাময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা দ্বীপবাসীকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিরলস তদ্বির চালিয়ে যান। তার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ বিভাগ প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি মনপুরায় আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলাম, এটি তারই প্রতিফলন। মেঘনার তলদেশ দিয়ে ক্যাবল আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা আমরা জয় করতে যাচ্ছি। এই বিদ্যুৎ শুধু বাতি জ্বালাবে না, এটি মনপুরার সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।’
ওজোপডিকো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন ও কমিশনিং করা হবে। প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার ক্যাবল মেঘনার তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন। বর্তমানের ডিজেল চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে দ্বীপবাসী পাবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ।
আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দিতে পারবে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মনপুরার হিমায়িত মৎস্য শিল্প, পর্যটন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
সংসদ সদস্যের এই উন্নয়নমুখী পদক্ষেপে দ্বীপের সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তারা বলছেন, যুগ যুগ ধরে অন্ধকারে থাকা মনপুরা এবার আলোর পথে যাত্রা শুরু করছে কেবল সঠিক নেতৃত্বের কারণে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিটের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সহজতর করতে চালু করা হয়েছে অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘Blood Donor Tracker’।
বাঁধন, বাকৃবি জোনের অধীনে প্রতিষ্ঠার পর গত ২৫ বছর ধরে থ্যালাসেমিয়াপ্রবণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের অসংখ্য রোগীর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিট। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রমকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিটের কার্যকরী পরিষদ-২০২৬।
শুক্রবার (১৫ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হল ইউনিটের সভাপতি লিমন মিয়া। তিনি জানান, অ্যাপটির স্বত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন অ্যাপটির ডেভেলপার ও ইউনিটের তথ্য ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান সিফাত। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাঁধন, বাকৃবি জোনের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম শিমুল, হল ইউনিটের উপদেষ্টা বকুল আলীসহ কার্যকরী পরিষদের সকল বাঁধন কর্মী বৃন্দ।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, অ্যাপটিতে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘Hand-to-Hand Editable System’, যার মাধ্যমে প্রতিদিন মোবাইল ফোন থেকেই সহজে রক্তদাতাদের তথ্য ইনপুট ও হালনাগাদ করা যাবে। ফলে ডোনারদের তথ্য সবসময় আপডেট থাকবে। এ ছাড়া ‘One-Click Available Donor List’ ফিচারের মাধ্যমে গ্রুপ ও সেশনভিত্তিক এভেইলেবল ডোনারদের তালিকা এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাপটিতে আরও রয়েছে ‘Monthly Report Generator’ সুবিধা। এর মাধ্যমে খুব সহজেই মাসিক রক্তদান কার্যক্রমের রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই কমবে।
এ ছাড়া ‘Availability Reminder/Comment Section’ ফিচারের মাধ্যমে কোনো রক্তদাতা ভবিষ্যতে কবে আবার রক্ত দিতে পারবেন, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা সহজ হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হল ইউনিটের যে কেউ অ্যাপে তথ্য যুক্ত করলে তা সংশ্লিষ্ট সবাই দেখতে পারবেন।
হল ইউনিটটির সভাপতি মো. লিমন মিয়া জানান, ‘অ্যাপটির কিছু কাজ এখনো চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন কিছু ফিচার সংযোজন করে এক মাসের ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে এটি আরও বড় পরিসরে ব্যবহার উপযোগী করা যায় কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বরগুনার তালতলী উপজেলার এতিম কিশোর হযরত আলীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপাড়া বাজারে হরিণখোলা ও চরপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বিচার দাবির স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল টাকার জোরে হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি বশির হত্যাকাণ্ডের আগেই দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, হাসপাতালের চাকরির প্রভাব ব্যবহার করে ময়নাতদন্তের রিপোর্টও নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা সম্ভব।
এ বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, হযরত আলী এতিম হওয়ায় তার পরিবারকে দুর্বল ভেবে একটি চক্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো প্রভাব বা অর্থের বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বলেন, আমার ভাতিজা এতিম ছিল। ওর বাবা নেই বলেই কি ওর হত্যার বিচার হবে না? আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এসময় ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘এতিম হযরত আলীর হত্যার বিচার চাই’, ‘টাকার কাছে মানবো না হার—চাই সুষ্ঠু বিচার’সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চরপাড়া বাজার।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামির গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ফুটবল খেলার সময় একটি গরুর বাছুরের ওপর বল পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গরুর মালিক মুছা নামে এক ব্যক্তি এতিম কিশোর হযরত আলীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে তালতলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে নিহতের ১৭ দিন পর, গত ১২ মে বরগুনা আদালতে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য তালতলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভাগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী শত বছরের পুরানো মেহেরপুর জেলার বামন্দী পশু হাট জমে উঠেছে। হাটটিতে বিপুল সংখ্যক দেশি গরু উঠতে শুরু করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
প্রতি হাটেরদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক বছরের চেয়ে এবার বাজারে পশুর উপস্থিতি বেশি, দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঈদুল আজহা আসতে এখনো সপ্তাহ দুয়েক বাকি। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত মেহেরপুর গাংনীর বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাটে সপ্তাহে দুদিন (শুক্রবার-সোমবার) চলে বেচাকেনা। আর বছরে হিসেব করলে কিছু মাসে ৯ টি হাট ও পড়ে। হাট দুটিতে বিপুল সংখ্যক গরু-ছাগল উঠছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে গরু কিনতে ।
বতর্মানে কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের সংখ্যা কম দেখা মিল্লেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। হাটে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ৬ লাখের বেশি টাকার গরু কেনাবেচা হচ্ছে। আর ছাগলের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পযর্ন্ত। গরু বেচা কেনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
হাট ইজারাদারদের তথ্যমতে, চলতি মাসে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কমপক্ষে ৪০০ কোটি থেকে ৪২০ কোটি টাকার পশু কেনা-বেচার সম্ভবনা রয়েছে।
তথ্যমতে, জেলায় ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯। এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ষাঁড়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
কুমিল্লা থেকে আসা গরু ব্যাবসায়ী আকবর আলী বলেন, বামন্দী বাজারে গরু সরবরাহ ভালো, এছাড়া মেহেরপুরের গরুর পষম দেখতে মশৃন হওয়ায় বাইরের বাজারে এর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছরই মেরেপুরের গরু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। তবে এবছর গরুর দাম একটু বেশি হওয়ায় এবার হইতো টার্গেট মিস হবে।
প্রন্তিক খামারি মোশারফ আলী বলেন,বামন্দী বাজারে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে এসেছি। খড়,ভুষিস গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গরু লালন পালনে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক দাম বলছেন ব্যাপারীরা। তবে আমিও আমার টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে আমিও গরু বিক্রি করছিনি। ঢাকার পার্টি আসলে আমার গরুর দাম ঠিকই পাবো। এছাড়া দালালদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে গরু কিনছেন। যে কারণে গরুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।
হাট-ইজারাদার হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন,জাল টাকার ব্যবহার রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া পুলিশের টহল রয়েছে সার্বিক্ষণিক। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মানলে খাজনা আরও বাড়বে। তাই প্রতি হাজারে টাকা না নিয়ে প্রতিটি পশু হিসেব করে আমরা ৬শ থেকে ৭শ টাকা নিচ্ছি। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। আমাদের এই শুক্রবারের হাটে ৪৫"শ থেকে ৫ হাজার পিস গরু বিক্রি হবে। আর জাগলের সংখ্যাও প্রায় ৩৫০০ পিস। সব মিলিয়ে আমাদের চলতি মাসে এই হাট থেকে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ কোটি টাকার পশু বিক্রি হবে।
আরেক হাট ইজারাদার রাশিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন,আমাদের মেহেরপুর জেলার হৃদপিণ্ড বলা হয়ে থাকে এই বামন্দী পশু হাটকে। এই হাটকে কেন্দ্র করে এই জেলার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। এই হাটে আশেপাশের দশটি জেলার খামারী ও ব্যাপারীরা আশে পশু কেনাবেচা করতে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যে হাটগুলো বসবে,তাতে গড়ে ৫ হাজার করে গরু-ছাগল বিক্রি হবে। মাস হিসেবে তার আনুমানিক কেনা-বেচা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকার মতো।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন,জেলা পুলিশের নির্দেশনায় এই হাটটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। এবং পুলিশের একাধিক টিম হাটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহান যাত্রী ও চালকরা।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার ভোরে মেঘনা-গোমতী সেতুর ঢালে কুমিল্লামুখী লেনে একাধিক কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে আটকে গেলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে মুহূর্তেই মহাসড়কের গজারিয়া অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তপ্ত গরমে বাসের ভেতর নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিদারুণ কষ্টে সময় পার করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন।
ভুক্তভোগী ট্রাকচালক উজ্জ্বল জানান, ‘সকাল ৭টায় মেঘনা সেতু পার হওয়ার পরই জ্যামে পড়েছি। এখন সকাল সাড়ে ৯টা বাজে, এখনো ভবেরচর পৌঁছাতে পারিনি।’
প্রাইভেটকারচালক আতাউর বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে মেঘনা সেতু থেকে দাউদকান্দি যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে অথচ আজ (গতকাল) আড়াই ঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে আছি। এখনো দাউদকান্দি সেতু পার হতে পারিনি।’
গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ জানান, দাউদকান্দি সেতুর ঢালে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে কাভার্ড ভ্যানগুলো সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গাড়ির চাপ অতিরিক্ত হওয়ায় যানজট পুরোপুরি কমতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, দ্রুতই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নাছির (৬০) নামে এক ডিশ লাইন ও ক্যাবল ব্যবসায়ীকে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে চানমারী মাউড়াপট্টি এলাকায় ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ নামের অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাছির ফতুল্লার চানমারী মাউড়াপট্টি এলাকার মৃত সাইজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ নামে একটি ডিশ ও ক্যাবল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নাছির তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একা অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহরের ৩শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কালো হাতলযুক্ত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আলাউদ্দিন নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সড়কে রিকশা নিয়ে অবস্থান করছিলাম। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি হাতে কালো পাঞ্জাবি পরিহিত একজনকে দৌড়ে মাইক্রোস্ট্যান্ডের দিকে চলে যেতে দেখেছি। এর বেশি কিছু জানা নেই।’
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কাভারসহ একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যশোরের কেশবপুরে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
এসময় তিনি বলেন, ‘কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন।’
উদ্বোধনী দিনে কৃষক মো. জিহাদ হাসানের কাছ থেকে ৩ হাজার কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মৌসুমে প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর কেশবপুর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধান বিক্রির জন্য উপজেলার কৃষকদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মোট ১ হাজার ৭১০ জন কৃষক আবেদন করেন। পরে উপজেলা খাদ্যগুদাম ক্রয় কমিটির সভাপতি রেকসোনা খাতুনের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ৪৫৩ জন কৃষককে ধান বিক্রির জন্য মনোনীত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির জানান, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩)। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে বড়লেখা থানার দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি দুর্গম টিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনাসংক্রান্ত বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক দেশব্যাপী গোয়েন্দা সতর্কতা ও ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়। এরপর থেকেই মাহেদ আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বোবারথল ষাইটঘরি এলাকায় অভিযান চালায়। ১২ ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানের একপর্যায়ে দুর্গম পাহাড়ি টিলা থেকে তাকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশি যাচাই-বাছাইয়ে জানা গেছে, রাহেদ হোসেন মাহেদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলার আসামি। মামলাটি ঢাকা রেঞ্জের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তদন্ত করছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহেদ উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাহেদের বাড়ি সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার দশঘর গ্রামে। তার বাবার নাম নূর মিয়া এবং মায়ের নাম সাফিয়া খানম।
নওগাঁর মান্দায় সাইবার অপরাধ দমনে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৫) উপজেলার দুটি স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে একটি শক্তিশালী অনলাইন প্রতারক চক্রের হোতা সোহেল রানাসহ ১৫ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ডিজিটাল ডিভাইসে বিপুল পরিমাণ ডলার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মান্দা থানা পুলিশের দুটি দল উপজেলার দুটি ভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে প্রসাদপুর বাজারসংলগ্ন প্রিন্সিপালের মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৩ জন এবং বানিহারী এলাকার আরেকটি আস্তানা থেকে ১২ জনসহ মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা ওইসব ভাড়া বাসায় অবস্থান করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ ওই আস্তানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ জব্দ করেছে। জব্দ মালামালের মধ্যে রয়েছে, নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট রাউটার। অসংখ্য স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো অ্যাপস পাওয়া গেছে।
মান্দা থানার ওসি খুরশেদ আলম জানান, প্রসাদপুর বাজারের প্রিন্সিপালের মোড় এবং মান্দা ইউনিয়নের হাজীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমরা এই চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে আটক করি। গ্রেপ্তারদের ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোতে বিপুল পরিমাণ ডলারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে প্রতারক চক্রটি তাদের ডিভাইসে থাকা এই ডলারগুলো ক্যাশ-আউট বা স্থানান্তর করার কোনো সুযোগ পায়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ ডলারসহ ডিভাইসগুলো পুলিশ হেফাজতে জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার ১৫ জনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো মানিলন্ডারিং বা হ্যাকিং চক্রের যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে জব্দ ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ‘রাজশাহী সিল্ক’ বা রেশম শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। শুক্রবার (১৫) সকালে ব্র্যাকের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মিনু বলেন, ‘রাজশাহীর সোনালি আঁশ পাটের ঐতিহ্য এখনো কিছুটা টিকে থাকলেও রেশম শিল্প প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ব্র্যাকের বিশাল সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন খাতে (যেমন: ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, আড়ং, ব্র্যাক ফিন্যান্স, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স) তাদের সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক শাহজাহান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপউপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান, ব্র্যাকের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ, রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক বক্তব্য দেন।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে রাজশাহী বিভাগে ২০ হাজার ৭৯২টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার ৭০৩টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৫১ জন। সহায়তা পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ২১ লাখ সদস্যের মধ্যে ৮৭.৮৯ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ৯৩৮ জন বেকার যুবককে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৮ জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন। ৮৪ হাজার ৫০৬ জন গর্ভবতী নারী পূর্ণাঙ্গ প্রসবপূর্ব সেবা পেয়েছেন এবং ৪৫ হাজার ৬৩৮টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষের চক্ষু পরীক্ষা এবং ২ হাজার ১৭৩টি ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
একইভাবে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা, নারী ও পুরুষের সমঅধিকারসহ নানা কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পরিণত হয়েছে এক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। সমুদ্রের বিলীন হওয়া বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, লোহার অংশ ও অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় এসব কংক্রিট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত সিকদার রিসোর্টের ‘বিচ ক্লাব’ নামের একটি স্থাপনা ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট আজও অপসারণ করা হয়নি।
২০০৫ সালে জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে ঝাউবন এলাকায় ১ হাজার ৬১৩ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয় কুয়াকাটা ইকোপার্ক। পরে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের উপকূলীয় ভাঙনে উদ্যানের বড় অংশ সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে গেছে। বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর টয়লেট, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গোলঘর, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফটকের কংক্রিট অংশ এখনো সৈকত ও সমুদ্রের ভেতরে ছড়িয়ে আছে। অনেক স্থানে এসব বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকলেও কিছু অংশ উপরে উঠে থাকায় তা সহজে চোখে পড়ে না।
স্থানীয় জেলে রহিম হাওলাদার বলেন, ‘জোয়ারের সময় ভাঙা অংশগুলো আমরা দেখতে পাই না। জাল টানার সময় আঘাত পাই। প্রায় সময়ই জাল ও হাত পা কেটে যায়। এগুলো জরুরি সরিয়ে ফেলা উচিত।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘জোয়ারের সময় পুরো বিচ পানির নিচে ডুবে থাকে। তখন কোথায় কী আছে বোঝায় না। গত দুই বছর আগে মো. ইউনুস নামে এক মোটরসাইকেলচালক ভোর বেলা পর্যটক আনতে গিয়ে কংক্রিটে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা এর দ্রুত অপসারণ চাই।’
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গোসলে নেমেছিলাম। পানির নিচে থাকা কংক্রিটে একজন মাথায় আঘাত পেয়েছে। পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এমন ঝুঁকি থাকলে মানুষ এখানে আসতে ভয় পাবে।’
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘সমুদ্রভাঙনে বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর কংক্রিট ধীরে ধীরে বালুর নিচে চাপা পড়লেও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। ভবিষ্যতে এগুলো আরও বিপজ্জনক ‘ট্র্যাপ’ এ পরিণত হতে পারে। এটি শুধু জননিরাপত্তার জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও হুমকি।’
বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার( ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘বিচে পরিত্যক্ত কংক্রিটগুলো দেখেছি। পর্যটক ও স্থানীয় লোকজনের নির্বিঘ্ন চলাচলের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো কাউসার হামিদ জানান, সৈকতে পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট অপসারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজি ও মাছের দামে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা দুই-একটি বাদে প্রায় সব ধরণের সবজির দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। সবজির বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে উচ্চ পরিবহন ব্যয় এবং মৌসুম শেষ হয়ে আসাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিক্রেতারা।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও শসা, করলা, ঝিঙ্গা, পেঁপে, চিচিঙ্গা এবং ধুন্দুলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও প্রতি কেজি ১০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ঢেঁড়স, যার বাজারদর কেজি প্রতি ৬০ টাকা। বরবটি, কচুর লতি এবং পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিকিকিনি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ১০০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৭০ টাকায় ঠেকেছে।
এদিকে মাছের বাজারেও স্বস্তির কোনো খবর নেই। বর্তমানে রাজধানীর কোনো বাজারেই কেজি প্রতি ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রিয় পাঙাশ মাছও ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং রুই মাছের দাম ৩৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে দেশি ও নদীর মাছ খেতে হলে ক্রেতাকে কেজি প্রতি গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা এবং সইল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ৩০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
মাছ ও সবজি উভয় ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার অভিন্ন কারণ হিসেবে পরিবহন সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারের এই অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা নেই বলে তাঁরা মনে করছেন।