১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বর হত্যার শিকার সব শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) সারাদেশে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিশেষ আলোচনা সভা ও শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল হয়। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবরে।
নীলফামারী: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। নীলফামারী সরকারি কলেজ বদ্ধভূমিতে রাষ্ট্রের পক্ষে শহীদদের স্মরণে প্রথমে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এরপর পুলিশ সুপার শেখ জাহেদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নীলফামারী সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।
কাপাসিয়া (গাজীপুর): কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ আলোচনা সভা হয়। উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তব্য দেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, থানার ওসি শাহীনুর আলম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক সামসুদ্দীন খান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব মো মফিজ উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার): উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে গণহত্যার স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় দিবসের স্মৃতিচারণ করে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু কমলা কান্ত। আরও বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সুশীল চন্দ দে, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খুরশেদ আলম, ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির।
কেশবপুর (যশোর): কেশবপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও নীরবতা পালন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক ভয়াল ও বেদনাবিধুর রাত। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে নৃশংস গণহত্যা চালায়, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করতে এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম।
ভোলা: দিবসটি উপলক্ষে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভা শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন অতিথিরা।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণহত্যার স্মৃতি সম্পর্কে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে। এ সময় বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
শ্রীপুর (গাজীপুর): ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক-হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় নিহত ১২ শহীদের স্মরণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর গণকবর ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতারা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালে এই এলাকায় পাক-হানাদার বাহিনী নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে দুই নারীসহ ১২ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। পরে তাদের সাতখামাইর গ্রামের রেললাইনের পাশে একই স্থানে গণকবর দেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে এক নববধূও ছিলেন, যাকে বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়—যা সেই সময়কার নৃশংসতার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত।
সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার চেতনাকে অস্বীকার করে, তারা ইতিহাসকে অস্বীকার করে। আজ আমরা যে গণকবরে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি, এটি আমাদের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের এক জ্বলন্ত প্রমাণ।’
গণকবরে শায়িত শহীদদের মধ্যে রয়েছেন আলী মুনসুর, আব্দুল বাতেন, আজম আলী, ইছব আলী, আব্দুস ছাত্তার, ইসমাইল হোসেন, ছনা পাগলা, আব্দুল লতিফ, আতর আলী, হানিফ মিয়া, ছালেহা বেগম ও রুকিয়া বেগম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব আহমেদ, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহমেদ, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান,উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খায়রুল কবির আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিন মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম নয়ন,তেলিহাটী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিম বন্ধুকশীসহ অন্যান্য নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) খলাপাড়া বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম খলাপাড়া বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম কামরুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।
বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ): কোটালীপাড়ায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদ (পিপিএম), উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার দাড়িয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া প্রমুখ।
বাসাইল (টাঙ্গাইল): উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, এক মিনিট নিরবতা পালন, ব্ল্যাক আউটসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আকলিমা বেগম।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে-ই-লায়লার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাজাহান আলী, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মো. নুরুল ইসলাম, সরকারি জোবেদা রুবেয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান, বাসাইল জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মহিউদ্দিন, ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিজু প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কথা স্মরণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। দিনটি উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনা করা হয়।
মাগুরা: সকালে নোমানী ময়দানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মাগুরা প্রেসক্লাবসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে নোমানি ময়দানে হয় আলোচনা সভা। সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমদ, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাক্তার শামীম কবির, মাগুরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর বেদনা বিধুর দিন । এ দিনে পাকিস্তান দখলদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী মানুষের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। গণহত্যা দিবস আমাদের সেই ভয়াল কাল রাত্রির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম): সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়। প্রভাষক আখতারুজ্জামানের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান, রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী, কৃষি কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম প্রমুখ।
ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক মা ও তার শিশু সন্তানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের আগে তাদের লাশ টেনে বের করার চেষ্টা করে কয়েকটি কুকুর।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম এলাকা থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন।
নিহতরা হলেন- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও তার মেয়ে সামিয়া (০২)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চরাঞ্চলের একটি নির্জন পুকুরপাড়ে কুকুর লাশ টানাটানি করার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মৃতদেহের অংশ বিশেষ দেখতে পান।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
কয়েকদিন আগে কে বা কারা মা ও শিশুকে হত্যার পর লাশ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহতদের একজন মো. নাঈম। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার আমরাইদ এলাকার মো. নোমান উদ্দিনের ছেলে। নাঈম মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকায় খালার বাড়িতে থেকে স্থানীয় গীর্জা কিশোর (জিকে) উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন এবং এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহত অপর তরুণের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ট্রেনের আঘাতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নাঈমের বন্ধু।
নিহত নাঈমের খালাতো ভাই মো. আব্দুর কাদির বলেন, নাঈম এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত বুধবার (১৩ মে) রাত ৯টার দিকে জরুরি কাজের কথা বলে মোবাইল নিয়ে সে বাসা থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ধীরাশ্রম স্টেশনের পাশে নাঈম ও তার বন্ধুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ধীরাশ্রম স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই সময় ওই দুই তরুণ ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। অসচেতনভাবে রেললাইনের ওপর টিকটক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
আগামী দিনে বিঘাপ্রতি ৬০ মণ ধান ফলন অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ বোরো মৌসুমে স্থাপিত প্রদর্শনী প্লটে ব্রি ধান-১০২ জাতের ধান কাটা উৎসব ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিজি বলেন, ‘আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। ব্রি ধান-১০২ একটি উন্নত জাত, যা শুধু উচ্চ ফলনশীলই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে জিংক রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে এখন গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, যা কৃষকের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। অনেকেই মনে করেন বেশি সার ব্যবহার করলে ফলন বাড়ে, কিন্তু এটি সঠিক ধারণা নয়।’ সঠিক মাত্রায় ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে সার ব্যবস্থাপনা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় ভুট্টা চাষ কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধান উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কৃষিতে আধুনিকায়নের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে কৃষকরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কাজ করতেন, এখন প্রযুক্তির ব্যবহার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে অনেক অগ্রসর হয়েছেন তারা।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. হুমায়ুন কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোস্তফা খান, ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক মো. কাইয়ুম চৌধুরী, সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাসনিমসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষকদের ব্রি ধান-১০২ জাত সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পরে প্রদর্শনী প্লট থেকে ধান কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ দিবসের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শতাধিক কিষাণ-কিষাণি অংশ নেন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি পশুহাট।
হাটে এবারও দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দুশ্চিন্তায় আছে খামারি ও চাষিরা। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাপ্তাহিক এই পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে হাজারেরও বেশি গরু, ছাগল, ভেড়া মহিষের উপস্থিতি ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা কোরবানির পশু ক্রয়ের জন্য হাটে এসেছেন। বেপারিদের সঙ্গে খামারিদের গরু বেচাকেনা করতে দীর্ঘক্ষণ ধরে দর কষাকষি করতে দেখা গেছে। কোরবানির পশু ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগমে হাটটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
হাটের বিশাল আকৃতির গরুগুলো সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝারি সাইজের গরুতে আগ্রহ বেশি।
কোরবানির গরু কিনতে আসা রাকিবুল ইসলাম জানান, কোরবানি দেওয়ার জন্য হাটে একটি গরু কিনতে এসেছি। বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। একটু বড় সাইজের গরুগুলো দাম বলছে দুই লাখ টাকা। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাঝারি সাইজের একটি গরু খুঁজছি। কিন্তু গরু পছন্দ হলেও দেড় লাখ টাকার নিচে দাম বলছে না।
খামারি জামাল হোসেন বলেন, ‘কোরবানির জন্য ফার্মে ৮টি গরু পালছিলাম। আজকে ৪টি গরু হাটে নিয়ে এসেছি। গরুর দাম শুনে অনেকই বলছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এখন গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গরু লালন-পালন করতে অনেক খরচ হয়। সব কিছু হিসেব করে দাম চাওয়া হচ্ছে।’
ফরিদপুর থেকে গরু কিনতে আসা বিল্লাল বেপারি বলেন, ‘এই হাটে অনেক গরু আমদানি হয়। যার কারণে ট্রাক নিয়ে গুরু কিনতে এসেছি। ১০টি গরু কেনা হয়েছে। আর ৫টি গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে যাব। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকার কারণে এই ধরনের গরু বেশি কেনা হয়েছে।’
কোরবানির ছাগল কিনতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আজকের হাটে কোরবানি দেওয়ার উপযুক্ত প্রচুর ছাগল উঠেছে। ছাগলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২০ হাজার টাকায় পছন্দমতো একটি ছাগল কিনতে পেরেছি।’
হাট মালিক কর্তৃপক্ষ জানান, কোরবানির ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি রয়েছে। যার কারণে হাটে কেনাবেচা এখনো সেভাবে বাড়েনি। অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সবসময় সতর্ক করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে জাল টাকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গরুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। আগামী ১৭ মে থেকে এসব বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর ২৩ মে থেকে বাস সার্ভিস শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিআরটিসির জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
জনসাধারণকে বিআরটিসির এই বাস সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুতকরণ, চামড়া সংরক্ষণ এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর মিরপুরে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা যে পদ্ধতি শিখবেন, সেই নিয়ম অনুসরণ করেই সবাইকে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ লবণ বিনামূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
তিনি আরও বলেন, মৌসুমি শ্রমিকদেরও সঠিক নিয়ম জানাতে হবে, যাতে তারা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ করতে পারেন। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে বাসার সামনে রেখে দিলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা তা দ্রুত অপসারণ করবে।
প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো শহর পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন শুধু আমার নয়, সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে পারবো।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, এবার সারা দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লক্ষ ৬ হাজার। কোরবানির ঈদে উৎপন্ন বিপুল পরিমান চামড়া ও মাংসের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নিলে মাংশের মান ঠিক থাকে এবং চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখতে কী করতে হবে, তা হাতে-কলমে দেখানো হবে। ঈদের আগে জুমার খুতবায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে তিনি ইমামদের অনুরোধ করেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর ইমাম এবং প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থী মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, হালাল পদ্ধতিতে ও সহিহভাবে পশু কুরবানি করতে হবে। জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে রক্ত সম্পূর্ণ বের হয়ে যায়। এরপর পানি ঢেলে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধবে না।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণ কোরবানির সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় বাবার পর একে একে মারা গেল ছোট ছোট ৩ ভাইবোন। হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাদের মা সালমা আক্তার।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার মুন্না (১২) আর দুপুর ১টার দিকে মারা যায় মুন্নি (৭)। এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) তাদের বোন কথা (৪) এবং সোমবার মারা যান তাদের বাবা আবুল কালাম (৩৫)।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, মুন্নার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাদের মা সালমা আক্তার ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় এখনো ভর্তি আছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
গত রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কালাম, তার স্ত্রী সালমা আক্তার। তাদের ছেলে মুন্না, দুই মেয়ে কথা ও মুন্নি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন দায়ের করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। পরে বিকালে মামলাটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকালে মামলাটি দায়ের করা হলে বিকালে আদালত আমলে নেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থাকার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার জুনায়েদ।
মাগুরা পৌরসভার আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) আওতায় দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় মাগুরা পৌরসভা মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পৌর প্রশাসক ইমতিয়াজ হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা এবং সিআরএপিবিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী।
প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন, মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আল আমিন, স্থপতি আজমিরা আক্তার ও ফারহানা ইসলাম।
কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদ্যুত কুমার দাস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।
এ ছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন, জামায়াতের পৌর আমীর আশরাফ আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, এনজিও প্রতিনিধি জেসমিন আরা মেরী এবং টিএলসিসির সদস্যরা।
বক্তারা মাগুরা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বাজারে মরা মুরগি জবাই করে বিক্রির দায়ে একজনকে এক মাসের জেল এবং দোকান মালিক সুলতান মিয়াকে ২০ হাজার টাকা ও তার ছেলে নাজমুল হককে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন।
অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ধোবাউড়া থানা পুলিশ।
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল হক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের মানবিক দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অংশ। সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং যেকোনো দুর্যোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। মানবিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার জামরুলতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে তেল শিশুখাদ্যের দোকান বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়।
এসময় পূর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও নিম্নমানের অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রয়, মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত শিশু খাদ্য বিক্রয়, নিম্নমানের শিশুখাদ্যে বিভিন্ন খেলনা দিয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭ ও ৫১ ধারায় জামরুলতলার মেসার্স মেসার্স সুভাষ স্টোরকে ১,০০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।
এসময় ভবিষ্যতে এধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে পুনরায় সতর্ক করা হয়।
পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় সবাইকে নকল ভেজাল পণ্য বিক্রয় না করা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, মুল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা, পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে প্রদান ও সংরক্ষণ করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য বিক্রয় না করা, পণ্যের মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত পণ্য বিক্রয় না করা, অতিরিক্ত মুনাফা না করা ইত্যাদি ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো: ফয়েজুল কবীর, ডি এস আই, মাগুরা ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত দুই দিনের অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে ভাসছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট। ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে আসা আকস্মিক এই ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও কৃষি ভূমি তলিয়ে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের বোরো ধানের স্বপ্ন এখন দুশ্চিন্তার কালো মেঘে ঢাকা।
মুহূর্তেই বদলে গেল দৃশ্যপট: দু’দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপজেলার ভুবনকুড়া, গাজিরভিটা, হালুয়াঘাট সদর, কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির তোড় সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের খালগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ এখন চরমে।
কৃষকের হাহাকার: চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হালুয়াঘাটের প্রান্তিক কৃষকেরা বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন। মাঠজুড়ে ছিল সোনালি বোরো ধানের সমারোহ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে আকস্মিক এই বন্যায়। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন পানির নিচে। স্থানীয় একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বছরের খোরাকি এই ধানটুকু নিয়ে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ধান কাটা তো দূরের কথা, জান বাঁচানোই দায়।’ ধান কাটার আগেই ফসল তলিয়ে যাওয়ায় শত শত কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও জনদুর্ভোগ: পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় অনেক কাঁচা রাস্তা ধসে পড়েছে। নদী ও খালের পাড় ঘেঁষে থাকা বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনমনে ভীতি আরও বেড়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাস: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের সংবাদ পাওয়া গেছে। ঢলের পানির চাপে দুটি কাঁচা রাস্তা ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’
হালুয়াঘাটের এই সংকটময় মুহূর্তে বোরো ধান রক্ষায় পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত খাদ্য সহায়তা প্রদান এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই উৎকণ্ঠা কাটছে না সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের।