কুমিল্লার তিতাসে মাছের প্রজেক্টের মালিকানা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে পুলিশের সামনে থেকে নিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে কুপিয়ে জহিরুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জহিরুল ইসলাম ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ঢাকার ইসলামপুরে কাপড় ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শনির আখড়ায় বসবাস করতেন। তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একটি মাছের প্রজেক্ট নিয়ে সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সেখানে সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহরাবসহ অন্যরা মাছ ধরতে যায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ১০জন আহত হন। পুলিশ গিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঢিলের আঘাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও জানান, আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে জহির পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পুলিশের সামনে থেকে তাকে ধরে নিয়ে যান সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহরাব ও অন্যরা। জহিরকে সোহরাবদের বাড়িতে ঢুকিয়ে গেট লাগিয়ে কুপিয়ে তার হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে জহিরের মৃত্যু হয়। এদিকে জহিরের মৃত্যুর খবরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেন তার স্বজনরা।
নিহত জহিরের ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের কেনা জায়গায় জোর করে মাছ ধরে নিয়ে গেলে জহির বাধা দেয়। এতে সাইফুল মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাম দাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করে। এ সময় আরও ছয়-সাতজন আহত হয়েছে। আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার বিচার চাই।
সাইফুল ইসলাম মেম্বার বলেন, আমার পুকুরের মাছ জোর করে ধরে নিতে এলে আমার লোকজন বাধা দেয়। তারা বাধা আমান্য করে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, মাছের প্রজেক্ট নিয়ে পূর্ববিরোধ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ মাছ ধরতে গেলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গ্রামবাসীর সংগৃহীত বাঁশ,অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকোই দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। রৌমারী সদর ইউনিয়নের চর ইছাকুড়ি গ্রামের জিঞ্জিরাম নদীর উপর স্হায়ী কোন ব্রীজ নির্মিত না হওয়ায় সীমান্তবর্তী সাত গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রীজের দাবীতে ভুক্তভোগী জনগণ মানববন্ধন ও রাষ্ট্রের দফতরে আবেদন করলেও স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চর ইছাকুড়ি গ্রাম সংলগ্ন জিঞ্জিরাম নদীতে নির্মিত বাঁশের সাঁকোতে চর ইছাকুড়ি,
মির্জাপাড়া,ফুলবাড়ি,উত্তর গোয়ালগ্রাম, ঠনঠনিপাড়া,গোয়েসুল্লের চর,কোনাচিপাড়াসহ সাতটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত পারাপার হয়। বিকল্প কোন ব্যবস্হা না থাকায় স্কুল- কলেজের শিক্ষক,কোমলমতি শিক্ষকার্থী,ব্যবসায়ী, কৃষক, সরকারি বেসরকারি অফিসের চাকরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন, কৃষি পণ্য বাজারজাতকরনে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বন্যার পানিতে ব্রীজ ডুবে গেলে দু পাড়ের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। দুর্ভোগ হতে মুক্তির জন্য নদীর উপর স্হায়ী ব্রীজ নির্মানের দাবী জানান এলাকাবাসী।
ফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকযুগ ধরে একটি ব্রিজের অভাবে আমরা কষ্ট করে চলছি। আমাদের সন্তানরা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সরকারের কাছে ব্রীজের দাবী জানাচ্ছি।
রৌমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আলী বলেন, নদীর এপার ও ওপারের লোকজন খুব কষ্ট করে পার হয়। সবচেয়ে রোগী নিয়ে বেশী বিপাকে পড়তে হয় আমাদের। স্হানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও সরকারের কাছে ব্রীজের জোর দাবী জানাচ্ছি।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নছিমন ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ৭টার দিকে তাড়াশ-মহিষলুটি আঞ্চলিক সড়কের পাচান ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— তাড়াশ উপজেলার চকজয় কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত হাচেন সরকারের ছেলে জাবেদ হোসেন (৬৫) এবং একই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে তাড়াশ-মহিষলুটি সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পাচান ব্রিজ এলাকায় বিপরীতমুখী একটি নছিমনের সাথে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে তাড়াশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুহাম্মাদ মঞ্জুরুল আলম জানান, সরকদুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর নছিমনটি আটক করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মৎস্যচাষের আধুনিক পদ্ধতি ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্যচাষীদের নিয়ে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার সময় তাড়াশ পৌর শহরের কোহিত বাজারে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সেমিনারে তাড়াশ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মৎস্যচাষী উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন চাষীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
উন্নত জাতের পোনা নির্বাচন: সঠিক জাত বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিক ফলন নিশ্চিত করা।
পানির গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ: মাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য পানির অক্সিজেন ও পিএইচ (pH) লেভেল বজায় রাখার কৌশল।
আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা: পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার প্রদানের মাধ্যমে খরচ কমিয়ে লাভ বাড়ানো।
রোগবালাই দমন: মাছের সাধারণ রোগসমূহ এবং এর প্রতিকারে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ।
সেমিনারে উপস্থিত মাছ চাষি সোহেল রানা, শামিম হোসেন জানান, গতানুগতিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় লোকসানের সম্মুখীন হই। কোহিত বাজারে আয়োজিত এই সেমিনারের মাধ্যমে আমরা মাছ চাষের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন করা হলে তাড়াশের মাছ চাষে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য বলেন, তাড়াশের মৎস্য সম্পদকে টেকসই করতে এবং চাষীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
সেমিনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রোডাকশন ও ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ ম্যানেজার কৃষিবিদ মো আতিক আশহাব, ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ এর সেলস অফিসার
মো রাশেদুল ইসলাম, মো সাইফুল ইসলাম,মো জাহাঙ্গীর আলম, শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ।
চাষীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা, যা স্থানীয় চাষীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
রামু প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে দৈনিক ইনকিলাব এর রামু সংবাদদাতা এম আব্দুল্লাহ আল মামুন সভাপতি এবং দৈনিক কক্সবাজার এর স্টাফ রিপোর্টার সোয়েব সাঈদ পূনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার, ১২ মে বিকাল তিনটায় রামু পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কমিটির নির্বাচন হয়।
২১ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ -সভাপতি খালেদ হোসেন টাপু, আল মাহমুদ ভূট্টো ও হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস.এম. হুমায়ুন কবির ও হামিদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খন্দকার, অর্থ সম্পাদক আবুল কাশেম সাগর, দফতর সম্পাদক শওকত ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল শিশির, সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক কামাল হোসেন, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এম এইচ আরমান, ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শিপ্ত বড়ুয়া, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য খালেদ শহীদ, নীতিশ বড়ুয়া, জাফর আলম জুয়েল, হাসান তারেক মুকিম ও নুরুল হক সিকদার।
সভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন- রামু প্রেস ক্লাবের সভাপতি নীতিশ বড়ুয়া। সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি ছিলেন- সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর। বিশেষ অতিথি ছিলেন- চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর কক্সবাজার প্রতিনিধি আজিম নিহাদ, নিউজ টুয়েন্টিফোর এর কক্সবাজার প্রতিনিধি ইরফান উল হাসান, বিজয় টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহ আলম।
বক্তারা বলেন, সমৃদ্ধ জনপদ রামুর সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন। মানসম্পন্ন লেখনী দিয়ে দেশ ও জনকল্যাণে রামুর সংবাদকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রে রামু উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় রামু প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে রামু প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার এই ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে এবং অভিযোগ তুলেছে যে তাঁকে হত্যার পর মরদেহটি সেখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
নিহত কাউসার আহমেদ আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবক স্থানীয় একটি কারখানায় পাহারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় নগরীর পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দর দাবি কাউসার আহমেদ আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি শোকবার্তায় তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
"জীবন দিয়ে হলেও অবহেলিত পাবনা-৩ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আপনারা শুধু জানাবেন কোথায় কি উন্নয়ন করতে হবে। আপনাদের সাথে নিয়ে হাতে হাত ধরে গ্রাম-গঞ্জে, মাঠে-ঘাটে ঘুরে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই"। পাবনা-সিরাজগঞ্জ জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ১২ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাটমোহর ঐহিহাসিক বালুচর মাঠ সংলগ্ন মঞ্চে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা তথা পাবনা-৩ আসনের বিএনপি ও সহযোগিতা সংগঠনের নেতা-কর্মী কর্তৃক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপর্যুক্ত কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তাকে এমপি নির্বাচিত করায় সর্ব প্রথম মহান রাব্বুল আলামীন, এরপর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, জন্মদাতা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাবনা-৩ এলাকার সর্বস্তরের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, "আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় আজকের রুমা হতে পেরেছি। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের সাথে থাকতে চাই। অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন করতে চাই। আপনাদের হাত ধরে চলতে চাই। আমাকে আপনাদের সন্তান-বোন-ভগ্নি হিসেবে দেখবেন। কোথায় কি করতে হবে আমাকে জানাবেন।"
এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম নিজ এলাকায় এলেন।তিনি ঢাকা থেকে সড়ক পথে বিকেল ৫ টার দিকে কাছিকাটা টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছলে বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা ও শ্লোগান সহযোগে তাকে চাটমোহরে নিয়ে আসেন। এ সময় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট রুমা ছাদ খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। চাটমোহরে পৌঁছে প্রথমে তিনি আফ্রাতপাড়া কবরস্থান পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার আত্মীয়-স্বজন, মহল্লার মুসুল্লিগণ, বিএনপি নেতৃবৃন্দ দোয়ায় শরীক হন।
অত:পর তিনি গাড়িবহর নিয়ে চাটমোহর খেলার মাঠ সংলগ্ন মঞ্চে পৌঁছালে শ্লোগানে মুখরিত নেতা-কর্মীরা তাকে মঞ্চে নিয়ে যান।সেখানে মাগরিবের আজানের পূর্ব মূহুর্তে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এসময় চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের জৈষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ফুলের মালা ও ফুলের তোরা দিয়ে সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা-কে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
কুমিল্লার সদর, বুড়িচং, দেবিদ্বার, চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আলুর সাথী ফসল হিসেবে ব্যাপকভাবে আবাদ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। স্বল্প খরচে এবং বাড়তি সার ও কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত এ বিষমুক্ত সবজি চাষ করে ভালো লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।
জানা যায়, উপরোক্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কৃষকরা মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেন। আলুর জমিতেই অতিরিক্ত চাষাবাদ ছাড়াই কুমড়ার বীজ রোপণ করা হয়। খুব কম পরিচর্যায় গাছ বেড়ে ওঠে এবং ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা সম্ভব হয়। এছাড়া কালি জাতের মিষ্টি কুমড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রোপণ করে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন পেয়েছেন অনেক কৃষক।
সরেজমিনে দেশের বৃহৎ সবজির বাজার কংসনগর, নিমসার, চান্দিনা, দাউদকান্দি ও দেবিদ্বারের বিভিন্ন কুমড়া হাট ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উৎপাদিত কুমড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি হেক্টর জমিতে কুমড়া আবাদে মোট খরচ হয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে উৎপাদিত কুমড়া বিক্রি করে আয় হচ্ছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। বর্তমানে কৃষকরা কুমড়া বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে আসা ভ্রাম্যমাণ চাষি শাহিন ও সেলিম জানান, “১ একর জমিতে কুমড়ার চাষ করেছি। গাছ মারা যাওয়ায় ফলন অনেক কম হয়েছে। প্রতি পিস কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি।”
ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, “আমাদের এলাকার মিষ্টি কুমড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে কুমড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেটসহ কয়েকটি জেলায় পাঠানো হয়।”
নিমসার বাজারের কুমড়া আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর ফলন কম হওয়ায় কুমড়ার আমদানিও কম। তারা প্রতিকেজি কাঁচা কুমড়া ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং পাকা কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কিনছেন। এছাড়া কুমড়ার আকার ও মানভেদে প্রতিটি “চুকতা” বা “লট” ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দৈনিক বাংলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের প্রতিনিধিকে জানান, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কুমড়া চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি থাকলেও আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে কিছুটা কম আবাদ হয়েছে। তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে কয়েক হাজার মেট্রিক টন।
ফেনীতে নিজের নির্মাণাধীন ভবন থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বালুচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যার পর মরদেহ বালুচাপা দিয়ে রেখেছে ঘাতক।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের চোছনা গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৃহবধূ রীনা আক্তার (২৮) ওই গ্রামের প্রবাসী মানিক উদ্দিনের স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে নির্মাণাধীন ভবনটিতে গিয়ে রীনা আক্তার আর ফিরেননি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নিহতের ছোট ছেলে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সাইফুল ইসলাম নামের এক নির্মাণশ্রমিক তাকে দেখে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন আর সেই চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ে না। লাঙল-জোয়াল কিংবা কাস্তে হাতে ব্যস্ত কৃষক-শ্রমিকের পথচলাও হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির গহীনে। যে ভোরে কিষাণ-কিষাণীর কলতানে মুখর হওয়ার কথা ছিল মাঠ, প্রান্তর; সেই ভোরেই আজ শ্রমিকের শূন্যতা। গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের গন্তব্য যেন একটাই—ইটের পর ইট সাজানো যান্ত্রিক শহরের দিকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর পিচঢালা সড়ক-মহাসড়ক পেরিয়ে অলিগলি—সর্বত্রই কেবল মানুষের স্রোত আর যান্ত্রিক কোলাহল। অলিগলিতে রিকশার চাকার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে থমকে আছে নাগরিক গতি। ফুটপাতও পথচারীর নয়, বরং হকারদের পসরা আর দেনা-পাওনার ব্যস্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। একদিকে শ্রমিকের অভাবে খাঁ খাঁ করছে গ্রামের উর্বর মাঠ, অন্যদিকে শহরের রাজপথ মানুষের চাপে ছাড়ছে দীর্ঘশ্বাস। এই শেকড় উপড়ে শহরের ফুটপাতে বা রিকশার সিটে থিতু হওয়ার নিরন্তর লড়াই—কি কেবলই জীবিকার তাগিদ, নাকি এক অপরিকল্পিত নগরায়ণের করুণ উপাখ্যান?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অকৃষি খাতে আয় বেশি হওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে।
তার মতে, কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য এই সংকটের অন্যতম কারণ। প্রান্তিক কৃষকরা কৃষিকাজে লাভ করতে না পেরে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানা (যেমন-পোশাক ও চামড়া শিল্প) ঢাকা ও গাজীপুরকেন্দ্রিক হওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ অঞ্চলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। তাছাড়া গ্রামের তুলনায় শহরের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত হওয়ায় মানুষ শহরমুখী হচ্ছে।
কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিককে গ্রামমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে হবে।
এ বিষয়ে আরেক কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যও এই সংকটের অন্যতম কারণ। এই সংকটের সমাধান করতে হলে গ্রামের শ্রমিক যাতে সারা বছর কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মৌসুমের কাজ দিয়ে সারাবছর চলে না বলেই শ্রমিক শহরমুখী হয়।
এদিকে, দৈনিক বাংলার কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসব জেলার বিস্তৃত জলাভূমি বা হাওরাঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের হাহাকার চলছে। যে সময়ে বোরো ধানের মৌসুম কৃষকের ঘরে স্বস্তি ও প্রাচুর্যের বার্তা নিয়ে আসার কথা, ঠিক সেই সময়ে মাঠভরা সোনালি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিনরাত পরিশ্রমে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে কৃষকের বুকফাটা কান্না কেবল ব্যক্তিগত বেদনা নয়, এটি সামষ্টিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২১৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে ধান কাটতে দেড় হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।
উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর, শিমুলকান্দি, সাদেকপুর ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওর এলাকা ঘুরে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। ফলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, এই বছর জোয়ান শাহী হাওরে ৫ খানি জমিতে ধান চাষ করেছি। এখন ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। যদিও ১৫ শত টাকা রোজে শ্রমিক আসে তারা সকাল ৮টায় ধান কাটতে আসলে আবার দুপুর ২টা বাজলেই চলে যায়। ১ মণ ধান ফলাতে খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হয় ৭/৮ শত টাকায়। এই দুঃখেই জীবন বাঁচে না।
জগমোহনপুর গ্রামের কৃষক আফিল উদ্দিন বলেন, মাত্র দুই খানি জমির ধান কাটতে পারছি। বাকি ধান পানিতে ডুবে গেছে। শ্রমিকের কারণে কাটতে পারছি না। এই ধান দিয়েই সারা বছরের খোরাক হয়। আর বাকী ধান বিক্রি করে সংসার চলে। কিন্তু এবার সব শেষ। শ্রমিকের অভাবে ধান ঘরে তুলতে পারছি না।
আরেক কৃষক জালাল মিয়া বলেন, এই বছর বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে ধান পচে গেছে। পচে যাওয়া ধান কাটতে ১৫ শত টাকা দিয়েও কামলা পায়তেছি না। তাই নিজেই কোনো রকমে ধান কেটে নৌকা দিয়ে টেনে আনছি।
কৃষক পাষাণ আলী বলেন, ধান ফলাতে যে খরচ পড়ছে তা বিক্রি করেও উঠবে না। যে ক্ষেতের ধান একদিনে কাটতাম, তা এখন তিন দিনেও শেষ হচ্ছে না।
কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় স্বামীকে সাথে নিয়ে জোয়ানশাহী ১০ খানি জমিতে ধান চাষ করেন জাফরনগর গ্রামের জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, মাত্র ১ খানি জমির ধান কাটছি। বাকি জমি পানির নিচে পড়ে আছে। এখন মানুষ নাই নৌকা নাই কেমনে ধান কাটমু। যদি ধান ক্ষেত না কাটতে পারি তাহলে সারা বছর কি খেয়ে বাঁচব সেই চিন্তায় আছি। হাওরের ধানের ক্ষেতের দিকে তাকালে শুধু কান্দন আসে।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, উপজেলায় এাবর ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাধবপুর(হবিগঞ্জ): উপজেলাজুড়ে বোরো ধানের পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও সেই ধান কেটে ঘরে তোলার মতো লোক পাচ্ছেন না কৃষক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমির ধান কেটে শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ধান কাটার মৌসুমে সহজেই শ্রমিক পাওয়া যেত। বর্তমানে সে সুযোগ কম। গত ৮-১০ বছরে মাধবপুরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এখানকার তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ এসব কারখানায় কাজ করছে। কৃষিকাজ অত্যন্ত পরিশ্রমের হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক।
তারা বলছেন, এবারের মতো এমন কষ্ট তাদের আগে কখনও হয়নি। আগে স্থানীয় শ্রমিক দিয়েই সহজে ধান কাটা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিক ইটভাটা, শিল্পকারখানা কিংবা শহরমুখী হওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যারা কাজ করছেন তারাও দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দাবি করছেন। এতে ধানের সার্বিক উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, তার মতো অনেক কৃষকের জমির ধান পেকে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় কাটতে পারছেন না। ঝড়-বৃষ্টি হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। নিচু জমিতে হারভেস্টার মেশিনও যেতে পারে না। গত ১০ দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আছে। এখন এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন জগদীশপুর অঞ্চলের কৃষক ছাদেক মিয়া। তিনি বলেন, শ্রমিক পেলেও অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ধানের বাজারদর অনুযায়ী এত খরচ বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
চৌমুহনী অঞ্চলের কৃষক সমুজ আলী বলেন, ধান নিয়ে কৃষক এখন বড় বিপদে। এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ধান চাষাবাদ থেকে ধীরে ধীরে সরে যেতে বাধ্য হবে।
সুনামগঞ্জ: হাওরে এখন আর কোনো ধানই ভেসে নেই। সবই পানির নিচে। তলিয়ে থাকতে থাকতে ধানে পচন ধরেছে। তবে উঁচু অংশে এখনো কিছু ধান আছে। তবে শ্রমিক সংকটে সেগুলো কেটে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
জেলার দেখার হাওরে পানির নিচে এখনো কৃষক আবদুল মতিনের (৬০) দেড় বিঘা জমির ধান। ধানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর আবদুল মতিন গত সোমবার দুপুরে কলেজপড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ আহমদকে সঙ্গে নিয়ে সেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। এ জন্য এক হাজার টাকায় এক দিনের জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া নিয়েছেন। শ্রমিক না পেয়ে বাবা-ছেলে মিলে হাওর থেকে ধান কেটে এনে রাখছিলেন হাওরপাড়ে। মাথার ওপর কড়া রোদ।
কৃষক আবদুল মতিন জানান, পানির নিচের ধান শ্রমিকেরা ভাগিতে কাটেন না। এ জন্য এক হাজার টাকা এক দিনের জন্য মজুরি লাগে। হাতে টাকা নেই, লোকও পাওয়া যায় না। তাই ছেলেকে নিয়েই যা পারেন কাটার চেষ্টা করছেন।
পাশেই কৃষক সালাম মিয়া (৬০) স্ত্রী সায়েরা বেগমকে নিয়ে স্তূপ থেকে ভেজা জটবাঁধা ধান ঝেড়ে ময়লা ছাড়াছিলেন। সায়েরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আর কয়দিনরে বাবা, হাওর ত ঠাণ্ডা অইজিব। তোমরাও আইতায় না, আমরার কথাও কেউ আর মাত ত না। আমরার কষ্ট আমরাই পাইমু।’
মৌলভীবাজার: হাওরে তীব্র শ্রমিক সংকটে হাওরে ধান কাটতে পারেননি কৃষকেরা। এক বিঘা আধপচা ধান কাটতে শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে ধান কাটলেও বিক্রি করতে হয় এর চেয়ে কম টাকায়। তাই বেশিরভাগ কৃষক ধান না কেটে হাওরেই রেখে দিয়েছেন।
কাউয়াদিঘী হাওরের কৃষক তনু মিয়া, কয়ছর মিয়া বলেন, হাওরের বেশিরভাগ ধান কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে কাটা হয়। যেখানে মেশিনে ধান কাটে এসব এলাকায় পানি বেশি থাকায় শ্রমিকেরা ধান কাটতে অনিচ্ছুক। আর যারা ধান কেটে পাড়ে নিয়ে এসেছেন, এসব কৃষক শ্রমিক সংকটে মাড়াই করতে পারছেন না। হাওরে এক বিঘা ধান কাটতে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত ছিল। এরমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে। এতে অন্তত ২০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারেননি। শ্রমিক সংকট না হলে আরও কিছু ধান কাটতে পারতেন।
ধামইরহাট (নওগাঁ) : বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান বাতাসে দুলছে। সামান্য শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় এই ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু ধান কাটতে শ্রমিক পাচ্ছেন না কৃষকেরা। তাই নিজেরা চেষ্টা করছেন ধান কেটে ঘরে তোলার।
কৃষকেরা বলছেন, শ্রমিকের খুবই সংকট। যদিওবা কাউকে পান, তারা মজুরি অনেক বেশি দাবি করেন। কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত ধান কাটতে না পারলে মাঠের ধান মাঠেই ঝরে পড়বে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ধামইরহাট পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেতের ধান পেকে গেছে। বাকি ১০ শতাংশ হালকা কাঁচাপাকা রয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে কাটার উপযোগী হবে। এগুলোর মধ্য থেকে স্থানীয় শ্রমিকদের সহযোগিতায় কিছু ধান কাটা হচ্ছে। তবে শ্রমিকের সংখ্যা খুবই কম।
কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর মৌসুমের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধানকাটা শ্রমিকেরা এসে ভিড় জমাতেন। মূলত তারাই এই এলাকার ধান কেটে দিতেন; অথচ এ বছর তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের ধান মাঠেই পেকে ঝরে পড়ছে।
আড়ানগর ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের মধ্যে যে পরিমাণ ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলার কথা ছিল, রিপার হারভেস্টার ও কম্বাইন মেশিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) হত্যায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুল ইসলাম।
গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে টিটন নিহত হন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
টিটন হত্যায় জড়িতরা দেশ ছেড়েছেন কি না জানতে চাইলে শফিকুল বলেন, আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এই অবস্থায় বলা যাবে না আসামি দেশে, নাকি বিদেশে। তবে আমরা কাজ করছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হত্যায় জড়িত আসামিদের একটি ছকে এনেছি। তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। আপনারা জানেন এই হত্যার পরে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। সবগুলো দিকই আমরা আমলে নিয়েছি। সব কিছু মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি।
প্রসঙ্গত, ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। খুব কাছ থেকে করা গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
নিহত টিটনের নামে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, টিটন তাদের মধ্যে অন্যতম।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত) থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৮৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫৬ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর নওজোর মাটাগরি গ্রামের মাঠে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে মাঠের ক্ষেত থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর নওজোর মাটাগরি গ্রামের মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ক্ষেতে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির হাত দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি।
এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি অন্য কৃষকদের জানালে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ অনেকটা পচে গেছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্নের মতো বোঝা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি কালো রঙের চাইনিজ কুড়াল, সিলভার রঙের একটি ধাতব পাঞ্চ, একটি কালো রঙের স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) ও নাফিজুল ইসলাম (১৯)।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গার বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফারুক আলম জানান, গত সোমবার রাতে ডিউটি পালন করার সময় বসুপাড়া মেইন রোড়ের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।