বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সোনালী ব্যাংকে অনিয়ম: ‘ভুল স্বীকার’ করলেই মাফ

আপডেটেড
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:৫৫
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

বয়স্ক ভাতার টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, ভুয়া ওভারটাইম বিল, ঘুষ দাবিসহ সামগ্রী কেনা নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার এসব অনিয়মের বিচার না করে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখাটির উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) বিরুদ্ধে।

ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী দাবি করেছেন, সব বিষয়ই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি বিষয়ের অভিযোগ ‘হুইসেল ব্লোয়ারের’ মাধ্যমে ন্যায়পাল সচিবালয় বরাবর যায়। পরে স্থানীয়ভাবে এর মীমাংসা করায় কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সম্প্রতি ওঠা চারটি অভিযোগের মীমাংসা করা হয়েছে ‘ভুল স্বীকার’ ও অর্থ ফেরত নেয়ার মাধ্যমে। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ জুলাই একজন হুইসেল ব্লোয়ার প্রধান কার্যালয়ে ভুয়া ওভারটাইম বিল নিয়ে অভিযোগ করেন। এতে কিশোরগঞ্জ শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ওভারটাইম পান শুধু কর্মচারীরা (গাড়িচালক ও অফিস সহকারী)।

২০২১ সালের অক্টোবরে ৮ দিনের ওভারটাইম হিসেবে মাহফুজুর রহমান ২ হাজার ৩৬৮ টাকা বিল নেন। বিল অনুমোদনের কপিতে স্বাক্ষরের নিচে ২৭ অক্টোবরের কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েক মাসের ভুয়া ওভারটাইম বিল তোলার অভিযোগ উঠলে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ফেরত দেন মাহফুজুর রহমান। এরপর আর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ওভারটাইম নেয়ার বিষয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমার অ্যাকাউন্টে ভুলবশত টাকা চলে এসেছিল। পরে ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’

ওভারটাইম বিল ভুলে কীভাবে এসেছে, তা জানতে চাইলে মাহফুজুর ব্যাংকের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বয়স্ক ভাতা বেহাত

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ১০ আগস্ট কুলিয়ারচর শাখায় বয়স্ক ভাতার ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৬ টাকা বেহাত হয়। ওই টাকা শাখার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তুহিন মিয়ার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। পরে বিভিন্ন তারিখে সেই টাকা উত্তোলন করে দুজন আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে একই বছরের ২১ অক্টোবর টাকা পুনরায় ব্যাংকে জমা রাখেন।

এ বিষয়ে কম্পিউটার অপারেটর তুহিন মিয়া বলেন, ঋণ ওঠানোর জন্য সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করেছিলেন। কিন্তু চেক বই ছিল আতিকুর রহমানের কাছে। এ সুযোগে টাকা তুলে খরচ করেন আতিকুর। পরে তাকে (আতিকুর) চাপ দিলে পুনরায় টাকা জমা দেন।

আতিকুর রহমান বলেন, ‘ভুলবশত এমনটা হয়েছিল। পরে সেই টাকা আবার জমা দিয়েছি। আমি ক্ষমাও চেয়েছি।’

বিষয়টি জানার পর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি ডিজিএম। আতিকুরকে বদলি করা হয় পার্শ্ববর্তী কটিয়াদী শাখায়।

ঘুষ দাবি

সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের কটিয়াদী শাখার ঋণ কর্মকর্তা সজিব মিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর এ নিয়ে ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় পাইকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদ কামাল।

অভিযোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত ঋণ পাইয়ে দেয়ার নাম করে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার কথা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সেই অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন না করে এক অভিযোগকারীকে ফোন করে ভীতি প্রদর্শন করেন ডিজিএম। একপর্যায়ে ওই শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করেন ডিজিএম।

সামগ্রী কেনা

২০১৯-২০ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ শাখার মনিহারি দ্রব্য, কাগজ ও কম্পিউটারসামগ্রী কেনার দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন যুগ্ম জিম্মাদার মো. সোলায়মান ও শওকতুল ইসলাম। তাদের মধ্যে শওকতুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ শাখায় এবং সোলায়মান প্রিন্সিপাল অফিসে কর্মরত আছেন।

সূত্র জানায়, সোলায়মান ও শওকতুল সেগুলো কিশোরগঞ্জ থেকে না নিয়ে পাকুন্দিয়া থেকে কেনেন। মূলত সেখান থেকে ফাঁকা ক্যাশ মেমো এনে ১৮০ টাকার কাগজ ৩০০ টাকা এবং ৫০০ টাকা মূল্যের টোনার ৯০০ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেন। তখন জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন এজিএম। অভিযুক্ত দুজন জাহাঙ্গীরের পছন্দের লোক হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্ত দুজনকে ফাঁকা ক্যাশ মেমো দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন পাকুন্দিয়ার মনির কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন।

অভিযোগুলো নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ উঠলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে যে-ই হোক না কেন। আতিকুর রহমানকে এই স্টেশন থেকে বদলি করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিটি বিষয়েই আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেই কাজ করছি। কোনো কিছুই গোপন বা ধামাচাপা দেয়া হয়নি।’


গুলিতে রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপকের মৃত্যু: ভবন মালিক ও ছেলে রিমান্ডে

শফিউর রহমান কাজলের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেন সুলতান ভাই কাচ্চি রেস্তোরাঁর কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভবন মালিকের গুলিতে আহত রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ভবন মালিক ও তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের দুজনকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আঙ্গুরা শপিং কমপ্লেক্স নামের ওই ভবনের মালিক আজাহার তালুকদার গুলি করেন শফিউর রহমান কাজলকে (৫২)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

নিহত শফিউর রহমান কাজল নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কুশিয়ারা এলাকার মৃত শাহ আলম মিয়ার ছেলে। তিনি ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ নামের রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক ছিলেন। তিনি গুলিবিদ্ধ হলে রোববার রাতেই ওই ভবন মালিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন রেস্তোরাঁর মালিক শুক্কুর আলী।

মামলায় আসামি করা হয়েছে আঙ্গুরা শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আজহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদারকে। গোলাগুলির পরই তাদের আটক করেছিল পুলিশ। মামলার পর সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানা হয়।

শফিউর রহমান কাজলের মরদেহ সুলতান ভাই কাচ্চি রেস্তোরাঁয় পৌঁছালে কর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি: দৈনিক বাংলা

রেস্তোরাঁ মালিক শুক্কুর আলীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজহার তালুকদারের কাছ থেকে চাষাঢ়ায় আঙ্গুরা শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার একাংশ ভাড়া নিয়ে সুলতান ভাই কাচ্চি নামের একটি রেস্তোরাঁ দেন শুক্কুর আলী। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ বিল ও পানির লাইন নিয়ে ভবন মালিক আজহারের সঙ্গে শুক্কুর আলী ও কাজলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে রোববার রাতে কাজলের সঙ্গে আজহারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আজহার ওই ভবনেই তার বাসা থেকে পিস্তল ও শটগান নিয়ে গিয়ে গুলি করলে কাজল গুলিবিদ্ধ হন। তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। শটগানের গুলিতে রেস্তোরাঁর জনি নামের আরেক কর্মচারীও আহত হন। তাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

নিহত শফিউরের ভগ্নিপতি রবিউল আওয়াল বলেন, ‘একজন মানুষকে শহরের মধ্যে প্রকাশ্যে গুলি করে মারা হলো। এর চেয়ে দুঃখজনক কিছুই হতে পারে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

এদিকে দুপুরে ময়নাতদন্তের পর শফিউরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহটি নিয়ে স্বজনরা সুলতান ভাই কাচ্চি রেস্তোরাঁ এলাকায় গেলে রেস্তোরাঁর কর্মীরা সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা কাজলকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে তারা ভবন মালিক আজহারের সর্বোচ্চ সাজা দাবি জানান।


ছাগলের মাংসে বিষ মিশিয়ে বাঘ শিকার

র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার বাঘের চামড়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

ছাগলের মাংসের সঙ্গে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সুন্দরবনে। বাঘের বিচরণ এলাকার আশপাশে রেখে আসা হয় সেই মাংস। একপর্যায়ে বাঘ মাংস খেয়ে মারা গেলে শরীরের চামড়া ও অন্যান্য অঙ্গ নিয়ে আসা হয়। পরে শৌখিন মানুষদের খুঁজে প্রায় কোটি টাকা মূল্যে তা বিক্রি করা হয়।

সুন্দরবনে এমন কৌশলে বাঘ শিকার করে আসছিল একটি চক্র। এদের মধ্যে দুজনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সোমবার বিকেলে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

আটকরা দুজন হলেন হাফিজুর শেখ (৪৭) ও ইসমাইল শেখ (২৪)। তাদের বাড়ি সুন্দরবন-সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ধলপাড়া গ্রামে।

র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতায় এ চক্রটির সম্পর্কে জানতে পারে র‌্যাব। পরে ক্রেতা সেজে তাদের আটক করা হয়। তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লবণ মাখিয়ে রাখা একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি আটক দুজন শ্যামনগর-সংলগ্ন সুন্দরবন থেকে ওই বাঘটি শিকার করেছিলেন। পরে শৌখিন মানুষদের খুঁজছিলেন, যারা প্রায় কোটি টাকা মূল্যে একটি বাঘের চামড়া কিনে থাকেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, যারা এসব বাঘের চামড়া কেনেন, তারাও নজরদারিতে আছেন। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিকারিরা জানিয়েছেন, তারা মাছ ও গোলপাতা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ শিকার করতেন। সুযোগ বুঝে বনের অন্য প্রাণীও তারা শিকার করতেন।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবকে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মান্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে। তাহলে এই সিন্ডেকেটে যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিষয়:

সিন্দুকে লুকানো ছিল ২২ হাজার ইয়াবা

আটক রকিব হাসান রফিক, ইনসেটে ইয়াবা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বাড়ির আলমারি ও সিন্দুক থেকে ২২ হাজার ৬০০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় আটক করা হয়েছে রকিব হাসান রফিক (৩৪) নামে এক তরুণকে।

রৌমারী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রফিক সদর ইউনিয়নের চর নতুন বন্দর পোর্ট গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে রফিকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপ কুমার সরকার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ২টার দিকে রফিকের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার বাড়ির কক্ষে থাকা আলমারির দুটি ড্রয়ার এবং একটি সিন্দুকের ভেতর থেকে ২২ হাজার ৬০০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।’

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমীন বলেন, ‘গ্রেপ্তার রফিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।’

বিষয়:

ছয় দিন ধরে নিখোঁজ পল্লিচিকিৎসক, তুলে নেয়ার অভিযোগ পরিবারের

নিখোঁজ সেলিমের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, যশোর

যশোরে সেলিম হোসেন (৪৫) নামে এক পল্লিচিকিৎসক ছয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে তাকে শহরের খড়কি গাজীর বাজারের রিনা মেডিকেল চেম্বার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

সেলিমের নিখোঁজের ঘটনায় ৩ ফেব্রুয়ারি যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার দুই স্ত্রী আলজিয়া খাতুন ও নাজমা খাতুন। সেলিম হোসেন সদর উপজেলার বি-পতেঙ্গালী গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিমের দুই স্ত্রী বলেন, খোঁজ পেতে স্বজনরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছেন। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করছেন।

সেলিমের চার সন্তান ও স্বজনরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২ ফেব্রুয়ারি সেলিম দোকানেই ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস দোকানের সামনে আসে। গাড়ি থেকে ১০-১২ জন নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দেয় এবং সেলিমকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। সেলিম তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। না দেখিয়ে দোকানের সাঁটার বন্ধ করে সেলিমকে প্রাইভেট কারে তুলে নেয়া হয়। এরপর থেকে স্ত্রী ও স্বজনরা তার ব্যবহৃত মুঠোফোন পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। ডিবি, পিবিআই, র‌্যাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়েও সন্ধান মেলেনি।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিমের দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা সুলতানা বলেন, দুটি পরিবারে তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে একজন বাকপ্রতিবন্ধী।

পল্লিচিকিৎসক সমিতির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সেলিমকে আমরা সজ্জন হিসেবেই জানি। তার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা নেই।’

এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) বেলাল হোসাইন বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে।

বিষয়:

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ.লীগের দুপক্ষের সংর্ঘষ-গুলি, আহত ৯

সংঘর্ষের একটি মুহূর্ত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জ সদরের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরিত হয়েছে বেশ কয়েকটি ককটেল। এ সময় দুই পক্ষের তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ৯ জন। বেশকিছু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুন্সীকান্দি, বেহেরকান্দি, ঢালিকান্দি, নোয়াদ্ধা ও লক্ষিদিবি গ্রামে এ সংর্ঘষ হয়। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন পাটোয়ারীর অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মহাসিন হক কল্পনার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। মঙ্গলবার সকাল রিপন পাটোয়ারীর এক কর্মীকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে দুপুরে মুন্সীকান্দি, বেহেরকান্দি, ঢালিকান্দি, নোয়াদ্ধা ও লক্ষিদিবি গ্রামে হামলা চালান রিপনের অনুসারীরা। কল্পনার অনুসারীরা প্রতিহত করতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পাঁচটি গ্রামে। ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির পাশাপাশি গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলেও তাদের সামনেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধরা হলেন ফারুক হোসেন, পরান মোল্লা ও মো. সুমন মোল্লা (১৮)। তাদের দুজনকে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, দুজনের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুলির স্প্লিন্টার আঘাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংঘর্ষ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুপক্ষ। কল্পনার অনুসারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শওকত দেওয়ান বলেন, দুপুরে রিপন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই শিপন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে হঠাৎ করে গ্রামের নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে।

অন্যদিকে রিপন পাটোয়ারী বলেন, ঢালীকান্দি গ্রামে আমার এক সমর্থককে কল্পনার লোকজন মারধর করেছে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এর জন্য কল্পনার অনুসারীরা দায়ী।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান বলেন, গ্রামের স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


চুরির অপবাদে শিশুর চুল কাটা সেই মেয়রের নামে মামলা

গোপালদী পৌরসভার মেয়র আ. হালিম শিকদার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নাট-বোল্ট চুরির অপবাদ দিয়ে তিন শিশুকে হাত বেঁধে মারধর করে দুই শিশুর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গোপালদী পৌরসভার মেয়রসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মেয়রের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার তিন শিশুর মধ্যে এক শিশুর বাবা মামলাটি করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন ওই শিশুর বাবা রমজান মিয়া। মামলায় গোপালদী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. হালিম শিকদার (৫২) ছাড়াও তার সহযোগী ফারুক এবং সেলুনের দুই নরসুন্দর উৎপল শীল (৩৮) ও দ্বীপক শীলকে (৫২) আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও চার-পাঁচজনকে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকেলে মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মেয়র হালিমের বাড়ির পেছনে পাওয়ার লুমের মেশিন রাখা ছিল। সোমবার সকালে ওই পাওয়ার লুম মেশিনের নাট-বোল্ট চুরির কথা শুনে তিন শিশুকে রামচন্দ্রী বাজারের নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করেন মেয়র ও তার সহযোগীরা। চুরির অপবাদে তিন শিশুকে মারধর করেন মেয়রের সহযোগী ফারুক। পরে মেয়রের নির্দেশে উৎপল ও দ্বীপক দুই শিশুর মাথার চুল কেটে দেন। এরপর রশি দিয়ে হাত বেঁধে তাদের সেলুনের ভেতর আটকে রাখা হয়।

নির্যাতনের শিকার তিন শিশু হলো রামচন্দ্রদী গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ও গোপালদী মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়েজিদ আলম (১০), রিকশাচালক হাসান মিয়ার ছেলে ও রামচন্দ্রদী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র সিয়াম (৯) এবং রমজান মিয়ার ছেলে একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আফরীদ (৯)।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (আড়াইহাজার) আবির হোসেন জানান, শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার আসামী ফারুক ও উৎপল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মেয়রসহ অন্যরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোমবারের ওই ঘটনা অবশ্য অস্বীকার করেননি মেয়র হালিম সিকদার। সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, আমার মালপত্র চুরি হয়েছে। ওরা চোর। আগেও চুরি করেছে। তাই ওদের চুল কেটে দিয়েছি।


বান্দরবানে গোলাগুলি, র‌্যাবের হাতে ৫ জঙ্গি আটক

র‌্যাবের (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন থানচি সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তমাতুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্রে প্রেস ব্রিফিং করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, বান্দরবান

বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলা সীমান্তে র‌্যাবের সাথে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও জঙ্গি বাহিনীর গুলি বিনিময় হয়। এসময় ৫ জঙ্গিকে আটক করেছে র‌্যাব। গোলাগুলির ঘটনায় র‌্যাবের ৮ সদস্য আহত হয়েছে। তবে তাদের কারো নাম জানা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে গোলাগুলির পর বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন বিকালে জেলার থানচি উপজেলা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তমাতুঙ্গি পর্যটন কেন্দ্রে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

খুরশীদ হোসেন বলেন, সকালে রুমা উপজেলা সীমান্তে রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের দুর্গম রেমাক্রি ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসময় র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে জঙ্গি ও কেএনএফ সদস্যরা। এসময় র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়লে দুপক্ষের গোলাগুলি শুরু হয়, যা বিকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, আনসারুল ইসলামসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন মিলে গঠন করেছে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। তারা সমতল থেকে পাহাড়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর নজর এড়াতে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় হিজরতের নামে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় ১৯ জেলার ৫৫ তরুণ। এ তরুণদের অনেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নতুন করে কথিত হিজরতের নামে ঘর ছেড়ে জামাতুল আনসারের হয়ে পাহাড়ি এলাকার আস্তানায় আশ্রয় নেয়। এসব আস্তানায় হিজরত করা তরুণদের ভারি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেয় কেএনএফ। বিষয়টি জানার পর গত ১৭অক্টোবর থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে অভিযানে নামে র‌্যাব ও সেনাবাহিনী।

র‌্যাবের অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৩ জঙ্গি ও কেএনএফ এর ১৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়:

ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামির পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যার অভিযোগ

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৩:৫৭
প্রতিনিধি, বগুড়া

বগুড়ার শিবগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামির পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যার অভিযোগে এক গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে এরশাদুলকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) নেয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

ছিলিমপুর মেডিকেল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, এরশাদুল কিচক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আটক নারী একই এলাকার বাসিন্দা।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এরশাদুলের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী এক নারী ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। মামলার অভিযোগপত্রও দাখিল করে পুলিশ। তিন মাস আগে এরশাদ জামিনে বের হয়ে আবারও ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে সোমবার রাতে ওই নারীর কাছে গেলে ব্লেড দিয়ে এরশাদুলের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়।

ওসি বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিষয়:

মাদারীপু‌রে বাসচাপায় প্রাণ গেল শিশুর

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:০২
প্রতিনিধি, মাদারীপুর

মাদারীপুরের শিবচরে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় আলফাজ হোসেন (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ের সুর্যনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু আলফাজ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার আলম খানের ছেলে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আফজাল সকালে তার বাড়ির পাশের পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ে পাশ দিয়ে হেঁটে সূর্যনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রাক্ষুব্ধ হয়ে বাসটি জব্দ করে ভাঙচুর করে। পরে হাইওয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক বলেন, শিশুটি রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসটি শিশুটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এরপর বাসটি জব্দ করে স্থানীয়রা বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল আসি। ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘাতক বাসটির চালক ও চালকের সহকারী দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন। তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।


বাড়ি থেকে ফেরা হলো না রফিকুলের

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, নওগাঁ

নওগাঁর বদলগাছীতে ট্রাকচাপায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বদলগাছী-জয়পুরহাট আঞ্চলিক সড়কের গোবরচাপা হাটে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রফিকুল ইসলাম উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের গোয়ালভিটা গ্রামের আব্বাস হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মোটরসাইকেলযোগে রফিকুল ইসলাম তার মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথর বোঝায় ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হবে।


সেচের অভাবে পতিত ১৫০ বিঘা

গভীর নলকূপের মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ। ফলে বোরো আবাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন কৃষক। গত রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিভীষণ এলাকার কৃষক সাদিকুল ইসলাম। নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেই চলে তার সংসার। গত মৌসুমে তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছিল। সব মিলিয়ে ঘরে তুলেছিলেন ১২৫ মণ ধান। তবে এবার আবাদ নিয়েই অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে তাকে। পানির অভাবে জমির বুক ফেটে চৌচির। ধান আবাদের সময়ও চলে যাচ্ছে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ থেকে গভীর নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় জমির বুকে দিতে পারছেন না পানি। শেষ পর্যন্ত সেচের পানি না পেলে হয়তো এবার আবাদই করা হবে না সাদিকুলের। তার চোখেমুখে তাই চিন্তার ভাঁজ। বলছেন, ধানের আবাদ না হলে খাবেনই কী, কীভাবেই বা চলবে সংসার?

শুধু সাদিকুলই নন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা জনপদ বিভীষণের অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজে যুক্ত। এ বছর বোরো আবাদ করতে গিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তারা সবাই। কারণ, তাদের সবার জমিতেই সেচের জন্য বসানো গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পল্লী বিদ্যুৎ। সেচের অভাবে পতিত পড়ে আছে ৪০ কৃষকের ১০০ থেকে ১৫০ বিঘা জমি। এ নিয়ে কৃষকরা জমিতে মানববন্ধনও করেছেন। কৃষকরা বলছেন, আবাদের সময় শেষ হতে চলল। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানকার জমি একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। ফলে সেখানে থাকা গভীর নলকূপের মালিকানা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। একাধিক পক্ষ নিজের নামে বিদ্যুৎ সংযোগ চায়। এসব জটিলতার কারণেই সেখানকার বিদ্যমান সংযোগটি বিচ্ছন্ন করা হয়েছিল।

বিভীষণ গ্রামের মজিবুর রহমান জানান, নওগাঁ জেলার সাদরুল আমিন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির জমি ছিল ওই এলাকায়। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১১ সালে তার জমিতে সেচের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করেছিলেন। এরপর তিনি তার অধিকাংশ জমিই বিক্রি করে দেন, সেই সঙ্গে গভীর নলকূপটিও এব্রাহিম নামে একজনের কাছে হস্তান্তর করেন।

গভীর নলকূপের চালক এব্রাহিম বলেন, সাদরুল আমিন চৌধুরী জমি বিক্রির পর নলকূপটি আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তবে বিদ্যুতের মিটার পরিবর্তন করা হয়নি। সাদরুল চৌধুরীর নামেই বিল আসত, ওভাবেই বিল দিয়ে দিতাম। মাসখানেক আগে এক দিন পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে লাইন কেটে দেন। তখন তারা বলেন, ‘ডিপের (গভীর নলকূল) মালিকানা পরিবর্তন করতে হলে আগে জানাতে হতো। এখন অফিসে যোগাযোগ করিও।’ এরপর অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এদিকে পানি ছাড়া ধান লাগাতে পারছেন না কেউ।

ওই এলাকার বাসিন্দা ও গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান নূহ বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ায় জমিতে সেচ দিতে না পারছেন না বলে ৪০ থেকে ৬০ জন কৃষক আমার কাছে এসেছিলেন। পরে আমি নিজে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই। তবে সংযোগ ও নলকূপের মালিকানা নিয়ে সমস্যা ছিল। আমি তাদের বলেছিলাম, ১০০-১৫০ বিঘা জমির আবাদ বন্ধ হয়ে আছে, লাইনটা চালু করে দেন। কিন্তু লাইন চালু হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ইঞ্চি মাটিও যেন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলছেন। এমনকি তিনি বাসাবাড়ির ছাদেও ফসল ফলাতে বলছেন। সেখানে শত শত বিঘা জমি পল্লী বিদ্যুতের সিদ্ধান্তহীনতায় সেচের অভাবে পতিত আছে, এটি দুঃখজনক। তারা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে পারত। কৃষকদের আবাদের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই করেনি।’

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ নাচোলের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার সুভন কুমার মহন্ত বলেন, গভীর নলকূপের মালিকানা পরিবর্তন করতে হলে উপজেলা সেচবিষয়ক কমিটি থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বিভীষণ এলাকার গভীর নলকূপটি ব্যক্তিগতভাবে সাদরুল আমিন চৌধুরী বসিয়েছিলেন। তার নামেই বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। কিন্তু তিনি গভীর নলকূপের মালিকানা পরিবর্তন করেন। বিষয়গুলো সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে কৃষকের চলতি বোরো আবাদের কথা ভেবে ওই এলাকার চেয়ারম্যান, কৃষক প্রতিনিধির সঙ্গে বসে বিদ্যুৎ সংযোগটি দেয়ার ব্যবস্থা করব।

কৃষকরা যেন আবাদ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়ার কথা জানালেন গোমস্তাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘রোববার আমি বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি কৃষকদের সমস্যা কেটে যাবে।’


রাজশাহীতে ২৫ শতাংশ বই ছাড়াই মাস পার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এনায়েত করিম, রাজশাহী

চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসব করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন বই। পরদিন ২ জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠদানও শুরু হয়। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ২৫ শতাংশ বই হাতে পায়নি রাজশাহী বিভাগের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে নতুন বইয়ের সংকট থাকায় পুরোনো বই সংগ্রহ করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠ্যক্রম বদলে যাওয়া সে সুযোগও পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আপাতত অনলাইন থেকে বই ডাউনলোড করে পাঠদান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮৩টি। এর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৩ হাজার ৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮১ জন, ২ হাজার ২২৪টি মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪১৯ জন এবং ৫৬৭ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬৭ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ১২৮। সব শিক্ষার্থীর জন্য নতুন পাঠ্যবই প্রয়োজন ২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬১২টি। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বই হাতে পৌঁছেছে শিক্ষার্থীদের। সে হিসাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চাহিদার তুলনায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ বই এখনো হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভাগের আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই পেয়েছে জয়পুরহাট। এই জেলায় ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইয়ের চাহিদা ছিল ১০ লাখ ৯ হাজার ৭৫৪টি। এর বিপরীতে ৮১ দশমিক ৭২ শতাংশ বই পেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। সব বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণও করা হয়েছে। অন্যদিকে বিভাগে সবচেয়ে কম বই পেয়েছে নওগাঁ জেলা। এই জেলায় ৮৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৬ লাখ ৭ হাজার ৪৩৪টি বইয়ের চাহিদা ছিল। পাঠদান শুরু হওয়া এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এই জেলার ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছায়নি।

এ ছাড়া রাজশাহী জেলায় ১ হাজার ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো ২৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ বই পৌঁছায়নি। ৩২ লাখ ৬ হাজার ৫৫টি চাহিদার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের হাতে ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বই পৌঁছেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২১ লাখ ৩ হাজার ৭৩০টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পৌঁছেছে ৭২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বই। নাটোরে ৫৮৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৪ হাজার ৯৫৪টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পাওয়া গেছে ৭১ শতাংশ বই, বিতরণ করা হয়েছে ৭০ শতাংশ। ফলে শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো ৩০ শতাংশ বই পৌঁছেনি।

এদিকে বগুড়ায় ১ হাজার ৮২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৬ লাখ ৯ হাজার ছয়টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পৌঁছেছে ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ বই, বিতরণ করা হয়েছে ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফলে এখানেও ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বই এখনো পায়নি শিক্ষার্থীরা। আবার ৬১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৭ লাখ ৩ হাজার ৬৭৬টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাবনা জেলা বই পেয়েছে ৮৫ শতাংশ, বিতরণ করা হয়েছে ৮০ শতাংশ। আর সিরাজগঞ্জ জেলায় ৮৫৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ লাখ ৬ হাজার ১৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৭৮ শতাংশ বই। এই জেলায় ২২ শতাংশ বই ছাড়াই নিজেদের শিক্ষাকার্যক্রম এগিয়ে নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

কথা হয় রাজশাহী নগরীর অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। পুরো সেট বই না পাওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলছে, বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র, উচ্চতর গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই তারা হাতে পায়নি। পুরোনো বই দিয়েই এই চারটি বিষয়ে পাঠদান চলছে।

রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী বলল, অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন বই না পেলেও পুরোনো বই দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারছে। কিন্তু নতুন পাঠ্যক্রম হওয়ায় তারা সেটিও পারছে না। অনলাইন থেকে বইয়ের পিডিএফ কপি দিয়ে কোনোমতে পাঠদান চলছে।

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নূরজাহান বেগম বলেন, ‘শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানই নয়, রাজশাহীর কোনো স্কুলেই শতভাগ বই আসেনি। যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। আর যে বইগুলো এখনো পাওয়া যায়নি সেগুলোর পুরোনো বই দিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। তবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পুরো কারিকুলাম নতুন হওয়ায় অনলাইন থেকে পিডিএফ ভার্সন নামিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।’

জানতে চাইলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, কিছু কিছু করে বই আসছে। আসামাত্রই সেগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য পাঠানো হচ্ছে।


নাশকতাচেষ্টার অভিযোগে ২১ শিবিরকর্মী আটক

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতাচেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২১ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার প্যাড়াভাঙ্গা ও নতুন জেলখানা মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে আটকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ জানান, গতকাল সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার চেষ্টা করছেন শিবিরকর্মীরা। পরে সদর থানার প্যাড়াভাঙ্গা ও নতুন জেলখানা মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

ওসি আরও জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শিবিরকর্মীরা ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করেন। তাদের হামলায় পুলিশের সাত সদস্য আহত হন। পরে ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সেখান থেকে আটক করা হয় ২১ শিবিরকর্মীকে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলামের দাবি, ছাত্রশিবিরের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালি শেষে ফেরার পথে ২১ কর্মী-সমর্থককে বিনা কারণে পুলিশ আটক করেছে।


banner close