বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আ.লীগ নেতা-কর্মীদের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:০৯

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভাকে সামনে রেখে বুধবার সকাল থেকে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠের দিকে দলটির নেতা-কর্মীদের ঢল দেখা গেছে।

জনসভায় অংশ নিতে কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলা এবং বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা ছুটে আসছেন। শহরের মোড়ে মোড়ে নেতা-কর্মীদের অবস্থান দেখা গেছে।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে কক্সবাজারে পড়েছে সাজ সাজ রব।

জনসভা মঞ্চ থেকেই শেখ হাসিনা কক্সবাজারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে এক হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং চারটি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবেন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ পুনর্নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে এর মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৬ মে এ স্টেডিয়ামেই আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দিন পর সৈকত শহর কক্সবাজারে তার এ সফর ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সভাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হাসপাতাল মোড়, প্রধান সড়কের পালের দোকানের পশ্চিমে কোনো ধরনের যানবাহন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বন্ধ রাখা হয়েছে মেরিন ড্রাইভে সাধারণ যান চলাচল।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে নেতা-কর্মীরা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। সকাল ১০টার পর থেকে তারা সভাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। প্রায় দুই লাখ মানুষ কক্সবাজারে ঢুকে পড়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। পুলিশের সদস্যরা নির্ধারিত পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। সাজানো হয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সঙ্গে রয়েছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি।

তিনি বলেন, ‘এই দুটি অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্যসহ চার হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।’

দুপুর ২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভা মঞ্চে আসবেন।

বিশ্বের ২৮টি দেশের অংশগ্রহণে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ (আইএফআর) বুধবার ইনানীতে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিষয়:

নির্বাচিত

নীলফামারীতে মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়। র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মহসীন।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’ সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী- বিতরণ করা হয়।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাউজানে ৫০৫ হেক্টর কৃষি জমি পানির নিচে

* ক্ষতির শঙ্কায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ৫০৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি। আকস্মিক এই বন্যায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জানা গেছে, গত মে মাসে চাষাবাদকৃত ২৮০ হেক্টর জমির আউশ ধানের মধ্যে ১৪০ হেক্টরই এখন পানির নিচে। একই সাথে ১৩৫ হেক্টর জমির বীজতলার মধ্যে ৫৫ হেক্টর জমির বীজতলা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির মধ্যে ৩১০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ধান, বীজতলা ও সবজি ক্ষেতসহ উপজেলার মোট ৫০৫ হেক্টর ফসলি জমি এখন জলমগ্ন। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব ফসলের সিংহভাগই পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মাঠপর্যায়ের চাষিরা।

রাউজান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কৃষক এসকান্দর বলেন 'আমি অঙ্কুরোদমকৃত ধান জমিতে ফেলার পর থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এখনো আমার বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত। ফসলি জমির উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছি। হলদিয়া ইউনিয়নের কৃষক বেলাল বলেন, 'আমি আউশ ধানের চাষাবাদ করেছি। এখন পানির নিচে নিমর্জিত। বৃষ্টি কমলে পানি কমে যেতে পারে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতি হবে তা নিশ্চিত।'

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম কবির বলেন 'রা-উজানে আউশ ধান, বীজতলা ও শাক-সবজি মিলিয়ে মোট ৫০৫ হেক্টর জমি বর্তমানে পানিতে নিমজ্জিত ছিল। ফসলি জমি থেকে পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়।'


নির্বাচিত

নতুন বিভাগে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নওগাঁয় পক্ষে-বিপক্ষে মত

* বিভাগ পুনর্গঠন ইস্যুতে আলোচনা তুঙ্গে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

উত্তরের বৃহৎ জেলা নওগাঁ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ধান ও সবজির পাশাপাশি জেলায় নতুন করে আম যুক্ত হয়েছে। এটি একটি বৃহৎ ও কৃষিনির্ভর অঞ্চল। ভৌগলিক দিক দিয়ে এ জেলাটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। যা ভারত সীমান্ত ঘেষা। এ জেলা ১১টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগের সাথে নওগাঁ জেলা যুক্ত রয়েছে। তবে সম্প্রতি বগুড়া বিভাগ চালু হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। যেখানে-বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলা নিয়ে বিভাগ হওয়া সম্ভবনা রয়েছে। তবে নওগাঁবাসী বগুড়া বিভাগের সাথে যুক্ত হতে চাইনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ, শিক্ষা নগরী, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন শহর হওয়ায় রাজশাহী বিভাগের সাথে থাকতে চান এ জেলাবাসী।

ধানকে কেন্দ্র করে জেলাতে এক সময় প্রায় এক হাজারের অধিক চালকল গড়ে উঠেছিল। চালকল ছাড়া এ জেলায় তেমন কোন কলকারখানা গড়ে উঠেনি। তবে এক দশকে জেলায় তৃতীয় ফসল আম বাগান গড়ে উঠেছে। যা থেকে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা অধিক জেলায় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এমনকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ জেলার আম বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নয়ন হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় সবদিক থেকে এ জেলাটি পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ এখনও ঢাকামুখী। জেলার উন্নয়ন না হওয়াকে অনেকটা বিগত জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করছেন সচেতনরা। বিগত জনপ্রতিনিধিরা শুধু নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকায় জেলার উন্নয়নের কথা ভুলে গেছেন। এজেলায় বিগত সরকারের সময় খাদ্যমন্ত্রী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং ডেপুটি স্পীকার সহ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন জনপ্রতিনিধিরা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, এ জেলা থেকে বিগত সময়ে সরকারে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় পদে অনেকেই ছিলেন। রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা ও তাদের ব্যর্থতার কারণে নওগাঁর উন্নয়ন হয়নি। মোটকথা- তারা জেলার উন্নয়ন চাননি বলেই হয়ত উন্নয়ন হয়নি। ভৌগলিক কারণে বিভিন্ন দিক থেকে জেলাটি উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। রাজনীতিবিদরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। জেলাটি বগুড়ার সাথে যুক্ত হলেই যে উন্নয়ন হবে এমনটা না। আর এ জেলার ৯০ শতাংশ মানুষই রাজশাহী সাথে যুক্ত।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, নওগাঁ জেলা ইতিহাস ঐতিহ্যগত ভাবে সমৃদ্ধ। জেলাটি এক সময় মহকুমা ছিলো, যা রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিলো। তারপর এটি জেলা হলো এবং রাজশাহী বিভাগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিভাগীয় শহরে মানুষের খুব একটা কাজ থাকে না। নতুন করে বিভাগ তৈরির পক্ষে আমি না। নতুন করে বিভাগ তৈরি হলে রাষ্ট্রের খরচ বাড়বে। এতে রাজস্ব ব্যয় বাড়বে। জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়বে। যা জনগনের জন্য ক্ষতি।

নওগাঁ-৪(মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু বলেন- রাজশাহী একটি পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী বিভাগ। যা আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি। নওগাঁ জেলাবাসী রাজশাহীর সাথে সম্পর্ক এবং সম্পৃক্ত। রাজশাহী একটি শিক্ষা নগরী। যেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সহ গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস রাজশাহী থেকে সরিয়ে বগুড়া নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। বগুড়ার উন্নয়ন হোক এটা আমরা সবাই চাই।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, সরকার প্রধান যেটা ভাল মনে করবেন আশা করছি নওগাঁবাসীর জন্য সেটাই ভাল হবে। সকল জেলার প্রতি বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি রয়েছে। নওগাঁ যদি নতুন বিভাগের সাথে যুক্ত হয় অবশ্যই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছি।

নওগাঁ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বগুড়ার সাথে যুক্ত হতে সহমত পোষণ করছি। এখানে ধান, মসলা, ইক্ষু ও আম গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া এখানে এয়ারপোর্ট হলে কাঁচামাল রপ্তানি সহজ হবে। এখানে উৎপাদমুখী অনেক কারখানা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বগুড়াকে ব্যবসায়িক হাব (অঞ্চল) বলা চলে। যা রাজশাহীতে নেই।


নির্বাচিত

সাতক্ষীরায় শহীদ জায়েদার শাহাদাতবার্ষিকীতে ভূমিহীন সমাবেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

দেবহাটা-কালিগঞ্জের ঐতিহাসিক ভূমিহীন আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক শহীদ জায়েদার ২৮তম শাহাদাতবার্ষিকী এবং তার পুত্র আরমান এরশাদ আলমের এলাকা আগমন উপলক্ষে স্মারণ সভা ও ভূমিহীন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) দেবহাটা-কালিগঞ্জের ‘শহীদ জায়েদানগর’ প্রাঙ্গণে দেবহাটা-কালিগঞ্জ ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে শহীদ জায়েদার স্বামী ভূমিহীন নেতা আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাসার।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘ভূমিহীনদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শহীদ জায়েদাসহ ১০ জন শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং তাদের অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার সবসময় পাশে থাকবে।

তারা আরও বলেন, ‘এই জমি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য ১৯৯৭ সালে ১৬ শত ভূমিহীন পরিবার আন্দোলন করে, প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মাঝে জমি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতির জন্য। সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় জাহেদা এবং ভূমিদস্যুদের আক্রমণে আহত শতাধিক ভূমিহীন মানুষ; কিন্তু তারপরও পুলিশ বাদী হয়ে ২০ থেকে ২৫টি মিথ্যা মামলা করে কয়েকশ নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ২০০ মানুষ জেল খাটে, জাহেদা হত্যাসহ শতাধিক মানুষ আহত হলেও সেই দিন পুলিশ ভূমিহীনদের মামলা নেয়নি।’

আরও বলেন, ‘এখানো ৫ শতাধিক ভূমিহীন পরিবার জমি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং ভূমিদস্যুদের হাতে এখানো ৮ হাজার বিঘা খাস জমি আছে। ওই জায়গার পূর্ব নাম ছিল বাবুরাবাদ কিন্তু; ওই আন্দোলনে শহীদ হন ভূমিহীন নেতা জাহেদা যার কারণে ওই গ্রামের নাম হয় জাহেদানগর।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ৬নং নলতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম পাড়, জামায়াতে ইসলামী কালিগঞ্জ উপজেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. আনারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি মো. কওছার আলী, ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, মো. আনারুল ইসলাম। ভূমিহীন নেতা বায়োজিদ হোসেন, শহীদ জাহেদার পুত্র আলমগীর হোসেন।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে গভীর নলকূপের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে বিএমডিএর (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) গভীর নলকূপের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের সুজাপুর মাঠে বিএমডিএর গভীর নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরমারের খোলস খুলে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায় চোর।

জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএমডিএর উদ্যোগে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। তবে পাশের কয়েকটি গভীর নলকূপের প্রভাবশালী মালিকদের হস্তক্ষেপ এবং স্কিমের সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি নলকূপটি প্রায় ২৪ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে উপজেলা সেচ কমিটি ও বিএমডিএর সহযোগিতায় ২০২৫ সালে গভীর নলকূপটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালু করা হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, এক বছরের মাথায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পের মোটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম থাকলেও ট্রান্সফরমারগুলোর যন্ত্রাংশ নেই। ট্রান্সফরমারের খোলস ঘটনাস্থলেই ফেলে রাখা হয়েছে।

গভীর নলকূপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী হাসান মিলন বলেন, সরকারি এই সেচ প্রকল্প, এলাকার শতাধিক কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দ্রুত তদন্ত করে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি খরচে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে দ্রুত সেচ কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির খবর পেয়েছি। কমিটির লোকজনদের অফিসে ডেকেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

মাগুরায় থিয়েটার ইউনিটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা থিয়েটার ইউনিট বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১ টায় মাগুরা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের সামনে গাছের চারা রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মাগুরার ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন থিয়েটার ইউনিটের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল এমরান, নাট্য কর্মী জিসান, রানা,সবুজ, নাঈমুরসহ শিক্ষক, সাংবাদিক ও থিয়েটার ইউনিটের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চলতি সপ্তাহে থিয়েটার ইউনিট মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও পরিত্যক্ত জায়গায় দুই শত বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।


নির্বাচিত

নরসিংদীর আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

* আহ্বায়ক কাইয়ুম ও সদস্য সচিব জয়নাল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নবগঠিত কমিটিতে আব্দুল কাইয়ুম সরকারকে আহ্বায়ক, মো. নায়েব আলী মেম্বারকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. জয়নাল আবেদীন সরকারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন, ডা. মো. কামরুজ্জামান কালু, মো. সাইদুর রহমান মোমেন, হাজী মোরশেদ মিয়া, হাজী আব্দুল মালেক মেম্বার, আব্দুর রশিদ মেম্বার, মিজান মিয়া, হাজী সামসু মিয়া, খলিলুর রহমান কমল, আব্দুল ওহাব মিয়া, আব্দুল হাফিজ মিয়া, আব্দুল মান্নান মেম্বার, খোকা মিয়া, রেজন মিয়া, শহীদ মিয়া, জব্বার মিয়া, আব্দুল কাদির মিয়া ও নাসির উদ্দিন।

সদস্যরা হলো, রুবেল আহম্মেদ, রমজান মেম্বার, বাদশা মিয়া, ফিরোজ মিয়া, হানিফ মিয়া, আবুল হোসেন, দুদুল তালুকদার, জিলু মিয়া, আব্দুল মান্নান মিয়া, শিতল মিয়া, হানিফ মিয়া, পিয়ারা বেগম, মিনা বেগম, সমিয়ারা বেগম, শাহানাজ পারভীন ও বিলকিস বেগম।

দীর্ঘদিন পর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়ায় উচ্ছাস্বিত তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম সরকার বলেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়ায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন ও মহিলা সংসদ সদস্য এড শিরীন সুলতানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নতুন কমিটির মাধ্যমে আলোকবালী ইউনিয়নে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করতে কাজ করা হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ত্যাগীদের সঙ্গে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা হবে।


নির্বাচিত

মিঠামইনে পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো, খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়ার ছেলে রিফাত মিয়া (৪) ও মেয়ে সাফা আক্তার (২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে এলাকার অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল রিফাত ও সাফা। খেলার একপর্যায়ে সাফা অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বড় ভাই রিফাতও পানিতে তলিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা পুকুর থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ-আল-শাফী জানান, ঘাগড়া এলাকা থেকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে পটুয়াখালীর এক যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বুধবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকা ওই নারীকে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে ওই নারী রাজি না হওয়ায় তাকে বিয়ের প্রলোভন এবং তার সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম তাকে পটুয়াখালী শহরের একটি বাসায় আটকে রেখে প্রথমবার ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে সেই ঘটনার ভিডিও প্রচারের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী আরও অভিযোগ করেন যে, তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে শহিদুল তাকে সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে সুকৌশলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি যেহেতু এখন আদালতে বিচারাধীন, তাই তারা আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই আস্থা রাখছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।


নির্বাচিত

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এই আদেশ জারি করেন। মূলত জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে উল্লেখ করা হয় যে, বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার ডাক দিয়েছিল। একই সময়ে ও একই স্থানে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও জেলা ছাত্রদল। পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচির ফলে উভয় দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটার এই আশঙ্কায় অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

১৪৪ ধারা জারির ফলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্র হওয়া, জনসভা, মিছিল, মাইকিং, স্লোগান বা পিকেটিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরণের যন্ত্র দ্বারা উচ্চশব্দ বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যেকোনো কার্যকলাপের ওপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৌর এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

রপ্তানি আয়ের ৬৬ কোটি ডলার নিয়ে তদন্তে ৪ সংস্থা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬৬ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা) দেশে এলেও সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একই রপ্তানি লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে ফোর্সড লোন, যা পরে টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়েছে।

কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডকে ঘিরে এ অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আগামীর সময় এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় দুই দশকের রপ্তানি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কেয়া গ্রুপের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৬৬ কোটি ডলার দেশে এলেও তা এফসি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়নি সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংক। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাবে রয়েছে ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকের ২০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৬৫ লাখ ডলার।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে এসব অর্থ রপ্তানি আয় হিসেবে রিয়ালাইজড দেখানো হলেও চার ব্যাংকই কেয়া কসমেটিকসকে প্রসিড রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) দিয়েছে।

এরপর একই লেনদেনের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের নামে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে তা ধাপে ধাপে দীর্ঘমেয়াদি টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়। কেয়া গ্রুপের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি দেখানো হয়েছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে গত বছর সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাউথইস্ট ব্যাংক অভিযোগ অস্বীকার করে বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অপেক্ষার কথা জানায়। পূবালী ব্যাংক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ন্যাশনাল ব্যাংক ‘নো কমেন্টস’ বলেছে। আর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অভিযোগকে ‘মিস ইনফরমেশন’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান অভিযোগ করেন, একই রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ব্যাংক দ্বৈতভাবে অর্থ সমন্বয় করেছে। তার দাবি, একবার ফরেন ডকুমেন্টস বিলস পারচেজ (এফডিবিপি) বাবদ নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সমন্বয়ের পর আবার একই অর্থ এফসি অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট করা হয়েছে। এতে বৈধভাবে দেশে আসা ডলার থেকেও প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে এবং অযৌক্তিকভাবে ফোর্সড লোনের দায় চাপানো হয়েছে। একই ধরনের অনিয়ম চারটি ব্যাংকেই হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এফআরসি ডাবল ডেবিটিংয়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা কার্যক্রমে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনবিষয়ক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, রপ্তানি আয়ের পুরো অর্থ দেশে এসেছে কি না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে অর্থ রিয়ালাইজড দেখানোর পরও কেন একই লেনদেনের বিপরীতে ফোর্সড লোন বহাল রয়েছে। তৃতীয়ত, পুরো প্রক্রিয়ায় মানি লন্ডারিং, ব্যাংক জালিয়াতি বা অন্য কোনো আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে কি না।

এ লক্ষ্যে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর কেয়া কসমেটিকসের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। পরে চলতি বছরের ২৪ জুন সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগ থেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেয়া কসমেটিকসের রপ্তানি আয়ের ডলার দেশে না এলে সেটি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার গুরুতর লঙ্ঘন। এ ঘটনায় যে পক্ষ দায়ী হোক, প্রচলিত ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করতে সময় চেয়ে দুদক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এফআরসি রপ্তানি আয়, ফোর্সড লোন, এফডিবিপি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, কম্পানির আর্থিক হিসাব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি তথ্য—এই ছয়টি বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজতে অনুসন্ধান চালায়।

নথি বিশ্লেষণে সংস্থাটি দেখতে পায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি মনিটরিং সিস্টেম, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ হিসাব এবং কম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। একই লেনদেনের ক্ষেত্রে তিন ধরনের হিসাব পাওয়া যাওয়ায় রপ্তানি আয়, এফসি অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ, ঋণ সমন্বয় এবং ফোর্সড লোন সৃষ্টির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এফআরসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, চার ব্যাংকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সেই তথ্য বিশ্লেষণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে।

এফআরসির সিদ্ধান্তের আলোকে বিএসইসির নিয়োগ দেওয়া অডিট ফার্ম পিকেএফ আজিজ হালিম কবির চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বিশেষ নিরীক্ষা চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি গোলাম ফজলুল কবির বলেন, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিষয়টি এখন পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নয়; বরং রপ্তানি আয় ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং হিসাবরক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপরই বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে।


নির্বাচিত

গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক হচ্ছে জিপিএস, না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, নতুন রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট যানবাহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজনের প্রমাণপত্র বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটির কার্যকারিতাও প্রদর্শন করতে হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি স্পেসিফিকেশন বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় অথবা সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পরিবহন মালিক ও প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।


নির্বাচিত

৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় তুরস্কের সানকো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো। প্রতিষ্ঠানটি মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলতে চায়।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সানকোর প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে তারা আগ্রহী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তুরস্ক থেকে টেক্সটাইল পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি ও রপ্তানি সক্ষমতার কারণে দেশে উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কাপড় উৎপাদন, ফ্যাব্রিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে প্রতিনিধিদল জানায়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে তাদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রেতা রয়েছেন। স্থানীয় উৎপাদন সুবিধা চালু হলে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান টেক্সটাইল কারখানাগুলো প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকৃত হবে।

তারা আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্মাণকাজ শুরুর পর আনুমানিক ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

বৈঠকে সানকোর পক্ষ থেকে জ্বালানি সুবিধা, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চাওয়া হয়। তারা জানায়, আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কয়লাবিহীন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।

সানকোর প্রতিনিধিরা বলেন, একটি আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদনকেন্দ্র শুধু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের বস্ত্র খাতকে সাধারণ উৎপাদন থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। একটি সফল প্রকল্প অন্য উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে সানকোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সানকোর এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পাট খাতে নতুন প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


নির্বাচিত

banner close