বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আ.লীগ নেতা-কর্মীদের ঢল

ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:০৯

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভাকে সামনে রেখে বুধবার সকাল থেকে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠের দিকে দলটির নেতা-কর্মীদের ঢল দেখা গেছে।

জনসভায় অংশ নিতে কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলা এবং বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা ছুটে আসছেন। শহরের মোড়ে মোড়ে নেতা-কর্মীদের অবস্থান দেখা গেছে।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে কক্সবাজারে পড়েছে সাজ সাজ রব।

জনসভা মঞ্চ থেকেই শেখ হাসিনা কক্সবাজারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে এক হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং চারটি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবেন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ পুনর্নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে এর মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৬ মে এ স্টেডিয়ামেই আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দিন পর সৈকত শহর কক্সবাজারে তার এ সফর ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

সভাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হাসপাতাল মোড়, প্রধান সড়কের পালের দোকানের পশ্চিমে কোনো ধরনের যানবাহন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বন্ধ রাখা হয়েছে মেরিন ড্রাইভে সাধারণ যান চলাচল।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে নেতা-কর্মীরা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। সকাল ১০টার পর থেকে তারা সভাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। প্রায় দুই লাখ মানুষ কক্সবাজারে ঢুকে পড়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। পুলিশের সদস্যরা নির্ধারিত পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। সাজানো হয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সঙ্গে রয়েছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি।

তিনি বলেন, ‘এই দুটি অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্যসহ চার হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।’

দুপুর ২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভা মঞ্চে আসবেন।

বিশ্বের ২৮টি দেশের অংশগ্রহণে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ (আইএফআর) বুধবার ইনানীতে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিষয়:

নির্বাচিত

মিঠামইনে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই-বোনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের পুরান বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলো খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়ার ৪ বছর বয়সি ছেলে রিবান মিয়া ও তার দেড় বছর বয়সি মেয়ে সাফা।

জানা গেছে, দুপুরে বাড়ির উঠোনে খেলার সময় ছোট বোন সাফা অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। বোনকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে তাকে বাঁচাতে বড় ভাই রিবান সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সাঁতার না জানার কারণে দুজনেই পানির নিচে তলিয়ে যায়।

অনেকক্ষণ শিশুদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ডোবার পানিতে তাদের দেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার ধুনটে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় সোহেল রানা (২৫) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বথুয়াবাড়ি ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রাব্বী হাসান (১৮) আহত হয়েছেন। নিহত সোহেল রানা শেরপুর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, উপজেলার রাঙামাটি গ্রামের সোহেল রানা শ্বশুর বাড়ি থেকে ছোট ভাই রাব্বীকে নিয়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বথুয়াবাড়ি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির একটি বালুবাহী ট্রাক চলন্ত মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

এ সময় সোহেল রানা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আর নিহতের ছোট ভাই রাব্বী আহত হন। আহত রাব্বীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকের কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত সোহেল রানার মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।


নির্বাচিত

রূপগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হরিণা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফয়সাল মিয়াকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফয়সাল মিয়া রূপগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকার সায়েদ আলী মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের হরিণা এলাকায় ফয়সাল মিয়ার গরুর খামারে অভিযান চালায়। এ সময় ফয়সাল মিয়ার মোটরসাইকেলে বেঁধে রাখা সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেলসহ ফয়সাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস উপহার পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ৭৮০ কেজি উন্নত ‘কিউ’ জাতের আনারস পাঠিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বুধবার দুপুর ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ১০০টি কার্টনে মোট ৬২০ পিস আনারস বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী কনস্যুলার পঙ্কজ জ্যোতি দাস অনুষ্ঠানিকভাবে এই সৌজন্য উপহার গ্রহণ করেন।

আখাউড়া স্থলবন্দরের শূন্যরেখায় আয়োজিত এই উপহার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, পরিচালক ড. ফনি ভূষণ জমাতিয়া এবং উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কনসালটেন্ট ড. রাজীব ঘোষ। ত্রিপুরার কৃষি সচিব অপূর্ব রায় জানান, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই উপহার পাঠানো হয়েছে।

উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কনসালটেন্ট ড. রাজীব ঘোষ উপহার হিসেবে পাঠানো ফলের গুণমান সম্পর্কে বলেন, ‘কিউ জাতের আনারস আকারে বড় ও রসালো। এই সৌজন্য উপহারের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’ উল্লেখ্য যে, এই সৌজন্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৬০০ কেজি আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিবেশি দুই দেশের মধ্যে ফল বিনিময়ের এই রীতি পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


নির্বাচিত

মানিকগঞ্জে ৩ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা ও সীলগালা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ শহরে লাইসেন্স বনায়ন না করা এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিভিল সার্জন ডাঃ আইভী ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোঃ মাসুদ আলী শাহরিয়ার এই জরিমানা করেন। একই সঙ্গে একটি ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সীলগালা করে দেন।

অভিযানে নগর ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা এবং শুশ্রুষা হেলথ কেয়ার সেন্টারকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ সীলগালা ও দারুস সালাম ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও সীলগালা করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডাঃ আইভী ফেরদৌস জানান,লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, ক্লিনিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকাসহ প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক বিভাগে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার স্বাস্থ্যখাতকে জনবান্ধব করে তুলতে এধরনের অভিযান চলমান থাকবে। যেসকল প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অনিয়ম পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

নাটোরে জমি বিক্রির নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

* ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে জমি বিক্রির নামে টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়া এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কৃষক লিটন সরকার।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধানুড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় কৃষক লিটন সরকার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ৪ শতক জমি ৪ লাখ টাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা অগ্রিম বায়না নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এবং গুরুদাসপুর থানার দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের কৃষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কেন টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল ও বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকল পুনরায় চালুসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের জানিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এতে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, ২০২০ সালে লোকসানের অজুহাতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। অথচ একই সময় দেশের বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর লোকসানের জন্য প্রশাসনিক অদক্ষতা, বিজেএমসির দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়াকে দায়ী করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ দেশের শিল্প খাতের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অতীতে বেসরকারিকরণ করা অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান টেকসইভাবে পরিচালিত হয়নি; বরং এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ভাতা ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে শ্রমিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং করপোরেট পুঁজির আধিপত্য বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পাটশিল্পের অবনতির পেছনে সরকারের অবহেলা, পরিকল্পনার অভাব ও দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিগত প্রভাবও দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে বন্ধকৃত রাষ্ট্রীয় পাটকল পুনরায় চালু করতে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, ২৫টি পাটকল দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় চালু, অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের শাস্তি, বিজেএমসির প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার, স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালীকরণ, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি, ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং বন্ধ পাট ও চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সুতপা বেদজ্ঞ, এস এ রশিদ, মাহবুবুর রহমান খোকন, রফিকুল হক খোকন, জনার্ধন দত্ত নান্টু প্রমুখ।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

শিশুদের জন্য তৈরি খাদ্যে পোকাযুক্ত আটা ব্যবহার, বারবার ব্যবহৃত পোড়া তেলে ভাজা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে কুমিল্লায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে। এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গর্জনখোলা ও নুরপুর এলাকায় শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে দেখা যায়, মেয়াদবিহীন শিশু খাদ্য বিক্রি, পোকাযুক্ত আটা ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ এবং বহুবার ব্যবহৃত পোড়া তেলে শিশু খাদ্য ভাজার মতো গুরুতর অনিয়ম চলছে।

অভিযানের সময় বিশেষ কিটের মাধ্যমে সরেজমিনে তেলের মান পরীক্ষা করে পোড়া তেল ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় গর্জনখোলা এলাকার জাকির ফুড প্রডাক্টস-কে ৩৫ হাজার টাকা এবং নুরপুর এলাকার মনির ফুডে প্রডাক্টস-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া, অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন এবং নমুনা সংগ্রহকারী মো. সাকিব। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল।


নির্বাচিত

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাঙামাটিতে আধুনিক ভবন

* সংস্কৃতি চর্চা ও পর্যটনে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন নির্মাণকে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই ভবন নির্মিত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি অফিস-কাম মাল্টিফাংশনাল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় চারতলা প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক অডিটোরিয়াম, সিনেপ্লেক্স, প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিনি কনফারেন্স রুম, ডরমিটরি নির্মাণের পাশাপাশি সাবস্টেশন, জেনারেটর, সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে মূল প্রশাসনিক ভবনের ছাদ ঢালাই কাজ চলমান রয়েছে এবং অডিটোরিয়াম অংশের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের সঙ্গীত বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বর্তমানে অডিটোরিয়ামের অভাবে সংগীত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সংগীত চর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

নৃত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অডিটোরিয়াম না থাকায় নৃত্য প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে জায়গার সংকট দেখা দেয়। নতুন ভবন চালু হলে এসব সমস্যা দূর হবে।’

সংগীত বিভাগের প্রশিক্ষক শেখর মল্লিক বলেন, ‘নতুন ভবন ও অডিটোরিয়াম যত দ্রুত নির্মাণ শেষ হবে, তত দ্রুত প্রশিক্ষণার্থীরা আধুনিক পরিবেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।’

নৃত্য বিভাগের প্রশিক্ষক সুফলা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘শিল্পীদের জন্য একটি আধুনিক হলরুম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অত্যন্ত প্রয়োজন। ভবনটি দ্রুত সম্পন্ন হলে শুধু শিল্পীরাই নয়, পুরো রাঙামাটিবাসী এর সুফল ভোগ করবে।’

রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা বলেন, ‘১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইনস্টিটিউটটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং রাঙামাটির অসাম্প্রদায়িক ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিচয় আরও সমৃদ্ধ হবে।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটকে বাংলাদেশের জাতিগত বৈচিত্র্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা সম্ভব হবে। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের অডিটোরিয়াম সংকট অনেকটাই দূর হবে। এখানে প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিনি কনফারেন্স রুম এবং দেশি-বিদেশি শিল্পীদের থাকার জন্য ডরমিটরির ব্যবস্থা থাকবে।’

রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা বলেন, ‘সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে চারতলা প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম এবং একটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণের পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জেলার সাংস্কৃতিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’


নির্বাচিত

নীলফামারীতে মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীতে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়। র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মহসীন।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’ সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী- বিতরণ করা হয়।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাউজানে ৫০৫ হেক্টর কৃষি জমি পানির নিচে

* ক্ষতির শঙ্কায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ৫০৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি। আকস্মিক এই বন্যায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জানা গেছে, গত মে মাসে চাষাবাদকৃত ২৮০ হেক্টর জমির আউশ ধানের মধ্যে ১৪০ হেক্টরই এখন পানির নিচে। একই সাথে ১৩৫ হেক্টর জমির বীজতলার মধ্যে ৫৫ হেক্টর জমির বীজতলা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির মধ্যে ৩১০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ধান, বীজতলা ও সবজি ক্ষেতসহ উপজেলার মোট ৫০৫ হেক্টর ফসলি জমি এখন জলমগ্ন। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব ফসলের সিংহভাগই পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মাঠপর্যায়ের চাষিরা।

রাউজান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কৃষক এসকান্দর বলেন 'আমি অঙ্কুরোদমকৃত ধান জমিতে ফেলার পর থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এখনো আমার বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত। ফসলি জমির উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছি। হলদিয়া ইউনিয়নের কৃষক বেলাল বলেন, 'আমি আউশ ধানের চাষাবাদ করেছি। এখন পানির নিচে নিমর্জিত। বৃষ্টি কমলে পানি কমে যেতে পারে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতি হবে তা নিশ্চিত।'

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম কবির বলেন 'রা-উজানে আউশ ধান, বীজতলা ও শাক-সবজি মিলিয়ে মোট ৫০৫ হেক্টর জমি বর্তমানে পানিতে নিমজ্জিত ছিল। ফসলি জমি থেকে পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়।'


নির্বাচিত

নতুন বিভাগে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নওগাঁয় পক্ষে-বিপক্ষে মত

* বিভাগ পুনর্গঠন ইস্যুতে আলোচনা তুঙ্গে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

উত্তরের বৃহৎ জেলা নওগাঁ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ধান ও সবজির পাশাপাশি জেলায় নতুন করে আম যুক্ত হয়েছে। এটি একটি বৃহৎ ও কৃষিনির্ভর অঞ্চল। ভৌগলিক দিক দিয়ে এ জেলাটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। যা ভারত সীমান্ত ঘেষা। এ জেলা ১১টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগের সাথে নওগাঁ জেলা যুক্ত রয়েছে। তবে সম্প্রতি বগুড়া বিভাগ চালু হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। যেখানে-বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলা নিয়ে বিভাগ হওয়া সম্ভবনা রয়েছে। তবে নওগাঁবাসী বগুড়া বিভাগের সাথে যুক্ত হতে চাইনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ, শিক্ষা নগরী, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন শহর হওয়ায় রাজশাহী বিভাগের সাথে থাকতে চান এ জেলাবাসী।

ধানকে কেন্দ্র করে জেলাতে এক সময় প্রায় এক হাজারের অধিক চালকল গড়ে উঠেছিল। চালকল ছাড়া এ জেলায় তেমন কোন কলকারখানা গড়ে উঠেনি। তবে এক দশকে জেলায় তৃতীয় ফসল আম বাগান গড়ে উঠেছে। যা থেকে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা অধিক জেলায় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এমনকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে এ জেলার আম বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নয়ন হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় সবদিক থেকে এ জেলাটি পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ এখনও ঢাকামুখী। জেলার উন্নয়ন না হওয়াকে অনেকটা বিগত জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করছেন সচেতনরা। বিগত জনপ্রতিনিধিরা শুধু নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকায় জেলার উন্নয়নের কথা ভুলে গেছেন। এজেলায় বিগত সরকারের সময় খাদ্যমন্ত্রী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং ডেপুটি স্পীকার সহ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন জনপ্রতিনিধিরা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, এ জেলা থেকে বিগত সময়ে সরকারে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় পদে অনেকেই ছিলেন। রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা ও তাদের ব্যর্থতার কারণে নওগাঁর উন্নয়ন হয়নি। মোটকথা- তারা জেলার উন্নয়ন চাননি বলেই হয়ত উন্নয়ন হয়নি। ভৌগলিক কারণে বিভিন্ন দিক থেকে জেলাটি উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। রাজনীতিবিদরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। জেলাটি বগুড়ার সাথে যুক্ত হলেই যে উন্নয়ন হবে এমনটা না। আর এ জেলার ৯০ শতাংশ মানুষই রাজশাহী সাথে যুক্ত।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, নওগাঁ জেলা ইতিহাস ঐতিহ্যগত ভাবে সমৃদ্ধ। জেলাটি এক সময় মহকুমা ছিলো, যা রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিলো। তারপর এটি জেলা হলো এবং রাজশাহী বিভাগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিভাগীয় শহরে মানুষের খুব একটা কাজ থাকে না। নতুন করে বিভাগ তৈরির পক্ষে আমি না। নতুন করে বিভাগ তৈরি হলে রাষ্ট্রের খরচ বাড়বে। এতে রাজস্ব ব্যয় বাড়বে। জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়বে। যা জনগনের জন্য ক্ষতি।

নওগাঁ-৪(মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু বলেন- রাজশাহী একটি পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী বিভাগ। যা আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি। নওগাঁ জেলাবাসী রাজশাহীর সাথে সম্পর্ক এবং সম্পৃক্ত। রাজশাহী একটি শিক্ষা নগরী। যেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সহ গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস রাজশাহী থেকে সরিয়ে বগুড়া নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। বগুড়ার উন্নয়ন হোক এটা আমরা সবাই চাই।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, সরকার প্রধান যেটা ভাল মনে করবেন আশা করছি নওগাঁবাসীর জন্য সেটাই ভাল হবে। সকল জেলার প্রতি বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি রয়েছে। নওগাঁ যদি নতুন বিভাগের সাথে যুক্ত হয় অবশ্যই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছি।

নওগাঁ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বগুড়ার সাথে যুক্ত হতে সহমত পোষণ করছি। এখানে ধান, মসলা, ইক্ষু ও আম গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া এখানে এয়ারপোর্ট হলে কাঁচামাল রপ্তানি সহজ হবে। এখানে উৎপাদমুখী অনেক কারখানা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বগুড়াকে ব্যবসায়িক হাব (অঞ্চল) বলা চলে। যা রাজশাহীতে নেই।


নির্বাচিত

সাতক্ষীরায় শহীদ জায়েদার শাহাদাতবার্ষিকীতে ভূমিহীন সমাবেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

দেবহাটা-কালিগঞ্জের ঐতিহাসিক ভূমিহীন আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক শহীদ জায়েদার ২৮তম শাহাদাতবার্ষিকী এবং তার পুত্র আরমান এরশাদ আলমের এলাকা আগমন উপলক্ষে স্মারণ সভা ও ভূমিহীন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) দেবহাটা-কালিগঞ্জের ‘শহীদ জায়েদানগর’ প্রাঙ্গণে দেবহাটা-কালিগঞ্জ ভূমিহীন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে শহীদ জায়েদার স্বামী ভূমিহীন নেতা আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাসার।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘ভূমিহীনদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শহীদ জায়েদাসহ ১০ জন শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং তাদের অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার সবসময় পাশে থাকবে।

তারা আরও বলেন, ‘এই জমি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য ১৯৯৭ সালে ১৬ শত ভূমিহীন পরিবার আন্দোলন করে, প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মাঝে জমি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতির জন্য। সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় জাহেদা এবং ভূমিদস্যুদের আক্রমণে আহত শতাধিক ভূমিহীন মানুষ; কিন্তু তারপরও পুলিশ বাদী হয়ে ২০ থেকে ২৫টি মিথ্যা মামলা করে কয়েকশ নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ২০০ মানুষ জেল খাটে, জাহেদা হত্যাসহ শতাধিক মানুষ আহত হলেও সেই দিন পুলিশ ভূমিহীনদের মামলা নেয়নি।’

আরও বলেন, ‘এখানো ৫ শতাধিক ভূমিহীন পরিবার জমি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং ভূমিদস্যুদের হাতে এখানো ৮ হাজার বিঘা খাস জমি আছে। ওই জায়গার পূর্ব নাম ছিল বাবুরাবাদ কিন্তু; ওই আন্দোলনে শহীদ হন ভূমিহীন নেতা জাহেদা যার কারণে ওই গ্রামের নাম হয় জাহেদানগর।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ৬নং নলতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম পাড়, জামায়াতে ইসলামী কালিগঞ্জ উপজেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. আনারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি মো. কওছার আলী, ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, মো. আনারুল ইসলাম। ভূমিহীন নেতা বায়োজিদ হোসেন, শহীদ জাহেদার পুত্র আলমগীর হোসেন।


নির্বাচিত

banner close