সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঝিনাইদহে আ.লীগ কার্যালয়ের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০৬
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় অন্তত চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার নিরাপত্তা প্রহরী বাবলু মিয়া বলেন, রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছনে বিকট শব্দ হয়। পর পর চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এদিকে সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রানা হামিদসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, ঢাকায় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিএনপি এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এ নিয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘এমন ঘটনা আমরা ঘটাইনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। বিএনপির সমাবেশের জন্য জেলার নেতা-কর্মীরা ঢাকায় অবস্থান করছে।’

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, চারটি বিস্ফোরণ হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাইনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পেছন থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

বিষয়:

নাশকতাচেষ্টার অভিযোগে ২১ শিবিরকর্মী আটক

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতাচেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২১ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার প্যাড়াভাঙ্গা ও নতুন জেলখানা মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে আটকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ জানান, গতকাল সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার চেষ্টা করছেন শিবিরকর্মীরা। পরে সদর থানার প্যাড়াভাঙ্গা ও নতুন জেলখানা মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

ওসি আরও জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শিবিরকর্মীরা ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করেন। তাদের হামলায় পুলিশের সাত সদস্য আহত হন। পরে ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সেখান থেকে আটক করা হয় ২১ শিবিরকর্মীকে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলামের দাবি, ছাত্রশিবিরের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালি শেষে ফেরার পথে ২১ কর্মী-সমর্থককে বিনা কারণে পুলিশ আটক করেছে।


স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য জাহেদ সুলতান চৌধুরী রবিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক পোশাক শ্রমিককে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জাহেদ সুলতান চৌধুরী রবিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাছড়ি ইউনিয়নে রবিনের নিজ কার্যালয়ে ওই ঘটনা ঘটে। পরে মামলা হলে সোমবার ভোরে উপজেলার ছোট দারোগারহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিন।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আগামীকাল (আজ) আদালতে আবেদন করা হবে।’

ঘটনাটি নিয়ে সোনাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। তবে যতটুকু জেনেছি, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ওই শ্রমিক ও তার স্ত্রীকে নিজের অফিসে নিয়ে যায় মেম্বার রবিন। সেখানে তাকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে মেম্বারসহ কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে। তবে অভিযুক্তরা সবাই পালিয়ে যায়।’


চুরির অভিযোগে তিন শিশুর চুল কেটে দিলেন পৌর মেয়র

গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদার। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চুরির অভিযোগে তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর হাত বেঁধে বেধড়ক পেটানোর পর মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদারের বিরুদ্ধে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মারধর ও নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হলো রামচন্দ্রদী গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে ও গোপালদী মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়েজিদ (১০), একই এলাকার হাসানের ছেলে ও রামচন্দ্রদী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র সিয়াম (৮) এবং একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও জজ মিয়ার ছেলে আফরীদ (৮)।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে মক্তব থেকে বাড়ি ফেরার পথে বায়েজিদ, সিয়াম ও আফরীদ গোপালদী পৌর মেয়র হালিম সিকদারের মালিকানাধীন সিকদার সাইজিংয়ের সামনে পড়ে থাকা কয়েকটি নাট-বল্টু নিয়ে যায়। পরে মেয়র তার লোকজন দিয়ে বাড়ি থেকে তাদের ধরে নিয়ে যান। শিশুদের হাত বেঁধে দুই ঘণ্টা আটক রেখে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় বায়েজিদের চাচা কালাম ও আলামিন শিশুদের পক্ষে মিনতি করেও তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে রামচন্দ্রদী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে শিশুদের মাথার চুল কেটে ছেড়ে দেয়া হয়।

বায়েজিদের বাবা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই আমার ছেলেসহ তিন শিশুকে নির্যাতন করেছেন মেয়র। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

জানতে চাইলে গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদার বলেন, ‘এরা (ওই তিন শিশু) পেশাদার চোর। আগেও তারা চুরি করেছে। তাই তাদের চুল কেটে দিয়েছি।’

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


নিপাহ ভাইরাস: যশোরে শহর-গ্রামে মাইকিং

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:৫০
প্রতিনিধি, যশোর

রস-গুড়ের যশোর জেলায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সোমবার দুপুর থেকে যশোর পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং করে খেজুরের রস না খাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ জ্বর, প্রলাপ করা ও অজ্ঞান হয়ে পড়া বুঝলে তাকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত শীতকালে বাদুড়ের মাধ্যমে খেজুরের রস থেকে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে অন্যজনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, দেশের ৩২টি জেলা এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসজনিত জ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যেও যশোর আছে। এজন্য জেলা প্রশাসন সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, রস-গুড়ের জন্য যশোর জেলা বিখ্যাত। এ জেলায় রস হয় এমন গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৮২৯টি। এসব গাছ থেকে বছরে পাঁচ কোটি লিটার খেজুরের রস উৎপাদন হয়।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক বলেন, যশোরজুড়েই খেজুর গাছ রয়েছে। এ জেলার মানুষের খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার প্রবণতা বেশি। বাদুড়ের মাধ্যমে খেজুরের রস থেকে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায়। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাঁচা রস খেতে নিষেধ করা হচ্ছে।

মঞ্জুরুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত যশোরে কারও নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর মেলেনি। চৌগাছার এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হননি। তবে যশোরের পাশের জেলা ঝিনাইদহে আক্রান্তের তথ্য রয়েছে। এ জন্য সতর্কতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ জন্য গতকাল সোমবার প্রচার বার্তা রেকর্ডিং করা হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে উপজেলার সব হাটবাজারে বার্তাটি প্রচার করা হবে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের চিকিৎসার জন্য ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। কারও সন্দেহ হলে আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়:

ক্রেতা সেজে বাঘের চামড়া উদ্ধার করল র‌্যাব

বাঘের চামড়ার প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪৩
খুলনা ব্যুরো

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ক্রেতা সেজে সুন্দরবনের একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে ‌র‌্যাব-৬। সোমবার বিকালে উপজেলার হরিনগর বাজারসংলগ্ন ধলপাড়া গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে চামড়াটি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর গালিব হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে র‌্যাব-৬-এর খুলনার সদর দপ্তর থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য জাননো হবে।’

আটক তিনজন হলেন ধলপাড়ার হাফিজুর রহমান (৪৩), শেখ আসিফ হাসান (২৬) ও শেখ ইসমাইল হোসেন (২৩)। তারা বর্তমানে র‌্যাব-৬-এর হেফাজতে রয়েছেন।

র‌্যাব-৬-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যেমে তারা জানতে পেরেছিল, হাফিজুর রহমানের কাছে বাঘের চামড়া রয়েছে এবং চামড়াটি তিনি বিক্রির চেষ্টা করছেন। পরে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা ক্রেতা সেজে চামড়াটি কিনতে ইচ্ছুক হন। তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার বিনিময়ে চামড়া বিনিয়ের চুক্তি হয়। সোমবার বিকেলে ওই দলের এক তিন সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাঘের চামড়াটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়:

গমের ট্রাকে বালু ও পাথরভর্তি বস্তা

ট্রাকে পাওয়া বালু ও পাথরভর্তি বস্তাগুলো। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় খাদ্যগুদামে গমের চালান নিয়ে আসা ট্রাকে মিলেছে বালু ও পাথরভর্তি ২৮টি বস্তা। গত রোববার দুপুরে জেলা খাদ্যগুদামে ট্রাক থেকে গম নামানো সময় বালু ও পাথরগুলো পাওয়া যায়। তবে ট্রাকে পাথরগুলো কীভাবে এল, তা জানাতে পারছেন না চালক ও সহকারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে আলমডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হামিদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার সরকার এন্টারপ্রাইজ, জোনাকি এন্টারপ্রাইজ ও সানরাইজ এন্টারপ্রাইজের পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে মোট ৩০০ টন গম পাঠানোর কথা ছিল। গত শুক্রবার গমের প্রথম চালানে ১০০ মেট্রিক টন আসে। এরপর রোববার ভোরে দ্বিতীয় চালানের ১০০ মেট্রিক টন গম চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে আসে। পরে গমের বস্তা নামানোর সময় একটি ট্রাকে বালুভর্তি কয়েকটি বস্তা পাওয়া যায়। পরে সবগুলো ট্রাকে তল্লাশি করে সন্ধান মেলে বালু ও পাথরভর্তি ২৮টি বস্তার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০০ টন গম চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দ দেয়া হয়। এ চালানে ১০০ টন গম নিয়ে খুলনা থেকে ভোরে ৬টি ট্রাক এসে পৌঁছায় চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে। পরে দুপুরে ট্রাক থেকে গমের বস্তা নামানোর সময় প্রথমে একটি ট্রাকে পাওয়া যায় ৬টি বালুর বস্তা। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রতিটি ট্রাক তল্লাশি করে ২৮টি বালু ও পাথরভর্তি বস্তাসহ চারটি বড় পাথরের টুকরা পাওয়া যায়।

নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক থেকে গম চুরি করে ওজন ঠিক রাখতে বালু আর পাথর দিয়ে তা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম শহীদুল ইসলাম জানান, খুলনার ৪ নম্বর ঘাট থেকে ট্রাকগুলোতে গম লোড হয়েছিল। সেখান থেকে বালুর বস্তা ট্রাকে তোলার কোনো সুযোগ নেই। রাস্তার মধ্যে এমন কোনো কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে গম নিয়ে আসার পর রাস্তায় কোনো জায়গায় মালামাল ওঠানো এবং নামানো হয়নি বলে দাবি করছে ট্রাকটির চালক রাব্বী হোসেন ও সহকারী মেহেদী হাসান। তারা বলছেন, খুলনা থেকে গমভর্তি ট্রাক নিয়ে সরাসরি চুয়াডাঙ্গায় এসেছেন। কীভাবে বালু ও পাথরভর্তি বস্তা ট্রাকে রাখা হয়েছে, তারা বলতে পারছেন না।


স্ত্রী হত্যার ১৭ বছর পর যাবজ্জীবনের আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার জুয়েল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:১৫
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে স্ত্রীকে হত্যার ১৭ বছর পর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানা এলাকা থেকে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জুয়েল (৩৫) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ২০০৬ সালের ২ জানুয়ারি জুয়েল একই গ্রামের বদু মিয়ার মেয়ে হ্যাপীকে প্রেম করে বাবা-মায়ের অসম্মতিতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে চাপ দেয় জুয়েল।

পরে টাকা এনে না দেয়ায় তাদের মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। এমনকি জুয়েল তার স্ত্রীকে এ নিয়ে মারধর করতেন। একপর্যায়ে ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সকালে জুয়েল স্ত্রীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিনই নিহতের বাবা বদু মিয়া বাদী হয়ে জুয়েলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় গোপন রেখে পালিয়ে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পালিয়ে থাকার অবস্থান জানতে পেরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার তাকে করা হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪-এর এই কর্মকর্তা।


বিদ্যুৎ অফিসে ঝুলছিল নিরাপত্তা প্রহরীর দেহ

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:১৭
প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিস থেকে আব্দুল আলিম (৪৯) নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারের পল্লী বিদ্যুতের অফিস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল আলিম বগুড়া জেলা শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) কাজী জসিম উদ্দিন জানান, রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল আলিম। সকালে অফিসের নিচ তলার মুদি দোকানদার অফিসের ভেতরে আব্দুল আলিমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের জানান। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী প্রধান জানান, কামারখন্দ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিলিং শাখা থেকে নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল আলিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোনো কারণে আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়:

মৃত্যুদণ্ডিত রাজাকার সুলতান মাহমুদ ফকির গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৯
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সুলতান মাহমুদ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।

র‌্যাব জানায়, ত্রিশাল এলাকার কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মৃত্যুণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সুলতান মাহমুদ ফকিরকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৩ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সুলতান মাহমুদ ফকিরসহ ত্রিশালের ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন নয়জন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন দুজন। কারাগারে থাকা দুজন ও পলাতক একজনসহ মোট তিনজন মারা গেছেন। বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোখলেছুর রহমান মুকুল, সাইদুর রহমান রতন, শামসুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, সুলতান মাহমুদ ফকির, নকিব হোসেন ও আদিল সরকার।

গত ২৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে ৩০ জানুয়ারি মোখলেছুর রহমান মুকুল ও নকিব হোসেন আদিল সরকারকে রাজধানীর দক্ষিণখান ও সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২। পরে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালত। এখনো দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের জুন-জুলাইয়ে ত্রিশালের আহমেদাবাদে একটি বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে শান্তি ও রাজাকার বাহিনী। ওই সময় কাকচর গ্রামের ইউনুছ আলী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পারাপার করতেন। এ কারণে ইউনুছ আলীকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যায় ২০-২৫ জন। নির্যাতনের পর ৭১ সালের ১৫ আগস্ট সকালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ওই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এলাকায় লুটপাট ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করে।

২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিচারিক আদালতে মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইউনুছ আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পরে ওই দিনই দুপুরে বিচারক আবেদা সুলতানা মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষ করে প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

পরে ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনসহ ছয়টি অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়। এ ছাড়া মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সবশেষ যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ৫ ডিসেম্বরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ওই ছয় রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।


মধ্যরাতে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:২৫
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

বিয়ে বাড়ি থেকে কনে নিয়ে ফেরার পথে বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতরে নদী পার হওয়ার বাজি ধরেন বাবুল (২২) মিয়া। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কিছুদূর সাঁতরে আসেন তিনি। তবে তীব্র স্রোত থাকায় নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তলিয়ে যান পানিতে। এ ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টার পর হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুরের দুধকুমার নদের খেয়া পারাপারের শহিদুলের ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবুল মিয়া উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের মাওলানা পাড়ার গ্রামের আনিস আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, পাইকেরছড়া মাওলানা পাড়ার মোজাম্মেল হকের ছেলে হাসেম আলীর সঙ্গে তিলাই ইউনিয়নের খোঁচা বাড়ির চর এলাকার মৃত হযরত আলী মেয়ের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নৌকায় করে রোববার রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সাঁতরে নদী পার হওয়া নিয়ে বাবুল তার বন্ধুদের সঙ্গে ৫০০ টাকা বাজি ধরেন। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কিছুদূর সাঁতরে এলে স্রোতের তোড়ে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, সকালে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিষয়:

না.গঞ্জে ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র ম্যানেজার-কর্মচারী গুলিবিদ্ধ

গুলিতে দুজনকে আহত করার পর ভবন মালিক আজাহার তালুকদারকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩০
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় এক ভবন মালিকের গুলিতে রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার রাতে শহরের নবাব সলিমুল্লাহ রোডের আঙ্গুরা প্লাজায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ভবন মালিক আজাহার তালুকদারকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র জিএম শফিউর রহমান কাজল ও কর্মচারী মো. জনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় জিএম কাজল ও ভবনের মালিক আজাহারের সঙ্গে। এর জেরে বাড়ির চারতলা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে ম্যানেজার কাজলের পায়ে গুলি করেন আজাহার। এ সময় রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা ছুটে গেলে ওই ভবন মালিক আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে কর্মচারী জনিও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে নগরীর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

রেস্টুরেন্টের মালিক শুক্কুর মিয়া জানান, চাষাঢ়ার আঙ্গুরা প্লাজার মালিক আজিজুল হক ও তার ভাই আজাহার তালুকার। তাদের কাছ থেকে রেস্টুরেন্টের ফ্লোরটি ভাড়া নেন তিনি। রেস্টুরেন্টে পানি অপচয়ের কারণে বিদ্যুতের বেশি বিল আসার অভিযোগ করে আজাহার অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে জিএমের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়।

‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেস্টুরেন্টের আরেক ম্যানেজার রিপন সাহা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রেস্টুরেন্টের দোতলায় তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় নেমে যান ভবনের মালিক আজাহার। কিছুক্ষণ পর হাতে একটি পিস্তল ও একটি শটগান নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর তিনি ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ করেন। তাকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে ফাঁকা গুলি করেন। এরপর রেস্টুরেন্টের জিএম কাজলের পায়ের নিচে দুটি গুলি করেন। রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা এগিয়ে গেলে তিনি আবার গুলি করে ওপরে চলে যান। এ সময় জনি নামে একজন কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হন।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাউলাউ মারমা দৈনিক বাংলাকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ভবন মালিক আজাহার তালুকদারকে শটগান ও পিস্তলসহ আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পিস্তল ও শটগান লাইসেন্স করা। তবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


মধ্যরাতে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৩
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় চারটি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত রোববার মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকানি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ একটি দোকানে আগুন লাগে। পরে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এর মধ্যে চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে, প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন মঞ্জুরুল। আগুন লাগলে সে দোকান থেকে বের হতে পারেনি। পরে পুড়ে মারা যান। এ ছাড়া চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয়:

বাবাকে খুন করে থানায় হাজির ছেলে

গোলাম আজম।
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৪
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা খুন হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাবা ফজলে আলমকে (৫৮) খুনের পর রাতেই থানায় গিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন গোলাম আজম। (২৮)।

ওমর আজম একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে দেন। নিহত ফজলে আলম কাঠের ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি স’ মিলের মালিক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক নির্মোল রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিজ বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিষয়:

banner close