নোয়াখালী বেগমগঞ্জে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মোহাম্মদ হারুন ওরফে লিটন (৩৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিটন সদর উপজেলার লালা নগরের দুলালের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঞা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুছড়ে যায় পিকআপ ভ্যানটি। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা লিটন নামে ওই মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তার পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬–এর খসড়া যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি জায়গায় সংশোধন এনে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন তদন্তকালে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা দেখতে পেলে এবং ওই ঘটনায় থানায় মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে। এ ছাড়া কমিশন চাইলে যেকোনো ঘটনার তদন্ত করতে পারবে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই ইউনিট ইচ্ছেমতো যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে না।
খসড়া বিলে এসব স্থানে পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন নারী ও একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।
দেশে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তর, নির্বাচনী এলাকার তথ্য যাচাই, আচরণবিধি প্রস্তুত, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম—সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
ইসির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দাখিল করা আবেদন ইস্যুর শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর এবং আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সময়সূচি জানানো হয়েছে।
দেশের সব উপজেলা, থানা ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ আবাসস্থল পরিবর্তনের পরও পুরোনো ঠিকানায় ভোটার হিসেবে থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নতুন এলাকায় ভোট দেওয়া বা প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ভোটার স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত ফরম-১৩ ব্যবহার করতে হয় এবং বর্তমানে এ জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
সেপ্টেম্বরে তফসিলের আভাস: স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত এসেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বক্তব্যে। গত ২৭ আগস্ট তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতিতে বড় কোনো ঘাটতি নেই এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপের ভোট শুরু করার লক্ষ্য থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সিইসির বক্তব্য অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, আবহাওয়া, বন্যাসহ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে তফসিল সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়া হলেও সব স্থানীয় সরকারের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাই সামনে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের অবস্থান হলো, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনও পেশাদারিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা। সিইসি বলেছেন, কমিশন ‘ভোটার সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়—অর্থাৎ ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, সেটিই হবে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার অন্যতম লক্ষ্য।
কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে সিইসি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আচরণবিধি-সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে কমিশনে ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরিসহ কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখার জন্য কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সময়সূচি চূড়ান্ত হলে কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ভোটার তালিকাই বড় ভিত্তি: স্থানীয় নির্বাচনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখা। ইসির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার তালিকা মুদ্রণের আগে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হবে। এরপর ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন ইস্যু এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তির সময়সীমা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু আবেদন গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; আবেদন যাচাই, সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং সময়মতো নিষ্পত্তিও গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার স্থানান্তর হলে পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো একক নির্বাচন নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী এলাকা, ভোটারসংখ্যা, কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় কমিশনের সামনে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবস্থাপনার কাজ।
ভোটের তারিখ ঘোষণার আগে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী এলাকার তথ্য, জনবল, প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী সামগ্রী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আচরণবিধি—এসব বিষয় সমন্বয় করতে হবে। ফলে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।
স্থানীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতাও বাড়বে। এ অবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন কমিশনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো, প্রচারে বিধি মানা এবং নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ করা—এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নজরদারি প্রয়োজন হবে।
কোনো পক্ষের অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগকে রাজনৈতিক বিবেচনায় না দেখে বিধিবিধান ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী ও ভোটারদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নির্বাচনী বিরোধ অনেক সময় দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। তাই আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ছোট পরিসরের হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক এলাকায় তীব্র হতে পারে। একই এলাকার প্রার্থী, স্থানীয় প্রভাব এবং ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিরোধ নির্বাচনী উত্তেজনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়া, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন এবং ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করাও কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব হবে।
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য শুধু ভোট আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়; ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও প্রয়োজন। ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে আস্থাশীল থাকেন এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
এ কারণে ভোটারদের তথ্য সঠিক রাখা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও ব্যবস্থাপনা পরিষ্কার করা এবং ভোটের দিন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ভোটারদের নিজেদের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে গিয়ে ইসির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নির্ভুল ভোটার তালিকা, সময়মতো নির্বাচনী প্রস্তুতি, আচরণবিধির কার্যকর প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সবার জন্য সমান নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সময়সীমা নির্ধারণ এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কমিশন। ফলে স্থানীয় নির্বাচন এখন প্রস্তুতির পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু ভোটের তারিখ ঘোষণার ওপর নয়। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, প্রার্থীদের আচরণ, প্রশাসনের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ—প্রতিটি ধাপের ওপরই এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
কোনো দল বা পক্ষের জয়-পরাজয়ের দৃষ্টিকোণের বাইরে স্থানীয় নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা, মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা এবং ভোটারদের স্বাধীন অংশগ্রহণ—এই তিনটির সমন্বয়েই আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১১ তলা সদর দপ্তর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকা। এ অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে। ‘র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকায় কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকে সেই প্রস্তাবই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৫ তলা ভিত্তির ওপর ১১ তলা র্যাব সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটিতে মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা, নিচতলায় গাড়ি পার্কিং এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা থাকবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় তিন তলা ম্যাগাজিন ও কোট ভবন, তিন তলা উপকেন্দ্র ভবন, গুদাম, পাম্প ও জলাধার, গভীর নলকূপ, পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, গাড়ি ধোয়ার ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সালামি মঞ্চ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, বহির্বৈদ্যুতিক সংযোগ, লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে র্যাব সদর দপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিক ফারজানা রুপা অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় ফারজানা রুপাকে বিএমইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।’
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়।
পরদিন ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাদের জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে একাধিকবার রিমান্ডে পাঠানো হয়।
সবশেষ ফারজানা রুপা ও আরেক সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবুকে শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রাজধানীর মধুবাগের ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস উম্মে সালমার। বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করেন, মা নাজমা বেগম কাজ করেন মানুষের বাসাবাড়িতে।
সংসারে অভাব থাকলেও পড়াশোনা থামেনি সালমার। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন এ প্লাস। তার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। তবে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন তিনি।
সালমার এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সালমার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি উম্মে সালমার ভালো ফলাফল ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসএসসিতে এ প্লাস পেলেও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই শিক্ষার্থী। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উম্মে সালমার বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করে সংসার চালান। তার স্ত্রী নাজমা বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। দুজনের সামান্য আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যেই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছিলেন তারা।
মিরাজ আলী বলেন, ‘চা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন।’ মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। মেয়ে এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ায় তিনি খুব খুশি। তবে কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।
নাজমা বেগম বলেন, ‘তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সালমার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া।’ তারা চান, কোনোভাবেই যেন মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ না হয়। জেলা প্রশাসক পাশে দাঁড়ানোয় তারা এখন অনেকটা আশ্বস্ত।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘অদম্য মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে আর্থিক সংকট কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না। উম্মে সালমা প্রতিকূলতার মধ্যেও এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছেন, যা তার মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ। তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের কথা জেনে জেলা প্রশাসন পাশে দাঁড়িয়েছে।’
ফরিদা খানম আরও বলেন, ‘কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সমাজের কোনো মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘উম্মে সালমার মতো শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।’ তিনি আশা করেন, সালমা একদিন তার স্বপ্ন পূরণ করে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন।
এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়াল। ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মোট ৩৭ হাজার ১৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩, ময়মনসিং বিভাগে ১০, বরিশালে ৯, চট্টগ্রামে ৭, রাজশাহীতে ৪, ঢাকার দুই সিটির বাইরে বিভাগের অন্য এলাকায় ৩ এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছে ডেঙ্গুতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১,৩২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এক দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪১ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা জেলার অন্য এলাকায় আরও ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৯ জন, খুলনায় ২৪৬ জন ও ময়মনসিংহে ৮৭ জন, রাজশাহী ১১৪, রংপুরে ৩৪ এবং সিলেটে ৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর মাসের হিসেবে অগাস্টে সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ মাসেই সবচেয়ে বেশি ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
জমি রেজিস্ট্রি বিষয়ে একই ব্যক্তিসংক্রান্ত এফিডেভিটে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদত-১-এর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বিরর আহম্মেদের নামের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। একই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত এফিডেভিট করতে গিয়ে এই জালিয়াতির ঘটনাটি ধরে পরে। এর আগে স্বাক্ষর জাল করে একই আদালতে ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ একটি এফিডেভিট সম্পাদন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সদর আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর সিআর-১৩৫/২৬। মামলার আসামিরা হলেন- পলাশবাড়ি উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের মানিকুল্ল্যার ছেলে সাকোয়াত ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান।
জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান অত্রাদালতের এজলাসে বেঞ্চ সহকারীর কাছে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এফিডেভিট করতে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। বেঞ্চ সহকারী তাদের উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান একই বিষয়ে তারা (একই ব্যক্তি মর্মে) একই ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সম্পাদিত আরও একটি এফিডেভিটের ফটোকপিও দাখিল করেছেন।
পরবর্তীতে ২নং আসামি আসাদুজ্জামান বেঞ্চ সহকারীর কাছে সাকোয়াত হোসেনের একই ব্যক্তি মর্মে সম্পাদিত এফিডেভিটের মূলকপি দাখিল করেন। পরে সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ওই সম্পাদিত এফিডেভিটে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের যে স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের নয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, শুধু তাই নয় এফিডেভিটে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ গাইবান্ধার সিল ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে কখনো পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।
অথচ তাদের সম্পাদিত এফিডেভিটটি গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখের সম্পাদিত এফিডেভিটে সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া সেখানে গত ১৬ জুনের ৬২৩/২নং স্মারক হিসেবে এফিডেভিটটি এন্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ ওই আদালতের এফিডেভিটের প্রকৃত রেজিস্ট্রার যাচাই করে দেখা যায় রেজিস্ট্রারে এখনো ৬২৩/২৬নং স্মারক এখনো এন্ট্রিই হয় নাই। প্রকৃত রেজিস্ট্রারে সর্বশেষ ৫ মের স্মারক পাওয়া যায় ৪৫০/২৬।
ফলে ওই এভিডেভিটটি জাল ও সৃজিত করা হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরে সকল বিষয়গুলো যাচাই করে বোঝা যায় অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের সহযোগিতায় ১নং ও ২নং অভিযুক্ত পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণামূলকভাবে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর জাল করেছেন এবং আদালতের সিলমোহর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মিথ্যা ও জাল এফিডেভিট প্রস্তুত করেছেন।
এ ছাড়া এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এফিডেভিটে যে ইংরেজি শব্দের সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা তৈরি করা। কারণ অত্র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১নং এ এফিডেভিটে যে সিল ব্যবহার করা হয় সে সিলটি বাংলায়।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির স্যারের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এভিডেভিট করতে আসা বাব ও ছেলের নামে সদর আমলী আদালতে মামলা করা হয়েছে। আশা করি পুলিশি তদন্তে জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং আইনানুগ তাদের বিচার হবে।’
দীর্ঘ ২৩ বছর পর মাগুরা জেলা বণিক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। এ সময় জেলা বণিক সমিতির সাধারণ ব্যবসায়িকসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালটের মাধ্যমে গোপন কক্ষে ১ হাজার ৯২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’
নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ও মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত, বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা, আপিল আবেদন নিষ্পতির শেষ সময় ৮ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টা, চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা। নির্বাচনের প্রচারণা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা। ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা।
শেষে নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচনের আচরণবিধি সকলের মাঝে পড়ে শুনান। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
শহরের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘ ২৩ বছর পর মাগুরা জেলা বণিক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়াতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ, সুন্দর নির্বাচন। যার মাধ্যমে তৈরি হবে একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচিত কমিটি। যে কমিটি ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করবে।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয় ও সচেতন নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা খাতে চাই সুশাসন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি’র সহযোগিতায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদের সভাপতিত্বে ও ‘সনাক’ (ইয়েসগ্রুপ) এর আহ্বায়ক সাংবাদিক আঞ্জুমান আরা জুলিয়ার সঞ্চালনায় বুধবার (২ সেপ্টম্বর) সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ৩য় তলার হলরুমে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত স্টেকহোল্ডার, সামাজিক সংগঠন, এনজিওকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের নাগরিকের সমন্বয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভা, প্রশ্নপর্ব, মতামত ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল, বিশেষ অতিথি ছিলেন (আরএমও) ডা. অখিল চন্দ্র সরকার, ড্যাবের নেতা ডা. মো. লুৎফর রহমান, পরিবার-পরিকল্পনা অফিস মাদারীপুরের উপপরিচালক ডা. মতিউর রহমান, ‘সনাক’ এর জেলা কমিটির সহসভাপতি এনায়েত নান্নু, প্রফেসর (অব.) মকবুল হোসেন, আন্না আক্তার, সদস্য (স্বাস্থ্য বিভাগ, সনাক) ফরিদা ইয়াসমিন লাকি, কুমার লাভলু, টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. এনায়েতুল্লাহ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক বাংলা প্রতিনিধি শরীফ ফায়েজুল কবীর, সাংবাদিক অজয় কুন্ড, সাগর হোসেন তামিম, শাহাদাত হোসেন জুয়েলসহ অন্যান্য সাংবাদিক ও সুধীরা।
অনুষ্ঠানে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটের সেবার মান নিয়ে কিছু সন্তোষ ও অসন্তোষ বিষয়াদির আলোকপাত হয় এবং সেবার মান আরও বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা, এক্সরে ইউনিট, শিশু ফিডিং কর্নার, গাইনি বিভাগ, হাম ও ডেঙ্গু কর্নার, ডায়রিয়া ইউনিট, আইসিইউ বিভাগ, মাতৃমঙ্গল বিভাগ, নার্স পরিষেবাসহ অন্যান্য বিষয়াদি প্রাধান্য পায়।
সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “টিআইবি’র প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ভালো বলেনি, এই খাতের উন্নতি দরকার, আমরা মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও শতভাগ সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে তিনি ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন হবার আহ্বান করেন।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও লাগামহীন নগরায়ণের চাপে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ফলে শিশু-কিশোরদের মাঠে দৌড়ঝাঁপের সুযোগ কমছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃত্রিম টার্ফের মাঠ। গত দুই বছরে কুমিল্লা নগরী ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ৯টি টার্ফ। এসব মাঠে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। এতে নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি মাদক ও বাজে আড্ডা থেকে দূরে থাকছে তরুণ প্রজন্ম। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর নুরপুর এলাকার কিংস এরিনা টার্ফের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নুর হোসেন নোমান জানান, ৬-৭ জন মিলে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে টার্ফটি গড়ে তুলেছেন। প্রতি মাসে আয় হয় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ থাকে।
শহরতলির চানপুর এলাকার খন্দকার এসএ স্পোর্টস টার্ফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়মিত এখানে খেলতে আসেন। প্রতিটি ম্যাচের সময় এক ঘণ্টা। দিনে প্রতি ম্যাচের জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং রাতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়।’
নগরীর রেসকোর্স এলাকায় প্রায় তিন বছর আগে প্রথম টার্ফ নির্মাণ করা হয়। শুরু থেকেই সেখানে খেলোয়াড়দের ভিড় রয়েছে। টার্ফটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এখানে খেলতে আসেন। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যও বাড়ছে।
খোলা মাঠের সংকটের মাঝেই বিকল্প হয়ে উঠেছে কৃত্রিম টার্ফ। অল্প জায়গায় সিনথেটিক ঘাস বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছোট পরিসরের মাঠ। সেখানে ফুটবলসহ নানা ধরনের খেলায় মেতে উঠছেন বিভিন্ন বয়সি মানুষ। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিনোদন ও শরীর চর্চার এ নতুন ব্যবস্থা।
ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, ‘কুমিল্লা নগরীতে আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে খোলা জায়গা ছিল। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাঠ ছিল, যেখানে সকাল-বিকেল খেলাধুলা হতো। কিন্তু নগরায়ণের চাপে সেসব জায়গা ভরাট করে গড়ে উঠেছে সুউচ্চ ভবন।
ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত ও তার সহকর্মী অর্নিবান দে জানান, অফিস শেষে সপ্তাহে এক-দুদিন তারা টার্ফে খেলেন। এতে কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিকভাবে সতেজ হওয়া যায়।
আইনজীবী কালিপদ দেবনাথ ও তার বন্ধু ওমর ফারুক জানায়, খেলার মাঠের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা টার্ফের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে খেলাধুলার পাশাপাশি ভালো সময় কাটানোর সুযোগও হচ্ছে।
শহরতলির নোয়াপাড়া এলাকার একটি টার্ফে খেলতে আসা দুই বন্ধু বিজয় মণ্ডল ও রুদ্রদেব চন্দন জানায়, নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ভালো থাকে এবং কাজে গতি আসে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন তারা টার্ফে খেলেন। সুযোগ হলে সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
কুমিল্লায় গত দুই বছরে গড়ে ওঠা ৯টি টার্ফে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দিয়ে এসব মাঠে খেলছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি মানুষ। উদ্যোক্তারা বলছেন, দিন দিন এই খাতে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিটি টার্ফে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ঘণ্টার জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। নিয়মিত বুকিং থাকায় ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. এমদাদুল হক এমদু বলেন, ‘টার্ফে খেলেই হয়তো জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে না। তবে টার্ফের জনপ্রিয়তা শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখছে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর চর্চাও হচ্ছে। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে এ ধরনের খেলাধুলা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত ‘CUB Indoor Sports Carnival 2026’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সিটি ক্যাম্পাসের শারাফাত চৌধুরী মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত, চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. হাসানুজ্জামান, প্রোক্টর ও চেয়ারম্যান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, এবং বেনজীর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত), স্কুল অব বিজনেস-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
CUB Indoor Sports Carnival 2026 ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি প্রাণবন্ত ক্রীড়া আয়োজন। বিভিন্ন ইনডোর ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, শৃঙ্খলা ও দলগত সক্ষমতার পরিচয় দেন। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও ট্রফি তুলে দেন এবং তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সকল অংশগ্রহণকারীকে তাদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের জন্য প্রশংসা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে ক্রীড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, ক্রীড়াচর্চা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই ভূমিকা রাখে না; বরং এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘CUB Inter Department Football League 2026’-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। আসন্ন আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জার্সি উন্মোচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, দলগত চেতনা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজনের সমন্বয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ স্পোর্টস ক্লাব শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, দলগত কাজ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
সকল বিজয়ী ও রানার্স-আপ, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, আয়োজক, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং সম্মানিত অতিথিদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে CUB Indoor Sports Carnival 2026-এর এই আয়োজন সফল ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;
নওগাঁ প্রতিনিধি: ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নওগাঁয় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের নওজোয়ান মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন কেড়ির মোড় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা ও আলোচানা সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর ই আলম মিঠু ও শফিউল আজম ভিপি রানা, খাইরুল আলম গোল্ডেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি দেওয়ান মোস্তাক আহম্মেদ রাজা, পৌর বিএনপি সভাপতি ডা. মিজানুর রহমানসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
পাবনা প্রতিনিধি: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (এমপি) বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়; এটি এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দলীয় পতাকা ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রাটি বের হয়।
এসময় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এড. নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটে কালাইয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির পায়রা অবমুক্ত এবং দোয়া-মোনাজাতের পর বৃক্ষরোপণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কালাই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গভীরভাবে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন মো. আব্দুল বারী। তিনি দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশ গঠনে দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
এসময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, পৌর বিএনপির আব্বায়ক সোহেল তালুকদার ও যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার দল। আমাদের প্রিয় মা, মাটি ও মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন।
কর্মসূচিতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বনশিল্প উন্নয়ন করপোশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, মহিলাদল নেত্রী রোকসানা পারভিন টুকটুকি, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক প্রমুখ।
পিরোজপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রোজপুর শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক পথসভায় মিলিত হয়।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
বগুড়া প্রতিনিধি : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্ত, খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি। এদিন সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয়।
সকালে মহানগরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় শাখারিয়া ডাঙা এলাকার একটি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর বাদ জোহর বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে উপজেলা সড়কে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে সমাবেশে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেছে।
পরে আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে র্যালিটি ফরিদপুর পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ.এফ.এম. কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে র্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে. কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এ.বি সিদ্দিকী মিতুল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে.এম জাফর, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায়, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি প্রভাষক আলা উদ্দীন আলা, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, নুরুজ্জামান চৌধুরী, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সামসুল আলম বুলবুল, আব্দুল হালিম অটল, যুবনেতা মেহেদী হাসান হিমেল ও ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
নাজমুল আলম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় হতে
বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীকে নিয়ে বিরাট র্যালি ও শোভা যাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন চত্বরে এসে শেষ হয়। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যুগ্ম আহবায়ক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ মো. আজিজুর রহমান, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু যুগ্ম আহবায়ক নুর আলম খান হিরো, যুগ্ম আহবায়ক মনজুরুল ইসলাম মন্জু ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী প্রমুখ।
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য র্যালিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মুহু মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিথিলের নগরীতে পরিণত হয় আরিচাঘাট টার্মিনাল এলাকা।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র শেষে আরিচা ঘাট এলাকায় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আক্তার হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল,শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী ও যুগ্ম আহবায়ক ফরিদুর রহমান ফরিদ প্রমুখ।
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে ও গড়কান্দা এলাকায় পৃথকভাবে এই আয়োজন করা হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী।
উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন, এম.এ রায়হান, আমিনুল ইসলাম জিন্নাহ, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার রিপন প্রমুখ।
সোনারগাঁ ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা ও বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালী বের করা হয়। সোনারগাঁ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক রুমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাহিম প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালীটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: বাবা খাবেন, বাবার ব্যবসা করবেন, আর বিএনপি করবেন; তা হবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে বিএনপি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষাউপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু, পৌরসভা বিএনপির সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান গিয়াস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান ভুট্টো, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন প্রমুখসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নাটোর-৩, সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আজগর খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম রেজা মোল্লা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শের আলী সবুজ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ও পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস, শহীদ সরকার মঙ্গল, প্রফেসর আতাউল, খন্দকার লস্কর, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, জিয়ারুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান আজমল হক, সাবেক কৃষকদল নেতা হারুন অর রশিদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে সগৌরবে একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলছে ডুয়েট।
তিনি বলেন, ‘যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠতম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ প্রতিপাদ্যে ডুয়েটের ২৩ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কেটে দিবসটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
পরে বর্ণাঢ্য র্যালি সহকারে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে গবেষণাকর্মে উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ডীনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল শিক্ষক বনাম ডুয়েট এলামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘ডুয়েটের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করার প্রয়াসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজ আলম।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।