নোয়াখালী বেগমগঞ্জে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মোহাম্মদ হারুন ওরফে লিটন (৩৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিটন সদর উপজেলার লালা নগরের দুলালের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঞা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুছড়ে যায় পিকআপ ভ্যানটি। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা লিটন নামে ওই মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তার পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লচনা এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার অদূরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের মাজদিহি এলাকার অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিং (২৩)। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে মিরপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘আলম এশিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস লচনা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দিলে দুমড়েমুচড়ে যায় যানটি। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অটোরিকশার তিন আরোহীর মৃত্যু হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভীদ রাইয়ান বিন শহিদ জানান, রাত ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ওসি মামুনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত একজনের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
মরদেহগুলো বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দিনাজপুর শহরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের হাসপাতাল মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম চলাকালে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার দপ্তরীপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে হারুন (৫৫) এবং ষষ্ঠীতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রতন (২০)। হারুন পিকআপচালক এবং রতন একটি পিকআপ গ্যারেজে কর্মরত।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লিলির মোড় থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বালুবাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। হাসপাতাল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রুপক কুমার ঝা তাদের থামার সংকেত দিলে তারা মোটরসাইকেলটি থামান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, তল্লাশির একপর্যায়ে হারুনের কাছে থাকা একটি লাল প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে দেশীয় তৈরি একটি পাইপগান (ওয়ান শুটার) ও চারটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র ও গুলির বৈধ কোনো কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।
অভিযানে ট্রাফিক কনস্টেবল শাহনেওয়াজ ও মেহেদী হাসান অংশ নেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) অমৃত সরকারের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে আটক দুজনকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলিসহ কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) রাহিনুর ইসলাম খান বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি থামিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় আরোহীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড এস্টেট) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএমের নির্দেশনায় চলমান চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসপাতাল মোড়ে অভিযান চালানো হয়। আটক দুজনকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, হারুনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ডাকাতির মামলা রয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আগ্রহ মাশরাফ বিন নেওয়াজের। হাতের কাছে পেলেই যন্ত্রপাতি দিয়ে সেগুলোকে খুলে নিজের মতো করে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। কৌতুহল থেকেই গুগল ও ইউটিউব দেখে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য বানাতেন। অবশেষে রোবট বানিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছেন মাশরাফ বিন নেওয়াজ ।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘ফিবোনাচ্চি আন্তর্জাতিক রোবট অ্যান্ড স্টেম অলিম্পিয়াড-২০২৬’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোবোটেক এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পান মাশরাফ বিন নেওয়াজ। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীরা ফিবোনাচ্চি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। চলতি বছর নভেম্বরে তার যাওয়ার কথা রয়েছে।
মাশরাফ বিন নেওয়াজের জন্ম জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ছাতারিয়া গ্রামে। প্রকৌশলী বাবার কর্মস্থল গাজিপুরের শিমুলতলি হওয়ায় সেখানেই বেড়ে উঠা। ২০২৫ সালে গাজিপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে গাজিপুর ক্যান্টনম্যান্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। স্কুল জীবনে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী। এ বছরই তার কলেজে রোবোটিক ক্লাব করা হয়েছে। সেখানে তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নেওয়াজের উদ্ভাবিত প্রজেক্ট হলো এ্যাকোয়া পেট্রোল। তিনি জানান, এটি মূলত মাছের খামারে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য। এটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন ও প্রোটেনশিয়াল হাইড্রোজেন (পিএইচ) পরিমাপ করবে এবং অ্যাপসের মাধ্যমে সংকেত দেবে। এতে পানির তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সাহায্য করবে।এই প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পান মাশরাফ বিন নেওয়াজ।
গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিবুল আকবার মজুমদার জানান, এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য মাশরাফ বিন নেওয়াজের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাবের প্রতিফলন। তিনি তার সফলতা কামনা করেন।
ফিবোনাচ্চি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. নাসির বলেন, মাশরাফ বিন নেওয়াজ অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীরা ফিবোনাচ্চি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আগামী নভেম্বরে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেবেন।
মাশরাফ বিন নেওয়াজ জানান, আমার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আমি এই রোবটটি তৈরি করেছি। সূযোগ পেলে বিদেশের কোন একটি নামকরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্স নিয়ে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই।
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় অবস্থিত নতুন হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রবেশ গেট ও প্রাচীর দীর্ঘদিন ধরে রং করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ ও প্রাচীরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রবেশ গেট ও প্রাচীরে কোনো ধরনের রং না করায় সেগুলো বিবর্ণ ও পুরোনো দেখাচ্ছে।
বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মানুষের যাতায়াত রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশ গেটটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই গেট ও প্রাচীর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও রং করা হলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রবেশ গেট ও প্রাচীর সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় রং করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বোদা উপজেলার নতুন হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃফজলার রহমান , কোন বরাদ্দ না থাকায় প্রবেশগেট ও প্রাচীর রং করা হচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় এবার খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন। এসময় দুদুকের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী মো. বাসেদ আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি। এখানে রডের পরিমাণটা কম রয়েছে। রড ততটুকু থাকা দরকার, সেটুকু নেই। সরেজমিনে যে রিপোর্টটি তৈরি করেছি, সেটা আমাদের এক্সপার্ট আছে, ওনারা সরেজমিন প্রতিবেদন দেবে। সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে আমরা কমিশনকে বিস্তারিতভাবে জানাবো। তারপর কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেবে আমার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবো।’
বাঁশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো আমরা সরেজমিনে দেখতে পাইনি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে সেগুলো দেখেছি। সেখানে সাটারিং-এ বাঁশের ব্যবহার আমরা দেখেছি।’
এদিকে, এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসাইল থানার মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে প্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।
একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।
এদিকে, সেতুটি পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ববিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যা তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
এলজিইডির অফিস আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর এবং সহকারী ঠিকাদার শাহ আলম তাদের অনুপস্থিতিতে রাতে কাউকে না জানিয়ে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টিকে ত্রুটিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঢাকা অঞ্চল ও টাঙ্গাইল এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “ডিসেম্বরে নয়, বুকের পাটা থাকলে এখনই আসেন। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।”
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কালিবাড়ী মোড়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রথখলা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে ইয়াসের খান চৌধুরী অভিযোগ করেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তি বাংলাদেশে গণতন্ত্র নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না।
সম্প্রতি দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসে আগুন দিয়ে বা ভয়ভীতি সৃষ্টি করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।
বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। যারা অপরাধ করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক শ্রীপুর উপজেলার নাকোল বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার, কীটনাশক, বীজ ও মুদি দোকান সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করে নানা অনিয়মের দায়ে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পুরাতন বাজারে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামক বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার প্রতিষ্ঠানে পুর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও বিভিন্ন সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে বিক্রি করছিলেন দোকান মালিক লিটন কুমার সাহা।
সরকারের নির্ধারিত ডিএসপি সারের দাম ১০৫০ টাকা হলেও ১৪৫০ টাকায় বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, অর্থাৎ বস্তা প্রতি ৪০০ টাকা বেশি নেয়া হয়। অধিক দামে সার বিক্রয় করলেও সার বিক্রয়ের কোন ভাউচার প্রদান করা হয়নি। এমনকি বিক্রয় রেজিস্টারেও তা লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য প্যাকেট খুলে খোলা বাজারে বিক্রয় করছিলেন।
পূর্বে সতর্ক করা সত্ত্বেও পুনরায় কৃষকের সাথে প্রতারণা ও একই অপরাধ করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লিটন কুমার সাহাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। আইন মেনে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মাগুরার কৃষি বিপণন অফিসার মো: আলমগীর হোসেন এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির একটি প্রতিনিধি দল কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে গেলে তিনি আইনজীবীদের কাছে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবীদের সামনে শোকার্ত মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেইম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনোই মেনে নেব না।" নিজের অতীত প্রশাসনিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।"
সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ভেঙে পড়ে তিনি আরও বলেন, "আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে— সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।"
সাক্ষাৎকালে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনজীবীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের বিষয়ে আশ্বাস দেন। এর আগে একই প্রতিনিধি দল বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও এ বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, তার এলাকায় দুর্গাপূজার কোনো মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ইটনা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ফজলুর রহমান বলেন, আমার এলাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পুলিশ লাগবে না। আমি এটা উদাহরণ তৈরি করতে চাই। আমি নিজে এলাকায় উপস্থিত থাকব, দেখবেন কোনো পূজামণ্ডপে কোনো সমস্যা হবে না। প্রয়োজন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করে দেব।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের নামাজ বা ঈদের জামাতে যদি পুলিশ না লাগে, তাহলে পূজা করতে ঘরে ঘরে পুলিশ দিতে হবে কেন? আমার এলাকার কোনো পূজামণ্ডপে পুলিশ লাগবে না। আমি নিজে এলাকায় থাকব এবং আমাদের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
মতবিনিময় সভায় ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের আবাসনের ব্যবস্থা, হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা, ইটনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে মহিলা কলেজে উন্নীত করা এবং নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরেন কর্মকর্তারা। জবাবে সংসদ সদস্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নকাজে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরঞ্জন রাজবংশী (৫০) নামে এক কারাবন্দি হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।’
কারা সূত্রে জানা যায়, ধামরাই থানার একটি মামলায় বন্দি ছিলেন মনোরঞ্জন রাজবংশী। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের কায়েতপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম নারায়ন রাজবংশী।
বৈশাখ আসে আনন্দ আর নতুন ফসলের স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু হাওরপাড়ের কৃষকদের জন্য গত বৈশাখ বয়ে এনেছিল নিঃস্ব হওয়ার বার্তা। ফসল কাটার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা আগাম পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই তলিয়ে গিয়েছিল দিগন্তজোড়া বোরো ধানের মাঠ। চোখ বুজে ভেসে যাওয়া ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকার উপায় ছিল না; পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনবাজি রেখে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হন কৃষকরা। তবে সেই হাড়ভাঙা চেষ্টার পর ঘরে ওঠে স্বাভাবিক উৎপাদনের অর্ধেকেরও কম ফসল।
সেই অর্ধেকের কম ধানের গল্পটাও কম করুণ নয়। বুক সমান পানি থেকে তোলা ধানের অনেকটাই ছিল কাঁচা ও আধপাকা। এরপর টানা বর্ষণ আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় দিনভর লড়াই করে রোদের অভাবে কষ্ট করে শুকাতে হয়েছে সেই ধান। দীর্ঘ সময় জমে থাকা ভেজা ভাবের কারণে ধানের স্বাভাবিক সোনালি রঙ নষ্ট হয়ে ধরেছে ময়লাটে ভাব, আর ছড়াচ্ছে কিছুটা দুর্গন্ধ। এখন কষ্টের সেই ফসল নিয়ে বাজারে গিয়ে নতুন করে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের রং নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বেপারি ও আড়তদাররা পানির দরে ধান কিনতে চাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে কিনতেই রাজি হচ্ছেন না।
মাঠের এই নির্মম বাস্তবতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন অষ্টগ্রাম সদরের কৃষক ফয়জুল হক (৫৮)। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘পানি যখন হুরহুর কইরা আইতাছিল, তখন বুক পানিতে নাইম্যা আধপাকা ধানগুলা কাইট্টা তুলছিলাম। ভাবছিলাম পোলাপান লইয়া অন্তত খাইয়া পইরা বাঁচমু। কিন্তু মেঘ-বৃষ্টির লাইগ্যা ধান ঠিকমতো হুকাইতে পারি নাই, রং কালা হয়া গেছে। এহন বাজারে নিলে পাইকাররা ছোঁয়ই না, আর যারা নিতে চায় তারা পানির দরে দাম কয়। বিঘা প্রতি যে খরচ অইছে, এই দামে ধান বেচলে চাল কেনার টেহাও উঠব না। আমডা এহন কি খাইয়া বাঁচমু?’
প্রকৃতির এই আঘাতের পর আবার নতুন করে চেপে বসেছে মূল্যবৃদ্ধির ভারী বোঝা। এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, আর লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে আগামী মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া, পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা এবং ধান মাড়াইয়ের খরচও বহুগুণ বেড়ে যাবে। নতুন ফসলের জন্য জমিতে কৃষককে এখন গুনে গুনে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
এর ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশচুম্বী। শাকসবজি, মাছ, তরিতরকারিসহ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুর দামই এখন লাগামহীন। ফসল হারিয়ে কৃষকের হাতে এমনিতেই কোনো টাকা নেই, যার ফলে এসব নিত্যপণ্য কেনা তাদের সাধ্য ও ক্রয়ক্ষমতার একদম বাইরে চলে গেছে।
আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি ও সংসার চালানোর সংকট নিয়ে কাস্তুল ইউনিয়নের কৃষক নূর মোহাম্মদ (৪৫) বলেন, ‘হাওরের ধানই আমডার সব। সেই ধান বেচতে পারতাছি না, ঘরে টেহা নাই। তার ওপর তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০ টেহা বাড়াইয়া দিল, বিদ্যুতের দামও বেশি। সামনে জমিত সেচ দেওয়া আর জমি চাষ দেওয়ার খরচ দ্বিগুণ অইয়া যাইব। বাজারে গেলে তরি-তরকারি কিংবা চাল-ডাল কেনার সাধ্য নাই। এনজিওর কিস্তি আর মহাজনের ঋণের চিন্তায় রাইতে ঘুম আসে না। সরকারের থাইকা যদি সরাসরি ধান না কেনে বা আমডারে সাহায্য না করে, তবে আগামীতে জমিতে নামার ক্ষমতাও আমডার থাকব না।’
একদিকে আগাম বন্যায় অর্ধেকের বেশি ফসল নদীগর্ভে বিলীন, রক্ষা করা ধানের বাজারমূল্য শূন্যের কোঠায়, অন্যদিকে জ্বালানি-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আর বাজার খরচের তীব্র চাপ—সব মিলিয়ে কৃষকের অবস্থা এখন চরম নাভিশ্বাসে গিয়ে ঠেকেছে। দিন দিন তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠছে। প্রকৃতির মার, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ আর আকাশচুম্বী বাজারদরের নির্মম জাঁতাকলে পড়ে হাওরপাড়ের কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তার ফুপাতো ভাইকে গুলি করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হযরতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়া এলাকার অন্তর সরকার (২৫) ও তার ফুপাতো ভাই রাজিব সরকার (২০)। তাদের দুজনেরই পায়ে গুলি লেগেছে।
আহত অন্তর সরকার জানান, হযরতপুর বাজারে তাদের একটি জুয়েলারি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে তিনি, তার বাবা মিতাই সরকার ও ফুপাতো ভাই রাজিব সরকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে হযরতপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে।
তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।’ এতে তিনি ও রাজিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা স্বর্ণালংকার রাখা একটি টিফিনবাক্স ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ওই বাক্সে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পরপর কয়েকটি বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে ট্রলারের কেবিনে থাকা দুই জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক মো. আল-আমিন জানান, প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে হঠাৎ ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় ১১ জন সাঁতরে ট্রলার থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে কেবিনের ভেতরে দুই জেলে আটকা পড়েন।
তিনি বলেন, সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে এবং ১১ জনকে উদ্ধার করে। পরে ওই ট্রলারেই তারা নিরাপদে উপকূলে ফিরে আসেন। তবে সাগর উত্তাল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কেবিনে আটকে পড়া দুই জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন—তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া এলাকার হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. নবী হোসেন (৪৫)।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া এলাকার আল-আমীন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়।
সোমবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ হয়ে উত্তাল হয়ে উঠলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ১১ জেলের মধ্যে ছয়জন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা, চারজন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার এবং একজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সমিতির পক্ষ থেকে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ দুই জেলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।