নোয়াখালী বেগমগঞ্জে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মোহাম্মদ হারুন ওরফে লিটন (৩৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিটন সদর উপজেলার লালা নগরের দুলালের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঞা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেতুভাঙ্গা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুছড়ে যায় পিকআপ ভ্যানটি। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা লিটন নামে ওই মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তার পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, সদস্য সচিব ডা. রেদওয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা ড্যাবের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার না হতেই ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা স্কুল ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দিকে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য এই চালু ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ভালো মানের একটি ভবন এত অল্প সময়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকা (JICA) ও উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (UDGDP) অর্থায়নে এলজিইডি ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। কিন্তু চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে একটি পুরোনো আধাপাকা ঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাইকার অর্থায়নে নির্মিত ভবনটির কোনো চিহ্ন নেই। ইট, রডসহ সব নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে এখন পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, ভবন ভাঙার সময় কোনো মাইকিং বা উন্মুক্ত দরপত্র ডাকা হয়নি। এত কম সময়ে সরকারি ভবন ভেঙে ফেলে বিক্রির টাকা কোথায় গেল, তা তদন্তের দাবি জানান তারা।
অভিযোগ স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দরকার ছিল। সময় কম থাকায় আগে অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন এবং দরদাতার মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।’
সরকারি কোনো দপ্তরকে না জানিয়ে ভবন ভাঙায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘সরকারি বিধিমালা না মেনে প্রধান শিক্ষক এটি করেছেন। তাকে কৈফিয়ত তলব করার প্রক্রিয়া চলছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিক্রির টাকা বা হিসাব আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে বোয়ালখালীতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২৮)। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য, মামলার বাদীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত এক গ্রাম পুলিশকে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি সিআর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে ওই পরোয়ানা কার্যকরে অভিযান চালায় বোয়ালখালী থানা পুলিশ। অভিযানে মামলার বাদীও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে যাওয়ার সময় একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পুলিশের।
ধস্তাধস্তির মধ্যে পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যান মহিউদ্দিন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক দাশ।
এ ঘটনায় মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) ও মোক্তার হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে (২৩) আটক করা হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গেলে পুলিশ সদস্যদের হাতে আঁচড় ও কামড় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার এবং তার আত্মীয় গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরে আলোচিত দলবেধে ধর্ষণ মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় বগুড়ায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
সোমবারের (৩১ আগস্ট) দুই মামলায় আদালতের এ রায়ে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড: জামালপুরে আলোচিত দলবেধে ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শংকর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে ছাত্তার আলী (৪২), শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৪) এবং নায়েব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২)। তাদের মধ্যে ছাত্তার আলী রশিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শংকরপুর ভাটিপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ায় হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড: বগুড়ায় মুদি দোকানে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয়কে (২৮) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) ও রাব্বি (২৪)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আশিক (২২), মো. শাকিল (২৩) ও মতিন (২৫)।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হৃদয়ের মালিকানাধীন হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে আসামিরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে রাকিবুল হাসান হৃদয় ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।’
গ্যাস সংকটে প্রায় ১৮ মাস ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। এ সময় কারখানাকে ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ নামকরণসহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করার দাবি জানানো হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজায় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) দিনে অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ মাস ধরে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে ব্যানার ফেস্টুন ও প্রচারপত্র ছিল। তাদের সঙ্গে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরাসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা শ্রমিক শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুহেল পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব পারভেজ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জয়ন্তি বিশ্বাস, উপজেলা ট্রাক-মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহালম, সাধারণ সম্পাদক চপল খাঁ, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানার ইউরিয়ার চাহিদা বেশি। কারখানাটি চালু রাখতে পারলেই সরকার লাভ হবে। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য করতে বছরের বেশির ভাগ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে।
এতে কারখানাটি দিন দিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সার কারখানাগুলো যান্ত্রিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানা বন্ধ থাকার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার উৎপাদন চালু দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই সরকার আশুগঞ্জ সার কারখানাকে গ্যাস সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করুক অথবা একটি নতুন কারখানা স্থাপন করা হোক।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষের জেরে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিতদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিকের অনুসারী শাকিল ও প্রতাপ এবং পদবঞ্চিত পক্ষের তালহা জোবায়ের, মো. রায়হান ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান। আহতরা সবাই ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত রোববার (৩০ আগস্ট) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ওমর ফারুক মানিককে সভাপতি ও ফাতিন ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে গত রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পদবঞ্চিত পক্ষের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পদবঞ্চিত পক্ষের নেতা ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘পদবঞ্চিতরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর অযথা হামলা করা হয়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। আমরা এসে দেখি আমাদের ছোট ভাইদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এগিয়ে গেলে আমাদের ওপরও হামলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল করে আমরা কোনো অন্যায় করিনি। অযোগ্যদের নেতৃত্বে এই কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্যই এই কমিটি করা হয়েছে। হামলায় বহিরাগতরাও জড়িত ছিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিক বলেন, ‘আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন। আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আজান হচ্ছে তাই মিছিল বন্ধ করতে বলেন তাদের। এ কথা বলায় তারা ভুল বুঝে আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমার দুই কর্মী আহত হয়েছেন।’
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে তারা কলেজে অবস্থান করে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেন।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় অনেক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। কেন্দ্র থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা জানানো হয়েছে।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে অবস্থান নেয়। বর্তমানে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে খুলনায় তিন মাস ধরে চলছে একের পর এক উদ্যোগ। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধনে ফগিং ও হ্যান্ড স্প্রে, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান—চলছে সবই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বাড়ানো হয়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও কমছে না ডেঙ্গু। বরং আগস্টের শেষ সপ্তাহে সংক্রমণের গতি আরও বেড়েছে। নতুন করে ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬০ জন ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১৪ জনকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে মৃতের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের ভাষ্য, শুধু সড়ক-ড্রেন পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও নিতে হবে নগরবাসীকে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে তিন মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও সর্বশক্তি নিয়োজিত করা হয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে আশানুরূপ ফল আসছে না।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে শুধু সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করলেই হবে না। প্রত্যেকের বাড়ি ও আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি বদ্ধ পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ কমাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে পিডব্লিউডি স্কুল ছাড়াও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক শিক্ষার্থীদের নিজেদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত এক দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়লে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু বিষয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন কেসিসি প্রশাসক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, কনজারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, সমাজসেবক আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনাহেনাসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আবহাওয়াও কি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?
খুলনায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, উষ্ণতা এবং মৌসুমের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকলে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। বৃষ্টির পর উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আহসান হাবীবের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাতের ধরন ও বর্ষাকালের স্থায়িত্বে পরিবর্তন আসায় এবার ডেঙ্গুর মৌসুম দীর্ঘায়িত হতে পারে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ডেঙ্গুর বর্তমান ধরনে জেনেটিক পরিবর্তন বা মিউটেশন এসেছে কি না, সেটিও গবেষণার বিষয় বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য আগের ও বর্তমান ডেঙ্গু ভাইরাসের হোল জিনোম তুলনা করে গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ
রোগীর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য এখনো পৃথক ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু হয়নি। মেডিসিন ওয়ার্ডের পুরুষ ও নারী বিভাগের নির্দিষ্ট অংশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লে ওয়ার্ডের বাইরের জায়গাতেও রোগী রাখতে হচ্ছে।
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা হয়নি। তবে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের আইসিইউ-২-এর নিচে দুটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলো চালু হলে কিছুটা চাপ কমতে পারে।
বেসরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. হামিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, রোগীর চাপ বাড়ায় নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি ওয়ার্ডের বাইরেও রোগী রাখতে হচ্ছে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যার সেবা এখনো চালু হয়নি। ফলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীরও শয্যা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে।
হাসপাতালকেন্দ্রিক প্রস্তুতিও বাড়ছে
ডেঙ্গুরোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালকেন্দ্রিক কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ১৭ আগস্ট কেসিসি, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও খুলনা মহানগর পুলিশের এক বৈঠকে হাসপাতালটিতে স্বেচ্ছাসেবী সেবা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খুলনা সিটি ইউনিটের ৫০ জন যুব সদস্যকে ডেঙ্গু রোগীদের সহায়তায় মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্যালাইন, ওষুধ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বাগেরহাটের ফকিরহাটেও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিট সংকট দেখা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০০টি এনএস১ পরীক্ষার কিট দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নতুন করে ১০ জন শনাক্ত হন।
চট্টগ্রামের দুটি ভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া জোড়া খুনের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো শত্রুতার ভয়াবহ চিত্র। সাতকানিয়ায় গাছের গুঁড়ি ফেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সিএমপির তালিকাভুক্ত এক নম্বর সন্ত্রাসী জাহেদুল ইসলামকে। আর চান্দগাঁওয়ে ফুটপাতে রিকশা-ভ্যান বসিয়ে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ধাক্কা ও চড়-ঘুষিতে প্রাণ গেছে ওয়ার্ড যুবদল নেতা ফজলুল আমিনের।
সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় গ্রামের গ্রামীণ সড়কটিতে গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’। ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে হঠাৎ মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোয় ভেসে ওঠে একটি বিশালাকার গাছের গুঁড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই মৃত্যুফাঁদে আটকে যান জাহেদ। পেছনে বসা বন্ধু ওয়াহিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র দল। মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে জাহেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
নিহত জাহেদুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত অপরাধীদের একজন ছিলেন। সিএমপির তৈরি করা ৩৩০ জন তালিকাভুক্ত দুষ্কৃতকারীর তালিকায় এক নম্বর নামটিই ছিল তার। অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, ইয়াবা কারবার, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে নগরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেই নগরে তার প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিছুদিন আগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামিনের পর থেকেই পুরানগড় ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও পুরোনো কোন্দল নতুন রূপ নেয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আঞ্চলিক অপরাধচক্রের অভ্যন্তরীণ পূর্বশত্রুতা উঠে এসেছে। জাহেদের ওপর নজর রাখছিল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী। সুযোগ বুঝেই জনমানবহীন সড়কে এই হামলা চালানো হয়।
সাতকানিয়ার এই ঘটনার পরদিনই নগরের চান্দগাঁও এলাকার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি সড়কে প্রকাশ্যে আসে আরেক মৃত্যুর খবর। নগরের চান্দগাঁও এলাকার সড়কে রিকশা-ভ্যান বসিয়ে ফুটপাত দখলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলেছিলেন স্থানীয় মো. শাহজাহান। কিন্তু বিএনপি ‘নেতা’ পরিচয়ধারী শাহজাহানের এই চাঁদাবাজি ও ভাসমান দোকান বসানোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল আমিন। সকালে হকার তোলাকে কেন্দ্র করে শাহজাহান ও ফজলুল আমিনের বাকবিতণ্ডা পৌঁছায় চরম পর্যায়ে। একপর্যায়ে শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতসহ সহযোগীরা ফজলুল আমিনকে লক্ষ্য করে চড়-ঘুষি মারেন এবং জোরে ধাক্কা দেন। আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগতে থাকা ফজলুল আমিন সড়কেই লুটিয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ জানান, এটি দলীয় কোনো বিষয় নয়, ফুটপাত দখল ও স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শারীরিক আঘাতের কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহজাহান ও তার অনুসারীরা পলাতক।
মাদারীপুরের কালকিনিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ চোরাইকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কয়েকদিন পূর্বে কালকিনি থানার অন্তর্গত পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় একটি তিনতলা ফ্ল্যাটের ২য় তলায় দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়।
ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জান্নাতুল হুসনার পরিবার এ পরিপ্রেক্ষিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে সুজন সর্দার (৩৪) নামে একজন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।
ওই ঘটনায় অধিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন সর্দার চুরির ঘটনা স্বীকার করে সঙ্গী অপর আসামি কালিকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক (৪৬) এর নাম বললে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এনামুল হকের জুয়েলারি দোকান থেকে স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল, টিকলি, ব্রেসলেটসহ গলিত স্বর্ণের টুকরা উদ্ধার করা হয়। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি জহিরুল আলম।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
যেখানে সাধারণ সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কে শিউরে ওঠেন এবং মেরে ফেলার চেষ্টা করেন, সেখানে বিভিন্ন বিষধর সাপের সঙ্গেই নিত্য বসবাস তরুণ বন্যপ্রাণী প্রেমী নজরুল ইসলাম অয়নের। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো প্রান্তে লোকালয়ে সাপ ঢোকার খবর পেলেই পরম মমতায় ছুটে যান তিনি। সঠিক পূর্ব-প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কৌশলে প্রাণীটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন প্রকৃতির নিরাপদ আবাসে।
অয়ন কোনো ওঝা বা সাপুড়ে নন; সাপ নিয়ে কোনো বাণিজ্যও করেন না। শুধুমাত্র প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে গত ১৫ বছর ধরে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এই কঠিন কাজ করে চলেছেন। অয়ন বর্তমানে ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র।
বিপুল পরিমাণ প্রাণী উদ্ধার ও সামাজিক সচেতনতা: ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী অয়ন এ পর্যন্ত শঙ্খিনী, রাসেলস ভাইপার, কোবরা (গোখরো), কালনাগিনী ও দাঁড়াশসহ ১০ প্রজাতির সাড়ে ৭০০টিরও বেশি বিষধর ও নির্বিষ সাপ উদ্ধার করেছেন।
এছাড়া বনবিড়াল, চিতাবিড়াল, গন্ধগোকুল ও শঙ্খচিলসহ ৩,০০০-এরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করেছেন।
শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ নন অয়ন; জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি সমান সক্রিয়। তিনি বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ‘Wildlife and Snake Rescue Team in Bangladesh’-এর সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ড ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় বিস্তৃত অয়নের এই সংগঠনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে অর্জন করেছে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার।
অয়ন বিশ্বাস করেন, সাপের আতঙ্ক দূর করতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রসার জরুরি। তাই তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা পরিচালনা করে ওঝা দিয়ে বিষ নামানো বা সাপে কাটার স্থানে বাঁধার মতো মারাত্মক সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলছেন। সাপে কাটা রোগীকে ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসালয়ে পৌঁছানোই যে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়, সে বার্তা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি, সাপের বিষ থেকে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম তৈরি এবং ক্ষতিকর ইঁদুর দমনের মাধ্যমে কৃষিতে সাপের অপরিহার্য ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রকৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম অয়ন ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাহবুবুল আলম এবং মা পারভীন আক্তার। শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রশংসাঅয়নের এই মহতী কার্যক্রমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তার শিক্ষক ও স্থানীয় বন বিভাগ।
ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রেজোয়ান হোসেন বলেন, নজরুলের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে নিবেদিত কাজ আমাদের গর্বিত করে। তার মতো তরুণদের নিষ্ঠাই সমাজে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বিভাগের শিক্ষক সুদ্বীপ দাশ ও প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম নোশিন অয়নের কাজের সাহসিকতা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অয়ন যেভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষা করছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং তিনি এজন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ডিজার্ভ করেন।
একই সুর মিলিয়ে সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, অয়ন একজন ভলেন্টিয়ার রেস্কিউয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের সাথে ওতপ্রোতভাবে কাজ করে আসছেন। নজরুল ইসলাম অয়নের মূল স্বপ্ন—একটি নিরাপদ, সচেতন ও প্রকৃতিবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ ভয়ের পরিবর্তে জ্ঞান ও সহমর্মিতা দিয়ে বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশকে রক্ষা করবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করবে ও কোনো অনিয়ম করবে তাদের খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর পরই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আহাদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সহ-সভাপতি শাহআলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফি, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল লতিফ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির আশরাফুল আলম, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার, হক সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আফসার, অষ্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি দেবপদ চক্রবর্তী এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নজরুল বর্ষের অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগার তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে গণগ্রন্থাগারের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তির আয়েজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু । রোববার দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে পুলিশ। জনগণ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমি এখানে এসে জানতে পারলাম মাদকাসক্তরা গণপতি স্যারকে অনেক ডিস্টার্ব করতো। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্যারসহ তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বাহিনী দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রামিশা হত্যা মামলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তার বিচারকার্য শেষ হয়েছে। আমরা এলাকায় নন্দিনী নামে একটি বাচ্চা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চার্জশিট দাখিল করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক রয়েছে। আমাদের সরকার মাদকের বিষয়ে সবো©চ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করেছে। আমরা আশা করছি জনগণের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ না করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা যাবে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।