সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

পাঁচ নারীকে ‘রোকেয়া পদক’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২২ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৪৪
বাসস
প্রকাশিত
বাসস

সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২২ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ পদক তুলে দেন তিনি। এ সময় প্রত্যেককে একটি স্বর্ণ পদক, চার লাখ টাকার চেক ও সনদপত্র দেয়া হয়।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর বেগম রোকেয়া পদক বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রামের অধ্যাপক কামরুন নাহার বেগম। নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় এ পদক পেয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার ফরিদা ইয়াসমিন (জন্মস্থান খুলনা)। নড়াইল জেলার ড. আফরোজা পারভীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় পদক পেয়েছেন।

এ ছাড়া পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ঝিনাইদহ জেলার নাছিমা বেগম এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় পদক পেলেন ফরিদপুর জেলার রহিমা খাতুন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।

পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে ড. আফরোজা পারভীন নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেগম রোকেয়ার জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।


ক্রেতা সেজে বাঘের চামড়া উদ্ধার করল র‌্যাব

বাঘের চামড়ার প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২০:৪৩
খুলনা ব্যুরো

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ক্রেতা সেজে সুন্দরবনের একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে ‌র‌্যাব-৬। সোমবার বিকালে উপজেলার হরিনগর বাজারসংলগ্ন ধলপাড়া গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে চামড়াটি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর গালিব হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে র‌্যাব-৬-এর খুলনার সদর দপ্তর থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য জাননো হবে।’

আটক তিনজন হলেন ধলপাড়ার হাফিজুর রহমান (৪৩), শেখ আসিফ হাসান (২৬) ও শেখ ইসমাইল হোসেন (২৩)। তারা বর্তমানে র‌্যাব-৬-এর হেফাজতে রয়েছেন।

র‌্যাব-৬-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যেমে তারা জানতে পেরেছিল, হাফিজুর রহমানের কাছে বাঘের চামড়া রয়েছে এবং চামড়াটি তিনি বিক্রির চেষ্টা করছেন। পরে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা ক্রেতা সেজে চামড়াটি কিনতে ইচ্ছুক হন। তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার বিনিময়ে চামড়া বিনিয়ের চুক্তি হয়। সোমবার বিকেলে ওই দলের এক তিন সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাঘের চামড়াটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়:

গমের ট্রাকে বালু ও পাথরভর্তি বস্তা

ট্রাকে পাওয়া বালু ও পাথরভর্তি বস্তাগুলো। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় খাদ্যগুদামে গমের চালান নিয়ে আসা ট্রাকে মিলেছে বালু ও পাথরভর্তি ২৮টি বস্তা। গত রোববার দুপুরে জেলা খাদ্যগুদামে ট্রাক থেকে গম নামানো সময় বালু ও পাথরগুলো পাওয়া যায়। তবে ট্রাকে পাথরগুলো কীভাবে এল, তা জানাতে পারছেন না চালক ও সহকারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে আলমডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হামিদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার সরকার এন্টারপ্রাইজ, জোনাকি এন্টারপ্রাইজ ও সানরাইজ এন্টারপ্রাইজের পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে মোট ৩০০ টন গম পাঠানোর কথা ছিল। গত শুক্রবার গমের প্রথম চালানে ১০০ মেট্রিক টন আসে। এরপর রোববার ভোরে দ্বিতীয় চালানের ১০০ মেট্রিক টন গম চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে আসে। পরে গমের বস্তা নামানোর সময় একটি ট্রাকে বালুভর্তি কয়েকটি বস্তা পাওয়া যায়। পরে সবগুলো ট্রাকে তল্লাশি করে সন্ধান মেলে বালু ও পাথরভর্তি ২৮টি বস্তার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০০ টন গম চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দ দেয়া হয়। এ চালানে ১০০ টন গম নিয়ে খুলনা থেকে ভোরে ৬টি ট্রাক এসে পৌঁছায় চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে। পরে দুপুরে ট্রাক থেকে গমের বস্তা নামানোর সময় প্রথমে একটি ট্রাকে পাওয়া যায় ৬টি বালুর বস্তা। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রতিটি ট্রাক তল্লাশি করে ২৮টি বালু ও পাথরভর্তি বস্তাসহ চারটি বড় পাথরের টুকরা পাওয়া যায়।

নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক থেকে গম চুরি করে ওজন ঠিক রাখতে বালু আর পাথর দিয়ে তা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম শহীদুল ইসলাম জানান, খুলনার ৪ নম্বর ঘাট থেকে ট্রাকগুলোতে গম লোড হয়েছিল। সেখান থেকে বালুর বস্তা ট্রাকে তোলার কোনো সুযোগ নেই। রাস্তার মধ্যে এমন কোনো কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে গম নিয়ে আসার পর রাস্তায় কোনো জায়গায় মালামাল ওঠানো এবং নামানো হয়নি বলে দাবি করছে ট্রাকটির চালক রাব্বী হোসেন ও সহকারী মেহেদী হাসান। তারা বলছেন, খুলনা থেকে গমভর্তি ট্রাক নিয়ে সরাসরি চুয়াডাঙ্গায় এসেছেন। কীভাবে বালু ও পাথরভর্তি বস্তা ট্রাকে রাখা হয়েছে, তারা বলতে পারছেন না।


স্ত্রী হত্যার ১৭ বছর পর যাবজ্জীবনের আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার জুয়েল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:১৫
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে স্ত্রীকে হত্যার ১৭ বছর পর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানা এলাকা থেকে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জুয়েল (৩৫) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ২০০৬ সালের ২ জানুয়ারি জুয়েল একই গ্রামের বদু মিয়ার মেয়ে হ্যাপীকে প্রেম করে বাবা-মায়ের অসম্মতিতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে চাপ দেয় জুয়েল।

পরে টাকা এনে না দেয়ায় তাদের মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। এমনকি জুয়েল তার স্ত্রীকে এ নিয়ে মারধর করতেন। একপর্যায়ে ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সকালে জুয়েল স্ত্রীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিনই নিহতের বাবা বদু মিয়া বাদী হয়ে জুয়েলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় গোপন রেখে পালিয়ে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পালিয়ে থাকার অবস্থান জানতে পেরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার তাকে করা হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪-এর এই কর্মকর্তা।


বিদ্যুৎ অফিসে ঝুলছিল নিরাপত্তা প্রহরীর দেহ

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:১৭
প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিস থেকে আব্দুল আলিম (৪৯) নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল পূর্ব বাজারের পল্লী বিদ্যুতের অফিস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল আলিম বগুড়া জেলা শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) কাজী জসিম উদ্দিন জানান, রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল আলিম। সকালে অফিসের নিচ তলার মুদি দোকানদার অফিসের ভেতরে আব্দুল আলিমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের জানান। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী প্রধান জানান, কামারখন্দ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিলিং শাখা থেকে নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল আলিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোনো কারণে আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়:

মৃত্যুদণ্ডিত রাজাকার সুলতান মাহমুদ ফকির গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৯
প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সুলতান মাহমুদ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।

র‌্যাব জানায়, ত্রিশাল এলাকার কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মৃত্যুণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সুলতান মাহমুদ ফকিরকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৩ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সুলতান মাহমুদ ফকিরসহ ত্রিশালের ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন নয়জন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন দুজন। কারাগারে থাকা দুজন ও পলাতক একজনসহ মোট তিনজন মারা গেছেন। বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোখলেছুর রহমান মুকুল, সাইদুর রহমান রতন, শামসুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, সুলতান মাহমুদ ফকির, নকিব হোসেন ও আদিল সরকার।

গত ২৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে ৩০ জানুয়ারি মোখলেছুর রহমান মুকুল ও নকিব হোসেন আদিল সরকারকে রাজধানীর দক্ষিণখান ও সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২। পরে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালত। এখনো দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের জুন-জুলাইয়ে ত্রিশালের আহমেদাবাদে একটি বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে শান্তি ও রাজাকার বাহিনী। ওই সময় কাকচর গ্রামের ইউনুছ আলী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পারাপার করতেন। এ কারণে ইউনুছ আলীকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যায় ২০-২৫ জন। নির্যাতনের পর ৭১ সালের ১৫ আগস্ট সকালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ওই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এলাকায় লুটপাট ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করে।

২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিচারিক আদালতে মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইউনুছ আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পরে ওই দিনই দুপুরে বিচারক আবেদা সুলতানা মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষ করে প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

পরে ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনসহ ছয়টি অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়। এ ছাড়া মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সবশেষ যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ৫ ডিসেম্বরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ওই ছয় রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।


মধ্যরাতে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:২৫
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

বিয়ে বাড়ি থেকে কনে নিয়ে ফেরার পথে বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতরে নদী পার হওয়ার বাজি ধরেন বাবুল (২২) মিয়া। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কিছুদূর সাঁতরে আসেন তিনি। তবে তীব্র স্রোত থাকায় নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তলিয়ে যান পানিতে। এ ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টার পর হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুরের দুধকুমার নদের খেয়া পারাপারের শহিদুলের ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবুল মিয়া উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের মাওলানা পাড়ার গ্রামের আনিস আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, পাইকেরছড়া মাওলানা পাড়ার মোজাম্মেল হকের ছেলে হাসেম আলীর সঙ্গে তিলাই ইউনিয়নের খোঁচা বাড়ির চর এলাকার মৃত হযরত আলী মেয়ের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নৌকায় করে রোববার রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সাঁতরে নদী পার হওয়া নিয়ে বাবুল তার বন্ধুদের সঙ্গে ৫০০ টাকা বাজি ধরেন। এরপর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কিছুদূর সাঁতরে এলে স্রোতের তোড়ে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, সকালে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বিষয়:

না.গঞ্জে ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র ম্যানেজার-কর্মচারী গুলিবিদ্ধ

গুলিতে দুজনকে আহত করার পর ভবন মালিক আজাহার তালুকদারকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩০
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় এক ভবন মালিকের গুলিতে রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার রাতে শহরের নবাব সলিমুল্লাহ রোডের আঙ্গুরা প্লাজায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ভবন মালিক আজাহার তালুকদারকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র জিএম শফিউর রহমান কাজল ও কর্মচারী মো. জনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় জিএম কাজল ও ভবনের মালিক আজাহারের সঙ্গে। এর জেরে বাড়ির চারতলা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে ম্যানেজার কাজলের পায়ে গুলি করেন আজাহার। এ সময় রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা ছুটে গেলে ওই ভবন মালিক আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে কর্মচারী জনিও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে নগরীর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

রেস্টুরেন্টের মালিক শুক্কুর মিয়া জানান, চাষাঢ়ার আঙ্গুরা প্লাজার মালিক আজিজুল হক ও তার ভাই আজাহার তালুকার। তাদের কাছ থেকে রেস্টুরেন্টের ফ্লোরটি ভাড়া নেন তিনি। রেস্টুরেন্টে পানি অপচয়ের কারণে বিদ্যুতের বেশি বিল আসার অভিযোগ করে আজাহার অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে জিএমের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়।

‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেস্টুরেন্টের আরেক ম্যানেজার রিপন সাহা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রেস্টুরেন্টের দোতলায় তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় নেমে যান ভবনের মালিক আজাহার। কিছুক্ষণ পর হাতে একটি পিস্তল ও একটি শটগান নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর তিনি ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ করেন। তাকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে ফাঁকা গুলি করেন। এরপর রেস্টুরেন্টের জিএম কাজলের পায়ের নিচে দুটি গুলি করেন। রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা এগিয়ে গেলে তিনি আবার গুলি করে ওপরে চলে যান। এ সময় জনি নামে একজন কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হন।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাউলাউ মারমা দৈনিক বাংলাকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ভবন মালিক আজাহার তালুকদারকে শটগান ও পিস্তলসহ আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পিস্তল ও শটগান লাইসেন্স করা। তবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


মধ্যরাতে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৩
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় চারটি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত রোববার মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকানি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ একটি দোকানে আগুন লাগে। পরে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এর মধ্যে চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে, প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন মঞ্জুরুল। আগুন লাগলে সে দোকান থেকে বের হতে পারেনি। পরে পুড়ে মারা যান। এ ছাড়া চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয়:

বাবাকে খুন করে থানায় হাজির ছেলে

গোলাম আজম।
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৪
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা খুন হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাবা ফজলে আলমকে (৫৮) খুনের পর রাতেই থানায় গিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন গোলাম আজম। (২৮)।

ওমর আজম একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে দেন। নিহত ফজলে আলম কাঠের ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি স’ মিলের মালিক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক নির্মোল রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নিজ বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিষয়:

ঘুমের মধ্যে আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৫
প্রতিনিধি, পিরোজপুর

পিরোজপুরের সদর উপজেলায় আগুনে পুড়ে সোহেল হাওলাদার নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভাইজোড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহেল (২৮) ওই এলাকার নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।

নিহতের বড় ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, সোহেলের ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে ভোরে আমার স্ত্রী ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘরে ঘুমিয়ে রয়েছে সোহেল। এ সময় তাকে উদ্ধারে বেশ কয়েকবার ঘরে ঢুকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভালে ঘর থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব-অফিসার আব্দুর রশিদ হক জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা একজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।

বিষয়:

জহুরুল হক মুন্সী বীর প্রতীক ‘বার’ আর নেই

বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী বীর প্রতীক (বার)
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৩৯
প্রতিনিধি, জামালপুর

জামালপুরের ১১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী বীরপ্রতীক (বার) আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

অসুস্থ হয়ে পড়লে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন।

এই বীর যোদ্ধার মৃত্যুতে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ সোমবার বেলা ১১টায় বকশীগঞ্জ চন্দ্রাবাজ সরকার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। পরে দুপুর আড়াইটায় শেরপুরের শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জানাজা। পরে তাকে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী পৌর শহরের খামারিয়াপাড়া মহল্লায় পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে জানান, জহুরুল হক মুন্সী বীরপ্রতীক (বার) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রাবাজ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল গফুর মিয়া কৃষক ছিলেন। পরে এই মুক্তিযোদ্ধা শেরপুরের শ্রীবরদী পৌর শহরের খামারিয়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন।

জহুরুল হক মুন্সী বীরপ্রতীকের বীরত্বগাথা
সরকার কোনো যোদ্ধাকে যুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতির জন্য একই পদক দুইবার প্রদান করলে তার নামের শেষে ‘বীরত্ব’ উপাধি লেখার পর প্রথম ব্রাকেটে ‘বার’ লেখা হয়ে থাকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য একমাত্র এই বিরল উপাধি পাওয়া বীর সেনানী কেবল জহুরুল হক মুন্সীই।

তার বীরত্বগাথা সম্পর্কে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর ১১নং সেক্টরের ধানুয়া কামালপুর দখলের পর জামালপুর শহরে পাকিস্তানি হানাদারদের অবস্থানস্থলে হামলার প্রস্তুতি চলছিল। ৩১ বেলুচের প্রায় দেড় হাজার সেনা পিটিআই ক্যাম্পে স্থাপিত প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিল। এই অবস্থান উচ্ছেদ না করে মিত্রবাহিনীর টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার দিকে অভিযান পরিচালনা করা এক অর্থে অসম্ভব ছিল। এ অবস্থায় শত্রুপক্ষের মনোভাব জানতে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন পাকিস্তানি অধিনায়কের কাছে। কিন্তু এ চিঠি নিয়ে কে যাবেন? জহুরুল হক মুন্সী তখন ভারতের পুরাখাসিয়া ক্যাম্পে ছিলেন। এ দায়িত্ব নিতে স্বেচ্ছায় রাজি হলেন তিনি।

৯ ডিসেম্বর তিনি সাদা পতাকা উড়িয়ে সাইকেলে চড়ে রওনা হলেন জামালপুরের দিকে। পিটিআই ক্যাম্পে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনারা তাকে আটক করে চোখ ও হাত বেঁধে নিয়ে যায় তাদের অধিনায়কের কাছে। চিঠি বহনের অপরাধে তার ওপর শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। এসএমজির বাঁটের আঘাতে মুন্সীর মুখের ওপরের পাটির চারটি দাঁত ভেঙে যায়। রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাঁর পা ক্ষতবিক্ষত করে দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে শূন্যে ঝুলিয়ে কথা বের করার চেষ্টা করা হয়। এরপর পাকিস্তানি অধিনায়ক ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার ক্লেয়ারের চিঠির জবাব লিখে সেই চিঠির ভেতর রাইফেলের গুলি ভরে মুন্সীকে ফেরত পাঠান। ওই দিনই গভীর রাতে মুন্সী পৌঁছান মিত্রবাহিনীর ক্যাম্পে। পরদিন ১০ ডিসেম্বর ভোরে মিত্রবাহিনী জামালপুরের পাকিস্তানি ক্যাম্পে আঘাত হানে জামালপুর মুক্ত করে।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে বীর প্রতীক (বার) খেতাবে ভূষিত করে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন জহুরুল হক মুন্সী।


বিদ্যালয়ের মাঠ খুঁড়ে টাওয়ার

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৮
প্রতিনিধি, বরগুনা

বরগুনা সদরে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে শহীদ মিনার ভেঙে একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানের টাওয়ারের নির্মাণকাজ চলছিল। পরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বাধায় কাজ বর্তমানে বন্ধ আছে।

মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে তারা এ কাজ করছে। গত বুধবার মাঠে মাটি খননের কাজ শুরু হলে স্থানীয়রা তাতে বাধা দেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হলো সদরের কদমতলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়রা জানান, এখানে একটি খেলার মাঠের চারপাশজুড়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে কলেজ লাইব্রেরির পাশে ১২০ ফুট উচ্চতার টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। তখন বাধা দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান তিনটির মাঠের পশ্চিম কোণে একটি শহীদ মিনার, গভীর নলকূপ, একাধিক ফলদ, বনজ গাছ ও শৌচাগার। টাওয়ার স্থাপনের উদ্দেশ্যে মাটি খননের কাজ করতে গিয়ে এগুলো ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর শহীদ মিনারের একাংশ ভেঙে পাশে আরেকটি শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ চলছে।

শিক্ষার্থীরা বলে, বিকেল হলে তারা এই মাঠে খেলাধুলা করে। টাওয়ার হলে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়টি সাবেক শিক্ষার্থী জিয়াউল হক। বর্তমানে তিনিও শিক্ষকতায় নিয়োজিত। জিয়াউল বলেন, ১৯৬৪ সালের দিকে তার দাদা এই বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। কদমতলা বাজারসংলগ্ন অনেক জমি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রধান অন্যায়ভাবে লাভবান হতে টাওয়ার নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। টাওয়ার হলে শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকিতে পড়বে।

কদমতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ইমাদুল হক গাজী বলেন, এলাকায় টাওয়ারটি প্রয়োজন। তবে এলাকায় আরও জমি আছে। বিদ্যালয়ের মাঠে টাওয়ার বসানো ঠিক হবে না।

কদমতলা বাজার কমিটির সভাপতি শাহজাহান মুন্সী বলেন, স্কুলমাঠে না হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠের দক্ষিণ পাশে টাওয়ার হলে ভালো হয়। তবে দাবি থাকবে এলাকায় টাওয়ার হোক।

ঠিকাদার মো. রাকিব বলেন, গত বুধবার বিকেলে শ্রমিকরা মাটি কাটা শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিয়েছেন। এরপর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
টাওয়ার স্থাপন প্রকল্পে মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে নিযুক্ত প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি হয়েছে। প্রতিবছর ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে কদমতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এ বি এম বশির উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
হাইস্কুল ও কলেজের সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানতাম না। আমার আগে আমার বড় ভাই সভাপতি ছিলেন। চুক্তি হলে তার সময় হয়েছে।’

বরগুনার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানোর কোনো সুযোগ নেই।

বিষয়:

রেলের জমিতে পিকনিক স্পট

কেপিআই এলাকায় নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৯
প্রতিনিধি, পাবনা

পাবনার পাকশীতে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় পাকা সীমানাপ্রাচীর ঘিরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটিকে কেপিআই তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, লালনশাহ সেতুসংলগ্ন সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর সামনে কয়েকজন শ্রমিক ইট-সিমেন্টের দেয়ালে পাকা সীমনাপ্রাচীর তৈরিতে ব্যস্ত। ঝোলানো সাইনবোর্ডে লেখা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পিকনিক স্পট অ্যান্ড লালনশাহ কফিশপ। বিশাল এলাকা ঘিরে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ, বসার ছাউনি ও সিমেন্টের চেয়ার। নদীশাসনে ব্যবহৃত রেলের পাথর তুলেও নির্মাণকাজে ব্যবহার করতে দেখা গেল শ্রমিকদের। এসব নির্মাণাধীন স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর মূল ফটকও।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে টং ঘরের মতো খাবারের দোকান করেন মোক্তার হোসেন। সেখানে ব্যবসা ভালো হওয়ায় কিছুদিন পর পরিসর বাড়িয়ে আধাপাকা দেয়াল ও টিনের চালের ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি পুরো এলাকা ঘিরে রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে রিসোর্ট নিয়ে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মোক্তার হোসেন। নিজেকে সাবেক যুবলীগ নেতা ও রেলওয়ের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে মোক্তার বলেন, জনস্বার্থেই তিনি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন না থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

মোক্তার হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে তার বাবা রেলের কিছু জমি কৃষিকাজের জন্য লিজ নেন। প্রতিদিন পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে দেশের নানা প্রান্তের পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। পিকনিক মৌসুমে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু এখানে তাদের বসে সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার, হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়তেন। তাদের স্বস্তি দিতেই এই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেপিআই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকা সাধারণ এলাকা থেকে পৃথক রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার ও সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা যাতে নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকবে এবং স্থাপনা নির্মাণ হলে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকশী বিভাগীয় রেলের এক কর্মচারী বলেন, রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই পিকনিক স্পট নির্মাণ করছেন মোক্তার।

কেপিআই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির। নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট থেকে ফাঁড়ির দূরত্ব ৫০ গজেরও কম।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব গোস্বামী বলেন, নিরাপত্তা নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো স্থাপনা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় রেলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, কেপিআই এলাকায় পিকনিক স্পট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

বিষয়:

banner close