বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

মাদকবাহী পিকআপ ধাওয়া করে প্রাণ গেল দুই র‌্যাব সদস্যসহ ৩ জনের

দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ভ্যান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৪১
প্রতিনিধি, মাগুরা
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, মাগুরা
প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৩৯

মাগুরায় মাদকবাহী পিকআপ ভ্যানকে ধাওয়া করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় র‍্যাবের দুই সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন। শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার সাইত্রিশ রাওতড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত র‌্যাবের দুই সদস্য হলেন, ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর সদস্য আনিসুর রহমান (৩৫) ও ফারুক হোসেন (৩৮)। আর নিহত পিকআপ ভ্যান চালকের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

মাগুরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পিকআপে মাদক রয়েছে- এমন সন্দেহে ভ্যানটিকে থামতে বলেন র‌্যাবের সদস্যরা। তবে পিকআপটি না থেমে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। তখন র‍্যাবের গাড়িটি ওই পিকআপকে ধাওয়া করে রাওতড়া সাইত্রিশ নামক স্থানে এসে পৌঁছালে দুটি গাড়িই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে দুই র‍্যাব সদস্য ও পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত হন। এ ঘটনায় র‍্যাবের আরেক সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি মাদক মামলা, অন্যটি সড়ক দুর্ঘটনার। র‌্যাব সদস্য ও অজ্ঞাতপরিচয় চালকের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। পিকআপটি থেকে ৩৯১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

এ বিষয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এহসানুল হক মাসুম জানান, র‌্যাব ও মাগুরা হাইওয়ে পুলিশ সকালে হাসপাতালে একজনকে মৃত ও অপর দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনলে পরে তারাও মারা যান।

বিষয়:

ভোগান্তির অবসানে রেলসেবায় যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ জেলা  

* ভারত থেকে আসছে ২০০ ব্রডগেজ কোচ * ৬০ নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহে টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার পথে
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

ভোগান্তি কমিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত করতে দেশজুড়ে রেল সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন করে রেলসেবায় যুক্ত করা হচ্ছে ১০ জেলাকে। এছাড়া ৬০ নতুন ইঞ্জিন ও ২০০ নতুন কোচ সংযোজন হচ্ছে অচিরেই।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০৩২ সালের মধ্যে দ্রুতগতির ট্রেন চালনা আর আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং চলমান সংস্কার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিগগিরই সাধারণ যাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ রেল সেবা নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।

রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন করে আরও ১০টি জেলায় দ্রুত রেললাইন চালুর জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

অগ্রাধিকার প্রাপ্ত অঞ্চল ও রাজধানীর সাথে সংযোগ: প্রাথমিক ধাপে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি দেশের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলকে রেলের আওতায় আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে। এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বরিশাল, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর এবং মানিকগঞ্জ। সরকারের লক্ষ্য, এই জেলাগুলোতে আধুনিক লাইন নির্মাণের পাশাপাশি যুগোপযোগী স্টেশন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা, যাতে উদ্বোধনের দিন থেকেই পুরোদমে এবং নিরাপদে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়।

ঢাকার ওপর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমাতে এবং প্রতিদিনের কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত সহজ করতে মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীর মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সাথে বিশেষ ‘কমিউটার রেল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাশ্রয়ী ভাড়ায় ঢাকার বাইরে থেকে এসে মানুষ দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ শেষ করে রাতে নিজ জেলায় ফিরে যেতে পারবেন।

ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন: বাঁচবে সময় ও জ্বালানি: বর্তমান রেল ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে এবং দূরত্ব ও সময় কমিয়ে আনতে ‘ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন’ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কর্ড লাইনটি নির্মিত হলে রাজধানী থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব সরাসরি প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে প্রতি ট্রিপে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ: ৩৩ হাজার কোটির মেগা মিশন: দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে সম্পূর্ণ আধুনিক রূপ দিতে প্রায় ৩৩,৩০৯ কোটি টাকার দুটি বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই বিশাল অংকের অর্থায়নে প্রধান সহযোগী হিসেবে আগ্রহ দেখিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে পুরো ৩২৫ কিলোমিটার করিডোরের উন্নয়ন একসাথে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে সমন্বিতভাবে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পায়।

প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ হলে রেল খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।

সময় সাশ্রয় হবে: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনের সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, যা ডুয়েলগেজ সম্পন্ন হলে মাত্র ৪ ঘণ্টায় নেমে আসবে (সময় কমবে প্রায় ৩৪ শতাংশ)।

শিডিউল বিপর্যয় রোধ হবে: ট্রেনের সময়সূচি বা শিডিউল মানার হার বর্তমানের ৫৫ শতাংশ থেকে একলাফে ৯৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে: বর্তমানে এই রুটে দৈনিক ৫২ জোড়া ট্রেন চলে, যা প্রকল্পের পর ৬৫ জোড়ায় উন্নীত করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহন: পণ্যবাহী ট্রেনের শিডিউল মানার হার ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে, যা সড়কপথের ওপর থেকে পণ্য পরিবহনের চাপ কমাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: এই করিডোরটি ‘ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক’-এর অংশ হওয়ায় আখাউড়া সীমান্ত হয়ে ভারতীয় রেলের মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবে।

ভারত থেকে আসছে ২০০ ব্রডগেজ কোচ: ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (EIB) অর্থায়নে ৯১৫ কোটি রুপি ব্যয়ের একটি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ২০০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী ব্রডগেজ কোচ আমদানি করছে বাংলাদেশ। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায় (RCF) এই আধুনিক বগিগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

চুক্তির প্রথম চালানের ২০টি ব্রডগেজ কোচ আগামী জুলাই মাসেই বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দুই দেশের রেল প্রশাসনের চমৎকার সমন্বয়ে কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো, ভারত দীর্ঘমেয়াদি ডিজাইন সাপোর্ট, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ (স্পেয়ার পার্টস) এবং বাংলাদেশের রেল প্রকৌশলীদের বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। নতুন এই ২০০ কোচ যুক্ত হলে দেশের ব্রডগেজ রুটের (পশ্চিমাঞ্চল) কোচের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হবে।

মিটারগেজ অঞ্চলের আধুনিকায়ন ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম: পশ্চিমাঞ্চলে ব্রডগেজ বগি আসার পাশাপাশি পূর্বাঞ্চল বা মিটারগেজ অঞ্চলের (ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুট) ট্রেনের আধুনিকায়নেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুরনো কোচগুলোর ভেতরের সজ্জা পরিবর্তন এবং সিট ও টয়লেটগুলোর আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ নিয়মিত বগিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ফিটনেস পরীক্ষা করছে। যাতায়াতকারী সম্মানিত যাত্রীরা যাতে শতভাগ স্বাচ্ছন্দ্য পান, সেজন্য ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ ও ক্যাটারিং সার্ভিসকে আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দূরদর্শী নীতি পরিবর্তন ও আগামী ৩ বছরের রূপরেখা: অবকাঠামো ও যাত্রীসেবার মানকে একই সমান্তরালে এগিয়ে নিতে রেল মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন অত্যন্ত দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এখন থেকে নিয়ম করা হয়েছে—ভবিষ্যতে নতুন কোনো রেলপথ সম্প্রসারণের প্রকল্প নেওয়া হলে, ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি একই প্রকল্পের বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও বগি আমদানির বিষয়টিকেও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখা হবে।

বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ মিলিয়ে প্রায় ৬০টি নতুন ইঞ্জিন এবং কয়েকশ আধুনিক কোচ সংগ্রহের আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। এই নতুন কোচগুলো সরবরাহ হতে যে সময়টুকু লাগবে, তার মধ্যেই দ্রুততম সময়ে যাত্রীসেবা সচল রাখতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এক বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন উন্নত কারখানায় প্রায় ৫০টি বগিকে জরুরি ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নতুন সিট ও অভ্যন্তরীণ আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে পুনর্বাসন (Rehabilitation) করা হচ্ছে, যা খুব দ্রুতই লাইনে যুক্ত হয়ে যাত্রীদের আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও আশাবাদ: ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে ডুয়েলগেজ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেল দেশের কোটি মানুষের প্রধান গণপরিবহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে ডুয়েলগেজ করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি আরো বলেন, এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দক্ষ অপারেশনাল ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব গতি আসবে।


পুশইনে বিএসএফের নতুন কৌশলও ভেস্তে দিচ্ছে বিজিবি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাত্র ১৬ দিনে চার দফায় বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে প্রতিবারই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তারা। লাঠিসোটা হাতে মাঠে নামা সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের কাছে হার মেনেছে বিএসএফের একের পর এক কৌশল।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশইন সফল করতে বিএসএফ ভৌগোলিক অবস্থান, বৈরী আবহাওয়া ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। নজরদারি এড়াতে প্রতিটি পুশইনের জন্য গভীর রাত কিংবা ভোরবেলার সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়। স্থলসীমান্তে বিজিবির কড়া অবস্থানের মুখে রুট পরিবর্তন করে নদীপথ বেছে নেয় বিএসএফ। রোকনপুরের নদী সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। অর্থের বিনিময়ে এই কাজে বিএসএফকে সহায়তা করে স্থানীয় কিছু দালাল ও মাঝি।

বিএসএফের একটি বড় কৌশল ছিল বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া মানুষের দলে অধিকসংখ্যক নারী ও শিশু রাখা। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ওপর একধরনের মানবিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। উদ্দেশে ছিল, নারী ও শিশুদের সামনে দেখে বিজিবি যেন কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। এ ছাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি বাধা দিলে বিভিন্ন পোস্টে সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে পাল্টা সেনা সমাবেশ ঘটায় বিএসএফ। এটি ছিল মূলত বিজিবিকে ভয় দেখানো ও চাপে ফেলার কৌশল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের এসব কৌশল কাজে আসেনি।

১৬ দিনে চার দফা প্রতিরোধ: গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে গত ৪ জুন ভোররাত ৩টার দিকে ১২ পুরুষ, ১০ নারী এবং ছয় শিশুসহ মোট ২৮ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর বিজিবি ও স্থানীয়দের শক্ত অবস্থানের মুখে পরদিন তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

একই উপজেলার রোকনপুর সীমান্তের নদীপথে গত ১২ জুন রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নৌকাযোগে দুই পুরুষ, আট নারী এবং পাঁচ শিশুসহ ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকার পর রাত ২টা ৪০ মিনিটে তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

১৫ জুন রাত পৌনে ১১টার দিকে একই সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে নৌকাযোগে পুশ-ইনের চেষ্টা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রতিহত করে বিজিবি। পরবর্তীতে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে গত ২০ জুন ভোরে পাঁচ পুরুষ, ১১ নারী ও চার শিশুসহ ২০ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে নামেন গ্রামবাসী। শেষ পর্যন্ত বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের ওই পুশ-ইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে আর প্রবেশ করতে পারেনি অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা।

১৫ জুনের ঘটনায় বিএসএফকে সহযোগিতার অভিযোগে স্থানীয় চার দালালসহ সাত বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ ও বিজিবি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ এশিয়া পোস্টকে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের পুশইন কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। বিএসএফের যেকোনো চতুর কৌশল নস্যাৎ করতে বিজিবি সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে।

১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকায় তিনবার পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে বিএসএফের প্রতিটি চেষ্টাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।


আগামী রোববার থেকে দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আগামী রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি মোট ২ কোটি ৩৪ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।’

তিনি বলেন, ‘২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘‘এ’’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইলকেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।’

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান, মোহাম্মদ ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘‘এ’’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (২৮ জুন) সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জেলা উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুল সংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘‘এ’’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রওশন জাহান আখতার আলো দৈনিক বাংলাকে জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়।

তিনি বলেন, ‘শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘‘এ’’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’’ নামে পরিচিত ছিল।’


আগের মতো আর অহেতুক কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়: শিল্পমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত বছরগুলোর মতো অহেতুক কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, আগামীতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কেবল সুনির্দিষ্ট আর্থিক উপযোগিতা, জনকল্যাণ এবং ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করেই প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

বুধবার (২৪ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সহযোগিতায় এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।

বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ঋণনির্ভর মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন শিল্পমন্ত্রী। এর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘অতীতে এমন সব প্রকল্প নেওয়া শুরু হয়েছিল, যেগুলোর কোনো ইভেনচুয়াল রিটার্ন বা ভবিষ্যৎ প্রাপ্তি নেই। ৫ টাকার প্রজেক্টে ১৫ টাকা ঋণ করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও উপযোগিতার ক্ষতি করা হয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় এগুলোর উপযোগিতা বিচার করলে মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’

তার ভাষ্য, ‘ঋণ নিয়ে যে অবকাঠামো করা হবে, তার ওপর ভর করে যেন বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আসে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। আগামীতে এডিপি প্রকল্প পাসের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) নীতির পাশাপাশি প্রতিটি বিনিয়োগের একটি স্পষ্ট ও দৃশ্যমান রিটার্ন থাকতে হবে। উদ্দেশ্যবিহীন কোনো প্রকল্প আর নেওয়া হবে না।’

বছরের পর বছর ধরে লোকসানে থাকা এবং অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানাগুলো দ্রুত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলছিলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ৬টিই বন্ধ। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সাপেক্ষে আমরা এগুলো দ্রুত বেসরকারি খাতে দিতে চাই। পুরনো কারখানার জায়গায় যে আগের শিল্পই করতে হবে এমন নয়, বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন শিল্প করবেন।’

তিনি জানান, সরকারি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির তিনটি কারখানায় নতুন বিনিয়োগের জন্য রোড শো করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সার কারখানাগুলো যেন গ্যাসের অভাবে বন্ধ না থাকে, সেজন্য একটি ডেডিকেটেড গ্যাস নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। চিনিকলগুলোতে আখের পরিবর্তে কম সময়ে বেশি লাভজনক ‘সুগার বিট’ ব্যবহারের ফিজিবিলিটি স্টাডিও করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বললেন, ‘নতুন কোম্পানির ব্যবসা শুরু ও মেশিনপত্র আমদানির প্রাথমিক লাইসেন্স পাওয়ার সময়সীমা ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনব। ফায়ার লাইসেন্সসহ অন্যান্য সেবাও যেন অনলাইনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ভোগান্তিহীনভাবে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা হবে।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির ১৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে ১০ শতাংশ হওয়া উচিত। জানালেন, বন্দরে হ্যান্ডলিং দক্ষতা বাড়িয়ে এই খরচ কমানো হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত অনুযায়ী পণ্যের ‘ট্রেসেবিলিটি’ নিশ্চিত করা হবে, যাতে ঠাকুরগাঁওয়ের ১৫ টাকার কৃষি পণ্য কারওয়ান বাজারে এসে অযৌক্তিকভাবে ১১৫ টাকা না হয়। সাপ্লাই চেইনের এই বাড়তি খরচ রুখে দেওয়া হবে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, ‘এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় জিডিপি ও রপ্তানি সক্ষম দেশ হলেও আমাদের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আয়ের বর্তমান বাস্তবতায় এই উত্তরণ যেন টেকসই ও স্থায়ী হয়, সেজন্য আমরা সময়সীমা আরও তিন বছর পেছানোর অনুরোধ করেছি।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। আগামীতে এই খাতে ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পাশাপাশি সিলেট, পাবনার ঈশ্বরদী এবং ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে বিসিক শিল্প পার্ক সম্প্রসারণ করা হবে এবং একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ল্যাব তৈরি করা হবে ঠাকুরগাঁওয়ে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর নীতি বিষয়ক সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।


বিদ্যুৎ সংকট ও কয়লা ব্যবস্থাপনায় স্বস্তির হাওয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

তীব্র গরম এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার মুখে দেশের জ্বালানি খাতে এক স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ প্রায় এক মাস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটটি। ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি দীর্ঘ ২৯ দিনের নিবিড় ও জটিল মেরামত প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সফলভাবে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী শাহ আলম এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই বৃহৎ ইউনিটটি সচল হওয়ায় উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিংয়ের চাপ অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উৎপাদন পরিস্থিতি ও গ্রিডে সরবরাহ: বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির মোট তিনটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে দুটি ইউনিট সচল রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২ নম্বর ইউনিটটি বর্তমানে বন্ধ থাকলেও ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

১ নম্বর ইউনিট: ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই ইউনিটটি থেকে বর্তমানে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

৩ নম্বর ইউনিট: ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই বড় ইউনিটটি থেকে প্রাথমিকভাবে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, কারিগরি কারণে নতুন করে চালু হওয়া ইউনিটের উৎপাদন শুরুতেই সর্বোচ্চ সীমায় নেওয়া হয় না। ধাপে ধাপে এর সক্ষমতা বাড়ানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শুধুমাত্র ৩ নম্বর ইউনিট থেকেই ২০০ মেগাওয়াট বা তার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দুই ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

ত্রুটির ইতিহাস ও মেরামতের নেপথ্য কথা: ২০১৭ সালে চালু হওয়া আধুনিক এই ৩ নম্বর ইউনিটটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিল। প্রায় আট বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর ইউনিটটি প্রথম বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। এরপর থেকেই ইউনিটটিতে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।

চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘ সংস্কার কাজ শেষে গত ২০ মে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, উৎপাদন শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২৫ মে আবারও বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয় ঘটে এবং উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একটি বড় ইউনিট বারবার বিকল হওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চরম চাপ তৈরি হয়।

এরপর গত ২৫ মে থেকে টানা ২৯ দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দেশীয় ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেন। যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করে তা মেরামত করার পর গত মঙ্গলবার রাতে ইউনিটটি আবার সচল করা সম্ভব হয়। প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘৩ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়া আমাদের প্রকৌশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। এর ফলে কেন্দ্রের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’

কয়লাখনির জটিল ব্যবস্থাপনায় বড় স্বস্তি: এই ইউনিটটি সচল হওয়ার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ খাতের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির দীর্ঘদিনের কোল ইয়ার্ড সংকটেরও একটি বড় সমাধান।

কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করা হয়, তা সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কোল ইয়ার্ড রয়েছে। কিন্তু তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় ইউনিটটি বন্ধ থাকায় কয়লার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে কোল ইয়ার্ডে কয়লার স্তূপ জমতে জমতে ধারণক্ষমতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা খনির স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করার উপক্রম করেছিল।

এই সংকটের কথা উল্লেখ করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, খনির কোল ইয়ার্ড-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে খনি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। কয়লা জট কমাতে ইতোমধ্যে ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা কয়লা বিকল্প স্থানে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা বাজারে উন্মুক্ত বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে তিনি যোগ করেন, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটটি যেহেতু দৈনিক বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহার করে, তাই এটি চালু হওয়ায় খনির উৎপাদিত কয়লার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে খনির কোল ইয়ার্ডের ওপর থেকে চাপ কমবে এবং কয়লার সুষ্ঠু, নিরাপদ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা খনি কর্তৃপক্ষের জন্য অনেক সহজ হবে।

দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের তাগিদ: বিশেষজ্ঞদের মতে, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উত্তরবঙ্গের শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে এই কেন্দ্রের ভূমিকা অপরিসীম। ৩ নম্বর ইউনিটটি বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ায় এই অঞ্চলের গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

দীর্ঘ ২৯ দিন পর এই ইউনিটের উৎপাদনে ফেরা নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। তবে এই সাফল্যকে ধরে রাখতে হলে প্ল্যান্টের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ওভারহলিং এবং খুচরা যন্ত্রাংশের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। বারবার যেন একই ত্রুটি দেখা না দেয়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি পরিকল্পনার নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বাজারে দেশীয় কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত জরুরি।


খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) দীঘিনালা ও রামগর ইউনিয়নের পৃথক দুই জায়গায় এ ঘটনা ঘটে। দুই নেতার একজন নিরাপত্তাবাহিনী ও আরেকজন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইউপিডিএফের।

পুলিশ, স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলি হয়। এতে ইউপিডিএফ সদস্য ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। তিনি রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা। একই ঘটনায় মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯) নামের একজন আহত হয়েছেন বলে দাবি ইউপিডিএফের। তার বাড়ি উপজেলার দাতারাম পাড়ায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনী।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, প্রেমতলা এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে ববিন ত্রিপুরা নিহত হন। এ ঘটনায় মংসানু মারমা নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী এখনো নিহতের মরদেহ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান।

অন্যদিকে দুপুরে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ার মুড়োপাড়া এলাকায় গুলিতে সুজন চাকমা (৪৮) নামের এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তবে এ বিষয়ে জেএসএসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিকেল পাঁচটায় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইউপিডিএফ। সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমার সই করা এ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জেএসএসের অস্ত্রধারী কয়েকজন তাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। এ সময় সাংগঠনিক কাজে বাবুছড়ার মুড়োপাড়ায় অবস্থানরত তাদের সদস্য সুজন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার বলেন, সুজন চাকমা বাবুছড়া মুরোপাড়ায় একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় পাঁচজন মুখোশধারী কিছু লোক মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে চলে যায়। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে।


ঢাকাকে ভূমিকম্প সহনশীল করতে ‘মেগা প্ল্যান’

নিয়োগ পাবেন ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাজধানী ঢাকাকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এবং দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা বা ‘মেগা প্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১ লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ এবং ৪৫০টি নির্দিষ্ট ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ বা সমবেত হওয়ার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও আবহাওয়া অধিদপ্তরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত নবম আরবান ডায়ালগ-২০২৬ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য তুলে ধরেন। ডায়ালগ আয়োজন করে আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ।

সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা শহরে ভূমিকম্প মোকাবিলায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের কাজ চলছে, যারা দুর্যোগের সময় ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে কাজ করবে। পূর্বে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর একটি ডেটাবেইস থাকলেও সেটি হালনাগাদ না থাকায় এখন ১৮ বছরের বেশি বয়সী তরুণদের নিয়ে নতুন করে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আরও বলেন, ‘আমরা এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে পুঁজি করে ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) নিয়োগ করতে চাই এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

৪৫০ অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট ও ভারী যন্ত্রপাতি: সচিব বলেন, ভূমিকম্পের পর মানুষ কোথায় সমবেত হবে বা সরকারি সাহায্য কোথায় পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ৪৫০টি জায়গা ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই তালিকা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ৫২ থেকে ৫৪ ধরনের ভারী যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের কাছে থাকা হেলিকপ্টার ও হাসপাতালের বেড সক্ষমতার তথ্যও সংগ্রহের কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রেক্ষাপটে নগর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ব্যাপক আর্থসামাজিক বৈষম্য নিরসনে সুপরিকল্পিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

আরবান ডায়ালগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা ঘোষ নগরায়ণের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক চিন্তা না করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নগরায়ণ নিয়ে ভাবতে হবে, যাতে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা বা মাইগ্রেশন কমে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মানসম্মত শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগীয় পর্যায়ে থাকত, তবে মানুষ কেন এত দূরে আসত?’

জনবান্ধব নগরনীতি বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠানে ১৬ দফা ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য দফার মধ্যে রয়েছে—ভূমি মালিকানার আইনি জটিলতা নির্বিশেষে বস্তিবাসীসহ সব নাগরিকের নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়া মৌলিক অধিকার। পাশাপাশি শহর এলাকায় ক্রমবর্ধমান দাবদাহ মোকাবিলায় একটি ন্যাশনাল হিট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি, কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক চাইল্ড-কেয়ার হাব প্রতিষ্ঠা এবং বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের পৌর ব্যবস্থাপনার মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।


ডিসি সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। এ সময় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করবে বলে জানান মন্ত্রী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে চার দিনের সফরে সিলেট পৌঁছালে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

সিলেট আসার পর বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক মাজার ইস্যু ও জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এবং সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

সম্প্রতি কাতারে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।


ঝিনাইদহে ওয়ালটনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন শতাধিক মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে ওয়ালটন প্লাজা। বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের অগ্নিবীণা সড়কে অবস্থিত ওয়ালটন প্লাজায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পে শহরের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০০ জন গ্রাহক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা দেন কালীগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আলী রেজা তপু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার রিফাত হাসান খান, চুয়াডাঙ্গা মোড় শাখার ম্যানেজার সাদিক-ই-নুর, ঝিনাইদহ প্লাজার ম্যানেজার তোতা মিয়া, হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হ্যাপিনেস অফিসার আলী মুরাদ খান শুভ, জাকারিয়া হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষরা। তারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, ওয়ালটন প্লাজা শুধু ব্যবসায়িক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো ঝিনাইদহেও এই বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।


ঝালকাঠি জেলায় ৮২ হাজার শিশু পাচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

টিকা সংকটে প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন ঝালকাঠি জেলায় ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত একটি সভায় বুধবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ক্যাম্পেইন। এদিন ঝালকাঠির চারটি উপজেলার সকল ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে একযোগে ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সি ১০ হাজার ১১ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সি ৭২ হাজার ৪৯০ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে।


কুড়িগ্রামে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী পরিদর্শন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

‘বদলে যাচ্ছে কৃষিটা রোজ, নতুন প্রযুক্তিতেই সাফল্যের খোঁজ’ এই স্লোগানে সফল কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার উদ্ভাবনী পরিদর্শন করানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বুধবার (২৪ জুন) সকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় আরডিআরএস বাংলাদেশ কৃষকদের এই সফরের আয়োজন করে।

উপজেলার বিএডিসি, খামার, সমন্বিত আদর্শ খামার, আধুনিক কৃষি নার্সারি পরিদর্শন করানো হয়। এ সময় কুড়িগ্রামের ৩৫ জন লিড কৃষকদের আধুনিক নার্সারি, সমন্বিত কৃষি খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি সরাসরি প্রদর্শনের জন্য সফল ও আদর্শ কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করে আরডিআরএস বাংলাদেশের স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট কৃষি ইউনিট।

আরডিআরএস-এর টেকনিক্যাল অফিসার কৃষিবিদ সজিব আহমেদ জানান, লিড ফার্মারদের এক্সপোজার ভিজিট বা অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর হলো কৃষকদের জন্য একটি প্রায়োগিক শিক্ষা কার্যক্রম, যার মূল উদ্দেশ্য ‘দেখা এবং বিশ্বাস করা’ এর মাধ্যমে নির্বাচিত মডেল ও সফল খামারিদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করা হয়।

‎উক্ত আয়োজনে সমন্বিত কৃষি খামারের পাশাপাশি কৃষকরা বিএডিসি পরিদর্শন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান ও কৃষিবিদ জলিল উদ্দিন।

এ সময় বিএডিসি’র কার্যক্রম, আধুনিক বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিপণন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান, কীভাবে কৃষক বিএডিসি থেকে উপকৃত হতে পারে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।‎


খুলনায় নবীন আইনজীবীদের পরিচিতি সভা ও সংবর্ধনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ২০২৬ সালে তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের নিয়ে পরিচিতি সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে সমিতির লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন আইনজীবীদের ফুল ও আইডি কার্ড প্রদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. মাসুম রশিদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু। বক্তারা নবীন আইনজীবীদের আইনপেশার মর্যাদা, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তারা বলেন, ‘আইনপেশা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক মহান দায়িত্ব। তাই পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার চর্চাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, শেখ আব্দুল আজিজ ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এ কে এম শহিদুল আলম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আসাদুল আলম, ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা গোলাম মাওলা, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার (খোকন), মাহফুজুর রহমান, অ্যাডভোকেট হালিমা আক্তার খানম এবং অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান খানসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. মাসুম রশিদ নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আইনপেশা শুধু জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্র নয়, এটি ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক মহান দায়িত্ব। একজন আইনজীবীর পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহসিন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মো. মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এম তহিদুজ্জামান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুন্নাহার নাজমুন্নেছা জেবা, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এবং সমিতির বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


ভাত না খেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন ১৩ বছরের কিশোর বাঁধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

যেখানে আর দশজন ভাত খেয়ে বেঁচে আছে, সেখানে জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত ভাত না খেয়েই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন কিশোর বাঁধন।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার দুর্গম পল্লী চলনবিল অধ্যুষিত গ্রাম বেড়াবাড়ি। এই গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার পুত্র বাঁধন (১৩)। ২ বোনের ১ ভাই বাঁধন।

বড় বোন বর্ষা, ছোট বোন রুবি। বাঁধনের বাবা একজন দিনমজুর। বর্ষাকালে শ্যালো নৌকা চালিয়ে সংসার চালান। বাবা অসুস্থ হলে বাঁধন ও নৌকার হাল ধরেন। সে ও বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। বাঁধন বিয়াশ উচ্চবিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আর সবার মতো সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার জন্ম। জন্মের পর তার কোনো সমস্যাই ছিল না। সমস্যা শুরু হয় ‘মুখে ভাত’ খাওয়া নিয়ে। সবাই যখন তার মুখে প্রথমবার ভাত দিতে যায়, তখন সে মুখে ভাত দিলেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয় এবং বমি করে ফেলে। এতে করে বিব্রত হয়ে পড়ে তার পরিবার।

পরিবারের লোকজন ভাবে আরেকটু বড় হোক তখন ভাত খাওয়ানো যাবে। দুই বছর পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খেয়েই বড় হয় সে। এরপর তাকে আবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তখনো সে ভাত খেতে চায় না। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলেই বমি করে দেয়। যদিও পরিবারের কেউ তাকে ভাত খাওয়ানোর আর চেষ্টা করেনি। তবে ডাক্তার আর কবিরাজের কাছে গিয়েছেন কয়েকবার। কিন্তু কোনো চিকিৎসায় কাজ হয়নি।

বাঁধনের মা বলেন, ‘আমরা ভাত খাই তখন সে রুটি, মুড়ি কিংবা শুধু সবজি খেয়ে থাকে। আমাদের সাথে ভাত খেতে বসে না। সকালে মুড়ি, দুপুরে সবজি দিয়ে রুটি, রাতে মুড়ি খেয়ে থাকে। মুড়ি না থাকলে না খেয়ে থাকতে হয়। তবুও সে ভাত খাবে না।’

বাঁধনের বাবা বুদ্দু জানান, তার ছেলে ছোট থেকেই এই সমস্যা। শুকনো খাবার খেয়ে থাকে। ভেজা খাবারে চাহিদা নাই। ভাতের আশেপাশে থাকে না।

হয় তাকে আগে খেতে দিতে হয়। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সে শুধু মাংস খায়।

বাঁধন বলেন, ‘আমি ছোট থেকেই শুকনা খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ভাত খেতে পারি না। ভাত খেলেই বমি হয়। কেন হয় বলতে পারি না। বাবা, মা ভাত খাওয়ার সময় দূরে দূরে থাকি। আমি তাদের আগে কিংবা পরে মুড়ি, রুটি খেয়ে নিই।’

বিয়াশ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শোনেছি। সে আমার স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি কম। তার ভর্তি রোল ৬১, স্কুলে নিয়মিত হলে তার বিষয়ে আমাদের আলাদা কেয়ার থাকবে।’


banner close