বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

গরুর ঘরে মিলল ইয়াবা

ইয়াবা ও নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তার দুই মাদককারবারি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:১৬
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:১৪

রাজবাড়ীতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ অর্থসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, ওই ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের খোকন বেপারীর ছেলে আজিজুল বেপারী (৩৮) ও হোগলাডাঙ্গী গ্রামের খোকন শেখের ছেলে মিজান শেখ (৩৮)।

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কল্যাণপুরে আজিজুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার বাড়ির গরুর ঘরে (গোয়াল) তল্লাশি চালিয়ে আট শ’ পিস ইয়াবা ও একটি বাজারের ব্যাগে রাখা তিন লাখ ৮২ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়:

ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ঝড়ল আরও ১০ প্রাণ

* নিহতের অধিকাংশই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশু * চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধস, ২ শিশুর মৃত্যু
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পাহাড় ধসে আটজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। মোট নিহতে সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে স্থানীয়দের দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসার ওপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই শুরু হয় আতঙ্ক।

নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা। নিহত বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। কারও মতে সেখানে ৩০ থেকে ৫০ জন, আবার কয়েকটি সূত্রের দাবি ৮০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত শিশু উপস্থিত ছিল। তবে ঠিক কতজন ভেতরে ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাহাড় ধসের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকেই কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জনকে নিরাপদে বের করে আনার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। উদ্ধারকারীদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক আটজন শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন।’

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে হতাহতদের চূড়ান্ত কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। আহত অন্তত দুজন। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দে ধসে পড়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশের মাটি। আর তাতে চাপা পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ঘরের ১০ বছর বয়সি শিশু সামিয়া। আহত হয় আরও অন্তত ২ জন। ঘটনার পরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় নিহত ও আহতদের। এর আগে, সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ৬নং সমাজে কাঁচা ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে মৃত্যু হয় ১০ মাস বয়সি আরেক শিশুর।

এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় পাহাড় ধসে মোট ১১ জনের মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা।


অবনতির দিকে বন্যা পরিস্থিতি, বাড়ছে উদ্বেগ

* ফুঁসছে মুহুরী-কহুয়া নদী, ফেনীতে উদ্বেগে লাখো মানুষ * সুনামগঞ্জে বাড়ছে সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা নদীর পানি * টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি * জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছাব: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া, রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, দেশের ৪ বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বুধবার (৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলায় এসব নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩ দিন এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

পূবার্ভাসে আরও বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল ছিল। তবে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

ফুঁসছে মুহুরী-কহুয়া-সিলোনীয়া নদী, ফেনীতে বন্যার শঙ্কা:

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার শঙ্কায় লাখো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। অনেক সময় গভীর রাতে হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু, আমনের বীজতলা, মৎস্য ঘের ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবারও নদীর পানির তীব্রতা দেখে তীরবর্তী মানুষের রাত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।

জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অঞ্চলটিতে বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক নদীর বাঁধ ও পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি:

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পাওয়া তথ্যানুযায়ী সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে ৩৩ ও ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার মধ্যনগর উপজেলার মহেশখলা এলাকায় ১০২ মিলিমিটার ও দিরাই উপজেলা সদর এলাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট বিপৎসীমার ১.০৮ মিটার নিচ দিয়ে ৬.৭১ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে।

ছাতক উপজেলার সদর এলাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ০.৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও তিন দিন অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় সুরমা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি:

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এই টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। নদীর তীরবর্তী বসতঘর এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে লামা-আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া ও শীবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়দের ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় করে পারাপার হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া নদীতীর, পাহাড়ের পাদদেশ ও প্লাবিত সড়কে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি স্রোত স্বাভাবিক না হওয়ার পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।’

জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ:

টানা ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী চার জোড়া ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এগুলো হলো সৈকত এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, প্রবাল এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস।

টানা বর্ষণে নগরের মুরাদপুর এলাকার সুন্নিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন স্থানে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ষোলশহর-জান আলীহাট সেকশনে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রেন চলাচল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


কাঁচপুরে যাচ্ছে সায়েদাবাদ টার্মিনাল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ থেকে বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরের একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড’ বাস্তবায়ন করবে। আগামী চার মাসের মধ্যে টার্মিনালের কাজ শেষ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাবটিতে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ‘কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড নির্মাণ, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ’ কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাঁচপুরে প্রস্তাবিত টার্মিনালটি আগামী চার মাসের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে স্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেয়।

প্রস্তাবিত কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দেয়।

প্যাকেজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর আওতায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম ঢালাই ও টাইলস স্থাপন, শেডের ছাদের জন্য ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট স্থাপন, ১২০টি টিকিট কাউন্টার নির্মাণ, ৩২টি টয়লেট নির্মাণ এবং টিকিট কাউন্টার ও চারপাশে পার্টিশনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।


পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৯ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

বুধবার (৮ জুলাই) সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আরও কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনা। এর একদিন আগে জিয়ারাত জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক এক সংঘর্ষে নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশটি বহু বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)-এর গুরুত্বপূর্ণ রুট। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে প্রদেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।


মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সচিব বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সচিব আরো বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর-এর অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।


কমলগঞ্জে বনবিভাগের অভিযানে অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ, দখলমুক্ত ৩.২৯ হেক্টর বনভূমি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা একটি বিশাল অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জিসংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় এ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ৩ দশমিক ২৯ হেক্টর (প্রায় ৮ একর) বনভূমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি আনুমানিক এক হাজার পানের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংরক্ষিত বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভূমি গ্রাসকারীদের হাত থেকে বনভূমি ফিরিয়ে আনতে তাদের এই নিয়মিত কার্যক্রম।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩.২৯ হেক্টর বনাঞ্চল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করেছি। বনের পরিবেশ ধ্বংস করে যারা এই বাগান গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি পিওআর (POR) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সঙ্গীয় বনরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বনের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ চাষাবাদ ও দখলদারিত্ব উচ্ছেদে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পুশইনের ১ বছর পর চার ভারতীয় নাগরিককে ফেরত নিল বিএসএফ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রায় এক বছর বাংলাদেশে অবস্থানের পর কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার হওয়া এক শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিককে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরত যাওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, এক যুবক, এক কিশোর ও এক শিশু। দীর্ঘদিন পর নিজ দেশে ফিরতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারই থানার ছয় বাসিন্দাকে বাংলাদেশি পরিচয়ে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন দুই নারী, দুই শিশু ও দুই পুরুষ।

পরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় নেন। গত বছরের ২০ আগস্ট সদর থানা পুলিশ তাদের শহরের আলীনগর এলাকা থেকে আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারক স্থানীয় জিম্মাদার ফারুক হোসেনের জিম্মায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

সেদিন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার শিশু সন্তানকে সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে গ্রহণ করে বিএসএফ। তবে তার স্বামীসহ বাকি চারজনকে গ্রহণ না করায় তারা বাংলাদেশেই অবস্থান করছিলেন। অবশেষে প্রায় এক বছর পর বুধবার (৮ জুলাই) তাদেরও ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


টানা বর্ষণে মুক্তাগাছা শহরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে অতি বর্ষণে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকান ঘর ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিচু এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তার ওপর এক হাটু পানি জমে জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় ব্যাপক দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়। যানবাহনের স্বল্পতা ও রাস্তায় পানি থাকায় পরীক্ষার্থীদের কাপড় ভিজিয়েই পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হয়েছে।

মুক্তাগাছা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাই এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু স্থানে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকার রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তা ছাড়া ব্যটারিচালিত অটোরিকশাগুলো পানিতে চালাতে গিয়ে মটর বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অটোরিকশাচালকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব তানজীল জানান, পৌরসভার ড্রেন মেরামত ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য পৌর প্রশাসককে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিশেষ করে বড় মসজিদ রোডে হাজী শুকুর আলীর নির্মাণাধীন মার্কেট তৈরির নির্মাণসামগ্রী তিন বৎসর যাবৎ রাস্তায় রেখে মার্কেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বৃষ্টি হলেই মার্কেটে তৈরিতে ব্যবহৃত বালু ও সুরকি ভেসে গিয়ে ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তাগাছা বড় মসজিদ, দরিচারিআনী বাজার ও আটানী বাজার রোড এলাকায় রাস্তার ওপর পানি জমে যাওয়ায় মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া, সাধারণ মানুষের দরিচারআনী বাজার ও আটানী বাজারে যাওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া একজন প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করাও অনেকটা কষ্টসাধ্য।

জলাবদ্ধতার নোংরা পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।


অবকাঠামো সংকট ও অনিশ্চয়তায় সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক

* দুই বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় বাড়ছে বিনিয়োগ সংকট * ব্যাংক ঋণের বোঝায় দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য ৫৫০টি প্লট এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ২৭৯ প্লট বরাদ্দ নির্ধারণ করে বিসিক শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষ।

তথ্য বলছে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিকট গত বছরের ২৮ জুন অধিকাংশ প্লট হস্তান্তর করা হলেও চীনা উদ্যোক্তারা আজও বুঝে নেয়নি প্লট।

দেশীয় উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পূর্ণ না হওয়ায় আজও শুরু করতে পারেনি শিল্প কারখানা স্থাপন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণ ও প্লট বরাদ্দের কিস্তি পরিশোধ করে কারখানা স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারিত প্লট বরাদ্দ নিয়ে সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্কে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিরন্ময় বর্ধন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। ভিজুয়াল বক্তব্য দেওয়া নিষেধ রয়েছে।’ ভিজুয়াল বক্তব্যের বিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজিদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে বক্তব্য প্রদানে। আপনাকে হিরন্ময় বর্ধন বক্তব্য দিতে পারবে না। এ সময় তিনি আরও জানান, যারা এখনও শিল্প পার্ক স্থাপন করেনি, অতিদ্রুত শুরু না করলে, তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।

এ সময় দেশীয় উদ্যোক্তা রনি জানায়, কেবল ৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে, নেই স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ। পানি, গ্যাস সংযোগ কোনো ব্যবস্থা নেই, প্লটগুলোর মাটির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আগামী চার বছরেও কারখানা চালু করতে পারব কি না বলতে পারছি না। ব্যাংক ঋণ ও প্লট বরাদ্দের কিস্তি পরিশোধ করে কারখানা স্থাপন করে কীভাবে উৎপাদনে যাব এ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

সূত্র বলছে, স্থানীয় উদ্যোক্তারা রয়েছে চরম হতাশায়। গত বছর ঘটা করে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিসিক শিল্প পার্কের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু একটা সময় চীনা কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও, সম্প্রতিক সময়ে আর কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ।

বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে বর্তমানে চীনা উদ্যোক্তাদের কী অবস্থা, তাদের সঙ্গে প্লট বরাদ্দের কোনো চুক্তি হয়েছিল কি না, যদি না করা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান অগ্রগতি কী? প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, একটা সময় তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল, এজন্য প্লট নির্ধারণ ছিল। তারা প্লট নিবে কি না, তা জানার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তারা যদি প্লট না নেয় তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের দেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের প্লট এলাকার বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়ে আছে, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম এবং নকশার ত্রুটি থাকায় প্রকল্পের মাঝখানে ২০ একর পুকুর পড়ে আছে, কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করেও ইজারা হয়নি, প্রকল্প শেষের দুই বছরেও হয়নি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ লাইন।

ফ্যাসিস্ট আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনসহ একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি সত্ত্বেও শতভাগ বিল দেওয়া হয়; এতে প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে বিসিকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শিল্প পার্ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা তথ্য উঠে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইউনুস সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামও। সূত্র বলছে, বিসিক চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ।

তবে অনুসন্ধান বলছে, ২০২৪ সালে শিল্প পার্কের নির্মাণ কাজ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যেখানে হেরিং বোন বন্ডে নিম্নমানের অর্ধাংশ ইট ব্যবহার, নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি, টেন্ডার শর্তের বাইরে কাজ করা, কার্পেটিংয়ের কাজ ৭৫ মি.লি. ধরা থাকলেও কোথাও ৬০ মি.লি. থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ মি.লি. কার্পেটিং করার বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় সাববেজের মান নিয়েও নানা অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বছরের ব্যবধানে ব্যবহারের আগেই প্রায় শত কোটি টাকার রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের জুন মাসে প্রায় ২শ কোটি টাকার বিল দেয় বিসিক কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তে নামে দুদক এবং বিসিক। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। তবে ওই তদন্ত নিয়েও কিছু জানা যায়নি। ২০২৫ সালের ১৬ আগষ্ট বিসিক শিল্প পার্কের প্রধান পরিচালক আব্দুল মতিন ও বিসিক শিল্প পার্কের একাধিক কর্মকর্তা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদেরকে বিসিকের ড্রেন, ড্রেনে ব্যবহৃত মালামাল, রাস্তার পুরুত্ব, রাস্তায় ব্যবহৃত মালামাল ও প্রকল্প এলাকার বালু ব্যবহার করে সাববেজ ও সোলডারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ সময় তড়িঘরি করে গাড়িতে উঠে চলে যান তারা।

সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ড্রেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স লি.-কে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করার কারণে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও তা আজও আদায় করতে পারেনি বিসিক।

যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার অংশ নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্প পার্কটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করে সর্বশেষ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। শিল্প পার্কের ৮২৯টি প্লটে কমপক্ষে ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।


নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারকে চেক প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত ১১টি পরিবারকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটি) কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৪১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসান, বিআরটিএ নরসিংদী সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বখতিয়ার উদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক মো. রাসেল আহমেদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মিনহাজ উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহতের স্বজন ও আহতদের প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে অনুদানের টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বিআরটি সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে ট্রাস্টি বোর্ড আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করে।


গাংনীতে গরুবোঝাই ট্রলি উল্টে নিহত ১, আহত ১০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনীতে গরুবোঝাই একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) নামে ট্রলিচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রলিতে থাকা আরও ১০ জন আরোহী আহত হয়েছেন।

​ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

​আহতরা হলেন, মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪৫), সাবদার আলী (৫০), রফিকুল ইসলাম (৫০); চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৫০), ওসমান আলী (৪৮), ইসরাফিল হোসেন (৫০); যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫), বামনপাড়া গ্রামের রাজা হোসেন (৪০), শহিদুল ইসলাম (৩৫) এবং রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আহমেদ (৩৫)।

​আহত শহিদুল ইসলাম জানান, তারা মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই ট্রলি নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুর হাটে যাচ্ছিলেন। পথে রাইপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।


জীবননগরে বিদেশি পিস্তল ও এসকাফ সিরাপ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী বিওপির হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল জীবননগর উপজেলার সীমান্ত পিলার ৭০/৬-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের জসিম উদ্দিনের বাঁশবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক চোরাকারবারীকে ধাওয়া করলে সে একটি প্লাস্টিকের নেটের বস্তা ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বস্তাটি তল্লাশি করে ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।


দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের কারণে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিরূপ আবহাওয়া, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াতে সৃষ্ট পরিবহন সংকট বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবারের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।

স্থগিত হওয়া ক্লাস ও পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।


banner close