গাছের গুঁড়িগুলো ট্রাকের ওঠানোর আগেই চাঁদা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেছেন কাঠ ব্যবসায়ী জয়নাল হোসেন। এই কাঠবোঝাই ট্রাক নিয়ে যাবেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এই পথটুকু পাড়ি দিতে প্রকাশ্যে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন একটি আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী গ্রুপকে। তাতে যে টোকেন মিলেছে, সেটি দেখিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ নির্দ্বিধায় পাড়ি দিতে পারবেন জয়নাল।
কিন্তু এই টাকা দেয়ার পর তার কত টাকা লাভ থাকবে? প্রশ্নের জবাবে জয়নালের সাফ উত্তর, এতটুকু হলেও চলত! কিন্তু এভাবে নিতে হয়েছে আরও তিনটি টোকেন। তাদেরও দিতে হয় ৮ হাজার, ৫ হাজার আর ৩ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে যা থাকে তাতে ব্যবসার করে সংসার চলে না।
বাংলাদেশ খাদ্য ও কাঠ পরিবহন ঠিকাদার সমিতির নেতারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ও বান্দরবান-খাগড়াছড়ি জেলা অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ফেডারেশনের ঠিকাদারদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। স্বেচ্ছায় চাঁদা না দেয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি ও রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়িতে কাঠবাহী ট্রাক আটকে রেখে দুষ্কৃতকারীরা ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না পেলে ভি-ইনভয়েস ছিনিয়ে নিয়ে চালককে মারধর এবং পণ্যবাহী ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যবসা করতে হলে আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদা দিতে হয়। কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই প্রতিদিন চলে কোটি কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য। শহরের ছোট বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ সবাই জানে কে বা কারা নিচ্ছে এসব টাকা। শুধু জানে না প্রশাসন। অবশ্য প্রশাসনের রয়েছে উল্টো যুক্তি। তারা বলছেন, সব জেনেও নিরুপায় তারা। পাহাড়ের গভীর অরণ্যে নিয়ন্ত্রণ নেই তাদের।
জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেসামাল। এখানে অনেক কিছু প্রশাসনিকের চেয়ে রাজনৈতিক। সবকিছু মিলে পাহাড়ের পরিবেশটি আমাদের কাছে অস্বস্তিকর।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নামে একটি আঞ্চলিক সংগঠন ছিল। সেটি ভেঙে তিনটি আঞ্চলিক সংগঠন জন্ম নেয়। এগুলো হলো জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। বর্তমানে এই চারটি সংগঠন পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আছে। প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উঠে আসে এই চার সংগঠনের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নাম। সংগঠন চালাতে তারাই করে এসব চাঁদাবাজি। তাদের মধ্যে জেএসএসের চাঁদার পরিমাণটাই সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিন ঘুরে অভিযোগ পাওয়া যায়, পাহাড়ে উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদার, কাঠ-বাঁশ ব্যবসা, পরিবহন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, চাষাবাদ-ফসল, পোষা প্রাণী বিক্রি, চোরাকারবারি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা উৎস থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে আঞ্চলিক দলগুলো। যদিও এসব অভিযোগ স্বীকার করে না কোনো সংগঠনই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির (এম এন লারমা বা সংস্কার) গবেষণা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দিবাকর ত্রিপুরা বলছেন, ‘আমরা চাঁদা নিই না। তবে পার্টি পরিচালনা করতে কিছু সহযোগিতা নিয়ে থাকি। এটিকে আমরা চাঁদা বলি না। অন্যরা কে, কী করে, আমি তা বলতে পারি না।’
সন্ত্রাসীদের চাঁদার আওতায় সবাই
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই একটি সূত্র বলছে, সংগঠনগুলো প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা, সরকারি-আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, এনজিওগুলোর কাজের ওপর ১০ শতাংশ, ঠিকাদারি কাজের ওপর ১২ শতাংশ, মোবাইল কোম্পানিগুলো থেকে বছরে ২ লাখ টাকা করে, প্রতি ইটের ভাটা থেকে বছরে ১ লাখ, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘনফুটে ৫০ টাকাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে সংগঠনগুলো।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো চাঁদাবাজি করেই তাদের সংগঠন টিকিয়ে রাখে। এখানে অন্যতম একটি সমস্যা হলো কেউ অভিযোগ করেন না। এই অনিয়মকে তারা নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। ভাবেন চাঁদা দিয়ে টিকে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশ তাদের মতো করে চেষ্টা করছে। যখন যেখানে অভিযোগ পাচ্ছে ছুটে যাচ্ছে।
বছরে চাঁদার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। স্থানীয় চারটি সশস্ত্র সংগঠন চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। আগে মোট চাঁদার অর্ধেকের বেশি তারা সরাসরি সংগ্রহ করত। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চাঁদার অর্থ লেনদেন করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করাটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজির বিষয়ে ভুক্তভোগী কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কথা বললেই প্রাণ হারানোর ভয় তাড়া করে চাঁদাবাজির শিকার পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের মধ্যে। আর পাহাড়ে যত হত্যাকাণ্ডে হচ্ছে, তার পেছনের অন্যতম কারণ এই চাঁদাবাজি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, যেখানে ২৫ বছর আগে শান্তি আসার কথা ছিল, সেখানে শান্তি তো নেই বরং অশান্তি বেড়ে গেছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী আর বাঙালিদের। এই পরিস্থিতি থেকে বের করতে চাইলে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে এক কিলোমিটার পরপর বিওপি স্থাপন করতে হবে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে অর্থই অনর্থের মূল। নানা উৎস থেকে চাঁদাবাজি করে অর্থের পাহাড় গড়তে মরিয়া আঞ্চলিক দলগুলো। তাই আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্র মজুত করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুরে ভ্যান চুরির অভিযোগে দুদু (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাতে কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা হাউসপুর বটতলা এলাকায় মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক। স্থানীয়দের দাবি, চুরির সূত্র ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্তর, সুমন, আশিকসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে দুদুর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। সামান্য চুরির অভিযোগে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অকাল প্রয়াত হওয়া দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ওই গ্রামেই তাঁর নানীর বাগান বাড়ির আঙিনায় তাকে সমাহিত করা হয়।
তিনি জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ ও লোপা কায়সার দম্পতির কন্যা এবং গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া সরকার বাড়ির মৃত ডা. আবুল খায়ের বাচ্চু ও ডা. জোহরা খানম পারুলের নাতনী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় রোববার রাতের সব আনুষ্ঠানিকতা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনগণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাতেই কারিনার মরদেহ নিয়ে আসা হয় গজারিয়ায়। তাঁর নানা বাড়ি পুরান বাউশিয়া গ্রামে হলেও নানী ডা. জোহরা খানম পারুলের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাগানবাড়িতে মরদেহ রাখা হয় এবং সেখানেই দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্রিয় তারকা ও এলাকার নাতনিকে শেষ বিদায় জানাতে স্থানীয়ভাবে মাইকিংও করা হয়েছিল। সোমবার সকালের জানাজায় স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। তবে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আবহে সম্পন্ন করা হয়। সেখানে মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
দাফন শেষে প্রয়াত কারিনা কায়সারের ছোট ভাই সাদাত হামিদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, "ঢাকায় তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা ছিলেন। তবে দাফনের সময় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো মিডিয়াকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা মূলত প্রচার ও অতিরিক্ত লোকসমাগম থেকে কিছুটা আড়ালে থাকার জন্যই গ্রামে এসেছি। আশা করি আপনারা আমাদের মানসিক অবস্থা ও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।"
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন লিভারজনিত জটিলতায় গত শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন কারিনা। রোববার (১৭ মে) বিকেলে বিমানযোগে তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে পিতা কায়সার হামিদসহ স্বজনরা অশ্রুসিক্ত নয়নে মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর ঢাকায় জানাজা ও শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গজারিয়ায় আনা হয়।#
খুলনার কয়রা উপজেলায় ঔষধ ব্যবসায়ী ভবতােষ মৃধা (৪০) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে চােরচক্র। নিহত ভবতােষ মৃধা মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরীপুর গ্রামের যশাে মৃধার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ মে (সােমবার) রাত আনুমানিক ১ টার দিকে একদল চাের সিদ কেটে তার ঘরে প্রবেশ করে। এসময় ভবতােষ মৃধা বিষয়টি জানতে পারলে চােরচক্র তাকে ধারালাে অস্ত্র দিয়ে এলােপাতাড়ি কুপিয়ে শ্বাসনালি কেটে দেয়। এসময় তার স্ত্রী বাধা দিলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে।
পরে স্থানীয় লোকজন ভবতােষ কে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘােষনা করেন। এঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়রা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শাহ আলম বলেন, ব্যবসায়ী ভবতােষ মৃধা হত্যার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ সমাজকে সংগ্রামে নামতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা বিজয়ী হন। রাজনীতিবিদরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে থাকেন। তরুণ-যুবকদের হাত ধরেই দেশের পরিবর্তন ঘটবে উল্লেখ করে তিনি বলেন সেই সংগ্রামে আমরাও যুক্ত থাকবো।
কেসিসি প্রশাসক গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর ১৯নং ওয়ার্ড অফিসে ‘রঙমহল ফর ইয়ুথ’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। সংগঠনটি শিশু সুরক্ষা, যুব ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু সুবিচার বিষয়ে কাজ করছে।
‘‘তরুণদের কন্ঠ থেকে কমিউনিটির পরিবর্তন’’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শহর বিনির্মাণে তরুণ-যুবকদের সহযোগিতা প্রয়োজন এবং তাদের যুক্ত করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। মাদকের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি নিজ সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য পিতা-মাতার প্রতি আহবান জানান। আমাদের সন্তানরা ভালো থাকলে আমারও ভালো থাকবো এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথও সুগম হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: আলভী শেখ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ ও শিক্ষিকা রেহেনা ঈসা। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী রায় ও জাবিন তাছকিন। নিজ জীবনের পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেন রহিমা খাতুন ও শিমলা দাস।
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতরা হলেন কলাগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা চিত্ময় দাস, তাঁর স্ত্রী ইশা দাস এবং তাঁদের মাত্র আট মাস বয়সী শিশুসন্তান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমিরাবাদ এলাকায় সান্তনা রানী চন্দ নামের এক নারীর বাসায় গত তিন বছর ধরে ভাড়া থাকছিলেন মিষ্টি বাড়ৈ নামের এক নারী। রবিবার বিকেলে চিত্ময় দাস তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় বেড়াতে আসেন এবং নিজেকে মিষ্টি বাড়ৈর চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর মধ্যরাতে ওই বাসা থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে বিছানা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানিয়েছেন যে, ঘটনার সময় মিষ্টি বাড়ৈ পাশের কক্ষেই অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর ফোন পেয়েই পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা; তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।’ তবে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মিষ্টি বাড়ৈকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে মরদেহগুলো মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৭ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাথর আমদানিতে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য) টনপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ১৩ ডলার থেকে ১৫ ডলার নির্ধারণ করায় গত ১ মে থেকে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এ সংকট নিরসনে দুই দফা বৈঠক করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বন্দরের আট হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্দরে পাথরবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে নীরবতা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে আসত। তবে দীর্ঘদিন ধরে ফল আমদানি বন্ধ থাকায় ট্রাকের সংখ্যা কমে আসে। বর্তমানে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন মাত্র ১০০ ট্রাক বন্দরে আসছে।
আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘বাড়তি ২ ডলার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু পরিশোধ করে পাথর আমদানি করলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কারণ আমদানি পাথরের ২০-৩০ শতাংশ নিম্নমানের হওয়ায় তা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারযোগ্য থাকে না।’
ভারতীয় রপ্তানিকারকদের এমন সিদ্ধান্তে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। অচলাবস্থার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক, দ্রুত সমাধান না হলে তাদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে শুল্কায়ন মূল্যের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নামবে।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ স্বাক্ষরিত এক প্রেস নোটে জানানো হয়, গত ৯ মে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে টনপ্রতি অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১৫ ডলার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পানামা পোর্ট-এর ম্যানেজার মো. মাইনুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার মহদীপুর স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সভায়ও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বশেষ রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর ও বাংলাদেশের সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না আসায় পাথর আমদানি বন্ধই রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর মো. শওকত আলী নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়ার মৃত মিজানের ছেলে। গত শনিবার রাতে সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চর থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. মতিউর রহমান।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৯ মে অন্যদের সঙ্গে গরু আনার জন্য ভারতের দিকে যান শওকত আলী। সহযোগিরা ফিরে এলেও নিখোঁজ ছিলেন তিনি। গত রাতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে গোপনে দাফনের প্রস্ততি নিলে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে স্থানীয়দের দাবি গরু নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফ হত্যা করে শওকতের মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বিএসএফ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়েন অধিনায়ক অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না। ঘটনাটি তদন্তে বিজিবি কাজ করছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বরগুনার আমতলীর পশুর হাটগুলোতে গরুর সরবরাহ বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে সেই তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় হতাশায় পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বড় আকারের গরুর ক্রেতা না থাকায় দাম কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা।
রোববার ও এর আগেরদিন শনিবার আমতলীর বিভিন্ন গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু কিছুটা বিক্রি হলেও বড় গরুর সামনে ভিড় নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় দীর্ঘ সময় গরু নিয়ে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, গত বছরের তুলনায় প্রতি গরুতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দাম উঠছে।
আমতলী প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ হাজার ৮১৩টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৭০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৯১২টি গরু, ৫৯৫টি মহিষ এবং ২ হাজার ৫৬৩টি ছাগল। চাহিদার তুলনায় ২৫৭টি পশু বেশি রয়েছে উপজেলায়।
আমতলী গরুর বাজারের পরিচালক আলাউদ্দিন মৃধা বলেন, যারা সাধারণত কোরবানির গরু কিনতে আসেন, তাদের অনেকেই এখনো এলাকায় ফেরেননি। ফলে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। শেষ মুহূর্তে হয়তো কিছুটা চাপ বাড়তে পারে।
বাজারে গরু নিয়ে আসা খামারিদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট। স্থানীয় খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার খামারের ‘রাজ বাহাদুর’ নামের গরুটি বাজারে এনেছি। সাড়ে তিন লাখ টাকা দাম চাইলেও ক্রেতারা দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি বলছেন না।
দক্ষিণ সোনাখালী গ্রামের কবির জোমাদ্দার জানান, ১৫ দিন আগে তিনটি গরু এক লাখ ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। এখন একটি গরু মাত্র ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি দুটি গরুরও কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।
কাঠালিয়া গ্রামের জামাল প্যাদা বলেন, গত বছরের তুলনায় বাজারে গরুর দাম অনেক কম। এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা দাম চাইলেও ক্রেতারা এক লাখ টাকার বেশি বলতে চান না।
অন্যদিকে ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় তারা কম দামে ভালো গরু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। পৌরসভার খোন্তাকাটা এলাকার জুনায়েদ সাদ বলেন, বাজারে গরু অনেক। দামও তুলনামূলক কম। তাই দেখে-শুনে স্থানীয় গরু কিনব।
এদিকে, পটুয়াখালীর ব্যবসায়ী কামাল আকন বলেন, গত সপ্তাহে আমতলী থেকে ২১টি গরু কিনে কুষ্টিয়ায় নিয়ে বিক্রি করেছি। কিন্তু তেমন লাভ হয়নি। বাজারে যে পরিমাণ গরু এসেছে, সেই তুলনায় ক্রেতা খুবই কম।
গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী ধলু মিয়া বলেন, এক মাস আগে পাঁচটি গরু ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। এখন বিক্রি করলে মূলধনের টাকাও উঠবে না। এর মধ্যে এক মাস খাবারের খরচও গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের আশা, ঈদের আগের শেষ দুই দিনে বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়লে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
রূপগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজারের মত। এর বিপরীতে বিভিন্ন খামারে মজুত রয়েছে ২৫ হাজার পশু। ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে খামারিদের। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে লাভের মুখ দেখার আশা তাদের। আর পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে পশু বেছে নিতে আগেভাগেই খামারে প্রান্তিক চাষিদের বাড়িতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
হাটে দালালের চক্কর, ঝুক্কি-ঝামেলা থেকে বাঁচতে ক্রেতারা খামারে ও কৃষকের বাড়িতে বেশি ভিড় করছেন। খামারগুলো পারিবারিকভাবে পরিদর্শন, কোরবানি পর্যন্ত গরু রাখা, গরু আহত হলে ক্ষতিপূরণ, মারা গেলে সমুদয় টাকা ফেরতসহ নানা সুবিধা দিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। ফলে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কোরবানির ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকলেও আগেভাগেই পছন্দের গরু বেছে নিতে রাজধানী ঢাকার মালিবাগ থেকে রূপগঞ্জের একটি খামারে এসেছেন মো. শামিম খান। কোরবানির হাটের ঝক্কি এড়াতে খামার থেকেই গরু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দেলোয়ার মিয়া নামে আরেক জন ক্রেতা বলেন, আগেভাগে গরু কিনে রাখছি। এতে শেষ সময়ে দরদামের ঝামেলা নেই। ঈদের আগে দিন খামারি বাসায় গরু পাঠিয়ে দেবে।
এরকম সুবিধা দিয়ে রূপগঞ্জের কৃষক ও খামারিরা গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। নিচে ৬০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে।
কামাল, জুয়েল, শাহালমরা জানান, ৩ থেকে ৬ মাস আগে বিভিন্ন হাটবাজার থেকে গরু ও ছাগল কিনে লালন-পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করে গড়ে তুলেছি প্রাকৃতিক উপায়ে। ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। গরুকে কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন বা হরমোন দেয়া হয় না। নিয়মিত যত্ন, পুষ্টিকর খাবার এবং গোসলের মাধ্যমে গরুগুলোকে সুস্থ ও নাদুস-নুদুস করে তোলেছি|
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খুদের ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর, খেসারি ডাল, চোকর, বুটের খোসা, ভুট্টা, গম ইত্যাদি খাবার খেয়ে হৃষ্টপিষ্ট করা হয়েছে।
জুয়েল মিয়া নামের খামারি বলেন, গোখাদ্যের বাড়তি দাম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তারপরও ভালো লাভের আশা রয়েছে। গরুর লালনপালনেও খরচ বেড়েছে।
আওলাদ হোসেন, মোমেন মিয়া বলেন, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন খামার থেকে প্রতি বছর কোরবানির গরু কিনে থাকি। এবারও কিনে খামারে রেখেছি। খামার থেকে ইসলাম, শাওন, জয়নাল, আমিনুলসহ অনেকেই কোরবানির গরুর বুকিং দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারাও গরু কিনেছেন এখানে থেকে।
উপজেলার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস জানান, রূপগঞ্জের ডেইরি ফার্মগুলো মূলত কোরবানিকে টার্গেট করে গরু লালন-পালন করে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে ফার্মগুলো গড়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রাণীসম্পদ বিভাগ দিয়ে থাকে।
কোরবানির পশুর হাটে জরুরি সেবা দিতে পশু চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
ঘরের আঙিনাজুড়ে কালচে পানি। পানির ওপর ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে মশার উপদ্রব। এমন পরিবেশেই বছরের পর বছর বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগর মধ্যপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের কয়েকটি প্রসেস মিল এবং গার্মেন্টসের পানি, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদের এই দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
গত শনিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরনগর মধ্যপাড়ার বিভিন্ন বাড়ির সামনে ও সরু সড়কে জমে আছে ময়লা মিশ্রিত পানি। কোথাও ড্রেনের পানি উপচে উঠছে। কোথাও আবার স্থির হয়ে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশা। দুর্গন্ধে কয়েক মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
এই এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি আব্দুল হালিম মন্ডল। একসময় তাঁতশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এখন বয়সের ভারে অনেকটাই কর্মহীন। ১৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে তার বসবাস এই এলাকায়। ঘরের সামনে জমে থাকা নোংরা পানির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। টিউবওয়েলের পানিতেও গন্ধ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি উঠে যায়। এই এলাকার কথা শুনে অনেকে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এলে লোকজন এসে না বসেই চলে যায়।’
তিনি জানান, মশার উপদ্রবে তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ১৫-১৬ বছর ধরে এই ভোগান্তি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। পৌরসভা থেকে একবার মশা মারার ওষুধ ছিটিয়েছিল। কিন্তু মশা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে মনে হয়।
শুধু আব্দুল হালিম নন, শেরনগর মধ্যপাড়া ও আশপাশের প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে আছেন।
স্থানীয় নারী আলেয়া বেগম প্রতিবেদককে বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না, পানি উঠে যায়। অনেক সময় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাব? সামনে ঈদ, আবার বৃষ্টি হলে ঘরে ঈদ করা কঠিন হবে।’
এলাকাটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ রয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও।
শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ১০-১৫ দিন স্কুলে যেতে পারি না। খেলাধুলাও করা যায় না। আমরা চাই এই সমস্যার একটা সমাধান হোক।’
মোছা. হাশমত আরা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কোমর পানি হয়। রান্নাবান্না করা যায় না। আমার স্বামী নাইট গার্ডের চাকরি করে। অন্য কোথাও গিয়ে থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই।’
স্থানীয় মুদি দোকানদার শমসের আলী বলেন, ‘পানির গন্ধে দোকানে বসা কষ্ট হয়ে পড়ে। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, ‘মুকন্দগাঁতী, চন্দনগাঁতী, কামারপাড়া ও শেরনগরের বিভিন্ন এলাকার ড্রেনের পানি এসে এই এলাকায় জমা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি প্রসেস মিলের বর্জ্যপানিও এখানে এসে পড়ছে।’=
তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি বের করার ব্যবস্থা করলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মাসখানেক আগে পৌরসভার উদ্যোগে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এলাকায় একটি নালা খনন করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশার যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটছে শেরনগরের মানুষের।
বেলকুচি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে খাল খননের জন্য এক কিলোমিটার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনশ মিটার খাল খনন শেষ হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে বাকি কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। জটিলতা শেষ হলে সাতশ মিটার খাল খনন পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য মার্স্টার ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক কিলোমিটার খাল খননে কত টাকা বাজেট হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘১৫-১৮ লাখ টাকার মতো হবে। তবে তিনি অফিসিয়ালি টাকার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আফরিন জাহান জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এটার অংশ হিসেবে শেরনগর খাল/নালা খনন/সংস্কারের উদ্যোগ নেয়াসহ নানাবিধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও তার আংশিক বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক কর্তৃক কয়েকবার সরেজমিনে শেরনগর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রসেস মিলের বর্জ্য পানি বন্ধে পৌরসভা নিয়মিত মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদের পূর্বে ড্রেন পরিষ্কারসহ রুটিন কাজ চলবে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি প্রয়োজনে পাম্পের মাধ্যমে করা হবে। বেলকুচি পৌরসভা এলাকায় মাস্টার ড্রেন না থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে শেরনগর ব্রিজ থেকে ক্ষিদ্রমাটিয়া স্লুইসগেট পর্যন্ত একটি মাস্টার ড্রেন প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন আছে।
বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে চরম জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাটিতে প্রায় প্রায় ৫০০ মানুষের বসবাস হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত এক দশকে জনগণের দুর্ভোগ সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি জনো প্রতিনিধিরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য বৃষ্টি হলেই নতুন বাজার এলাকার রাস্তাঘাট ও বসত বাড়ির আশ পাশে পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনো প্রতিনিধিরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলেই আর খোঁজ থাকে না সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ বছরে কোনো কমিশনারই এলাকাটির স্থায়ী সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো কাজ করেননি।
সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সান্তাহার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অভিযোগপত্রে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, নতুন ড্রেন নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,
আমরা নিয়মিত কর দেই,ভোট দেই। কিন্তু আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পৌরসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
এই বিষয় এ সান্তাহার পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার আবু রায়হান জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। বলেন, অর্থ বছর শেষ হয়ে গেছে। নতুন অর্থ বছরে ড্রেনের জন্য আবেদন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করব।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, বর্তমান সরকার শহীদ ওসমান হাদির রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। আর ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে গেছে। আপনারাও (বিএনপি সরকার) যদি মনে করেন ভারতের তাঁবেদারি করে পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের টাউন হলের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নিধন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ‘বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাসুমা হাদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেননি। এই প্রশ্ন শুধু আমার না, পুরো বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাবে, জুলাইয়ের বিজয় হেরে যাবে। জুলাই সনদ নিয়ে এখন যে টালবাহানা চলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা মানে ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ওসমান হাদি হত্যার বিচার না করে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
মাসুমা হাদি বলেন, আমরা এখন শুধু বিচার চাইতে আসিনি। দেশের ১৭ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ওসমান হাদির বিচার আদায় করে নেব। ওসমান হাদি কারও একার না, কোনো দলেরও না। ওসমান হাদি মানেই বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শিখিয়ে গেছে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ছাড়া আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে দাবি আদায় করে নিতে হয় এবং কীভাবে ইনসাফের পক্ষে থাকতে হয়। আমরা কাউকে ভয় পাই না।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, আজ সকালে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কেউ একজন আমাকে এই প্রোগ্রামে যোগ না দিতে বলেছে। আমাকেও গুলি করে হত্যা করা হতে পারে, যাতে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কেউ আওয়াজ না তোলে।
মাসুমা হাদি বলেন, আমি ওসমান হাদিকে আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছি। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি মরে গেলেও আপনারা ওসমান হাদির বিচার আদায় করে ছাড়বেন।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় সমাবেশস্থল ও আশপাশে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে কৃষিকাজে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
“প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আশেক পারভেজ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী।
উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা সবুজ মিয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশেদা সুলতানা রুবি, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মারিয়া জান্নাত প্রমুখ।
এসময় হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কৃষক, খামারি, কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।