গাছের গুঁড়িগুলো ট্রাকের ওঠানোর আগেই চাঁদা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেছেন কাঠ ব্যবসায়ী জয়নাল হোসেন। এই কাঠবোঝাই ট্রাক নিয়ে যাবেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এই পথটুকু পাড়ি দিতে প্রকাশ্যে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন একটি আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী গ্রুপকে। তাতে যে টোকেন মিলেছে, সেটি দেখিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ নির্দ্বিধায় পাড়ি দিতে পারবেন জয়নাল।
কিন্তু এই টাকা দেয়ার পর তার কত টাকা লাভ থাকবে? প্রশ্নের জবাবে জয়নালের সাফ উত্তর, এতটুকু হলেও চলত! কিন্তু এভাবে নিতে হয়েছে আরও তিনটি টোকেন। তাদেরও দিতে হয় ৮ হাজার, ৫ হাজার আর ৩ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে যা থাকে তাতে ব্যবসার করে সংসার চলে না।
বাংলাদেশ খাদ্য ও কাঠ পরিবহন ঠিকাদার সমিতির নেতারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ও বান্দরবান-খাগড়াছড়ি জেলা অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ফেডারেশনের ঠিকাদারদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। স্বেচ্ছায় চাঁদা না দেয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি ও রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়িতে কাঠবাহী ট্রাক আটকে রেখে দুষ্কৃতকারীরা ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না পেলে ভি-ইনভয়েস ছিনিয়ে নিয়ে চালককে মারধর এবং পণ্যবাহী ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যবসা করতে হলে আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদা দিতে হয়। কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই প্রতিদিন চলে কোটি কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য। শহরের ছোট বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ সবাই জানে কে বা কারা নিচ্ছে এসব টাকা। শুধু জানে না প্রশাসন। অবশ্য প্রশাসনের রয়েছে উল্টো যুক্তি। তারা বলছেন, সব জেনেও নিরুপায় তারা। পাহাড়ের গভীর অরণ্যে নিয়ন্ত্রণ নেই তাদের।
জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেসামাল। এখানে অনেক কিছু প্রশাসনিকের চেয়ে রাজনৈতিক। সবকিছু মিলে পাহাড়ের পরিবেশটি আমাদের কাছে অস্বস্তিকর।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নামে একটি আঞ্চলিক সংগঠন ছিল। সেটি ভেঙে তিনটি আঞ্চলিক সংগঠন জন্ম নেয়। এগুলো হলো জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। বর্তমানে এই চারটি সংগঠন পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আছে। প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উঠে আসে এই চার সংগঠনের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নাম। সংগঠন চালাতে তারাই করে এসব চাঁদাবাজি। তাদের মধ্যে জেএসএসের চাঁদার পরিমাণটাই সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিন ঘুরে অভিযোগ পাওয়া যায়, পাহাড়ে উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদার, কাঠ-বাঁশ ব্যবসা, পরিবহন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, চাষাবাদ-ফসল, পোষা প্রাণী বিক্রি, চোরাকারবারি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা উৎস থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে আঞ্চলিক দলগুলো। যদিও এসব অভিযোগ স্বীকার করে না কোনো সংগঠনই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির (এম এন লারমা বা সংস্কার) গবেষণা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দিবাকর ত্রিপুরা বলছেন, ‘আমরা চাঁদা নিই না। তবে পার্টি পরিচালনা করতে কিছু সহযোগিতা নিয়ে থাকি। এটিকে আমরা চাঁদা বলি না। অন্যরা কে, কী করে, আমি তা বলতে পারি না।’
সন্ত্রাসীদের চাঁদার আওতায় সবাই
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই একটি সূত্র বলছে, সংগঠনগুলো প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা, সরকারি-আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, এনজিওগুলোর কাজের ওপর ১০ শতাংশ, ঠিকাদারি কাজের ওপর ১২ শতাংশ, মোবাইল কোম্পানিগুলো থেকে বছরে ২ লাখ টাকা করে, প্রতি ইটের ভাটা থেকে বছরে ১ লাখ, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘনফুটে ৫০ টাকাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে সংগঠনগুলো।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো চাঁদাবাজি করেই তাদের সংগঠন টিকিয়ে রাখে। এখানে অন্যতম একটি সমস্যা হলো কেউ অভিযোগ করেন না। এই অনিয়মকে তারা নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। ভাবেন চাঁদা দিয়ে টিকে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশ তাদের মতো করে চেষ্টা করছে। যখন যেখানে অভিযোগ পাচ্ছে ছুটে যাচ্ছে।
বছরে চাঁদার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। স্থানীয় চারটি সশস্ত্র সংগঠন চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। আগে মোট চাঁদার অর্ধেকের বেশি তারা সরাসরি সংগ্রহ করত। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চাঁদার অর্থ লেনদেন করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করাটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজির বিষয়ে ভুক্তভোগী কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কথা বললেই প্রাণ হারানোর ভয় তাড়া করে চাঁদাবাজির শিকার পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের মধ্যে। আর পাহাড়ে যত হত্যাকাণ্ডে হচ্ছে, তার পেছনের অন্যতম কারণ এই চাঁদাবাজি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, যেখানে ২৫ বছর আগে শান্তি আসার কথা ছিল, সেখানে শান্তি তো নেই বরং অশান্তি বেড়ে গেছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী আর বাঙালিদের। এই পরিস্থিতি থেকে বের করতে চাইলে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে এক কিলোমিটার পরপর বিওপি স্থাপন করতে হবে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে অর্থই অনর্থের মূল। নানা উৎস থেকে চাঁদাবাজি করে অর্থের পাহাড় গড়তে মরিয়া আঞ্চলিক দলগুলো। তাই আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্র মজুত করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
দেশব্যাপি লটারীর মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের পদায়নের পরে মাদারীপুরে এহতেশামুল হক পুলিশ সুপার পদে সদ্য যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। রোববার মাদারীপুর জেলা পুলিশ সম্মেলন কক্ষে নবাগত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক জেলায় কর্মরত সর্বস্তরের সাংবাদিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে তিনি এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন। মত বিনিময় সভায় মাদারীপুরের বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নবাগত পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক নিজের পরিচয় প্রদান করে মাদারীপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও সন্ত্রাস সহ বেআইনি কার্যদি বন্ধের লক্ষ্যে এবং সর্বোপরী দেশ ও জাতির স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ওকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। প্রশ্নপর্বে সাংবাদিকদের মধ্য থেকে অনেক সাংবাদিকরা মাদারীপুরের কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম, মানবপাচার, সন্ত্রাস, ট্রাফিক বিভাগকে অবৈধ যান বন্ধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ বিভাগকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অ্যান্ড মিডিয়া) জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন, মাদারীপুর সদর থানার ওসি আদিল হোসেন সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা।
নীলফামারীর এক বাস শ্রমিক নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে রংপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির অধীনে পরিচালিত নীলফামারীর সব রুটে বাস পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। রোববার সকাল থেকেই রংপুর-নীলফামারী-সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ-জলঢাকা-ডিমলা-ডোমারসহ জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকাগামী বাসসহ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা সমিতির গাড়ি আগের মতোই চলছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্র জানায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন উপকমিটির দপ্তর সম্পাদক সফিকুল ইসলামের সঙ্গে ন্যায্য পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে রংপুর বাস মালিক সমিতির কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া সফিকুল বিষয়টি শ্রমিক ইউনিয়নকে জানান। এর পরই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত রংপুর মালিক সমিতির অধীন থাকা সব বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন।
হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নীলফামারী ও আশপাশের রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা প্রাইভেটকারসহ বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে কিন্তু ভোগান্তির সাথে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।
জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শ্রমিকদের ওপর হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাস পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। রংপুর মালিক সমিতির কোন বাস নীলফামারীর রুটে চলতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘দুই জেলার মালিক সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমি রংপুরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর ফুসফুস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, তিনি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এএফপি আরও জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সেজন্য একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংস্থাটি তাঁর একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতার কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে রয়েছ—হৃদরোগ, লিভার ও কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের জটিলতা, বাত এবং চোখের অসুস্থতা।
লন্ডন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান জাতির কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও আছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো সেটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত নয়। স্পর্শকাতর বিষয়টিতে বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এএফপি’কে উদ্ধৃত করে গালফ নিউজ একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। দ্য ডন নিউজ এবং আরব নিউজ তার অবনতিশীল স্বাস্থ্য নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আরব নিউজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বেগম জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’।
ভারতের এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে—‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি’।
এ ছাড়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু এবং হিন্দুস্তান টাইমসও এ খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।
এদিকে, শনিবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, বেগম জিয়ার অবস্থা গত তিন দিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে এবং অনুমোদন পাওয়া মাত্র তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা ও বিএনপি নেতারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য জাতির কাছে দোয়া চেয়েছেন। সূত্র: বাসস
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেন করার দাবিতে চকরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে কড়া অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ চকরিয়ায় প্রধান সমন্বয়কারী ইব্রাহীম ফারুক সিদ্দিকী আগামী সাত দিনের মধ্যে মহাসড়কের দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম না দেখলে এরচেয়ে আরও দিগুণ হয়ে আন্দোলনে নামার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। রোববার চকরিয়া পৌরশহরের মাতামুহুরি ব্রিজে সড়ক অবরুদ্ধ করে অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরুদ্ধ থাকার পর জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ ফারুকসহ চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের অনুরোধে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের চকরিয়ার প্রধান সমন্বয়কারী ইব্রাহীম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টাঙানো, সংশ্লিষ্ট মহলে স্মারকলিপি প্রদানসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। সরকারকে আমরা অনেকভাবে বুঝিয়েছি এটা একটি মরণফাঁদ। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২৭ নভেম্বরের মধ্যে যদি দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম না দেখি তাহলে আমরা রাজপথে নেমে যাব। আমরা সে কথার ভিত্তিতে চকরিয়ার রাজপথে নেমেছি। আজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু না হলে আমরা আরও দিগুণ আকার ধারণ করব।
তিনি আরও বলেন এই আন্দোলন শুধু আমাদের জন্য নয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের শহর কক্সবাজারে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক আসে এই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে। তাদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আমাদের এই আন্দোলন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চকরিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন কক্সবাজারমুখী পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা।
বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি দুই লেনের হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটন নগর কক্সবাজারের কারণে এই সড়কে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। এছাড়া সরু মহাসড়ক হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরি সেতু এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সেতু এলাকায় অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের একটি দল তাদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানান তারা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের অনুরোধে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এ সময় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপিপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ করে বলেন, গত ৫৪ বছরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কক্সবাজারের সাথে চকরিয়ার যে বৈষম্য হয়েছে আজ সেটির বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এই দক্ষিণ চট্টগ্রাম। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মহাসড়ক কেন দুই লেন হবে? অনতিবিলম্বে দুই লেন থেকে ছয় লেনে উন্নিত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান তিনি।
চকরিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে রবিবার সকাল ১০টা থেকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় জনতা। ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই ব্লকেডের কারণে মহাসড়কজুড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট এবং জনভোগান্তি।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেছেন এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক। দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চকরিয়া, রওশনহাটসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন নামে একটি সংগঠন। রবিবার লোহাগাড়া উপজেলার বটতলি মটর স্টেশনের পুলিশ বক্সের সামনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন বাস্তবায়ন কমিটির একাংশ। পরে স্থানীয় জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৬ শতক জমির দখলকে কেন্দ্র করে একই বংশের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নারীসহ অন্তত আটজন। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইলাটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষ হলো- নূর মোহাম্মদ ও মানিক মুন্সি (আপন ভাই) এবং তাদের চাচাতো ভাই আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান (আপন ভাই)। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- আলতাফ হোসেন (৫৫), তার চাচাতো ভাই মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক (৪২) এবং মানিক মুন্সির বোন কুলসুম বেগম (৫০)। এ ঘটনায় নিহত আলতাফের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাইলাটারী গ্রামের মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ এবং আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান প্রায় এক বছর আগে যৌথভাবে একই দাগের ১৬ শতক জমি কেনার উদ্দেশ্যে মালিককে টাকা দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই জমির দলিল করে নেয়নি। জমিটি দখলে নেয় মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ পক্ষ। এ নিয়ে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান পক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।
রোববার বেলা ১১টার দিকে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান লোকজন নিয়ে জমিটি দখল নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক ও বোন কুলসুম বেগম। গুরুতর আহত আলতাফ হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। আহত ব্যক্তিরা হলেন- মানিক মুন্সি (৬০), নূর মোহাম্মদ, নিহত এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম মঞ্জু (৩৫), জোবায়দুর (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগম (৩২)। তাদের চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ওসি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর একজনকে আটক করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং চোখ তুলে এক পুকুর পাহারাদারকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর মাঠের একটি পুকুরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তোজাম্মেল হক (৬৫) উপজেলার পারদিলালপুর গ্রামের মৃত আলির ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় পুকুর পাহারাদার মো. তোজ্জামেল হককে অজ্ঞাতরা হত্যা করে ফেলে রাখে।
স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার রাতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি পুকুরের পাশে একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জানা যায়, নিহত পুকুর পাহারাদার বিলাল হাজির মুসলিমপুর এলাকার একটি পুকুরের নাইটগার্ড হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। নিহতের শরীরে ধারালো কাটা অস্ত্রের চিহ্ন আছে এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলেছে হত্যাকারীরা।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের শত্রুতা বা চুরি-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
‘শিক্ষা আমার অধিকার, সুযোগ নয়,’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে-রাউজান পূর্বগুজরা দক্ষিণ বড়ঠাকুর পাড়াস্থ মধুমতি কেজি স্কুলের ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পাঠ, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গত শনিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিষদের চেয়ারম্যার শিক্ষাবিদ রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলার এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট এম. তাজুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিচালক সাইদুল আলম, রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এম. রমজান আলী, এ.কে.এম জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল ছালাম রায়হান, সিনিয়র শিক্ষক সৌরভ বড়ুয়া, রুমানা আকতার, ফাতেমা বেগম, সুবর্ণা বড়ুয়া, নাছরিন আকতার, জাবের উদ্দীন পারভেজ, এমেলী বড়ুয়া, সুভ্রামনি বড়ুয়া, পংকজ বড়ুয়া। শিক্ষার্থী তাছিন আহমেদ ফারিয়া, আনিশা আফরিন। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোটালীপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। গত শনিবার বিকালে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ, উমাচরণ পূর্ণচন্দ্র সার্বজনীন উচ্চবিদ্যালয়, রাধাগঞ্জ সার্বজনীন দাখিল মাদ্রাসা, মান্দ্রা রাধাগঞ্জ ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশন, উত্তর কোটালীপাড়া রামমোহন উচ্চবিদ্যালয়, সোনাইলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক, উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জসীম উদ্দিন শেখ। উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন সকালে পরিদর্শন করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, ২৭নং ঘোপেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোষের ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৩নং তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৯নং পাকুড়তিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র।
এর আগে কয়েক দফায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিয়া তানজিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রূলী বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্ আলম এবং সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসুকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান সদর উপজেলার সোনাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবয়রা ঘোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, ১০১নং উত্তর গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, ৫৮নং বড় ডোমরাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুঠামান্দ্রা উচ্চবিদ্যালয়, উলপুর পূর্ণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০নং লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী খোরশেদ সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়, ২২নং পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং বড়ফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১নং সুকতাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে জনি ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির মা হাসু খাতুন বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় গত শনিবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে শনিবার উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের পাশ থেকে পুলিশ জনির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জনি ওই ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক কারবারি সোহানের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহানের লোকজন জনিকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পিঠে একাধিক সেলাই দিতে হয়। হামলার ভয়ে জনি শুক্রবার রাতে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থান করেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে বিকেল তিনটায় উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা.) এস এম আল আমিন, পিরোজপুর সদর থানা উপপুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ প্রমুখ।
উক্ত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১-২০ গ্রেড) এর সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় বাকসু গঠনতন্ত্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ইংরেজি নাম হবে –‘Barishal University Central Students’ Union (BUCSU) এবং এর বাংলা নাম হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কালক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পাস করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষামন্ত্রালয়ে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় শেরপুরের শ্রীবরদীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার রাতে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ওসহযোগী সংগঠন এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলালের আহ্বানে এ দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলালসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কোরআনখানি, মিলাদ ও বাংলাদেশের অভিভাবক গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন। এই জাতের হাঁসের প্রতিটির ওজন হয় গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য এই হাঁসের ডিম ও মাংসের বাজারে এখন ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এই হাঁস পালন করেই সিংড়ার দুই যুবক সালা-দুলাভাই জাহিদ মাহমুদ ও আবু হাসান গড়ে তুলেছেন চলনবিল হেচারি সিংড়া নামে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের তরুণ খামারি জাহিদ মাহমুদ কয়েক বছর আগেও ছিলেন ঋণগ্রস্ত। জীবনের নানা সংকটে জর্জরিত অবস্থায় একসময় তার মাথায় আসে হাঁস পালনের চিন্তা। সে ভাবনাটিই তার জীবনে ঘুরে দেয় সফলতার চাকা।
খামারি জাহিদ জানান, তখন আমার প্রায় ৮ লাখ টাকার ঋণ ছিল। একদিন প্রবাসী দুলাভাই হাসান আলীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি উৎসাহ দেন এবং তিনি টাকা দিয়ে ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে দেন। সেখান থেকেই শুরু।
চার বছর আগের সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে তাদের খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। হাঁসের পাশাপাশি এখন তারা বাচ্চা উৎপাদনও শুরু করেছেন। বছরে তাদের মোট আয় ২৪ লাখ টাকারও বেশি।
জাহিদ আরও বলেন, আমরা এখন প্রতিমাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করি। ডিম, বাচ্চা ও হাঁস বিক্রি করেই এ আয় হয়। আমি হাঁস পালন করে সব ঋণ শোধ করেছি, এখন নিজেই অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করেছি।
এ খামারে প্রতিটি হাঁস ৪৫ দিনের মধ্যেই ৩ কেজি ওজনের হয়। ফলে স্বল্প সময়েই বিক্রিযোগ্য হয়ে ওঠে। তারা জানায়, একটি হাঁসের ডিমের দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, আর একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।
খামারটিতে এখন কাজ করছেন ৪জন স্থানীয় যুবকও। এতে শুধু জাহিদ ও হাসান নন, আশপাশের অনেক বেকার তরুণও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন হাঁস পালনে।
খামারি আবু হাসান জানান, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন শুরু করা যায়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাবার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। হাঁসগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফলে খুব অল্প সময়েই লাভ পাওয়া সম্ভব।
জাহিদ বলেন, একসময় মানুষ বলত হাঁস পালনে ভবিষ্যৎ নেই, এখন তারা নিজেরাই জানতে আসে হাঁস পালন কেমন লাভজনক ব্যবসা। আমরা চাই, আরও তরুণ এগিয়ে আসুক এই খাতে। আমরা প্রথমে ভাবিনি এত দ্রুত উন্নতি হবে। কিন্তু হাঁসের ডিম ও মাংসের চাহিদা এখন অনেক। অনেকেই আমাদের কাছ থেকে হাঁসের জাত সংগ্রহ করে পালন শুরু করেছেন।
সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, পরামর্শ ও ভ্যাকসিন আমরা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বর্তমানে বেলজিয়াম জাতের একটি বড় খামার রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।