গাছের গুঁড়িগুলো ট্রাকের ওঠানোর আগেই চাঁদা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেছেন কাঠ ব্যবসায়ী জয়নাল হোসেন। এই কাঠবোঝাই ট্রাক নিয়ে যাবেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এই পথটুকু পাড়ি দিতে প্রকাশ্যে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন একটি আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসী গ্রুপকে। তাতে যে টোকেন মিলেছে, সেটি দেখিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ নির্দ্বিধায় পাড়ি দিতে পারবেন জয়নাল।
কিন্তু এই টাকা দেয়ার পর তার কত টাকা লাভ থাকবে? প্রশ্নের জবাবে জয়নালের সাফ উত্তর, এতটুকু হলেও চলত! কিন্তু এভাবে নিতে হয়েছে আরও তিনটি টোকেন। তাদেরও দিতে হয় ৮ হাজার, ৫ হাজার আর ৩ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে যা থাকে তাতে ব্যবসার করে সংসার চলে না।
বাংলাদেশ খাদ্য ও কাঠ পরিবহন ঠিকাদার সমিতির নেতারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ও বান্দরবান-খাগড়াছড়ি জেলা অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার ফেডারেশনের ঠিকাদারদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। স্বেচ্ছায় চাঁদা না দেয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি ও রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়িতে কাঠবাহী ট্রাক আটকে রেখে দুষ্কৃতকারীরা ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না পেলে ভি-ইনভয়েস ছিনিয়ে নিয়ে চালককে মারধর এবং পণ্যবাহী ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যবসা করতে হলে আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদা দিতে হয়। কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই প্রতিদিন চলে কোটি কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য। শহরের ছোট বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ সবাই জানে কে বা কারা নিচ্ছে এসব টাকা। শুধু জানে না প্রশাসন। অবশ্য প্রশাসনের রয়েছে উল্টো যুক্তি। তারা বলছেন, সব জেনেও নিরুপায় তারা। পাহাড়ের গভীর অরণ্যে নিয়ন্ত্রণ নেই তাদের।
জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেসামাল। এখানে অনেক কিছু প্রশাসনিকের চেয়ে রাজনৈতিক। সবকিছু মিলে পাহাড়ের পরিবেশটি আমাদের কাছে অস্বস্তিকর।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নামে একটি আঞ্চলিক সংগঠন ছিল। সেটি ভেঙে তিনটি আঞ্চলিক সংগঠন জন্ম নেয়। এগুলো হলো জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। বর্তমানে এই চারটি সংগঠন পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আছে। প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উঠে আসে এই চার সংগঠনের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নাম। সংগঠন চালাতে তারাই করে এসব চাঁদাবাজি। তাদের মধ্যে জেএসএসের চাঁদার পরিমাণটাই সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিন ঘুরে অভিযোগ পাওয়া যায়, পাহাড়ে উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদার, কাঠ-বাঁশ ব্যবসা, পরিবহন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, চাষাবাদ-ফসল, পোষা প্রাণী বিক্রি, চোরাকারবারি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা উৎস থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছে আঞ্চলিক দলগুলো। যদিও এসব অভিযোগ স্বীকার করে না কোনো সংগঠনই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির (এম এন লারমা বা সংস্কার) গবেষণা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দিবাকর ত্রিপুরা বলছেন, ‘আমরা চাঁদা নিই না। তবে পার্টি পরিচালনা করতে কিছু সহযোগিতা নিয়ে থাকি। এটিকে আমরা চাঁদা বলি না। অন্যরা কে, কী করে, আমি তা বলতে পারি না।’
সন্ত্রাসীদের চাঁদার আওতায় সবাই
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই একটি সূত্র বলছে, সংগঠনগুলো প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা, সরকারি-আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা, এনজিওগুলোর কাজের ওপর ১০ শতাংশ, ঠিকাদারি কাজের ওপর ১২ শতাংশ, মোবাইল কোম্পানিগুলো থেকে বছরে ২ লাখ টাকা করে, প্রতি ইটের ভাটা থেকে বছরে ১ লাখ, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘনফুটে ৫০ টাকাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে সংগঠনগুলো।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো চাঁদাবাজি করেই তাদের সংগঠন টিকিয়ে রাখে। এখানে অন্যতম একটি সমস্যা হলো কেউ অভিযোগ করেন না। এই অনিয়মকে তারা নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। ভাবেন চাঁদা দিয়ে টিকে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশ তাদের মতো করে চেষ্টা করছে। যখন যেখানে অভিযোগ পাচ্ছে ছুটে যাচ্ছে।
বছরে চাঁদার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। স্থানীয় চারটি সশস্ত্র সংগঠন চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। আগে মোট চাঁদার অর্ধেকের বেশি তারা সরাসরি সংগ্রহ করত। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে চাঁদার অর্থ লেনদেন করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করাটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজির বিষয়ে ভুক্তভোগী কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কথা বললেই প্রাণ হারানোর ভয় তাড়া করে চাঁদাবাজির শিকার পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের মধ্যে। আর পাহাড়ে যত হত্যাকাণ্ডে হচ্ছে, তার পেছনের অন্যতম কারণ এই চাঁদাবাজি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, যেখানে ২৫ বছর আগে শান্তি আসার কথা ছিল, সেখানে শান্তি তো নেই বরং অশান্তি বেড়ে গেছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী আর বাঙালিদের। এই পরিস্থিতি থেকে বের করতে চাইলে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে এক কিলোমিটার পরপর বিওপি স্থাপন করতে হবে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে অর্থই অনর্থের মূল। নানা উৎস থেকে চাঁদাবাজি করে অর্থের পাহাড় গড়তে মরিয়া আঞ্চলিক দলগুলো। তাই আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্র মজুত করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে তারা।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান আদালত পরিচালনা করে এই রায় দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে ফসলী জমি কেটে মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন খান (২৮) নাইমুল ইসলাম (২৪), মিজানুর রহমান (৪৩) ও ইকবাল হোসেন (৩২)নামে চার ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ফসলি জমি নষ্ট করায় এবং আশেপাশের জমি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় এলাকার অন্যান্য জমির মালিকরা মাটি কাটতে বাধা দিলেও তোয়াক্কা করেনি এই চার ব্যক্তি।
এতে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে অভিযোগ করলে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতে সুজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্যদেরকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গত কয়েক দিনে এই চার ব্যক্তি লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় এসব ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ফসলি জমি রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাবের তদন্তের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই– আর কত দিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোনো অগ্রগতির তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখাসহ স্বাক্ষর জাল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওসমান হাদিকে গুলির ৫৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত না হওয়ায় তিনি অভিযোগ করেন যে তদন্তের নামে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং এমতাবস্থায় লেবাননের রফিক হারিরি হত্যার নজির অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তদন্তই একমাত্র সমাধান।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ব্যর্থতা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে কেবল সিসি ক্যামেরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত সম্ভব নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ হাজার কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অস্পষ্ট অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে হাদি হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার দায়ভার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকেই বহন করতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় তিন দিনের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ মাগুরার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ও আইটি অ্যান্ড বিএম কলেজের কর্মচারীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে গড়িমসি বন্ধ করে দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী স্বপন কুমার, বিভাগীয় প্রধান ফুড ডিপার্টমেন্ট, মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট; মোঃ আওলাদ হোসেন, কেয়ারটেকার মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউ। মোঃ হাবিবুর রহমান জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং মাদুলি টুম্পা, প্রভাষক (গণিত), মাগুরা আইডিয়াল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অন্যান্যরা।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে নতুন সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এছাড়া এক অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্ম সচিব, দুজন উপসচিব ও দুজন সিনিয়র সহকারী সচিবকে পদায়ন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব হলেন জেলা ও দায়রা জজ রুহুল আমীন, যুগ্ম সচিব বি এম তারিকুল কবির, উপসচিব পঞ্চগড়ের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুল ইসলাম ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সুব্রত ঘোষ শুভ, সিনিয়র সহকারী সচিব মহসিনা হোসেন তুষি ও সাদিয়া আফরিন।
প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এএফএম গোলজার রহমান।
রাজধানীর পল্লবী থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সোয়েব হোসেন মুন্না ওরফে ভাগিনা মুন্নাকে (৫৩) বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা ও ১৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানা গেছে। পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগের হরিরামপুর এলাকার বাংলোবাড়ি থেকে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১৭ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে র্যাব-৪-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার) কে এন রায় নিয়তি জানান, গোয়েন্দা সূত্র ধরে জানা যায়- নির্বাচনকে সামনে রেখে পল্লবী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সোয়েব হোসেন মুন্না ওরফে ভাগিনা মুন্না অস্ত্রসহ নাশকতা করার জন্য এলাকায় প্রবেশ করেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগের বাংলোবাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিয়তি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না জানান, উদ্ধার করা অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি রাজধানীর তুরাগ, মিরপুর, কাফরুল, পল্লবী, ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট থানাসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতেন। এ ছাড়া তিনি পিস্তলটি বিভিন্ন পেশাদার অপরাধীদের ভাড়া দিতেন—যা দিয়ে অপরাধীরা খুন, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন। গ্রেপ্তার করা শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্নার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন থানায় ৩০টির বেশি মামলা ও ১৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সাভারের আশুলিয়ার একটি বাসায় আগুনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রদল নেতাসহ চারজন দগ্ধের ঘটনায় সাইফুল ইসলাম রনি (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান তিনি।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, সাইফুলের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসিনুর ১৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে আগুনে দগ্ধের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম (২৮), বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের গাড়িচালক মো. হাসিনুর (২৬) এবং আপন দুই ভাই রায়হান ও রাহাত।
নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা গ্রাম। গ্রামের কুল ঘেষে বয়ে চলেছে চিত্রা নদী। নদীর তীরে মসজিদ মন্দিরের মাঝে স্থাপিত হলো বাংলাদেশ রোটারি চক্ষু হাসপাতাল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথি হয়ে হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করেন দেশ বরেণ্য রোটারিয়ান পিজিডি কেএম জয়নুল আবেদীন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে নয়, সেবাই হবে এই হাসপাতালের প্রথম শর্ত। হাসপাতালের এক পাশে মসজিদ অন্য পাশে মন্দির। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য স্থাপন করা এই জেলার হাসপাতাল হবে দেশ সেরা। এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হবে। নড়াইলকে তুলে ধরতে হবে অন্য এক উচ্চতায়।
তিনি বলেন, ‘দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ডায়াবেটিক হাসপাতাল এবার যুক্ত হলো চক্ষু হাসপাতাল। দেশের কোথাও দেখা যায় না এমন দৃশ্য।’ আবেগ ঘণ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘অন্তরে মানবতা না থাকলে, প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে নিজেও ভালো থাকা যায়। এসো বন্ধুর বন্ধনে আবদ্ধ হই।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নড়াইলে এই রোটারি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রোটারিয়ান পিজিডি প্রকৌশলী এম, এ ওহাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএ মতিন,পটুয়াখালি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রোটারিয়ান ডা. এসএম আবুল হাসান, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল আলম, সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক, ডা. আশীষ কুমার সাহা প্রমুখ।
দেবীগঞ্জে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় শ্রী সমেস চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবীগঞ্জ–বোদা মহাসড়কের পাকড়িতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সমেস পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই
এলাকার হরি কিশোর বর্মনের ছেলে। পেশায় তিনি দেবীগঞ্জের ‘মায়ের হাসি ক্লিনিক’-এ কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শ্রী সমেস। এ সময় পাকড়িতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে পৌঁছালে একটি বালু বোঝাই দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং ট্রাকটি তাকে রাস্তার সঙ্গে পিষে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা জানান, ওই স্থানে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অবিলম্বে ওই স্থানের স্পিড ব্রেকার অপসারণ বা সঠিকভাবে সংস্কারসহ নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় একই রাতে দুটি সরকারি কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে সংঘটিত এ
ঘটনায় সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ফুটেজ অনুযায়ী, চোরেরা অফিস ভবনের দক্ষিণ পাশের গ্রিল ভেঙে আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসে প্রবেশ করে। এরপর তারা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারীর কক্ষসহ মোট তিনটি
কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে একটি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, গভীর রাতে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। এতে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই রাতে আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী
প্রকৌশলীর কার্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি কক্ষের তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এলোপাথাড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। তবে কার্যালয়ে নগদ অর্থ না থাকায় তারা কিছু চুরি করতে পারেনি বলে জানান উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহাগ মিয়া।
দুটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমতলী থানা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণসহ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কার্যালয়গুলোর রাতকালীন নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমানকে কমিশনের সদস্য (পরিকল্পনা) (চলতি দায়িত্ব) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এর আগে তিনি কমিশনের পরিচালক (ভৌত বিজ্ঞান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।
জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে (BAEC) যোগদানের পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে হাসিনুর রহমান নিউক্লিয়ার ইন্সট্রুমেন্টেশন, এনার্জি অ্যানালাইসিস এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন এবং প্রকল্পটির উপপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট নির্বাচন, ডিজাইন নির্বাচন, সাইট ও ডিজাইন লাইসেন্স অর্জন, জেনারেল কন্ট্রাক্ট আলোচনা ও চূড়ান্তকরণ, কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি অসাধারণ পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। বর্তমানে তিনি Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty Organization (CTBTO)-এর বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মজীবনের অংশ হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি), মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া ও বেলারুশসহ বহু দেশ সফর করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মো. হাসিনুর রহমান। তিনি ১৯৬৭ সালে পাবনা জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপসাংবাদিকতা রোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার নিয়ে দিনাজপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলা সার্কিট হাউস কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন এবং নির্বাচনের স্পর্শকাতর সময়ে ভুয়া খবর (ফেইক নিউজ) প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে।
অপসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশাকে কলঙ্কিত করে না, বরং গোটা গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার সাদিয়া আফরিন শেফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার বজনাব মো. জেদান আল মুসা (পিপিএম) কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) জনাব মো. আব্দুস সবুর। তিনি অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ও আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সব ধরনের তথ্যগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং সুস্থ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে এই কর্মশালায় দিনাজপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রিভলবারসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর দক্ষিণ (বিভাগ) গোয়েন্দা পুলিশ। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার থেকে রিভলবারসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম ইজাজুল ইসলাম (৪০)। সে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলা দায়ের শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার গার্লস স্কুল সড়কে অবৈধ অস্ত্র আদান প্রদানের তথ্য পায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজাজুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।পরে তার কাছ থেকে একটি রিভলবার জব্দ করা হয়।
রাতেই গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানারে ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘থানায় মামলা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে গেছে।’
স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।
র্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, নিরাপদ খাদ্যে তার সমতুল; ভেজালমুক্ত খাদ্য, সুস্থজাতি, নিরাপদ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য; ভেজালকে ‘না’ বলুন, নিরাপদ খাদ্য বেছে নিন; জাঙ্ক ফুড বর্জন করি, স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ি; খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ. এস. এম আয়নুল হক আকন্দ। এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীও ছিলেন।
আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করা হয়। এ বছর ‘নিরাপদ খাদ্য হোক সবার জন্য সুস্থতার নিয়ামক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি জাতির সুস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেজালমুক্ত, ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এই তিন স্তরের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আজকের এই আয়োজন। নিরাপদ খাদ্য বলতে শুধু ভেজালমুক্ত খাবার নয়, বরং সঠিক স্যানিটেশন ও হাইজেন মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত।’
এ ছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে HACCP, GMP ও ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। তিনি ভেজাল খাদ্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।