গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে পিটুনিতে ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গ্রামজুড়ে। এখন গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহাড়া দিবেন নাকি গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকবেন-এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছেন গ্রামের মানুষ।
ঘটনাস্থল ঘুরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত খামার ও বাড়ি বাড়ি থেকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। চোরচক্রের হানায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন পশু খামারিসহ অসহায় কৃষক পরিবার।
এই অবস্থার মধ্যেই গত শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি গরু চোর চক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে উপজেলার ইউনিয়নের বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। আর ধাওয়া খেয়ে চোরচক্র পিকআপ ভ্যান যোগে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলে রাস্তায় গতি রোধ করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা রোববার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে রাস্তায় গাছ ফেলে দুই চোরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
চোরচক্রের বাকি সদস্যরা দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় তারা ওই পিকঅ্যাপ ভ্যান থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাস উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরচক্রের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আগুনে ওই পিকঅ্যাপ ভ্যানটির অধিকাংশ পুড়ে যায়। অপরদিকে পাশের তালচালা এলাকা থেকে এক গরু চোরকে আটক করে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা ও ফুলবাড়িয়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুত্ব আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম হোসেন, আজাহারুল ইসলাম ও কৃষ্ণ বর্মণ নামে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০ জনের নামে মামলা করেন। গতকাল সোমবার সকালে ওই মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে গরু চুরি আতঙ্কের সঙ্গে চোর সন্দেহে তিনজনকে হত্যা মামলায় শুরু নতুন করে যুক্ত হয় গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ৩জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগ অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এইঅনদান বিতরণ করেন ফরিদপুর সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছে যারা সামান্য সহযোগিতা পায়না। দুস্থ, দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। আমরা ৫ বছর সময় পেয়েছি জনগণের সেবা করার। ইনশাআল্লাহ কাউকে আমাদের কাছে আসতে হবে না। আমরা সবাই মিলে জনগণের সেবা করবো।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০০ টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি) উদ্দেশ্যে এই বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘব এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বিল নিতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতির বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের স্বার্থে ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 'দিনের বর্জ্য দিনেই' অপসারণ নিশ্চিত করাকে এই সভার অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবেশগত দিকের ওপর জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা যাবে না। যদি কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে যত্রতত্র ফেলা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার জন্যও সভায় আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসক স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি ব্যবসায়িক সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলেও তিনি সর্তক করেন।
পরিশেষে সভায় জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে ডিএসসিসি সব সময় বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং জনস্বার্থে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামে ধানের জমির পানি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দহকোলা গ্রামে আলিমদ্দি ও জাহিদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সামাজিক দল রয়েছে। গত শুক্রবার (৮ মে) জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আলিমউদ্দিন সমর্থক রবেন মণ্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে শনিবার (৯) সন্ধ্যায় সঞ্জয়কে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১১ মে) সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়|
ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবুল বাসার জানান, জমির পানি অন্য জমিতে যাওয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে| অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
জয়পুরহাটের লতিরাজ কচুর লতি একসময় কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বা 'ভাগ্যবদলকারী' ফসল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। একসময় এটি বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বিলুপ্তির পথে রয়েছে এটি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ না করলে এই ঐতিহ্যবাহী ফসলটি পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।
জানা যায়, সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট। এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব। এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব লতিরাজ কচু।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কচুর লতি চাষে এখনই কার্যকর কোন উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। এছাড়া একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি। কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে মাগুরা জেলায় বোরো ধানের পাশাপাশি মিনিকেট ও সুবর্ণলতা ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। ধান কাটা ও মাড়াই করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকট এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে পাকা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
তেল সংকটে সময়মতো জমিতে পানি না দিতে পারলেও যে ফলন হয়েছে তাতে কৃষকরা সন্তুষ্ট। ভালো ফলনে মুখে হাসি ফুটলেও বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
জানা গেছে, মণপ্রতি ধানের দাম ১ হাজার টাকা, আর একজন শ্রমিকের অর্ধেক বেলার মূল্য ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। আবার টাকা থাকলেও ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিকের পাশাপাশি নেই প্রয়োজন মতো ধান কাটার মেশিনও। ফলে বৃষ্টির ভয়ে সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় ভুগছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর মাগুরায় প্রায় ৩৯ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
সময়মতো সার-বীজ পাওয়ায় অধিকাংশ জমিতে ধানের ফলন ভালো হলেও মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের শেখপাড়া মাঠের কৃষকরা জানান ভিন্ন কথা।
শেখ পাড়ার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে ধান লাগাইছি। গতবারের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হইছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম আর ধান কাটার জন্যি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও জনপ্রতি মজুরি দিতি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা তাও আবার অর্ধেক বেলা, সাথে তিন বেলা খাবার দিতে হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ মণ ধান হয়। বিধাপ্রতি ধান কাটতে শ্রমিক লাগে ৪-৫ জন। আবার এর সাথে যাতায়াতের খরচ আছে অনেক। আমার ১৬-১৭ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকেও অনুদান পাইনি। এত কষ্ট করেও সব খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ৭-৮ মণের টাকা থাকে। সামনে আবার বৃষ্টির সিজিন এসে যাচ্ছে। এখন সময়মতো ধান ঘরে তুলতি না পারলি আরও লস হয়ে যাবে।’
সময়মতো সার-কীটনাশক পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে একই এলাকার কৃষক বাহারুল বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করিছি। তাতে যে খরচ হইছে তা বাদ দিয়ে অল্প কিছু লাভ থাকবে। তয় এ বছর লাভ করতি পারব কি না জানিনে। হঠাৎ দুইদিন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি উঠে গেছে। এখন মেশিন দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না। আবার পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব রইছে। পানিতে নেমে কোনো শ্রমিক ধান কাটতে চায় না। তাই নিজেদের জমির ধান নিজেরাই কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করতিছে অনেকে। আবার সময়মতো যদি কৃষি বিভাগ থেকে আমরা সার ও কীটনাশক পেতাম তাহলি খরচটাও একটু কম হতো। ব্লক সুপারভাইজারের দায়িত্ব মাঠ ঘুরে হতদরিদ্র কৃষকদের নাম লিখে নিয়ে যাওয়া তাদেরকে সার কীটনাশক দেওয়া। কিন্তু উনি মাঠে আসে না, যারা একটু প্রভাবশালী শুধু তাদের নাম লিস্ট করে। আমরা সময়মতো কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি। এখন যদি আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় তাহলি আমাগের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
মঘী ইউনিয়নের কৃষক শাহিন বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি নেমে পড়ায় ধানের জমিতে পানি উঠে গেছে অনেক ধান কাদাপানির সাথে মিশে আছে। সেগুলো বারবার উল্টিয়ে রোদে দিয়ে শুকাতে সময় লেগে যাচ্ছে। দ্রুত এগুলো শুকিয়ে, কেটে ঘরে তুলতে না পারলে আমরা বিছালি বিক্রি করতে পারব না। ১ হাজার বিছালির দাম ২ হাজার টাকা। এই বিছালি বিক্রি করে আমরা একটু লাভ করতাম। মাঠে পানি উঠে যাওয়ায় ধান কাটার মেশিনও নামানো যাচ্ছে না। সময়মতো আমরা তেল পাইনি, পাইলে ফলন আরও ভালো হতো। তারপর আবার শ্রমিকের অভাব। সব মিলায়ে নানা দুশ্চিন্তায় আছি। এখন ঘন বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে ধান কেটে ঘরে তুলতি পারব কি না সেটা নিয়েও আশঙ্কা আছে।’
জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, মাগুরায় ৩৯ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সময়মতো কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব রকম উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে সবাইকে তো একবারে কৃষি উপকরণ দেওয়া সম্ভব না। আমাদের উপকরণের তুলনায় কৃষকদের সংখ্যা বেশি থাকায় অনেক কৃষক এই সেবা থেকে বাদ পড়েছে। এ বছর যারা বাদ পড়েছে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাদেরকে কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেছেন, দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। এই গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত শনিবার বিকেলে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মস্থান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার লালিয়ারহাটে আগমন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনের বিএনপি পরিবার ও সর্বস্তরের জনসাধারণ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে কাজ করছেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ এবং নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।
হাটহাজারীর অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাকিলা ফারজানা বলেন, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম ঐতিহাসিক দিন। আমার মরহুম পিতা, এই আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের উত্তরসূরি হিসেবে এই অর্জন জনগণের আস্থার প্রতিফলন।” পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “বাবার ত্যাগ ও সততা আমার পথচলার প্রেরণা। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমি আমৃত্যু মানুষের সেবা করে যেতে চাই।”
এর আগে বিকেলে লালিয়ারহাটে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক সাকিলা ফারজানাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তিনি তাঁর পিতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা-এ গরু চুরি সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিতে গিয়ে এখন তারা নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন।
নিহতরা হলেন ঢাকার মিরপুর-এর সেলিম হোসেন (৩৮), গাজীপুরের শ্রীপুর-এর আজাহারুল ইসলাম (৩৫) এবং সিলেটের সিলেট সদর-এর কৃষ্ণ কান্ত (৪৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন। শনিবার গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যানে করে উপজেলার বাগচালা এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয় এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর কালিয়াকৈর থানা-র অধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্প-এর ইনচার্জ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে নিরীহ গ্রামবাসী যেন হয়রানির শিকার না হন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও একই দাবি জানিয়ে বলেছেন, আইনের প্রয়োগে যেন নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা-র মান্নাননগর-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের ঘরগ্রাম ওবদা-বাঁধ থেকে ঘরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিনেও পাকা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে কাদামাখা এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষকে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে এটি দেখে অনেকটা চাষের জমির মতো মনে হয়। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায় পথটি। এতে স্কুলের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, প্রসূতি নারী, অসুস্থ রোগী ও মসজিদগামী মুসল্লিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ঘরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজু, রিয়া ও আবদুল্লাহ জানায়, বৃষ্টি হলে স্কুলে আসার পথে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে পোশাক, বই-খাতা নষ্ট হয় এবং অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে না এসে বাড়ি ফিরে যায়। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থী সাইকেল থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন সরদার বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃষ্টি হলেই অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারে না। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদ-এর চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান ম্যাগনেট বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা ইতোমধ্যে উন্নয়ন করা হয়েছে। দ্রুত এই রাস্তাটিও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অফিস-এর প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, “রাস্তাটির এমন বেহাল অবস্থার বিষয়টি জানা ছিল না। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
টাঙ্গাইলের বাসাইলে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো এলাকাবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু উপজেলার খাটরা গ্রামে কাঠের সাঁকোটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যার ফলে ১৫-২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেলেও এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।নির্বাচন আসলে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিজ করে দেবে,নির্বাচন গেলে আর খোঁজ থাকে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়,বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি ও খাটরা,বল্লা, কাজিপুরসহ ১৫-২০ টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা এই কাঠের সাঁকো।কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়,ব্যাংকের শাখা, লুৎফা-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে।কালিহাতী উপজেলার রামপুর,গান্ধিনা,তেজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় ১২ বছর আগে এলাকাবাসী নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া বলেন,স্বাধীনতার পর অনেক এমপি আইলো গেল কেউ এই ব্রিজটি করে দেয় না।শুধু বলেই এই ব্রিজ করে দিমু, কিন্তু এই ব্রিজ করে দেয় না।নির্বাচন আসলে বলে এই ব্রিজ করে দিমু,নির্বাচন যাওয়ার পর আর মনে থাকে না।আমাদের এই ব্রিজটি খুবই দরকার।হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।
অটোচালক রিপন বলেন,এই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।এই কাঠের সাঁকো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।পরে টাকা তুলে আমাদের এই কাঠের সাঁকো ঠিক করতে হয়।
আরেক অটোচালক আজমত আলী বলেন,এই ব্রিজ করে দেবে অনেকেই কথা দেয়।কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ব্রিজটি কেউ করে দেয়নি।আমাদের কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হয়।এই ব্রিজে আমি দুর্ঘটনার শিকার হয়।তক্তা ভেঙ্গে আমার অটোগাড়ি নিচে পড়ে যায়।পরে ৬ জনে মিলে আমার অটোগাড়ি উপরে তুলি।কাঠের সাঁকো দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।আমাদের এখানে ব্রিজ হওয়া অতি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন,আমাদের এই যে কাঠের ব্রিজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।ভ্যান-অটো,সিএনজিও গুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।সকাল হলেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যায়।যখন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করে তখন মনে হয় ব্রিজটি দোলতেছে।সরকারের কাছে আবেদন যে এই ব্রিজটি যেন দ্রুতই করে দেয়।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন,বাসাইলের খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পের প্রথম দিকের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে।অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্রাই এই খাটরা ব্রিজ টেন্ডার আহবান করা হবে।
তিনি আরও বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।মন্ত্রী তাগিদ দিচ্ছেন,এই ব্রিজটি যত দ্রুত সম্ভব করা হয়।অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পে যদি সময় লাগে তাহলে টাঙ্গাইলের অন্য প্রকল্প থেকে ব্রিজ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ও টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলী সচেষ্ট রয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-য় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কাটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে আম, যা দেখে স্থানীয় চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাগানগুলোতে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি ও মল্লিকার মতো উন্নত জাতের আমের ভালো ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় খুশি আমচাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আম্রপালি ও হিমসাগর জাতের গাছে বেশি ফল ধরেছে।
উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়ন-এর টিপনা গ্রামের চাষি মো. আতিয়ার রহমান সরদার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমের গুটি ঝরে পড়া কম হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে পোকামাকড়ের আক্রমণও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছরের ফলন গত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে বলে আশা করছেন তারা।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, কৃষকরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা আমের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বাড়াতে সহায়তা করছে।
এদিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ডুমুরিয়ার আম দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার আমচাষিদের নিরাপদ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ফরমালিন ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি উন্নত জাতের আম চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জয়পুরহাট জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য কচুর লতি। যা লতিরাজ কচু হিসেবে পরিচিত। এই লতিরাজ কচু চাষে জেলার কৃষকদের ভাগ্য বদলেছে। তবে সময়ের ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী এই কৃষিপণ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। চাষাবাদে অবহেলা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কচুর লতির উৎপাদন।
সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট। এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব। এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব লতিরাজ কচু।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কচুর লতি চাষে এখনই কার্যকর কোন উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
এবিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। এছাড়া একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি। কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বুড়ন গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ছাপরা ঘরে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির প্রতিটি পিলারে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। গত দেড় মাসে অন্তত তিনবার পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
এ অবস্থায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার বর্মন শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্নবের হাতে পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে শিশুরা ভীত হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে চাচ্ছে না।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান ৫ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকরা পর্যন্ত অফ পিরিয়ডে ভবনের বাইরে অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকের আবেদনটি আমরা ইতোমধ্যে সুপারিশসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ ও নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ জানানো হয়েছে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।