দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে রহস্যে ঘেরা থাকা একটি ভয়ংকর গরু ডাকাতির ঘটনার অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উদঘাটন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের সলঙ্গা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওঠে এসেছে এক ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের কার্যক্রম, যারা মহাসড়কে ফিল্মি কায়দায় গরুবাহী ট্রাক ছিনতাই করে সেই গরু জবাই করে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে মাংস সরবরাহ করত।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১৭ এপ্রিল মাসে। সময়টা ছিল ঠিক কোরবানির ঈদের পূর্ব মুহূর্তে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাট থেকে ১৪টি ষাঁড় গরু ক্রয় করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। গরুগুলো একটি ট্রাকে করে বহন করা হচ্ছিল। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের ওপর পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল তাদের পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়।
ডাকাতরা নিজেদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ দিয়ে গরুবাহী ট্রাকটিকে চাপ দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর তারা ট্রাকের ড্রাইভার, হেল্পার ও গরুর রাখালকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাদের ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং গরুসহ পুরো ট্রাকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত মামলার কোনো কূলকিনারা হয়নি।
এ ঘটনায় সে সময় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও আসামি গ্রেপ্তার কিংবা ডাকাতির রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। ন্যায়বিচার অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
অবশেষে সম্প্রতি সালঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মানিকগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত সদস্য হাসান ওরফে রিপনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পুরো ঘটনার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, ওই রাতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মোট ১২ জন সদস্য অংশ নিয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্য। পরিকল্পিতভাবে তারা গরুবাহী ট্রাক টার্গেট করত এবং সুযোগ বোঝে গভীর রাতে অভিযান চালাত।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, ডাকাতির পর গরুগুলো ঢাকার আশুলিয়া থানার এনায়েতপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোকচক্ষুর আড়ালে পরিচালিত এক খামারে রাতের আঁধারে গরুগুলো বিক্রি করা হয়। খামারের মালিক জিয়া নামের ব্যক্তি যিনি রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ ও অভিজাত শপিংমলে মাংস সরবরাহ করতেন।
পুলিশ জানায়, কৌশলী ওই ব্যবসায়ী জিয়া দ্রুত গরুগুলো জবাই করে মাংস হিসেবে বাজারজাত করে দেয়। ফলে ডাকাতির আলামতও দ্রুত মুছে ফেলা সম্ভব হয়। রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে সেই মাংস সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তদন্তে ওঠে এসেছে।
এ ঘটনায় জিয়া ও তার সহযোগী আলিমকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কুখ্যাত ডাকাত হাসান ওরফে রিপন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে ডাকাতচক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সলঙ্গা থানা পুলিশের এই সফল অভিযানে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মামলার অগ্রগতি শুধু একটি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন নয়, বরং মহাসড়ককেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ভয়ংকর নেটওয়ার্কও সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নাই। শনিবার (১৬ মে) এফডিসিতে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় এবং সরকারে আয়ের টান পড়েছিলো। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিলো যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্রসীমার নিচে চলে গিয়েছে, যা খুবই মমার্ন্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙ্গন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ি ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি।
পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমান সরকার এইরকম কোন সিন্ডিকেটের কাছে কোন খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় বাসচাপায় নিহত হয়েছেন বাবা ও ছেলে। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোলপ্লাজার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) এবং তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব মালবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী হেলপার হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পেছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের উপর এক পাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত বাস পেছন দিক থেকে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ সময় রাস্তার ওপর বাবা-ছেলের মরদেহ ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল।’
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের ড্রাইভার এবং বাবা হেলপার ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে আজ রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা ঘোষণা করেছে পুলিশ।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৩ মে আমরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। গত শুক্রবার রাত ৩টায় সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অপরাধী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দাবি অস্বীকার করছে। উপাচার্য স্বাক্ষরের মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে এবং ভুল ছবি প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তারা বলেন, এই প্রক্টরের আমলে তরিকুল ধর্ষণকাণ্ড ও শারমিন হত্যা মামলা হয়েছে, অথচ উপাচার্য তাকে ‘সবচেয়ে এফিসিয়েন্ট প্রক্টর’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর নারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন।
তারা জানান, আগামীকাল থেকে রেজিস্ট্রার ভবনে সব প্রশাসনিক কার্যক্রম অবরোধ করা হবে। প্রক্টরের পদত্যাগ, অপরাধী গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেন।
নারী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পর থেকেই প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে। তালা ঝুলানোর পর প্রক্টর অফিসের দরজা, জানালা ও দেয়ালে ‘গেট লস্ট, অবাঞ্ছিত প্রক্টর, রাশেদ তুই ভাগ, তুমি ভুয়া-ব্যর্থ-বেহায়া’ গ্রাফিতি লেখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। পুলিশ চেষ্টা করছে এবং কিছু অগ্রগতি আছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে অভিযোগকারী ও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাসভবনের সামনে দাড়িয়ে প্রক্টরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’
উপাচার্য আরো বলেন, ‘ভুল ছবি প্রকাশের বিষয়টিও তদন্ত কমিটিতে দেখা হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষার্থীরা তদন্তের জন্য কিছু সময় দেবেন।
এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তায় এ অনুরোধ করা হয়।
পুলিশের বার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। কারও কাছে তার পরিচয়, অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে ০১৩২০-০৮৯৩০৫ (হোয়াটস অ্যাপ) এই নম্বরে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে পুরস্কারেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে জবাই করে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার (৪০) মরদেহ মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও লৌহজংয়ের মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ি (ইনচার্জ) মো. ইলিয়াস।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজারের পাশে দুপুরে পদ্মায় একটি ভাসমান মরদেহ দেখে স্থানীয়রা নৌপুলিশকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মাওয়া নৌপুলিশ নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জুবায়ের রহমান উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অভিযুক্ত ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। মরদেহটি উদ্ধার শেষে গাজীপুরের পুলিশের হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু থেকে লাফ দিয়ে আলোচিত হত্যা মামলার আসামি ফোরকানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে সরকারিভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আসলে আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে নদীজুড়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি।
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় খবর পাঠানো হলে মামলার বাদী, ফোরকানের পরিবারের সদস্য ও তদন্ত কর্মকর্তা লাশটি প্রাথমিকভাবে ফোরকানের বলে ধারণা করেন।
নৌ-পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, মরদেহটি বেশকিছু দিন পানিতে থাকায় অর্ধগলিত হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি পরিচয় নিশ্চিত হতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেটি সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার মেহেরপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসের হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, ফোনটি তিনি পদ্মা সেতুতে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এই সূত্র ধরে পুলিশ পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে।
ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে তার মোবাইলটি ফুটপাতে রাখেন। এরপর দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা করে তিনি রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন। ভিডিওটি দেখে মামলার বাদী ও ফোরকানের ভাই লাফ দেওয়া ব্যক্তিটি ফোরকান বলেই ধারণা করেন। তবে চেহারা স্পষ্ট না থাকায় তখন শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ৯ মে হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকানকে গ্রেফতারে পুলিশের তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং আরেকটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। তবে উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হত্যাকাণ্ডে ফোরকান ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ মে সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তাদের তিন সন্তান মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা (২৩)। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক ছিলেন।
হজের মোট খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আশকোনার হাজী ক্যাম্পে হজ যাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
হাবের সভাপতি বলেন, ২০২৭ সালে হজ যাত্রার বিমানের টিকিট মূল্য কমে ১ লাখে নেমে আসবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে হজের মোট খরচ কমে আসবে।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট চুক্তি, তাবু নির্বাচনের কাজ করতে হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও হাবের সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।
এছাড়া সৌদি সরকারের নতুন নতুন সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পটুয়াখালীর বাউফলের একে একে নিভে গেল একটি পরিবারের সবকটি প্রাণ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান।
শনিবার (১৬ মে) সকালে যখন মা সালমা বেগম (৪০), একমাত্র ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে মুন্নী (৯) ও শিশু কথা’র (৭) সাদা কফিনে মোড়ানো লাশ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের কাড়াল বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এর আগে গত সোমবার সকালে দাফন করা হয়েছিল গৃহকর্তা কালাম মিয়াকে (৫০)। আজ নতুন বাড়ির পুকুরপাড়ে কামাল মিয়ার কবরের ঠিক পাশেই বাকি চারজনকে শায়িত করা হয়েছে। একই সারিতে পাশাপাশি পাঁচটি তাজা কবরের দিকে তাকিয়ে নির্বাক চোখে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত মানুষ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালাম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভুইগড় এলাকার একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় দুটি রুম নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। গত রবিবার (১০ মে) সকাল ৬টার দিকে কালাম মিয়া রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় তরকারি গরম করতে যান। তখন স্ত্রী ও সন্তানরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ঘরটিতে আগে থেকেই জমে থাকা লিকেজ গ্যাস দেশলাইয়ের সংস্পর্শে আসতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত আগুনের মাঝেও বাবা কালাম মিয়া ঘরের দরজা খুলে দগ্ধ ছেলে মুন্নাকে বাইরে বের করে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা কামালের স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তাসহ সবাইকে নির্মমভাবে গ্রাস করে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
বার্ন ইউনিটের বিছানায় একে একে নিভে গেছে পাঁচটি প্রাণ। মৃত্যুর এই নির্মম মিছিলে প্রথমে বিদায় নেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম মিয়া। দুর্ঘটনার দিন রবিবারই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বজনরা রাতেই তার মরদেহ নিয়ে আসেন গ্রামের বাড়িতে এবং সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়। তখনো কেউ জানত না, এই কবরের পাশে আরও চারটি কবর খুঁড়তে হবে।
বুধবার বিকেল মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে ৭ বছরের শিশু কথা। মায়ের কোল খালি করে চলে যাওয়া কথার লাশ রাখা হয় হাসপাতালের হিমাগারে। বুধবার রাত ১১টা বোনকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় একমাত্র ছেলে মুন্না (১২)। একইদিন বিকালে না ফেরার দেশে চলে যায় মেঝ মেয়ে মুন্নী (৯)। শুক্রবার সকাল ৮টা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মা সালমা বেগম (৪০)।
শনিবার(১৬মে) সকালে যখন মা ও তিন সন্তানের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কাড়াল বাড়ির উঠানে এসে থামে, তখন উপস্থিত শত শত মানুষের চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যখন একে একে চারটি সাদা কফিন বের করা হচ্ছিল, তখন স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো একনজর দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে চারপাশ থমকে যায়। এরপর সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কামাল মিয়ার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তার স্ত্রী ও সন্তানদের।
কালাম মিয়ার চাচাতো ভাই সোহাগ বলেন, প্রায় ২০-২২ বছর আগে কামাল বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে উজিরপুরে বিয়ে করেছিল। কত কষ্ট করে ফতুল্লার ব্যবসাটা দাঁড় করাল। মাত্র ২০-২৫ দিন আগেও ঢাকায় ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ভাবতেই পারছি না, ভাই-ভাবি আর পুলাপাইনডি এভাবে আমাদের ছেড়ে এক্কেরে চলে যাবে!
কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ঈদের আগে ভাইয়ের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল। বাড়িতে ভাইয়েরা মিলে একটা নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ ধরছিল। ভাই বলছিল 'এবার কোরবানির ঈদে বাড়ি আইসা ঘরের কাজ শেষ করমু, বাকি জীবনটা স্ত্রী-সন্তান নিয়া দেশের বাড়িতেই থাকমু।' ভাই আমার বাড়ি ফিরল, কিন্তু লাশ হয়া!
এদিকে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এক স্বজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসার গ্যাসের পাইপ লিকেজ হওয়ার বিষয়টি কালাম মিয়া আগের দিনই ভবনের দারোয়ানকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দারোয়ানের অলসতা করে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানায়নি। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ একটি পুরো পরিবার এভাবে শেষ হয়ে যেত না।
গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে যখন প্রকৃতির প্রাণ বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সেজেছে এক ভিন্ন রূপে।
ক্যাম্পাসের সবুজ বুক চিরে এখন উঁকি দিচ্ছে সোনাঝরা রং। চারপাশ আলো করে ফুটেছে সোনালু ফুল। প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।
সোনালু মূলত গ্রীষ্মের ফুল। বৈজ্ঞানিক নাম (Cassia fistula)। বাংলায় এটি ‘সোনালু’ বা ‘বানরলাঠি’ নামে পরিচিত। এর দীর্ঘ, নলাকার ফলগুলোর কারণেই গ্রামীণ মানুষ একে বানরলাঠি বলে ডাকে।
তবে এর ইংরেজি নাম ‘গোল্ডেন শাওয়ার’ যেন এর রূপকে সবচেয়ে ভালো ফুটিয়ে তোলে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছ থেকে যেন হলুদের ঝর্ণাধারা নামছে।
চবি ক্যাম্পাসে হলুদের মেলা:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি মোড়েই এখন সোনালুর দেখা মিলছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে, হলের সামনে এবং বিভিন্ন অনুষদের খোলা জায়গায় এই গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে।
পাতাঝরা এই গাছের ডাল থেকে লতানো থোকায় থোকায় ঝুলছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল। হালকা বাতাসে যখন ফুলগুলো ঝরে পড়ে, তখন নিচের পিচঢালা রাস্তা যেন হলুদ গালিচায় রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা সবুজ পাহাড়ের মাঝে এই হলুদ রং এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
ক্যাম্পাসের এই রূপ উপভোগ করছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে সোনালু গাছের শীতল ছায়া আর এই নয়নকাড়া দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।
অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন ছবি তুলতে, কেউবা মেতে ওঠছেন আড্ডায়। তীব্র গরমের মাঝেও সোনালুর এই সোনাঝরা হাসি চবি ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস।
নীলফামারীর জলঢাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্যান, বাই-সাইকেল, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, পানির বোতল ও খেলার সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে জলঢাকা ডাকবাংলো মাঠে নীলফামারী জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দের অর্থায়নে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সামগ্রী তুলে দেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলমগীর হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা পরিষদ পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শিক্ষাজীবন সহজ ও আনন্দময় করতে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা ও খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেন।
নিখোঁজের পাঁচদিন পর কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চরের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কিশোরটির গলায় ইট ও কোমরে বস্তা বাঁধা ছিল।
নিহত কিশোরের নাম আরিক মিয়া (১২)। সে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের রেজেক মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ১১ মে রাত ১টার দিকে আরিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন খালিয়াজুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার পরিবার।
শনিবার দুপুরে পাশ্ববর্তী ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চরে কয়েকজন যুবক ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ডোবায় মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আরিকের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনদের দাবি, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়াও তার গলায় ইট এবং কোমরে বালুর বস্তা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব মিয়া জানান, ১১ মে নিজ বাড়ি থেকে ছেলেটি নিখোঁজ হয়। পরদিন তার পরিবার খালিয়াজুড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। শনিবার ইটনার ধনপুর কালিবাড়ি চর এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত জাপানি শিক্ষা পদ্ধতি ‘কুমন’ প্রশিক্ষণের যাত্রা রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে। এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেডের সহায়তায় ব্র্যাক কুমন লিমিটেড ও মোনোঘরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪০ জন শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে ‘কুমন’ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাঙামাটির রাঙ্গাপানি মোনোঘর আবাসিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কুমন লার্নিং সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, নতুন প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যোগ্য করে গড়ে তুলতে আধুনিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরনের আধুনিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় দীক্ষিত করতে বিদেশী আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি যাতে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা সহজেই আয়ত্ত করতে পারে, সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার সবসময় আন্তরিক এবং এই ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সরকার বিশেষভাবে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করে আসছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ শীঘ্রই পুনঃগঠন করা হবে। পুরো বিষয়টি এখন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এটি একটি বড় এবং জটিল প্রক্রিয়া, তাই এখানে কোনো প্রকার ভুল হতে দেওয়া যাবে না। তবে পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন আইনের বিধান মেনেই সকল জাতিসত্ত্বার সদস্যসহ সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে এই জেলা পরিষদগুলো গঠন করা হবে। অচিরেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাপানে উদ্ভাবিত এবং বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে সমাদৃত ‘কুমন’ পদ্ধতি শিশুদের আত্মশিক্ষা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং যেকোনো জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে এই লার্নিং সেন্টারটি অনন্য অবদান রাখবে।
মোনোঘরের সভাপতি উদয় শংকর মহাথের-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক কুমন লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার নেহাল বিন হাসান, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কিমুরা কেঞ্জি, ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম কিবরিয়া, মোনঘরের মহাসচিব কীর্তি শিখান চাকমা এবং জাইকা (JICA) বাংলাদেশ অফিসের স্পেশাল অ্যাডভাইজার কিয়োকো আমাদা।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক কুমন লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার অনন্য হকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ইমান আলী বাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত মো. আবদুস সামাদ ওরফে ডাক্তার সামাদ স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে সরকারি চাল মজুত করে রাখা হচ্ছিল। পরে এসব চাল বেশি দামে বিক্রি করা হতো। গতকাল শনিবার সকালে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে সামাদের বাড়িতে যান। সেখানে একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি চালের বস্তা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখেন।
এ বিষয়ে আবদুস সামাদ বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ডাক্তার আজগর একজন ডিলার। নূরানী মাদ্রাসার সরকারি বরাদ্দের চাল তিনি কিনে এনেছেন। পরে সেগুলো বাড়িতে রাখা হয়েছিল।’
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। চাল কেনার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম শাহাবুদ্দিন এবং উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান খনন কাজ ঘুরে দেখেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন খালগুলো খনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ কমে গিয়ে কৃষি কাজে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। বর্তমানে খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে,এবং কৃষকরা সহজেই চাষাবাদের জন্য পানি ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোকে খাল পুনরুদ্ধার ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রামীণ কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রকল্প কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প(IPCP) এলজিইডি, নলছিটি, ঝালকাঠী এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে (RDPP No-16) এর আওতায় মল্লিকপুর হতে তেরলা ব্রিজ পর্যন্ত কুদেরধন খাল, বচন বাড়ি খাল, বড় তালুকদার বাড়ি হয়ে মোনাই বাড়ি পর্যন্ত এবং চন্দ্রকান্দা বাজার হতে ভরতকাঠি জিপিএস এবং জুরকাঠী শাখা খাল পর্যন্ত, পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে।