প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’
দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সাথে সকলে আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা-শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।
বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সে জন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সে জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’
বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশের জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতারা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিল বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারীশ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে।’
আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল নারীশ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সে জন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদের সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘সে জন্যই নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারীপ্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সাথে সাথে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের নারীশ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’
সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ সবার জন্য বাংলাদেশ।’ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা-শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য রাখেন। ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।
একই দিনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না, দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।’ এই অনুষ্ঠান থেকে সারাদেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা মানুষের ভোট, ভাত ও কথা বলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের পর বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট দেশের মানুষ বুক টান করে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী শাসনকে চিরতরে বিদায় করেছে। স্বৈরাচারের সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় পেরিয়ে দেশের মানুষ এখন চায় স্থিতিশীলতা, শান্তি, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার সমান সুযোগ।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’
দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লেখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজ আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি।’
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্র হয়ে যারা আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মুন্সীগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।
সফরের শুরুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারে দুই তলা বিশিষ্ট গ্রামীণ মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি গজারিয়া উপজেলার আওতাধীন ব্র্যাক অফিস–ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের চেইনেজ ০ থেকে ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ইসলামপুর এলাকার কাঠেরপুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সেতুটির বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সেখানে একটি সেতু প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
এরপর মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সকলের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে ‘I Have a Plan’ ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। তিনি তার পিতা-মাতার দেখানো পথে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
মুন্সীগঞ্জবাসীর উদ্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং দেশের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের কতিপয় সংসদ সদস্য।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৫ম তলার ২১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনের ব্যাগ থেকে সুকৌশলে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে চোর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে টহলরত আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া করেন।
আনসার সদস্যদের দ্রুত ও সাহসী ধাওয়ার মুখে চক্রের কয়েকজন সদস্য অন্ধকার ও ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুরাতন ভবনের ৫ম তলার গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে মোঃ সোহেল মিয়া (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হন আনসার সদস্যরা। প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল ফোনটি চক্রের অন্য এক সদস্যের কাছে ছিল, যিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিকে আনসার সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে সদর থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন পিসি মোঃ ফারুক হোসেন। অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আনসার সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন এবং মোঃ নজরুল ইসলাম। তাদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তারা জানান, আনসার সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে এবং হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসেবায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করে যাচ্ছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চোর চক্রের সদস্য আটক করার এ ঘটনাটি বাহিনীর সতর্কতা, সাহসিকতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং এই তিন মাসে তিনি যে অভূতপূর্ব কাজ করেছেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে তিন বছরেও তা করতে পারত না।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের স্মরণে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর শোকসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যে পরিমাণ জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে, তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং জেলা-উপজেলা লেভেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছেন গোপালপুর ও ভূঞাপুরের মানুষ।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আরও বলেন, বর্তমানে দেশ এবং দল দুই জায়গাতেই নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং চক্রান্তের মাধ্যমে দলের ভেতর বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা সবাই জিয়া পরিবারের লোক এবং দলের সবাইকে তিনি নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় পর্যায়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এর আগে গত বুধবার তিনি চকবাজার থানায় জিডিটি করেন, যেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এনসিপির কমিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ বারে যান। সেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমে তাকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন সেখান থেকে চলে গেলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং তাঁর সাথে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তাঁর আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তিনি এই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল দ্য পেনিনসুলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে অলরেডি হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তের স্বার্থে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, তার সব আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান সরকারের তিন মাসে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই মার্কেট ভবনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভবেরচর আধুনিক ভবনের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের ২ হাজার মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। আধুনিক যুগে এসেও একটি মাত্র সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা এখনো একটি সাঁকোই। প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার, কিন্তু এ সাঁকোর জায়গায় সেতু আর হয়নি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৭ গ্রামের মানুষ।
সেতুর অভাবে বছরের পর বছর এ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করেছেন তারা। বর্ষা এলেই সেই সাঁকোও পানির নিচে ডুবে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা, মাঠের ফসল আনা-নেওয়া ও বাজার-সদাই এসব কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। এতে তারা অসহায় হয়ে আছেন।
সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর এবং সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর দুই তীরের মানুষের যোগাযোগের জন্য নেই কোনো পাকা সেতু। ফলে দৌলরদী, গোলনগর, কুমারচর, জোয়ারদী, মুছারচরসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটি ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ে। তাই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী, রোগী সবারই একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এই সাঁকো। তখন তাদের চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নৌকার ওপর। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, এখানে সেতু না থাকায় এ সাত গ্রামের মানুষের সাথে কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না। এতে বিপাকে পড়ে মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে সাঁকোর বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙেও পড়েছে। ফলে সাঁকো দিয়ে আর চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন নৌকায় করে নদী পারাপার করছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই সাঁকো। এখন আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি। কিন্তু এত দিনে একটি সেতুও হলো না। নির্বাচন এলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেন, পরে আর কোনো খোঁজ থাকে না।
কুমারচর এলাকার কলেজ ছাত্র সিফাত ও মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কয়েক দিন আগে আমাদের এক সহপাঠী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে সাঁকো ডুবে যাওয়ায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ক্লাসে যেতে পারি না। পরীক্ষার সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক সুরুজ আলী জানান, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হয়। অনেক সময় মাথায় বা কাঁধে মাল বহন করে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।
গোলনগর গ্রামে ৬০ বছরের সোলায়মান মিয়া জানান, সাদিপুর ও সনমান্দি ইউনিয়নের এ জায়গা একটি সেতু না থাকায় আমরা এখন খুবই কষ্টে আছি। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সেতু না থাকায় আমাদের গ্রামসহ সাত গ্রামের মানুষের সাথে দুরের কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাঁকো পারাপারের সময় বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ হাত-পা ভেঙেছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। তবু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। দুই ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, তিন যুগ ধরে যে সেতুর অপেক্ষা, সেই অপেক্ষা আর কত দীর্ঘ হবে? প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়া হাজারো মানুষের এখন একটাই দাবি-আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের মধ্য বাগুয়ান গ্রামে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। একারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমিয়ে গ্রামের শতাধিক মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী জহুরুল ও খায়রুল নামে দুই ব্যক্তি পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করার কারণে এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাতে হাঁটু পানি জমে থাকে। ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। নোংড়া, ময়লা পানি দিয়ে যাতায়াত করার কারণে বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, একবার ইউপি সদস্য ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসলেও কেউ জায়গা না দেওয়ায় ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জহুরুলের মা দেলোয়ারা বেগম বলেন, পানি যাওয়ার কারণে মাটি ধুয়ে যায়। এ কারণে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে পাইপ দিলেই পানি চলে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য বাঁধা থাকা স্বত্বেও রাস্তা করে দিয়েছি। তারা ড্রেন করার জায়গা দিলে বরাদ্দ সাপেক্ষে আবারও ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে জাল টাকার নোটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকার আশরাফ সেতু কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার শিবনগর গ্রামের মৃত সামাদ বেপারির ছেলে শাহিন আলম (৪৫) এবং টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ভাসমান সোহেল (২৪)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে আশরাফ সেতুর সামনে জাল টাকা নিয়ে দুই ব্যক্তি অবস্থান করার সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার ৫১টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল টাকার মূল্য ২০ হাজার ৩০০ টাকা।
আটককৃতদের মধ্যে শাহিন আলমের কাছ থেকে ৫০০ টাকার ২০টি ও ১০০০ টাকার ৮টি জাল নোট এবং সোহেলের কাছ থেকে ১০০ টাকার ২৩টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের শেষে শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক শফিক মিয়া (৩১) হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আবদুল্লাহপুর মুন্সিবাড়ির মৃত শের আলীর পুত্র হান্নান মিয়া (৪২) ও জামিরা বাড়ির ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র ফরহাদ (৩৫)। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার কালনী নদীর পাড় থেকে মুখমন্ডল থেঁতলানো অবস্থায় শফিক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জুন (২০২৬) অষ্টগ্রাম থানায় ৩০২/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা (নং-১৩) দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শফিক মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উদ্যোগ নিয়ে মোহরানা ও ভরন পোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কালনী নদীর পাড়ে তার রহস্যজনক ও নৃশংস মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের পর দ্রুততম সময়ে দুই আসামি গ্রেপ্তার করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ট্রেনে বেড়েছে মাদক চোরাচালান। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি চক্র মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ট্রেনের বগি ও ছাদে গোপনে মাদকপাচার করছে। এসব মাদক চোরাচালান রোধে তৎপর রেলওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ৬ মাসে ২শ ৩৯ কেজি গাঁজা ও ১০ বোতল মদ জব্দ করাসহ ১৩৬ জন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
জানা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বিভিন্ন ট্রেনে বিশেষ অভিযান চালায় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ। এর মধ্যে রেলওয়ে পুলিশ এককভাবে ৯৬ কেজি গাজাঁ এবং র্যাবের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ১শ ৫৩ কেজি গাজাঁ জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা।
এ ছাড়াও এসব মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ৭৮ জনকে ভ্র্যাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ৫৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদ আহমেদ জানান, এসব মাদক জব্দের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করেছে।
খুলনার রূপসা উপজেলায় বিদেশি পিস্তলসহ সুলতান মাহমুদ বাপ্পা (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাপ্পা গোপালগঞ্জ জেলার বেতগ্রাম এলাকার শেখ হাফিজুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, রূপসা থানার এসআই মশিউর রহমান সরকারি পিকআপে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় নৈহাটি গোডাউন মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সূত্রে খবর পান যে, জয়পুর গ্রামে এক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মীরসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়
সেখানে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তার পরিহিত ট্রাউজারের পেছনের কোমর থেকে একটি খালি ম্যাগাজিনসহ বাটযুক্ত বিদেশি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুলতান মাহমুদ বাপ্পাকে খুলনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
মাদারীপুরের শিবচরে ট্রেনের ধাক্কায় শুকরন বেগম (৭৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের পাঁচ্চর তেলের পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শুকরন বেগম দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাঁচামারা মোকশেদপুর এলাকার মোঃ মোকশেদ হাওলাদারের স্ত্রী।
মাদবরেরচর ইউনিয়ন মোল্লাবাজার সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে এক নারীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানান পরিবারের লোকজন।
শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে এবং এ ব্যাপারে রেল পুলিশ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
শনিবার (২০ জুন) বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠকের পর তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সীমান্ত পিলার ১৭৭-এর ২-এস এবং ১৭৮-এর এস-৩ পিলারের কাছে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বিএসএফ পুশইন করা ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশুকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এর আগে শনিবার (২০ জুন) সকালে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ওই ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারনে সেই চেষ্টা বার্থ হয়।