এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে নিজের ছাত্রকে দিয়ে খাতা দেখানোর অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তার এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে তার এক ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিডিওতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখতে যাওয়া মেহেদী হাসান একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে তদন্ত শেষে শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও ছাত্র মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।
“জনসেবার জন্য প্রশাসন” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতি বুধবার (১৯ আগস্ট) ১১ টার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার ব্যবস্থা করছেন।
গণশুনানিতে জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা, চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষাভাতা, ঘর মেরামতসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসছেন মানুষ। অনেকেই বলছেন, সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারায় তারা স্বস্তি ও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
গণশুনানিতে স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে আসেন শামীমা সুলতানা। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এত সহজে ডিসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করা যায়। তিনি আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। এতে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি।”
নিজের বসতঘরের সমস্যার কথা জানাতে আসেন মো. শাহজাহান আলী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ঘরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি। পরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে এসে বিষয়টি জানালে তার ঘর মেরামতের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
একজন শিক্ষার্থী বই কেনার জন্য সহযোগিতা চাইতে জেলা প্রশাসকের কাছে আসে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমি বইয়ের জন্য এসেছিলাম। কিন্তু ভাবতে পারিনি স্যার আমার কথা শুনে আমাকে বই কেনার জন্য সহযোগিতা করবেন। তিনি ভবিষ্যতে কোনো প্রয়োজন হলে যোগাযোগ রাখতেও বলেছেন।”
গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের সরাসরি কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তাদের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা। একজন মানুষ যখন তার সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেন, তখন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বিধি অনুযায়ী যতটা সম্ভব দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। গণশুনানির মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এভাবে সরাসরি মানুষের কথা শুনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে।
আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল হাই সমাজসেবা কোন কথা বিন্দু।
কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আজ ১৯ আগস্ট ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর কনসার্ট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় ইমাম-উলামা পরিষদ ও ধর্মীয় নেতাদের আপত্তির পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
কনসার্ট বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদের নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখানে তারা দাবি করেন, কনসার্টে গান-বাজনার আয়োজন ইসলামী শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।
এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেমদের বিরোধিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
এবারও পুরাতন স্টেডিয়ামে কনসার্ট আয়োজন না করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান তারা।
ইমাম-উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্মারকলিপির অনুলিপি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কনসার্টটি স্থগিত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে ‘অ্যাশেজ’। সেখানে ব্যান্ডটি লিখেছে, ‘প্রিয় কিশোরগঞ্জ! প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে আজকে পুরাতন স্টেডিয়ামে কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে। আশা করি আবার দেখা হবে। তবে কনসার্টটি নতুন করে কবে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
চট্টগ্রাম মহানগরের আতুরের ডিপো এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিবিধ দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ইত্যাদি জিন্স কারখানার শত শত শ্রমিক।
আজ বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সম্মুখস্থ প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হঠাৎ এই অবরোধের কারণে সকালে কর্মস্থলগামী সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পাওনা বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে না। বকেয়া বেতনের পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিদাওয়ার বিষয়েও ম্যানেজমেন্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে। শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একাধিকবার আশ্বাস দিলেও মালিকপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যার ফলে নিরুপায় হয়েই তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরতরা।
শ্রমিকদের এই অবরোধ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এই বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং স্থানীয় থানা পুলিশ একযোগে কাজ করছে। শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি অবহিত করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যানজট নিরসনে কাজ চলছে।
কুমিল্লার চান্দিনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হাফেজ মো. মনির হোসেন (৩২) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে ওই ঘটনা নিয়ে গ্রাম্য সালিশ চলাকালে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় নবাবপুর মারকাযুন নূর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ওপর এই পাশবিক আচরণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হাফেজ মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, শিক্ষক মনির হোসেন সোমবার রাতে তাকে মাথা ও পা মালিশ করে দেওয়ার কথা বলে নিজের কক্ষে ডেকে নেন এবং সেখানে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিত ছাত্রটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে বিস্তারিত বর্ণনা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা ওই শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে প্রহার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। তবে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
বলাৎকারের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ করার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, "দুই পক্ষ আমার পরিষদে এসে মীমাংসা করতে চাইলে আমরা গ্রাম্য সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।"
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রসঙ্গে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, "স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় ভূক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।" ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক নজরদারি শুরু হতেই আইন ভঙ্গের অসংখ্য চিত্র উঠে এসেছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি চালুর প্রথম মাত্র সাত ঘণ্টাতেই নিয়ম অমান্য করায় ৪২৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম আজ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো শনাক্ত করা হয়। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৪৯০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট এক হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট রিড করতে সক্ষম। ফলে অতিরিক্ত গতি, ভুল লেনে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অপরাধগুলো নিমিষেই ধরা পড়ছে এবং সাথে সাথে ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাইওয়ের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, "এখন থেকে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যানবাহন চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ক্ষেত্রে চালকরা ট্রাফিক আইন মেনে চলবে। এতে মহাসড়কে বাড়বে শৃঙ্খলা, কমবে দুর্ঘটনাও। মূলত মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে মামলার বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে, ১৮ আগস্ট থেকে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কার্যকর হবে। গণমাধ্যমকে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মামলার তথ্য পাওয়ার পর যানবাহনের মালিকরা বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন। এই নতুন উদ্যোগের ফলে মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতের ঘটনায় পুলিশ সদস্য এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক ও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরকে কেন্দ্র করে ওই রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরেও সেখানে মাইকে বিকট শব্দে গান বাজানো অব্যাহত থাকে।
পুলিশ লাইন্সের অতি সন্নিকটে অবস্থিত দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পরবর্তী দিন পরীক্ষা থাকায় উচ্চশব্দের কারণে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছিল বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী গান থামানো বা অন্তত শব্দ কমানোর অনুরোধ নিয়ে পুলিশ লাইন্সে যান।
সেখানে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তপ্ত এই অবস্থা সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন জখম হন।
দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদরাসার একদল শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, পরীক্ষার পূর্বরাত্রে প্রচণ্ড শব্দে গান বাজার কারণে তারা একাগ্রচিত্তে পড়াশোনা করতে পারছিলেন না। তারা কেবল শান্তিপূর্ণভাবে শব্দ হ্রাসের অনুরোধ জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়ে লাঠিচার্জ করে। তারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রার্থনা করেছেন এবং বিচার না পেলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সার নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, তা ‘প্ল্যান ওয়াইজ’ ষড়যন্ত্রের অংশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত ৬ মাসে আশা অনুযায়ী সুন্দরভাবে কাজ করতে পেরেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সবজি ও ফুড রপ্তানিকারকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সমস্যা জেনেছি, আশা করি দ্রুততম সময়ে সমস্যা শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছি। বড় পরিমাণে রপ্তানি হবে। আমসহ অন্যান্য ফল রপ্তানি করতে প্যাকেজ ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। জাপান থেকে আন্তর্জাতিক মানের এ ইউনিট আনা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে কৃষি শক্তিশালী করলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। কৃষকের নায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দেশের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সমস্যা ছিল পেয়াজ নষ্ট হয়ে যেতো। এখন ৬ মাস পর্যন্ত স্টোরেজ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেয়াজ স্টোরেজ করা সম্ভব হবে। গত ৬ মাসে টার্গেট ২৫ লাখের মধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্ষায় কাঁচামরিচ আমদানি করতে হয়। এ বছরে প্রচণ্ড দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে ২ দিনের মধ্যে বাজার ঠিক হয়। আগামী বছর থেকে যেন কাঁচামরিচ আমদানি না করতে হয়, সে চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ, কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করা হবে না। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। আগামী সিজন থেকে নতুন জাত- বিরি ১১৮ দেওয়া হবে। বন্যার আগেই ফসল তোলা যাবে। হাওরাঞ্চলে দেওয়া হবে এসব বীজ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সব পাম্পকে সোলারে কনভার্ট করতে চায় সরকার। এতে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশের জন্য ভালো হবে। দাতা সংস্থা এবং সরকার মিলে করতে চাচ্ছে। সম্ভব হলে কৃষকের কাছে এজন্য অর্থ দিতে হবে না, আর অর্থ দিতে হলেও সেটির পরিমাণ খুব সামান্য হবে।
তিনি বলেন, এখন বর্ষার সময়, এ সময়ে সবজি উৎপাদন সহজ নয়। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ বেশি থাকে। বাজারে যে দাম আছে, সেটি ৮০-১০০ টাকা। কৃষকেরও সংসার আছে। ৮০ টাকায় এক কেজি করোলা ফলাতে তার কতো টাকা খরচ হয়, সেটি দেখতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু কৃষিপণ্য, এক্সাক্টলি বাজার কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। এজন্যই কৃষক কার্ডে যাওয়া হচ্ছে। উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক ক্যালকুলেশন এখন নাই। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর কনসেপ্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।
আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে সব কৃষককে কার্ড দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধে বিলম্বের প্রতিবাদ এবং দ্রুত বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে আশুলিয়ায় দুটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বাইপাইল মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেড ও ইনজেনিটেক্স অ্যাকটিভ লিমিটেডের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওনা পরিশোধ না হলে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধে কারখানা কর্তৃপক্ষ বিলম্ব করছে। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তারা দ্রুত পাওনা পরিশোধ, বিলম্বের কারণ জানানো, আইনি অধিকার নিশ্চিত করা, হয়রানি বন্ধ এবং শ্রমিক প্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর আলোচনার দাবি জানান।
শ্রমিকরা জানান, গত মার্চে ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পর এপ্রিল মাসে কারখানা দুটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে শিল্প পুলিশ ও কলকারখানা অধিদপ্তরের সহায়তায় শ্রমিকদের বোনাস এবং এক মাসের বকেয়া বেতনের ২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়। তবে বেতনের বাকি অংশ, সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সমস্যা সমাধানে মালিকপক্ষের সঙ্গে কয়েক দিন আগে বৈঠক হলেও এরপর আর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্টাফদেরও কয়েক মাসের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বকেয়া রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ ১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা একই। কিছু শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হলেও অধিকাংশের বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কর্মরত নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব সব কর্মকর্তাদের টেলিটক করপোরেট সিম বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ষষ্ঠ তলার হলরুমে কর্মকর্তাদের মাঝে সিম বিতরণ করেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দেওয়া টেলিটক করপোরেট সিম আজ বুধবার থেকে সব কর্মকর্তা চালু করবেন এবং এ সিমের মাধ্যমে সব কর্মকর্তা যোগাযোগ রাখবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সেবা প্রদানের পথ এ সিমের মাধ্যমে আরও সুগম হবে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর চুয়েট এর শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পানি সম্পদ খাতে চুয়েট-এর বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মতবিনিময়কালে আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। বিশেষ করে, চুয়েট এর ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোলাবোরেশান গড়ে তোলা, বিভাগের উন্নয়ন, গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে আ. সালাম নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ফুলবাড়িয়া উপজেলা আছিম পাটুলী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের খামখালি গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে আ. সালাম (৬০)।
জানা গেছে, মঠবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ডোবায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশ খবর দেয়। গত দুই দিন আগে আঃ সালাম আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। লাশের শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ত্রিশাল থানার এস আই রুবেল খান জানিয়েছেন, লাশের শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় হত্যা মামলা পক্রিয়াধীন।
আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, খামখালি গ্রামের বৃদ্ধ আ. সালাম দুই দিন আগে ত্রিশাল উপজেলায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ডোবায় তার লাশ পাওয়াগেছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে ৪৭ বিজিবি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং বিকেলে তা গণমাধ্যম কর্মিদের প্রেস লিফটের মাধ্যমে জানানো হয়।
৪৭ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ১৩৭/২-এস পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রংমহল নামক স্থানে বিজিবির একটি চৌকস টহল দল অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক সিজার মূল্য ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। পরে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য গাংনী থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইরান। অগ্রিম হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে না গেলে ইরান ‘‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’’ সামরিক অবস্থানে যাবে।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ ভাঙতে ইরান ‘‘সময়মতো ও নির্ভুল’’ সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। ১৭ জুন সই হওয়া ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের একটি ধারা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। ইরানের দাবি, এসব জাহাজ অনুমোদনহীন পথে চলাচল করছিল।
জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জুনের চুক্তি আর কার্যকর নেই। ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভবিষ্যতে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একজন ইরাকি কুর্দি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আইআরজিসির কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ফক্স নিউজ পরে জানায়, ট্রাম্পও ওই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ ছিল, আলোচনায় থাকা ইরানি কর্মকর্তারা আসলে আইআরজিসির অবস্থান কতটা প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তবে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, ‘ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় হতে পারে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যেও আলাদা আলোচনা চলছে।’ ইরানের দাবি, প্রণালী পরিচালনা নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে ওমান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার।
এ নিয়ে ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওমান যদি হরমুজ নিয়ে কোনোভাবে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর হামলা চালাতে পারে। যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশটি উচ্চমূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল।
যুদ্ধের পর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন পুনর্গঠনের বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে। ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে দেশে নতুন করে বিক্ষোভ তৈরি হতে পারে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে ফের জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় আবারও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাজের একজন নাবিক আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার আগে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করবে, তাদের জাহাজের কাঠামোয় ‘‘বেশ কয়েকটি সুন্দর ছিদ্র’’ তৈরি হবে।’
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা এমন সময়ে বাড়ল, যখন দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সমঝোতার মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়েছে। নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়াই ওই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন কমেছে
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই জলপথ। বিক্ষিপ্ত হামলার কারণে তেলবাহী জাহাজ চলাচলও প্রায় থমকে গেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, রোববার মাত্র তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে। হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা এবং বিশ্ব অর্থনীতির মানিয়ে নেওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠেনি।
বাব আল-মান্দাবেও কমেছে জাহাজ চলাচল
হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব প্রণালীতেও জাহাজ চলাচল কমেছে। রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে পণ্যবাহী ৪৯টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৫৫।