আগামী ৫ ও ১৫ আগষ্টে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সমাবেশ রুখতে সর্তকতা অবলম্বন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে উসকানি, মিছিল মিটিং, সমাবেশ কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা তৈরী করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ওই দুই দিবসে ঝটিকা মিছিল হওয়ার আশংকা থাকলেই নগরীতে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সদ্য তৈরী করা তালিকা মহানগরীর ৮ থানাসহ সকল ফাঁড়ির কাছে দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম ও খুলনা থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নামে ও বেনামে ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানের রয়েছে বলে কেএমপি’র একটি সূত্র জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ফলে ওইদিন এই দলটি খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে। এছাড়া ১৫ আগষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ।
কেএমপি’র অপরাধ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জুলাই ও আগষ্ট মাস জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন নগরীতে যেন কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ নামের তালিকাগুলো মহানগরীর আটটি থানা ও থানার অধিনে সকল ফাঁড়িতে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দেশের দুইটি বিভাগীয় শহর থেকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলাচ্ছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। তারা উভয় খুলনার প্রোগ্রামগুলো চট্রগ্রাম থেকে এবং চট্রগ্রামেরগুলো খুলনা থেকে প্রচার করছেন। অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
কেএমপি পুলিশ কামিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আগস্টের দুইটি দিবসে পুলিশ সতর্ক এবং ব্যাপক পস্তুতি নিয়েছে। এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে নগরীতে চেকপোষ্টের সংখ্যা ও পুলিশের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।
চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে তার মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে পরিবার ও নিসচার নেতারা। তারা জানান, বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ দেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতা-কর্মীরা এই গুজবের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন বলেন, ‘এ ধরনের কোন সংবাদে বিভ্রান্ত হবেন না। আপনাদের ভালোবাসার মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। সবাই দোয়া করবেন।’
প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি রিখেছেন, ‘এ ধরনের সংবাদ যারা প্রকাশ করছেন তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছে নিসচা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। একই বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরোটা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যে সম্প্রতি ১০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন এই অভিনেতা। এ সময় পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিসচার একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতও করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর গত সপ্তাহে জামাতার সঙ্গে চিকিৎসার জন্য আবারও লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চনের কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্যই তিনি লন্ডনে ফিরেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাঁর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসকেরা পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন খরচ কমানো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। সরকারের নিকট উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্ভুল পরিসংখ্যান থাকবে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দু’দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণ সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সরকার মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো ঠিক মতো চালু করতে পারলে-কৃষক কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। বর্তমান সরকার কৃষিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে; কৃষিপণ্য রপ্তানিী করবো। এর জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। পতিত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে পারলে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। তাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তা করেন। তিনি বলেন-এ দেশ আমাদের, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের। আমরা দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মাঝে সনদ বিতরণের পর চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চরাঞ্চলের ২৫ জন সুফলভোগীর মাঝে বিনামূল্যে ১ টি করে বকনা বাছুর ও প্রতিটি পরিবারকে ৫০ কেজি করে পশুখাদ্য প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল প্রমুখ ।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইতালি প্রবাসি স্বামীকে রেখে দেশে ফিরে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে মুন্নি আক্তার জেসমিন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। স্বামীকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করলেন চার সন্তানের এ জননী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় মুন্নির বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়েসহ ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী জাকির উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। অভিযুক্ত মুন্নি তার স্ত্রী। মুন্নি একই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের নুর উদ্দিনের মেয়ে।
মারুফার অভিযোগ ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির ও মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের চার ছেলেমেয়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে মুন্নিকে ইতালি নিয়ে যান জাকির। সেখানে মোবাইলে মুন্নি বাংলাদেশি একাধিক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই মাস আগে মুন্নি তার বাবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে চলে আসেন। সঙ্গে তার দুই সন্তানকেও নিয়ে আসেন। দেশে আসার পর থেকে তিনি জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
পরে রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টুকে বিয়ে করেন মুন্নি। তার সঙ্গে সৌরভের পরকীয়া ছিল।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মুন্নি তার স্বামী জাকিরকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। এছাড়া ইতালি থেকে আসার সময় জাকিরের দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ ও ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা মুন্নি নিয়ে গেছেন।
মারুফা আক্তার বলেন, মুন্নি আমার ভাইকে তালাক দেয়নি। তিনি পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। তিনি আমার ভাইয়ের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় মুন্নির পরিবারের লোকজন জড়িত। তাদের কারণে আমার দুই ভাতিজা ও ভাতিজি অসহায় হয়ে গেছে। আমার ভাই ভেঙে পড়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মুন্নি আক্তার জেসমিন বলেন, জাকির আমাকে ইতালিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এজন্য অন্য একজনকে বিয়ে করেছি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। জাকিরকে তালাক দেওয়া ছাড়া বিয়ে করার বিষয় তিনি স্বীকার করেন।
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মুক্তার মিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত কালা মিঞার ছেলে মোঃ মুক্তার মিয়া গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে তার আত্মীয়ের ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু ভোররাতে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্বজনরা।
আত্মীয়-স্বজনদের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশটি নামিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শক করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
মুক্তার মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। অনেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না। তাদের দাবি, মুক্তার মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে লাশ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট বিসিক এলাকায় একটি রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিলে এই অভিযান চালানো হয়।
জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ১৭০ বস্তা ইউরিয়া ও ৪৭ বস্তা ডিএপি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
অভিযান চলাকালে সারের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে গুদাম মালিক মনোহর আলম (৬৫) অবৈধ সারের বিষয়টি স্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে ১ মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন শরীফ। তিনি জানান, জব্দ করা সার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে তা বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ, জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা বাড়ায় দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং বেড়েছে। একারনে ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে। ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা উন্নত হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘসময় লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে।
পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা। জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হলে সংকট আরও কমবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে নৃশংস ভাবে হত্যার করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক কেয়ারটেকার। পরের দিন মরদেহটি ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে রাতে বাড়ির পাশে থাকা পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। লাশ উদ্ধারের ২৩ দিন পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুলকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শুভ্র।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার এস,এম হাসান ইস্রাফীল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান আসামীদের নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতি, দুটি চাকু, একটি লোহার রড, রক্তমাখা পাঞ্জাবি, বালিশ, কাভার তোলা ও একটি কাঠের গুড়ি উদ্ধার করেছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রমের মৃত আবু বকর সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার (৪৫)। বাংলদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তর কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। গত ২৩ জুলাই রাতে বাড়িতে আসেন। ২৬ জুলাই কর্মস্থলে না যাওয়া তার এক সহকর্মী নাজমুন্নাহার বিউটি বাড়িতে ফোন করে জানায় সে অফিসে আসেনি। পরের দিন তার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকার পাশ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে ফজলু মির্জার ছেলে রাজু (১৮) ও একই গ্রামের তার বন্ধু জিতুল (১৯) গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। লাশ উদ্ধার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে রাজু ও জিতুলের নাম উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, আবু রায়হান তালুকদার কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসার পরের দিন তার নিজ ঘরে হত্যা করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক। পরে ঘরেই চাপাতি ও চাকু দিয়ে মরদেহটি হাত,পা মস্তকসহ ১৫ টুকরো করে। এসয় অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে গান বাজায়। পরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রাখে। এরপর দুইদিন এলাকায় ছিল। পরে কক্সবাজার চলে যায়। সেখান থেকে ঢাকা আসে। পরে তারা মৌলভী বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। একটি হোটেলে চাকুরিও ঠিক করেন।
ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস,এম হাসান ইস্রাফীল জানিয়েছেন, রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে হত্যা করে ১৫ টুকরো করা হয়। পরে ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রেখে ঘাতকরা। গত চারদিন টানা অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, চাকুসহ বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ করা হয়েছে।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে দুপুরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী (সা.) এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী (সা.) এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন। মহানবী (সা.) কখনও মিথ্যা কথা বলেননি এবং ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করেছেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) এর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আমাদের কাজ হলো মহানবীর (সা.) জীবন আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া। প্রশাসক সন্তানদের কোরআন শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি প্রিয় নবীর আদর্শের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মহানবী (সা.) এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মোঃ মুসফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এছাড়া পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে জেলার সকল মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বেভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা, কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবীর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, বৃদ্ধ নিবাস, শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, এতিমখানা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশ করা হয়।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামে যমজ বোনের একজন পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় অপর যমজ বোনের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে তারও মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়।
বুধবার (২৬ আগষ্ট) দুপুরে রাজৈর উপজেলার মজুমদার কান্দিতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোল্লাকান্দি গ্রামের ইউনুছ গাছির ৫ বছরে শিশুকন্যা তাবাচ্ছুম লোকচক্ষুর অগোচরে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে।
তার লাশ দেখে একই বয়সী অপর যমজ বোন তাহমিনা তা সইতে না পেরে কিছুক্ষণের মধ্যে অসুস্থ্য ও দম বন্ধ হয়ে সে-ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এমন মর্মান্তিক ঘটণায় মৃত্যুবরণ করা দুই যমজ বোনের পুরা পরিবার সহ এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরা এলাকা ।
উল্লেখ্য, কয়েক বছরের মধ্যে স্ত্রী-সন্তান সহ ওই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মৃত্যুবরণ করে। এবার তাদের যমজ দুই নাতনিও মৃত্যুবরণ করলো।
জানা যায়, ইউনুছ গাছীর ছেলে ইয়াদ হোসেন প্রবাসে থেকে কর্ম করতো এবং সে সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। এর কিছুদিন পর তার মেয়ে এবং তারও কিছুদিন পর স্ত্রীও মারা যায়। একে-একে স্ত্রী, পুত্র, মেয়ে এবং বর্তমানে দুই যমজ নাতনি হারিয়ে ইউনুছ গাছি এখন বাকরুদ্ধ প্রায়। এমন মৃত্যুর ঘটনা সবাই চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে। আকাশ- বাতাস ভারী হয়ে ওঠে নিষ্পাপ ওই যমজ শিশু দুইটির এমন মৃত্যুতে।
দেশের কোনো মাজার বা ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর সহ্য করা হবে না এবং এ ধরনের অপতৎপরতা চললে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বুধবার (২৬ আগস্ট) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর সদরের বিজয় চত্বরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “পীর-তরিকতের মাজার বা কোনো ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর করতে দেওয়া হবে না।”
বিগত সময়ের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের ১২৭টি মাজার ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল। একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমান মাজারের খাদেমকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো মাজার ধ্বংস করা হলে আমরা আর ঘরে বসে থাকব না।” তিনি ধর্মীয় উগ্রবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, “আমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমরা তাঁর আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি খাতের সমস্যা সমাধানে আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে যেখানে ডিলার নেই সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্যে সার পান তা তদারকি করা হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সোলার প্রকল্প গ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণাও দেন তিনি। আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’য়াতের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে যাবে, কেউ বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষালাভ করবে। সকল শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে হবে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত দেশগুলোর মত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার এসব বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার(২৬ আগষ্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ সাটু অডিটোরিয়ামে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচী’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষগণের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাজ্জাজ এ সব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন করা যায়, প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ উপযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করা যায় তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ফিডিং কর্মসূচীতে সুফল পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে দেশের সকল বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচী চালু করা হবে। খাবার মান ঠিক রাখতে চলমান ঠিকাদরি প্রক্রিয়ার প্রতি কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া পরিবর্তনের বিষয়টিও ভেবে দেখা হচ্ছে। পাশের কয়েকটি দেশের উদহারণ টেনে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা যায় কিনা সেটিও ভেবে দেখা হচ্ছে।
হাজ্জাজ আরও বলেন, শিশুদের পাঠদানের সময়সূচী, বিদ্যালয় ভবনেই ওয়াশরুম,প্লে গ্রাউন্ড এবং খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা, নদীভাঙ্গণ কবলিত বিদ্যালয়গুলো যেন সরিয়ে নেয়া যায় এমনভাবে নির্মাণ, বিদ্যালয়ে অফিস কর্মচারী ও নাইটগার্ড দেয়ার বিষয়গগুলো বিবেচনাধীণ।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সদর এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ, স্কুল ফিডিং কর্মসূচীর প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিন প্রমুখ।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ঢেউয়ের প্রবল তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়াছিন খান (২৫) নামের এক পর্যটক। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের মধ্যবর্তী সিগাল পয়েন্ট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান (২৭) নামের আরও এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত ইয়াছিন রাজধানীর আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা এবং নিখোঁজ ইব্রাহিমও তার সঙ্গে ঢাকা থেকে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন পর্যটক সিগাল পয়েন্টের নন-লাইফগার্ড এলাকায় সমুদ্রে নামলে স্রোতের টানে ইয়াছিন ও ইব্রাহিম হারিয়ে যান। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের লাইফগার্ড কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সংকটাপন্ন অবস্থায় ইয়াছিনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিখোঁজ ইব্রাহিমকে উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে সি সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, “দুপুর দুইটার পর পাঁচজন পর্যটক নন-লাইফগার্ড এলাকায় গোসলে নামেন। সেখানে দুজন ঢেউয়ের মধ্যে হারিয়ে যান। খবর পেয়ে সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইফগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।”
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লাইফগার্ড সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “সমুদ্রে দুজন ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে কাছে হওয়ায় সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। একই সঙ্গে লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমাদের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়। পরে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনকে এখনো পাওয়া যায়নি।”
বর্তমানে নিখোঁজ পর্যটক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে খুঁজে পেতে ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ ও নন-লাইফগার্ড এলাকায় গোসলে না নামতে প্রতিনিয়ত সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করায় এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
সীতাকুণ্ডে একই দিনে দুই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভার ইয়াকুব নগর ও বারআউলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন জেলেপাড়ায় সঞ্জিতা জলদাশ (১৬) নামে এক কলেজ ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে ওই বাড়ির সন্তোষ জলদাসের কন্যা বলে জানাগেছে।
সোনাইছড়ি জেলেপাড়ার সর্দার ধনবাসী জলদাশ বলেন, সঞ্জিতা দাশ কুমিরা লতিফ সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী । সকালে মায়ের সাথে রাগ করে গলায় ফাঁস দিলে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
একই দিন সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইয়াকুবনগর বটতল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রোজেন হোসেন সিয়াম (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সিয়াম ওই এলাকায় মা-বাবার সাথে বসবাস করলেও তার প্রকৃত গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায় । সে ওই জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর ফরাজির ছেলে।
সিয়াম সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে কেন আত্মহত্যা করেছে সেটা অজানা রয়ে গেছে । পুলিশ তার রুম থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। তাতে লিখা ছিল, ” তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। এই ছাড়া আমার উপায় নাই”।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম দুই আত্মহত্যার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়ায় এক কিশোরী এবং পৌরসভার ইয়াকুব নগর এলাকায় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে । লাশ দুটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে । এই বিষয়ে থানায় আইন গত ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে ।