বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা রোপণে। আষাঢ় শেষ হয়ে শ্রাবণ শুরু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তা আমন আবাদের জন্য পর্যান্ত নয় বলছেন কৃষকরা। ফলে আমন আবাদে কৃষকদের নির্ভরতা গভীর নলকূপের পানির ওপর। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহাডাঙ্গা এলাকা ও নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। কোথাও জমি চাষের কাজ চলছে, কোথাও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমিতে কাদা তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সারিবদ্ধভাবে আমনের চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কয়েকদিন কিছুটা বৃষ্টি হয়েও তা আবাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তাই আমন আবাদে শুরু থেকেই সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের আবাদ পুরোপুরি বৃষ্টি নির্ভর ছিল। বর্ষার পানিতেই জমি প্রস্তুত হয়ে যেত এবং চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এখন গভীর নলকূপের পানি ছাড়া আমন চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে গড় বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে। বিশেষ করে আমনের মতো বৃষ্টিনির্ভর ফসল এখন ক্রমেই সেচনির্ভর হয়ে উঠছে।
নাচোল উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম এবার ১০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করছেন। তিনি জানান, এর মধ্যে ছয় বিঘা জমিতে পুরোপুরি সেচের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে। বাকি চার বিঘা জমিতে কিছুটা বৃষ্টির পানি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ প্রায় ৬২৫ টাকা, শ্রমিক খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং চারা রোপণসহ অন্যান্য কাজে আরও প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
কৃষকরা বলছেন, সেচের খরচের পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দামও বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ায় ধান চাষে লাভ কমে যাচ্ছে।
শাহিন আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ধান করতে যে খরচ তাতে খুব বেশি লাভ হয়না, সামান সমান, বা একটু বেশি থাকে। ওই বেশিটায় হ্যামার দিন মুজুরী বলতে পারেন। সারাবছর জমিতে কাজ করতে পারছি, লাভ বলতে এটায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় ৫৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।
নীলফামারী জেলা কারাগারের কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল, সৈয়দপুর-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২০ জুলাই নীলফামারী জেলা কারাগার চত্বরে আয়োজিত এ ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষীবৃন্দ এবং কারাবন্দীরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেল সুপার জাবেদ মেহেদী বলেন, ‘কারাবন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ শরীর তাদের মানসিক উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে সহজ করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার কারাবন্দিদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলা কারাগারে এমন বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রশাসন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতা করবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্যসেবা। কারাবন্দিদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা একটি মহৎ উদ্যোগ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে প্রায় ২০০ জন কারাবন্দীর চক্ষু পরীক্ষা করা হয়। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়া যেসব কারাবন্দির ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য নির্বাচন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম কারাবন্দীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মানবিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মানহীন চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড ও জয়রা এলাকায় অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।
প্রতিষ্ঠাগুলো হলো, শহরের জয়রা এলাকার আল-রাফী জেনারেল হাসপাতাল এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকার যমুনা জেনারেল হাসপাতাল ও মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়া বেসরকারি মানিকগঞ্জ শিশু ও জেনারেল হাসপাতালকে মুচলেকার মাধ্যমে সর্তক করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস জানান, মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবাসহ অনিয়মের অভিযোগে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বেসরকারি হাসপাতাল আল-রাফী, যমুনা জেনারেল হাসপাতালের নবায়নকৃত লাইসেন্স না পাওয়ায় এবং মর্ডার ডায়াগনস্টিকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লেবার রুম না পাওয়া সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জ শিশু ও জেনারেল হাসপাতালকে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস জানান, মানসম্মত স্বাস্থ্য নিশ্চিতের ক্রাইটেরিয়াগুলো পূরণ করতে পারলে, তাদের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের কার্যক্রম চালাতে পারবে। ক্রাইটেরিয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে না। রোগীদের শতভাগ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কোনো অনিয়ম ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো-কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। হান্ডি মার্কেট-ডেওরি বিল খাল, চিপা খাল, কালাদি-ভুলতা খাল, বাড়ৈপাড়-ডুলুরদিয়া-নলপাথর খাল, ইকবালেরটেক-নরাবো-নলপাথর খাল বেদখলসহ পানি নিষ্কাশনের খাল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া, গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়া এবং বাঁশের মাচায় বসবাসের মতো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার ও সংস্কার করা দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তারাবো, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাঘমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাবো, আইতলা, ডুলুরদিয়া ও ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাবো, পাঁচাইখা, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কারও বাড়ির উঠানে পানি। অনেকের ঘরেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। জমির ফসল হলদে হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাঁশের মাচার ওপর বসবাস করছে। কয়েকটি শিল্পকারখানায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। তা ছাড়া শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।
শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করতে পারছে না। তাতে তাদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খামারের মাছ ভেসে গেছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন মাছ চাষিরা। আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটি বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ময়লা, দুর্গন্ধ, আবর্জনাযুক্ত কুচকুচে কালো, দূষিত পানিতে অনেকেই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।
নড়াবো গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, ‘তার বসতঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। জলাবদ্ধতায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে।’
বরপা শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা রওশন আলী বলেন, ‘১০-১২ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হচ্ছে।’
মাসাবো গ্রামের গৃহবধূ জিন্নাত আরা বলেন, ‘ঘরে হাঁটুপানি। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। ঘরে খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই। শুকনো খাবার খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।’
নাগেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন সাজিদ বলেন, ‘সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অতিকষ্টে চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পকারখানার নির্গত পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে। এই পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
গোলাকান্দাইল এলাকার হাজী আব্দুল মতিন বলেন, ‘রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি কিনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।’
আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘খালের জায়গা রেখেই বালু ভরাট করা হয়েছে। সরকারি জমি কিংবা খাল আমাদের দখলে নেই।’
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, ‘চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাদের চিকিৎসাপত্র ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব বলেন, ‘জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো দখলকৃত পানি নিষ্কাশন খাল। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার খালগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। খাল উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, ‘কাঞ্চন পৌরসভা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি। অপরিকল্পিতভাবে সেচ খাল নির্মাণ ও নিয়মিত সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। সকল সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে যাওয়া ৮টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই সকল জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে। জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।’
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত চা-শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের বকেয়া মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপমুক্ত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ চা-শ্রমিকরা। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানে ‘সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র যুবরা’-এর ব্যানারে এক বিশাল ও উত্তাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিক্ষুব্ধ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও চরম হতাশায় চা শ্রমিকরা।’ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে বর্তমান স্বল্প মজুরিতে পরিবার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার ঋণের জালে জর্জরিত। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এর পেছনে জড়িয়ে থাকা মূল কারিগররা আজও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
সমাবেশে উঠে আসে কুরমা চা-বাগানের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। বক্তারা জানান, টানা চার সপ্তাহ ধরে কুরমা চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত শ্রমিক পরিবার চরম অনাহার ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানানো হয়।
একই সাথে শ্রম অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া চা-শ্রমিক ইউনিয়নের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি তোলেন শ্রমিক নেতারা, যাতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন; চা-শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক, শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর ও সুজিত পাশাসহ স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতারা।
বক্তারা অনতিবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে থেকে মানিক মিয়া (৩৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের বিসিআইসি গোডাউনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মানিক মিয়া ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হেকিমের ছেলে। তিনি ঢাকায় এসএ পরিবহনের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
নিহতের বড় ভাই এমদাদুল হক শাহিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের আজ অফিসের কাজে রাজশাহী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কীভাবে বা কী কারণে সে কিশোরগঞ্জে এলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। কিশোরগঞ্জে এলে আমাদের জানানোর কথা ছিল। সন্ধ্যায় তার অন্যান্য সহকর্মীরা অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। পরে সে কেন মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জে এলো, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছি না। আমাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মানিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
রায়টুটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিল্কী জানান, পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যায়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা এবং পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন (৭৫) ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের লোকমান হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে সরকারি আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করা হলেও তা সঠিক হয়নি দাবি করে তিনি পুনরায় পরিমাপের দাবি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর, জায়গা দখলের চেষ্টা এবং গাছপালা কাটার উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
লোকমান হোসেন বলেন, “দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি একাধিকবার সালিশ ও সরকারি আমিন দিয়ে পরিমাপ করা হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির মধ্যে থাকা বেড়া সরানো না হওয়ায় তারা বেড়া ভেঙেছেন। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ৫ ও ১৫ আগষ্টে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সমাবেশ রুখতে সর্তকতা অবলম্বন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে উসকানি, মিছিল মিটিং, সমাবেশ কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা তৈরী করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ওই দুই দিবসে ঝটিকা মিছিল হওয়ার আশংকা থাকলেই নগরীতে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সদ্য তৈরী করা তালিকা মহানগরীর ৮ থানাসহ সকল ফাঁড়ির কাছে দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম ও খুলনা থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নামে ও বেনামে ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানের রয়েছে বলে কেএমপি’র একটি সূত্র জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ফলে ওইদিন এই দলটি খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে। এছাড়া ১৫ আগষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ।
কেএমপি’র অপরাধ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জুলাই ও আগষ্ট মাস জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন নগরীতে যেন কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ নামের তালিকাগুলো মহানগরীর আটটি থানা ও থানার অধিনে সকল ফাঁড়িতে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দেশের দুইটি বিভাগীয় শহর থেকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলাচ্ছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। তারা উভয় খুলনার প্রোগ্রামগুলো চট্রগ্রাম থেকে এবং চট্রগ্রামেরগুলো খুলনা থেকে প্রচার করছেন। অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
কেএমপি পুলিশ কামিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আগস্টের দুইটি দিবসে পুলিশ সতর্ক এবং ব্যাপক পস্তুতি নিয়েছে। এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে নগরীতে চেকপোষ্টের সংখ্যা ও পুলিশের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজের একদিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহত কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি বে কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসেন। তারা গাড়িযোগে ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছানোর পর নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু-সংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার ইসলাম সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তিনি।
কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ওইদিন অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হলে বেলা ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসার ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন।
উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, ‘জনসেবার মান উন্নয়নে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল।
অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেলের অন্যান্য সদস্যরা।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনসেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি ক্ষেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।
বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষতবিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে ছিল। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
বীজতলা হারানো কৃষক রাজ্জাক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না।’
কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’
বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় ও উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা।
মাদারীপুরের বিভিন্ন মাছের বাজারে অতি মুনাফার লোভে এখন হরহামেশা কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষ করা শিং মাছ হলুদ রঙের বানিয়ে দেশি শিং মাছ বলে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী। এতে ক্যান্সার ও কিডনি ড্যামেজ হওয়াসহ দুরারোগ্য নানা জটিল রোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের প্রসিদ্ধ ইটেরপুল মাছ বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় ওই বাজারের বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা এই ধরনের শিং মাছ বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে ওই বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. শহীদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা খুচরা মাছ বিক্রেতা, মাদারীপুরের বৃহত্তর মস্তফাপুর মাছের আড়ত থেকে এই শিং মাছসহ অন্যান্য মাছ পাইকারি ক্রয় করে এখানের বাজারে এনে খুচরা বিক্রি করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার আড়তদাররা ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন আড়ত থেকে চাষ করা শিং মাছ প্লাস্টিকের ড্রামে করে মস্তফাপুর আড়তে এনে বিক্রি করেন, মূলত মস্তফাপুর আড়ত থেকেই মাছ হলুদ করার কেমিক্যাল ড্রামের পানির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো ওই ড্রামের পানি খেয়েই হলুদ আকার ধারণ করে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ক্রেতা বলেন, ‘চাষের শিং মাছের দাম কম, আর দেশি শিং মাছের দাম অনেক বেশি। তাই অসাধু মাছ বিক্রেতারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্যই এমন অনৈতিক, বেআইনি ও কেমিক্যাল মিশ্রিত করে তা বিক্রি করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হবে নিঃসন্দেহে।’ তারা এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেন চালু, টিকিট বিক্রিতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয়। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। যদিও ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খাতে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। গত রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক আনিসুর রহমান আয়-ব্যয়ের এ তথ্য প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান রেলওয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক আফজাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক তদবির, অনিয়ম, ঘুষ এবং প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ রেলওয়ের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। নতুন ট্রেন সংযোজন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ, অনলাইন ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এবং যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন থেকে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাত, যার মধ্যে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয় অন্তর্ভুক্ত, সেখানেও রাজস্ব কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। রেলসংশ্লিষ্টদের মতে, ইঞ্জিনের ঘাটতি দূর করা গেলে এবং মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে এ খাতেও রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে অন্যান্য কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যেখানে আগের অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৯। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ এটি সরাসরি ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১ দশমিক ৪৩-এ। অর্থাৎ, পেনশন ব্যয় বাদ দিলে রেলের পরিচালন ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি থাকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যাত্রীভাড়া দীর্ঘদিন ধরে রেয়াতি হারে নির্ধারিত রয়েছে।
২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ এই সময়ে রেলপথ ও ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত প্রায় এক দশক ধরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় বর্তমান বাজারদর এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না বলেও তারা মনে করছেন।