কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নেমেছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপের এ উন্মাদনায় বুঁদ সারা দেশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মেতেছে ফুটবল উন্মাদনায়। প্রিয় ফুটবল টিমের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছেন বিভিন্নভাবে।
ঠিক তেমন একটি ঘটনা দেখা গেলো রোববার সন্ধ্যায় মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারে। এলাকার আর্জেন্টিনা সমর্থক কুড়ি বছর বয়সী কসাই তানভীর আহমেদ কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করছেন মেসির দলের ভক্ত ক্রেতাদের কাছে। কিছুটা কমে বিক্রি করছেন বিশ্বকাপের আরেক ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের সমর্থকদের কাছে। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে মাংস বিক্রি করছেন না তিনি।
তানভীরের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ৭২০ টাকা কেজি গরুর মাংস তানভীরের কাছ থেকে ৫৫০ টাকায় পাচ্ছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। ফ্রান্সের সমর্থকরা প্রতি কেজি নিতে পারছেন ৬৫০ টাকায়। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আগে থেকেই ‘না’ বলে রেখেছেন তানভীর।
কম দামে মাংস বিক্রির কারণে ৪ মণ ২০ কেজি ওজনের একটি গরুতে তানভীরের প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসান হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
কসাই তানভীর আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আজ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। আর এ ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের গলি-গলি পাড়া-মহল্লায় দোকানে চলছে রান্নাবান্নার আয়োজন। আমার ইচ্ছে ছিল আর্জেন্টিনা জিতলে আমার কাছের মানুষদের গরুর মাংস দিয়ে খাওয়াবো। পরে ভাবলাম এতে আমার কাছের লোকগুলোই শুধু খাবে। তার চেয়ে যারা রাতে আর্জেন্টিনার খেলা দেখবে তাদের যদি কম দামে গরুর মাংস দেই, তাহলে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ ও খেলা দুটোই উপভোগ করতে পারবে। তাই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে মাংস কেজিতে প্রায় দুই শ টাকা ও ফ্রান্সের সমর্থকদের কাছে কেজিতে এক শ টাকা কমে বিক্রি করছি।’
সব মাংস প্রায় শেষ, আর ১০ কেজি মত অবশিষ্ট আছে জানিয়ে তানভীর বলেন, ‘ব্রাজিলের সমর্থক কেউ মাংস কিনতে আসেনি। বেশ কয়েকজন ফ্রান্স সমর্থক এসে মাংস কিনে নিয়ে গেছেন। ফ্রান্সের সমর্থক বলে মাংসের দামও কম দিতে চায়নি তারা।’
তানভীরের বাবা স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও কসাই কামাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে কসাইয়ের ব্যবসায়। আমার ছেলে তানভীর আর্জেন্টিনা ফুটবল টিমের কঠিন ভক্ত। সে বিশাল পতাকা বানিয়ে বাড়িতে টাঙিয়েছে। আর তার শখ আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে বন্ধুদের খাওয়াবে। আমি বললাম তার চেয়ে মাংস কম দামে বিক্রি করতে। এতে আমার গ্রামের ছেলেরা কম দামে মাংস কিনে পিকনিকও করতে পারলো।’
মাংস কিনতে আসা ক্রেতা ট্রাকচালক ইকবাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি সকালে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছি। এখন বাড়ি ফিরে গিয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে ফাইনাল খেলা দেখবো। এখন দেখি মাংস বিক্রি হচ্ছে কম দামে। তিন কেজি মাংস কিনেছি। বাড়িতে গিয়ে রান্না করে খাওয়া দাওয়া করবো, খেলা দেখবো।’
বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে শুক্রবারেও (২৩ অক্টোবর) পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পর্যটন কেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। অনেক আগেই আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলো বুকিং হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে রুম সংকট। এছাড়া শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছুটির দিন হওয়ায় পর্যটন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড় হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পূজার ছুটি শেষ হলেও বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়।
বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্নয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। একানে আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা সমুদ্রের নোনাজলে গোসল, খেলাধুলা সহ হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে।
তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকঁড়ার চর সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন শিশু কিশোর সহ নানা বয়সী ভ্রমণ প্রিয়সী মানুষ। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার মোবাইলে কিংবা ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় বন্ধী হয়ে এমন সুখকর মুহূর্তগুলোকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন। সূর্যোদয় সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বীচ কার্নিভাল উৎসব পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ বলে জানিয়েছেন আগতরা।
বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সড়ক ও বীচ এলাকায় তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন, এলইডি টিভি স্থাপন সহ নানা সাজসজ্জা করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে বীচ ফুটবল, বীচ ম্যারাথন, ঘুরি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুথিপাঠ, সাংস্কৃতিক সন্ধা, বাউল গান, পর্যটনবিষয়ক প্রমান্য চিত্র, ভলিবল খেলা, সেলিব্রিটি বীচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো,আতশবাজি সহ নানা আয়োজন করেছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী আরমান আলিফ, হাসান (আর্ক), ঐশি সহ দেশের খ্যতনামা শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও গান পরিবেশন করবেন কার্নিভাল উৎসবে। বীচ কার্নিভাল উৎসব উপভোগসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীরা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ বীচ কার্নিভাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বীচ কার্নিভাল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীচ কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। বিশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, স্থানীয় সাংসদ এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসি প্রমুখ।
এদিকে কুয়াকাটার ৩ শতাধিকেরো বেশি আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট থাকলেও তা আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় বুকিং ছাড়া এসে রুম সংকটে পরেছেন পর্যটকরা। পর্যটকদের ভিড়কে পুঁজি করে চা ১০ টাকা, ডাব ২৫০ টাকা পিচ, ভ্যান-আটো ভাড়া ইচ্ছেমতো,খাবার হোটেলে অতিরিক্ত খাবার বিল ও আবাসিক হোটেলে বেশি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে অনেক হোটেলের বিরুদ্ধে।
পূজার ছুটি এবং বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানান, ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশই বুকিং হয়ে গেছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনে কিছুটা রুম সংকট দেখা দিতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত আবাসিক হোটেলগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশন আওতাভুক্ত নয় এমন হোটেল মোটেল রিসোর্ট অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবার পরামর্শ দেন তিনি।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. ইনস্পেক্টর নাজমুল ইসলাম জানান, আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা পুলিশ, এসআরবি সহ গোয়েন্দা সদস্য সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারি রাখবেন। এছাড়াও সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভা সহ ট্রাফিক পুলিশ টহল থাকবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, পৌর প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক অবস্থা অব্যাহত আছে। কুয়াকাটায় কোন আইন অমান্যকারির ক্ষমা নেই।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, পর্যটকদের উপর কোন অন্যায় আচরন বরদাস্ত করা হবে না। ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম সহ তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
একসময় পানি কচু চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার উদ্যমী কৃষক নিউটন মন্ডল। তবে থমকে যাননি তিনি। মেধা, পরিশ্রম ও কৃষির প্রতি ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন লেবুর কলম বা চারা তৈরি করে অর্জন করেছেন অভাবনীয় সাফল্য। পানি কচুর পর লেবুর কলম তৈরি ও বিক্রি করে তিনি আজ এক অনুকরণীয় ও স্বাবলম্বী কৃষক হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
পানি কচু থেকে লেবুর কলম: নিউটন মন্ডলের সাফল্যের গল্প কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য আনতে ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডলের জুড়ি নেই। পানি কচু চাষের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য তাকে আরও বড় কিছু করার উৎসাহ দেয়। বাজারে লেবুর ভালো চাহিদা ও লাভজনক সুযোগ দেখে তিনি লেবুর চারা ও গুটি কলম তৈরিতে আত্মনিয়োগ করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নিউটন মন্ডল বলেন, ‘আমি সবসময় কৃষিতে নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। পানি কচু চাষ করে আমি বেশ ভালো লাভ পেয়েছিলাম। কিন্তু কৃষিকে আরও বিস্তৃত করতে আমি লেবুর গুটি কলম তৈরি শুরু করি। সঠিক পরিচর্যা ও ভালো জাতের লেবুর চারা তৈরি করায় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এখন আশপাশের অনেক কৃষক আমার থেকে কলম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পানি কচুর পর এই লেবুর কলম আমাকে নতুনভাবে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দ দিয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে কলম বাঁধতে পারলে এবং চারা ভালোভাবে বড় করতে পারলে অল্প জমিতেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।
কৃষি বিভাগের মন্তব্য ও মূল্যায়ন নিউটন মন্ডলের এই উদ্যোগ ও সাফল্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিউটন মন্ডল আমাদের উপজেলার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী কৃষক। পানি কচু চাষে যেমন তার সাফল্য ছিল, তেমনি লেবুর কলম তৈরিতেও তিনি চমৎকার দক্ষতা দেখিয়েছেন। মানসম্মত কলমের চারা তৈরি করে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা তাকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছি। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও কৃষিতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে।’
কৃষি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত নিউটন মন্ডলের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায় থাকলে কৃষি কাজ করেও জীবনমানের আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। ডুমুরিয়ার অনাবাদি ও পতিত জমিতেও এভাবে লেবু ও অন্যান্য ফলজ গাছের চারা তৈরি করে অনেক বেকার যুবক নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষিসংশ্লিষ্টরা।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তানহা (১০) ও মাহা (৯) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তানহা ওই এলাকার আব্দুল গনির মেয়ে এবং মাহা মো. শাহীনের মেয়ে। তারা দুজনই স্থানীয় মানিকারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তানহা ও মাহা বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পুকুরের পিচ্ছিল ঘাটে পা পিছলে প্রথমে একজন পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শিশুটিও পানিতে ডুবে যায়। একপর্যায়ে দুজনই নিখোঁজ হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে দুজনকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন স্বজনরা। পরে দ্রুত তাদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নওগাঁর মান্দায় বিশেষ কিশোর অপরাধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে কিশোর গাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, চোলাই মদ ও মাদক বিক্রির নগদ ৭৩ হাজার ৫০ টাকা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের চকউলী গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মান্দা উপজেলার চকউলী গ্রামের মৃত আশরাফুল ইসলামের দুই ছেলে ইসলাম বাবু (২১) ও শাওন (১৯) এবং শুটকিবাদল গ্রামের মঞ্জুর আহমেদের ছেলে আরিফ হোসেন (২৩)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ আফজালের নেতৃত্বে চকউলী গ্রামে বিশেষ কিশোর অপরাধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনটি দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও মাদকবিক্রির টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী তিন কিশোর গাংয়ের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি অটোমেটিক লম্বা বার্মিজ চাকু ও বসতবাড়ির গর্তে লুকানো অবস্থায় আরেকটি আধুনিক চাইনিজ ডাবল-হেড ট্যাকটিক্যাল অ্যাক্স বা ডাবল-ব্লেড টমাহক নামক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ৬০পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২০০ লিটার চোলাই মদ এবং মাদক বিক্রির নগদ ৭৩হাজার ৫০টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক ও অস্ত্র মামলা রুজু করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ সেলিম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ঠাকুরগঞ্জ পিয়াজুপাড়া এলাকায় রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীন বালাপাড়া বিওপির টহল দল এ অভিযান চালায়।
৫১ বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাবিলদার মো. আলী ওসমানের নেতৃত্বে বিজিবির টহল দল কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যদের দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক সেলিম ডিমলা উপজেলার দারাজগঞ্জ ডাকঘর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। তাঁর কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক জব্দমূল্য ২২ হাজার টাকা।
বিজিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তির বক্তব্য ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার করা আলামত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫১ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাগুরার শ্রীপুরে মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে অতিরিক্ত মদপানই মৃত্যুর কারণ কি না, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মৃত দুই যুবক হলেন শ্রীপুর উপজেলার মকদমখোলা গ্রামের আজম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর (৪০) এবং শ্রীপুর ইউনিয়নের মালদা গ্রামের বিনোদ বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২৮)।
নিহতের স্বজনরা জানান, দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের সার্বজনীন দুর্গামন্দির এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অ্যালকোহলযুক্ত মদ পান করেন ওই দুই যুবক। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহত আলমগীরের পিতা আজব লস্কর জানান , অসুস্থ হয়ে পড়লে আলমগীর লস্করকে তাঁর বন্ধুরা বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আজ ভোরে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, অসুস্থ বিধান বিশ্বাসকেও তাঁর স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিধান বিশ্বাসের কাকিমা সুপ্রিয়া সাহা জানান, গত বুধবার বিজয়া দশমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর বিধান অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অবস্থায় পরে শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, আলমগীর লস্করকে আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন বলেন, দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
শ্রীপুর থানার ওসি ওলী মিয়া বলেন, অতিরিক্ত মদপানের কারণে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের চানপুর মৌজায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দখলে থাকা ৯.৩৭ শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। উদ্ধার করা জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। জমিটি পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল আলম (সামছু) চেয়ারম্যানের দখলে ছিল বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি চানপুর মৌজায় হালিমা টেলিকমের সামনে অবস্থিত সরকারি সম্পত্তিটি উদ্ধার করেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন অবৈধভাবে দখলে রাখা গেলেও একসময় তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। সরকার উদ্যোগ নিলেই দখলমুক্ত করা সম্ভব। এরপরও একশ্রেণির ভূমিলোভী ব্যক্তি সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনা থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার বলেন, মানুষকে নিজেদের সংশোধন করতে হবে। লোভের বশবর্তী হয়ে রাষ্ট্রের কিংবা অন্যের সম্পত্তি দখল করে সাময়িকভাবে ভোগ করা যায়, কিন্তু একসময় তা ছেড়ে দিতেই হয়। সামাজিক উদ্যোগ কিংবা সরকারের পদক্ষেপে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, চানপুর মৌজায় ৯.৩৭ শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দখলের প্রবণতাও কমবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে তালিকাভুক্ত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর ফেরার পথে বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার ভোরের দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সম্মুখভাগে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অপর এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার প্রয়াত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে ও স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লা (৪৫)। এ ছাড়া জখম হওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ ওমর (২৮) এবং গাড়িচালক রাব্বি (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে আহিদ মিয়াকে (৪৫) ধরতে রাত পৌনে তিনটার দিকে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। নিজ বাড়ি থেকে আহিদকে আটকের পর থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়িটি থামানো হয়। সেখানে মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর ও রাব্বি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই সময় ঘোড়াশাল অভিমুখী দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।
দুর্ঘটনার পর সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে দিবাগত রাত চারটার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক শুশ্রূষার পর গুরুতর জখম মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট কমানো এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল। একই সড়কে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমিয়ে নির্ধারিত রুট ও স্টপেজের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে গণপরিবহন পরিচালনা এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
এ পরিকল্পনার আওতায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, রাজধানীর ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাসস্টপেজ নির্ধারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগ জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে পর্যাপ্ত বাস, নিয়মিত সময়সূচি, কার্যকর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
ছয় রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল: ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলমের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনটি সার্কুলার রুটে বাস চালুর প্রস্তুতি চলছে, যা শুরু হতে আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।
প্রাথমিক ছয়টি রুট হলো গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলবে। গাবতলী-ডেমরা রুটে শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা যুক্ত থাকবে। দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে শ্যামলী, সায়েন্সল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে।
অন্যদিকে, ঘাটারচর-ডেমরা রুটে মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা এবং ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে শাহবাগ, পল্টন, যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড হয়ে বাস চলার পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুর-১২ থেকে মাওয়া রুটে ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলবে। পরবর্তী পর্যায়ে ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর-পলাশী এবং কদম চত্বর-পঞ্চবটি সার্কুলার রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বাসের প্রতিযোগিতা কমানোই লক্ষ্য: বর্তমানে একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস যাত্রী ওঠানোর জন্য প্রতিযোগিতা করে। আগে যাওয়ার চেষ্টা, হঠাৎ লেন পরিবর্তন এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে বাস থামানোর কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। নতুন ব্যবস্থায় রুটভিত্তিক পরিচালনা, নির্ধারিত স্টপেজ এবং সমন্বিত সময়সূচি চালু করা গেলে এসব সমস্যা কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজের মতে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রুটভিত্তিক পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি রুটে কোম্পানি নির্ধারণ করলেই হবে না; বাসের সংখ্যা, চলাচলের বিরতি, স্টপেজে থামা এবং নিয়মিত তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রী চাহিদার তুলনায় বাস কম হলে অপেক্ষার সময় ও ভিড় বাড়তে পারে।
পুরোনো বাস ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন: রাজধানীর ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি সড়ক নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পুরোনো বাস অপসারণের পাশাপাশি বিকল্প যানবাহন যুক্ত করা এবং যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ফিটনেস, যান্ত্রিক অবস্থা ও পরিবেশগত মান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ কমাতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আন্তঃজেলা বাসের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, মেট্রোরেল স্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্টপেজ, ফুটপাত ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে জোর: নতুন বাসব্যবস্থা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও দুই সিটি করপোরেশনকে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন এবং ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলমের মতে, নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও ডিটিসিএ, পুলিশ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানিয়েছেন, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন ও নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাসের রুট নির্ধারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত যানবাহন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ফুটপাত এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি কার্যকর হতে পারে। সমন্বিত বাস্তবায়নই রাজধানীর যাতায়াতব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব করার প্রধান শর্ত।
এবার বাংলাদেশের মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, মাছ চাষের পুকুরে এসব কণা কীভাবে জমা হচ্ছে এবং মাছের মাধ্যমে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছ নিয়ে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা এটিই প্রথম।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় গবেষণাটি চালানো হয়। সব কটি পুকুরের পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। মাছের নমুনাতেও মিলেছে এসব ক্ষুদ্র কণা। এ ফলাফল মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ চাষের পরও পুকুরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে প্রবেশ করছে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
গবেষণাটির শিরোনাম ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার: এভিডেন্স অব সেডিমেন্ট–ফিশ ট্রান্সফার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটেড ইকোলজিক্যাল রিস্ক ইন বাংলাদেশ’। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্রিশালের ২৫টি পুকুরে গবেষণা: গবেষণার মাঠপর্যায়ের কাজ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। এলাকাটি মিঠাপানির মাছ চাষের অন্যতম অঞ্চল। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের জন্য নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। গবেষকেরা শীতকালে নির্বাচিত ২৫টি মাছ চাষের খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, মিঠাপানির চাষের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এই প্রথম। এটি দেশের মৎস্যসম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মাছ চাষের পুকুরের তলদেশের পলি ও মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা। পাশাপাশি মাছের দেহের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক, প্লাস্টিকের রাসায়নিক গঠন এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন।
গবেষণায় পুকুরের তলদেশের পলিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পলিতে দূষণের মাত্রা মূল্যায়নে ব্যবহৃত পলিউশন লোড ইনডেক্স বা দূষণভার সূচকের মান ছিল ১ থেকে ৪ দশমিক ৫। এ সূচকের ভিত্তিতে অধিকাংশ নমুনা সংগ্রহস্থলকে মাঝারি থেকে উচ্চ দূষণযুক্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন গবেষকেরা।
গবেষকেরা ছয় প্রজাতির মোট ১৫০টি চাষের মাছ পরীক্ষা করেছেন। এসব মাছের নমুনায় মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। প্রতিটি মাছে গড় কণার সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৬০।
প্রজাতিভেদে কণা গ্রহণের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। সরপুঁটি মাছের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এ গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮। অন্যদিকে কাতলা, কমন কার্প ও পাঙাশ মাছের নমুনায় তুলনামূলক কম কণা পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মাছের বসবাসের স্তর বিবেচনায় তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মোট শনাক্ত কণার ৫২ শতাংশ পাওয়া গেছে। তলদেশ ও পানির মধ্যবর্তী স্তরে চলাচলকারী মাছের ক্ষেত্রে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং পানির উপরিভাগের কাছাকাছি বসবাসকারী মাছের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ।
গবেষক অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘মাছকে প্রচুর ফিড খাওয়ানো হয়। সব ফিড যে খারাপ, তা বলছি না। তবে কিছু ফিডে এসব থাকে। অনেক সময় বন্যার পানিতে অন্য স্থানের মাইক্রোপ্লাস্টিক পুকুরে চলে আসে। মাছের পরিপাকতন্ত্রে আমরা মূলত এর উপস্থিতি দেখেছি।
প্রজাতিভেদে কণা গ্রহণের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। সরপুঁটি মাছের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। রুই ও মৃগেলের ক্ষেত্রে এ গড় ছিল শূন্য দশমিক ৬৮।
গবেষণায় পলিথিন (পিই) ও পলিপ্রপিলিন (পিপি) প্রধান মাইক্রোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। পলিথিন সাধারণত প্লাস্টিকের ব্যাগ, মোড়ক ও প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হয়। পলিপ্রপিলিন ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন পাত্র, প্যাকেজিং, দড়ি ও অন্য প্লাস্টিক পণ্যে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহযোগী বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্যবিদ মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। এটা কোথায় ফেলা হবে, এর কোনো সঠিক জায়গা নেই। প্রক্রিয়াজাত প্রায় হচ্ছেই না। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আমরা দেখেছি। মাছ থেকে তাই এটি মানুষের শরীরে পৌঁছাবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মাছের পুকুরের পাড়ে পোলট্রির জন্য মাছ চাষে দূষণের ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। ইতোমধ্যে একটি পুকুরের পাশ থেকে মুরগির খামার তুলে দেওয়া হয়েছে। মাছে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাছ ভাজা বা রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নষ্ট হয়ে যায় কি না, এমন প্রশ্নও আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিমুল হালদার বলেন, পলিথিন অসংখ্য অণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই রান্নার তাপেও এটি সহজে নষ্ট হয় না। মাছের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তার মতে, এসব কণা যকৃত ও কিডনির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
মাছ চাষের পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়া উদ্বেগের বিষয়, এ কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, তবে দূষণের মাত্রা, মাছের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
দেশের সবকটি সার কারখানার উৎপাদন চালুর মাধ্যমে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
গ্যাস সংকটে গত বছরের ১ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানা। তবে চলতি বছরই গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার কারখানার উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে আশা বিসিআইসি চেয়ারম্যানের।
তিনি বলেন, বিসিআইসির কারখানাগুলোকে আমরা সচল করতে চাই। আমাদের ২৬-২৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়। আমাদের কারখানাগুলো যদি সচল থাকে, আমরা যদি কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পাই, তাহলে আমরা দেশের চাহিদার পরিমাণ উৎপাদন করেও রপ্তানি করার সক্ষমতা রাখি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের সংকট। তবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে আমাদের কারখানাগুলো চালু করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। কারখানাগুলো চালু করতে পারলে আমাদের আর সার আমদানি করতে হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. আলী আশরাফ ও উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ কারখানার অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বিয়ের মাত্র চার মাস, নতুন সংসারের স্বপ্ন ও বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে তন্নি দে (২০) নামের এক নববধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের একমাত্র মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম দুর্গোৎসব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তিনি হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই আকস্মিক ঘটনায় বিসর্জনস্থলের পুরো উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উৎসবে সিঁদুরের রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল বিজয়ার শেষ বিকেল, সেখানে নেমে আসে মাতম ও কান্নার আবহ। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তালা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও স্থানীয় সূত্রে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বান্দরবানের রুমায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর মো. নেয়ামুল নাসির সিদ্দিকী।
গত ৪ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে যুবকরা মোবাইল ফোন মেরামতের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সনদ এবং উপহার সামগ্রী তুলে দেন। প্রশিক্ষনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ২ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন আবুল বাশার মো. শাকিল শিপু, ৩৬ বীর, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, মো. ইদ্রিস মিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রিন মিডিয়া সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, ‘এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ পাহাড়ি অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এদিকে পরবর্তীতেও স্থানীয় বেকার যুবকদের আয় বর্ধনমূলক এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য রুমা জোনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতারা।