যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গত বুধবার দেশজুড়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, র্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের জোরালো দাবি জানান। দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান:
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গত বুধবার বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
খুলনা ব্যুরো জানান : খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে শিববাড়ি জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহিদ পরিবার, আহত এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী।
সভায় প্রধান অতিথি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বৈষম্যহীন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারা এ গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুবসমাজ জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। তবে কেউ যদি অন্যায় বা অনৈতিক কর্মান্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভায় পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহীদ শেখ মো. সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান, মাথা নূরনাহার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, নিহত পরিবারের সদস্যগণ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ খুলনা সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র/প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাদ যোহর মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শহিদ হাদিস পার্ক ও শিবাবাড়ি মোড়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকরি-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য উন্মুত্ত রাখা ও বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরে সকল সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জা এবং গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়।
খুকৃবিতে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত :
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়েছে।
গত বুধবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল ৯টায় রচনা প্রতিযোগিতা, সকাল ১০টায় জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১১টায় কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও এতিমখানায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
বিকেল ৩টায় অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহামেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা হাসিব রহমান অভিকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর থেকে জানান : ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ ‘স্বপ্ন ছোঁয়া কমিউনিটি সেন্টারে’ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ৩৬শে জুলাই স্মরণসভা ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর সৌজন্যে ‘ডেঙ্গু জ্বরের ব্যবস্থাপনা’ (Management of Dengue Fever) বিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (শামীম)-এর সভাপতিত্বে এবং ডা. এ.এফ.এম.কামাল এর সঞ্চালনায় গত বুধবার রাত ৯ টায় জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
‘৩৬ জুলাই এর শক্তি, প্রেরণার অঙ্গীকার, স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের পথচলা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ডেঙ্গুরোগের চিকিৎসা ও সচেতনতাবিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার। সেমিনারে ‘কী-নোট স্পিকার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান মো. আরিফ।
তিনি ডেঙ্গুজ্বরের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং এর সঠিক ও সময়োপযোগী রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার উপস্থাপিত নির্দেশিকা ও স্লাইড অনুযায়ী, ডেঙ্গুরোগীর সঠিক রোগ নির্ণয়, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর সমস্যাভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে ‘কর্পোরেট স্পিকার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ রাফসান বিনতে আশরাফ। সেমিনারে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত প্রায় দেড় শতাধিক ডাক্তার অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত চিকিৎসকগণের সাথে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান রূপ ও চিকিৎসকদের করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।
এর পর ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -ড্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম, ডা. আলী আকবর হালদার, ডা. মৃধা মো. শাহিনুজ্জামান, ডা. নুরুল ইসলাম রানা, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ডা. এনামুল হক, ডা. সাকি খান, ডা. আল আমিন সারোয়ার, ডা. নিসাত চৌধুরী ও ডা. তানজিল আবির ।আলোচনা সভায় বক্তারা বিগত ১৭ বছর ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের অমানবিক ও নানামুখী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। ড্যাব নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে পেশাগত ক্ষেত্রে তারা চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। পরে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এছাড়াও ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে আলোচনা সভা : জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বেলা ১১টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর কাজী নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আবদুল হালিম।
এসময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ওবায়দুর রহমান, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নুরুল ইসলাম খান, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক রাশিদুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হক, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাহিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম মামুনুর রহমান সহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মার মাত্রা কামনায় দোয়া ও দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এর আগে সকাল ১০ টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
পরে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য, ছাত্র নেতৃবৃন্দ পক্ষ থেকে বক্তব্য, জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য, শিক্ষকবৃন্দের মধ্য হতে বক্তব্য, অতিথিদের বক্তব্য এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান: গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পুর্তি উপলক্ষে ঝিনাইদহে গণসমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। গত বুধবার বিকেলে শহরের পায়রা চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আজম মো. আবুবকর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর ড.হাবিবুর রহমান, হরিনাকুন্ডু উপজেলা আমীর বাবুল হোসেন, শৈলকূপা উপজেলা আমীর মতিউর রহমান, শহর আমীর অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. মনোয়ার হোসেন, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব সামছিল আরেফিন কায়সার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান: দিবসটি উপলক্ষে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা নায়েবে আমির মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ, এনসিপির আহ্বায়ক সম্রাট হোসেন এবং জুলাই যোদ্ধা মেরাজ হোসেন ও মাশরাফি। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা। তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রেখে দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার, আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস তুলে ধরতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহনশীলতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মূল শিক্ষা হলো জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতি অঙ্গীকার। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যাতে ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে। তিনি শিক্ষার্থী ও তরুণদের শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, সেবামুখী প্রশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি, গুজব প্রতিরোধ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জুলাই যোদ্ধা মেরাজ হোসেন ও মাশরাফি তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হবে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন পালন করা হয়েছে। গত বুধবার উপজেলা পরিষদের হল রুমে দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ, থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মুন্তাজিম প্রমুখ। পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শাহ আলম সরকার, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া রহমান ইতি, জমিয়ত ইসলামের সাধারন সম্পাদক মাওঃ নেজাম উদ্দিন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব গিয়াস মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহ সুলতান আহমদ টিপু, সদস্য সচিব মো. সাইফুর রহমান, যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা, কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মৌসুম সরকার, জাসাস উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সালমান হোসেন, কুলাউড়া কলেজ ছাত্রদলের আহব্বায়ক হাবিবুর রহমান টিপু, যুগ্ন আহবায়ক শামীম আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান নিশান, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেদী হাসান খান, জুলাই যোদ্ধা শেখ বদরুল হোসেন রানা, ছায়েম আহমদ, লিংকন আহমদ প্রমুখ।
পরে কুলাউড়া শিশু একাডেমির আয়োজনে উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আবুল বাসারের সঞ্চালনায় শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর উপস্থাপনায় বিদ্যালয়ের হল রুমে আলোচনা সভায় অংশ নেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সহ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক -শিক্ষিকা বৃন্দ।
পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন। সভাশেষে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোঃ ছদরুল আলমের পরিচালনায় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল।
কুলাউড়ার অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ঃ অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস দিবস পালন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক এরশাদ হোসাইন, ফণীভূষণ চন্দ, সঞ্জয় দেবনাথ, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, নূর ইসলাম, জয়রাজ উল্ল্যা, মীরা শর্মা, আবুল কাশেম, নজরুল ইসলাম, অজয় মালাকার, সাজু, সুস্মিতা গোয়ালা।
সিনিয়র শিক্ষিকা আফিয়া বেগমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারজান, তাসনিমা আহমেদ, সাবিহা জুমায়রা আল সফর।
সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। পরে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান: মৌলভীবাজারেও পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সকালে মৌলভীবাজারস্থ ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত থেকে বীর শহীদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বীর শহীদদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান: ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে। এ উপলক্ষে বুধবার সারাদিনব্যাপী শহরে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গণমিছিলটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আবদুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন আখতার শাহীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা (৩০৭) আসনের এমপি বিলকিস ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি নেতা আলহাজ শওকত চৌধুরী,জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাজ্জাদের পিতা বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি কাজী একরামুল হক, শফিকুল ইসলাম জনি, জিয়াউল হক জিয়া, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক,এম এ পারভেজ লিটন, মনোয়ার হোসেন মন্টু, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন,
বিএনপি নেতা জুয়েল চৌধুরী, আনিসুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা এসময় বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার,দেশপ্রেম ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এমপি বিলকিস ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার প্রেরণা দেয়। দেশ গঠনে তরুণ সমাজকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগের আদর্শে বৈষম্যহীন,গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সাঁথিয়া(পাবনা) প্রতিনিধি জানান: পাবনার সাঁথিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বুধবার বিকেলে গণর্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।র্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কেএম মাহবুব মোর্শেদ জ্যোতির সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১আসনের বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামসুর রহমান। ।
আরোও বক্তব্য দেন,উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল বারী সান্টু,সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী,হারুন অর রশিদ মজনু, ইদ্রিস আলী মুন্সি, পৌর বিএনপির সাংঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল রাসেল,সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বন্দে,সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, শামসুজ্জামান নান্নু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লব, ধোপাদহ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কামুরুজ্জামান সেলিম, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান: ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাউজানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভায় সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির, রাউজান থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ কামাল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিন্টু বড়ুয়া, উপজেলা মাধ্যমিক সুপারভাইজার সজল চন্দ্র চন্দ, রাউজান প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী সরোয়ার খান মনজু এবং উরকিরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরমান হোসাইন। সভায় বক্তারা বলেন, ২৪ শের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জনগণের অধিকার এবং দেশ গঠনে নাগরিক দায়বদ্ধতার চেতনাকে সন্মুন্নত রেখে নতুন বাংলাদেশকে এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও উন্নয়নের সকলে একযোগে কাজ করে নতুন বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান: কুমিল্লার মুরাদনগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার সকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, আমজাদ আলী তসু ও শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, নবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন, ধামঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং জুলাই যোদ্ধা মীর জাহিদ হাসান সম্রাট ও নাহিদুল ইসলাম নাঈম।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর-বাঙ্গরা) আসনের ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের আশু সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অঅনুষ্ঠান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির হাফেজ আমিনুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল মাস্টার, জাসাসের আহ্বায়ক আবুবকর, কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্য আলাউদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম মুন্সী, বিএনপি নেতা ওমর ফারুক সোহাগ, ওমর আলী, ইকবাল হোসেন, নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান: ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা এবং শহীদদের স্মরণে এক দোয়া মাহফিল করেছে ‘চাঁদের আলো গ্রুপ ’।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চাঁদের আলো গ্রুপের প্রধান কার্যালয় জোড়গাছা মধ্যপাড়ায় হলরুমে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গ্রুপের আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক মনজুরুল হকের সভাপতিত্বে ও এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদের আলো গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. মহিদুল হাসান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণ। এই নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার, সাম্য ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় ‘চাঁদের আলো’-র মতো সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির আর.এম.ও মনজুরুল হক, এরিয়া ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন। এছাড়া ‘চাঁদের আলো সমিতির’ শাখা ব্যবস্থাপক ও ফিল্ড অফিসার উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আহত বীরদের দ্রুত সুস্থতা ও শহীদ পরিবারগুলোর যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তিরা দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করে দেশের বর্তমান সরকারকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা যাচ্ছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার বিচারের জন্য সরকার কাজ করছে তাই সেই বিচার কার্যকে বাধাগ্রস্ত করতেই ষড়যন্ত্র করছে। গত বুধবার বিকালে ভৈরব শহরের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে দেশে ছাত্র-জনতা জুলাই আন্দোলন না হলে দেশে থেকে ফ্যাস্টিট সরকারের পতন হতো। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছেন। আমরা জনগণের সেই অধিকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছি। তাই বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাস্টিট হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে নিহত শহিদদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। তাই আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সকল সুশীল ও সাংবাদিকদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতেই পরাজিতরা দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্রের লিপ্ত রয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাগণসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সিংগাইর(মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান: জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বধুবার সকাল সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জুলাই শহীদ তুহিন স্মৃতি স্তম্ভে এবং ধল্লা ইউনিয়নে অবস্হিত জুলাই শহিদ সাদ মুরাদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো.মাজহারুল ইসলামসহ জুলাই যোদ্ধা সংসদ উপজেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাগণ। পরে বেলা ১১টার দিকে এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো.মাজহারুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো.কিশোর আহমেদ, সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম রাব্বানী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন, জেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি আশরাফ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সফিউদ্দিনসহ জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় পাত্রপাড়া ও গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে চার বান করে টিন এবং টিনশেড নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ইউএনও।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় দুটির ভবনের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নির্দেশনায় অস্থায়ী টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকির বিষয়। তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয় এবং তারা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন ছিলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তার এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান চালিয়ে যেতে পারবে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
গোপসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দ্রুত সহায়তা পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান নির্বিঘ্নভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’
এ বিষয়ে পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ, এই সহায়তা বিদ্যালয়ের জন্য খুব জরুরি ছিল।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অটোরিকশা চালকের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলেন নিহতের স্বজনরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিহত অটোরিকশা চালকের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার ছেলে আবু জুম্মান সজিবকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। আবু জুম্মান সজিব প্রেমের সম্পর্কের পর আফসানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
এ সময় স্ত্রী আফসানা, তার বাবা নুর হোসেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময় আবু জুম্মান সজিবকে হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের মা। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় লিটন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আবু জুম্মান সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত অটো চালকের চাচা নজরুল ইসলাম, মা সেলিনা বেগম, এলাকাবাসী মো. শুভ আহমেদ, লিপি আকতার, মো. নাছির উদ্দিন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
নিহতের মা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এর সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’
মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় । মিছিলটি কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি রূপচাঁদা মাছ। মাছটি প্রতি কেজি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ৩ হাজার ৮২৫ টাকায় বিক্রি হয়। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে মহিপুরে মনোয়ারা ফিশ গদিতে আনার পর মাছটি দেখতে ভিড় করেন জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। মাছটি এফবি জারিফ-১ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে ধরা পড়ে।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির বলেন, ‘এ ধরনের বড় আকারের রূপচাঁদা মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটির আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেছে।’
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ‘গভীর সমুদ্রের বড় রূপচাঁদার চাহিদা সবসময়ই বেশি। মাছটির মান ভালো হওয়ায় কিনেছি। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আরও ভালো দাম পাওয়া যেত। মাছটি ঢাকায় পাঠানো হবে।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘রূপচাঁদা উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছ। এ মাছ সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে এবং সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের একটি ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়। বড় আকারের রূপচাঁদা ধরা পড়া সাগরের জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে এ মাছের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা জরুরি।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের রূপচাঁদা, একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। সঠিকভাবে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবান মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। এতে জেলেদের আর্থিক লাভও বাড়বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নারী শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ন্যায্য ও সমঅধিকারভিত্তিক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কড়া সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, মুক্তচিন্তা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ কোনো শিক্ষার্থীর মৌলিক স্বাধীনতা সংকুচিত করা নয়; বরং এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত যাতে ক্যাম্পাস ২৪ ঘণ্টা সবার জন্য নিরাপদ ও অবাধ যাতায়াতের উপযোগী থাকে। শিক্ষা ও গবেষণায় নারীদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি জানান, এই আন্দোলন কেবল নারী শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান সর্ব মিত্র চাকমা। যার মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতি ও বিধিনিষেধের দ্রুত সংস্কার করা এবং বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে নিরাপত্তার নামে শিক্ষার্থীদের অধিকার সীমিত না করে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সার্বিকভাবে ঢাবিকে সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি সমান, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে শুক্রবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব।
উৎসবে খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, আর্কিটেক্ট, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন, সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মণ্ডল এবং সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩০ স্কুলের ২২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের ২২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১১৪৬ জন ছেলে ও ২১২৩ জন মেয়ে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।
পিরোজপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, "গাছ হলো পরিবেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক অনন্য নেয়ামত। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে রন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ আমাদের বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে।" এ সময় তিনি গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "যদি তুমি নিশ্চিতভাবে জানতে পারো যে কিয়ামত সংঘটিত হচ্ছে, অথচ তোমার হাতে একটি গাছের চারা রয়েছে, তবে কিয়ামতের আগেই সেটি রোপণ করে ফেলো।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন বলেন, "গ্লোবাল ওয়ার্মিং তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ হিসেবে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়।"
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে এই কর্মসূচি সুবোদঘাটন করা হয়েছে।"
তিনি আরো বলেন, "নির্বিচারে বন ও জঙ্গল কেটে উজার করার কারণেই আজ প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনাবৃষ্টি, খরা, জলচ্ছাস ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ এবং তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তোবাউল জান্নাতী ঐশী সরাসরি দায় স্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং প্রশাসন যে শাস্তিই দেবে তা মেনে নেবেন।
অন্যদিকে প্রবাসী ওই ব্যক্তির দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রীর পেছনে অর্থ ব্যয় করেছেন। তার কাছ থেকেই বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি পেয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সহপাঠী ও রুমমেটদের কিছু ছবি তিনি অন্য একজনের কাছে পাঠিয়েছেন, তবে তা কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ, মানহানি বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে নয়। যাকে ছবি পাঠানো হয়েছে, সেই প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে তার বান্ধবীদেরও পূর্ব পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন সময় আলাপচারিতার অংশ হিসেবে বা নিজের অবস্থান বোঝাতে সামনে থাকা ব্যক্তিদের ছবি পাঠিয়েছেন। তখন বিষয়টি যে অনুচিত বা বেআইনি হতে পারে, তা তিনি উপলব্ধি করেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘রুমে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা সহপাঠীদের ছবি পাঠানো আমার উচিত হয়নি। এটি আমার ভুল এবং এজন্য আমি দুঃখিত। আমি আমার বান্ধবীদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা কারও ক্ষতি করার অভিযোগ অতিরঞ্জিত।’
অভিযুক্ত ছাত্রীর দাবি, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ের আলোচনা থাকলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েতে সম্মতি দেননি। এর জের ধরেই ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বন্ধুমহলে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসী ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময় চাপ ও হুমকি দিয়েছেন।
টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী ব্যক্তি তাকে কিছু উপহার দিলেও তিনি কখনো অর্থ দাবি করেননি। তার পরিবার সচ্ছল এবং বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক ও চাকরিজীবী বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত ছাত্রীর ভাষ্য, ‘আমার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমি কারও কাছ থেকে অর্থ দাবি করিনি।’
এদিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে প্রবাসী ওই ব্যক্তি জানান, বিয়ের আশ্বাসে তিনি অভিযুক্ত ছাত্রীর জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন এবং এর কিছু লেনদেনের তথ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি তিনি চেয়ে নেননি; অভিযুক্ত ছাত্রী নিজ উদ্যোগেই সেসব ছবি পাঠাতেন। এমনকি তার আত্মীয়-স্বজনের ছবিও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে ওই প্রবাসী ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি কিছু ছবি সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জরুরি বৈঠক করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার। অন্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম (সদস্য) এবং অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান (সদস্যসচিব)।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নিজেও কিছুটা স্বীকার করেছেন। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
এদিকে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ঐশী ওই প্রবাসী প্রেমিকের কাছ থেকে বিয়ে ও অন্যান্য প্রলোভনে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সম্পর্কের এই অম্লমধুর টানাপোড়েন থেকেই প্রবাসী প্রেমিক ছবিগুলো ফাঁস করে দেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার জানান, গঠিত তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে অভিযুক্তের দুটি মোবাইল ফোন হস্তান্তরিত হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘জুলাই-৩৬’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, “মধ্যরাতে অভিযোগ পেয়েই বিষয়টি মাননীয় উপাচার্যকে জানানো হয়। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আগামী রোববার পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার, সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশের গৌরবোজ্জ্বল চা শিল্পে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলাম বাজারে নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড চূর্ণ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১২টি চা বাগানের উন্নতমানের চায়ের অভাবনীয় চাহিদা ও চড়া দাম অর্জনের মধ্য দিয়ে এই জয়যাত্রা নিবন্ধিত হলো।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে এনটিসির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। যেখানে প্রতি কেজি চায়ের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে যা কেজিপ্রতি ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এত বিপুল পরিমাণ চা এর আগে কখনও এত উচ্চ গড় মূল্যে বিক্রি হয়নি, যা কোম্পানির বাণিজ্যিক ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করল। এই নিলামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল সুষম গুণগত মান।
এনটিসির আওতাধীন ১২টি চা বাগানের প্রতিটি থেকেই সংগৃহীত চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার কোটা অতিক্রম করেছে। একটি একক নিলামে একই সাথে সবকটি বাগানের এমন ঈর্ষণীয় অর্জনের নজির দেশে ইতোপূর্বে দেখা যায়নি। এই একক নিলাম থেকেই কোম্পানির পকেটে এসেছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।
শুধু নিলামেই নয়, মাঠপর্যায়ের উৎপাদনেও বইছে সাফল্যের বাতাস। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এনটিসির মোট চা উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। আধুনিক ও সুসংহত ব্যবস্থাপনা, সঠিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলেই এই উল্লম্ফন সম্ভব হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কাঁচা পাতা সংগ্রহের সময় ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারখানায় নিবিড় তদারকি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে উৎপাদিত চায়ের লিকারের গাঢ়ত্ব, চোখধাঁধানো রং, সুবাস ও স্বাদে এসেছে অসাধারণ বৈচিত্র্য—যা নিলামে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এই অনন্য অর্জন প্রসঙ্গে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল চায়ের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা। চা-প্রেমী ও ক্রেতাদের এই অভূতপূর্ব আস্থা আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও চায়ের গুণগত উৎকর্ষ বজায় রেখে দেশের চা শিল্পকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ন্যাশনাল টি কোম্পানি নিরলস কাজ করে যাবে।’
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির এই অভূতপূর্ব সাফল্য স্থবিরতায় ভোগা চা খাতের জন্য এক নতুন আশার আলো। উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার এই সুষম সমন্বয় বাংলাদেশের চা শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
কবি জীবনানন্দের বলনতা সেন, উত্তরা গণভবন, রানী ভবানীর রাজবাড়ি আর কাঁচাগোল্লার শহর নাটোর হবে টুরিস্ট হাব এমন মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের দিঘাপতিয়ায় উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় আফরোজা খানম আরও বলেন, উত্তরা গণভবন, রাজবাড়ী, হালতিবিল ও চলনবিল ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানে এখনো তেমন আবাসন ও পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। অনেক মানুষ নাটোরের ব্যাপারে বিস্তারিত জানেও না। তাই নাটোরের পর্যটনের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগেরও উন্নতি করে এখানে টুরিস্ট হাব গড়ে তোলা হবে।
এসময় নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারইফতে খায়ের আলমসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী পাটুল বিল পরিদর্শন শেষে এক সমাবেশে যোগ দেন।
এর আগে দুপুরে নাটোরের সার্কিট হাউজে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম দেয় উটপাখি এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বাস্তবে সেই বিশাল ডিম কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার উড়তে-অক্ষম পাখি এমুর সবুজাভ-নীল রঙের ডিমও সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু—দুই প্রজাতির পাখির ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি উটপাখির দুটি ও এমুর একটি ডিম সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড় হওয়ায় সবার দৃষ্টি কাড়ছে।
পার্কে বর্তমানে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে চলাফেরা করে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।
অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দিলেও এমুর ক্ষেত্রে ডিমে তা দেওয়া এবং বাচ্চা লালনের দায়িত্ব মূলত পুরুষ পাখিই পালন করে।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের উদ্যানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’
কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে সংকোচিত করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই শহীদ মিনার চত্বর। কুড়িগ্রামকে চেনার আইকনিক স্থাপনা। এর সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে জেলা শহরের ঐতিহ্যকে।
কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজ শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থল। প্রশাসনের ভাষ্য, মোড়টি চিকন হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। জনদুর্ভোগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় জেলার সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে।
কাজ পরিদর্শনে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্র স্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কাজ শুরুর সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমি এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি সামিউল হক নান্টু জানান, এঘটনা দুঃখজনক। কুড়িগ্রামের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুন: বিবেচনা করবার জন্য অনুরোধ জানাই জেলার সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে। রাস্তা সম্প্রসারিত করার অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ শহীদ মিনার স্হাপনের পিছনেও রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিত হবে না।
রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ বা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত। তার ভাষ্য, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বিএম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টিতে সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মহাসড়কে আটকে পড়া লরী চালক আসাদুল ইসলাম জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
যানজটে আটকে থাকা বাসযাত্রী ঝর্ণা আক্তার জানান, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাড্র তিন কি.মি. পথ এসেছি। চট্টগ্রাম বাবার বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। তার সাথে দুই কন্যা রয়েছে। ভোর ৬ টায় ঢাকা থেকে বাসে উঠেন ঝর্ণা। কখন চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন সে চিন্তার তার কপালে ভাঁজ বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই আনিসুর রহমান জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংস্কার কাজ চলছে। সে জন্য সড়কে বাহনের ধীরগতি। পুলিশের এ কর্মকতা জানান, সংস্কার কাজ শেষ হলে যানবাহনের ধীর গতি কমবে। যানজটও কমবে।
বগুড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি খালের কচুরিপানার নিচ থেকে মো. মিলন (৩০) নামের এক সিএনজিচালকের বস্তাবন্দী ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে ঘাড় ভেঙে হত্যা করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে তাড়াশ-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের বেড়খালি এলাকার একটি খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিলন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার রাঙ্গালিয়া গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ায় থেকে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে তাড়াশ-রানীরহাট সড়কের বেড়খালি খালের পানিতে একটি মরদেহ কচুরিপানার নিচে আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তাড়াশ থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের মরদেহের অবস্থা সম্পর্কে তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম মোল্লা জানান, মরদেহটি উদ্ধারের সময় শরীর ফুলে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ঘাড় ভেঙে অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েক দিন আগে মরদেহটি খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গত ২ আগস্ট বগুড়া থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হন সিএনজিচালক মিলন। এর তিন দিন পর গত ৫ আগস্ট বগুড়া জেলা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় তার চালিত সিএনজিটি উদ্ধার করে।
এদিকে স্বামীর নিখোঁজ ও মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিহতের স্ত্রী ও শ্যালক ইতোমধ্যে তাড়াশ থানায় এসে পৌঁছেছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুব দ্রুতই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।