বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বোমাতঙ্কে বাড়ছে শঙ্কা

* সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার * সাভারে বোমা নিষ্ক্রিয়ের সময় বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা * বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, আতঙ্ক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০০:২৭
বিশেষ প্রতিবেদক 
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিবেদক 
প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০০:২০

মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনে স্কচটেপ মোড়ানো বস্তু উদ্ধারের পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের মতো চরম জনবহুল পয়েন্টগুলোতে ফেলে রাখা ব্যাগ নিয়ে একের পর এক বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকায়। যদিও ডগ স্কোয়াড ও সিটিটিসির পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত সেগুলো জর্দার কৌটা কিংবা ময়লা-আবর্জনা হিসেবে ‘ফ্লস অ্যালার্ম’ বা মিথ্যা আতঙ্ক প্রমাণিত হয়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু রাজধানীর সেই উদ্বেগের আগুনে ঘি ঢালল সাভার-আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে ১৭টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার এবং বরিশালের জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। সাভারে বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও কোডেড মেসেজ উদ্ধার হওয়ায় পুরো ঢাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’। একদিকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি—সব মিলিয়ে মেগাসিটির ব্যস্ত রাজপথ থেকে শিল্পাঞ্চল জুড়ে এক অজানা শঙ্কা থমকে দিয়েছে নাগরিক জীবনকে।

এদিকে, সাভারের সাদাপুর এলাকার মসজিদের মাঠে পাওয়া কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারটিকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি জনশূন্য করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা ব্যবসায়ী নিবীর হোসেন বলেন, ‘এত শক্তিশালী বোমা, তা জানা ছিল না। যখন নিষ্ক্রিয় করা হয়, তখন বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠেছে। এটা অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা।

এসব ঘটনায় বোমা আতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি গত ২ আগস্ট সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে’ রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আশুলিয়ায় একটি প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু এবং মতিঝিলে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তুটির বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত কিংবা কোনো ইন্ধন রয়েছে কি-না, তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

গত পাঁচ থেকে ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তুলনামূলক বিচারে দেশে বর্তমানে নাশকতা ও এ ধরনের অপরাধের হার অনেক কম। পরিস্থিতি কোনোভাবেই উদ্বেগজনক নয়।

আগস্ট মাসে বিশেষ সতর্কতা কেন জারি করা হয়েছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কিছু রাজনৈতিক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে সার্বিক আতঙ্কের সূচনা ঘটে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইইডির (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সন্ধান পাওয়ার মধ্য দিয়ে। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত বিএমডব্লিউ ছাতার ভেতরে টাইমিং সার্কিট, সালফার, বিয়ারিং বল ও তারকাঁটা যুক্ত প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের আইইডি উদ্ধার করা হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আনসার সদস্যদের সতর্কতায় মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে ছাতাটি শনাক্ত হয়। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এটি নিষ্ক্রিয় করে। তবে নিষ্ক্রিয়করণের স্প্লিন্টারের আঘাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়।

এরপর গত ১ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের লিফটের পাশে পরিত্যক্ত একটি লাল ব্যাগ দেখে পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। প্রায় ৫২ মিনিট স্টেশনের স্বাভাবিক ট্রেন ও যাত্রী চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার পর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, কেবল জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া যায়। একইদিন দুপুর ১টার দিকে ফার্মগেট স্টেশনের পিলারের কাছে পরিত্যক্ত একটি চটের বস্তা কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তেজগাঁও থানা পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম হাত দিয়ে (হ্যান্ড এন্ট্রি) পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে বস্তায় কেবল সাধারণ বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ছিল।

পরপর এসব ঘটনার পর গত ৩ আগস্ট ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা কাঁধে, হাতে কিংবা ট্রলিতে বড় ব্যাগ ও বস্তা নিয়ে তল্লাশি ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছেন। সচিবালয় স্টেশনের স্ক্যানার বন্ধ ছিল।

ফার্মগেট স্টেশনের এমআরটি পুলিশের এসআই মুশফিকুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত হ্যান্ড ডিটেক্টর বা আর্চওয়ে না থাকায় এবং যাত্রীদের ভিড়ে দীর্ঘ লাইন এড়াতে সবাইকে নিয়মিত তল্লাশি করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী মো. সেলিম ও তুলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরাপত্তার এই ঘাটতি যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ জীবনহানি ঘটাতে পারে।

সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৭টি বোমা উদ্ধার: ঢাকার পরিস্থিতি যখন থমথমে, ঠিক তখনই উপকণ্ঠ সাভার ও আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে (৩০ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট) ১৭টি বোমার সন্ধান মেলে। গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে বেঞ্চে ফেলে রাখা একটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার আকৃতির টাইমারযুক্ত বোমা উদ্ধার করে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে নিষ্ক্রিয় করে।

এরপর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি হ্যালো বাইকে করে এসে তিন ব্যক্তি ‘জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ’-এর পাশে একটি ড্রাম ফেলে সটকে পড়ে। চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন এগোলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি ড্রাম খুলে কোরআন শরিফ, কাপড় ও ডায়েরির নিচে স্কচটেপে মোড়ানো একটি ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা এবং একটি রিমোট কন্ট্রোল দেখতে পান। বোমা ও রিমোটের গায়ে লাল কালিতে ‘R1’ কোডেড সংকেত লেখা ছিল।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে এটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করলে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুরে র্যাব, এনএসআই, সিটিটিসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪টি পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার সব বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট মেলায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।

বরিশাল জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ: সাভারের ঘটনার পরপরই বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল জজ আদালত প্রাঙ্গণে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মূল ফটকের কাছে ঘটিত হয় ককটেল বিস্ফোরণ। বিকট বিস্ফোরণে আদালতের বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন, সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বিচারিক কার্যক্রম।

এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, আগামী ১৬ আগস্ট আদালতে আইনমন্ত্রীর সফর বানচাল ও সমাজে ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সিআইডি ও ডিবি ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়ো ও প্লাস্টিকের টুকরো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে। বিএমপি কমিশনার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি বাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ৯টি তাজা বোমা।

সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার, বরিশাল আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং রাজধানীতে তৈরি হওয়া একের পর এক ‘বোমাতঙ্ক’ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ : মতিঝিলে প্রস্তুত আইইডি উদ্ধার কিংবা মিরপুর ও ফার্মগেটে বর্জ্য ও পান-জর্দার কৌটা পড়ে থাকার ঘটনাগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। উগ্রবাদী বা দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি বড় হামলা চালাতে না পারলেও মেট্রোরেল স্টেশন বা জনবহুল এলাকাগুলোকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করে মনস্তাত্ত্বিক ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে। একে তারা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার এক ধরনের ‘লজিস্টিক সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

পুনর্গঠন ও কোডেড সংকেত: সাভারে ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা, ১৪টি পাইপ বোমা এবং জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও বোমার গায়ে ‘R1’ কোডেড সংকেত পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নতুন করে সংগঠিত হওয়া (Re-grouping) এবং নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। ‘R1’ সম্ভবত কোনো বিশেষ সেল, কোড নাম অথবা একযোগে হামলার সংকেত (Signal) হিসেবে কাজ করছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ঝিমিয়ে পড়া নজরদারি: মতিঝিলের ঘটনা এবং তৎপরবর্তী সময়ে ফার্মগেট, মিরপুর ও সচিবালয় মেট্রো স্টেশনে স্ক্যানার বিকল থাকা বা পর্যাপ্ত তল্লাশি ছাড়া মালামাল নিয়ে প্রবেশের চিত্র উঠে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের গণপরিবহন মেট্রোরেলে বিমানবন্দরের মতো শতভাগ স্ক্যানিং ও আর্চওয়ে প্রোটোকল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। পুলিশি নজরদারিতে ঢিলেমি থাকলে উগ্রবাদীরা সাধারণ বস্তা বা ট্রাভেল ব্যাগে করে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের বিস্ফোরক বহন করে বড় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কেবল ‘ফলস অ্যালার্ম’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে রাজধানীর সিসিটিভি নেটওয়ার্ক জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) এলাকায় আধুনিক টেকনোলজি এবং পর্যাপ্ত এমআরটি পুলিশ দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ১ আগস্টের মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের ব্যাগ ও বস্তায় কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, এগুলো স্রেফ ‘ফলস অ্যালার্ম’। মতিঝিলের ২৪ জুলাইয়ের আইইডির সঙ্গে এই দুই ঘটনার সরাসরি কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র মেলেনি। তবে জনবহুল স্থানে নাগরিকদের সচেতনতা প্রশংসনীয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মতিঝিল ও অন্যান্য স্থানের নাশকতার পেছনে কারা আছে তা শনাক্ত করা হচ্ছে। নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে যে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর ক্ষেত্রে সরাসরি ৯৯৯ বা নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম ও পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, সাভারে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর ধরন অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক। বোমার উৎস, তৈরির উদ্দেশ্য এবং উদ্ধার জেএমবির লিফলেট ও ‘R1’ সংকেতের নেপথ্য বের করতে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার গুরুকে ধরার জন্য যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি): কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানান, বরিশালের জজ আদালতে ককটেল নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করতে সিআইডি ও ডিবি কাজ করছে।


ঢামেকে এক কারাবন্দির মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরঞ্জন রাজবংশী (৫০) নামে এক কারাবন্দি হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।’

কারা সূত্রে জানা যায়, ধামরাই থানার একটি মামলায় বন্দি ছিলেন মনোরঞ্জন রাজবংশী। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের কায়েতপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম নারায়ন রাজবংশী।


সংকটের জাঁতাকলে হাওরের কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

বৈশাখ আসে আনন্দ আর নতুন ফসলের স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু হাওরপাড়ের কৃষকদের জন্য গত বৈশাখ বয়ে এনেছিল নিঃস্ব হওয়ার বার্তা। ফসল কাটার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা আগাম পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই তলিয়ে গিয়েছিল দিগন্তজোড়া বোরো ধানের মাঠ। চোখ বুজে ভেসে যাওয়া ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকার উপায় ছিল না; পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনবাজি রেখে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হন কৃষকরা। তবে সেই হাড়ভাঙা চেষ্টার পর ঘরে ওঠে স্বাভাবিক উৎপাদনের অর্ধেকেরও কম ফসল।

​সেই অর্ধেকের কম ধানের গল্পটাও কম করুণ নয়। বুক সমান পানি থেকে তোলা ধানের অনেকটাই ছিল কাঁচা ও আধপাকা। এরপর টানা বর্ষণ আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় দিনভর লড়াই করে রোদের অভাবে কষ্ট করে শুকাতে হয়েছে সেই ধান। দীর্ঘ সময় জমে থাকা ভেজা ভাবের কারণে ধানের স্বাভাবিক সোনালি রঙ নষ্ট হয়ে ধরেছে ময়লাটে ভাব, আর ছড়াচ্ছে কিছুটা দুর্গন্ধ। এখন কষ্টের সেই ফসল নিয়ে বাজারে গিয়ে নতুন করে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের রং নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বেপারি ও আড়তদাররা পানির দরে ধান কিনতে চাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে কিনতেই রাজি হচ্ছেন না।

​মাঠের এই নির্মম বাস্তবতা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন অষ্টগ্রাম সদরের কৃষক ফয়জুল হক (৫৮)। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘পানি যখন হুরহুর কইরা আইতাছিল, তখন বুক পানিতে নাইম্যা আধপাকা ধানগুলা কাইট্টা তুলছিলাম। ভাবছিলাম পোলাপান লইয়া অন্তত খাইয়া পইরা বাঁচমু। কিন্তু মেঘ-বৃষ্টির লাইগ্যা ধান ঠিকমতো হুকাইতে পারি নাই, রং কালা হয়া গেছে। এহন বাজারে নিলে পাইকাররা ছোঁয়ই না, আর যারা নিতে চায় তারা পানির দরে দাম কয়। বিঘা প্রতি যে খরচ অইছে, এই দামে ধান বেচলে চাল কেনার টেহাও উঠব না। আমডা এহন কি খাইয়া বাঁচমু?’

​প্রকৃতির এই আঘাতের পর আবার নতুন করে চেপে বসেছে মূল্যবৃদ্ধির ভারী বোঝা। এরই মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, আর লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে আগামী মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া, পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা এবং ধান মাড়াইয়ের খরচও বহুগুণ বেড়ে যাবে। নতুন ফসলের জন্য জমিতে কৃষককে এখন গুনে গুনে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

​এর ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশচুম্বী। শাকসবজি, মাছ, তরিতরকারিসহ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুর দামই এখন লাগামহীন। ফসল হারিয়ে কৃষকের হাতে এমনিতেই কোনো টাকা নেই, যার ফলে এসব নিত্যপণ্য কেনা তাদের সাধ্য ও ক্রয়ক্ষমতার একদম বাইরে চলে গেছে।

​আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি ও সংসার চালানোর সংকট নিয়ে কাস্তুল ইউনিয়নের কৃষক নূর মোহাম্মদ (৪৫) বলেন, ‘হাওরের ধানই আমডার সব। সেই ধান বেচতে পারতাছি না, ঘরে টেহা নাই। তার ওপর তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০ টেহা বাড়াইয়া দিল, বিদ্যুতের দামও বেশি। সামনে জমিত সেচ দেওয়া আর জমি চাষ দেওয়ার খরচ দ্বিগুণ অইয়া যাইব। বাজারে গেলে তরি-তরকারি কিংবা চাল-ডাল কেনার সাধ্য নাই। এনজিওর কিস্তি আর মহাজনের ঋণের চিন্তায় রাইতে ঘুম আসে না। সরকারের থাইকা যদি সরাসরি ধান না কেনে বা আমডারে সাহায্য না করে, তবে আগামীতে জমিতে নামার ক্ষমতাও আমডার থাকব না।’

​একদিকে আগাম বন্যায় অর্ধেকের বেশি ফসল নদীগর্ভে বিলীন, রক্ষা করা ধানের বাজারমূল্য শূন্যের কোঠায়, অন্যদিকে জ্বালানি-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আর বাজার খরচের তীব্র চাপ—সব মিলিয়ে কৃষকের অবস্থা এখন চরম নাভিশ্বাসে গিয়ে ঠেকেছে। দিন দিন তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠছে। প্রকৃতির মার, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ আর আকাশচুম্বী বাজারদরের নির্মম জাঁতাকলে পড়ে হাওরপাড়ের কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।


কেরানীগঞ্জে জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে গুলি করে স্বর্ণ ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তার ফুপাতো ভাইকে গুলি করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হযরতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়া এলাকার অন্তর সরকার (২৫) ও তার ফুপাতো ভাই রাজিব সরকার (২০)। তাদের দুজনেরই পায়ে গুলি লেগেছে।

আহত অন্তর সরকার জানান, হযরতপুর বাজারে তাদের একটি জুয়েলারি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে তিনি, তার বাবা মিতাই সরকার ও ফুপাতো ভাই রাজিব সরকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে হযরতপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে।

তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।’ এতে তিনি ও রাজিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে হামলাকারীরা স্বর্ণালংকার রাখা একটি টিফিনবাক্স ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ওই বাক্সে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পরপর কয়েকটি বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


উত্তাল সাগরে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই উদ্ধার ১১ জেলে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে ট্রলারের কেবিনে থাকা দুই জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক মো. আল-আমিন জানান, প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে হঠাৎ ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় ১১ জন সাঁতরে ট্রলার থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে কেবিনের ভেতরে দুই জেলে আটকা পড়েন।

তিনি বলেন, সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে এবং ১১ জনকে উদ্ধার করে। পরে ওই ট্রলারেই তারা নিরাপদে উপকূলে ফিরে আসেন। তবে সাগর উত্তাল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কেবিনে আটকে পড়া দুই জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিখোঁজ দুই জেলে হলেন—তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া এলাকার হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. নবী হোসেন (৪৫)।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া এলাকার আল-আমীন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়।

সোমবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ হয়ে উত্তাল হয়ে উঠলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলের দিকে ফিরতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

উদ্ধার হওয়া ১১ জেলের মধ্যে ছয়জন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা, চারজন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার এবং একজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সমিতির পক্ষ থেকে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ দুই জেলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।’

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান।’ গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্য সচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা।

সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।


মেঘনায় নিহত তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে এমপি মান্নান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো তিন শিক্ষার্থীর শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। নিহতদের পরিবারগুলোকে গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকায় নিহত শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে গিয়ে এমপি মান্নান শোকাহত স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কোমলমতি তিন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে বেদনার্ত করেছে। পুরো দেশবাসী আজ এই শোকের অংশীদার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে রয়েছেন। দল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার ত্রাণ তহবিল থেকে আপনাদের জন্য এই সামান্য আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলো।’ তিনি মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন সেই দোয়া কামনা করেন।

​পরিবারগুলোর সাথে সাক্ষাৎকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হাসান, সোহেল রানা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা বাবুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​উল্লেখ্য, গত রোববার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে তিন শিক্ষার্থী। এ সময় নদীর স্রোতে তলিয়ে গিয়ে একই পরিবারের জমজ দুই ভাইসহ তাদের প্রতিবেশী ৩ জন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক সলিল সমাধি ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


জয়পুরহাটে ৭৩ কেজির কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় মূর্তি পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিহারপুর গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

‎বিজিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ২০ বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরা বিহারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়ে মূর্তিসহ মুকুল চন্দ্র মণ্ডল (৩৮) ও কামাল হোসেনকে (৬০) আটক করা হয়। পরে আটক দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামিদুর রহমান (৬২) ও জাকির হোসেনকে (৫০) আটক করা হয়।

আটক হামিদুর রহমান আক্কেলপুর গ্রামের, জাকির হোসেন অনন্তপুর গ্রামের, মুকুল চন্দ্র মণ্ডল জালালপুর গ্রামের এবং কামাল হোসেন বিহারপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবির দাবি, আটক চারজন নিজেদের পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূর্তিটি ভারতে পাচারের উদ্দেশে মজুত করার অভিযোগ রয়েছে। ‎উদ্ধার করা মূর্তিটির সিজার মূল্য প্রায় ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।


বিরোধী দলের নেতারা সংসদে এক কথা, বাইরে আরেক কথা বলে: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

বিরোধী দল নেতারা সংসদে এক কথা বলে, বাইরে আরেক কথা বলে দ্বিচারিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলের নেতারা গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে- বলে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাগুরা জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপির সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত ৩০৫ আসনের এমপি নেওয়াজ হালিমা আরলী, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. শামীম কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাশ্বতি শীল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুল কাদের, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির এডভোকেট মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহেদ হাসান টগর, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক সহ জেলার সরকারি সকল দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জেলার আইনশৃঙ্খলা সহ জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সার্বিক তদারকি করেন মাগুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।


নরসিংদীকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাল্লাহ: জেলা প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বলেছেন, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে নরসিংদীকে সারাদেশের মধ্যে একটা সুন্দর ও রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলব ইনশাল্লাহ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে নরসিংদী জেলায় সমন্বিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপণ্য-পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেনতামূলক কর্মপরিকল্পনা ২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন।

সবার আগে দেশ-সকলের চেষ্টায় ডেঙ্গু করব শেষ। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবির, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ আউয়াল, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মিজানুর রহমান, নরসিংদী জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল কবির মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সজীব শাহরীন, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ, নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি একেএম গোলামা কবির কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক উদ্দিন ভুঞা, ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. আলম মোল্লা ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার প্রমুখ। এছাড়া সভায় বিভিন্ন দপ্তরের জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইসরাত জাহান কেয়া আরো বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ। আর সেই জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের পরিকল্পনাগুলো মানুষের জানা দরকার, আর এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সাংবাদিকদের তাদের লিখনীর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. সফিউল্লাহ।


৬ ফুট গর্তে বস্তাবন্দী শিশুর লাশ, দিনাজপুরে মা’সহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আট ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে শিশুর রুহির বস্তাবন্দী অর্ধ গলিত লাশ ও হাড় কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—রিপন টুডু (৩৫) ও সুজন টুডু (২০)। এর মধ্যে রিপন টুডুকে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জামতলী এলাকার একটি নারকেল বাহান থেকে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রিপন টুডুকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিপন টুডু দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার নেপাল টুডুর ছেলে। সুজন টুডু একই এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন টুডুর ভাতিজির জামাতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগম সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমশেদ আলীর মেয়ে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। জিন্নাতুনের আগের সংসারে চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহি ছিল। আদিবাসী রিপন টুডুর সাথে জিন্নাতুন এর প্রেমের সম্পর্ক থাকায়। গত ছয় মাস পূর্বে জিন্নাতুন তার মেয়েকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

শিশু রুহিকে নিয়ে রিপন টুডু ও জিন্নাতুনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হতো। গত ৫ জুন রাতে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রিপন টুডুর সঙ্গে শিশু রুহির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন করে রিপন টুডু। সাথে যুক্ত হয় জিন্নাতুন বেগম। শিশু রুহি কান্নাকাটি শুরু করলে শিশুটির গলা ও মুখ ওড়না দিয়ে চিপে ধরে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে রাতেই রিপন টুডু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুজন টুডুকে ডেকে আনে।

এরপর শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নারকেল বাগানে ৬ ফুট গর্ত করে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে মাটিচাপা দেয়া সুজন টুডু আর রিপন টুডু।

ঘটনাটি আড়াল করতে ওই স্থানের আশপাশে অন্য একটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখে রিপন টুডু ।

রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযানে নামে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ।

একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও নারকেল বাগানের নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিমসহ সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুজন টুডুকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জামতলী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ এর আগে শিশু রুহির সন্ধান এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জামতলী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।


৩৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গুলিবিদ্ধ মামুনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা ব্যুরো

খুলনার পূর্ব রূপসায় দুর্বৃত্তের গুলিত আহত মামুন মীর (৩০) চিকিৎসা অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাতে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তবে বিষয়টি না জানিয়ে দাফনের চেষ্টা করা হলে পুলিশ বাধা দেয়। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহত মামুন মীর উপজেলার বাগমারা গ্রামের নেয়ামত মীরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১৮ আগস্ট রাতে মামুনকে গুলি করা হয়। আহত মামুন মীর ৩৯ দিন ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার শরীরের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিন রাতে মরদেহ খুলনার রূপসার বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন মসজিদে আল আকসায় জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তাকে বাগমারা দারুস সালাম জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেয়। পরে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

স্থানীয়দের একটি সূত্র জানায়, নিহত মামুন খুলনা শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বি’ কোম্পানী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিল। তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার আর কোনো জ্ঞান ফেরেনি।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘চিকিৎসা অবস্থায় মামুন মীরের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। মৃত্যুর পরও কোনো অভিযোগ দায়ের করতে চাচ্ছেন না তারা। তারা কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তার দাফনের বিষয় জানতে পেরে বাধা দেই। সুরতহাল করার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেকের মর্গে প্রেরণ করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

উল্লেখ্য, ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের আবু সালেহীন প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে দুজন যুবক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশে গুলি করে।


শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামে তাঁর বাবার পৈতৃক বাড়ির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়া মরদেহবাহী গাড়ি রাত ১১টার দিকে স্বজনদের বাড়িতে পৌঁছায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার দুপুরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি শ্যামনগরের নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছানোর পর নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

দাফনের আগে অনুষ্ঠিত জানাজায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম নুরুল হুদা ইমামতি করেন। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও স্থানীয় ২০-২৫ জন ব্যক্তি জানাজায় অংশ নেন। তবে এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। জানাজা ও দাফন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিরুদ্ধসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।


রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ, গৌরীপুরের এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মাথায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পূর্বের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন বলেন, ‘রোববার সকালে মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। আদেশে সরকারি জনস্বার্থের কথা বলা হয়েছে। প্রথম আদেশে তাকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার আদেশ হয়েছে বলে জেনেছি। গতকাল সন্ধ্যায় এসিল্যান্ড কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।’ ইউএনও আরও জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের ব্যাপারে নিয়ামত উল্ল্যা দাবি করেছেন যে তিনি কর্মজীবনে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তাঁর কর্ম এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সময়েও তিনি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘গৌরীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।’ তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই জানাবে।’

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং অতীতে ছদ্মনামে ব্লগে লেখালেখি করার বিষয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ মে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং চলতি ২০২৬ সালের ১ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি হন। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি গৌরীপুর উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেছিলেন।


banner close