শনিবার (১৫ আগস্ট)ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া এই নেত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি জানানো হয়।
ছাত্রদলের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগরে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন অর্থাৎ আজ রোববার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রদল।
খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম এবং ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরে পরিবারসহ দিনাজপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মিশনারি স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। এরপর ধীরে ধীরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তার নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে মামলা, কারাবাস ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দি ছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর দীর্ঘদিন বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন।
নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে স্মরণ এবং তার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উদযাপনের সংবাদ পাঠিয়েছে দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি। পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো;
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী থেকে জানান : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট)সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলনসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় নেতৃবৃন্দ প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রয়াত নেত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান : বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মাগুরা জেলা বিএনপির উদ্যোগ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)বাদ আছর মাগুরা ভায়না মোড়স্ত জেলা বিএনপি অফিসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনোয়ার হোসেন খান। এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের একসাথে নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সবার শেষে দোয়া মাহফিলে অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনী প্রতিনিধি জানান: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ফেনীতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লীগণ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, ফেনীর সোনাগাজীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে সোনাগাজী পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রীড়াবিদ ও বাফুফের মাঠ পরিচালক তাজওয়ার আউয়াল।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খুরশিদ আলম ভূঞার সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, সোনাগাজী পৌর বিএনপির আহবায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর, সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা আলগমীর হোসেন চৌধূরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার, সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রাসেল হামিদি প্রমূখ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং তাদের কনিষ্ঠ সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মাও. আবুল কাসেম। পরে উপজেলার শতাধিক ক্লাবের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ইবি প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান।
এছাড়া ছাত্রদল ইবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৮২তম জন্মদিন। তার পুরো জীবনটাই বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য তিনি উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বিগত সরকারের দ্বারা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। আমরা মন খুলে এই মহান ব্যক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।’
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান : ময়মনসিংহ জেলায় শনিবার (১৫ আগস্ট)সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ময়মনসিংহ মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ২ টায় ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।
এ কর্মসূচিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বিভাগীয়) ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যপক একেএম শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কাজী রানা, এডভোকেট এম.এ হান্নান খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফয়সাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব একেএম মাহাবুবুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন প্রমুখ সহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিল শেষে মহানগরী এবং সদর উপজেলার প্রতিটি মসজিদে দিবসটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন।
এ সময় আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী হিসাবে গড়ে তুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদে এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক সহ বিএনপি এবং সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ মাহফিল শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্রাফিক চত্বরে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খাঁন রোকন উজ্জামান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মুকুল, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম ইউনুচ আলী, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম টুকু, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মিল্টনসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম এম রইস উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান : প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন ১৫ আগস্ট। এ উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে দোয়া-মিলাদ, র্যালি ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খালেদা জিয়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ১২টার দিকে বাউফল হাইস্কুল এলাকায় অবস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে দোয়া-মিলাদের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন, পটুয়াখালী জেলা আমরা জুলাই যোদ্ধা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আজগর সুজন, উপজেলা বিএনপির সদস্য তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ, বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দোয়া-মিলাদে খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা র্যালিতে অংশ নেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।
কর্মসূচির আয়োজক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেছেন আজ মরহুম দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী। জন্মদিন বলতে সাধারণত আনন্দ, উল্লাস ও উৎসবের কথা বোঝায়। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টের। তিনি তার কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সবসময় বাংলাদেশের জনগণের মণিকোঠায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভবিষ্যতেও তার স্মরণে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া।
১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন।
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান :
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়া'র ৮২ তম জন্মদিন যথাযথভাবে উদযাপন করেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এ উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া মাহফিল,আলোচনা সভা ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ২ টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সহ সভাপতি আলহাজ্ব মো. আতিকুর রহমান রাজা।
এ সময় উপজেলা বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা বিএনপি নেতা ইউনুস আলী, নজরুল ইসলাম ফতে চেয়ারম্যান সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একজন আপসহীন নেত্রী। তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক আদর্শ ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অবস্থান বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সভায় ভালুকা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ হাতেম খান ও রুবেল খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, অ্যাডভোকেট উসমান গনি মল্লিক মাখন এবং শাখাওয়াত হোসেন পাঠান বক্তব্য দেন।
এছাড়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় বক্তব্য দেন। বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং দেশের মানুষের জন্য তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে তার রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্রের জন্য তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠন প্রতিবছর নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। এর অংশ হিসেবে ভালুকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা ব্যুরো জানান : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ১৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু তৈয়ব, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান বাবু, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, এমইউজের কোষাধ্যক্ষ এ এইচ এম শামীমুজ্জামান, সাবেক বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির বাবুল, দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের, খুলনা প্রতিদিনের সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এমইউজে সদস্য ফকির শহিদুল ইসলাম, রাজু আহমেদ, খাইরুল আলম, নুরুল আমিন নুর, রামিম চৌধুরী, শেখ বদর উদ্দিন, মাসুদ আল হাসান, মো. বি রহমান মাসুদ, উম্মে উমামা রাত্রি, আহসানুল আমীন, সাইফুল ইসলাম, রাজু খা, মো. বজলুর রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ শাওন, জাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন সজীব ও মো. আশিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নাদিরা আক্তার, মো. জিল্লুর রহমান, শামীম হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম রিংকু, মো. শামীম হোসেন খান, আব্দুল্লাহ আল মুহাইমিন, মোহাম্মদ আল মাহমুদ শাওন, আব্দুল হালিম, আহমেদ হোসাইন, ফরহাদ হোসেন, শাহরিয়ার শাফিন, এইচ এম সাগর, মো. আরিফ হোসেন, এম রোমানিয়া, আরিফ হোসেন, আসিফ আমিন, মোহাম্মদ এম এ সাদী প্রমুখ।
আলোচনা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের ইমাম মাওলানা ইউসুফ হাবিব।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে পৌর যুবদল।
শনিবার (১৫ আগস্ট)সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মসজিদে খালেদা জিয়ার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলা চত্বরে পৌর যুবদলের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। পৌর যুবদলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঝাড়ু, কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা চত্বর, আশপাশের সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করেন। এ সময় আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি রিয়াজ উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করেছি। এর মূল উদ্দেশ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমবে মানুষ সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানাই। বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা চাই, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কালিয়াকৈরকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা হোক।”
পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দলীয়ভাবে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে।’
কর্মসূচিতে পৌর যুবদল,সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মমতাময়ী মা ফরিদা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে ফরিদা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি চার ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মরহুমার বড় ছেলে এবং রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ১৫ বছর বয়সে বাবা হারিয়েছি, সেই সময় থেকে মা-ই আমাদের অভিভাবক ছিলেন। আমরা চার ভাই এখানে উপস্থিত আছি। উনার জন্যই আমরা চার ভাই একসঙ্গে আছি।
তিনি হজ পালন করেছেন। ওমরাহও করেছেন। মহান আল্লাহ উনার জীবনের গুনাহর খাতা মাফ করে যে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল বলেন, যেখানেই থাকতাম, প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম। তিনি আমাকে আদর দিতেন, চুমু দিতেন। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই। আমার মায়ের কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন আমার মাকে মাফ করে বেহেশত নসিব করেন, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মায়ের সব পাওনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানাজা এবং দাফনেও শরিক হন অনেকেই। এ সময় মরহুমার বড় ছেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তারা। একইসঙ্গে ফরিদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে।
ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, স্থপতি রফিক আজম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মমতাময়ী মা ফরিদা বেগম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার দিকে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি চার ছেলে, পুত্রবধু ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রবিবার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। শোকবার্তায় তারা মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা দিয়ে পরে শিশুটিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পূর্ব পোমকাড়া মুকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত কিশোরও ঐ পোমকাড়া গ্রামের একই বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মোবাইলে ছবি দেখানোর কথা বলে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে শিশুটিকে পূর্ব পোমকাড়া এলাকার একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে যায় ওই কিশোর। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকারের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শিশুটির মা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন দৈনিক বাংলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজ কে বলেন, অভিযান চালিয়ে জড়িত ১৪ বছর বয়সী শিশুকে আটক করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠায়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এবিষয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় জনগণ ক্ষেপে বিচারের দাবি করে প্রশাসনের কাছে, অভিযুক্তের বাড়ি ঘর থেকে নির্মুল করতে বিক্ষোভ করে।পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনার স্থান পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখে।এবিষয়ে সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন জানান অপরাধী দের ছাড় নেই যে অন্যায় করবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
হাওরের জল যেন শনিবার উৎসবের রঙে রাঙিয়ে উঠেছিল। বৈঠার ছন্দ, সারিগানের সুর আর লাখো মানুষের উচ্ছ্বাসে কিশোরগঞ্জের ইটনায় ফিরে এলো বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। প্রায় ৫০ বছর পর উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে এবং সহস্রাধিক নৌকায় ভিড় জমাতে থাকেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে নৌকায় বসে, কেউ তীরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বৈঠার তালে তালে ছুটে চলা মাঝিদের রুদ্ধশ্বাস লড়াই।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে আসা মানুষ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে লাখো মানুষের সমাগম হয়।
দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ১২টি দৌড়ের নৌকা অংশ নেয়। হাওরবাসীর কাছে নৌকাবাইচ শুধু একটি খেলা নয়, এটি শৈশবের স্মৃতি ও গ্রামবাংলার লোকঐতিহ্যের পুনর্মিলনের দিন হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের বলছেন, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছিল। ইটনায় সর্বশেষ প্রায় অর্ধশতক আগে নৌকাবাইচ হয়েছিল। সেই হারানো উৎসব ফিরিয়ে আনতেই এবার সুরমা নদীতে আয়োজন করা হয় প্রতিযোগিতার।
ধনপুর এলাকার জিতেন্দ্র দাস বলেন, নৌকাবাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামবাংলার শতবর্ষী ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। আধুনিকতার প্রভাবে জারি, সারি, ভাটিয়ালি গান, লাঠিখেলা ও অন্যান্য লোকজ আয়োজন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই প্রতিবছর এমন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জীবনে প্রথমবার নৌকাবাইচ দেখতে এসেছেন পাশের নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বাসিন্দা মোবাশ্বির ফয়সাল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে মুরব্বিদের মুখে নৌকাবাইচের রোমাঞ্চের গল্প শুনেছি। আশপাশের এলাকায় কয়েকবার আয়োজন হলেও কখনো যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার শুনলাম মামার বাড়ির পাশেই সুরমা নদীতে নৌকাবাইচ হচ্ছে, তাই বন্ধুদের নিয়ে একটি ছোট নৌকায় করে চলে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে এই আয়োজন উপভোগ করে দারুণ লাগছে। আমরা চাই, হাওরের প্রতিটি এলাকায় প্রতি বছরই এমন নৌকাবাইচের আয়োজন হোক।
হাওরের তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের উৎসাহে ধনপুর ইউনিয়নবাসী এ আয়োজন করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় সোনার হরিণ, দ্বিতীয় পুরস্কার রুপার ময়ূর এবং তৃতীয় পুরস্কার এলইডি টেলিভিশন। বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্টানের প্রধান অতিথি ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমান বলেন, নৌকাবাইচ ভাটিবাংলার প্রাণের উৎসব। ৫০ বছর পর এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। তিনি বলেন, এই নৌকাবাইচে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে। হাওরের মানুষেরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছে। তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সেটি উপভোগ করেছে। হাওরের হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে।
আয়োজক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমেশ চন্দ্র গোপ বলেন, সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ নৌকা নিয়ে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন। দুপুরের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। এত মানুষের সমাগম ঘটবে এটা ভাবতেও পারিনি।
এই অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন যাত্রী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মহাসড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ জন যাত্রী প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে মোসলিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মৃত মোসলিম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্যারামেডিকস ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে শিশুটির পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে খেলাধুলার সময় চোখে আঘাত পাওয়ায় মোসলিমকে দ্রুত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করার পরপরই মোসলিম অসুস্থ হয়ে বমি শুরু করে। অবস্থার অবনতি দেখে তাকে দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত আবুল হোসেন দাবি করেছেন যে, তিনি কেবল লোকাল অ্যানেসথেসিয়া ড্রপ ব্যবহার করেছিলেন এবং এতে মৃত্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরপরই সুধারাম থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানালে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। যেহেতু ঘটনার সূত্রপাত ভিন্ন জেলা থেকে, তাই আইনি প্রক্রিয়া কমলনগর থানা পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি জানান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা ২ আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা যায়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১১টার দিকে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক ভাবে হতাহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজি অটোরিকশাটি কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসার একটি কভার্ডভ্যানে সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান।
গুরুতর আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জন মারা যায় । এদের মধ্যে দুইজন মা ও ছেলে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুই জন মারা যান। নিহত ও আহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অস্থায়ী বাজারে এলাকার হাজারো নাগরিক বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করেন।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষা—দুটোই নিশ্চিত হবে।
এই কর্মসূচি পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই গুলিস্তানে ডিএসসিসির উদ্যোগে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বইপড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশীদার করছি। গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) মিলসমূহের বিদ্যমান সংকট নিরসন ও তা থেকে উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার গত ২ সেপ্টেম্বর বিএসএফআইসি-এর চিনিশিল্প ভবনের বোর্ডরুমে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফআইসি-র চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ, সম্মানিত যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড. আব্দুল আলীম খান, বিএসএফআইসি-র জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফ সরকার (জুয়েল)সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে (জুম) যুক্ত ছিলেন সংস্থার পরিচালকবৃন্দ, সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিএসএফআইসি’র জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. আবু রায়হান, সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান সহ করপোরেশনের আওতাধীন সকল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সেমিনারে চিনিকলগুলোর বিদ্যমান নানা সমস্যা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সংকট উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, ‘জননায়ক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, লোকসান কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভের ধারায় ফেরাতে মিলগুলোর বাই-প্রোডাক্ট (উপজাত) দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নেরমাধ্যমে করপোরেশনের লাভজনক সংস্থায় রূপান্তর করার নানা পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান করপোরেশনের গতিশীলতা ফেরাতে এবং গৃহীত উদ্যোগসমূহ সফল করতে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১২ জন পাচারকারী আটক। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২টি বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত প্রায় ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৫৯৫ বস্তা (২৯ হাজার ৭৫০ কেজি) সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত ২টি বোটসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিক শুধু শ্রম দেন না, তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।
তিনি বলেন, শ্রমিকের কল্যাণ মানে শুধু একজন কর্মীর কল্যাণ নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকের দক্ষতাকেও এগিয়ে নিতে হবে।
আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।
শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’র (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-মাধ্যমেই শিল্পখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও গভীর ভালোবাসার। একটি টেকসই শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত কার্যকর যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থাকলে আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থা থাকলে উৎপাদন বাড়ে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়ায়। কর্মসংস্থানের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শ্রমিকের সন্তান যেন আরো ভালো শিক্ষা ও বড় স্বপ্নের সুযোগ পায়, এটিও শ্রমিক কল্যাণের অংশ। আজকের শ্রমশক্তিকে আগামী দিনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করাই হবে আমাদের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। শ্রমের শক্তি, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব— এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন বলেন, দক্ষ শ্রমিকই দেশের প্রধান উৎপাদনশীল সম্পদ। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন শিল্প ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এখন থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মসংস্থানের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান (ডিসেন্ট জব) ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমিকের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষ বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন। নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের এই সাহসী অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ তুলে শামিমি বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে নতুন করে দাফন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।
নিহত শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া হয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর খোঁড়া এবং খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ বস্তু দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি শামিমের মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
শামিম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মরদেহ কবরস্থান থেকে সরিয়ে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আখ ক্ষেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন নেছা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ও লাশ গুম চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বেপারিপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে র্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল।
এ বিষয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিপিসি-৩, এডি মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।
এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় রফিকুলকে প্রধান এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহত নারীর বড় মেয়ে জুলেখা আক্তার। মামলার নং৩। ধারা ৩০৪/ এ এবং ২০১।
তবে ঘটনাটি ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানার ওসি জানিয়েছেন, বাদী এ বিষয়ে অভিযোগ না দিলে তার কিছুই করার নেই।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার আখ ক্ষেতের পাশ থেকে নবীরন নেছার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এর আগে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে রফিকুল ও তার কয়েকজন সহযোগী লাশটি গুম করার জন্য আখ ক্ষেতের পাশের পুকুর পাড়ে গর্ত খুড়ে সেখানে পুতে রাখার চেষ্টা করে। নিহত নারী স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।
এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ লাশটি কবর দেওয়ার আগ মুহূর্তে তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
তবে নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং লাশ গুম চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
নবিরন বেগমের মৃত্যু ও লাশ গুমের ঘটনায় তার বড় মেয়ে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করলে র্যাব-১০-এর একটি দল রাতেই প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।