বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২১

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৩ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বিভিন্ন ইউনিট ও সার্কেলে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ৬ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশানুসারে, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানাকে র‍্যাবে, পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফা আশরাফ পিংকিকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি), রাজবাড়ী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলামকে বান্দরবান সদর সার্কেলে এবং সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেবকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া সার্কেলে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে মো. মাহফুজুর রহমানকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি সার্কেলে, এইচ এম গোলাম রাব্বিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলে, এ আর এম মোজাফফর হোসেনকে চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলে এবং মো. মশিহুর রহমান সোহেলকে বাগেরহাটের ফকিরহাট সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

একই আদেশে বাগেরহাটের ফকিরহাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম রানাকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সার্কেলে এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামানকে সাতক্ষীরার তালা সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান খানকে পুলিশ সদর দপ্তরে টিআর পদে বদলি করা হয়। এ ছাড়া অপর প্রজ্ঞাপনে নোয়াখালী পিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার রবিউল আরাফাতকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ার পিএসটিএসে সংযুক্ত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুইদিনব্যাপী আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জীবন, সংগ্রাম এবং হতাশার বিপরীতে আশাবাদের গল্প তুলে ধরেছে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র সহ মিশ্র মাধ্যমে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে তারা তাদের গল্প তুলে ধরেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুইদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

'স্লো জার্নালিজম : রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং' প্রকল্পের আওতায় গত আট মাস ধরে কাজ করে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ওই প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে নিজেদের কাজগুলোকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন।

প্রদর্শনীতে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থীর কাজ স্থান পায়। তারা হলেন তাবাসসুম মনির জিনিয়া, ইয়ারুন নেসা সারা, ইসরাত জাহান হ্যাপী, হুমায়রা কবীর প্রাপ্তি, জুবাঈদা নাসরিন, মোহাইমিনা খাঁন ও রাহিমা নেসা স্নেহা।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভীন হাসান, আলোকচিত্র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

এ সময় ড. পারভীন হাসান বলেন, 'সাংবাদিকতা সমাজকে তুলে ধরার একটি বড় শক্তি। সাংবাদিকদের ভূমিকা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষার্থীরা এ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'

তিনি আরো বলেন, 'দৃক-এর সহযোগিতায় বড় মাপের এ কাজটি সম্ভব হয়েছে। আমাদের পাশে থাকার জন্য তাদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আশা করবো ভবিষ্যতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে।'

আলোকচিত্রী ও দৃক-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম বলেন, ‌'শিক্ষার্থীদের কাজগুলো পেশাদার মানের হয়েছে। এমন উন্নত মানের কাজ আরো বড় পরিসরে প্রদর্শিত হওয়া দরকার।'

তিনি বলেন, 'আগেও আমি এখানে এসে তাদের প্রাথমিক কাজগুলো দেখেছি। শুরু থেকেই দেখেছি, তাদের কাজগুলো বেশ ভালো। আমরা অনেক সময় বড় প্রদর্শনীগুলো যে করি, সেখানে নারী সাংবাদিকদের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকে না। আমার মনে হচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এই জায়গাটি পূরণ করবে।'

জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন সজীব সরকার বলেন, 'গণমাধ্যমগুলো কে কার আগে খবর প্রকাশ করবে, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েছে। কিন্তু, দ্রুততার সঙ্গে খবর দিতে গিয়ে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। স্লো জার্নালিজম-এর ধারণা সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোকে নৈতিকতা মেনে এবং মান বজায় রেখে প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, 'ছবি অনেক শব্দের চেয়েও বেশি কথা প্রকাশ করে। মানুষের মনে ছবি যে প্রভাব তৈরি করতে পারে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ-বিগ্রহ সহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনায় জনমত তৈরিতে ছবির এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার আমরা অনেকবারই দেখেছি।'

উল্লেখ্য, দৃক ট্রাস্ট-এর সহযোগিতায় পরিচালিত 'স্লো জার্নালিজম : রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং' প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে দৃক-এর পক্ষে ছিলেন সায়দিয়া গুলরুখ ও সামিয়া রহমান প্রিমা। জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের পক্ষে তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রভাষক কাজী নাফিয়া রহমান ও আশরাফুন নাহার। প্রদর্শনীটি আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন দৃক-এর জেনারেল ম্যানেজার এএসএম রেজাউর রহমান।


নির্বাচিত

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে আইন প্রণয়নে মহিলা পরিষদের ৯ দাবি

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হলেও তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ নারী ও মেয়ে শিশুর নিরাপত্তায় ৯টি দাবি জানিয়েছে

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।

লিখিত বক্তব্যে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস ও বাস্তবায়ন জরুরি এবং এর কোনো বিকল্প নেই। এই আইনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের হাত থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে, যা যৌন সহিংসতামুক্ত পরিবার ও সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

পরিষদের সভাপতি বলেন, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট বিভাগ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা পরিষদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইনের খসড়া প্রণয়ন করে ২০১০ সালে আইন কমিশন ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে আইন প্রণয়নের দাবিতে সভা, অ্যাডভোকেসি, লবিং ও জনমত গঠন করে আসছে। তবে দীর্ঘ সময়েও আইনটি প্রণীত না হওয়ায় নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ -এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে খসড়াটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে জরুরি ভিত্তিতে আইনটি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে মহিলা পরিষদ।

মহিলা পরিষদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় বর্ণিত উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংজ্ঞা হালনাগাদ এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারাগুলো হালনাগাদ করা।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং এসব কমিটির কার্যক্রম মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। যৌন হয়রানি ও নিপীড়নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, পাঠ্যসূচিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানানো হয়েছে।

মহিলা পরিষদ আরও বলেছে, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, লিগ্যাল এইড সেক্রেটারি রেখা সাহা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

‘নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় চলবে না’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের পিটিআই কনফারেন্স রুমে ‘প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা’ নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, বেসরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনগুলোতে কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ওপর শক্তভাবে মনিটরিং করা হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। এমনকি মনিটরিংয়ের জন্য কার্যকর নীতিও তৈরি করা হয়নি।

তিনি বলেন, এখন এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। পাশাপাশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়মিত ও কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।


নির্বাচিত

পাঁচ পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে দেশের ৫ বিভাগে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৫টি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর দিয়ে নয়, সঠিক সময়ে কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমেই কেবল হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিস্তার ও মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান ক্যাম্পেইনে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল আজকের এই মহামারি।

অবাস্তব আশ্বাসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ালেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তবে এ সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে।

শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত ঘোষণা করেন আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৫টি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে। তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য (পেডিয়াট্রিকস), মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি— এই চার মূল বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, বারডেম কিংবা হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত কিন্তু সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ। ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবা না থাকায় সারা দেশ থেকে রোগীদের রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। তাই ঢাকার ইনস্টিটিউটগুলোর মতো একই মানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গড়ে তোলা হবে।


নির্বাচিত

১,৪৫৮ কোটি টাকার দুই ট্যাংকার প্রকল্প আটকে গেল একনেকে

* ব্যয়-লাভের হিসাব মেলাতে ফের যাচাইয়ের নির্দেশ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরে দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার যুক্ত করতে চেয়েছিল সরকার। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। কিন্তু একনেকের টেবিলে গিয়ে আটকে গেল সেই প্রস্তাব। ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকার কেনার প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে ফের যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

যদিও এটি নিছক প্রশাসনিক বিলম্ব নয়। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার জাহাজ কেনার প্রস্তাবের প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়, সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রত্যাবর্তনের হিসাবই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে বিএসসির বহরে একই শ্রেণির জাহাজ থাকা, একই সময়ে একাধিক বড় জাহাজ কেনার উদ্যোগ চলা এবং জ্বালানি পরিবহনের অবকাঠামোতে পরিবর্তন আসার পরও কেন এই দুটি ট্যাংকার এখনই দরকার- তার সন্তোষজনক উত্তর প্রকল্প প্রস্তাবে কতটা আছে, সেটিই মূল বিষয়।

একই ধরনের জাহাজ আছে, আবারও কেন?

বিএসসির বহরে এরই মধ্যে প্রায় ৩৯ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার তিনটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার রয়েছে। চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় ছয় জাহাজ সংগ্রহের আগের প্রকল্পের আওতায় এসব ট্যাংকার বহরে যুক্ত হয়। জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিয়োজিত থেকে আয়ও করছে। তাহলে একই ধরনের সক্ষমতার আরও দুটি জাহাজ কেনার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? নতুন প্রস্তাবিত জাহাজের ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি। অর্থাৎ বিদ্যমান জাহাজের তুলনায় সক্ষমতার ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফলে নতুন দুটি জাহাজের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা খরচের আগে স্বাভাবিক প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল- বিদ্যমান বহরের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে কি না।

৮০ হাজার টনের পরিকল্পনা গেল কোথায়?

প্রকল্পটির আরেকটি বড় অসংগতি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, বিএসসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আমদানি করা ডিজেল ও জেট ফুয়েল পরিবহনের জন্য ৮০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি মাদার প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা ছিল। পরে সেই পরিকল্পনা নেমে এসেছে ৪০-৫৫ হাজার ডিডব্লিউটির দুটি ট্যাংকারে। পরিকল্পনার এই পরিবর্তন কোনো সমস্যা নয়- যদি তার পেছনে শক্ত অর্থনৈতিক যুক্তি থাকে। কিন্তু কেন ধারণক্ষমতা কমল, কেন এই আকারের জাহাজ বেছে নেওয়া হলো, এতে পরিবহন ব্যয় কত কমবে কিংবা আয় কত বাড়বে- এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া প্রকল্পটি দাঁড়ায় অনেকটা ‘জাহাজ কিনতেই হবে’ ধরনের প্রস্তাবে।

জাহাজের দামই প্রায় দেড় হাজার কোটি

দুটি ট্যাংকারের জন্য ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই অর্থ দিয়ে কতগুলো সড়ক, হাসপাতাল, পানি সরবরাহ কিংবা নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়- সেটি তুলনা করার প্রয়োজন নেই। কারণ জাহাজ কেনার নিজস্ব অর্থনৈতিক যুক্তি থাকতেই পারে। কিন্তু জাহাজ কেনার যুক্তি দাঁড় করাতে হলে হিসাবটিও হতে হবে জাহাজের মতোই কঠিন।

একই সময়ে একাধিক জাহাজ কেনার তোড়জোড়:

বিএসসি একদিকে দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কিনতে চাইছে, অন্যদিকে আরও বড় জাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে। জি-টু-জি ভিত্তিতে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের উদ্যোগ রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নেও জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা আছে। অর্থাৎ একসঙ্গে একাধিক জাহাজে বিপুল বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে।

এসপিএম চালু হলে হিসাবও বদলেছে:

বাংলাদেশের জ্বালানি তেল পরিবহন ও খালাস ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল খালাসের জন্য সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ফলে পুরোনো দিনের মতো শুধু জাহাজ বাড়ালেই জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে- এমন সরল হিসাব আর চলে না।

তথ্য বলছেন, বিএসসি বর্তমানে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা। এই সাফল্য বহর সম্প্রসারণের পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান লাভ করছে বলেই তার প্রতিটি বিনিয়োগ প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক হয়ে যায় না। বরং লাভজনক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়া উচিত।

জানা গেছে, বিএসসির আগের ছয় জাহাজ সংগ্রহ প্রকল্পেও বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল। মূল ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে ঋণ পরিশোধের দায় বেড়ে যায়। এ অভিজ্ঞতা নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার কারণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একনেক প্রকল্পটি বাতিল করেনি। কিন্তু অনুমোদনও দেয়নি। কারণ একনেকের টেবিল থেকে ফেরত যাওয়া মানে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক কাঠামোকে আরও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিএসসিকে এখন দেখাতে হবে- কেন দুটি? কেন এই আকারের? কেন এখনই? কেন ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা? এবং বিনিয়োগের টাকা কত বছরে ফেরত আসবে? এই পাঁচ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর ছাড়া প্রকল্পটি আবার একনেকে উঠলেও একই জায়গায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন জাহাজ, কত দামে, কোন কাজে, কত আয় করবে এবং কত বছরে বিনিয়োগ ফেরত দেবে। একনেকের এবারের সিদ্ধান্ত সেই কঠিন হিসাবটিই সামনে এনে দিয়েছে। ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার দুটি ট্যাংকার এখন আর কেবল জাহাজ কেনার প্রকল্প নয়; এটি বিএসসির বিনিয়োগ পরিকল্পনার অর্থনৈতিক সক্ষমতার পরীক্ষা।


নির্বাচিত

নড়াইলে শিশু ধর্ষণ শেষে হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে (৫) ধর্ষণ শেষে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি প্রতিবেশি রবিউল শিকদারকে (৩৫) মৃত্যদন্ড দিয়েছেন নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম । এমন নৃসংশ অপরাধের কারণে আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর(এপিপি) মো.তারিকুজ্জামান লিটু বিষয়ীট নিশ্চিত করেছেন।

রবিউল ইসলাম ওরফে রবি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার শিকদারের ছেলে। আসামি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে,চলতি বছরের ২০ জুলাই বিকেলের দিকে রামচন্দ্রপুর গ্রামে জান্নাতুল ওরফে মাওয়াকে একা পেয়ে পাশেই নিজের নির্জনবাড়ীতে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে। রবিউল শিশুটিকে হত্যা শেষে একটি কাথার মধ্যে পেচিয়ে নিজের খাটের নিচে রেখে দেয়। শিশুটির স্বজনরা চারদিকে খোজ করতে থাকলে রবিউল তড়িঘড়ি করে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যায়। খোজ করার পর এক পর্যায়ে শিশুটির মরদেহ রবিউলের ঘরের খাটের নিচে দেখতে পায়। এদিকে পরের দিন সকাল নয়টার দিকে রবিউলকে ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল অংশের দত্তপাড়া বাস ষ্ট্যন্ডে দেখতে পেয়ে এলঅকার মানুষ ধরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় একমাত্র রবিউলকে আসামি করা হয়। রবিউলকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে বিচারকার্য সম্পাদনের জন্য ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল সড়ক অবরোধ করা হয়।

২২ জুলাই সকালে রবিউলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই রবিউল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত শেষে গত ৪ আগস্ট নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)অজয় কুমার কুণ্ডু রবিউলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় রবিউলকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিহত শিশুটির স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা জড়ো হন।

আলোচিত এ শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়। মামলায় রাষ্ট্র কর্তৃক আসামি রবিউলের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী কাজী আবুল কালাম বলেন, আসামির জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট-সবই তার বিপক্ষে। রাষ্ট্র আমাকে নিয়োগ করেছিল, যতটুকু করার করেছি। আর মামলায় রায় যা হয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট।

শিশুটির স্বজন ও নড়াইলের সচেতন নাগরিকেরা রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

জামালপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন রোববার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে আগামী ২৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ উদ্বোধন করা হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া সংস্থার মিডিয়া কমিটির আহবায়ক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান আরমান বলেন, আগামী ২৩ আগস্ট দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন।

উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহন করবেন জামালপুর সদর উপজেলা বনাম মাদারগঞ্জ উপজেলা। এছাড়াও খেলায় মেলান্দহ উপজেলা, ইসলামপুর উপজেলা, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, বকশীগঞ্জ উপজেলা, সরিষাবাড়ী উপজেলা ও জামালপুর পৌরসভাসহ মোট ৮ টি ফুটবল দল অংশগ্রহণ করবে। তবে টুনামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান আহম্মেদ খান লোটন, শহর বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

খুলনায় নৌযান শুমারি উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমানায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট সময়ে নৌযান শুমারি, ২০২৬ পরিচালিত হবে। নৌযান শুমারির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নৌযান শুমারি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো: আরিফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

শোভাযাত্রায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আইয়ুব হোসেন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে জেলখানা ঘাট হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

নৌযান শুমারি, ২০২৬ এর উদ্দেশ্য নৌপরিবহন খাতে নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত জনবলের জীবনমান এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা। বাংলাদেশে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ নৌযানসমূহের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকা; নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকদের নির্ভুল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌদুর্ঘটনা পরবর্তী প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতার সাথে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ; নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান; নৌপরিবহন ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি এবং শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ন্যাশনাল ডাটা হিসেবে ব্যবহার।


নির্বাচিত

মাগুরায় দুই বছরেও চালু হয়নি আড়াই কোটি টাকার মার্কেট

* সন্ধ্যা হলেই বসে মাদকসেবীদের আড্ডা * দোকান বরাদ্দে ধীরগতি, ব্যবসায়ীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

বিগত সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় ভুল স্থানে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় গ্রামীন বাজার উন্নয়ন মার্কেট। মাগুরার ভাবনাটি বাজার সংলগ্ন ফটকি নদীর নাভ্যতা সংকট এবং মৃত প্রায় এই বাজারে বর্তমান দোকান ভাড়ার অধিক মূল্যে সরকারি ভাড়া নির্ধারিত হওয়ায় বরাদ্দ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

মার্কেটের দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় দুই বছর ধরে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে মার্কেটটি।

সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের এক সময়ের জমজমাট ভাবনহাটি বাজারে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে চারতলা ফাউন্ডেশনে দুই তলা বিশিষ্ট আধুনিক গ্রামীন বাজার উন্নয়ন মার্কেট নির্মাণ করে মাগুরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)।

নির্মাণের প্রায় দুই বছর পরেও উদ্বোধন কিংবা দোকান বরাদ্দের কার্ক্রম না থাকায় দিন দিন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্যবহারহীন এই মার্কেটে নিয়মিত স্থানীয় বখাটেদের মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী রেজা হোসেন বলেন, ভাবনহাটি বাজারে নির্মিত কয়েক কোটি টাকার সরকারি মার্কেটটি দ্রুত বাজার মূল্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হোক। এই বাজারের সাথে নবনির্মিত ব্রীজটির একটি সংযোগ সড়ক করে দেয়া হলে বাজারটি আবার পুনরায় জমজমাট হবে।

এক সময় এই ভাবনহাটি বাজার সংলগ্ন ফটকি নদীর ঘাটে কয়েকশত ধান, চাল, পাট বোঝায় নৌকা ভিড়তো। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বাইরে থেকেও অনেক ব্যবসায়ী এই বাজার থেকে ধান পাট কিনে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় এখন আর কোন নৌকা আসে না। এখন শুধু প্রতি রবিবার এবং বৃহস্পতিবার হাট বসে। হাটবারে বাজার জমজমাট হলেও অন্য দিনগুলোতে ওষুধ এবং কয়েকটি চায়ের দোকান ব্যতীত সব দোকানপাট বন্ধ থাকে।

মাগুরা এলজিইডির মাধ্যমে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৪ টাকায় ২০২২ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে এই মার্কেট ভবনটি মাগুরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিতোষ এন্টারপ্রাইজ নির্মাণ কাজ শেষ করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভবনটির নিচতলায় চারটি দোকান ও চারটি বড় চান্দিনা এবং দ্বিতীয় তলায় ১৮টি দোকান থাকলেও সবই তালাবদ্ধ। সিঁড়ি ও বারান্দায় জমেছে ময়লা-আবর্জনা, ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। সন্ধ্যার পর ভবনটি পরিণত হয় বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডা খানায়। এতে করে একদিকে যেমন ভবনের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা অশোক সাহা জানান, এক সময়ের যৌলুসের এই বাজারটি এখন মৃতপ্রায়, বাজারে নির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনটি বরাদ্দ দেওয়া হলে বাজারটা পুনরায় ফিরে পাবে তার হারানো যৌলুস।

তিনি আরো বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী মার্কেটটি চালু হলে আমিও দোকান বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করতে পারব। বাজারটি চালু হলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় বাড়বে সুবিধা।

মাগুরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শোয়েব মোহাম্মদ জানান, গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভাবনহাটি মার্কেট নির্মাণে চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। মার্কেটটি চতুর্থ তলা হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম ধাপে দ্বিতীয় তলা মার্কেট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে । পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে হস্তান্তরের কথা জানান এই কর্মকর্তা।

মঘি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, এলজিড এর মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় ভাবনহাটি মার্কেট করা হয়েছে। দোকান ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়ার জন্য প্রায় দুই বছর ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে। দোকান বরাদ্দের জন্য মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকাই বিল্ডিংটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ঠিকাদারের মাধ্যমে তৈরি করা বিভিন্ন সরকারি ভবন হস্তান্তর না করেও ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেরুন্নাহার-এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, বাজারের ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা দেখতে পেয়েছি এটি কোনো বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। মার্কেটটি বন্দোবস্ত দিতে মাইকিং করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আবেদন জমা হলে যাচাই বাছাই শেষে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে ভাবনহাটি বাজার ছিল এ অঞ্চলে ফটকি নদী কেন্দ্রিক একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র। বাজারের আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবনটি প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। দ্রুত দোকান বরাদ্দ দিয়ে ভবনটি চালু না করলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অবকাঠামোটির আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

রাজশাহীতে ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক

* তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী

“জনসেবার জন্য প্রশাসন” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতি বুধবার (১৯ আগস্ট) ১১ টার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার ব্যবস্থা করছেন।

গণশুনানিতে জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা, চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষাভাতা, ঘর মেরামতসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসছেন মানুষ। অনেকেই বলছেন, সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারায় তারা স্বস্তি ও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

গণশুনানিতে স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে আসেন শামীমা সুলতানা। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এত সহজে ডিসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করা যায়। তিনি আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। এতে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি।”

নিজের বসতঘরের সমস্যার কথা জানাতে আসেন মো. শাহজাহান আলী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ঘরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি। পরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে এসে বিষয়টি জানালে তার ঘর মেরামতের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।

একজন শিক্ষার্থী বই কেনার জন্য সহযোগিতা চাইতে জেলা প্রশাসকের কাছে আসে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমি বইয়ের জন্য এসেছিলাম। কিন্তু ভাবতে পারিনি স্যার আমার কথা শুনে আমাকে বই কেনার জন্য সহযোগিতা করবেন। তিনি ভবিষ্যতে কোনো প্রয়োজন হলে যোগাযোগ রাখতেও বলেছেন।”

গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের সরাসরি কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তাদের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা। একজন মানুষ যখন তার সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেন, তখন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বিধি অনুযায়ী যতটা সম্ভব দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। গণশুনানির মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এভাবে সরাসরি মানুষের কথা শুনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল হাই সমাজসেবা কোন কথা বিন্দু।


নির্বাচিত

ইমাম-ওলামাদের আপত্তিতে কিশোরগঞ্জে অ্যাশেজের কনসার্ট স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আজ ১৯ আগস্ট ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর কনসার্ট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় ইমাম-উলামা পরিষদ ও ধর্মীয় নেতাদের আপত্তির পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

কনসার্ট বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদের নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখানে তারা দাবি করেন, কনসার্টে গান-বাজনার আয়োজন ইসলামী শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।

এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেমদের বিরোধিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এবারও পুরাতন স্টেডিয়ামে কনসার্ট আয়োজন না করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান তারা।

ইমাম-উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্মারকলিপির অনুলিপি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কনসার্টটি স্থগিত করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে ‘অ্যাশেজ’। সেখানে ব্যান্ডটি লিখেছে, ‘প্রিয় কিশোরগঞ্জ! প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে আজকে পুরাতন স্টেডিয়ামে কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে। আশা করি আবার দেখা হবে। তবে কনসার্টটি নতুন করে কবে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম মহানগরের আতুরের ডিপো এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিবিধ দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ইত্যাদি জিন্স কারখানার শত শত শ্রমিক।

আজ বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সম্মুখস্থ প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হঠাৎ এই অবরোধের কারণে সকালে কর্মস্থলগামী সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পাওনা বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে না। বকেয়া বেতনের পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিদাওয়ার বিষয়েও ম্যানেজমেন্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে। শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একাধিকবার আশ্বাস দিলেও মালিকপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যার ফলে নিরুপায় হয়েই তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরতরা।

শ্রমিকদের এই অবরোধ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এই বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং স্থানীয় থানা পুলিশ একযোগে কাজ করছে। শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি অবহিত করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যানজট নিরসনে কাজ চলছে।


নির্বাচিত

banner close