দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আবুল হোসেন সরকার ডিগ্রি কলেজ থেকে কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে। আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা।
ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাত পারভীন বলেন, “এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয়, একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। আয়োজকদের ভাষ্য— একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।”
তরুন রানার এলিন খান বলেন, ‘একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া, পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়— গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।’
তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো।
ঠাকুরগাঁও এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়, ৩০ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।
ঠাকুরগাঁও রানারের পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, ‘আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা এ ম্যারাথন রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করছি।’
দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনেক বছর আগেই বনদস্যুরা ধ্বংস করেছে সন্তোষপুরের প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়ন। বন ধ্বংসের কারনে হারিয়ে গেছে বন্যপ্রাণি। পাল্টে গেছে বনায়নের সেই চিরাচরিত পুরোনো অবয়ব। বনের শোভাবর্ধণ হিসেবে বিট অফিস সংলগ্ন শালবনকে ঘিরে রয়েছে অনন্ত ৭ শতাধিক বানর। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ফলদ গাছগাছালি না থাকায় এসব বানর রয়েছে চরম খাদ্য সংকটে । এরই মধ্যেই আরও অন্তঃত দুইশতাধিক মা বানর বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। বাচ্চা গুলোর বয়স তিন থেকে চার মাস হবে। নতুন এসব অতিথির আগমনে বানরের খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ায় বানর দল লোকালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
টাংগাইল জেলার মধুপুর বনাঞ্চলের কুল ঘেষা ফুলবাড়িয়ার উপজেলার সন্তোষপুর বনভূমি। তিনটি মৌজায় তিন হাজার ৬৩৯ একর বনাঞ্চল ছিল। শাল, সেগুন, চাম্বলসহ নানা প্রজাতীর বৃক্ষরাজিতে ভরপুর ছিল। মেছোবাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, সজারো, হনোমান, বাঘডাস, বানর, শিয়াল ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারন্য ছিল। নব্বই দশকের শুরু থেকে বনদস্যুরা বনাঞ্চলের গাছ উজাড় করতে শুরু করে। প্রাকৃতিক বনায়ন ধ্বংস করায় হারিয়ে গেছে এসব বন্যপ্রাণী। সবুজ বনায়ন ফিরিয়ে আনতে বনে সামাজিক বানায়ন শুরু করে বন বিভাগ। শুরুটা ভালো হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সামাজিক বনায়নের অসংখ্য গাছ কেটে কৃষি জমিতে রূপান্তরিত করে আনারস, কলা, হলুদসহ নানা ধরনের চাষাবাদ করছেন।
বিট অফিস জানায়, সন্তোষপুর বিটে তিনটি মৌজায় তিন হাজার ৬৩৯ একর বনাঞ্চলের মধ্যে সমাজিক বনায়ন ৩ হাজার ৮১.৫৪ একর। ২০১৯ সালে শেষে দিকে ৩২৫ হেক্টর জমিতে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) বাগান করে বন বিভাগ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১৭৩.২ একর জমি জবর দখল করে বাড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৫০ একর ও ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বন বিভাগ ৭৫ একর জমি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ৭৫ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে, চলতি জুন মাসে আরও ৫০ একর জমিতে গাছের চারা লাগানো হবে।
সন্তোষপুর বিট অফিস সংলগ্ন ৫০ একর শালবন রয়েছে। শাল বাগান ঘিরে অনন্ত সাত শতাধিক বানরের বসবাস। বানর সংঘ্যবদ্ধ প্রাণি, দলবেঁধে চলাচল করে। চারটি দলে বিভক্ত এসব বানর। প্রতিটি দলে ১৫০ থেকে ২০০ বানর রয়েছে। শালবনের আশপাশেই বনের জমিতে প্রভাবশালীদের আনারস ও কলা গাছের বাগান করা। বানরের হাত থেকে এসব ফসল রক্ষা করতে শ্রমিকরা লাঠি ও বাটুল হতে নিয়ে পাহারায় বসে থাকেন। বানর গুলো আসতে দেখলেই তারা লাঠি ও বাটুল দিয়ে আক্রমণ করেন। যে কারনে শাল বনের বাহিরে যেতে পারেনা বানর গুলো। সন্তোষপুর গ্রামটিতে রয়েছে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বশিউক) ১০৩৬ একর জমিতে রাবার প্রকল্প।
উপজেলা প্রশাসন থেকে বছরের দুই বার বানরের খাবারের জন্য সরকারি ভাবে দুই টন করে চাল দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে বিট কর্মকর্তা শাল বনে ৮ থেকে ১০ কেজি করে চাল বানরদের খাবারের জন্য ছিটিয়ে দেয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিট অফিসের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে প্রায় শাল বন ও রাবার বাগানের পাশের রাস্তায় শত শত বানর ছুটাছুটি করছে। ৩০ থেকে ৩৫ টি বানরের বুকে পিঠে ছোট বাচ্চা আগলে ধরে লাফালাফি করছে। বানরের তুলনায় দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার অপ্রতুল্য হওয়ায় বনের পাশে থাকা মানুষের আনারসসহ রোপিত ফসল নষ্ট করছে।
সন্তোষপুর গ্রামের শিক্ষক রুস্তম আলী জানিয়েছেন, একসময় বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য ছিল। প্রকৃতিক বন ধ্বংস করায় এসব প্রাণি হারিয়েগেছে। বিট অফিস সংলগ্ন শত শত বানর রয়েছে। প্রতি বছর বানরের সংখ্য বাড়ছে। বনে খাদ্য না থাকায় এসব বানরের খাদ্যসংকট চরমে।
সন্তোষপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেছেন, বানর গুলো আগে দল বেঁধে রাবার বাগানে গিয়ে গাছের বীজ খেয়েছে। পুরাতন বাগান কেটে নতুন বাগান করায় এখন বীজ নেই। বনের ভিতরে আনারস, কলা গাছের বাগান করা। বানরের দল যাতে বাগান নষ্ট না করতে পারে সে জন্য কৃষকেরা বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য শ্রমিক রেখেছে।
সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা মোহাঃ এমদাদুল হক বলেছেন, বিট অফিসকে ঘিরে শত শত বানর রয়েছে। অসংখ্য বানর বাচ্চা দিয়েছে। বানরের খাবারের জন্য সরকারি ভাবে কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। উপজেলা প্রশাসন বছরে দুই বার ৪ টন চাল দেয়। প্রতিদিন সকালে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল বানরের খাবারের জন্য দেওয়া হয়। শেষ হয়ে গেলে আর দিতে পারিনা। বিট অফিসের আশপাশে ফলগাছ রয়েছে, এসব গাছের ফল খায়। তবে পর্যাপ্ত না। বানরের কিছুটা খাবার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি জবর দখলকারীদের কাছ থেকে ১২৫ একর বনের জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৫ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে আরও ৫০ একর জমিতে বনায়ন করা হবে।
পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর এখন পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন খালবিল, বাঁওড়, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়ে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। এদিকে সময় মত বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা। বাজারে পাটের বেশ চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।
সরজমিনে দেখা যায়, জীবননগর উপজেলার খালবিলে গিয়ে কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ পাট কেটে জাগ দিচ্ছেন, কেউ পাট থেকে সোনালী আঁশ সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার ধোঁয়া পাট ও পাটখড়ি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পাটের আঁশ রোদে শুকাতে অংশ নিয়েছে।
উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পাটচাষি মসলেম উদ্দিন বলেন, মাঠে আড়াই বিঘা জমিতে পাট রোপণ করেছিলাম। এবার সময়মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মন পাট হওয়ার আশা করছি। তাছাড়াও গাঙে এবার পানিরও অভাব হয়নি। ভালোভাবে জাগ দেওয়া গেছে। বাজারে পাটের মোটামুটি ভালো দাম শুনছি। এমন দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাবো।
উথলী গ্রামের পাট চাষি আবু মিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার পাট ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। পাট ছাড়াও পাটখড়ির চাহিদা রয়েছে অনেক। পাটখড়ি ৫০ টাকা আটি বিক্রি করা হচ্ছে। লোকজন বিল থেকেই নিজ খরচে পাট খড়ি নিয়ে যাচ্ছে। এটা বিক্রি করে খরচ-খরচার টাকা কিছুটা সাশ্রয় হবে। এখন আঁশগুলো বাড়িতে নিয়ে বাঁশ দিয়ে আড়া তৈরি করে রোদে শুকাতে হবে।
জানা গেছে, পাট ৩২০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। পাটের রং ভালো হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর যে পাটখড়ি পাওয়া যায় সেটারও রয়েছে বেশ চাহিদা। প্রতি আটি পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। যেটা বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উঠে যাচ্ছে।
জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ১৬২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পরিমাণ মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে পাট জাগ দিতে কৃষকদের ঝামেলা পোহাতে হয়নি। তাছাড়া বর্তমান বাজারে পাটের দাম ভালো আছে। আশা করছি কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘বিরোধীদল লংমার্চ দিয়েছেন, আবার বলছেন আন্দোলন করবেন। দেশটা যদি আন্দোলনের ওপর থাকে তাহলে এলাকার উন্নয়ন হবে না। এ আন্দোলন এলাকার জন্য ক্ষতি, দেশের জন্য ক্ষতি।’
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফ-এর ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আরেকটি পক্ষ আমাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা এখন বিরোধী দলে। আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা উপস্থিতও হয়নি এবং আমাদের সহযোগিতাও করেনি। এখন পর্যন্ত তারা আন্দোলনের কথা বলছে।'
তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার সরকারের সময় দেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই মিলে আন্দোলন করে দেশকে রক্ষা করেছি, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের কাজ হলো এই অর্জনকে সুরক্ষা করা এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এ কাজে বিরোধীদলের সহযোগিতা প্রয়োজন।'
বিরোধীদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, 'বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে জিম্মি করতে চাচ্ছে। অতীতে হাসিনা যেভাবে ১৭২ দিন হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিল। পরে দেশের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে ১৭ বছরে। এখন বিরোধীদল মনে করছে, আন্দোলন করলে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে, তারেক রহমান দুর্বল হয়ে যাবেন, মন্ত্রী-এমপিরা দুর্বল হয়ে যাবেন। সেই সুযোগে জনগণ বাধ্য হয়ে তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।'
এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আড়াই-তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে। তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর করেছেন। উনার মা বেগম খালেদা জিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে জনগণের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের উন্নয়ন করেছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরে এ ধরনের কাজ হলে, আমাদের মুখে হাসি ফোটার সম্ভাবনা রয়েছে।’
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব, সাধারন সম্পাদক ইউছুফ ভুঁইয়াসহ অনেকে।
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলিতে মোজাহেদ নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহেরা বেগমসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়ায় দায়িত্বরত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুতুপালং ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার দিকে তারা শতাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। এতে পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
গোলাগুলির সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় পাঁচ বছরের মোজাহেদ। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা নূর আলমের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে গোলাগুলির কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে নৃশংস ভাবে হত্যার করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক কেয়ারটেকার। পরের দিন মরদেহটি ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে রাতে বাড়ির পাশে থাকা পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে রেখে। লাশ উদ্ধারের ২৩ দিন পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুলকে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শুভ্র।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সহকারী পুলিশ সুপার এস,এম হাসান ইস্রাফীল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান আসামীদের নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতি, দুটি চাকু, একটি লোহার রড, রক্তমাখা পাঞ্জাবি, বালিশ, কাভার তোলা ও একটি কাঠের গুড়ি উদ্ধার করেছে।
ফুলবাড়ি উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রমের মৃত আবু বকর সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার (৪৫)। বাংলদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তর কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। গত ২৩ জুলাই রাতে বাড়িতে আসেন। ২৬ জুলাই কর্মস্থলে না যাওয়া তার এক সহকর্মী নাজমুন্নাহার বিউটি বাড়িতে ফোন করে জানায় সে অফিসে আসেনি। পরের দিন তার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকার পাশ্ব©বর্তী অনন্তপুর গ্রামে ফজলু মির্জার ছেলে রাজু (১৮) ও একই গ্রামের তার বন্ধু জিতুল (১৯) গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। পরে নিহতের বড় ভাই রাজু ও জিতুলের নামে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, আবু রায়হান তালুকদার কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসার পরের দিন তার নিজ ঘরে হত্যা করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক। পরে ঘরেই চাপাতি ও চাকু দিয়ে মরদেহটি হাত, পা মস্তকসহ ১৫ টুকরো করে। এসয় অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে গান বাজায়। পরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রাখে। পরে তারা মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। একটি হোটেলে চাকরিও ঠিক করেন।
ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস, এম হাসান ইস্রাফীল জানিয়েছেন, রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে হত্যা করে ১৫ টুকরো করা হয়। পরে ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রেখে ঘাতকরা। গত চারদিন টানা অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, চাকুসহ বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী কুমিল্লায় কাঁটাতারের ফাঁক-ফোকর দিয়ে আসা মাদকের বিষে নীল হয়ে যাচ্ছে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ। নগরীতে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। একই চিত্র গ্রামের পাড়া-মহল্লাতেও। সহজলভ্য মাদকের টাকা জোগাড় করতে কিশোর-তরুণদের কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে। মাদকের বিস্তারে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় মাদকাসক্তের সংখ্যা বেশি। জেলার ১২টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মাদকসেবীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মাদকের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছে মূলত বাহক ও খুচরা বিক্রেতারা।
কুমিল্লা নগরীতে মাদকের বড় একটি অংশ প্রবেশ করছে সীমান্তবর্তী বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, সদর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব উপজেলায় পাঁচ শতাধিক মাদক কারবারি সরাসরি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন রুটে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি কুমিল্লা ১০ বিজিবির দপ্তরে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এর বাইরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে নিয়মিত জব্দ হচ্ছে মাদকের চালান।
সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনও মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মাদক কারবারিদের তৎপরতা দীর্ঘদিনের। এমনকি মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন জানান, তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। ট্রেনে করে মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে নিউজ হলে একদিন অভিযান হয়। মাসের বাকি ২৯ দিন সবকিছু আগের মত পাচার হয়।
সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক নগরীর বিভিন্ন অলিগলি, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রকাশ্যেই সেবন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের একটি অংশও মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, এখন অলিতে গলিতে ১৫-২০ বছরের ছেলেরা সবার সামনে গাঁজা ইয়াবা সেবন করছে। কেউ কিছু বললেই পুরো গ্যাং নিয়ে এসে হামলা করে। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।
কাপ্তানবাজার এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোডেন বলেন, গেলো এক বছরে যে পরিমান ডিশলাইনের তারসহ ছিকচে চোর ও ছিনতাইকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তা গত ৫০ বছরেও দেখা যায়নি। শুধুমাত্র মাদকের টাকা জোগাড়ে চুরি ছিনতাই বেড়েছে।
অভিযান চলছে, সীমাবদ্ধতাও রয়েছে :
কুমিল্লায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় তিনতলার একটি ভাড়া বাসায় চলছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। সেখানে একজন উপপরিচালক ও দুজন পরিদর্শকসহ মোট জনবল ২৬ জন।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৮৪ জনকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল ও পরিবহন সুবিধা কম থাকায় পর্যাপ্ত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বজলুর রহমান বলেন, জনবল ও পরিবহন সংকটের মধ্যেও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ২৫৬টি মামলা করা হয়েছে এবং এসব মামলায় ২৮৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান নয়, মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটের সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।
সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনুর দাবি, লোক দেখানো অভিযান নয়, মাদকের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্ত থেকে নগরীর অলিগলি পর্যন্ত মাদক সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্ত কিশোর-তরুণদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও বাড়াতে হবে।
মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান হবে জানিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করে মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গাঁজা, মদ ও ইয়াবার পাশাপাশি নতুন ধরনের কিছু মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব মাদক ইনজেকশনের মাধ্যমে সেবন করতে হয়। সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে ড্রোনসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সরাইল রিজিয়ন বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হচ্ছে।
মাগুরা সদরের আলমখালী বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় মেসার্স আলীম ট্রেডার্স নামে এক সার ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে দোকান থেকে ৭৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে আলমখালী বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মেসার্স আলীম ট্রেডার্সের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে সার মজুদ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সত্যতা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানকালে দোকান থেকে ৭৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে সার মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। তবে এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম তৎপরতা শুরু হয়েছে। আর সেই প্রচারণায় ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন সেলুন ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস মিয়া।
হাতির পিঠে চড়ে ঢাকঢোল ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে তিনি এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিন্নাটি চৌরাস্তা মোড়ে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কে দেখা যায় এ দৃশ্য। হাতির পিঠে বসে ফেরদৌস মিয়া এগিয়ে যাচ্ছিলেন, আর তার সঙ্গে চলছিল ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্র। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে উৎসুক মানুষ এ আয়োজন দেখেন, অনেকে আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ফেরদৌস মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিন্নাটি বাজারে সেলুনের ব্যবসা করছেন। ব্যবসার সুবাদে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছেন। এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ইচ্ছা নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
ফেরদৌস মিয়া বলেন, তার মায়ের ইচ্ছা ছিল তিনি একদিন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মা মারা যান। মায়ের সেই ইচ্ছাকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এলাকার সুখ-দুঃখে অংশ নিয়েছেন। তাই ভোট হলে সাধারণ মানুষ তাকে সমর্থন করবেন বলে তার বিশ্বাস।
স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, সেলুন ব্যবসার কারণে ফেরদৌস মিয়া এলাকায় পরিচিত মুখ। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থেকেই তিনি হাতি নিয়ে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালিয়েছেন।
ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ফেরদৌস চার-পাঁচ বছর ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই ছেলেকে নিয়ে সেলুন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হলেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেই তারা তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন।
ফেরদৌসের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তাদের দাদির ইচ্ছা ছিল তার বাবা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা বাবার পাশে থাকবেন এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েই এগিয়ে যেতে চান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর চাকলা গ্রামে মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর সলিল সমাধি হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুরা হলো মাসুদের দুই কন্যা সুমাইয়া (১০) ও আরিবা (৮), নেমাজের দুই মেয়ে সুমি (১২) ও সুরাইয়া (৯) এবং শরিফুলের একমাত্র সন্তান শরীফা (১২)। গ্রামবাসী যখন জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে ছিলেন, তখনই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে।
চর চাকলা সংলগ্ন এই নদীটি মূলত পদ্মার একটি শাখা, যা স্থানীয়ভাবে ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত। বছরের অধিকাংশ সময় পানিশূন্য থাকায় নদীর তলদেশে চাষাবাদ করা হলেও সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে নদীটি বর্তমানে পানিতে টইটম্বুর ছিল। আব্দুল হালিম হাম্মাদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “শুক্রবার হওয়ায় গ্রামের সবাই জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। এ সময় শিশুরা কখন নদীতে গোসল করতে নেমেছিল, তা কেউ বুঝতে পারেনি।” জুমার নামাজের পর পরিবারের সদস্যরা শিশুদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে নদীতে তাদের ডুবে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা খবর পেয়ে দ্রুত নদীতে নেমে শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কাউকেই জীবিত পাওয়া সম্ভব হয়নি। একসঙ্গে ৫টি শিশুর অকাল প্রয়াণে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে এবং স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চর চাকলা গ্রামের বাতাস। এই বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হক গণমাধ্যমকে জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে এক সঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই -রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু,নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করেন।
এসময় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদেরকে ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন, আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাতজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ তাদের নিজ এলাকা নওগাঁর আত্রাইয়ে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কফিনগুলো সৌদি আরব থেকে দেশে পৌঁছায়। নিজ এলাকায় মরদেহগুলো পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয়জনদের শেষবার দেখার আশায় রাত থেকেই আত্রাই থানা চত্বরে ভিড় করেন নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে এই সাতজনের জানাজা একত্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপরই মরদেহগুলো দাফনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নিহত সাতজন হলেন—আত্রাইয়ের উদনপৈ গ্রামের মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামানিক, মোহন আলী, সুমন আলী ও কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরদার।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “নিহতের পরিবার গুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহ গুলো বিনা খরচে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ এসেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলা সদরের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতটি মরদেহের একত্রে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরুতে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহতের খবর প্রচার হলেও বর্তমানে আত্রাইয়ের ১১ জন এবং নওগাঁ সদরের একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘি নামে বিক্রি হচ্ছে পাম অলিন ও বনস্পতি, আবার রান্নার মসলায় মিলেছে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ ও অ্যাশ। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালিয়ে এমন চিত্র পেয়েছে। পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) পূরণে ব্যর্থ হওয়া ১০টি পণ্য বাজার থেকে দুই দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় নিম্নমানের পণ্যের তালিকায় রয়েছে বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পাঁচ ধরনের মসলা এবং পাঁচ ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েল। এর মধ্যে রয়েছে হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা। পরীক্ষায় এসব মসলায় বাংলাদেশ মানের তুলনায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে।
‘ঘি’তে নেই মিল্ক ফ্যাট: সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ঘি নিয়ে পাওয়া পরীক্ষার ফল। বিএসটিআই জানিয়েছে, ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘিতে প্রয়োজনীয় মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। বরং পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘির পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারেনি। এসব পণ্যের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের দুই দিনের আলটিমেটাম: বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় অধিকাংশ পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ঘি, বাটার অয়েল ও মসলায় নির্ধারিত মানের ঘাটতি ধরা পড়ে। এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই দিনের মধ্যে বাজার থেকে পণ্য তুলে নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য প্রত্যাহার না করলে তৃতীয় দিন থেকে বিএসটিআই নিজ উদ্যোগে তা বাজার থেকে তুলে নেবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে। নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাজারে গিয়ে সাধারণ ভোক্তার পক্ষে প্রতিটি পণ্যের মান পরীক্ষা করে কেনা সম্ভব নয়। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও মানচিহ্নের ওপর আস্থা রেখেই তারা পণ্য কেনেন। ফলে পরীক্ষাগারে ধরা পড়ার আগে এসব পণ্য কীভাবে বাজারে পৌঁছাল—এ প্রশ্নও উঠছে।
একাধিক ভোক্তা বলেন, বাজারে পণ্য কেনার সময় তারা বিএসটিআইয়ের সিল দেখেই পণ্য কিনছেন। কিন্তু সেই পণ্য পরবর্তী সময়ে মানহীন প্রমাণিত হলে ভোক্তাদের আস্থার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নিয়মিত বাজার তদারকি, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যপণ্যে অনিয়ন্ত্রিত উপাদান ও ক্ষতিকর অ্যাডিটিভের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি কনসালটেন্ট আহাদ উর রহমান বলেন, খাবারে ব্যবহৃত কিছু উপাদান ও অ্যাডিটিভ মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়মকানুন ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত ১০টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে—বম্বে সুইটসের হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা। অন্য পাঁচটি হলো বাঘাবাড়ি, অরুন বাঘাবাড়ী, নিউ রাঁধুনী ও সিটি ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।
এখন দেখার বিষয়, বিএসটিআইয়ের দেওয়া দুই দিনের সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার থেকে সব পণ্য প্রত্যাহার করে কি না। একই সঙ্গে তৃতীয় দিন থেকে সংস্থাটির ঘোষিত অভিযান কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেও নজর থাকবে ভোক্তাদের।