বাগেরহাটের ফকিরহাটে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বাবার ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় সিনহা খাতুন (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় শিশুটির জমজ বোন সাবিয়া খাতুন (৫), তাদের বাবা সেলিম শেখ (৪০) ও মা তাজমিরা খাতুন (৩৩) আহত হয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নোয়াপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।
নিহত সিনহা খাতুন ফকিরহাট উপজেলার বৈলতলী এলাকার সেলিম শেখের মেয়ে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেখ জানান, সেলিম শেখ নিজের ভ্যানে করে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ফকিরহাটের কাটাখালী মোড় থেকে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় খুলনার দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় ভ্যানচালক সেলিম ও ভ্যানে থাকা তার স্ত্রী-সন্তানরা ছিটকে রাস্তায় পড়েন। একই সময় ঢাকার দিক থেকে আসা একটি পাথর বোঝাই ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু সিনহা খাতুনের মৃত্যু হয়।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানান ওসি মিজানুর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে মানুষ দুর্বল মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ করছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।
আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে সময়ের গল্প, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল আর দেয়ালজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন অতীতের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত নিদর্শন। উপজেলার বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জমিদারি আমলের স্মৃতি। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে জমিদার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যে নির্মাতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারবাড়ির সামনে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। চারপাশে ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর নির্মিত তিনটি বড় মিনার এবং পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে দেয়ালের নান্দনিক অলংকরণ ও কারুকাজ। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত পুরু দেয়াল এবং পুরোনো নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। ইমামের জন্য আলাদা মেহরাব ও মিম্বার না থাকলেও মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কাঠের মিম্বার, যার ওপর দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেন ইমাম। দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি বলে জানান জমিদার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন বারুহাস গ্রামের মো. খলিলুর রহমান। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এমন মসজিদে ইমামতি করতে পারা সৌভাগ্যের।
মসজিদের মুয়াজ্জিন ৮০ বছর বয়সি আবদুল লতিফ খন্দকার। তার বাবা দৈয়ম আলী খন্দকারও এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন বলেন, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।
জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরীর নাতি মো. শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে। মসজিদটি জমিদার পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী ১০ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।
কর্মসূত্রে পরিবারের অনেক সদস্য এলাকায় থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন কিংবা বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা এলাকায় আসেন। তার মতে, মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশ মিল রয়েছে।
জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য বিশাল খান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকে মসজিদের ভবন যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও দেড়শ বছর পরও মসজিদটির কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন।
গবেষক-লেখক ও খুলনার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। জমিদারবাড়ি ও মসজিদ ঘিরে প্রবহমান ভদ্রাবতী নদী স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলো পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।
ইউএনও আরও বলেন, বারুহাঁসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী তথা তিন গম্বুজ মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। গ্রেফতারকৃত আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলের ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আবু হুরায়রা খালেদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিল। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে ও তার সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে আবু হুরায়রা খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ধারায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। প্রতারনার জন্য আবু হুরায়রা খালেদ একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. খায়রুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক লিটনসহ হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, তিন চাকার গাড়ী ও বাইক দুর্ঘটনার অন্যতমন কারন একারনে তিন চাকার গাড়ীগুলিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ীকে সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ী দেওয়া যাবে না। হেল্পারগণ যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সড়কের ত্রুটি মুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধ মামা ফজলে আলী হাজারীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা।
মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর হামলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সঙ্গে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছু দিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে (জেরিনকে) নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান। কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো. মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে মেরে ফেলেছেন। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনী পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের উদ্যোগে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় শহরের কোট পাড় ‘ল কেয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট’ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মরহুম ইমারত হোসেন চৌধুরীর নাতি রাফিদ চৌধুরী।
স্মরণসভায় বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সদালাপী, হাসিমুখে কথা বলা ও বন্ধুসুলভ একজন মানুষ ছিলেন। ফুলসতি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কৃতী সন্তান আজীবন সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন এবং শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কখনো জামায়াতে নামাজ আদায় করা মিছ করতেন না।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করে ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান ভাদু বলেন, ‘ইমারত হোসেন চৌধুরী কেবল একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন কারিগর। তার সততা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’
ফুলসুতি কমিউনিটির নেতারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লেখক, গবেষক প্রবীণ সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান চৌধিুরী ভাদু। এ সময় মফিজ ইমাম মিলন, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী সাবু, আ. স. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী টিটো, জি. এইচ লাভলু পাটোয়ারী, নিয়াজুল ইসলাম চৌধুরী, রুমন চৌধুরী, মোহাম্মদ ওয়াসিম, চৌধুরী সাজেদুস, মোহাম্মদ লিটু চৌধুরী এবং চৌধুরী মোহাম্মদ হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন হাফেজ, মাওলানা তৈয়বুর রহমান।
দেশ থেকে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছাড়াই কেবল ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।
শনিবার খুলনা পুলিশ লাইন্সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো আধিপত্য বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করে। তাদের ভীতি ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই বাস্তবতায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
দায়িত্ব পালনে পুলিশের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ যদি বল প্রয়োগ করে, তবে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর যদি বল প্রয়োগ না করে, তখন বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। এর কোনো অপবাদই বাহিনীর জন্য কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার সমন্বয়ে একটি পেশাদার ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে পুলিশপ্রধান দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে মাদককে অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে এবং কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে মাঠপর্যায়ে অর্থবহ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত ‘বুক প্র্যাকটিস’ হিসেবে কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে আইনি কাঠামোর ভেতরেই পুলিশের সহযোগী শাখা হিসেবে একে রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিক সেবার পরিধি আরও গতিশীল হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় অবস্থিত ‘সুপ্রিম গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮ ইউনিট।
শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানা ভবনে হঠাৎ এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর তৎপরতা শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কিংবা কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আনা পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
মাদরাসায় বিশৃঙ্খলা বা দলবল নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদরাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? যদি আমি মব সৃষ্টি করতাম, তাহলে সেখানে ২০০ লোক ছিল, তারা সবাই আমাকে মারল না কেন? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’
প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, সেখানে ছোট একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছে। আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। তবে শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল। ওই সময়ের ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভাঙতে চাইনি।’
মাদরাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রমাণের দাবি জানিয়ে রুমি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদরাসায় এত টাকা কিভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নই। আমি দ্বিনি শিক্ষার জন্য আমার মেয়েকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যেখানে আমার সন্তান নিরাপদ থাকবে না, সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে একজন বাবা হিসেবে আমি কী করব? আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’
অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার পর পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ দিয়ে রুমি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমি এক রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার দিন কিভাবে কাটছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। আমি একজন বাবা। আমার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনার পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তির অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তার কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না। আমি জানতে চেয়েছি, অভিযোগ জানানোর পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?’
দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
শনিবার সংস্থাটির দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, সিস্টেমটি আগামী তিন থেকে চার দিন ধারাবাহিকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাগর ক্রমেই উত্তাল হতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে এখনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও অচিরেই সংকেত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে অর্থাৎ গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে নৌযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, সিস্টেমটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে এবং পরবর্তীতে পশ্চিম দিকে বাঁক নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি নিজের সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পারে। তবে বর্তমান গতিপথ পর্যালোচনায় বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি কোনো আঘাত বা বড় ধরনের তাণ্ডবের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
সরাসরি আঘাত না হানলেও দূরবর্তী পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে দেশের ওপর একটি বিস্তৃত ‘বৃষ্টি বলয়’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই বলয়ের কারণে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সিংহভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হতে পারে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটে তা তুলনামূলক কম থাকার আভাস রয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে আহত সিফাতুন নুর (২২) নামের তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। টানা নয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের কন্যা সিফাতুনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি খাবার নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কটূক্তি শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাঁর মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সিফাতুন মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রাশেদা বেগম ও সুমি আক্তার নামের অপর দুই নারী তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক রূপ নিলে তাঁকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহতের বাবার দাবি, মারধরের ঘটনা গোপন করে দায় এড়াতে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার চালিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত পক্ষ।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, মারধরের ঘটনায় আগেই একটি লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় বাসে থাকা আরও ১৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেন হৃদয়, শাহিন আক্তার, নূর ইসলাম, ইমরান, গিলবাড সরকার, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, অনিফিন, সন্দীপন বসু, ইকরাম, রায়হান, হাসিব, তিশা ও বোরহান উদ্দিন। আহতরা প্রধানত চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরা জেলার বাসিন্দা।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দর্শনা পরিবহনের একটি নৈশকোচ বেপরোয়া গতিতে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান এবং অপর পাঁচজনকে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়।