কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রমে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজা এবং ৪৬ পিস ইয়াবাসহ মোট সাতজন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৯ আগস্ট) অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান দুটি পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় গত শনিবার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের ইকুরদিয়া ঘাটসংলগ্ন জনৈক মো. সালাউদ্দিনের হোটেলের সামনের পাকা রাস্তার ওপর। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে দুটি আলাদা কালো স্কুলের ব্যাগে থাকা মোট ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হৃদয় মিয়া (১৯) পিতা- জাকির হোসেন, সাং- শাহবাজপুর লাল মিয়ার পাড়া, সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ফয়সাল আহম্মেদ (২০) পিতা- মৃত শফিকুল ইসলাম, সাং- বোর্ড ঘর, লালমোহন, ভোলা; বর্তমান ঠিকানা- তেলাপাড়া ভোলাকান্দা, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৭ নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছে।
একই দিনে অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয় উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের শেখেরহাটি এলাকায় রবিন মিয়ার বসতঘরে। ওই ঘর থেকে ৪৬ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পুর্ব অষ্টগ্রাম বাসিন্দা মৃত বজর আলীর ছেলে বদু ওরফে বুছা (৪৬), মৃত আনিছুর রহমানের বাবুল মিয়া ওরফে বাবলু (৩৫), হাফিজ মিয়ার ছেলে আকাশ মিয়া (২৫), আ. জলিলের ছেলে সাদ্দাম মিয়া (৩১) এবং মৃত জঙ্গু খাঁর ছেলে রাজীব খাঁ (৩৩)। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় ১৮ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে বদু ওরফে বুছার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকের অভিযোগে অষ্টগ্রাম থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’
ফরিদপুরের বরেণ্য চিকিৎসক, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ডা. মো. জাহেদ মেমোরিয়াল শিুশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. জাহেদের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর মুসলিম মিশন এতিমখানার মসজিদে আজ বাদ ফজর পবিত্র কোরআন শরীফের খতম, কালেমা শরীফের খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় আলীপুর গোরস্থানে তার কবর জিয়ারত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে ডা. মো. জাহেদ মেমোরিয়াল শিুশু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনা করা হবে। বাদ আসর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ডা. মো. জাহেদ ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ফরিদপুর চক্ষু হাসপাতাল, ফরিদপুর মুসলিম মিশনসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ফুলের তোড়ায় এবং আদিবাসীদের নৃত্যের তালে তাকে বরণ করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, রাজদেবোত্তর ট্রাস্টি (মন্দির পরিচালনা কমিটির) রনজিৎ সিংহসহ অন্যরা।
পুলিশ বাহিনীর গার্ড অব অর্নার শেষে মন্দির চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোনো কথা বলতে সম্মত হননি তিনি।
পারস্যের প্রকৌশলীদের সহায়তায় টেরাকোটা মন্দিরটি প্রায় পৌনে তিনশত বছর আগে ১৭৫২ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন মহারাজা প্রাণ নাথের পৌষ্যপুত্র রাজা রামনাথ। ওই সময় থেকে মন্দিরে রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহকে ঘিরে মন্দিরটি হয়ে উঠেছে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রার্থনার তীর্থ স্থানে। প্রথা মেনে বিগ্রহে প্রদীপের ভক্তি জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন শেষে একই সময়ে একই কারিগরদের হাতে নির্মিত নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেছেন তিনি।
এদিকে আজ বুধবার ঢেপা নদী পথে নৌবিহারে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ পৌঁছাবে শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে।
ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে রাফিদ শিকদার (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সুবাদে রাফিদ বিভিন্ন সময় যোগাযোগ ও কথাবার্তা বলতেন। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক চাপের পাশাপাশি টাকা না দিলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ভুক্তভোগী তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও তিনি তার দাবি অব্যাহত রাখেন।
র্যাব আরও জানায়, গত ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রাফিদ পুনরায় ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আগে ধারণ করা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠান। পরে এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১০-এর অধিনায়কের কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০-এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার লালবাগ থানাধীন আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি রাফিদ শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাফিদ শিকদার নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বাসিন্দা। পরে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে তৈরি করা হয়েছিল কিশোর গ্যাং। সেই ক্লাবে কেউ যোগদান না করলে দেখানো হতো ভয়ভীতি, এমনকি করা হতো গুলি। সেই সাথে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এমনইভাবে নিজেদেরকে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে এলাকায় জানান দিচ্ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ। আর এভাবেই তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল।
কিন্তু তাদের সেই আশায় গুড়েবালি দিয়েছেন নওগাঁ জেলা পুলিশ। এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরব নামে এক কিশোরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সদ্য কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে গত সোমবার রাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার শেরপুর এলাকায় হোটেল ফুড ভিলেজে ঢাকাগামী একতা বাস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকার সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন যাবৎ এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিল। সেই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা এলাকার স্থানীয় কিশোরদের ভয়ভীতি দেখাতো। এমনকি তাদের দলে যোগদান না করলে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফায়ারিংও করত। সেই সাথে তারা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ এবং মানুষকে মারধর করে আসছিল।
এই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুলতান এবং পারভেজ গং তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফায়ার করে।
ঘটনার পর মান্দা থানা পুলিশ সেখান থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ক্ষমতা জানান দিতে ২৬ আগস্ট রাতেও তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পুনরায় ফায়ার করে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মান্দা সার্কেল অফিসার এএসপি শাওনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মান্দা ও রানীনগর থানার সমন্বয়ে একটি চৌকসদল গঠন করা হয়। এবং সন্ত্রাসীদের ডাটা বিশ্লেষণ করে সমন্বিতভাবে রানীনগর এবং আত্রাই থানার সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরবর্তীতে সুলতান ও পারভেজকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের নিকট অস্ত্র থাকার কথা তারা স্বীকার করে।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সন্ত্রাসী সুলতান এবং পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানার বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। তারা হত্যা মামলায় দুজনে আট মাস জেলেও ছিল।’
এসপি আরও বলেন, ‘নওগাঁ জেলা পুলিশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়, জেলা পুলিশ এই জেলায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে।’
টানা তিন মাসের দীর্ঘ সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে উন্মুক্ত হলো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকেই নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নামছেন সুন্দরবন উপকূলের হাজার হাজার জেলে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আবারও ফিরছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
তবে বনে ফেরার এই আনন্দের মাঝে ঘন কালো মেঘ হয়ে নেমে এসেছে জলদস্যু বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব ও চাঁদা আদায়। বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের দাবি করা চাঁদা পরিশোধ করতে গিয়ে উপকূলজুড়ে নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
সরেজমিনে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জসংলগ্ন গাবুরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বনজীবীরা তাদের নৌকা ও জাল প্রস্তুত করে বনমুখী হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে প্রতিটি জেলের চোখ-মুখে স্পষ্ট তাণ্ডবের ছাপ। বনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরা অঞ্চলকেন্দ্রিক বর্তমানে অন্তত তিনটি জলদস্যু বাহিনী তাদের এলাকা ভাগ করে বনজুড়ে রাজত্ব চালাচ্ছে। তারা হলেন, ‘বড় জাহাঙ্গীর’, ‘দয়াল-নানা ভাই ওরফে ডন আনারুল’ এবং ‘মঞ্জু ও দুলাভাই বাহিনী’। এই তিন বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ জন সশস্ত্র সদস্য রয়েছে, যারা সুন্দরবনের ভেতরে নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
দস্যুদের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরবনে ঢোকার আগেই প্রতিটি দস্যু বাহিনীকে নৌকা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ফলে বন বিভাগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেতে একটি নৌকাকে তিন বাহিনী মিলিয়ে দিতে হচ্ছে মোট ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। আর কোনো জেলে চাঁদা না দিয়ে বনে নামার দুঃসাহস দেখালে তাকে জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ মুক্তিপণ।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য রেজিস্টার্ড বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি। প্রতি নৌকায় দুই থেকে তিনজন করে জেলে ধাপে ধাপে বনের নদী-নালায় প্রবেশ করবেন। সেই হিসাবে সব মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার জেলের জীবিকা নির্ভর করছে এই সুন্দরবনের ওপর। তবে দস্যুদের ভয়ে উপকূলে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঋণের টাকা নিয়ে দস্যুদের পকেট ভারী করে তবেই তাদের জীবিকার তাগিদে বনে নামতে হচ্ছে।
তবে বনজীবীদের নিরাপত্তা ও বনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এ ছাড়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দস্যুদের অপতৎপরতা রুখতে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি বন বিভাগের ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ টিম ও বনকর্মীরা সুন্দরবনের গহীনে নিয়মিত টহল জোরদার রাখবে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া মেনে বন বিভাগ থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে জেলেদের বনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বনের ভেতরে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে জেলেদের সজাগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কিংবা হরিণ শিকারের মতো অপরাধে কেউ জড়িত হলে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেধা ও সম্ভাবনাকে উৎসাহিত করতে সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলহাজ গোলাম হোসেন স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা ৮০ জন শিক্ষার্থী এ বছর বৃত্তি পেয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেএএম সংস্থার উদ্যোগে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে পরীক্ষা চলে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।
পরীক্ষা শেষে বিকালে একই বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় পরিচিতি পর্ব, শিক্ষা সেমিনার ও সুধী সমাবেশের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেএএম সংস্থার উপদেষ্টা, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘একটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা বৃত্তি অর্জনই শিক্ষার্থীর সাফল্যের চূড়ান্ত পরিচয় নয়। মেধাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে প্রবীণ শিক্ষাবিদদের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর এস এম নছরুল কদির। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় পাস করা কিংবা ভালো ফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বিশ্বমানের শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে।’
সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নজির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘অবসর গ্রহণের সঙ্গে একজন শিক্ষাবিদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অবসান ঘটে না।’
অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ডের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মাস্টার মোবারক হোসেনের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাক্তার কমল কদর, ছালে আহমদ সলু প্রমুখ।
পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর এখন পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন খালবিল, বাঁওড়, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়ে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। এদিকে সময় মত বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা। বাজারে পাটের বেশ চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।
সরজমিনে দেখা যায়, জীবননগর উপজেলার খালবিলে গিয়ে কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ পাট কেটে জাগ দিচ্ছেন, কেউ পাট থেকে সোনালী আঁশ সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার ধোঁয়া পাট ও পাটখড়ি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পাটের আঁশ রোদে শুকাতে অংশ নিয়েছে।
সীমান্ত ইউনিয়নের পাটচাষি মসলেম উদ্দিন বলেন, মাঠে আড়াই বিঘা জমিতে পাট রোপণ করেছিলাম। এবার সময়মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মন পাট হওয়ার আশা করছি। তাছাড়াও গাঙে এবার পানিরও অভাব হয়নি। ভালোভাবে জাগ দেওয়া গেছে। বাজারে পাটের মোটামুটি ভালো দাম শুনছি। এমন দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাব।
উথলী গ্রামের পাটচাষি আবু মিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার পাট ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। পাট ছাড়াও পাটখড়ির চাহিদা রয়েছে অনেক। পাটখড়ি ৫০ টাকা আটি বিক্রি করা হচ্ছে। লোকজন বিল থেকেই নিজ খরচে পাট খড়ি নিয়ে যাচ্ছে। এটা বিক্রি করে খরচ-খরচার টাকা কিছুটা সাশ্রয় হবে।
জানা গেছে, পাট ৩২০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। পাটের রং ভালো হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর যে পাটখড়ি পাওয়া যায় সেটারও রয়েছে বেশ চাহিদা। প্রতি আটি পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। যেটা বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উঠে যাচ্ছে।
জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ১৬২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি পদে সৈয়দ ওয়াদুদ করিম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক পদে মামুনুর রশিদ সুইট নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোট প্রাপ্তির শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন।
বিজয়ী কমিটির সহসভাপতি হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, সহসাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ মো. সায়েম, অর্থ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাসুম আলী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. আব্দুর রফিক নির্বাচিত হয়েছেন।
সভাপতি পদে দুইজন, সহসভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন, সহসাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মচারী ইউনিয়নের ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৯৫ জন ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার ভূটিয়ারবাড়ি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর দফায় দফায় হামলা, চাঁদা দাবি ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম, আবু তাহের ও তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিলকিছ আক্তার।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছে। গত বছরের ৩০ আগস্ট এ বিরোধের জেরে মারামারিতে সাইদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত ভেঙে যায়। পরে ওই জমি দখলের পাশাপাশি আরও ৩৮ শতাংশ জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নজরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী আবু তাহেরের বিরুদ্ধেও ২০ কাঠা জমি চাষাবাদে বাধা দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সম্প্রতি রোপা আমন চাষ করতে গেলে ফের চাঁদা দাবি এবং নানা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২০ আগস্ট রাতে তাদের আবাদ করা প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির রোপা আমন নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নেত্রকোনা সদর থানায় অভিযোগ দেয় বিলকিছ আক্তার। পরে শনিবার নেত্রকোনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি তাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তাদের আত্মীয় ও নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল মাস্টারকে মামলায় হয়রানি করা হয়। পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, সাইদুলদের রোপণ করা জমির ফসল রাতের আঁধারে উপড়ে নষ্ট করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহেরের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার স্ত্রী ললিতা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
নেত্রকোনা সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে একাধিকবার ডাকা হলেও আবু তাহের সাড়া দেননি।
টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে জব ফেয়ার। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী চলে এ মেলা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে জব ফেয়ারে রয়েছে ৫১টি স্টল। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সিভি সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী অনেক শিক্ষিত তরুণ বিভিন্ন সময় কর্মসংস্থানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে চাকরিপ্রত্যাশীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল বেছে নিতে পারবে।
তরুণ প্রজন্মকে কর্মমুখী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজনের কথা জানান জেলা প্রশাসক।
সরেজমিন দেখা যায়, চাকরির আশায় জব ফেয়ারে উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই সিভি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে মেলায় হাজির হন বিভিন্ন বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার চাকরি প্রার্থীরা। কাঙ্ক্ষিত একটি চাকরি পেতে কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের স্টলে ঘুরে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরছেন।
জব ফেয়ারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য পাস করা তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ চাকরি প্রার্থীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় এমন আয়োজনকে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রার্থীরা।
মেলার বিভিন্ন স্টলে চাকরির পদ, যোগ্যতা, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নিতে দেখা যায় প্রার্থীদের। অনেকেই ঘটনাস্থলেই জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।
জানা যায়, জব ফেয়ারে অংশ নিতে ৩ হাজারের অধিক প্রার্থী অনলাইনে রেজিষ্টেশন করেছেন। এছাড়াও মঙ্গলবার সকাল থেকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে রেজিষ্টেশন করে অনেকে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ৫১টি সুনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক মানুষকে চাকরি প্রদান করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমাইয়া মমিন এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ভালো দামের আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এখন সেই আলু বিক্রি করতে গিয়ে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। ৬০ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগার ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অথচ বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ৫০০ টাকা।
জেলার ২২টি হিমাগারে এবার প্রায় ২ লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যে আলু বিক্রি হয়েছে, তাতেই কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন। অবশিষ্ট আলু আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে হিমাগার থেকে খালাস করতে হবে। ফলে সামনে বাজারদর কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে তাদের ক্ষতির পরিমাণ।
আলু উৎপাদনের মৌসুমে দাম কম থাকায় পরে দাম বাড়বে এই আশায় অনেকে আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু সংরক্ষণ খরচ যোগ করার পরও এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে নতুন আগাম জাতের আলু বাজারে উঠলে পুরোনো আলুর দাম আরও কমতে পারে।
কালাই উপজেলার পুনট এলাকার কৃষক তোতা মিয়া জানান, মৌসুমে ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। আশা ছিল পরে দাম বাড়বে। কিন্তু এখন পর্যন্ত লোকসানেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০ বস্তা আলু বিক্রি করে তার ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
কালাই উপজেলার উদয়পুরের দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল হোসেন এবার আলু সংরক্ষণ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। তারপরও আগামী মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে জামাল হোসেন বলেন, ‘লোকসান হলেও আলুর আবাদ ও সংরক্ষণ ছাড়ার সুযোগ নেই কৃষকের।’
আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার কৃষক ইসমাইল হোসেন দুটি হিমাগারে ৭০ বস্তা আলু রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘লোকসানের কারণে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করব না।’
কালাই পৌরসভার বাসিন্দা আলু ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলুতে প্রতি বস্তায় গড়ে ৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে সংরক্ষণ খরচই উঠছে না। সামনে দাম বাড়বে এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।’ তার দাবি, গতবার লোকসানের পর এবারও আলু সংরক্ষণে তিনি এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২২টি হিমাগারের মধ্যে কালাইয়ে ১৪টি, ক্ষেতলালে ৪টি, পাঁচবিবিতে ২টি এবং আক্কেলপুরে ২টি। এসব হিমাগারে প্রায় ২ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
৬০ কেজির এক বস্তা হিসাবে ২ লাখ টন আলুতে বস্তার সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার। প্রতি বস্তায় ৪০০ টাকা লোকসান হলে সম্ভাব্য মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে এটি সম্ভাব্য হিসাব। আলুর ক্রয়মূল্য, সংরক্ষণ খরচ ও বিক্রয়মূল্য হিমাগারভেদে ভিন্ন হওয়ায় প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। সামনে দাম বাড়লে লোকসানও কমে আসবে।
কালাই পৌরসভার সড়াইলে অবস্থিত এম ইসরাত হিমাগারে এবার ২ লাখ ৩০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতি বস্তায় আলু ৬০ কেজি। হিমাগার ভাড়া বাবদ ৩৮০ টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতি বস্তার দাম পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে।
হিমাগারের ব্যবস্থাপক রায়হান আলম বলেন, ‘জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৬০০ বস্তা আলু বিক্রি হয়েছে, যা মোট সংরক্ষিত আলুর প্রায় ২৬ শতাংশ। আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে সব আলু খালাস করতে হবে। বর্তমান দরে আলু বিক্রি করলে সংরক্ষণ খরচই উঠছে না। অবশিষ্ট আলু বিক্রির সময় বাজারদর কেমন থাকে, তার ওপর লোকসানের পরিমাণ নির্ভর করবে।’
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার বলেন, ‘গত মৌসুমে জেলায় ব্যাপক আলু চাষ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমানে সেই আলু খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।’ ফলে তারা লোকসানে পড়েছেন। মনজু আলম সরকার বলেন, ‘সামনে বাজারদর বাড়লে লোকসানের পরিমাণ কমতে পারে। তবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পারলে আগামী মৌসুমে জেলায় আলুর আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ শিশুর শরীরে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ জন। সব মিলিয়ে গত এক দিনে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জনে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। অর্থাৎ গত ১৫ই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম দুই হিসাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ শিশু। এর ফলে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৪ জনে। এর পাশাপাশি একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ শিশু। গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।